Skip to main content

Posts

Showing posts with the label গদ্য

ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক আদৌ জোড়া লাগে না ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য

ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক আদৌ জোড়া লাগে না কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য সময়ের সাথে মানুষের ভেতরের মানুষটাও বদলে যায়। যেমন বদলায় নদীর ধারা পথ। একদিক ভাঙে, একদিক গড়ে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। মানুষেরও এরকম কিছু নিয়ম আছে। উনবিংশ শতাব্দী থেকে প্রধানতঃ রাম মোহন, বিদ্যাসাগরের হাত ধরে বাংলায় নব-জাগরণ হয়েছিল। তখন দুটি হৃদয়ের ভাঙা-গড়ার কাহিনী চার দেয়ালে বন্দী থাকত। বিশেষতঃ মহিলারা দীর্ঘশ্বাস বুকে নিয়ে জীবন কাটিয়ে দিতেন হাসিমুখে। উনবিংশ শতাব্দীর  দ্বিতীয় ভাগ থেকে নারী শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া শুরু হলো, বিদেশি শিক্ষাবিদদের সহযোগিতায়। কাদম্বিনী গাঙ্গুলীকে পেলাম ডাক্তার হিসাবে।  শিক্ষার চেতনা মনে বাস করলে, সেই মহিলা বা পুরুষের নিজস্ব চিন্তাধারা মনকে প্রভাবিত করবেই। এবং সেই চিন্তাধারা ঠোঁটে  একদিন না একদিন উচ্চারিত হবেই। এখান থেকেই সমাজে, সাহিত্যে সম্পর্ক, সম্পর্কের ভাঙা-গড়া বিশেষ স্থান অধিকার করে।  যেমন কাঁচের, পোর্সিলিনের জিনিস ভাঙলে জোড়া লাগে না, কারণ এই জিনিসগুলির  বিশেষ গুন ভঙ্গুর। মানুষের ক্ষেত্রে এমনই  বিশেষ গুন সম্পন্ন  জিনিসটি হলো আবেগ। মানুষের...

বহুত্বের বুননে বাংলাদেশ ।। মেশকাতুন নাহার

বহুত্বের বুননে বাংলাদেশ  মেশকাতুন নাহার  বাংলাদেশ—এটি কেবল মানচিত্রে আঁকা একটি ভূখণ্ডের নাম নয়; এটি বহু সুরের মিলিত এক দীর্ঘ সংগীত। এখানে নদী যেমন বিভিন্ন উৎস থেকে এসে এক সাগরে মিশে যায়, তেমনি মানুষের বিশ্বাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও ইতিহাসও এসে মিশেছে এক সম্মিলিত চেতনায়। এই দেশকে বুঝতে হলে তাকে একরঙা ক্যানভাসে আঁকা যায় না; তাকে দেখতে হয় নকশিকাঁথার মতো—যেখানে প্রতিটি সুতো আলাদা রঙে দীপ্ত, অথচ সবকিছু মিলেই তৈরি হয় এক অখণ্ড নকশা। বাংলাদেশের আত্মা গড়ে উঠেছে সময়ের দীর্ঘ স্রোতধারায়। এই ভূখণ্ডে কেবল ভূগোল নেই, আছে ইতিহাসের গভীর স্তর, আছে সংগ্রামের দীপ্তি, আছে সংস্কৃতির উজ্জ্বল মিছিল। তাই বাংলাদেশকে বোঝা মানে কেবল বর্তমানকে দেখা নয়; বরং অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে একসাথে অনুভব করা। বাংলাদেশের আত্মপরিচয়ের মূল উৎসগুলোর একটি হলো ভাষার জন্য আত্মত্যাগের ইতিহাস। পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কম জাতিরই এমন উদাহরণ আছে, যেখানে মানুষ মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছে। বাংলা ভাষার জন্য যে আত্মত্যাগ সংঘটিত হয়েছিল, তা কেবল একটি ভাষার স্বীকৃতির সংগ্রাম ছিল না; তা ছিল ...

অহংকারের অদৃশ্য ভুঁড়ি ও নিঃসঙ্গতার নীরব জ্যামিতি ।। মেশকাতুন নাহার

অহংকারের অদৃশ্য ভুঁড়ি ও নিঃসঙ্গতার নীরব জ্যামিতি মেশকাতুন নাহার  অহংকার এক অন্তর্লীন বিস্তার—তার কোনো দৃশ্যমান অবয়ব নেই, তবুও সে মানুষের চেতনার ভেতরে এমনভাবে বৃদ্ধি পায়, যেন অদৃশ্য কোনো ভুঁড়ি ক্রমাগত স্ফীত হচ্ছে। এই স্ফীতি শরীরের নয়, বরং অস্তিত্বের; এটি এমন এক ভার, যা বহন করা হয় অনুভূতির গভীরে, কিন্তু যার উপস্থিতি সচেতন দৃষ্টির আড়ালে থেকে যায়। মানুষ আয়নায় নিজেকে দেখে, কিন্তু সে কেবল বাহ্যিক আকৃতি পর্যবেক্ষণ করে; অন্তর্গত এই স্ফীতির প্রতিফলন সেখানে ধরা পড়ে না। ফলে এক ধরনের অস্তিত্বগত বিভ্রম জন্ম নেয়—যেখানে ব্যক্তি নিজেকে অপরিবর্তিত মনে করে, অথচ তার ভেতরে এক নীরব রূপান্তর ঘটে চলেছে। এই রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে “আমি”—মানবচেতনার সেই মৌলিক বিন্দু, যা থেকে সমস্ত অভিজ্ঞতার সূচনা। কিন্তু যখন এই “আমি” নিজের পরিসর অতিক্রম করে একক আধিপত্যের দিকে অগ্রসর হয়, তখন তা আর স্বাভাবিক আত্মপরিচয় থাকে না; বরং তা অহংকারে রূপান্তরিত হয়। এই অহংকার নিজেকে উচ্চকিত করে না, বরং অন্য সব সত্তাকে প্রান্তিক করে তোলে। ফলে অস্তিত্বের সমতল ভেঙে যায়, এবং সেখানে এক অদৃশ্য জ্য...

নিদ্রিত শুদ্ধতার প্রান্তরে অশুদ্ধতার কর্ণভেদী উল্লাস ।। মেশকাতুন নাহার

নিদ্রিত শুদ্ধতার প্রান্তরে অশুদ্ধতার কর্ণভেদী উল্লাস মেশকাতুন নাহার  যে মুহূর্তে শুদ্ধতা অবসন্ন দেহে নৈঃশব্দ্যের শয্যায় শায়িত হয়, ঠিক সেই মুহূর্তেই অশুদ্ধতা রণতূর্য হাতে নগর পরিভ্রমণে নামে। ইতিহাসের এই উপাখ্যান নতুন নয়; কেবল মুখোশের নকশা বদলায়, চরিত্রের কণ্ঠস্বর পাল্টায়, অথচ নাট্যরসের গঠন একই থাকে। শুদ্ধতা, এক নির্বাক তপস্বিনী—অগ্নিশিখার মতো অন্তর্মুখী; আর অশুদ্ধতা, এক চৌকস জাদুকর—ধোঁয়ার বৃত্তে আকাশ ভরিয়ে দেয়, যেন ধোঁয়াই সূর্য। শুদ্ধতার ক্লান্তি আসলে পরাজয় নয়; এটি অন্তর্দীর্ঘ যাত্রার অবসাদ। সে পথ চলে শিলাস্তরের ওপর দিয়ে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে রক্তের অক্ষরে লিখিত হয় দায়বোধ। কিন্তু এই রক্তলিপি কে পড়ে? বাজারের চোখ তো রঙিন ব্যানার দেখে, শিরোনামের ঝলক দেখে। তাই শুদ্ধতা যখন ধ্যানমগ্ন হয়ে আত্মার আঙিনায় ফিরে যায়, অশুদ্ধতা তখন মঞ্চের আলো কুক্ষিগত করে ঘোষণা করে—"আমিই আলোর উৎপাদক!" অশুদ্ধতার কৌশল সূক্ষ্ম, অথচ প্রকাশ্য। সে শব্দের আভরণ পরে; নৈতিকতার অভিধান তার হাতে খেলনা। "স্বচ্ছতা", "দায়িত্ব", "মানবতা"—এই শব্দগুলোকে সে এমন দক্ষতায় উচ্চারণ করে, যেন শব্দগুলো...

মস্তিষ্ক খোলা তবুও জানালা বন্ধ ।। মেশকাতুন নাহার

মস্তিষ্ক খোলা তবুও জানালা বন্ধ  মেশকাতুন নাহার  সমাজে এমন কিছু জীবাণু আছে, যাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে কোনো মাইক্রোস্কোপ লাগে না, কোনো পরীক্ষাগারের দরজাও খুলতে হয় না। তারা বইয়ের পাতায় থাকে না, হাসপাতালের তালিকাতেও নেই—তবু তারা দিব্যি বেঁচে থাকে, বেড়ে ওঠে, এবং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে নির্বিঘ্নে ছড়িয়ে পড়ে। কুসংস্কার ঠিক তেমনই এক অদৃশ্য জীবাণু। এই জীবাণু এতটাই ভদ্র যে দরজায় কড়া না নেড়েই ঢুকে পড়ে, আবার এতটাই কৌশলী যে আক্রান্ত মানুষ নিজেও টের পায় না—সে কখন সংক্রমিত হয়ে গেছে। এই ব্যাধির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর নীরবতা। এটি চেঁচিয়ে বলে না, "আমি কুসংস্কার"; বরং ফিসফিস করে বলে, "সাবধান থাকাই ভালো", "আগে থেকে এমনটাই চলে আসছে", কিংবা সবচেয়ে জনপ্রিয় বাক্যটি—"একবার মানলে ক্ষতি কী?" এই 'একবার'-ই বহুবারের ক্ষতির সূচনা করে। সমাজ ধীরে ধীরে এই ফিসফিসানিকে স্বাভাবিক শব্দ বলে মেনে নেয়, আর ঠিক তখনই কুসংস্কার স্থায়ী বাসা বাঁধে মানুষের চিন্তায়। অনেকেই মনে করেন, কুসংস্কার মানেই অশিক্ষা। বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়। এই রোগ নিরক্ষরতার ওপর নির্ভর করে না, বরং অনেক স...

অজ্ঞাতকুলশীল ভরত কথা ।। সমীর কুমার দত্ত

অজ্ঞাতকুলশীল ভরত কথা সমীর কুমার দত্ত মানুষ যতদিন বাঁচে তার স্মৃতি বলে একটা জায়গা থাকে। সেই জায়গায় তার দেখা শোনা কতো ঘটে যাওয়া ঘটনা মজুত থাকে। জীবন সায়াহ্নে এসে সে সেই সব স্মৃতি রোমন্থন করতে করতে দাগ কাটার মতো কতো ঘটনাই না বেরিয়ে আসে। আবার হঠাৎই কতো ঘটনাই না ভেসে ওঠে আমাদের স্মৃতির ক্যানভাসে। আমরা কতো নামী, অনামী মানুষের কথা লিখি কিন্তু অবহেলিত, অপদার্থ, নিরক্ষর কোন মানুষের কথা বড়ো একটা লিখি না। আজ সেরকম একজনের কথা আমার স্মৃতিপটে উঁকি ঝুঁকি মারে, যা আজকের এই কর্মব্যস্ততার ন্যায্য পাওনা বুঝে নেওয়ার যুগে  না বললেই নিজের কাছে ছোট হয়ে যেতে হবে। ছোটবেলা থেকে দেখা এক অবহেলিত, কায়িক পরিশ্রমী, অজ্ঞাতকুলশীল ও শোষিত- বঞ্চিত মানুষের প্রতিভূ এই মুহুর্তে চক্ষুর সন্মুখে উদ্ভাসিত। আমাদের এক প্রতিবেশীর একটা ছোটখাটো হোটেল ছিলো। সেই হোটেলে যতো জল লাগতো সব‌ই একটা ড্রামে সে দু হাতের বালতি দিয়ে ভরে যেতো। ওইটিই তার পেশা ছিলো। আমি যখন তাকে দেখেছি তখন সে পঞ্চাশোর্ধ। নাম তার ভরত। নিজের পদবী নিজেই জানতো না। জিজ্ঞাসা করলে বলতো, "জানি না।"  তা সারাদিনে বিভিন্ন...

বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে ।। মেশকাতুন নাহার

বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে  মেশকাতুন নাহার  মিথ্যা বলা মহাপাপ—এই বাক্যটি আমাদের অনেকের শৈশবের নৈতিক পাঠ্যবইয়ের প্রথম লাইন। ঘুমপাড়ানি গল্প থেকে শুরু করে স্কুলের নীতিশিক্ষা, পারিবারিক উপদেশ—সবখানেই একই শিক্ষা: সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। গুরুজনদের মুখে শোনা সেই বাক্যগুলো কেবল শব্দ ছিল না, ছিল জীবনের দিশা। সেগুলোকেই পাথেয় করে আমরা নিজেদের গড়ে তুলতে চেয়েছি। চেষ্টা করেছি সৎ থাকার, সত্য বলার, ন্যায়ের পথে হাঁটার। অনেক ক্ষেত্রেই সফলও হয়েছি—শিক্ষাজীবনে, ব্যক্তিত্ব গঠনে, এমনকি আত্মসম্মান রক্ষার লড়াইয়েও। এরপর জীবন ধীরে ধীরে প্রবেশ করে নতুন অধ্যায়ে—কর্মজীবন শুরু হয়, সংসার গড়ে ওঠে, দায়িত্ব বাড়ে। এই নতুন অধ্যায়ে পা দিয়েই মানুষ আবিষ্কার করে, বাস্তবতা আর নৈতিক শিক্ষার মাঝে বিস্তর ফাঁক। যত দিন যায়, ততই নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সামনে আসে। মানুষ পরিপক্ক হয়, কিন্তু সেই পরিপক্বতা আনন্দের চেয়ে প্রশ্নই বেশি তৈরি করে। একসময় মনে হয়—আমি এতদিন কী শিখলাম পরিবারে? কী শিখলাম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে? সার্টিফিকেট হাতে নিতে যে শিক্ষা অর্জন করেছি, তার সঙ্গে বাস্তব জীবনের শিক্ষার কোনো মিলই যেন খুঁজে পাওয়া যায় না। এই ...

মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন

    মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর বাসিরা খাতুন  মাতৃভাষা শুধু একটি ভাষা নয়, এটি মানুষের জীবনের প্রথম অনুভব, প্রথম পরিচয় এবং প্রথম ভালোবাসা। মানুষ জন্মের পর যখন চোখ খুলে পৃথিবীর আলো দেখে, তখন সে ভাষার অর্থ বুঝতে পারে না, কিন্তু মায়ের কণ্ঠের উষ্ণতা বুঝে যায়। শিশুর কান প্রথম যে শব্দ শোনে, সেই শব্দের ভেতর থাকে আদর, আশ্বাস, নিরাপত্তা এবং ভালোবাসা। সেই প্রথম শব্দগুলোই ধীরে ধীরে মাতৃভাষায় পরিণত হয়। মাতৃভাষা তাই কেবল কথাবার্তার মাধ্যম নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের ভিত, স্মৃতির মাটি, আর আত্মার শিকড়। আমরা যে ভাষায় কাঁদি, যে ভাষায় হাসি, যে ভাষায় ভালোবাসা প্রকাশ করি, যে ভাষায় অভিমান করি, যে ভাষায় স্বপ্ন দেখি—সেই ভাষাই মাতৃভাষা। পৃথিবীর বহু ভাষা আমরা শিখতে পারি, অনেক ভাষায় দক্ষ হতে পারি, কিন্তু মাতৃভাষার মতো করে আর কোনো ভাষা আমাদের মনের গভীরে পৌঁছাতে পারে না। কারণ মাতৃভাষা আমাদের শিখতে হয় না, মাতৃভাষা আমাদের ভেতরে জন্মায়।   মাতৃভাষা মানুষের পরিচয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ। মানুষকে শুধু পোশাক, ধর্ম, দেশ কিংবা জাতি দিয়ে চেনা যায় না; মানুষের আসল পরিচয় ধরা পড়ে তার ভাষার...

আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল

আমি বাংলাকে ভালবাসি সৌম্য পাল  শহরের কোলাহল পেরিয়ে যখন রাত নামে তখন অর্কর ঘরে অদ্ভুত এক নীরবতা ভর করে। সারাদিন ইংরেজি শব্দে ঘেরা জীবন—ইমেল কল মিটিং ও ডেডলাইন। কিন্তু রাত হলেই সে জানালার ধারে এসে দাঁড়ায় আর মনে মনে অজান্তেই ভেসে ওঠে কিছু বাংলা শব্দ। সেই শব্দগুলোর কোনো নির্দিষ্ট মানে নেই তবু তারা অর্ককে নিজের মতো করে জড়িয়ে ধরে। অর্কর জন্ম এক মফস্‌সলে। ছোট্ট শহর যেখানে সন্ধ্যেবেলা চায়ের দোকানে বসে মানুষ রাজনীতি থেকে রবীন্দ্রসংগীত—সব নিয়ে আলোচনা করত বাংলায়। স্কুলের প্রথম দিন প্রথম কবিতা আবৃত্তি প্রথম প্রেমপত্র—সবই লেখা ছিল বাংলায়। তখন সে জানত না এই ভাষাই একদিন তার পরিচয়ের সবচেয়ে শক্ত ভিত হয়ে দাঁড়াবে। কলেজে উঠে অর্ক শহরে আসে। ধীরে ধীরে বাংলার জায়গা দখল করে নেয় অন্য ভাষা। প্রথমে প্রয়োজনের তাগিদে পরে অভ্যাসে। বন্ধুমহলে বাংলা বললে অনেকে মজা করত এত আবেগ কেন? অর্কও হাসত কিন্তু কোথাও যেন কিছু একটা খসে পড়ত ভেতর থেকে। একদিন অফিসে এক সহকর্মী তাকে বলেছিল তোমাদের বাংলা ভাষাটা খুব মিষ্টি শোনায় কিন্তু প্রফেশনাল লাইফে তো ওটার দরকার পড়ে না। অর্ক সেদিন কোনো উত্তর দেয়নি। শুধু মনে মনে...

মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব

       মাতৃভাষা এস এ বিপ্লব পৃথিবীর সব দেশেই নিজ নিজ ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারন যার যার নাড়ির টান কিংবা নিজ ভাষার প্রতি আকর্ষণ একটা বিষয় কাজ করে থাকে। আর এই নাড়ির টান বা ভাষার প্রতি আকর্ষণ যাই বলি না কেন?  এসব কিছুর জন্য দায়ী একমাত্র মা। তাই মাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বলা হয় বা বলা যায়। জম্ম থেকে মা যে ভাষা শিখাবে সেই ভাষাতেই আমি, আপনি কথা বলব বা বলে থাকি। তাই আমরা মায়ের ভাষা কে সম্মান করব।মায়ের ভাষার জন্য যুদ্ধ করি,জীবন দেই নানা ভাবে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠা করি।ছোট্ট শিশু জানে না সে হিন্দু না মুসলিম আর না  বৌদ্ধ,খ্রিষ্টান। তাহলে কে শিখায়? মা শিখায়, মা বলে আল্লাহ, ভগবান ইত্যাদি শিশুও তাই শিখে। আবার আরবি, বাংলা, ই্যরেজী চিনত না শিশু, কে চিনিয়ে থাকে?  মা চিনিয়ে থাকে। তাই মা, মাটি  আর  মায়ের ভাষা  মাতৃভাষা কে   আমাদের সম্মান করতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে কষ্টের বিষয় হলো এখানে মাকে বা মাতৃভাষা কে বছরে একবার খুব ধুমধাম করে স্মরন করে এরপর আর কোন খবর না রাখে। আর সেটা দেখা যায় একমাত্র  বছর ঘুরে আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারী যখন আসে। যেটা আম...

স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র

    স্মৃতির স্বরলিপি সঙ্গীতা মহাপাত্র ​ শহরের নাম এথেলগার্ড। চারদিকে ঝকঝকে তুষারপাত আর অচেনা এক যান্ত্রিক ভাষার কোলাহল। অভিরূপ এখানে থিতু হয়েছে প্রায় সাত বছর। অফিস, বন্ধু-বান্ধব আর প্রাত্যহিক জীবনের সবটুকু এখন ভিনদেশি বুলিতে মোড়া। এমনকি ওর ভাবনার জগতটাও ইদানীং পরদেশি শব্দে সাজানো থাকে।   ​সেদিন অফিস থেকে ফেরার পথে পার্কের এক কোণে একটা ছোট্ট শিশুকে দেখল অভিরূপ। তার মা তাকে নিয়ে বেঞ্চে বসে আছেন। বাচ্চাটা পড়ে গিয়ে হাঁটু ছড়ে ফেলেছে, আর ফুঁপিয়ে কাঁদছে। মা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন অন্য ভাষায়। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ থমকে দাঁড়াল অভিরূপ। ওর মনে হলো, বাচ্চাটা যখন যন্ত্রণায় কাঁদছে, সেই কান্নার সুরটা ঠিক ওর ছোটবেলার মতো।   ​বাচ্চাটা হঠাৎ হাউমাউ করে কেঁদে উঠে তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, "মা, লাগছে!"   ​অভিরূপের বুকটা এক নিমেষে কেঁপে উঠল। মা আর বাচ্চাটি আসলে বাঙালি পর্যটক। দীর্ঘ সাত বছর পর নিজের মাটির শব্দগুলো যখন কানে আছড়ে পড়ল, ওর মনে হলো ও এতক্ষণ কোনো এক যান্ত্রিক মরুভূমিতে ছিল। যে শব্দগুলো ও প্রতিদিনের ডায়েরিতে হারিয়ে ফেলেছিল, সেগুলোই আজ ওর রক্তে নাচন ধরিয়ে দিল।   ​সে রাত...

আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত

আমার প্রাণের ভাষা মানস কুমার সেনগুপ্ত 'আজি বাংলা দেশের হৃদয় হতে কখন আপনি, তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী ' । বঙ্গ জননীর রূপের মতো , মধুর বাংলা ভাষা মূর্ত হয়েছে দুই বাংলার অগনিত মানুষের প্রাণের ভাষায়। শুধুমাত্র ভাষার জন্য ওপার বাংলার অগনিত মানুষের আত্মবলিদানে, ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটি স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। দুই বাংলার প্রাণের কবি রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল ইসলামের কাব্য, সঙ্গীত, সাহিত্যের সৃষ্টির উত্তরাধিকার বহনকারী অগনিত বাঙালি আত্মগরিমায় জারিত হয়েছে বাংলা ভাষা চর্চায়। কান্তকবি রজনীকান্ত, অতুলপ্রসাদ সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কাব্য, সঙ্গীত সমৃদ্ধ করেছে বাঙালির প্রাণের ভাষা চর্চার ইতিহাসকে। পঞ্চ কবির অফুরান সৃষ্টি বিশ্বের দরবারে বাংলা ভাষাকে গৌরবান্বিত করেছে।  বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় বাংলা ভাষার প্রাথমিক শিক্ষার সোপান। রবীন্দ্রনাথের সহজ পাঠ, যোগীন্দ্রনাথ সরকারের আদর্শলিপি এক ছন্দবদ্ধ স্মৃতিমেদুরতার জন্ম দেয়। বাঙালির সাহিত্য চর্চা সমৃদ্ধ হয়েছে বঙ্কিমচন্দ...

গদ্য ।। ওরে, ভোরের পাখি ।। অঙ্কিতা পাল

ওরে, ভোরের পাখি অঙ্কিতা পাল আমি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে সবার আগে সাধের সুন্দর ছাদ বাগান দেখতে যাই। সেখানে বিভিন্ন রংয়ের জবা ,অপরাজিতা, কাগজ ফুল ,দোপাটি, গোলাপ ,পদ্ম, ব্লিডিং হার্ড , লাল পাতা , টাইম ফুল , রেইন লিলি , মানি প্ল্যান , কলাবতী, সূর্যমুখী, ঝাউ , অলকানন্দা ইত্যাদি ফুল ও গাছের সমাহার রয়েছে। তাদের একদিনও না দেখলে যেন দিনটাই খারাপ এমন মনে হয়, মনটাও কেমন প্রফুল্ল চিত্তে নিজের কাজ শুরু করে।             এই তো মাসখানেক আগের কথা - আমি সকাল সাড়ে ছটা নাগাদ ছাদে গিয়েছিলাম দেখলাম দক্ষিণ পূর্ব দিগন্ত থেকে লাল সূর্য মামা কেবলি উঁকি দিচ্ছেন,  আর রক্তিম আকাশের বুক চিরে কিচিরমিচির করতে করতে উড়ে চলেছে পাখির দল।  সেই দৃশ্যটা আমার মনকে আরো শান্ত করে দিলো চোখ বন্ধ করে এক নির্মল শ্বাস বায়ু যেন অন্তরে প্রবেশ করেছিল। উফ: কি অদ্ভুত না সেই প্রাকৃতিক দৃশ্য! আমার জ্যেষ্ঠা কন্যা অহনার  English literature পাঠ্য পুস্তকের ৯৪ পাতায় - " Emily Dickinson " এর লেখা " A Bird Came Down the Walk " কবিতাটি রয়েছে। কবিতাটি আজও আমার মননে গাঁ...

গদ্য ।। স্বাধীনতা ও আমরা ।। কাজল আচার্য

স্বাধীনতা ও আমরা কাজল আচার্য স্বাধীন পেয়েছি দেখ দেখ অনেক বছর হয়ে গেলো কিন্তু প্রকৃত অর্থে এই স্বাধীনতা কতটা প্রসারিত হল জনমানুষে? এ প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে একটা ভিন্ন ছবি ফুটে ওঠে। এই স্বাধীনতার দুটি ধারা প্রথম ধারায় স্বাধীন কী কীভাবে তার বিস্তার ঘটেছে এই নিয়ে চর্চা চুল চেরা বিশ্লেষণ করে চলেছেন। অন্য ধারায় স্বাধীনতা কী খায় না মাথায় দেয় এ নিয়ে নিরুৎসাহ জিজ্ঞেসা। যারা দিন আনে দিন খায় তারা কখন এটা বাড়ছে কখনই কমছে এবিষয়ে চিন্তার অবকাশ নেই।  যারা রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা লিখে গেল তাদেরই বা কী স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্নের অতি বর্তমান পরিস্থিতি দিকে নজর দেওয়া যাক, রাতের একটা নিদিষ্ট সময়ের পর একটি মেয়ে বাইরে  বের হতে গিয়ে স্বাধীনতা শব্দের অর্থ হাড়ে হাড়ে টের পায়। চাকরি বাকির ক্ষেত্রে স্বাধীনতা শব্দটি প্রায় ঝাপসা।  দলীয় রঙের বাইরে এলেবেলেদের চরম উপেক্ষা।  আর একদল বুদ্ধিদীপ্ত পন্থায় দারিদ্র্য বেচে খায়। লাভের কড়ির কোন অংশ এই প্রান্তিক মানুষগুলো জন্য নির্ধারিত হয় কী? বিজ্ঞাপনে জগতে সব কিছুই বিপণন সামগ্রী। কোন ব্যক্তি যখন 'স্বাধীন ও প্রান্তিক মানুষের জীবন যাপন' বিষয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন তখন এর ...

মুক্তগদ্য ।। বলিদান ।। দীননাথ চক্রবর্তী

         বলিদান দীননাথ চক্রবর্তী বলিদান এর মধ্যে ভীষণভাবে থাকে ভোরের রাঙা সূর্যের ভাবনা। এই ভাবনায় জারিত নব প্রাণ -এর ভ্রূণ। এক কথায় কোন মহৎ উদ্দেশ্যকে গড়ে তোলা। কোন কিছু গড়ে তোলার জন্য দরকার তিনটি জিনিসের। এক ভাবনা। ভাবনা প্রাণ পায় বিশ্বাসে। আর বিশ্বাস প্রাণ পায় প্রত্যয় থেকে। তবেই একটা জিনিস গড়ে ওঠে। আগস্ট মাস সেই ভাবনার মাস। বিশ্বাস প্রত্যয় এর মাস। আগস্ট মাস স্বাধীনতার মাস। জীবনে স্বাধীনতার মত পরম সঙ্গী কিছু হতে পারে না।  সেই স্বাধীনতা লালিত পালিত হয় জন্মভূমিতে। সেই জন্মভূমির শৃঙ্খলে লংঘিত হয় স্বাধীনতা। জীবন তখন মরনেরই নামান্তর। সেই জন্মভূমি শুধুমাত্র ভৌগলিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। সমাজও সেই স্বাধীনতার ক্ষেত্র। মনের স্বাধীনতা না থাকলে পূর্ণতা পায় না সে স্বাধীনতা। বীর শহীদদের বলিদান তখন অর্থহীন হয়ে পড়ে। আজকে যেন তারই ইঙ্গিত। সকলকে বুঝতে হবে স্বাধীনতা মানে শুধু অধিকার নয়, কর্তব্যও। ====================== দীননাথ চক্রবর্তী কল্যাণীকুঞ্জ গ্রাম ও পোষ্ট, দুইলা, জেলা, হাওড়া সূচক,711302

মুক্তগদ্য ।। অগ্নিকন্যা ।। সুচন্দ্রা বসু

অগ্নিকন্যা সুচন্দ্রা বসু    দুধ আনতে বেরিয়েছিলাম সকালে। শুনলাম আজ স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর উপলক্ষ্যে স্বদেশী গান বাজছে মাইকে। তা ছাপিয়ে এক অদৃশ্য স্বর এসে কানে ধাক্কা দিল। শুনলাম গান্ধীজী যেন কাকে ডেকে বললেন, কোথায় গেলি কমলা? লবণ আন্দোলনে আমার সঙ্গে ছিলি তোকে কি ভুলতে পারি? তাকিয়ে দেখলাম নেতাজীও গান্ধীর পেছনে চলেছেন । দেশবাসী জানে ব্রিটিশ পরাধীনতার শিকল ভাঙতে তোমার নেতৃত্বে, 'আইন অমান্য' ও 'অসহযোগ আন্দোলন'- 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের ঢেউ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশে। কথাগুলো কানে যেতে মুখ ঘুরিয়ে গান্ধী বিস্মিত, সুভাষ তুমি?  আপনাকেই খুঁজছি বাপু।  জানতে চাইছিলাম  যেসব সংগ্রামী জনগণ দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিল, যাদের তাজা রক্তে ভারত স্বাধীন হয়েছে,তাদের কথা কি মানুষ  মনে রেখেছে?  এইদিনে কমলাকেও শ্রদ্ধা জানানোর কথা দেশবাসীকে বলতেই তো রেড রোডের দিকে যাচ্ছিলাম।  বাবা সরকারি আমলা হলেও,মা গিরিজাবাই  ছিলেন  স্বাধীনচেতা মহিলা। মায়ের আদর্শে কমলা উদ্বুদ্ধ ।  বাড়িতে আনাগোনা ছিল মহাদেব গোবিন্দ রানাডে, গোপাল কৃষ্ণ গোখলে, অ্যানি বেসান্ত, রাম...

গদ্য ।। কবিতার কথা ।। সুবীর ঘোষ

কবিতার কথা   সুবীর ঘোষ      একজন মা যেমন নিজের সন্তানকে কারো সঙ্গে তুলনা করে দেখতে চান না , তেমনি আমার কবিতার গায়ে আমি তত্ত্বায়নের লেবেল আঁটা পছন্দ করি না । ফলে কবিতার ক্রিয়াকরম রীতিপ্রণীতি ব্যাকরণ কিছুই জানা নেই আমার । জানি না কবিতার সংজ্ঞা ও ভূমিকা কুশল ও কৌশল । কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে কবিতা লিখি না , কোনো প্রাপ্তির জন্যও নয় , কোনো বার্তা দেবার জন্য তো নয়ই । কবিতায় আমি নিজের সঙ্গেই কথা বলি , এ আমার অফুরন্ত আনন্দের স্বরালাপ খেলা । কখনো চোখের আলোয় কোনো রৌদ্রপ্রতিমাকে দেখা যায় , যার সঙ্গে কথাও বলা যায় । কবিতা তখন কিছুটা দ্বিরালাপ হয়ে যায় ঠিকই তবে প্রকৃত দ্বিরালাপ তো কবির সঙ্গে পাঠকের কথা বলা ।   অনেকে অনেক কথা বলেছেন ---কবিতা হয়ে ওঠে , বেজে ওঠে । কেউ কেউ নির্মাণ – বিনির্মাণের কথাও বলেছেন । আমি মনে করি কবিতা এসে ওঠে । আমরা যেমন বেড়াতে গেলে কোনো হোটেলে গিয়ে উঠি তেমনি কবিতা অজানা কোনো স্বপ্নলোক থেকে এসে ওঠে সাদা কাগজের চৌকো ঘরটিতে । সেটিকেও সে শব্দে বর্ণে অর্থে ব্যঞ্জনায় আলোকিত করে তোলে ।   ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,