ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক আদৌ জোড়া লাগে না কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য সময়ের সাথে মানুষের ভেতরের মানুষটাও বদলে যায়। যেমন বদলায় নদীর ধারা পথ। একদিক ভাঙে, একদিক গড়ে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। মানুষেরও এরকম কিছু নিয়ম আছে। উনবিংশ শতাব্দী থেকে প্রধানতঃ রাম মোহন, বিদ্যাসাগরের হাত ধরে বাংলায় নব-জাগরণ হয়েছিল। তখন দুটি হৃদয়ের ভাঙা-গড়ার কাহিনী চার দেয়ালে বন্দী থাকত। বিশেষতঃ মহিলারা দীর্ঘশ্বাস বুকে নিয়ে জীবন কাটিয়ে দিতেন হাসিমুখে। উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগ থেকে নারী শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া শুরু হলো, বিদেশি শিক্ষাবিদদের সহযোগিতায়। কাদম্বিনী গাঙ্গুলীকে পেলাম ডাক্তার হিসাবে। শিক্ষার চেতনা মনে বাস করলে, সেই মহিলা বা পুরুষের নিজস্ব চিন্তাধারা মনকে প্রভাবিত করবেই। এবং সেই চিন্তাধারা ঠোঁটে একদিন না একদিন উচ্চারিত হবেই। এখান থেকেই সমাজে, সাহিত্যে সম্পর্ক, সম্পর্কের ভাঙা-গড়া বিশেষ স্থান অধিকার করে। যেমন কাঁচের, পোর্সিলিনের জিনিস ভাঙলে জোড়া লাগে না, কারণ এই জিনিসগুলির বিশেষ গুন ভঙ্গুর। মানুষের ক্ষেত্রে এমনই বিশেষ গুন সম্পন্ন জিনিসটি হলো আবেগ। মানুষের...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...