সম্পাদকীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নবপ্রভাত সাহিত্যপত্রের পক্ষ থেকে মহান ভাষাশহীদদের উদ্দেশে জানাই সশ্রদ্ধ শ্রদ্ধা ও প্রণতি। অদম্য জেদ, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে সুমহান অর্জন, আমরা তারই ধারা-অধিকারী। ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী হিসাবে আমাদের দায়িত্ব অনেক। মাতৃভাষার সম্মান রক্ষার্থে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে আমাদের। ভারতবর্ষের ভাষাবিন্যাসের বর্তমান কাঠামোয় বাংলা ভাষাভাষীর মানুষ হিসেবে আমাদের সামনে বহুবিধ চ্যালেঞ্জ উপস্থিত। হিন্দি-হিন্দুস্তানের স্লোগানকে সুপরিকল্পিতভাবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। অসম বিহারসহ বহু প্রদেশে বাংলা ভাষার উপর আক্রমণ চলছে। আছে সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট সমর্থন। এদিকে কলকাতার বহু জায়গায় বাংলাভাষীরাই সংখ্যালঘু! পাশাপাশি আত্মঘাতী বাঙালীর মাতৃভাষাকে অসম্মান বড়ই বেদনার! ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ছেলেমেয়েকে পড়ানো অপরাধের নয়। কিন্তু বাংলাভাষার চর্চা থেকে সন্তানকে বঞ্চিত করা কিংবা 'ওর বাংলাটা ঠিক আসে না' বলে আত্মশ্লাঘা অনুভব করার মধ্যে আত্মঘাতের পাপ লুকিয়ে থাকে। মাতৃসম ভাষাকে সম্মান-শ্রদ্ধা করতে না পারলে ইহজীবনের ষোলআনাই...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...