গল্প 'ক্লাসমেট' প্রীতম সরকার ক্লাসের প্রথম পিরিয়ডে সুনীল স্যার ঘো ষণা করলেন এবছর আবার স্কুল ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হবে। গতকাল স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে হেড স্যারের মিটিং এ এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত বছর বন্যার কারনে স্কুল বার্ষিক ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে পারেনি। বন্যায় স্কুলে দূর্গত মানুষরা আশ্রয় নেওয়ায় স্কুলে ক্লাসে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে না হতেই দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট শুরু হয়েছিল। আর তারপর স্কুলে প্রায় এক মাস পূজোর ছুটি হয়ে গিয়েছিল। বিনোদ অবশ্য এখন ক্লাস এইটে পড়ে। অর কাছে স্কুল ম্যাগাজিন জিনিষটাই এবার প্রথম। সুনীল স্যার যখন আজ ক্লাসে বললেন, "আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মিহির স্যারের কাছে লেখা জমা দিয়ে দেবে। তবে মনে রাখবে, লেখা অবশ্যই 'নিজস্ব হওয়া চাই।' ক্লাসের কয়েকজন ছাত্র তখন জিজ্ঞাসা করলো, "কি রকম লেখা জমা দিতে হবে স্যার ?" 'গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা কোথাও বেড়াতে গিয়ে সেখানের আভিজ্ঞতা, মানে কেমন লেগেছিল সেটা নিয়ে ভ্রমণ কাহিনীও তোমরা লিখতে পারো।" বিনোদ এবছরেই এই বাণীমাধব হা...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...