গল্প 'ক্লাসমেট' প্রীতম সরকার ক্লাসের প্রথম পিরিয়ডে সুনীল স্যার ঘো ষণা করলেন এবছর আবার স্কুল ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হবে। গতকাল স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সঙ্গে হেড স্যারের মিটিং এ এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত বছর বন্যার কারনে স্কুল বার্ষিক ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে পারেনি। বন্যায় স্কুলে দূর্গত মানুষরা আশ্রয় নেওয়ায় স্কুলে ক্লাসে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে না হতেই দ্বিতীয় ইউনিট টেস্ট শুরু হয়েছিল। আর তারপর স্কুলে প্রায় এক মাস পূজোর ছুটি হয়ে গিয়েছিল। বিনোদ অবশ্য এখন ক্লাস এইটে পড়ে। অর কাছে স্কুল ম্যাগাজিন জিনিষটাই এবার প্রথম। সুনীল স্যার যখন আজ ক্লাসে বললেন, "আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মিহির স্যারের কাছে লেখা জমা দিয়ে দেবে। তবে মনে রাখবে, লেখা অবশ্যই 'নিজস্ব হওয়া চাই।' ক্লাসের কয়েকজন ছাত্র তখন জিজ্ঞাসা করলো, "কি রকম লেখা জমা দিতে হবে স্যার ?" 'গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ বা কোথাও বেড়াতে গিয়ে সেখানের আভিজ্ঞতা, মানে কেমন লেগেছিল সেটা নিয়ে ভ্রমণ কাহিনীও তোমরা লিখতে পারো।" বিনোদ এবছরেই এই বাণীমাধব হা...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...