জুজুবুড়ির কেরামতি
গোবিন্দ মোদক
জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি
সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি।
তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল
যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!”
মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি
ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি!
খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম
কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম!
জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি
পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।
হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো
হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো!
হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি
ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি!
লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান
জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান!
চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে
সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে!
চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে
ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে!
___________________________
গোবিন্দ মোদক।
রাধানগর, ডাক- ঘূর্ণি, কৃষ্ণনগর, নদিয়া।
পশ্চিমবঙ্গ, ডাকসূচক - 741103
Comments
Post a Comment