Skip to main content

Posts

নববর্ষের কামনা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়

   নববর্ষের কামনা    সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়                      সুরসিক শিবরাম চক্রবর্তী বলেছিলেন 'নতুন বছর নতুন বছর বলে খুব হইচই করার কিস্যু নেই।যখনই কোন নতুন বছর এসেছে এক বছরের বেশী টেকেনি।' কথাটা হয়তো তিনি অভিমান থেকে বলেছিলেন।নতুন বছরের আনন্দ উদ্দিপনা ভালোভাবে উপভোগ করার আগেই আরেকটা নতুন বছর এসে হাজির হয়,অন্তরে অতৃপ্তি রয়েই যায়।অভিমান হওয়াটাই স্বাভাবিক, কারণ একটা গোটা নতুন বছরে মানুষ কতরকম আশা আকাঙ্খা মনে মনে পোষন করে থাকে আর বছরটা  সেই আশা আকাঙ্খার কোনটির অর্ধেক, কোনটির সিকি ভাগ পূরণ করে পালিয়ে যায়,অনেক স্বপ্ন,অনেক আকাঙ্খা অপূর্ণই থেকে যায়,একবছর সময়টা তাই নেহাতই স্বল্পপরিসর ।নতুন বছর তাই তার হয়তো সাধ জাগায় কিন্তু সাধ পূরণ করতে পারে না। আসলে সময়টা হয়তো ঠিকই থাকে,একটা নতুন বছরে আমরা যা যা আশা করি বা স্বপ্ন দেখি তার তালিকা এতো বড় এবং ক্রমশ এতো বড় হয় যে সময় তার সাথে তাল দিতে পারে না।সাধারণ   সংসারজীবী মানুষ হিসেবে আমাদের স্বপ্নগুলো  আকাঙ্ক্ষার যতোটা অংশ অধিকার করে থাকে তার চেয়ে বেশী জায়গা ...

বাঙালির নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস ।। পুষ্প সাঁতরা

নব বরষে নব হরষে পুষ্প সাঁতরা নব আনন্দে জাগো আজি নব রবি কিরণে শুভ্র সুন্দর প্রীতি উজ্জ্বল নির্মল জীবনে উৎসারিত নব জীবননির্ঝর উচ্ছাসিত আশা গীতি অমৃত পুষ্প গন্ধ বহে আজি এই শান্তিপবনে'। ----- রবীন্দ্রনাথ   বাংলা পঞ্জিকা ধরে আসে বাঙালির 'নববর্ষ ', নববর্ষের সাজ ঘরে লাগে নব হিল্লোল,প্রকৃতিও সেজে ওঠে আপন খেয়ালে।বাংলা নববর্ষ বা পয়লা বৈশাখ হল বাঙালির প্রাণের উৎসব।যেহেতু নববর্ষ তাই এই অনুষ্ঠানে কিছু মাঙ্গলিক কর্ম  অনুষ্ঠিত হয়।কেননা বছরের প্রথম দিনটিকে সাদরে বরণ করাই হল মূখ্য উদ্দেশ্য-- মূখ্যত গৃহ, দোকান, মন্দিরের চারপাশ ফুল মালায় সাজানো হয়।সারা বছরই যেন আনন্দে মন ভরপুর থাকে।যেখানে সুন্দর সেখানেই আনন্দ ধাম।পূজার্চনা খাওয়া দাওয়ার মধ্যে নববর্ষ কে বরণ করা।এ আমাদের বাঙালি  সংস্কৃতি এবং  ঐতিহ্যের রূপরেখা চিহ্নিত করে।নববর্ষের প্রথম দিন,এই  পয়লা বৈশাখের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কত আবেগতাড়িত স্মৃতিমালা।চৈত্র সংক্রান্তিও  চড়কের পরেই বছরের প্রথম দিনের আনন্দ উপভোগ করা; বাঙালির নববর্ষের ইতিহাস লিখতে গিয়ে,বিংশ শতাব্দীর কথা এসে পড়ে,বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে জমিদারি প্রথা যখন কা...

স্মৃতিকথা ।। ১লা বৈশাখে খুবই একলা যে আমি ।। বিশ্বনাথ পাল

১লা বৈশাখে খুবই একলা যে আমি  বিশ্বনাথ পাল নববর্ষ আর নবহর্ষ কেন জানি না লোমহর্ষ  ব্যাপার বলে আমার স্মৃতির ভাণ্ডারে সেই শিশুকাল থেকে চলে  আসছে।ছোটবেলায় সস্তা কাগজের বর্ণপরিচয়ের কভার পাতার সঙ্গে রঙ মিলিয়ে নতুন খাতার চিঠি দোকানদার বাড়িতে দিয়ে যেত। সকাল থেকে উঠে তক্কে তক্কে থাকতাম কখন বিকেল হবে। দাদুর সঙ্গে নোতুন খাতা করতে যাব। দুটাকা দিয়ে ও পাড়ায় নতুন খাতার করাটা বেশ সমীহের ছিল।দোকানদারের একজন বিশেষ বন্ধু চাকরিকরলেও এই বিশেষ দিনে এখানে নাম আর টাকার পরিমাণ লিখলে --দোকানীর নিজে পদ্মপাতায় এক হাতা পরিমাণ রসাল বোঁদে দিতেন। সেই বোঁদে নিয়ে দাদুর পিছনে পিছনে যাওয়া এই ছেলেটাই দাদুকে টপকে এক দৌড়ে ঘরে আসতাম। তারপর  নিজেদের প্রাপ্য পেতাম ভাই বোনেরা।নতুন বছরে নতুন জামা পড়ার রেওয়াজ তখন চেনা পরিচিত গণ্ডীর মধ্যে টের পাই নি তাই এ নিয়ে কোন মাথাব্যথা ছিল না আদৌ। গ্রামের ইস্কুল থেকে বড় ইস্কুলে গিয়ে দেখলাম।নতুন খাতা আসলে একটা উৎসব। দেদার আয়োজন।দোকান সাজানো,প্যান্ডেল,লাইট মাইক । বড় ভালো লাগত।তারপর কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য বর্ধমান ও কোলকাতায় থাকার সুবাদে পয়লা বৈশাখ ...

বর্তমানে বাঙালি জাতি ।। দুর্গাদাস মিদ্যা

বর্তমানে বাঙালি জাতি!  দুর্গাদাস মিদ্যা বাঙালি জাতির জাতীয়তা বোধ যে নেই   তা সবিশেষ প্রকাশিত বাংলাভাষার প্রতি বাঙালির অবহেলা । বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে চোখ আর কান খোলা রাখলেই এই ছবিটা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে। একটি জাতির জাতিসত্ত্বার প্রকাশ ঘটে তাদের দৈনন্দিন জীবন যাপনের মধ্যে। তাদের আচার আচরণে। সময়ের প্রেক্ষিতে ধ্যান ধারণা বদল হওয়া স্বাভাবিক। হচ্ছে ও তাই হয়েছে ও তাই। আমাদের বদলটা যেন খুব বেশি।যেমন ধরুন পোশাক আশাকের কথা।এখন কি আমরা ধুতি পাঞ্জাবি পরিহিত হয়ে দিনাতিপাত করি? অথচ বাঙালির ঐতিহ্যবাহী স্বীকৃত পোশাক তো তাই ছিল। আমরা গতিময় জীবনের যাপনের দোহাই দিয়ে তা অবলীলায় ত্যাগ করেছি। কোনোরকম দ্বিধাবোধ আমাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে পীড়িত করছে না । মা মাসীদের শাড়ি সায়া ব্লাউজ পরতে দেখে আমরা অভ্যস্ত। এবং শাড়ির আঁচল বাঁ কাঁধে ফেলে রাখা ছিল বাঙালিয়ানার লক্ষণ। এখন তা কী আর ততটা থাকছে। ওখানে ও কাজের দোহাই দিয়ে আস্তে আস্তে সরিয়ে দিচ্ছি।এখন তো খুব বড় প্রশ্ন কোনটা আমাদের জাতীয় পোশাক?  আসলে পরানুকরণপ্রিয়তায় আমরা অপ্রতিদ্বন্দ্বী।এই ব্যাপারে আমাদের কোন লজ্জা বোধ নেই। এত...

বাঙালির নববর্ষ ।। নন্দা রায় পোড়েল

বাঙালির নববর্ষ নন্দা রায় পোড়েল স্বাধীনতা পূর্ব নববর্ষ:-আমাদের এই বাঙলায় প্রথম যে নববর্ষ পালিত হয়েছিল তা কবি  ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের হাত ধরে।সেটা ছিল ঊনবিংশ শতকের (1850 সালের)বাংলার1257 1লা বৈশাখ।অনেকেই হয়ত জানেননা যে কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন সাংবাদিক।এমনকী তাঁর বাড়িতে 'সংবাদ প্রভাকর' নামে একটা  ছাপাখানা ছিল।কবি গুপ্ত ওই ছাপাখানা ঘরেই প্রথম নববর্ষের বৈঠক করেন। সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কবি ঈশ্বরচন্দ্রকে বলতেন 'খাঁটি বাঙালি কবি'; বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা থেকে জানা যায়--- সেই সভায় নগর,উপনগর এবং মফস্বলের প্রায় সমস্ত সম্ভ্রান্ত লোক এবং সে সময়ের বিদ্বান ও ব্রাহ্মণ পন্ডিতরা আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত থাকতেন। কলকাতার ঠাকুরবংশ,মল্লিকবংশ,দত্তবংশ,শোভাবাজারের দেববংশ প্রভৃতি সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকতেন।মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করতেন।ঈশ্বরচন্দ্র মনোরম প্রবন্ধ ও কবিতা পাঠ করে সকলের হৃদয় হরণ করতেন।ঈশ্বরচন্দ্রের ছাত্ররাও যে যার লেখা পাঠ করতেন।যার লেখা সবার মন জয় করতে পারত সেই ছাত্র নগদ টাকা পুরস্কার হিসাবে পেতেন।এছাড়াও বহু গণ্যমান্য কব...

পয়লা বৈশাখ বাংলার রূপ এবং বাংলার মুখ ।। সুবল সরদার

পয়লা বৈশাখ বাংলার রূপ এবং বাংলার মুখ  সুবল সরদার  'If winter comes,can spring be far behind?' যদি শীত আসে, বসন্ত আসবেই ।  বাংলায় বৈশাখকে আসতে হয়,তাই তো সে রূপসী বাংলা হয়ে ওঠে । যখন ব্যথিত হৃদয় নিয়ে চৈত্র বিদায় নেয়, তখন বৈশাখ আশা -আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন নিয়ে হংসের মতো সৌন্দর্য্যের ডানা মেলে সরোবরে রূপসী বাংলার বুকে। । কী রূপে, কী সোহাগে বৈশাখ ফেরে বাংলার টানে। বাংলার রূপ এবং মুখ হলো পয়লা বৈশাখ। রূপে- রসে- গন্ধে ভরে, সুজলা -সুফলা- সবুজ রূপে,ফুলে -ফলে -সজলে বৈশাখ আসে শতরূপা হয়ে । মাধবীলতার মাধুরীর প্রাণে ! বট - অশ্বত্থ সুবজ পাতা মেলে দক্ষিণা হাওয়ায় ,তখন তরুছায়া থেকে নির্জনতা ভঙ্গ করে মধুর সুরে ডেকে ওঠে কোকিলের কুহু কুহু ডাক। কত ছবি ,কত মুখ ভেসে আসে বাতাসে! মনে হয় কত সুখের বাতাস বহন করে আনে !  বৈশাখ শুধু নতুনের ডাক দেয় না। পুরাতনের হাতে ধরে এসে নতুনের স্বপ্ন গড়ে।  সৌন্দর্য আর ভালোবাসার মুহূর্ত নিয়ে মনে হয় পয়লা বৈশাখ ।  বাংলা- বাঙালি -পয়লা বৈশাখ সব যেন নক্সী কাঁথার মতো কাব্য গাঁথা। পুরানো আর নতুনের দ্বন্দ্ব নিয়ে পয়লা বৈশাখ আসে না। পুরানোর অবসান...

প্রবন্ধ ।। হালখাতা - বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী

হালখাতা - বাঙালিয়ানা  শ্যামল হুদাতী  -------------------------------  ‌‌ সম্রাট আকবরের বাংলা সন প্রবর্তনের পর তৎকালীন ভারতবর্ষে হালখাতার প্রচলন শুরু হয়।মূলত হালখাতা উৎসব উদযাপন করা হতো রাজাদের খাজনা প্রদানের 'পুণ্যাহ' অনুষ্ঠানের রীতি ধরে।'পুণ্যাহ' উৎসব হারিয়ে গেলেও হালখাতা চলছে এখনও পর্যন্ত। নববর্ষের সাথে  'হালখাতা' শব্দটি অঙ্গাভঙ্গি ভাবে জড়িত। হাল শব্দের অর্থ লাঙ্গল। আবার কৃষকের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে নববর্ষ। মোঘল সম্রাটরা কৃষি পণ্যের খাজনা নিতেন হিজরি পঞ্জিকা অনুসারে ।অসময়ে খাজনা দেওয়ার যন্ত্রনা থেকে কৃষককে মুক্তি দিতে সম্রাট আকবর ফসলি সন চালু করেন। এই ফসলি সনই বঙ্গাব্দ হল কালক্রমে। জমিদারের ঘরে খাজনা পৌঁছে দিতেন  কৃষকরা। সেই সময় ঋণের ভার লাঘব করার রীতিও ছিল। অনেক সময় কৃষকদের ঝড় জলে তাদের ফসল নষ্ট হতো ।সেই ক্ষেত্রে কৃষকদের ঋণ মুকুব হতো।  আবার সঠিক সময় কর জমা দিলে জমিদাররা নজরানা পেতেন। সেই সময় জমিদার বাড়িগুলোতে সাজো সাজো রব দেখা যেত। আবার  এটাও শোনা যায় যে হিজরি সন থেকে বঙ্গাব্দের প্রচলন ।সেই হিজরিসন আবার হযরত মোহাম্মদের মক্কা ত্যাগের স...

শৈশবের বাংলা নববর্ষ উৎযাপন ।। মিনতি ঘোষ

নববর্ষ  মিনতি ঘোষ  আমাদের নববর্ষ সূচনা হয় বৈশাখ মাস দিয়ে। তখন প্রচন্ড দাবদাহপূর্ণ আবহাওয়া। তারপরে ঘুরে ঘুরে আসে সব ঋতু। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত। এই রিতু পরিবর্তন আমাদের ,পশ্চিম বাংলার এক বিচিত্র বৈশিষ্ট। বৎসরের প্রথম দিনটি হলো ১লা বৈশাখ। আমরা মনে করি এটি একটি শুভ সূচনা। আশা রাখি পুরো বছর সকলের ভালো কাটুক।  যখন ছোট ছিলাম, তখুন ১লা বৈশাখের একটা মাধুর্য্য ছিল আমাদের কাছে। নতুন জামা হবে, ভালো ভালো খাওয়া দাওয়া হবে। হালখাতা হবে। বাঁধা দোকান গুলিতে যেতাম। হালখাতার উপলক্ষে মিষ্টি খাওয়াতো। সব মিলিয়ে ভারী মজার দিন ছিল এই ১লা বৈশাখ। আমাদের ছিল একান্নবর্তী  সংসার। সব ভাইবোনেরা মিলে নতুন জামা কাপড় পরে বেড়াতে যেতাম। তার আগে বাড়িতে সব বয়সজ্যেষ্ঠদের প্রণাম করে আশীর্বাদ নিতে হোতো।   এমন আর সে সব হয়না। দিন বদলে গেছে। এখন সবাই ব্যস্ত যে যার নিজের ক্ষেত্রে। তবে দেখুন কিন্তু দুটো ব্যাপার চালু আছে অধিকাংশ বাঙালীর ঘরে। এক হচ্ছে ওই দিন বাড়িতে ভালো ভালো রান্না করে খাওয়া। আর দুই হচ্ছে চৈত্র সংক্রান্তি সেলের বাজারে যাওয়া। বাড়িতে যতই বস্ত্র থাকেনা কেন, চৈত্র সেলের বাজা...

শৈশবের স্মৃতির পহেলা বৈশাখ ।। শিউলী ব্যানার্জী (মুখার্জী)

শৈশবের স্মৃতি পটে পহেলা বৈশাখ তথা বাংলা নববর্ষ  শিউলী ব্যানার্জী (মুখার্জী)     বাংলা নববর্ষ আপামর বাঙালির কাছে একটা বিশেষ দিন । নিজেদের বাঙালি আর বাঙালিয়ানায় হয়তো সাজিয়ে তুলতে এই বাংলা নববর্ষের জুড়ি নেই। একটা নতুন আঙ্গিকে ধরা দেয় এই বাংলা নববর্ষ । আজ যখন চারিদিকে এত আধুনিকতার প্রসার , চাকচিক্য ঝলমলে আবরন , আভরন যাই বলি না বাঙালি যেন সব কিছু নিয়েই এক অন্য রূপে নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে নিয়েছে। কিন্তু যতই দিন বদল হোক আধুনিকতার পরশ লাগুক মনে গ্রাম কি শহর সব যখন ইন্টারনেট পরিষেবায় বিশ্বায়নের আবহে  নিজেদের পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত করে নিচ্ছে তখন আজও শৈশবের ফেলে আসা দিন গুলিতে বৈশাখের আগমনে নববর্ষের সেই আনন্দ সেই আপামর বাঙালির একটা প্রানের ছোঁয়া খুঁজে পাই । তখন স্কুলে পড়ি প্রতিবছর আমাদের সময় স্কুলের পরীক্ষা বছরে দুবার করে হোত হাফইয়ার্লি আর অ্যানুয়ালি। যাই হোক ঠিক চৈত্র মাসে আমাদের হাফইয়ার্লি পরীক্ষা হোত আর পরীক্ষা শেষে একদিন কি দুদিন পর শুরু হোত চৈত্র শেষের গাজন উৎসব ও শেষ দিন পহেলা বৈশাখ নববর্ষ । তাই পরীক্ষা শেষে মনের মধ্যে খুব আনন্দ থাকতো গাজন আর নববর্ষ তথা পহেলা বৈশাখ কে ঘিরে।...

নববর্ষ–আমার পিতৃতর্পণ ।। গৌতম ঘোষ-দস্তিদার

  নববর্ষ–আমার পিতৃতর্পণ  গৌতম ঘোষ-দস্তিদার জ্ঞানত নববর্ষ বলতে আমরা তখন বাংলা মাধ্যমে পড়া ছেলেমেয়েরা বাংলা নববর্ষকেই জানতাম। ইংরেজিতে যেটা কেবলই একটা নিউ ইয়ার ছিল, নতুন বছর হয়ে ঠিক যেন উঠতে পারেনি। আমাদের সময় কিন্ডারগার্টেন বলে কিছুর অস্তিত্ব ছিল না। আমরা ডিরেক্ট ফ্লাইট ধরে চলে যেতাম ক্লাস ওয়ানের বন্দরে। পড়াশোনার যে আধুনিক চাপ-উত্তাপ সেটা আদ্যিকালের এই বদ্যি বুড়োর দল আমরা তেমন ভাবে টেরই পাইনি। তার উপর পরীক্ষা বছরে মাত্র দুটো – বছরের শেষে আর গরমের ছুটির পর আধা বছরের। আর শিক্ষা-বছরও তখন শেষ হত গ্রেগরিয় বছরের শেষে মানে খ্রিষ্টজন্মের আগের সপ্তাহে। কাজেই বাংলা নববর্ষ আমাদের কাছে মনের ভিতর জেগে ওঠা একটা সত্যিকারের গোটা উৎসব ছিল। মোমো খেয়ে আর অ্যাকশন মুভি দেখে নষ্ট হত না। আমার তো নয়ই। আমার পিতৃদেব প্রয়াত শঙ্কু মহারাজ সপ্তাহের প্রতি সোমবার বিকেলে বইপাড়া যেতেন প্রকাশকদের সঙ্গে আর্থিক ও পারমার্থিক আলোচনার কাজে। কিন্তু পয়লা বৈশাখ যে বারই পড়ুক না কেন, সকাল না হতেই আমায় আক্ষরিক পাঁজাকোলা করে কলেজ স্ট্রিট ছুটতেন। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে তখন পৃথিবীর বহু আন্তর্জাতিক ...

বাংলা ভাষা ও নববর্ষ উৎসব ।।  দীপক পাল

                  বাংলা ভাষা ও নববর্ষ উৎসব   দীপক পাল               বাংলা ক্যলেনডারের প্রতি বছর পয়লা বৈশাখে বাংলায় এবং বাংলার বাইরে নববর্ষ  উৎসব পালিত হয়। এই বাংলা নববর্ষ সন্মন্ধে বলতে গেলে বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও প্রসার  সন্মন্ধে কিছু জানা দরকার। আজ থেকে দেড় হাজার বছরের আগে গুপ্ত যুগে ভারতবর্ষের  দক্ষিণ পূর্বাংশে বঙ্গ রাজ্য ও উত্তরাঞ্চলে গৌড় রাজ্যে বাংলা ভাষা দৃঢ় ভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল।  এরপর রাজা শশাঙ্কের আমলে বাঙালী ও বাংলা ভাষা বিশেষ ভাবে মর্যাদার আসনে স্থান  করে নেয় যা পাল যুগে তা আরও প্রসারিত হয়। তাদের আমল থেকেই বাংলা সংস্কৃতির এক  নিজস্ব ধারা পরিলক্ষিত হয় সাহিত্য, সঙ্গীত, নৃত্য, গীত বাদ্য, ললিত কলায় বিশেষ ব্যুৎপত্তি  লাভ করে। আগে বাংলা সন শুরু হতো চৈত্র মাস থেকে। দিল্লীর সম্রাট আকবর বঙ্গদেশে  খাজনা আদায়ের কিছু অসুবিধার জন্য বাংলা সন শুরু করান বঙ্গে বৈশাখ মাস থেকে।  আর তখন থেকেই বঙ্গের ক্যালেন্ডারে বছর শুরু হয় বৈশাখ মাস থেকে এবং নববর্ষ পাল...

বাংলা বর্ষবরণ বরণ ।। তপন মাইতি

বাংলা বর্ষবরণ বরণ             তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ আমার কাছে আবার নতুন করে শুরু করা বলে মনে হয়।'আসছে বছর আবার হবে বছর বছর এগিয়ে যাবে'র মত।জীবনের অন্ধকার ঘুঁচিয়ে ভোরের আলো দেখার মত সফলতা। জীবনের সব নেগেটিভকে পজিটিভ করবার প্রবল আকাঙ্খা কামনা বাসনা শপথ গ্রহণ করবার দিন।অতীত দিনে যত ভুলভ্রান্তি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে নিজেকে তৈরি করবার বুক বেঁধে ফেলবার দিন।ধূসর উসর মরুভূমির বুকে একটি মরুদ্যান খুঁজে পাওয়ার আনন্দের দিন।নববর্ষ আমার কাছে একটি ঋতুকালীন বিশেষ এক দিন। 'নববর্ষ'একটি নতুন বছরের সূচনার শুভলগ্নের দিন।যা নবায়নের সুযোগের প্রতীক।বৃক্ষের জীর্ণ পাতা ঝরিয়ে কিশলয়ের স্বপ্নে চোখ মেলে দেখবার ইঙ্গিত।শুভ মঙ্গলময় স্বস্তিক চিহ্ন এঁকে সাদা শাড়িতে দেবী লক্ষ্মী ও দেবতা গণেশের পুজো দিয়ে শুরু হয় বাঙালির ঐতিহ্য বর্ষবরণ পয়লা বৈশাখ,বৈসাবি বা বাংলাদেশের জাতীয় উৎসব।রামধনু রঙে মঙ্গল শোভাযাত্রা,হালখাতা,মেলা বা উৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশে ১৪ই এপ্রিল এবং ভারতে ১৫ই এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়। ৫৭ অব্দে রাজা বিক্রমাদিত্যর সময়কাল থেকে প্রচলিত হয়ে আসছে তবে এই মন্তব্যটি...

এসো হে বৈশাখ ।। অনিতা মুখার্জি

এসো হে বৈশাখ অনিতা মুখার্জি নববর্ষ মানে নতুনের আবাহন । পুরনো বছরের সমস্ত গ্লানি সমস্ত আবর্জনা কে দূরে সরিয়ে নতুনের মাঝে বেঁচে ওঠা । নব কিশলয়ের স্নিগ্ধতা মাখা নববর্ষ মানুষের মনে বয়ে আনে নতুন করে বাঁচার আহ্বান । কিন্তু সত্যিই কি নতুন বছরের ঝাঁপিতে সুখ আনন্দ আর হাসির প্লাবন থাকে ,তা কিন্তু নয়। সবাই জানি বিদায়ী বর্ষের মতোই নববর্ষ ও আমাদের শুধু আনন্দ আর খুশি দিতে আসবে না । তবু নব আনন্দে জেগে ওঠা, সেই আনন্দ প্রাণ ভরে উপভোগ করার মধ্যেই মানুষের খুশি । তাই সে দুহাত বাড়িয়ে তাকে আহ্বান করে এসো হে এসো। চৈতালি হাওয়ার সানাই শুনেই নববর্ষের আবাহনে তৈরি হতে থাকে মন । এ নববর্ষের আনন্দ ,এর স্বাদ গন্ধ একটু আলাদা। চৈত্রসংক্রান্তি থেকেই শুরু হয়ে যায় উৎসব । গাজনের অনুষ্ঠান উপলক্ষ চরক পূজা দেবাদিদেব মহাদেবের উপাসনা। এরপর হয় বর্ষবরণ। সমস্ত কিছুরই  শুরু দিক থাকে । নববর্ষ কবে থেকে পালিত হচ্ছে তা জানার একটা কৌতূহল থেকেই যায় । মনে করা হয় নববর্ষ শুরু হয়েছিল সম্রাট আকবরের সিংহাসনে বসার ২৫ দিন পর থেকে।  এই দিনটি ছিল পারসিক বছরের 'নওরোজ ।সৌরবর্ষের চেয়ে চন্দ্র বর্ষ ১০-১২ দিন কম হয়। কৃষকদের কৃষি...

নববর্ষ ও প্রত্যাশা ।। সমীর কুমার দত্ত

নববর্ষ ও প্রত্যাশা  সমীর কুমার দত্ত  নববর্ষ আসে যায়। শুরুতে অর্থাৎ ১লা বৈশাখে মানুষের উন্মাদনা দেখার মতো। ১লা নববর্ষ পালিত হয় বিশেষতঃ ব্যবসায়ীদের দ্বারা। পক্ষান্তরে ১ লা জানুয়ারি পালিত হয় সারা দেশ তথা বিশ্ব জুড়ে বিশেষভাবে উচ্চবিত্ত, উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষদের দ্বারা। নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের কাছে এর কোন গুরুত্ব কিংবা মাহাত্ম্য নেই। তাদের জীবন তো গতানুগতিক ভাবে অর্থাৎ জীবন্মৃত অবস্থায় এগিয়ে চলেছে। হালে পানি না পেয়ে কত সংসার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বাংলা নববর্ষ বাঙালির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের কাছে। দোকান পূজো, হালখাতা পূজো দিয়ে পালিত হয় আবার একটা বছরের  ব্যবসায়ীক উন্নতির আশা নিয়ে ক্রেতাদের মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে  মিষ্টি বিতরণ করে সঙ্গে ক্যালেন্ডার যা বিঞ্জাপনের একটা মাধ্যম। বিনিময়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে পাওয়া যায় অর্থ যা নতুন বছরের হালখাতায় জমা থাকে। সাধারণ মানুষ নতুন বস্ত্র পরিধান করে নতুন বছরকে সাদর অভ্যর্থনা জানায়। কিন্তু নতুন বছর সবাইকে কি সন্তুষ্ট করতে পারে? বোধ হয় না। সারা বছর জুড়ে মানুষের ভোগান্তির শেষ থাকে না। কথায় আছে যে স...

নববর্ষ ।। অর্পিতা মল্লিক

নববর্ষ অর্পিতা মল্লিক  নববর্ষের সাথে বাঙালির এক আবেগঘন অনুভূতি মিলে মিশে আছে। এটা শুধু একটা তারিখ পরিবর্তনের দিন নয় , এটি এক গভীর সাংস্কৃতিক আবেগ, ঐতিহ্য আর নতুন আশার প্রতীক । চৈত্রের শেষে বৈশাখের সাথে নুতন একটি বছর শুরু হয়। নুতন সুর্য , নুতন আলোর কিরনে চারিদিক উদ্ভাসিত করে। নুতন প্রত্যাশার উদয় হয় । এই বর্ষবরণের একটা প্রাচীন ইতিহাস আছে ,যা সময়ের পরিক্রমায় নুতন মাত্রা পেয়েছে ।বাংলা সনের উৎপত্তি ঘটে মোগল সম্রাট আকবরের  সময়ে, মুলতঃ কৃষি ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে। তখনকার "ফসলি সন' বা "তারিখ ই ইলাহি' হিসাবে একটা নতুন ক্যালেন্ডার চালু করা হয়। যা পরে বাংলা  "সন'নামে পরিচিতি পায়। সময়ের সাথে সাথে বর্ষবরণ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক আচার থেকে রূপ নেয় এক বিশাল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে । আজকের আমরা ইংরেজী তেই দিন যাপন করলেও  বাংলা নুতন বছরের  প্রভাব অটুট আছে –ভবিষ্যতেও থাকবে । ইংরেজি বর্ষবরণের উদ্দাম ডিজে ড্যান্স মদ্যের ফোয়ারা আমাদের বাঙালি বর্ষবরণে থাকে না । প্রভাতফেরীর মাধ্যমে সূচনা হয় বাঙালির বর্ষবরণ ।বৈশাখ মাস  মানে তো আমাদের প্রাণের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ...

নববর্ষের আনন্দ ।। মিঠুন মুখার্জী

            নববর্ষের আনন্দ মিঠুন মুখার্জী নববর্ষ বাঙালির কাছে খুব আনন্দের। বিশ্বের সকল জাতির আনন্দের দিন যেমন ইংরেজি নববর্ষ, তেমনি বাঙালির কাছে বাংলা নববর্ষ। পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরন করার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি নবীন যাদব। আমি বাঙালি নই ,কিন্তু বাঙালিদের মধ্যে থাকতে থাকতে আমি মনে প্রানে বাঙালি হয়ে উঠেছি। আমার বাড়ি বিহারের পাটনায়। কর্মসূত্রে আমি কলকাতার বেহালায় থাকি। আমি একজন স্টেশন মাস্টার। বারাসাতে আমার পোস্টিং।                 বাঙালি মানেই বারো মাসে তেরো পার্বণ।তারা আনন্দ করতে খুব ভালোবাসেন। তাই প্রত্যেক মাসেই কোনো না কোনো উৎসবে মেতে থাকে। এখানে কুড়িবছর থাকার ফলে আমি মাঝে মাঝে ভুলে যাই আমি বিহারী না বাঙালি। দীর্ঘ দিন এখানে থাকার ফলে আমি ও আমার পরিবার ভালোই বাংলা শিখে গেছি।প্রত্যেক নববর্ষে আমার বাঙালি কলিগরা ও বাঙালি বন্ধুরা আমাকে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। আমাকে কেউ মিস্টির প্যাকেট আবার কেউ লাড্ডু ও ক্যালেন্ডার দেন। আমার খুব ভালো লাগে।এমন কি কোলাকুলিও করেন। বেশিরভাগই পাঞ্জাবি ও ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

বাংলার কথা ।। আবদুস সালাম

বাংলার কথা : একটি আলোচনা আবদুস সালাম যে বাংলা নিয়ে আমাদের এত গর্ব এত অহংকার সেই বাঙলা কিন্তু একদিনে গড়ে ওঠেনি। বহু বিবর্তনের পথ ধরে বাংলা রূপ নিয়ে আজ আমাদের সম্মুখে বিরাজমান। আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে--" মৌর্য বিজয় থেকে আরম্ভ করে গুপ্ত রাজবংশের রাজত্ব পর্যন্ত খ্রিস্টীয় পূর্ব ৩০০ বছর থেকে খ্রীষ্টিয় ৮০০ বৎসর ধরে বাংলার অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় ভাষাভাষী জনগণ নিজ অনার্য ভাষা ত্যাগ করিয়া ধীরে ধীরে আর্যভাষা অর্থাৎ মগধের প্রাকৃত ভাষা গ্রহণ করিল। উত্তর ভারতের ব্রাহ্মণ্য ধর্ম সভ্যতা ও ঐতিহ্য অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষার সত্তা হারিয়ে আর্য-অনার্য ইতিহাস পুরাণ এবং উত্তর ভারতের আর্য অনার্যে ইতিহাস পুরাণ বঙ্গদেশের অধিবাসীরাও গ্রহণ করে। বৌদ্ধ ও জৈন মতবাদ আসিল, তাহাও বাংলায় গৃহীত হইল।" এভাবেই দ্রাবিড় অস্ট্রিক ও উত্তর ভারতের মিশ্র আর্য জাতির মিলনে সৃষ্টি হলো বাঙালি জাতি। দু হাজার বছর ধরে বহিঃস্থ শক্তি সমূহ মৌর্য,গুপ্ত ,পাল, চন্দ্র,বর্মন, দেব, কোল,সেন, তুর্কি, মুঘল, ইংরেজ প্রভৃতি জাতির আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে নিজের সত্তাকে বিসর্জন দিয়ে শংকর জাতি হয়ে জীবন যাপন ক...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়

দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় আধুলি ও কড়িতে কেনা নেই আমাকে আমার চেনা হয়নি জানা হয়নি ঘায়ের আকার ঠিক কতটা হলে সেলাই পড়ে নিজেকে দামি ভেবে গেছি রোজ... বার বার ভুলের পর,আজ যা পড়ে আছে তা কেবল আত্মশ্লাঘা এক জনমের সওদায় যাকে বিক্রি করা যাবে না তাই তো বুকে আগলে বসেছি আমার বিস্ফোরণ আর সেই ধ্বংসস্তূপে নুন ছিটিয়ে যাচ্ছে গোটা শহর। নিরালায় আছি মানচিত্রে আমাদের স্থান এক ও অনন্য অন্ধের দৃষ্টি খোঁজার মতো আমরাও আমাদের মৃত ভালোবাসাকে উস্কে দিই ব্রক্ষ্মাণ্ডে,তখন চাঁদটাও নগন্য লাগে যেন একটুকরো কালো পাথর আবার সময়ে সময়ে বেড়ালের ল্যাজ নাড়াটাও হয়ে ওঠে পৃথিবীর অন্যতম মনোরম দৃশ্য ওর ল্যাজে লেগে থাকা পিঁপড়েটা তখন আমি, ক্ষুদ্র ও তুচ্ছ যেন প্রকৃতির বুকের এক টুকরো বিরহ। ....................... জয়িতা চট্টোপাধ্যায় শ্যামনগর উত্তর চব্বিশ পরগনা ভারত

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি বাঙালির সামষ্টিক স্মৃতি, কৃষিনির্ভর সভ্যতার চিহ্ন, অর্থনৈতিক বিন্যাসের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সময়কে মানুষ ক্যালেন্ডারে বন্দি করলেও, নববর্ষ আসলে মানসিক পুনর্জন্মের এক সামাজিক অনুষঙ্গ। বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সংকল্প করে। পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা—এই ধারণা বাঙালি জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত। নববর্ষ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি স্মৃতি, শ্রম, আশা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সামাজিক চুক্তি। বাংলা নববর্ষ তাই একদিকে কৃষিজীবনের ঋতুচক্রের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে নাগরিক সংস্কৃতির আধুনিক উৎসবে রূপান্তরিত এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা সনের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় মুঘল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌরভিত্তিক বাংলা সাল চালু করেন। কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল কাটার সময় অনুযায়ী কর আদায় প্রয়োজন ছিল।হিজরি চান্দ্র সন কৃষির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।ফলে সৌরবর্ষভিত্তিক বাংলা সনের প্রবর...

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬