প্রবাহ অঞ্জন বল পরিশ্রুত জীবনকে ডেকে নিয়ে বলি -- এবার এসো অতীত গ্লানি মুছে ফেলি আবাহন করি আগামী বসন্তকে । সব কি মুছে ফেলা যায় যা কিছু চিরন্তন ? কবচে থেকে যায় জড়ানো শ্রুতি -- জমানো ইতিহাস । কতবার নীড় ভেঙে গেছে .... পুড়ে গেছে সব সুখ ছাই হয়ে ..... আতপের ঘামে গন্ধগোকুল হেঁটে গেছে নদীর এক তীর ক্ষিদে নিয়ে , কতবার সূর্যের তাপ খেয়ে খেয়ে সন্ধ্যা নেমেছে গভীর পৃথিবীর হরিৎ বাথানে , নক্ষত্রের সাথে ক্ষরিত আলোতে চাঁদ সওদাগর ভাসাছে ভেলা সারারাত ধরে। প্রতিদিন সেঁজে উঠি সবুজে আর কমলা প্রলেপে , জলোচ্ছাসে ভেসে যাবো জানি তবুও আজন্ম পিপাসা বুকে ধরে রাখি । অতীত যে চিরসখা -- ফিরে আসে বার বার বয়সের হাত ধরে , ঋণ রেখে যায় মাটির ধুলোতে যেখানে তৃণবেলা কেঁটেছে আমার । একটু ধীর অলসে বয়ে যাক নদী একটু বিনোদন , আলাপ খুনসুটি .... আড়ালে বসি ছায়া হয়ে , ওপারের ঘাট বড় মায়াময় .... বাতাসে কুয়াশার আদিম হাতছানি .... ...
অনুর অপেক্ষা নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...