Skip to main content

Posts

কবিতা ।। প্রবাহ ।। অঞ্জন বল

    প্রবাহ                      অঞ্জন বল পরিশ্রুত জীবনকে ডেকে নিয়ে বলি -- এবার এসো অতীত গ্লানি মুছে ফেলি আবাহন করি আগামী বসন্তকে । সব কি মুছে ফেলা যায় যা কিছু চিরন্তন ? কবচে থেকে যায় জড়ানো শ্রুতি -- জমানো ইতিহাস । কতবার নীড় ভেঙে গেছে .... পুড়ে গেছে সব সুখ ছাই হয়ে ..... আতপের ঘামে গন্ধগোকুল হেঁটে গেছে নদীর এক তীর ক্ষিদে নিয়ে , কতবার সূর্যের তাপ খেয়ে খেয়ে সন্ধ্যা নেমেছে গভীর পৃথিবীর  হরিৎ বাথানে ,  নক্ষত্রের সাথে ক্ষরিত আলোতে চাঁদ সওদাগর ভাসাছে ভেলা সারারাত ধরে। প্রতিদিন সেঁজে উঠি সবুজে আর কমলা প্রলেপে , জলোচ্ছাসে ভেসে যাবো জানি তবুও আজন্ম পিপাসা বুকে ধরে রাখি । অতীত যে চিরসখা -- ফিরে আসে বার বার বয়সের হাত ধরে , ঋণ রেখে যায় মাটির ধুলোতে যেখানে তৃণবেলা কেঁটেছে আমার । একটু ধীর অলসে বয়ে যাক নদী একটু বিনোদন , আলাপ খুনসুটি .... আড়ালে বসি ছায়া হয়ে , ওপারের ঘাট বড় মায়াময় .... বাতাসে কুয়াশার আদিম হাতছানি .... ...

কবিতা ।। কোথায় পাব তারে ।। নিরঞ্জন মণ্ডল

কোথায় পাব তারে নিরঞ্জন মণ্ডল চলতে পথে বাঁক পেরিয়ে যখন ফিরে চাই পেরিয়ে আসা পথের রেখার আধেক টুকুই নাই! হারিয়েছে তার গাছগাছালির চিকন সবুজ মায়া ফসল খেতে রোদের চুমা গেরস্থালীর কায়া। হারিয়ে গেছে পুকুর জলে ডুব-সাঁতারের সুখ, বট পাকুড়ের ছায়ায় ভেজা হাজার চেনা মুখ। ধূপছায়া রোদ নিঝুম দুপুর আকাশ মুখো ঘুড়ি ঘাস ফড়িঙের ঘাড় বাঁকানো,আলতো ওড়াউড়ি। আল পথে রোজ কলকলিয়ে শ্লেট পেনসিল বই ঝোলায় ভরে স্কুল-মুখো ছুট ফুটিয়ে মুখে খই যেতেম যারা কোথায় তারা হারিয়ে গেছে আজ ভূবনডাঙার সৃজন-স্রোতে থামিয়ে সকল কাজ! ধু-ধু মাঠের কপাল ছোঁয়া বাবলা হলুদ ফুল টলটলে জল মাঠ-পুকুরে শাপলা দোদুল দুল পানকৌড়ির ডুব-সাঁতারে লাফিয়ে ওঠা মাছ বাবলা ডালে মাছরাঙাদের অলোক চপল নাচ ; স্মৃতির মাঝে আজও এদের আবছায়া রূপ ভাসে রাতের ঘুমে সজনে সোঁদাল ফুলরা অমল হাসে। তেঁতুল ডালের চোখ না ফোটা দুইটা শালিক ছানা স্বপ্নে সাকার হলেও তাদের ছুঁইতে আছে মানা! শালুক ফুলের সফেদ ডানার নাগাল পাওয়াই দায় টুকটুকে লাল ছাঁচি কুলের গন্ধ এ মন চায়। তাল খেজুরের নিটোল কায়ায় বিভোর চোখের তারা ; বাবলা ডালের ধঁদুল-ফুলে হই যে আপন হারা। কবির লড়াই তর্জা গানের সুর-ঝুরঝুর দিন আঁধার বুকে জমি...

ছড়া ।। আর কি পাবো ।। জগদীশ মন্ডল

আর কি পাবো জগদীশ  মন্ডল ফেলে আসা দিনের কথা খুব টানে যে মন, গ্ৰামের কাছে পাই খুঁজে পাই শৈশবের জীবন। বইয়ের ব‍্যাগটি কাঁধে নিয়ে ছুটে চপ্পল পায়, সামনে দিঘি  পৌঁছে যেতাম পাঠশালার দাওয়ায়। ছুটি হলে রাস্তার ধারে আম দেখতে পেলে, লাঠি দিয়ে আঁকশি বানাই বইয়ের ব‍্যাগ ফেলে। একা একা পাইনা নাগাল বন্ধুটি ধরে, আম পড়ে যেই হৈ হুল্লোড় নিজের পকেট ভরে। কখন আবার কাঁচের মার্বেল হাতে রাবার বল, নদীর ধারে পুকুর জলে কতই কোলাহল‌। বিকেল হলে ক'জন বন্ধু হাতে ছিপ নিয়ে, মাছ ধরেছি ট‍্যাংরা ল‍্যাঠা কেঁচোর টোপ দিয়ে। ইস্কুল সময় কখন সখন আচার করে লুট, কোথায় টিফিন ব‍্যাগটা নিয়ে দে ছুট গোল্লা ছুট। ডাঙ্গুলি ও লাটিম খেলা কোথায় গেলো সব, আর কোনদিন ফিরে পাবো হারানো শৈশব ! *************************************** জগদীশ মন্ডল ।। নতুন পুকুর রোড।।  চড়কডাঙা।। পোস্ট:: বারাসাত।। কলকাতা::  700124

কবিতা ।। আমি কোথায় পাবো তারে ।। জয়শ্রী সরকার

আমি কোথায় পাবো তারে জয়শ্রী সরকার মলিন মনের বিপন্নতায় নৌকা ভাসাই আজ সুর ছড়িয়ে জীবন মাঝি করছো ভালোই রাজ। স্মৃতি বড়ই পিছু টানে ভাবছি বসে তাই কাগজ দিয়ে নৌকা গড়ে বৃষ্টিতেই ভাসাই ! মন বলে যে এ-নৌকা তো যাবে পরীর দেশে ভাসতে ভাসতে পৌঁছে যাবে ঠিক ঘাটেতে শেষে। খেয়া ঘাটে মাঝি তো নেই, আছে যে এক পাগল কাগজ-নৌকা দেখে সে তো দিচ্ছে খুলে আগল ! কাগজ দিয়ে নৌকা বানায় যেন সোনার তরী দূরের দেশে পাড়ি দেবে নবান্নসুখ ভ'রি ! জীবন এখন মস্ত নদী, নৌকা ভাসাই কই ? চোখের জলে দুই পারেতে নীরব বসে রই ! কাগজগুলো সৃষ্টিকথায় পূর্ণ হয়ে ওঠে নৌকারাসব এক নিমেষেই অন্তর্জালে ছোটে। কোথায় পাবো তারে আমি বলতে পারো কেউ? কাগজ দিয়ে নৌকা গড়ি, মনের মাঝে ঢেউ ! তোমরা যদি বলো তবে আবার ফিরে পাবো, কাগজ দিয়ে নৌকা গড়ে শৈশবেতে যাবো । ওইখানেতে আছে আমার সকল সুখের বাসা কাগজের এই নৌকা ভরা অমল ভালোবাসা ! ******************* জয়শ্রী সরকার, দিনান্তিকা, প্রেমবাজার, খড়গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ - ৭২১৩০৬

কবিতা ।। ফিরে দেখি অবসরে ।। দীনেশ সরকার

ফিরে দেখি অবসরে দীনেশ সরকার যখন থাকি একলা ঘরে একান্ত নিরালায় কত স্মৃতি ভিড় করে এই মনেরই জানালায় । ফিরে দেখি, যাই হারিয়ে স্মৃতিরোমন্থনে দুঃখ-সুখের জাল বোনা সেই অতীত বাতায়নে । প্রিয়জনের বিয়োগ ব্যথা মনের কোণে বাজে মন থেকে সব ঝেড়ে ঝেড়ে ফেলতে পারি না যে । কত পর যে হ'লো আপন আর আপন হ'লো পর দিনের শেষে ফিরে দেখি যোগ-বিয়োগ শূন্য ঘর । মধুর স্মৃতি বালকবেলার ফিরে ফিরে আসে দিনগুলো সব চোখের পাতায় ছবি হয়ে ভাসে । স্কুল জীবন সেরা জীবন আর পাবো না ফিরে দুঃখ সুখের মেলবন্ধন যে আমায় রাখে ঘিরে । ভালো লাগে ফিরে যেতে অতীত রোমন্থনে হারানো সেই দিনগুলো সব ভিড় করে যে মনে । বাঁচার রসদ একটু হলেও পাই যে আমি খুঁজে নির্জনতায় স্মৃতিমেদুর থাকি চক্ষু বুঁজে । *********************************** দীনেশ সরকার ১৪০ ডি, হিজলি কো-অপারেটিভ সোসাইটি, প্রেমবাজার, খড়্গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর --- ৭২১৩০৬

কবিতা ।। ফিরে দেখা ।। মহাজিস মণ্ডল

ফিরে দেখা মহাজিস মণ্ডল কখনও কখনও সময়ের কাছে আবার কখনও নিজের কাছে ফিরে আসতে হয় সবাইকে ওই নদী জানে আকাশকে আর আকাশ জানে ওই নক্ষত্রকে মাটির বুকে মিশে থাকে জন্মের দাগ ফিরে দেখার পাতাগুলো  অনবরত উল্টাতে উল্টাতে শুধুই তোমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছি ছুঁয়ে হাজার বছরের স্বপ্ন বুকে ধরে অনন্ত...                               ----০---- মহাজিস মণ্ডল সবুজলেন, নবপল্লী(১২ ফুট), ২২ বিঘা রোড, জোকা, কলকাতা-৭০০১০৪                             -০-

কবিতা ।। আমার ছোটবেলা ।। দীপঙ্কর বেরা

আমার ছোটবেলা  দীপঙ্কর বেরা  আমার তোকে একটুও মনে রাখতে ইচ্ছে করে না, তোর তখন কিছু ছিল না। না দুবেলা দুমুঠো খাবার, না হাত পা ছড়িয়ে বসার একটু জায়গা না পরার মত একটু ভালো জামা কাপড়। রোজ কাদা ঘেটে পাথুরে রাস্তায় খালি পায়ে স্কুলে যেতে কার ভালো লাগে বল? স্কুলে যাওয়ার সময় এক মুঠো আলুসেদ্ধ ভাত আর ফিরে এসে কখনও ভেজা ভাত, নয়তো একমুঠো মুড়ি না হলে উপোস। এভাবে থাকা যায়? বল? বাবা মায়ের সঙ্গে মাঠের কাজ ধান চাষ, ধান তোলা ঝাড়াই মাড়াই, লোকের বাড়ি জনমজুর যাওয়া মাটি কাটা মাটি তোলা যোগালির কাজ। এসবের ফাঁকে মাঝে মাঝে পড়াশুনা করা সত্যিই কি সম্ভব? তুই একবার ভেবে বল? ক্লাসের বই পেতিস না অঙ্ক করার খাতা পেতিস না কেরোসিনের অভাবে কুপী জ্বেলে রাতে পড়তে পেতিস না চোর পুলিশ গোল্লাছুট ফুড়ৎ ডাংগুলি পাঁচগুটি ছোঁয়াছুঁয়ি ধরাধরি এসব কত কি তুই খেলতে পাস নি, অভাবের সংসারে শুধু কাজ আর কাজ , আর কত ভাল লাগে বল? আশেপাশে সারাদিন শুধু গালাগাল কুটকাচালি মারামারি খিস্তি খেউড় পরনিন্দা পরচর্চা লেগে থাকত এসব শুনে শুনে বড় হওয়ার লড়াই কি চাট্টিখানির কথা? বৃষ্টিতে খড়ের চাল বেয়ে ঘরে জল পড়ে‌, শীতে ছিটে বেড়ার ফাঁকে ফিরফির...

ছড়া ।। তাকাই যখন ।। বদ্রীনাথ পাল

তাকাই যখন বদ্রীনাথ পাল ফেলে আসা দিনগুলিকে যখন ফিরে দেখি, কান্না হাসির দোদুল দোলায় তারা মাখামাখি। কেউ এসেছে এই জীবনে পাগলা ঝড়ের মতো, উড়িয়ে নিয়ে মান অভিমান শুকনো পাতা যতো। শোক দুঃখ কান্না হাসির কতো রঙের ছবি, টাটকা হয়ে আছে ওরা মনের মাঝে সবই।  তাকাই যখন তাদের পানে আজকে পিছন ফিরে, দেখি ওরা জড়িয়ে আছে আমার হৃদয়টিরে। ------------------------   বদ্রীনাথ পাল বাবিরডি, পোস্ট-গৌরাংডি, জেলা-পুরুলিয়া, পশ্চিমবঙ্গ।

ছড়া ।। ফেরে নাকো আর ।। সুমন নস্কর

ফেরে নাকো আর  সুমন নস্কর যে দিনগুলো ভাবলে মনে করুণ ব্যাথা বাজে, যন্ত্রনা আর ব্যথার পাষাণ চাপে  বুকের মাঝে।            সে দিনগুলো ভুলতে যে চাই             না ভুললে যে যন্ত্রনা পাই তাই মনে হয় যা গেছে যাক দুঃখ না পাই কাজে!! সুখের স্মৃতি দুখের স্মৃতি স্মৃতি নানান ভাবে, এই তো জীবন স্মৃতিগুলো আসবে এবং যাবে।            তাকাও যত পিছন পানে            পিছু সে ডাক বাজবে কানে তবুও তার নাগাল জেনো কেউ মোটে না পাবে!! বলতে পারো সত্যি কি আর ফেরার উপায় আছে? ধাপ্পা দিয়ে পালিয়েছে যে লুকিয়ে তোমার পাছে!            দূর থেকে যে বহুত দূরে            বাজিয়ে বীণা করুণ সুরে ফেরার মত যে ফিরে যায় আর আসে না কাছে!! =================== সুমন নস্কর গ্রাম + পোষ্ট - বনসুন্দরিয়া জেলা - দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা

ছড়া ।। ভালোবাসি ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

ভালোবাসি তীর্থঙ্কর সুমিত রথের দড়ি টান পড়েছে ঘুরছে রথের চাকা রাস্তাঘাটে ভিড় জমেছে মন্দির আজ ফাঁকা চারধারেতে উঠছে যে রব হই হই হই হই হই মাগো আমার ছেলেবেলার দিনগুলো সব কই হারিয়ে গেছে অনেক কিছু অনেক চেনা সুখ জীবন পথে হোঁচট খেয়ে আলতো অভিমুখ মনের কোণে জমছে এখন ক‍্যকটাসেরই হাসি সত্যি মাগো ছেলেবেলা বড়ই ভালোবাসি।  

ছড়া ।। মনে পড়ে ।। গোবিন্দ মোদক

মনে পড়ে   গোবিন্দ মোদক  মনে পড়ে    ছোট্টবেলার সেই যে আমার গ্রাম,  মনে পড়ে    সেই গ্রামটির 'ফকিরতলা' নাম! মনে পড়ে    গ্রামটি ছিল 'কুসুম' নদীর তীরে,  মনে পড়ে    সে গ্রাম সবুজ গাছ-গাছালির ভিড়ে!  মনে পড়ে    ঘুম ভাঙতো ভোরের আজান শুনে,  মনে পড়ে    ডাকতো পাখী স্বপ্নের জাল বুনে! মনে পড়ে    রাম রহিমের পাঠশালাতে যাওয়া,  মনে পড়ে    বন্ধুর কাছে আচার চেয়ে খাওয়া!  মনে পড়ে    নদীর জলে সকাল-বিকেল নাওয়া,  মনে পড়ে    ঝড়ের সময় আম কুড়োতে যাওয়া!  মনে পড়ে    বর্ষার মাঠে ভিজে ফুটবল খেলা,  মনে পড়ে    আষাঢ় মাসে পীর-দরগার মেলা!  মনে পড়ে    চু-কিত্-কিত্, হাডুডু, গুলি খেলা,  মনে পড়ে    নদীর জলে ভাসাই কলার ভেলা!  মনে পড়ে    ফলসা বনে দৌড় আর হুটোপুটি,   মনে পড়ে    গুটি খেলা সকল বন্ধু জুটি!  মনে পড়ে    সন্ধ্যা হলেই ফিরতে হতো বাড়ি,...

কবিতা ।। দুরবীনে ।। প্রতীক মিত্র

দুরবীনে প্রতীক মিত্র স্মৃতি বড় অকাজের।  খালি বাঁধন আলগা করে দেয়। জল বইতে শুরু করে সাঁকোর ওপর দিয়ে। কিছু জিনিস ভুলে যাওয়া ভালো। কিছু পাতা উলটে যাওয়া। সময়ের মতন যদি একগুঁয়ে  আর উদাসীন হওয়া যেত পেছনে ফেলে আসা হারানো মুহুর্তের এসব ক্ষত খুব একটা হয়তো করতো না হেরফের। ওরা ওদের মতন আছে এবং ভালো আছে। আমি আমার মতন আছি এবং ভালো আছি উপরিতলে যাতে অতীতের হাঙর কামড়ে না দেয় পাছে। একটু আধটু ভিজে ভিজে চোখ মিছামিছি। সময়ের মতন যদি একগুঁয়ে হওয়া যেত; জল বয়েই চলেছে সাঁকো দিয়ে। ============== প্রতীক মিত্র কোন্নগর-712235, হুগলি। 

ছড়া ।। দেখা হলে ফিরে ।। আনন্দ বক্সী

দেখা হলে ফিরে  আনন্দ বক্সী ফেলে আসা বছরকে দেখা হলে ফিরে  সুখ-দুখ মিলমিশে থাকে তার ভিড়ে। ঘটে যাওয়া ঘটনা হয় ইতিহাস  কিছু তার স্মৃতি হয়ে মনে করে বাস। স্মৃতিগুলো আসে যায় মনের দাবায়  একাকীর সাথি হয় মনকে ভাবায়। সুখস্মৃতি মন-মাঝে  জাগায় পুলক  বেদনায় মন ভারি  সে কি অমূলক? আনন্দ বক্সী Vill-Beliadanga, P.o-Dakshin Barasat, P.s-Jaynagar, Dist-South 24 parganas,Pin-743372. 

ছোটগল্প ।। ধর্ম অধর্ম ।। উত্তম চক্রবর্তী

  ধর্ম – অধর্ম   উত্তম চক্রবর্তি            আমরা ঘটনাটা শুনেছিলাম চন্দনের মুখে প্রায় দশ বছর আগে।  চন্দন আমাদের কলেজের বন্ধু। কলেজ ছুটির পর আমরা প্রায়ই লেবুতলা পার্কের বেঞ্চে বসে কিছুক্ষণ আড্ডা মারতাম আর তারপর  সন্ধ্যাবেলা বাড়ি ফিরতাম। এরকমই এক বিকেলে চন্দন শুনিয়েছিল এই আশ্চর্য ঘটনাটা ।         চন্দনরা আগে বসিরহাটে ভাড়া থাকত যখন ওর বাবা ওখানে পোস্ট অফিসে পোস্ট মাস্টার ছিলেন । ঘটনাটা ওখানকারই একটা উঠতি যুবকের জীবনের আশ্চর্য ঘটনা আর চন্দনের নিজের চোখে দেখা । সুবীর ছিল চন্দনদের পাশের বাড়ির ছেলে এবং বয়সে প্রায় তিন চার বছরের সিনিয়র । সুবীরের বাড়িতে ওর বাবা , মা , এক দাদা ও একটা ছোট বোন ছাড়া ছিলেন শুধু ওদের এক বিধবা ঠাকুমা। সুবীর বারাসাত কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র ছিল আর ঘটনাটা এই সুবীরকে নিয়েই ঘটেছিল ।       বরাবরই সুবীর ছিল এক ধর্ম ভীরু ছেলে আর সেটা সব্বাই জানতো । অদ্ভুত ব্যাপার হোল সুবীর একই সাথে হিন্দু , মুসলিম আর খ্রিষ্টান তিন ধর্মেই বিশ্বাস রাখত। যেমন...

কবিতা ।। কবিতার ভূবন ।। হামিদুল ইসলাম

কবিতার ভূবন  হামিদুল ইসলাম বসন্তের হাওয়ায় ভাসে বৃষ্টির সুবাস  বৃষ্টি নেই তবু ভিজে যায় রাত বালিশের বুকে আজও আঁকি হিরণ্ময় দিন     ।। মনে পড়ে প্রিয় অশথ ফিরে আসে স্বপ্ন। ফিরে আসে অনন্ত কথার আলাপন আমরা তখনো খরস্রোতা আমরা তখনো অতলান্তিক জীবন      ।। অদূরে অবরুদ্ধ কথাঘর নিরন্ন মানুষের মিছিল আমরা তখন বারুদ আমরা বিপ্লবী। মহাবিপ্লবের নিশানা ওড়াই প্রতিদিন       ।। আজও শোষণ আর বঞ্চনা আজও পায়ে পায়ে ফিরে আসে বিভেদ রাজপথে চাপ চাপ রক্ত আজও ধনী গরিবের লড়াই। জীবন যুদ্ধ চিরন্তন       ।। আজও কারা বিকৃত করে ইতিহাস কারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে নিঃসংকোচে ধুকে মরে সারা জীবন  তবু ফিরে আসে মায়া তবু আলোয় আলোয় আলোময় করে তুলি কবিতার ভূবন    ।। ================== হামিদুল ইসলাম গ্রাম +পোষ্ট =কুমারগঞ্জ। জেলা =দক্ষিণ দিনাজপুর।

ছোটগল্প ।। বিস্মৃত-প্রেম ।। শংকর ব্রহ্ম

বিস্মৃত-প্রেম শংকর ব্রহ্ম [ মরমী ব্যথার কত যে বীজ গোপনে, মাটির নীচে পাথরচাপা পড়ে, গুমরে গুমরে কেঁদে মরে, কান্না ফুল হয়ে ধরণীতে ফুটতে পারে না, তার খোঁজ-খবর আর ক'জনে রাখে, হায় ! ] এক)         বাজারের এদিকটায় মাতালদের ভিড় বেশি। মদের দোকান আছে একটি। আজ ছুটির দিন নয় তবুও মত্ত মানুষদের ভিড় লেগেই আছে। এদের গায়ের ছোঁয়া লাগতেই আরও রাগ বাড়ছে সমীরের। সবকিছুই ঘৃণা করে সে। ঘৃণা চেপে রাখতে পারে না। মুখে ফুটে ওঠে তা। মুখ বেঁকে যায় তার। কয়েকদিন ধরে কবিতা না লিখতে পারলে, এমন দশা হয় তার। কিছুই ভাল লাগে না। ঘরেও মন টেকে না। বাইরে বেরিয়ে এসে অস্থির ভাবে হাঁটা শুরু করে। কোথায় যাবে, কেন যাবে? তা সে কিছুই জানে না। যে দিকে দু'চোখ যায়, যে দিকে যেতে মন চায়, সেদিকেই হাঁটতে থাকে। মনে মনে নিজের প্রতি তার একটা উদগ্র রাগ থাকে,যা ঘৃণায় পরিণত হয় । সেটা আসলে না লিখতে পারার রাগ তার কষ্টে রূপন্তরিত হয়। আর তারই প্রতিফলন ঘটে উল্টো ভাবে তার মনে। সমাজের সব কিছুর প্রতি তার ঘৃণার ভাব জেগে ওঠে মনে।        তবে তার চেহারাটা কিন্তু মন-কারা! রীতিমত সুদর্...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গল্প ।। অনুর অপেক্ষা ।। নাজিরুল ইসলাম

অনুর অপেক্ষা  নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

গল্প ।। জলমাতালের ঘর ।। মামুন সরকার

গল্প জলমাতালের ঘর মামুন সরকার চেহারা সুরত রাজপুত্রের মত না কিন্তু নাম তার রাজা মিয়া। পোষাক পরিধানে সাহেব বাবু। চালচলন আর দশটা মানুষ থেকে আলাদা। চার বার মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে টেনেটুনে পাশ করলেও আড্ডাতে বাকপটু। মগজ ভর্তি কথার পাহাড়। একবার কথা শুরু করলে আর থামে না। হাসি ঠাট্টায় মজমা মাতিয়ে রাখে। একসপ্তাহ হয় নতুন বিয়ে করেছে। বউ শিক্ষিত এবং সুন্দরী। গায়ের রং দুধসাদা না হলেও নজর কাড়ার মত আর্কষণী মুখমণ্ডল। বন্ধুদের একজন বলে, দোস্ত একটা কতা কই রাগ করিছ না। সত্যিই তর রাজ কপাল। খুব সুন্দর একটা বৌ পাইছস। ভাবী সাহেবার আঁচল ছাড়িস না। চোখে চোখে রাখিস। তর দুর্বলতার সুযোগ নিয়া কেউ যেনো ভাবী সাহেবার সাথে ফুসুরফাসুর না করতে পারে। তর যা স্বভাব। জানি না ভবিষ্যতে তর কপালে কি আছে। রাজা মিয়া বলে, বৌ আমার। মাইনষে ফুসুরফাসুর করব মানে? কি বুঝাইতে চাইলি বুঝলাম না দোস্ত। আছমানে চান উঠলে সবাই সবাই গায়ে জোছনা মাখতে চায়। আমার ভাবী সাহেবা হইল আকাশে চান। রাজা মিয়া কথা বাড়ায় না। বুঝতে পারে তার দোস্ত কি বুঝাতে চেয়েছে। সুন্দরের প্রতি সবাই দুর্বল। রাজা মিয়ার বাবা একজন চেয়ারম্যান। অঢেল ধন-সম্পদের মালিক তি...

শিল্পী ।। সুকান্ত ঘোষ

শিল্পী সুকান্ত ঘোষ কেরামত দাকে চিনি সেই ছেলে বেলা থেকে। কেরামত দা মোটেই আমার দাদার বয়সী নয়। পাড়ার কাকারা যখন ক্লাবের মাঠে ফুটবল খেলত তখন কেরামত দাকে অসাধারণ গোল কিপিং করতে দেখেছি। সেই হিসাবে তাকেও আমার কাকা বলে ডাকাই উচিত।কিন্তু,সবাই দাদা ডাকে বলে আমিও ' কেরামত দা ' বলেই ডাকি।তাছাড়া বয়স হলেও শরীর টা বেশ ঝরঝরে রেখেছে এখনো। কেরামত দা আমাদের মতো ফুটবল প্রেমী কিশোর দের কাছে খুব প্রিয়।প্রথমত যদি হয় আমরা ছেলেবেলায় তার অসাধারণ গোল কিপিং দেখেছি সেই জন্য,বিশেষত একটু লাফিয়ে বল রিসিভ করে শূন্যে একটা ডিগবাজি দেবার দৃশ্যটা চোখের উপর আমাদের ভেসে থাকে।দ্বিতীয়ত,তার অমায়িক ব্যবহার। আমাদের খুব ভালবাসে কেরামত দা। তাই আমাদের কাছে কেরামত দা খুব প্রিয়। কম বয়সে নিজে খুব ভালো গোলকিপার ছিল কেরামত দা একথা আগেই বলেছি।মহমেডান জুনিয়র টিমে খেলতে গিয়ে বুকের পাঁজর ভেঙে গেলে ফুটবলার হবার আশা শেষ হয়ে যায় তার।  পাড়ার ক্লাবে নিয়মিত আসতো। তবে,বছর দুয়েক আগে ক্লাবে সরস্বতী পুজো হবে নাকি বিশ্বনবী দিবস এই বিতর্ক দানা বাধার পর থেকেই এত প্...

কবিতা ।। অভ্যন্তরীন প্রেম ।। জহির খান

অভ্যন্তরীন প্রেম জহির খান খুব দূরে খুব করে বসে থাকে পোষা কুকুর মাছের কাঁটায় তখন বিড়ালের ঠোঁটে চোট কোলাহলে মেতে পাতিহাঁসের ছানা- পোনা সদর উঠোন জুড়ে হাসে সোনালী রোদেরা ভাব করে হেঁটে যায় কোমল ভেষজ শরীর টেরাচোখ ফেরানোটা বড় দায় হয়ে পড়ছে আর বারান্দায় বসে এক কোকিল বসন্তের ভোর কামভাব ছলাকলায় পিনিক উঠায় জিহ্বায় অথচ উষ্ণ বৌ এর গায়ের গন্ধে মাতোয়ারা দুপুর এই-সব প্রেমে পোয়াতি হয় বিকেলের গান সুসন্ধ্যা লজ্জায় মুখ লুকায় প্রতিবেশী ডেরায় এখন নির্বোধ রাত সুরা পান করে পাহাড়ে উঠে    ========০০০=======     জহির খান  বাংলাদেশ

রমেশ দাসের কবিতা

   বাঙালি মোরা বাঙালি                                                                         বাংলাকে   ভালবাসি বাংলায় কথা বলি বাংলা কবিতা মোদের জীবন। বাংলার নদী নালা বাংলার গাছ পালা বাংলার মাটিতে মোদের মরণ।। বাংলার ঘর মাঠ বাংলার খেত ঘাট বাংলা বাতাস আর সুস্থ জীবন। বাংলার নেওয়া শিক্ষা বাংলার দেওয়া দীক্ষা বাংলাকে ভালোবেসে মোদের রচন।। ভালো লাগে বাংলার পাঠ্য বই পড়তে। ভালো লাগে বাংলার সুরে গান গাইতে।। বাংলা ছাড়া মোরা যে পারিনা কিছু বুঝতে। বাংলার ঋণ এখনও পারিনি শেষ করতে।। মাতা তবুও সম্মতি দেন বিদেশের জ্ঞান নিতে। না মা যাবো মোরা তোমার বাণী দিয়ে ।। বাংলাদেশে জন্ম মোদের বাংলা নিয়ে পড়বো। বাংলার শিক্ষায় মোরা বাংলা পথ চলবো।। বাংলার মধুরতা আদৌ পারিনি শেষ করতে। বাংলার মিলনমেলায় ভালো লাগে লিখতে।। ========================= (   রমেশ দাস,...

আগুনের রঙহীন রঙ ।। রোকেয়া ইসলাম

আগুনের রঙহীন রঙ রোকেয়া ইসলাম দিকবিদিকশুন্য শিউলি দৌড়াচ্ছে , কোলে পাঁচ বছরের মেয়ে। কখনও হোটচ খেয়ে পড়ে যায়, ইটের কোণায় লেগে বুড়ো আঙ্গুল ফেটে রক্ত বের হয়, তবুও দৌড়াতে থাকে শিউলি। গতকালই রুবেল বলেছিল ওদের বেতন হয়নি, মালিক বলেছে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম ওঠানামা করছে তাই অর্ডার বাতিল। বারোতলা গার্মেন্টসে আগুন জ্বলে ওঠে। শ্রমিকরা যখন ভেতরে আঁটকে আছে, দরজায় বিদেশি তালা ঝুলছে, চাবিসহ গেট কিপারের দেখা নেই। ভেতরের মানুষগুলো ধোয়ার কুন্ডলিতে আচ্ছন্ন হয়ে হাতড়ে হাতড়ে নাকে মুখে ওরনার আঁচল আর শার্টের কোনা তুলে ধোয়া আঁটকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে। বারো তলার কাচের জানালা বিকট শব্দে ঝুরঝরো হয়ে নিচে পড়ছে। ওদের আর্তচিৎকারে ইউটিউবাররা লাইভ ভিডিওদাতারা দেশি বিদেশি সাংবাদিকরা এলোপাতাড়ি ছবি তুলতে থাকে । এগুলো ওদের সম্পদ। বহু চেষ্টার পর ধোয়ার কুন্ডলী রেখে আগুন নেভে। কিন্তু শিউলির ঘর ভরে থাকে আগুন তাপের রঙে। রুবেল এই বারো তলা গার্মেন্টসের সুপার ভাইজার ছিল। রুবেলকে পাওয়া যায়নি শুধু রুবেলের শরীরের মাপে একটুকরো কয়লা পড়ে ছিল ভেজা ছাইয়ের স্তুপে। মেয়ে প্রায় রাতেই ওর গলা জড়িয়ে বুকের কাছে মুখ নিয়ে বল...

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম

গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম পাথরের জড়জীবন // পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কত এটা শিশুদের মুখস্ত সকাল সকাল সূর্য জানালায় উকি দেয় আর এটা কেবল আমিই দেখি নিবিড় যৌনতার পর পুরুষ মাকড়শা মারা গেলে তার মৃতদেহ মেয়ে মাকড়শা কোথায় নিয়ে যায় কালো গোলাপের রং কেন কালো খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন পাথরটা পড়ে আছে পাথর আর ধুলোবালি আর মরা পাতা আর শিশির এদেরকে মনিয়ে পাথরটা আজও বেঁচে আছে বোঝার চেষ্টা করো // সুড়ুৎ করে নিজের কফ নিজে যে গিলে ফেলতে পারে নির্দ্বিধায়, যার নেই আত্মজীবনী লেখার বিড়ম্বনা, সে সব পারে। কি ভাষা! কি মানুষ! সাফল্য তার অনিবার্য। শহীদবেদীতে দাঁড়িয়ে জলজ্যান্ত চোখে তা আমরা দেখছি। ব্যাপারটা কেন সমাজবিদ্যায় বা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে আলোচিত হয়নি তেমন, কে জানে! ফ্রয়েড কী বলেন? যার যার কুকুর // কুকুর আমার আর আমি তার জন্মদিন পালন করি হয় তো অন্যরাও পালন করে যার যার কুকুরের জন্মদিন আর প্রতিটা কুকুরেরই নাম আছে সেই নাম ধরে ওদের ডাকা হয় মানে যে কুকুরের যে নাম যা হোক আমার কুকুরের নাম কেবল আমিই জানি ঐ নামেই ওকে আমি ডাকি অন্য কেউ ডাকে না অন্য কেউ জানেই ...

তিনটি কবিতা ।। লালন চাঁদ

তিনটি কবিতা ।। লালন চাঁদ একলা  আজ আর কাছে আসে না কেউ  যারা কাছে ছিলো  তারা ছেড়ে গেছে  আকাশের মতো এখন একলা জীবন। বয়েস বেড়েছে  দৃষ্টি ক্ষীণ  যৌবনের রোদ নেই  এখন বসে বসে গুণি বার্ধক্যের দিন। উত্তাপ চায় মন  প্রিয়জনের একটু ছোঁয়া  শ্মশানে কারা লাশ বয়ে নিয়ে যায়  ভাবি আমিও লাশ হবো  ক'টা দিন পর। বিষাদ ভাবনায় খাঁ খাঁ করে ওঠে মন। অপেক্ষা কেউ নেই  অথচ কেউ কেউ থেকে যায়  মনের গোচরে  থেকে যায় অপেক্ষায়। আজ যার সাথে দ্যাখা  সে অপরিচিত  হৃদয়ে ধূপের সুবাস  কেউ থেকে যায় অপেক্ষায়। অনেক দিন পর কথা হলো  সবাই ফিরে এলো  মনের মানুষ ফিরে এলো না  এখন আর কেউ থাকে না অপেক্ষায়। শূন্য হৃদয়  মরে গিয়ে বেঁচে আছি তার অপেক্ষায়। হেঁটে যায় রোদ্দুর পায়ে পায়ে হাঁটে  পায়ে পায়ে হেঁটে যায় রোদ্দুর  দুপুর পোড়ে দাবদাহে  খরা কবিতায়। বিকেল আসে না  সন্ধ্যে নামে না  পাখিরা ফেরে না নীড়ে  তবু মনের নদী পেরিয়ে যায়  অচেনা ভূবন। শুকনো মরু বুক বরাবর  তেষ্টায় বিহবল ঠোঁট  ভুখাপেট পান করে চাঁদের ওলা...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...