জলছবির রঙ সোমা চক্রবর্তী রাণী পল্লীর তিন নম্বর গলির ঊনিশ নম্বর ঝুপড়ি থেকে একটা বাচ্চার কান্নার শব্দ ভেসে আসছে। চারমাস হলো প্রায়ই শোনা যাচ্ছে শব্দটা। ওই ঝুপড়িতে ললিতা থাকে। ললিতা একটা বাচ্চাকে চুপ করানোর চেষ্টা করছে। বাচ্চাটা মাঝে মাঝে চুপ করে যাচ্ছে, পরক্ষণেই আবার কেঁদে উঠছে। এইসব পাড়ায়, এই ধরনের ঝুপড়িতে সাধারণত বাচ্চাদের কান্না শোনা যায় না। অথচ এখানে যারা থাকে, সবাই মহিলা। অঞ্চলটা তাই রাণী পল্লী নামে বিখ্যাত হয়ে গেছে। ওরা নিজেরাই নিজেদের বিদ্রুপ করে বলে, "এক রাতের রাণী!" বাসিন্দারা সবাই মহিলা হলেও তাদের ঘরে ঘরে শিশুর কলরব এখানে কখনো ওঠে না। তার বদলে রাত ঘন হয়ে এলে ওঠে অন্য এক ধরনের কলরব। কখনো দরদস্তুর নিয়ে, কখনো পছন্দ অপছন্দ নিয়ে। কখনো ফুলের মালা নিয়ে ফেরিওয়ালা হেঁকে যায়। কখনো আবার মুখোশের আড়ালে থাকা ভদ্রলোকদের নেশাগ্রস্ত গলার আওয়াজে মুখরিত হয়ে ওঠে এখানকার গলি। এসব ছাড়াও, রাণী পল্লীতে বাসিন্দাদের মধ্যে দিনেমানে চাঁছাছোলা গলায় খিস্তিখেউড় আর ঝগড়াও শোনা যায়। কিন্তু শিশুর কান্না বা হাসি! কিম্বা তার অবুঝ এলোমেলো কথা- একেবারেই বিরল। তবু কচিৎ কদাচিৎ এমন ঘটনাও ...
মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল। যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে। তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা। যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি। পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে। সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।