Skip to main content

Posts

গল্প ।। কালোচিত্র ।। সৌর শাইন

কালোচিত্র সৌর শাইন     বৃদ্ধার উদাসীন দৃষ্টিতে মৃতাত্মাদের আনাগোনা, কতশত শেষ দাফনের স্মৃতি। নিশ্বাসে আগুনের হলকা এসে পুড়িয়ে দেয় সব গুন গুন সঙ্গীতকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে। রেললাইনের বস্তির অন্যসব ঘরের মতো এখানেও নিস্তব্ধতা ছোবল দিয়েছে, হাহাকারের যাঁতাকলে গলা টিপে ধরে সময়ের অভিশাপ। সুঁচের পেট ফুঁড়ে লাল সুঁতো বেরিয়েছে, এক একটা ফোঁড়ে ছোট্ট প্লাস্টিকের ব্যাগটা যতটা সম্ভব মেরামত চলে সেলাই চিন্তায়। ভিক্ষের চালগুলো এখানেই জমাতে অভ্যস্ত বৃদ্ধা।   মৃত ক্ষুধারা পেটের ভেতর হঠাৎ হঠাৎ চিৎকারে নাচে। শহরের মেইন রোডে উঠা যায় না, মুখোশ পরা পুলিশ বাঘের মতো তেড়ে আসে। বৃদ্ধার মগজ এখনো বুঝতে পারে না করোনা শব্দের পেছনে কী এমন দৈত্য দানব লুকিয়ে আছে। রাতে ছোট্ট নাতনিটি বৃদ্ধাকে বিদেশি রোগের ব্যাখ্যা শুনায়। বৃদ্ধা শুনতে শুনতে নিশ্বাস ফেলে। আট বছরের নাতনির উরুসন্ধিতে হাত ছুঁয়ে বলে, তুই এহনো বাড়ছ না ক্যান? হাতের আঙুল গভীরে যেতেই নাতনিটা আঁৎকে উঠে। আঃ ব্যথা পাই নানি। বৃদ্ধা ধমকে বলে, একটু-আধটু ব্যথা লাগবোই। বেডারা তো মাঙনা টেকা দিবো না। কষ্ট দুক্ষু সহন লাগবো। আমি...

ছোটগল্প ।। শেষ উপহার ।। অরূপ কুমার গোপ মন্ডল

      শীতের সকালে শিশুর মত মিষ্টি রোদটা এসে লুটোপুটি খাচ্ছে সুজয়দের দালান বাড়িতে ।  পূবদুয়ারী  একতলা বাড়ি । কাছেই কোন একটা ফুল ফুটেছে । তার সুগন্ধ ভেসে আসছে বাতাসে । তবু সুজয়ের মনটা ভালো নেই । শিশু হীন  বাড়িটা  যেন বিগ্রহ ছাড়া মন্দির ।  সকালবেলায় বরাবর  ব্যস্ত থাকে সুজয় ।  ভোরে পড়ার অভ্যাসটা ছাত্রজীবন থেকেই  বাঁচিয়ে রেখেছে আজও । কবিতা  গল্প পড়ে কয়েক ঘন্টা কাটায় ।  কিছু লেখালেখির চেষ্টাও করে । আগে গল্প লিখত । এখন কবিতা ।  তারপর,  স্ত্রীর মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টার ত্রুটি রাখে না । বিয়ের পর দিনে দিনেই কমে এসেছে সেটা । মৌসুমীর পটলচেরা চোখগুলো মার্বেলের মতো গোল গোল মনে হয় এখন । কদিন আগেই  বাপের বাড়ি গেছে । কবে আসবে ঠিক নেই । তাই ব্যস্ততাটা বহুগুণে বেড়ে গেছে । রান্না বান্না । হালে পানি পায় না সুজয় । বেড়েছে একাকীত্ব। মনটাও ভালো নেই সকাল থেকেই। হঠাৎ মোবাইলটা বেজে ওঠে । হয়তো মেয়ের ঘুম ভেঙ্গে গেছে । সকালেই বাবাকে আবদার জানাবে । মৌসুমিও হতে পারে । বিছানায় শুয়ে মায়ের দেওয়া বেড টি পেয...

অণুগল্প ।। ক্রন্দসী ।। বিজয়া দেব

  আমাকে মনে পড়ে ক্রন্দসী?  পন্ডিচেরির সমুদ্র সৈকতে আপনার সাথে দেখা হয়েছিল ।আপনি খানিকটা দূরে একা বসেছিলেন। আপনার শীর্ণ করুণ মুখশ্রীতে গোধূলিবেলার করুণ আলো এসে পড়েছিল। আমিও খানিকটা দূরে বসে উচ্ছ্বল ঢেউয়ের ভেতর উচ্ছ্বাসে মেতে থাকা নারীপুরুষদের দেখছিলাম। খুব গরম ছিল সেদিন। আপনার পুরুষসঙ্গীটি স্নান করছিলেন তার পাশে আরও দুজন নারী পুরুষের জুটি সমুদ্রস্নানে মেতে উঠেছিল। একটি উত্তুঙ্গ ঢেউ এলো। স্নানরত নারী পুরুষদের টেনে নিল তার ভেতর। ঢেউ সরে গেলে পর দেখা গেল আপনার পুরুষ সঙ্গীটি আলিঙ্গনে বাঁধা পড়েছেন এক মহিলার সাথে, প্রায় মিনিটখানেক এই আলিঙ্গনাবদ্ধ নারীপুরুষ এক স্থিরচিত্রের মত বাঁধা রইলেন। গোধূলিবেলার আলোয় তখন আমি আপনার মুখ দেখছিলাম। আপনি আমার চোখ চোখ রেখে দেখলেন, যেন বিষম লজ্জায় অতঃপর চোখ নামিয়ে নিলেন। আমরা তো একই হোটেলে উঠেছিলাম। আপনারা তিনটি জুটি নারীপুরুষের। অথচ আপনার সঙ্গীটি পাশের ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিতেন আর আপনি সামনের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে হোটেলের আঙ্গিনায় দাঁড়িয়ে থাকা অজানা বৃক্ষের আন্দোলন দেখতেন, আর উল্টোদিকের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আমি দেখতাম আপনাকে। আপনার বিশীর্ণ চে...

কবিতা ।। ক্ষমা করুন শঙ্খ ঘোষ ।। জীবনকুমার সরকার

  ক্ষমা করুন শঙ্খ ঘোষ  জীবনকুমার সরকার    ক্ষমা করুন শঙ্খ ঘোষ  আমরা আর বেঁধে বেঁধে  থাকতে পারছি কই?  যেদিকে তাকাই সেদিকেই জীবন্ত  লাশেদের চরম ভীড়  তাদেরই বাতাসে মেরুদণ্ডহীন  গাছেরা করছে হই  শেয়াল আর শকুনের ফাঁদে  এত এত মানুষেরা সব  সুবিধার খোঁজে ব্যস্ত  ক্ষমা করুন শঙ্খ ঘোষ  নষ্টরাই এখন ভুবন চালাবে  শিশুরা আরও আরও বেশি লাশ হবে  ধরিত্রী হবে বিধ্বস্ত  একে একে সবাই লাশেদের দেশে  নষ্টদের উল্লাসে বাজাবে নূপুর  এ সমাজ নষ্ট হতেই ত্রস্ত।    =============== জীবনকুমার সরকার  পরশপাথর অ্যাপার্টমেন্ট ৩ নং গভঃ কলোনী মালদা ৭৩২১০১

লিমেরিকগুচ্ছ ।। কান্তিলাল দাস

১| কাপড় শুকানো মাতাল ঝাঁঝায় বউকে ভীষণ তুইও দিবি ফাঁকি ? সুয্যিটা রোজ নয় ওঠে না, চাঁদ তো আছে নাকি !         চাঁদের আলোয় কাপড় ভিজে         শুকোতে তোর কষ্ট কি যে তোর জ্বালাতে লুঙ্গি ছেঁড়ায় লজ্জা আমি ঢাকি ! ২| রাতপাহারা ভাদর মাসে কোকিল কেন ডাকছে এমন ওরে বলল খুড়ো, এমন হলে ধন নিয়ে যায় চোরে            বউ ছাড়া আর নেই কোনও ধন            সাবধানে রয় অষ্টুচরণ রাতপাহারা দিয়ে সজাগ ঘুমোয় অতি ভোরে! ৩| ঘাটের মড়া খুড়োর গলায় কুটকুটানি, ঢোল হয়েছে ফুলে ভাবল খুড়ি কমবে খাওয়ায় জলে তেঁতুল গুলে            পাড়ার লোকে জুটল ত্বরা            ভাবলো টাঁসবে ঘাটের মড়া গাঁদাল ভেবে বিছুটি যে খেলো মনের ভুলে! ৪। বুদ্ধি বটে হাঁটুন ঘাসে পা ডুবিয়ে ভোরে শিশির-জলে চোখের রোগে ওষুধ সাথে ডাক্তারে যেই বলে         পায়ে ঢেলে দশ শিশি জল...

কবিতা।। সুকন্যা ভট্টাচার্য্য

  পরিণতি  ................. দু-একটি স্বপ্ন একটি মোরগের গলায় ঝুলিয়ে ঘুম থেকে উঠলাম। নীল খয়েরী পালক ঝরে ঝরে পড়ল।  ওড়ার চেষ্টা পৃথিবীর টানের কাছে  তুচ্ছ। সূর্যের লাল চোখের দিকে গলা তুলে কথা বলার সাহস আর মাঝে মাঝে নেচে ওঠার আনন্দ। একসবের পরেও নসাৎ হয়েছে গুরুজনদের আশীর্বাদ। বিদায়ের আগে সূর্য মাঝ গগনে থেকেও অসহায় হত্যালীলার সাক্ষী থেকেছে। ....................................   সুকন্যা ভট্টাচার্য্য কাশী ঘোষ লেন,কলকাতা।

কবিতা ।। ব্রতপালন ।। ভারতী বন্দ্যোপাধ্যায়

ব্রতপালন  ভারতী বন্দ্যোপাধ্যায় এই কথাটা ঠিক বলেছে গোঁসাই তোমার আমার কন্ঠীবদল হলে পৃথিবীর সব ঈর্ষায় গাছের গোড়ায় দু -এক  ফোঁটা বৃষ্টি পড়বে ঝরে, আমিও আমার  তরুণ অঙ্গ মেজে তোমার সঙ্গে গানের মাধুকরী, গাঁ  শহরের সবার ঘরে ঘরে বৌ-ঝিয়েরা মারবে উঁকি -ঝুঁকি, পথে যেতে কৃষ্ণচূড়ার তলে চুড়োর  মধ্যে সাজিয়ে নেবো ফুল আমরা শুধু হাঁটবো মাধুকরী ভালোবাসায় আর হবে না ভুল। ------------------------ Dr bharati Banerjee AC. 71 profullakanan east Kestopur, kol, 700101

দুটি কবিতা ।। আবদুস সালাম

  শূন্যতার গা ঘেঁষে বিশ্বাসের দরজায় বিড়ম্বনা তুলছে মাথা  আটপৌরে জীবন নেমে আসে দ্বিধা দ্বন্দের নিত্যসমাস শূন্যতার ভিতর লেপ্টে  যায় নিষ্ঠুরতার সন্যাসী অভিযান প্রাত্যহিক জীবনে দল বেঁধে অভাবেদের  যাওয়া আসা মন্দ লাগে না  মৃত্যু এখন সহজ লভ্য অহংকার ঘরে ঘরে জ্বলে  দুঃখের উনুন আবর্তনের গা ঘেঁষে  পুড়ে যায় চিতা ভর্তি শ্বাসকষ্ট অগ্নিস্রাব হয় বিশ্বাসী রমণীদের  অপরিণত বোকা কাহিনীর মতো প্রেম  গর্ভবতী হয় আটপৌরে সংসারে নাড়ীর যোগ বলে কিছু হয়না শূন্যতার আগমনে আক্রান্ত হয় ভালোবাসা ধূলোর আস্তরণ জুড়ে  বিচ্ছেদের বিস্তীর্ণ মাঠ অসফল ধূসর স্বপ্নেরা  চৈত্রের ঝড়ে ঠুংরী গায় এভাবেই বিশ্বাসের দরজায় হানা দেয় অপরিচয় আমরা আধুনিক হই প্রেমের রাস্তায় খেলা করে  খোলাম কুচির নিষ্ঠুর আহ্বান    ওরা বাড়ি ফেরে না আর্তনাদের বাতাস ধেয়ে আসছে পাড়ায় রাস্তারা কেঁপে উঠছে থর থর করে বিকেলের মাঠ, আলো কমে এলে ওরা সবুজ ঘাসে রক্তের আলপনা আঁকে অন্ধকার  পাড়ায় নেমে এলে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকে সন্ত্রাস ধর্মের কাছে প্রশ্ন করি বারবার " ভাত দেওয়ার...

কবিতা ।। অভ্যন্তরীন প্রেম ।। জহির খান

অভ্যন্তরীন প্রেম জহির খান খুব দূরে খুব করে বসে থাকে পোষা কুকুর মাছের কাঁটায় তখন বিড়ালের ঠোঁটে চোট কোলাহলে মেতে পাতিহাঁসের ছানা- পোনা সদর উঠোন জুড়ে হাসে সোনালী রোদেরা ভাব করে হেঁটে যায় কোমল ভেষজ শরীর টেরাচোখ ফেরানোটা বড় দায় হয়ে পড়ছে আর বারান্দায় বসে এক কোকিল বসন্তের ভোর কামভাব ছলাকলায় পিনিক উঠায় জিহ্বায় অথচ উষ্ণ বৌ এর গায়ের গন্ধে মাতোয়ারা দুপুর এই-সব প্রেমে পোয়াতি হয় বিকেলের গান সুসন্ধ্যা লজ্জায় মুখ লুকায় প্রতিবেশী ডেরায় এখন নির্বোধ রাত সুরা পান করে পাহাড়ে উঠে    ========০০০=======     জহির খান  বাংলাদেশ

কবিতা ।। প্রতিধ্বনি ।। অরূপ পান্তি

 প্রতিধ্বনি                          অরূপ পান্তি পর্বতের কোলে চিৎকার করলে ফিরে আসে প্রতিধ্বনি  ।  ফিরে আসে । পাহাড় শোনে না, গুহার ভেতরে চিৎকার করলে গুহা শোনে না । হলঘর কিংবা করিডোরে চিৎকার-- শব্দ ফিরে আসে প্রতিধ্বনি হয়ে ।                 # # বেকার         কর্মহীন          বেকার ক্ষুধার্ত         অন্নহীন           ক্ষুধার্ত নিরাশ্রয়       গৃহহীন            নিরাশ্রয়                    #  # কেবলই প্রতিধ্বনি' আর প্রতিশব্দ ...

কবিতা ।। আলপিন ।। সোমনাথ বেনিয়া

                             গানের ভিতর মন বিভোর দৃষ্টির ব‍্যভিচার খেয়ে নিচ্ছে প্রকৃতির ঠোঁট  অসহায় ডাকনাম পদবির কাছে নতজানু যে চিনছে তার অভিধান হবে হৃদয় স্বপ্নের ভিতর নগর পরিক্রমা বৃন্দাবন ক্রমশ বাতাসার অবতার তবুও প্রতিটি অবাকের পাশে অর্বাচীন মাটি থাকে হঠাৎ করে বিস্ফোরিত উচ্চারণে গতিময় এক লহমায় লিফলেটের বিশেষ দ্রষ্টব্য হতে চায় আদৌ জানে কি পরিক্রমা শেষে সব বেলুন আলপিন মুখ বার করছে গ্রে ম‍্যাটার সরিয়ে ...   ---------------- Somnath Benia 148, Sarada Pally By Lane (Near Sarada Bhavan) P.O. + P.S. - Nimta Dist. - North 24 - Parganas Kolkata - 700 049. Mob. 8697668875 (Call & Whatsapp)

ভ্রমণকাহিনি ।। আনলকপর্বে গরুমারার জঙ্গলে ।। শংকর লাল সরকার

  আনলকপর্বে গরুমারার জঙ্গলে শংকর লাল সরকার ২০২০ সালের মার্চ থেকে প্রায় গোটা বছরটাই ঘরবন্দী থাকতে থাকতে হাঁফিয়ে উঠেছিলাম । ভ্রমণপিয়াসী মন মাঝেমধ্যেই বিদ্রোহ ঘোষণা করছিল । ডিসেম্বর মাস থেকে যখন সবকিছু আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল তখনই পরিকল্পনা করলাম , এই সুযোগ কাছাকাছি কোথাও ঘুরে আসা যেতে পারে । নিউ নর্মালের যুগে বেশিদূর গেলে বিপদে পড়তে হতে পারে তাই পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই কয়েকদিনের পরিকল্পনা । ঘন জঙ্গল , চা বাগান , নদী আর দূর দিগন্তে নীল পাহাড়ের উদ্ভাস - ডুয়ার্সের সবুজ প্রকৃতি , নাম না জানা অসংখ্য পাখি আর বন্যজন্তুদের সাহচর্য কটা দিন কাটানোর জন্য ফেব্রুয়ারীর শেষে দার্জিলিং মেলে চেপে বসলাম । মালবাজার থেকে মূর্তিনদী পার হয়ে ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে চলেছি। মাঝেমাঝে পথের দুপাশে বুক সমান ঢেউ তুলে চা বাগান কখনওবা ঘন জঙ্গল। চালসা পার হয়ে যেতে যেতে একজায়গায় ড্রাইভার বলল ডানদিকে খুনিয়ার জঙ্গল , বাঁদিকে চাপড়ামারি। এসব নামকরন মানুষের , মানুষের করা ভাগাভাগি। বন্যজন্তুরা অতশত বোঝে না , তাই রাস্তা পার হতে গিয়ে কখনওবা ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারায়। ড্রাইভার চঞ্চল , একটা জায়গা দেখিয়ে বলল ,...

দু'টি কবিতা ।। জয়ীতা চ্যাটার্জী

          এ কথাও যথেষ্ট নয় সৃষ্টির অলোক থেকে আজ অন্ধকার নেমে আসে ধীর পায়ে তুমি এসে দাঁড়ালে অকস্মাৎ আমার পাশে কোথাও তুমি নেই তোমার চুলের মতো রাত্রি ঝড়ে পড়ে তোমার গায়ের গন্ধ আমাকে জড়িয়ে জাপটে ধরে তোমার মুখে হঠাৎই বৃষ্টি জ্বলে ওঠে রোমাঞ্চ লাগে আজও আমার উতপ্ত ঠোঁটে তোমার চোখেই এখনও প্রেমের ক্ষমতা আছে তোমার ঠোঁটে এসে দাঁড়িয়েছে কৃপা বাক্য পায়ে পায়ে এসে দাঁড়িয়েছে তোমার কাছে ধীরে ধীরে কথা উঠে যাচ্ছে একাকী দুজনকে রেখে দুজন দুদিকে সিন্ধুর দুপারে এক অঙ্গ কাঁদে দূরের অঙ্গকে ভালোবেসে।।     ওলটপালট ঢেউ আমার হাতের থেকে শাবল খসে যায় তুমুল বৃষ্টিতে তিল তিল করে গড়ে তোলা দূর্গ ধুয়ে যেতে চায় ওই বিশাল পাথুরে অবরোধ আড়াল করে রাখে কতরাত হার্মাদের মতো ক্ষেপা নদী লুকিয়েছে কতো দস্তানা পড়া হাত অনর্গলহীন সজলে জাহাজ চলে ভাসিয়ে নেয় আমায় কোথাও বন্দর আছে কি? অবরণহীন ভাসতে ভাসতে যা আমাকে থামায় সমুদ্রের নাভি থেকে উঠে আসছে শব্দ উঠে আসছে কত কত গান তার জোয়ারে জোয়ারে ধুয়ে যাচ্ছে আমার গার্হস্থ্য সন্ন্যাস আমার নীরবতাই আমার কথা দেরি হয়ে যাচ্ছে আমাকে করে নিতে হবে স্নান।।   ==...

দুটি কবিতা ।। কনকজ্যোতি রায়

 (  ১) ' কম্পাস' দিগভ্রান্ত নাবিকের হঠাত্‍ আবিষ্কার করা কম্পাসের মতো  খুঁজে পেলাম একদিন তোমাকে। সেদিন  বুঝিনি মরচে ধরা কম্পাসটি ছিল অচল । তাই পথ ভুলেছি বারবার । উচ্ছ্বল আশা দুচোখে নিয়ে পাড়ি দিয়েছি উদ্বেলিত পারাবার। প্রাণচঞ্চলতার কল্পনায় নোঙর ফেলেছি যে দ্বীপের তীরে বুঝিনি তা ছিল শুষ্ক নির্জীব।  মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে চেয়ে গেয়েছি বসন্তের গান । বিশুদ্ধ বাতাসের কামনায় ছুটেছি যে ডাঙার পানে ,  বুঝিনি তা ছিল ক্ষণস্থায়ী মরীচিকা। অনেক ডুবজল সাঁতরে পাড়ে উঠে বিস্ময়ে দেখি,  ভিজে বালুচরে  পড়ে আছে ভাঙা কম্পাসটির এক তীক্ষ্ম  শলাকা।         ( ২)     " ফ্রেম " মন জুড়ে তারাহীন আকাশ   হৃদয়ে অলীক কল্পনার অনুরনন চোখের পাতায় ভেসে যাওয়া টুকরো টুকরো মেঘ। অনেকদিন বৃষ্টি হয় নি, সিঞ্চনের আশায় পাতাগুলি হলুদ শুষ্ক ধানের শিষে ফলে না মমতার ফসল, ক্ষয়িষ্ণু শিকড় উৎপাটনের অপেক্ষায়, ধুমকেতুর মতো হঠাৎ এসেই মিলিয়ে যায় লাল নীল আর সবুজ স্বপ্নগুলো, ভালবাসার মোড়কে নকল সোনা বাজারদর তারই সবচেয়ে বেশী অলিতে গলিতে হীরের টুকরোর ছড়াছড়ি। প্র...

নিবন্ধ ।। ধর্ষণের সংস্কৃতি ।। শেফালি সর

আধুনিক  প্রযুক্তির এই উন্নত  বিশ্বেও ধর্ষণ  হ'ল একটি  শব্দ। আমাদের  সভ‍্য সমাজে ধর্ষণ  এবং ধর্ষণকারীকে নিয়ে  কিছু  বিশ্বাস  প্রচলিত আছে।কিছু পৌরাণিক  কাহিনীকে বিশ্বাস করলে ধর্ষণ প্রবৃত্তির মধ‍্যে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই।কারণ পুরুষের মধ্যে  এই  প্রবৃত্তির বিকাশ ঘটেছে  প্রাকৃতিক  ভাবেই।সেই যে,সভ‍্যতা শুরুর আগ থেকেই। অবাধ‍্য বুনো স্বভাবের মেয়েদের বশে আনতে,তাদের গৃহপালিত  করে নিজেদের  সম্পত্তি হিসাবে  চিহ্নিত করে  রাখতে পুরুষালি  বল প্রয়োগ  করতেই  হ'ত।ধর্ষণ হ'ল সেই প্রয়োগ বিদ‍্যার একটি  স্তম্ভ বলা যেতে পারে। এই পৌরাণিক তত্ত্বের সঙ্গে  কিছু  জনপ্রিয় বিশ্বাসও রয়েছে।যেমন-নারীরা নাকি  আসলে  এই  ধরনের বলপ্রয়োগকারী পুরুষদের প্রকৃত  পুরুষ হিসাবে  মান‍্য করে এবং তাদের  কাছে  নিজেদের  সমর্পন করেই গোপন আনন্দ  অনুভব  করে।তাই তাদের  মুখে বলা 'না' কথাটা  অত‍্যন্ত মূল‍্যহীন। আসলে তা 'হঁ‍‍্যা' বলার ই নামান্তর।যখন থেকে   ...

কবিতা ।। মোয়াল্লেম নাইয়া

বিবর্তণ  মোয়াল্লেম নাইয়া       আমরা যখন ছোট্ট ছিলাম, মা ছিল বুনোফুল স্নেহের পাপড়ি পড়তো ঝ'রে আনন্দে মশগুল ৷ আমরা যখন ছোট্ট ছিলাম, মা ছিল ধানক্ষেত আঁচল দিয়ে রাখত ঢেকে তাড়াতো ভুত-প্রেত ৷ আমরা যখন ছোট্ট ছিলাম, মা ছিল দুধ ভাত ঘন হয়ে পড়তো পাতে সকাল বিকাল রাত ৷ আমরা যখন ছোট্ট ছিলাম,মা ছিল এক পুকুর সবাই সেথায় ডুবসাঁতারে পার করেছি দুপুর৷ আমরা ক্রমে হলাম বড় মা হয়েছে ছোট মা যেন এই সংসারেরই বামন গ্রহ প্লুটো ৷ আজও মায়ের শুকনো চোখে ঝরে অশ্রুবিন্দু হৃদয় তাহার জল টলমল অপার স্নেহের সিন্ধু ৷ মা এখন আর ধানক্ষেত নয় বিছায় না আঁচল পুকুর গেছে ভরাট হয়ে প্রোমোটারি দখল ৷ বিবর্তিত মায়ের এরূপ বড্ড অবহেলা মা যেন এক স্বপ্নপুরী শুধুই ছোট্টবেলা ৷   ------------------০০--------------------       নাম- মোয়াল্লেম নাইয়া গ্রাম+পোষ্ট- ইমামদ্দীপুর থানা-ঢোলাহাট জেলা- দক্ষিণ২৫ পরগণা পিন-৭৪৩৩৯৯ ফোন নং-৯৯৩৩১৯৫৭৫২       

নিবন্ধ ।। চিরসখা হে... ।। অমিতাভ

  চিরসখা হে....   অমিতাভ         একটা খাদের দিকে ঢলে পড়েছি সব্বাই। শুধু একটা টোকার অপেক্ষা, তারপরই তলিয়ে যাব এক অতলান্ত গভীরতায়। হয়তো এতটাই গভীরে তলিয়ে যাব যে হাজার চেষ্টা করেও একচিলতে আলোরও দেখা পাওয়া যাবে না। তবুও একটা টান, একটা গান এখনো তিল তিল করে গড়ে তোলা সভ্যতার মধ্যে আটকে রেখেছে আমাদের। প্রাগৈতিহাসিক যুগের দিকে যদি আমরা চোখ রাখি তাহলে দেখবো মানুষ ভাষা শেখার আগে শিখে গেছিল সুর। সভ্যতার বিবর্তনের সাথে সাথে যখন আমরা অর্থাৎ মানুষেরা নিজেদের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীতে ভাগ করে নিয়েছি তখন সেই সুরও ভাগ হয়ে গিয়েছে আপন আপন বৈশিষ্ট্যে। তবুও ভেতরের একটা চোরাস্রোত সমস্ত সুরকেই ছুঁয়ে  ছুঁয়ে বেঁধে ফেলছে একসূত্রে। ভারতীয় সভ্যতাও এক বহুবর্ণের সমাহার কিন্তু ঐ যে চোরাস্রোত যা সমগ্র ভারতবাসীকে একসূত্রে বেঁধে ফেলেছে তা হল "জনগনমন অধিনায়ক"। আহ!কি প্রচন্ড আবেগ ঐ সুরে আর কি প্রচন্ড আবেগ সুরস্রষ্টাকে ঘিরে। সেই সুরস্রষ্টারই আরেকটি সৃষ্টি "আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে।।" মৃত্যুকে বন্ধু করে নেওয়া এক মহান প্রাণই লিখতে পারেন এমন কথা। প্র...

কবিতা ।। ধারাপাত ।। মাথুর দাস

ধারাপাত মাথুর দাস ধারাপাত ভুলে যাও, সারা রাত জেগে যেমন মেলে না অঙ্ক, কাটাকুটি সার ; দিন কাটে আতঙ্ক আর অশান্তির মেঘে, ভোগবাদে ভোগ দিলে বাদ, শান্তি অপার । ধারাপাত ভুলিয়ে দিয়ে তোমাকে আমাকে গুণের নামতা গোনে অগণন তস্করের দল, গুণী বা গুণিন তারা, বুঝে নেয় অগ্রিম ডাকে কোন্ অঙ্কে কখন শিখর ছোঁবে সম্পদ সকল । বৃথাই হাতে ধরো গণিতের প্রাথমিক পাঠ, সুচারু শোণিত-ফলা ছিন্ন করে মগজের স্নায়ু ; দুঃখকষ্ট যোগ হলে শুধু বিয়োগেরই মাঠ, ভাগশেষে শূণ্যফল পূর্ণ করে অবশিষ্ট আয়ু । **********   মাথুর দাস দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান ফোন/হোয়াট্স্-অ্যাপ : ৯৭৭৫৬৭৯৭৮৩ ***********************************  

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায় লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০৩তম সংখ্যা ।। আশ্বিন ১৪৩৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

  সূচিপত্র তিনটি কবিতা ।। জহির খান মহাকালের ক্যানভাসে এক দূরদর্শী নাবিক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি রোমিলা থাপার : অস্তিত্বের অনুসন্ধান ।। শিবাশিস মুখার্জি ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত অসুখী ঋণের বোঝা ।। ভাস্কর সিনহা অণুগল্প ।। মাটির বাঁধ ।। সুমিত মোদক গল্প ।। দর্শন ।। নিরাশাহরণ নস্কর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন ।। শিবাশিস মুখার্জি পতি, পত্নী আউর খুবসুরতি—যো নজর না লাগে!! ।। অরিন্দম পাল গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব অজ্ঞতার উত্তরাধিকার ভেঙে জ্ঞানের আলোকযাত্রা ।। মেশকাতুন নাহার চিন্তার উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ।। মেশকাতুন নাহার রঙের আড়ালে মানুষ ।। মইনুদ্দিন সরদার শিক্ষক দিবস ✍️ শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন তিনটি কবিতা ।। তন্ময় অধিকারী দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন দুটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর শিক্ষক দিবস পালনের চির প্রাসঙ্গিকতা ।। পাভেল আমান যখন পুজো আসত ।। সঞ্চয়ন ব্যানার্জী সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল মাস্টারমশাই ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক পদ্ম পাতায় জল ।। অশোক দাশ ঋতুবতী গোলাপ ।। আজিজু...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত

এক চিলতে সেই তোমার আকাশ আজ অরবিন্দ পুরকাইত   অপু, আজ শেষ বিকেলে বাসার মধ্যে কেমন যেন ভাল লাগছিল না! তাও একটু আগেই বেরিয়েছিলাম। আজ ফুন্তু-র বদলে অপু সম্বোধনে একটু কৌতুক অনুভব করলে বোধহয়! ভেবে দেখেছি, নাম-পদবির আদ্যক্ষর নিয়ে, কালজয়ী প্রিয় উপন্যাসের নায়ককে ভেবে— নিজের গ্রামপ্রীতির কথা মাথায় রেখে নেওয়া আমার এ নামটি তোমার ক্ষেত্রেই বেশি উপযুক্ত আজ। ঠাকুরদার সম্বোধনের—তোমারও নাম-পদবির আদ্যক্ষর মিলিয়ে নামের ওই ক্ষুদ্র সংস্করণটি তোমার তো বড় প্রিয় ছিল। লেখায়-আঁকায় ব্যবহার করতে। আর তুমিও তো আদ্যন্ত অপু! বয়স বাড়তে না দিয়ে, আরও যেন তার যাথার্থতা প্রতিপন্ন করে গেলে! সে যাক। তা তোমার বোনুর খিদে পেয়েছে বলে আমাকে পাঁউরুটি আনতে বলল। তোমার মা বলল, একটু আগে বেরোলো, বলতে পারিসনি! বোনুর যুক্তি, খিদে তো এখন পেল! তা তুমি তো জান ঘোষকাকুর দোকান এই সময় বন্ধ, আমি বলি, দেখি, অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে।      তো বেরিয়ে, জয়রামের দোকানের কাছে, মেন রোডে ওঠার আগে ডানদিকে সরু সেলুনের পাশের মহিলার দোকান থেকে পেয়ে গেলাম হাফ পাউন্ড রুটি। দু-দফায় এবার দাম বেড়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং...

বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন

বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজনা — মধুসূদন থেকে জীবনানন্দ (প্রথম অংশ ) রণেশ রায়    ১ মাইকেল মধুসূদন দত্ত: জীবনী, সাহিত্যপ্রতিভা ও আত্মোপলব্ধি জীবনী মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩) বাংলা সাহিত্যের একজন যুগান্তকারী কবি। অধুনা বাংলাদেশের যশোর জেলার সাগরদাঁড়িতে, এক সমৃদ্ধ জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম। পাশ্চাত্য সাহিত্য, গ্রিক-রোমান পুরাণের প্রতি তাঁর গভীর আসক্তি ছিল ছাত্রজীবন থেকেই । সেই আকর্ষণই তাঁকে পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনে প্রেরণা দেয়।তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা সাহিত্যের এক দিগন্ত রেখা। যুবক বয়স থেকেই পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি অনুরক্ত ছিলেন।তিনি ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে কলকাতার স্কুল-কলেজে পড়তে শুরু করেন। তৎকালীন পাশ্চাত্য জীবনাদর্শ, বিশ্বযুড়ে সামাজিক পরিবর্তনের ঢেউ,মানবতাবাদী দর্শন —এসব তাঁর চিন্তাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে । তিনি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে "মাইকেল" নাম গ্রহণ করেন—যা ছিল তৎকালীন হিন্দু সমাজে অত্যন্ত আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। তিনি বিচ্ছিন্ন হয় পড়েন তার নিজ-জনের কাছ থে...

স্বাধীনতা দিবস ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)

স্বাধীনতা দিবস অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস) ভোরের বেলা বর্ষণের                    ঝমঝম ছন্দে, ঘুম থেকে উঠে        মেঘ জমা মনে ; বাদলের লুকোচুরি খেলা। পুবের আকাশ থেকে এক টুকরো সূর্য রশ্মি, চকচকিয়ে পাত্রে রাখা                  পদ্ম পাতায় পরে। নীল আকাশের বুকে সাদা মেঘের সাথে         শ্বেত করবীর দোলা। দক্ষিণা আকাশে যেখানে             জলের রেখা দিগন্তে মেশে ; ঠিক সেখানেই উঁড়ে যায়                    পাখি পক্ষীর দল। পশ্চিম দিকে কালো মেঘে ঢাকা গাছের ফাঁকে শুধুই তারেই দেখা।         উত্তরেতে বহু দূরে............... ভেসে আসে গানের সু...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০৩তম সংখ্যা ।। আশ্বিন ১৪৩৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

  সূচিপত্র তিনটি কবিতা ।। জহির খান মহাকালের ক্যানভাসে এক দূরদর্শী নাবিক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি রোমিলা থাপার : অস্তিত্বের অনুসন্ধান ।। শিবাশিস মুখার্জি ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত অসুখী ঋণের বোঝা ।। ভাস্কর সিনহা অণুগল্প ।। মাটির বাঁধ ।। সুমিত মোদক গল্প ।। দর্শন ।। নিরাশাহরণ নস্কর তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় প্রত্যাবর্তন ।। শিবাশিস মুখার্জি পতি, পত্নী আউর খুবসুরতি—যো নজর না লাগে!! ।। অরিন্দম পাল গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব অজ্ঞতার উত্তরাধিকার ভেঙে জ্ঞানের আলোকযাত্রা ।। মেশকাতুন নাহার চিন্তার উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ।। মেশকাতুন নাহার রঙের আড়ালে মানুষ ।। মইনুদ্দিন সরদার শিক্ষক দিবস ✍️ শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্যে পঞ্চজন তিনটি কবিতা ।। তন্ময় অধিকারী দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন দুটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর শিক্ষক দিবস পালনের চির প্রাসঙ্গিকতা ।। পাভেল আমান যখন পুজো আসত ।। সঞ্চয়ন ব্যানার্জী সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল মাস্টারমশাই ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক পদ্ম পাতায় জল ।। অশোক দাশ ঋতুবতী গোলাপ ।। আজিজু...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

ব্যক্তিগত গদ্য।। অরবিন্দ পুরকাইত

এক চিলতে সেই তোমার আকাশ আজ অরবিন্দ পুরকাইত   অপু, আজ শেষ বিকেলে বাসার মধ্যে কেমন যেন ভাল লাগছিল না! তাও একটু আগেই বেরিয়েছিলাম। আজ ফুন্তু-র বদলে অপু সম্বোধনে একটু কৌতুক অনুভব করলে বোধহয়! ভেবে দেখেছি, নাম-পদবির আদ্যক্ষর নিয়ে, কালজয়ী প্রিয় উপন্যাসের নায়ককে ভেবে— নিজের গ্রামপ্রীতির কথা মাথায় রেখে নেওয়া আমার এ নামটি তোমার ক্ষেত্রেই বেশি উপযুক্ত আজ। ঠাকুরদার সম্বোধনের—তোমারও নাম-পদবির আদ্যক্ষর মিলিয়ে নামের ওই ক্ষুদ্র সংস্করণটি তোমার তো বড় প্রিয় ছিল। লেখায়-আঁকায় ব্যবহার করতে। আর তুমিও তো আদ্যন্ত অপু! বয়স বাড়তে না দিয়ে, আরও যেন তার যাথার্থতা প্রতিপন্ন করে গেলে! সে যাক। তা তোমার বোনুর খিদে পেয়েছে বলে আমাকে পাঁউরুটি আনতে বলল। তোমার মা বলল, একটু আগে বেরোলো, বলতে পারিসনি! বোনুর যুক্তি, খিদে তো এখন পেল! তা তুমি তো জান ঘোষকাকুর দোকান এই সময় বন্ধ, আমি বলি, দেখি, অন্য কোথাও পাওয়া যেতে পারে।      তো বেরিয়ে, জয়রামের দোকানের কাছে, মেন রোডে ওঠার আগে ডানদিকে সরু সেলুনের পাশের মহিলার দোকান থেকে পেয়ে গেলাম হাফ পাউন্ড রুটি। দু-দফায় এবার দাম বেড়...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং...