তুমি বলে দাও রবীন্দ্রনাথ হঠাৎ ঝেঁপে বৃষ্টি আসার মতো মনের গভীরে চঞ্চলতা তীব্র না হলে কবিতা লিখব কী করে -- বলে দাও তুমি রবীন্দ্রনাথ। মনের গহনে তীব্র দহন জ্বালা, পুড়ে ছাইভস্ম হবার মুহূর্তে যদি ফিনিক্সের মতো পুনর্জন্ম ঘটে, তবেই এই হাত থেকে আবার কবিতার জন্ম হবে-- দু:খের আতপে স্নান না সেরে কবিতা তার রূপ নেয় না-- এ কথা বলে গেছ স্বয়ং তুমি রবীন্দ্রনাথ। প্রেমের তরলতম রূপের মধ্যে বিচ্ছেদের করুণ সুর সুস্পষ্ট, এক বুক অভিজ্ঞতার মাহেন্দ্রক্ষণে আজও হৃদয় গুঙরে কাঁদে, পাওয়ার সুখের চেয়েও হারানোর বেদনা বুকে চেপে যেন গভীর দীঘির বুকে লম্বা বাঁশের লাঠি স্থির, একা জেগে থাকে। মাছরাঙা কখন যে উড়ে এসে বসে তবুও তো নিষ্পাপ নয়নে কারণ জিজ্ঞাসা করেছে এ নীরবতার। অকস্মাৎ জলেতে কীসের শব্দ, ঢিল ছুড়েছে চপলমতি কোনো কোমল বালক, ঢেউ ছুটে এসে শান্তি ভঙ্গ করে! রবীন্দ্রনাথ, তুমি বলে দাও এ বেদনা রাখি কোথায়-- সে কি একবারও আমার হতে পারত না! তিরবিদ্ধ এমাথা ওমাথা ছড়িয়ে আছে আমার পাগলামির নমুনা, তোমাকে বিরক্ত...
নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...