তালপাতার পাখা দীর্ঘ লোডসেডিংটা না হলে ওর কথা হয়তো মনেই পড়ত না। বিস্মৃতির অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া অনেক জিনিসের মতই-ওটা রয়ে যেত আলমারীর মাথায়। ধূলোমাখা শরীরে ,অবহেলিত আর পাঁচটা জিনিসের মত।জুলাই মাসে কিছুটা প্যাচপ্যাচে পিলানী।আমাদের কলোনীতে জেনারেটরের সুবাদে লোডশেডিং-এর সময়, এই নিদারুন গরমে পাখার হাওয়ার জন্য হাপিত্তেশ করতে হয় না। ট্রান্সফর্মার পুড়ে যাওয়ায় আজ সেই হাপিত্তেস যখন অসহ্য হয়ে উঠল ঠিক তখনই ওকে মনে পড়ল।ফ্যানের হাওয়া বা এসি চললে কার আর মনে পড়বে ওর কথা।তা হয়ে গেল বেশ কয়েক বছর,অনেক খুঁজেপেতে নিয়ে এসেছিলাম। আজকাল আর বঙ্গের দোকানগুলিতে এর স্থান নেই বল্লেই চলে।এর জায়গা দখল করে নিয়েছে লাল নীল,সবুজ রঙের ছোটছোট হাতলওলা স্লিমট্রিম টেকসই প্লাস্টিকের পাখা। অনেক বিলুপ্তপ্রায় জন্তু জানোয়ারের মতই এটিরও স্থান হয়েছে আমাদের মস্তিষ্কের প্রাগৈতিহাসিক কোষগুলিতে। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন গৃহস্থবাড়িতে তিনটে জিনিস অবশ্যই থাকত, একটা কুলো একটা কুনকে আর একটা তালপাতার পাখা। গরমের সময় শীতলপাটি বা কাঠির মাদুর বিছিয়ে তালপাতার পাখার হাওয়া খেতে খেতে কত গল্পই না শুনেছি।লোডসেডিং হলে প্রথমেই খোঁজ পড়...
অনুর অপেক্ষা নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...