Skip to main content

Posts

বহুরৈখিক কাব্যকৈবল্যে সিদ্ধ কবি কুমারেশ তেওয়ারী -- জুবিন ঘোষ

বহুরৈখিক কাব্যকৈবল্যে সিদ্ধ কবি কুমারেশ তেওয়ারী জুবিন ঘোষ কুমারেশ তেওয়ারী যার বহুরৈখিক কবিতায় তীর্যক শব্দসঙ্গম সমসাময়িক কবিতার স্থিতাবস্থাকে ভেঙে কলাকৈবল্যের চূড়ান্ত উচ্চতর বাস্তবে উত্তীর্ণ করেন। এশিয়ার একসময়ের বৃহত্তম সি.সি.আই.এল সাইকেল কারখানার সংলগ্ন কন্যাপুর গ্রামে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে সত্তরের পটসময়ে জন্ম এই কবি তার কৈশোরের প্রথম উপন্যাসের পাণ্ডুলিপিটি দুর্ভাগ্যবশত হারিয়ে ফেললেও সেটাই হয়তো ছিল এখনকার কবিতার প্রস্তুতি। সি.সি.আই.এল সাইকেল হয়তো হারিয়ে গেছে কিন্তু স্পোকের নৈপুণ্যে যেভাবে তার দ্বিচক্র পরিশীলিত ব্যাস বজায় রাখতে পারে ঠিক সেইভাবেই যেন কুমারেশ তার কবিতায় ভাবনা ও কবিতার টোন-টেকনিকগুলোকে স্পোকের মতোই সাজিয়ে কবিতার গঠনশৈলীকে বহুরৈখিকতার বাহান্ন তীর্থে অযান্ত্রিক আহ্বান জানান। বাংলার বহু বাণিজ্যিক-অবাণিজ্যিক পত্রিকায় তার সমসাময়িকদের সংকটের নিমিত্ত হিসেবে বিচরণ করতে করতে ইতোমধ্যেই কবির চারটি কাব্যগ্রন্থ কবি সম্প্রদায়ে তুমুল হট্টগোল পাকিয়ে ফেলেছে আর সেখানেই কবি কুমারেশ এতদিনকার প্যানপ্যানে কাব্যধারাকে অধিদমন করে চিরাচারিত লালিত্য্যের ওভারকোট খুলে আন্ডার-গা...

গল্পের অণু – পরমাণু ---শুক্লা মালাকার

গল্পের অণু – পরমাণু ---শুক্লা মালাকার বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প এক মায়ার জগত। বাঙালীর জীবন সমাজ সংসার হাসি-কান্নার আখ্যান, তার অনুভূতি ছুঁয়ে থাকে গোটা গল্প জুড়ে। পড়তে পড়তে হটাৎ করে শেষ হয়ে গেলেও থেকে যায় অন্য এক রেশ, শেষ না হওয়া এক আবেশ। ছোটগল্প সম্পর্কে বলতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন- অন্তরে অতৃপ্তি রবে/ সাঙ্গ করি মনে হবে/ শেষ হয়ে হইল না শেষ এই রবীন্দ্রনাথ ই একসময় ছোটতর গল্প লেখা শুরু করলেন। ১৩২৯ সালে তার 'লিপিকা' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। প্রথম শোক, পট, নতুন পুতুল, এমন আরো অনেক ছোটতর গল্প নিয়ে প্রকাশিত এই গ্রন্থ গল্প লিখিয়েদের সামনে নতুন এক আঙ্গিক তুলে ধরে। এরপর আরো অনেক লেখক নানাভাবে ছোটতর গল্প লেখা শুরু করেন। এই ছোটতর গল্প ক্রমে মেদ ঝরিয়ে আরো রোগাটে হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে রহস্যময়ী হল। তার গঠন হল সাংকেতিক। ছোটতর থেকে ছোটতম হতে হতে কয়েক দশকের মধ্যেই অনুগল্প নামে চিহ্নিত হল। মাত্র কয়েকটি বাক্যে লেখা নতুন আঙ্গিকের এই গল্পের অনু অনেকটা দীর্ঘশ্বাসের মতো। শুরু করে শেষ করার মধ্যে বুকের বাতাস হুস করে বেরিয়ে যায়। পড়া হয়ে গেলে অদ্ভুত এক বাতুলতার অনুভূতি হয় যা অস্তিত...

রিম্পা নাথের কাব্য: এপিসেন্ট্রিক্যাল@ব্যক্তিগত ।। আলোচনা: সংস্কৃতি ব্যানার্জী

কাব্য: এপিসেন্ট্রিক্যাল@ব্যক্তিগত কবি - রিম্পা নাথ প্রকাশনা - বার্তা প্রকাশন প্রচ্ছদ - কৃষ্ণেন্দু মন্ডল মূল্য - পনেরো টাকা এক নব্যপন্হী কাব্যিক মননের প্রকাশ সংস্কৃতি ব্যানার্জী " তৃষ্ণার গলায় আঙুল দিয়ে আমি যখন মা'কে জড়াই দেখি জল। আলো মাটি লুকোচুরি খেলে মায়ের আঁচলের ঠিক উপরিভাগটাই "... 'পৃথিবী মা' নামক কবিতায় এমনই সহজ সত্যকে কবিতা করে তুলেছেন নতুন প্রজন্মের কবি রিম্পা নাথ তাঁর এপিসেন্ট্রিক্যাল @ব্যক্তিগত কাব্য গ্রন্থে। প্রথাভাঙা কাব্য ভাষায় সুনিপূন ভাবে জীবনের ভেতর ও নৈঃশব্দের কথা ফুটিয়ে তুলেছেন লেখায়। "মালিশে নজরে প্লাসটার সভ্যতা ,নাইট্রিক বৃষ্টিতে ভবিষ্যত শুয়ে"...তাঁর 'স-সভ্যতা' কবিতাটির মধ্য দিয়ে এক ভিন্নতর দর্শনের সন্ধান পেয়েছেন পাঠক। সামাজিক টানাপোড়েন, আবেগ অনুভূতি , অস্তিত্বের ভাবনা সবকিছু দিয়ে কবি তার শব্দচিত্র তৈরি করেছেন।এক অনন্য মাত্রা যোগ হয়েছে যেখানে তিনি বলছেন, "রোজ একটু জোৎস্না খাই"।প্রতিটি লেখার ভিতর নিজেকে ভেঙেছেন রিম্পা। বলছেন "মাথার মধ্যে গুঁড়ো গুঁড়ো চারা জন...

বিক্ষুব্ধ এ ভারত ।। রণেশ রায় ।।পর্যালোচনা : নির্মল ব্রহ্মচারী (নরওয়ে)

  বই: বিক্ষুব্ধ এ ভারত গ্রন্থকার: রণেশ রায় প্রকাশক: আন্তর্জাতিক প্রকাশন প্রকাশ: ডিসেম্বর 2017 মূল্য: 130 টাকা          বিক্ষুব্ধ এ ভারত ---- সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা নির্মল ব্রহ্মচারী (নরওয়ে) আন্তর্জাতিক প্রকাশন প্রকাশিত বিক্ষুব্ধ এই ভারত নামে রণেশ রায়ের লেখা বইটি তথ্য ও তত্ত্বের এক অসাধারণ সমন্বয়। সাবলীল ভঙ্গিতে কঠিন তত্ত্বের বিশ্লেষণ যেমন বিষয়কে সহজবোদ্ধ করে তুলেছে তেমনি পরিসংখ্যান তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে তুলতে সমর্থ হয়েছে । প্রবন্ধে কবিতার ব্যবহার এমন একটা গুরুগম্ভীর বিষয় পাঠকে মনোগ্রাহী করে তোলে। এগারোটি পরিচ্ছদে লেখা এই বইটিতে আদিবাসী অঞ্চলে যে বিপুল খনিজ সম্পদ তার বিশদ হিসেব দিয়েছেন লেখক। অপূর্ব নিপুণতায় তুলে ধরেছেন আজকের নয়া সাম্রাজ্যবাদের স্বরূপটা। আর এই খনিজ সম্পদের ওপর দখল নিতে এসে ঝাঁপিয়ে পড়েছে কর্পোরেট দুনিয়া, সরকার তাদের সহায়ক। আদিবাসীদের উচ্ছেদ যোজ্ঞ চলছে অবাধে। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে আদিবাসী সমাজ। আদিবাসী অভ্যুথ্যানের যেন এক গাঁথা রচিত হয়েছে বইটিতে । জীবনজিবিকার শ্রেনিযুদ্ধের সঙ্গে পরিবেশ ও প্রযুক্তি...

• সুজাতা ও হেমন্তকালীন কবিতা গুচ্ছ / উপানন্দ ধবল ।। পাঠ প্রতিক্রিয়া : শৈলেন চৌনী

• বইঃ সুজাতা ও হেমন্তকালীন কবিতা গুচ্ছ কবিঃ উপানন্দ ধবল প্রকাশক - কবিতা দশদিনে প্রচ্ছদ/ ব্লার্ব - নয়ন রায় মূল্য - ৩০ টাকা এক অন্য স্বরের কবিতা   শৈলেন চৌনী ▪কাল্পনিক অথবা খুব সাক্ষ্যাৎ, কবি নিজের আড়মোড় ভেঙে স্ব-মহিমায়, ঐকান্তিক স্পৃহায় আটপৌরে যাপনের ভাবাবেগ সম্বলিত করে আমাদের উপহার দিয়েছেন এক অন্য স্বরের কবিতা, অন্য মাত্রার কবিতা। বইয়ের সর্বত্র শুধু সুজাতা এবং সুজাতা! কে এই সুজাতা? পদবী কী? কী চায় কবির কাছে? আর কবিই বা কেন মনোরথে চড়ে পাড়ি দিতে চান উদ্ভ্রান্তের পথে? উপানন্দ ধবলের 'সুজাতা ও হেমন্তকালীন কবিতা গুচ্ছ' কবিতা সংকলন টি পড়ে এমনই আগ্রহ এবং কৌতুহল জন্মেছে। বইয়ের পনেরোটি কবিতা জুড়ে কবি কেবলমাত্র লিখেছেন তাঁর কল্পনাপ্রসূত ভাবনা, নিজের বিষন্ন অথবা স্মৃতিভরা সুখ মুহূর্তের কথা, সাথে বাদ যায়নি আঞ্চলিক উপভাষার মহিমাও, দেখুন —"তবু জাড় কাটানোর লীনতাপ রয়ে গেছে বাকি"।কবিতায় বিশেষ করে আঞ্চলিক ভাষার উপমা কমই দৃষ্টিগোচর হয়, হয়তো বা কেউ কেউ সর্বসাধারনের বোধগম্যতাকে লক্ষ্য করে বাদ দেন, তবুও আঞ্চলিক শব্দ, ...

"দশমিক" (অণুগল্প সংকলন) সোমনাথ বেনিয়া।। আলোচনা-- অমিত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়

  দশমিক: এক অনবদ‍্য সৃষ্টি -- অমিত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় প্রখ‍্যাত সাহিত‍্যিক সোমনাথ বেনিয়ার "দশমিক" একটি অণুগল্পের সংকলন। উড়ান প্রকাশনের হাত ধরে এই ব‌ইটি প্রকাশ পেয়েছে। ব‌ইটি তার গর্ভে রেখেছে ২৬টি অণুগল্পকে। বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে তুলে আনা এক একটি গল্পের চরিত্র সামাজিক চিত্রটা খুব প্রাঞ্জল ভাবে মেলে ধরেছে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে "দশমিক" একটি জীবন দর্শন তুলে ধরেছে পাঠকের সামনে। ব‌ইটির প্রথম গল্প 'চিংড়ি' যেমন সম্পর্কের গাঢ়ত্বের উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে দিয়েছে পাঠকের মনে, ঠিক তেমন‌ই ব‌ইটির শেষ গল্প 'বিশ্বাস' একটি সামাজিক দর্পণ হিসাবে পাঠককে রোমাঞ্চিত করে। এছাড়াও যে গল্পটির নামে এই ব‌ইটির নামকরণ হয়েছে সেই 'দশমিক' গল্পটিও নিঃসন্দেহে বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে। এছাড়াও 'দোসর', 'বীজ', 'নৌকা', 'দুধ', 'সাইকেল' এরকম আর‌ও অনেক অণুগল্পের মাধ‍্যমে সোমনাথ বাবু পাঠকের মন ছুঁয়ে নিয়েছেন। প্রত‍্যেকটি অণুগল্প‌ই এককথায় অসাধারণ। "দশমিক" হলো আমার তোমার কথা। প্রত‍্যেকটি গল্প প্রতি নিয়ত ঘটে যাওয়...

রূপকথাদের আরশিনগর(কাব্যগ্রন্থ) ।। দেবাশিস তেওয়ারি ।। গ্রন্থালোচনায়--অনিন্দ্যকেতন গোস্বামী

রূপকথাদের আরশিনগর (কাব্যগ্রন্থ) দেবাশিস তেওয়ারি  প্রকাশকঃ পত্রলেখা।  দাম ৫০ টাকা।  প্রকাশকাল ২০১৩।  বৃত্তালোকের বাইরে অনিন্দ্যকেতন গোস্বামী  বাংলাদেশের বিখ্যাত কবি মহাদেব সাহা তাঁর "এই গৃহ এই সন্ন্যাস" কাব্যগ্রন্থে 'আমার দুঃখগুলি' কবিতায় একজায়গায় বলেছেন— "—ইচ্ছার বীজানুগুলি ঘামপুরে ছেড়ে দিই, অথবা আরেকটু হেঁটে চলে যাই জনাকীর্ণ নগরে মোড়ে কিছুক্ষণ জাদুর ভেল্কি ছুঁয়ে সানন্দে ডুগডুগি বাজাই" এই রকম নগরের ঘ্রাণ এবং নাগরিক সভ্য সমাজের কিছু ছবি এবং বিপুল ইংরেজি শব্দের উৎসারে কবি দেবাশিস তেওয়ারির কাব্যগ্রন্থ 'রূপকথাদের আরশিনগর' কে দেখতে পাই। 'প্রবেশক' ধরে মোট ৪১টি কবিতায় কবি নগর সভ্যতার মুখকে ধরতে চেয়েছেন এই কাব্যে। কবি যেন—"ঈশ্বর সে পথে হেঁটে যান যেতে যেতে দেখতে পান সবুজ গমের ক্ষেত, মিষ্টি ফুল গন্ধ পার হয়ে কোথায় লুকিয়ে পড়লেন পোড়া দুটো প্রান" কবি তো ঈশ্বরেরই প্রতিরূপ, তথা ঈশ্বরেরই আরশি...তাই কবিও যেন লুকিয়ে পড়লেন গ্রাম্যতার ভেতর...জন্মনিলেন আরবান কালচারে... তার 'রূপকথাদের আরশি...

কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা -- নকুল সামন্ত

কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা -- আজও প্রাসঙ্গিক নকুল সামন্ত আমার জীবনাকাশে যে কাব্যানক্ষত্র চিরকাল ধ্রুবতারার মতো ঝিকমিক করে জ্বলছে তার নাম "সঞ্চিতা" ।বিশ্ব সাহিত্যের অনেক অংশ তন্য তন্য করে খুজেঁও এমন অরূপ রতন আর পেলাম না ।এ যেন সেই কল্পতরু যার তলায় বসে যা চাইব ,তাই পাইব । এই গ্রন্থে কবি নজরুলের ধর্মীয় সম্প্রীতি, তারুণ্যের উছ্বাস, শিশুর সাধ, বীরের আবেগ,বিপলবীর গতি, পরাধীন দেশের কথা, দারিদ্র্যের মহানতা প্রভৃতি বিষয় গুলো আমাকে ছুঁয়ে গেছে ।তাই এই কাব্য অমর -অক্ষয়-অব্যয় । বর্তমান সমাজ যে অন্ধকার পথে চলছে, তার থেকে ফিরে আসতে গেলে অবশ্যই সঞ্চিতা বারবার পড়তে হবে এবং অনুসরণ করতে হবে । প্রাথমেই বলি ছাত্রসমাজ যে পথে চলছে- তা বড় ভুলপথ ।আজ ছাত্রসমাজের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি তেমন অনুরাগ নেই , শিক্ষক ও গুরুজন দের প্ৰতি শ্রদ্ধা নেই, পিতামাতার প্ৰতি কর্তব্যবোধ নেই ।আছে কেবল আধুনিক পাশ্চাত্য অনুকরণে জীবনযাপনের ইচ্ছা ।তাই পড়ার নাম করে খুন,অপরাধ, মাদকসেবন, অন্যায় রাজনীতি করে চলেছে ।এই অবস্থায় তাদের ছাত্রদলের গান কবিতাটি পড়তে হবে ।সেখানে কবি তাদের উদ্যেশে বলেছেন তার...

আবর্তন ।। তরুনার্ক লাহা ।। আলোচনাঃ বাবলু কুমার ঘোষাল

          আবর্তন তরুনার্ক লাহা কৃষ্ণসীস প্রকাশন ১২০ টাকা           আবর্তন : চোদ্দ পার্বণী গল্পসংকলন বাবলু কুমার ঘোষাল ছোটগল্প বাংলা সাহিত্যের সম্পদ। প্রতিদিনের জীবন-জীবিকার সংঘাত, প্রতিবাদ ও বিলাস ছোটগল্পের মাধ্যমেই মূর্ত হয়ে ওঠে। ফলে ছোটগল্পের প্রতি পাঠকমাত্রেই বিশেষ আকর্ষণ দেখতে পাওয়া যায়। ব্যক্তি আমিও এর ব্যতিক্রম নই। ফলে কোথাও কোনো ছোটগল্প প্রকাশ পেলেই আদ্যন্ত পড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে, নতুন লেখকের ছোটগল্পের বই বেরোলেই লেখক সম্পর্কে কৌতূহল অধীর হয়ে ওঠে। এভাবেই একদিন গোগ্রাসে পড়ে ফেলেছিলাম তরুনার্ক লাহার 'আবর্তন'। তরুনার্কবাবু নতুন গল্পকার। 'আবর্তন' তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ। প্রথম গ্রন্থ সমালোচনার ক্ষেত্রে দুটি দায় সমালোচককে প্রথমেই স্বীকার করে নিতে হয়। প্রথমত, প্রথম গ্রন্থে লেখকের হাত মকশো করার নানা ছাপ সমালোচককে মেনে নিতে হয়, হয়তো এড়িয়েও যেতে হয়। আর দ্বিতীয়ত, জীবন সম্পর্কে লেখকের সামগ্রিক জীবনদর্শন কোনোভাবেই তাঁর প্রথম গ্রন্থে স্পষ্ট হয় না। কারণ তখন তিনি বিষয় থেকে বিষয়ান্তরে নিজেকে খোঁজার চেষ্টা...

...এবং অস্পৃশ্য হাত।। বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় ।। আলোচকঃ তনুশ্রী পাল

...এবং অস্পৃশ্য হাত: অপূর্ব পাঠ তনুশ্রী পাল সার্থক অণুগল্প রচনা কঠিন সাধনালব্ধ বিষয়ই বটে। আকারে ক্ষুদ্র বলেই তার দায় বেশি।অর্থাৎ ছড়িয়ে ছিটিয়ে শাখা-প্রশাখায় কাহিনী বিন্যাস করে রসগ্রাহী পাঠককে তুষ্ট করার সুযোগ অণুগল্পের আদৌ নেই। পরিসর তার স্বল্প ,বহু চরিত্র বা বিশাল প্রেক্ষাপটে গল্প তো লেখা যাবেনা। প্রতিটি শব্দ ,চরিত্র সুনির্দিষ্ট ও সুপ্রযুক্ত হওয়া চাই । অণুগল্পের আকৃতি ছোটোই হবে কিন্তু এই স্বল্প আয়োজনটুকু সার্থক করে তুলতে হবে গল্পকারকে। সুতরাং প্রতিপদেই তার পরীক্ষা ।খুব দক্ষ শিল্পী ছাড়া কাজটি নেহাতই কঠিন । বড়গল্পকে চেপেচুপে ছোট আকার দিলেই সে অণুগল্প হবে না।বিদগ্ধ পাঠকের চোখে তা ধরা পড়ে যাবে। বেশি ভার অণুগল্প নিতে পারেনা ,অতিকথনে উদ্দেশ্য তার ব্যর্থ হয়ে পড়ে। অণুগলপে গল্পটি থাকতেই হবে ,খুব কম শব্দে বিশেষ কথাটি বলতেই হবে। উপমা দেওয়া যেতে পারে এ ভাবে, ক্ষুদ্র জলাধারে বৃহৎ আকাশের রূপটুকু প্রতিবিম্বিত হওয়াই চাই। আজ্কাল বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় অজস্র অণুগল্প ছাপা হচ্ছে। এখন ভাবার বিষয় সেগুলি সবই কি সার্থক অণুগল্প হয়ে উঠছে?পাঠক বিচার করবেন। হ্যাঁ মোট সাইত্রিশটি গল্পে...

সুকমল দালালের 'সরোবর বাঁধে খরতাপ '।। আলোচনায় প্রতীতি চৌধুরী

 # সরোবর বাঁধে খরতাপ  # সুকমল দালাল 'অনুভূতি'রা বেঁচে থাকবে তাঁর স্বপ্নে, কাব্যে, ভালোবাসায়... প্রতীতি চৌধুরী। 'কবিতা' এই তিন অক্ষরের শব্দটা আমার বড্ড প্রিয়। হয়তো সেই ছোট্ট বেলা থেকে বন্ধুত্ব, খুনসুটি, মান-অভিমান, প্রেম, বিরহ, মন খারাপের বেলা, প্রতিবাদী মনের কথা, ইচ্ছা, ভাবনা, চেতনা সব কিছুই কবিতার মাধ্যমে বরাবর কয়েদ করেছি ডায়েরিতে।কবি সুকমল দালালের সঙ্গে অল্প সময়ে আলাপ লেখা লেখির সূত্রে।বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের ছাত্র।গত বৈশাখে তার একুশের জন্মদিনে কবিতার বই 'সরোবর বাঁধে খরতাপ' প্রকাশিত হয়েছে। শান্তিনিকেতনের 'রুআক' প্রকাশনী থেকে। 'আন্তঃ কবিতাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত-একজন শ্রমিকের বই এটি' ভূমিকাতেই উল্লেখ করেছেন কবি রাহুল ঘোষ।কবিতাগুলি পড়লে মনে হয় সত্যি যেন রুদ্রতেজের কবিতা। বিশ্বভারতীর ছায়াতেই মনে হয় এমন কিছু প্রাণের স্পন্দন রয়েছে, এমন কিছু অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও কাব্যধারা সঞ্চার করতে সক্ষম। বইয়ের প্রতিটা কবিতাই বেশ ভালো। বলা ভালো ছোট্ট বইটিতে ছোটো বড়ো সকলেরই পড়ার উপযোগী কব...

বইঃ মুসলমানের দুর্গাপুজো।। লেখকঃ চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য।। আলোচনাঃ সুদীপ্ত মণ্ডল

# বইঃ মুসলমানের দুর্গাপুজো।। # লেখকঃ চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য।। # প্রকাশকঃ জনস্বার্থ বার্তা। আলোক সন্ধানী বই সুদীপ্ত মণ্ডল প্রকৃত  অর্থে কিছু কিছু ধর্মীয় প্রথা সর্বাঙ্গীণ ভাবে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের মিলন স্থল হয়ে ওঠে। তা নিছক নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রথা থাকে না। তাতে ভিন্ন ধর্মের সংস্কৃতির সাক্ষরও থাকে। আর আমাদের দেশ,বাংলা হিন্দু মুসলমানের যুক্ত সংস্কৃতির ফসল।লেখক চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য গোটা বইটিতে এই কথাই বলার চেষ্টা করেছেন।আজ যখন সারা দেশ উগ্র ধর্মীয় বিদ্বেষ, জাতি সম্প্রাদয়গত বিদ্বেশে মেতে উঠেছে তখন এই বইটি আমাদের আলোকের সন্ধান দেয়। এই বইটি পড়ে জানতে পারি, রাজস্থানের একটি দুর্গাপুজোয় ৬০০ বছর ধরে মুসলমান পুরোহিত পুজো করে আসছেন।এই সেই রাজস্থান যেখানে পদ্মাবতী সিনেমাকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি আমদানী করার চেষ্টা হয়েছে,সেখানে ওখানকার বাগোরিয়ায় দুর্গা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মুসলমান হবেন। তাতে হিন্দু মুসলমান কারোর সমস্যা হয় না। হুগলী জেলার পান্ডুয়ার কাছে বর্ধিষ্ণু গ্রাম জামগ্রাম। সেখানে মাজারে সিন্নি চড়িয়ে তবেই ওখানকার লক্ষী জনার্দন ঠাকুরে...

আই-সোসাইটি ও ‘স্তুতি কবিতা’ ।। আলোচকঃ জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি

  আই-সোসাইটি ও 'স্তুতি কবিতা' জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি অনেকেই প্রশ্ন করছেন, আচ্ছা, আই-সোসাইটি ব‍্যাপারটো ঠিক কী বটেক? কেন? ও কীভাবে? ব‍্যাপারটো একটু বুঝাইয়া বলেন দিকি। এত্তো সহজে ও অল্পে আমি বুঝাইতে লারবো? এখন শুধু স্পষ্ট করে আই-সোসাইটির মূল চিন্তন বা উদ্দেশ‍্য'টা জানিয়ে দিই আপনাদের, বাকি কথা না'হয় পরেই হবেক। সাধারণ ভাবে মানুষ দুই প্রকার, ভালো ও খারাপ। (বাকি ভাগগুলোর প্রয়োজন আছে কী? তুমি হিন্দু না মুসলিম, গরীব ও ধনী ইত্যাদি ইত্যাদির প্রয়োজন কী? আরে মশাই, আপনি মানুষ, that's enough) আরো গভীর গিয়ে লক্ষ্য করলে দেখবেন মানুষ আদতে একপ্রকার'ই এবং তা হলো, ভালো ও খারাপ এনার্জি সমন্বিত একটা চিন্তা স্রোত। একটি মানুষের মধ্যেই বাস করে ভালো ও খারাপ দুটি মানুষ। চামড়া, মাংসের কাঠামোটা তো আসলে মানুষ নয়, মানুষ আসলে মানুষ তার চিন্তনে। যে চিন্তন নিয়ন্ত্রণ করে তার সামগ্রিক কর্মকাণ্ড। আই-চিন্তন বলছে (যা আসলে ভারতীয় সংস্কৃতি তথা সাহিত্যের মূল কথা) আমরা পারি আমাদের মধ্যে বয়ে চলা এই চিন্তা স্রোতকে নিয়ন্ত্রণ করতে, আমরা পারি ক্রমাগত নেগেটিভ এনার্জি'কে বিনষ্ট ...

কবি শঙ্খ ঘোষের গদ্যসংগ্রহ।। আলোচনায় শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস

ধারনাতীত এক সমুদ্র শঙ্খ ***************************************** শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস যেভাবে কবিকে পড়ছি, যতবার পড়ছি,ঠিক ততবারই চোখবন্ধ করলে ভেতরে এক আলোড়ন!..... পরিচয়? কেন পরিচয় চাও প্রভু? ওই ওরা বসে আছে অন্ধকার বনচ্ছায়ে সকলেই ঋদ্ধপরিচয়? বনে ভরে আগুনকুসুৃম-- আপন সোপানে কারা জলস্রোতে দেখেছিল মুখ? বুকে জ্বলে আগুনকুসুম-- আমি যে আমিই এই পরিচয়ে ভরে না হৃদয়? কেন চাও আত্মপরিচয়?.... কবি শঙ্খ ঘোষের জাবাল সত্যকাম কবিতাটির কিছুঅংশ তুলে ধরলাম পাঠকের জন্য। এমন অন্ধকার দিনেইতো শঙ্খ ঘোষকে পড়তে হবে, আর কবি শঙ্খ ঘোষ যখন আক্রান্ত হন, তখন সারা বাংলার কাব্যভুবন আক্রান্ত হয়ে যায়,একথা নির্নিমেষে বলার সময় এসেছে আজ। কবিতার একটি অন্যভুবন আছে।সেই বিশ্বলোক ও গ্রহতারকাখচিত আকাশে আছে রহস্য। আছে কিছু জটিল উপদ্রব! যেমন গরীব,অসংবৃত ও যুধ্যমান। কবি শঙ্খ ঘোষের গদ্য সংগ্রহ এমনই এক যুধ্যমান বই, যা তার প্রিয় ফুলদিকে উৎসর্গীকৃত। কে এই ফুলদি, প্রসঙ্গক্রমে তিনি আসবেন। কিন্তু হতে পারতো বইটির নাম গদ্য সমগ্র। অথচ তা না হয়ে বইটির নাম হলো গদ্য সংগ্রহ। কেন, তা পাঠকের বিষয় হলেও একক ভাবে পাঠকের ওপর...

তপন মুখোপাধ্যায়ের কাব্যগ্রন্থ – ১)কবিতার কাছাকাছি ২)হৃদয় পুরের পদ্যকথা ।। আলোচনাঃ অসীম মালিক

কবি তপন মুখোপাধ্যায়ের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ – ১)কবিতার কাছাকাছি ২)হৃদয় পুরের পদ্যকথা # প্রকাশনায় সোনালী রোদ # গ্রন্থ দুটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন হরিপ্রসাদ মেদ্দা। পাশাপাশি হাঁটার আলাদা উষ্ণতা অসীম মালিক ------------------------------------------------------------------------------ কবিতা কি আদেও হয়ে উঠেছে? এ প্রশ্ন শাশ্বত, প্রত্যেক কবির। দেখার চোখ বা কবিদৃষ্টি হয়ত বা কবিতার গুনগত মানের তারতম্য ঘটায়। তবুও কোনও কবিই তৃপ্ত নন। এর একটাই কারণ, সৌন্দর্যের কোনও প্রান্ত সীমা নেই। সম্প্রতি সোনালী রোদ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে কবি তপন মুখোপাধ্যায়ের 'কবিতার কাছাকাছি' এবং 'হৃদয় পুরের পদ্যকথা' নামক দুটি কাব্যগ্রন্থ। প্রথমেই আসি কবিতার কাছাকাছি 'বইটির আলোচনা প্রসঙ্গে । কবি ভূমিকায় লিখেছেন 'এই বইয়ের মলাটবদ্ধ অক্ষরের সারি কবিতার পর্যায়ভুক্ত হয়েছে কিনা জানি না , তবে 'কবিতা' আর 'না কবিতার' কাছাকাছি পৌঁছতে পেরেছে বলেই আমার বিশ্বাস । 'কবি কতটা কবিতার কাছাকাছি পৌঁছতে পেরেছেন, তা সময়ই পাঠককে দিয়ে বলিয়ে নেবে। যে কোনওকবিতাই তা...

কাব্যগ্রন্হ - কনফিডেন্সিয়াল ডায়েরী কবি - অর্ঘদীপ পানিগ্রাহী ।। পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ পৌলমী দেবনাথ ও কেয়া রায়

কাব্যগ্রন্হ - কনফিডেন্সিয়াল ডায়েরী কবি - অর্ঘদীপ পানিগ্রাহী প্রকাশক - প্রাণেশ ভট্টাচার্য্য প্রকাশনী - ৯ নং সাহিত্য পাড়া লেন মূল্য - তিরিশ টাকা প্রচ্ছদ - সাগরিকা সরকার। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ লেখা পৌলমী দেবনাথ "কনফিডেনসিয়াল ডায়েরী " বইটিতে সর্বমোট ১৩টি কবিতা প্রত্যেকটিতেই কবি নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না | ডায়েরী শুনলেই কেমন যেন গোপনীয়তা কিংবা না বলা কিংবা কিছু প্রতিশ্রুতিবদ্ধ লেখা থাকে. এই কবির কনফিডেনসিয়াল ডায়েরী ও বোধ করি কবির কোনো এক ডায়েরীর পাতা থেকেই উঠে এসেছে...এই বইয়ের মধ্যে থাকা প্রতিটা কবিতাই যেন তার কাউকে না বলা কিছু শব্দগুচ্ছ।" ক্ষ্যাপা কাব্যির প্রেম নিবেদন" আর "তোমাকে ছুঁয়ে ডুবচোরেরা" সে এক আলাদাই লেখনী...এমন সুন্দর ভাষার প্রয়োগ এই সময়ের লেখনীতে কমই দেখা যায়...এছাড়াও "ব্রাত্য ক্ষুধা","বেরঙা প্রচ্ছদ" বইটির অন্য মাত্রায় সৌন্দর্য এনে দেয়।এছাড়াও কিছু এমন কবিতাও আছে যা মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।কোনটা ছেড়ে কোনটা বলি,আসলে সবই প্রিয়,কিছু কিছু বিশেষভাবে ভালোলাগার কবিতা।কিছু কিছু লাইন...

পুরাবর্ত্ম – নতুন সরণী বেয়ে পুরাণের নবনির্মাণ। লেখক শমীক জয় সেনগুপ্ত।।আলোচকঃ দীপা কর্মকার

# পুরাবর্ত্ম – নতুন সরণী বেয়ে পুরাণের নবনির্মাণ। # লেখক শমীক জয় সেনগুপ্ত।  # প্রকাশক – অভিজয় প্রকাশনী। সম-বিসম-উভকামিতা এসবের উর্দ্ধে গিয়ে মানুষের সম্পর্কের কথা    দীপা কর্মকার কলকাতা বইমেলার লিটল ম্যাগাজিন প্যাভেলিওনে ঘুরতে ঘুরতেই হঠাৎ দেখলাম কোন এক নিউজ চ্যানেলে ভদ্রলোক (যদিও দেখে মনে হল খুব বেশী বয়স হলে পঁচিশ বছর হবে) বাইট দিচ্ছেন। প্রসঙ্গ – ভারতীয় পুরাণ মহাকাব্য ও সমকামিতা। সমকামিতা এমনই এক সেক্সুয়াল প্রেফারেন্স বা যৌন চাহিদা যা নিয়ে লোকজন যে প্রকাশ্যে কথা বলে এমন ধারণা আমার ছিল না। অনেকের মতে আমিও ভাবতাম এ জিনিসটা আমাদের দেশে কেন? কিন্তু ছেলেটির কথা বলার মধ্যে এমন এক সততা ছিল যা আমাকে মুগ্ধ করে। চলে যেতে চেয়েও পাশের টেবিলে বই নাড়াচাড়ার অছিলায় দাঁড়াই। শুনি কি বলছে। কথাগুলো যুক্তিসঙ্গত তাও মানতে কেন জানি দ্বিধা হচ্ছিল। চ্যানেলের লোকজন চলে যেতে ওদের স্টলে গেলাম। সপ্তপর্ণ পত্রিকা। আর পাঁচজনের মত ছেলেটি আমাকে বই পত্রিকা এসব দেখাচ্ছিল। আমি সাহস করে ওর ওই মিডিয়াকে বলা কথাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারলাম না। একে আমার ছেলের বয়সী, তায় আমি এই ...

কবি শেখ সামসুল হকের কাব্য "রমণীয় স্বাধীনতা" আলোচকঃ ড. নাসরীন সুলতানা

কবি শেখ সামসুল হকের কাব্য শক্তি ড. নাসরীন সুলতানা কবি শেখ সামসুল হক পারিপাশ্বিকতা থেকে মোহমুক্তি চেয়ে; নিরাসক্তভাবে স্বাধীনতার সুখ অনুভবের সংশ্লেষণের সাথে জাগতিক আবিষ্টতার মন্ময়তা কবিকে সত্যিই স্বাধীনতার সুখ দিয়েছে রমণীয় স্বাধীনতা। রমণীয় স্বাধীনতা কাব্যগ্রন্থে মুক্তির সাধ পেতে মুক্তির আকুলতা যেমন তীব্রতা পায়নি, তেমনি মোহ নির্মোহ দৃষ্টিতে ব্যক্তির স্বাধীনতা দেখেছেন। এ যেন অনেকটা ঘুড়ি খেলা- নাটাই হাতে ঘুড়িকে আকাশে উড়তে দেয়া আবার ঘুড়ির বেশী স্বাধীনতায় বাধা এ যেন দৃশ্য অদৃশ্য খেলা। স্বাধীন সত্তায় সুখ তীব্রতা ছড়ায় না। রমণীয় আমেজে বিভোর থাকে। স্বাধীন হওয়াটা বড় গোলমেলে। এ যেন কবি নিজের কাছে নিজে স্বাধীন। রূপের জগতে মায়ার জগতে মানুষ কি স্বাধীন ? এ যেন কবির ডুব সাঁতার। কবি কবিতা আলোচনা করলে কবিত্ব শক্তির পরিচয় পাওয়া যাবে। 'হেমন্ত স্পর্শে' কবিতায় বাঁজখাই যাপিত জীবনের রমণীয় শরৎ অসীমতার মাঝে চিত্রকল্পে কবি হেমন্তের কাব্যময় সন্ধ্যার বর্ণিল রূপময় জগতের খন্ড খন্ড চিত্র বর্ণনায় হেমন্তের স্নিগ্ধ রূপায়নে প্রাণের অস্তিত্ব যেন ঘোষিত হয়েছে। আর এ প্রানের ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...

গল্প ।। অনুর অপেক্ষা ।। নাজিরুল ইসলাম

অনুর অপেক্ষা  নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর ।। উত্তম ভট্টাচার্য

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর উত্তম ভট্টাচার্য 'দাদা আমি একটু মারব?' ভিড় ঠেলে অল্প বয়সী এক কলেজ ছাত্রীর আর্তি! এবং অনুমতি আদায়ের আগেই একেবারে সপাটে চড়! ঠিক জানোয়ারটার দক্ষিণ গালে। তারপর পরপর ওগালে, এগালে,  দু'গালেই! জানোয়ারটা দেখতে ঠিক মানুষের মত! পকেটে তিনতিনটে দামি কম্পানির পেন, বিদেশি দামি কম্পানির ফুলহাতা শার্ট, প্যান্ট,দামি জুতা পরে জানোয়ারটাকে ঠিক মানুষের মতোই দেখতে লাগছিল। সিস্টেমের ছকে একজন অঙ্কের প্রফেসর! জানোয়ারটার কামনা শক্তি নাকি ভীষন প্রবল। জানোয়ারটা নারীর শরীর পেতে চায়। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন মেয়েমানুষকে নিয়ে মত্ত থাকতে চায় জানোয়ারটা। নিজের পদাধিকার বলে ক্লাসে ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে, কলেজ থেকে বের করে দেবার হুমকি দিয়ে, অশ্লিল ছবি পাঠিয়ে-জানোয়ারটা কামনা শক্তি মেটায়! মেয়েটা তারই কলেজের নির্যাতিতা এক ছাত্রী! হতদরিদ্র ঘর থেকে উঠে আসা অত্যন্ত মেধাবী অসহায় ছাত্রীটা প্রায় প্রতিদিনই জানোয়ারটার শিকার! ...

রমেশ দাসের কবিতা

   বাঙালি মোরা বাঙালি                                                                         বাংলাকে   ভালবাসি বাংলায় কথা বলি বাংলা কবিতা মোদের জীবন। বাংলার নদী নালা বাংলার গাছ পালা বাংলার মাটিতে মোদের মরণ।। বাংলার ঘর মাঠ বাংলার খেত ঘাট বাংলা বাতাস আর সুস্থ জীবন। বাংলার নেওয়া শিক্ষা বাংলার দেওয়া দীক্ষা বাংলাকে ভালোবেসে মোদের রচন।। ভালো লাগে বাংলার পাঠ্য বই পড়তে। ভালো লাগে বাংলার সুরে গান গাইতে।। বাংলা ছাড়া মোরা যে পারিনা কিছু বুঝতে। বাংলার ঋণ এখনও পারিনি শেষ করতে।। মাতা তবুও সম্মতি দেন বিদেশের জ্ঞান নিতে। না মা যাবো মোরা তোমার বাণী দিয়ে ।। বাংলাদেশে জন্ম মোদের বাংলা নিয়ে পড়বো। বাংলার শিক্ষায় মোরা বাংলা পথ চলবো।। বাংলার মধুরতা আদৌ পারিনি শেষ করতে। বাংলার মিলনমেলায় ভালো লাগে লিখতে।। ========================= (   রমেশ দাস,...

প্রবন্ধ রচনা ।। একটি রাজপথের আত্মকথা

একটি রাজপথের আত্মকথা “ওগো পায়ে চলার পথ, অনেক কালের অনেক কথাকে তোমার ধূলিবন্ধনে বেঁধে নীরব করে রেখো না। আমি তোমার ধুলোয় কান পেতে আছি, আমাকে কানে কানে বলো।” —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভূমিকা: আমি রাজপথ, পথিক মানুষের চিরসখা। আমার জন্মের কথা আজও আমার ক্ষীণ মনে পড়ে, তবে এ কথা সত্যি আমার শেষ ঠিকানা কোথায় তা আমিও জানি না। বহু যুগ আগে ঘন জঙ্গলের বুক চিরে মানুষ আমাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। গাছগাছালির ফাঁকে ফাঁকে এই ক্রমাগত চলাতেই তো আমার আনন্দ। এভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়াই তো জীবন। ধুলো-মাটি দিয়ে তৈরি আমার শরীরে কত কাল ধরে কত কিছুর প্রলেপ পড়ল। ক্রমে শক্ত-জমাট হয়ে উঠলাম আমি। মেঠোপথ থেকে আজ আমি রাজপথ। মেঠো ধূলিবন্ধনে নয়, মোরামের মর্মরে নয়, আজ আমার হৃদয়ের সব কথা প্রযুক্তির পীচের নীচে গুমরে গুমরে কাঁদে। হে পথিক, তুমি শুনতে চাও, তাই হৃদয়-উজাড়ি বলব তোমাকে আজ আমার আত্মকথা। আত্মকথা: আমি ই.এম. বাইপাস। উত্তর কলকাতার উল্টোডাঙ্গা থেকে শুরু করে বারুইপুর পুরাতন বাজার পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার আমার বিস্তৃতি। আমি পশ্চিমবঙ্গের একটি অন্যতম প্রধান রাজ্যসড়ক। আমার দু-পাশে কত গাছপালা, কৃষিক্ষেত, কলকারখানা, দোকান, বাড়ি! দিনরাত শত-সহস্র...

তিনটি কবিতা ।। আবুল কালাম তালুকদার

তিনটি কবিতা ।। আবুল কালাম তালুকদার   f‡i _vKyK AvKvk N„Yvq bq fv‡jvevmvq R‡g DVzK wgZvwj AvnZ mg‡q b‡ivg el©‡Y AvmyK cÖkvwšÍ emšÍ w`‡bi g‡Zv KvUzK ev‡iv gvm G‡K Ac‡ii mnvbyf~wZ‡Z f‡i _vKzK †`k mevi Kcv‡j †j‡M _vKzK Avb‡›`i wUc my‡Li cÖ`xc R¦‡j DVzK mevi `ytL N‡i mKv‡ji ‡mvbv †iv‡` f‡i _vK mvivw`‡bi mgq ‡KvZ~nj bq Avb›` D”Qv‡m f‡i _vKzK mevi Ni Sjmv‡bv Av‡jvq f‡i _vKyK mevi AvKvk|   Zzwg mgy‡`ªi g‡Zv A‰_ ü`‡q Avgvi AvKvOÿvi N‡i G‡b‡Qv fv‡jvevmvi e„wó my‡Li bvgZvq Rxe‡bi avivcvZ f‡i‡Qv fv‡jvjvMvi evZv‡m f‡i‡Qv wb:k‡ãi Kÿ iv‡Zi wb¯ÍäZvq G‡b‡Qv †RvbvwKi evmi|   Avn¬v`x Av`‡i nv‡Z nvZ †i‡L wb`viæY my‡L f‡i‡Qv gb k~Y¨Zvi †PŠnÏx‡Z Zz‡j‡Qv my‡Li †`qvj Avuav‡i R¡vwj‡q‡Qv Av‡jvi †ivkbvB em‡šÍi e„wó‡Z gb wfwR‡q nvRv‡iv dz‡ji M‡Ü K‡i‡Qv gvZvj|     Zzwg Kv‡Q Avmvq   Zzwg Kv‡Q G‡j fv‡jvevmvq Av‡m c~Y©Zv emšÍ evZv‡m D‡o gy³ cvwL`j g‡bi K...

মুক্তভাবনা: আবদুস সালাম

 ট্র‍্যাজিক   নায়ক : সুভাষচন্দ্র বসু       দ্বিখণ্ডিত হয়ে স্বাধীন হলো ভারত । ফিরে এলেন না আমাদের যৌবনের প্রতীক নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু।বিমান দুর্ঘটনায়  মৃত্যু কাহিনী দেশময় চাউর হলেও আজও তা আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য।বিমান দুর্ঘটনার কাহিনী তে এতো বেশী ছিদ্র যে অলীক কথকথার জল সহজেই‌ সেখানে ঢুকে  পড়ছে।      এত বড়ো মাপের একজন  নেতার মৃত্যু কাহিনীর তথ্য প্রমাণ  এতো বেশি অকিঞ্চিৎকর যে পরস্পর বিরোধী স্বাক্ষ‍্য এবং গোপনীয়তার চেষ্টা নানা রকম সন্দেহের উদ্রেক করে । জাপানের রনকেজী মন্দিরে অবস্থিত ছাই কাহিনী ও আমাদের মনে বিশ্বাসের তত্ত্ব উপস্থিত করতে পারে না।    বিশ্ববরেণ্য সর্বভারতীয় নেতার প্রতি আমাদের আবেগ, আমাদের আবেগের  উচ্ছলতা স্বাভাবিক ভাবেই উথলে ওঠে।তিনি ছিলেন  একাধারে কবি গুরুর স্নেহ ধন‍্য,চিত্তরঞ্জন দাশের পুত্র তুল‍্য এবং স্বামী বিবেকানন্দের উত্তরসূরী।উচ্ছল তারুণ্যের মূর্ত প্রতীক সুভাষচন্দ্র  বাঙালি জাতিকে সাহস ও তারুণ্যের দীক্ষা দিয়েছেন।ভীরু বাক‍্যবাগীশ বাঙালি জাতি একজন উচ্চ শিক্ষিত, প্র...

আগুনের রঙহীন রঙ ।। রোকেয়া ইসলাম

আগুনের রঙহীন রঙ রোকেয়া ইসলাম দিকবিদিকশুন্য শিউলি দৌড়াচ্ছে , কোলে পাঁচ বছরের মেয়ে। কখনও হোটচ খেয়ে পড়ে যায়, ইটের কোণায় লেগে বুড়ো আঙ্গুল ফেটে রক্ত বের হয়, তবুও দৌড়াতে থাকে শিউলি। গতকালই রুবেল বলেছিল ওদের বেতন হয়নি, মালিক বলেছে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দাম ওঠানামা করছে তাই অর্ডার বাতিল। বারোতলা গার্মেন্টসে আগুন জ্বলে ওঠে। শ্রমিকরা যখন ভেতরে আঁটকে আছে, দরজায় বিদেশি তালা ঝুলছে, চাবিসহ গেট কিপারের দেখা নেই। ভেতরের মানুষগুলো ধোয়ার কুন্ডলিতে আচ্ছন্ন হয়ে হাতড়ে হাতড়ে নাকে মুখে ওরনার আঁচল আর শার্টের কোনা তুলে ধোয়া আঁটকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে। বারো তলার কাচের জানালা বিকট শব্দে ঝুরঝরো হয়ে নিচে পড়ছে। ওদের আর্তচিৎকারে ইউটিউবাররা লাইভ ভিডিওদাতারা দেশি বিদেশি সাংবাদিকরা এলোপাতাড়ি ছবি তুলতে থাকে । এগুলো ওদের সম্পদ। বহু চেষ্টার পর ধোয়ার কুন্ডলী রেখে আগুন নেভে। কিন্তু শিউলির ঘর ভরে থাকে আগুন তাপের রঙে। রুবেল এই বারো তলা গার্মেন্টসের সুপার ভাইজার ছিল। রুবেলকে পাওয়া যায়নি শুধু রুবেলের শরীরের মাপে একটুকরো কয়লা পড়ে ছিল ভেজা ছাইয়ের স্তুপে। মেয়ে প্রায় রাতেই ওর গলা জড়িয়ে বুকের কাছে মুখ নিয়ে বল...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...