Skip to main content

Posts

বহুরৈখিক কাব্যকৈবল্যে সিদ্ধ কবি কুমারেশ তেওয়ারী -- জুবিন ঘোষ

বহুরৈখিক কাব্যকৈবল্যে সিদ্ধ কবি কুমারেশ তেওয়ারী জুবিন ঘোষ কুমারেশ তেওয়ারী যার বহুরৈখিক কবিতায় তীর্যক শব্দসঙ্গম সমসাময়িক কবিতার স্থিতাবস্থাকে ভেঙে কলাকৈবল্যের চূড়ান্ত উচ্চতর বাস্তবে উত্তীর্ণ করেন। এশিয়ার একসময়ের বৃহত্তম সি.সি.আই.এল সাইকেল কারখানার সংলগ্ন কন্যাপুর গ্রামে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে সত্তরের পটসময়ে জন্ম এই কবি তার কৈশোরের প্রথম উপন্যাসের পাণ্ডুলিপিটি দুর্ভাগ্যবশত হারিয়ে ফেললেও সেটাই হয়তো ছিল এখনকার কবিতার প্রস্তুতি। সি.সি.আই.এল সাইকেল হয়তো হারিয়ে গেছে কিন্তু স্পোকের নৈপুণ্যে যেভাবে তার দ্বিচক্র পরিশীলিত ব্যাস বজায় রাখতে পারে ঠিক সেইভাবেই যেন কুমারেশ তার কবিতায় ভাবনা ও কবিতার টোন-টেকনিকগুলোকে স্পোকের মতোই সাজিয়ে কবিতার গঠনশৈলীকে বহুরৈখিকতার বাহান্ন তীর্থে অযান্ত্রিক আহ্বান জানান। বাংলার বহু বাণিজ্যিক-অবাণিজ্যিক পত্রিকায় তার সমসাময়িকদের সংকটের নিমিত্ত হিসেবে বিচরণ করতে করতে ইতোমধ্যেই কবির চারটি কাব্যগ্রন্থ কবি সম্প্রদায়ে তুমুল হট্টগোল পাকিয়ে ফেলেছে আর সেখানেই কবি কুমারেশ এতদিনকার প্যানপ্যানে কাব্যধারাকে অধিদমন করে চিরাচারিত লালিত্য্যের ওভারকোট খুলে আন্ডার-গা...

গল্পের অণু – পরমাণু ---শুক্লা মালাকার

গল্পের অণু – পরমাণু ---শুক্লা মালাকার বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প এক মায়ার জগত। বাঙালীর জীবন সমাজ সংসার হাসি-কান্নার আখ্যান, তার অনুভূতি ছুঁয়ে থাকে গোটা গল্প জুড়ে। পড়তে পড়তে হটাৎ করে শেষ হয়ে গেলেও থেকে যায় অন্য এক রেশ, শেষ না হওয়া এক আবেশ। ছোটগল্প সম্পর্কে বলতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন- অন্তরে অতৃপ্তি রবে/ সাঙ্গ করি মনে হবে/ শেষ হয়ে হইল না শেষ এই রবীন্দ্রনাথ ই একসময় ছোটতর গল্প লেখা শুরু করলেন। ১৩২৯ সালে তার 'লিপিকা' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। প্রথম শোক, পট, নতুন পুতুল, এমন আরো অনেক ছোটতর গল্প নিয়ে প্রকাশিত এই গ্রন্থ গল্প লিখিয়েদের সামনে নতুন এক আঙ্গিক তুলে ধরে। এরপর আরো অনেক লেখক নানাভাবে ছোটতর গল্প লেখা শুরু করেন। এই ছোটতর গল্প ক্রমে মেদ ঝরিয়ে আরো রোগাটে হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে রহস্যময়ী হল। তার গঠন হল সাংকেতিক। ছোটতর থেকে ছোটতম হতে হতে কয়েক দশকের মধ্যেই অনুগল্প নামে চিহ্নিত হল। মাত্র কয়েকটি বাক্যে লেখা নতুন আঙ্গিকের এই গল্পের অনু অনেকটা দীর্ঘশ্বাসের মতো। শুরু করে শেষ করার মধ্যে বুকের বাতাস হুস করে বেরিয়ে যায়। পড়া হয়ে গেলে অদ্ভুত এক বাতুলতার অনুভূতি হয় যা অস্তিত...

রিম্পা নাথের কাব্য: এপিসেন্ট্রিক্যাল@ব্যক্তিগত ।। আলোচনা: সংস্কৃতি ব্যানার্জী

কাব্য: এপিসেন্ট্রিক্যাল@ব্যক্তিগত কবি - রিম্পা নাথ প্রকাশনা - বার্তা প্রকাশন প্রচ্ছদ - কৃষ্ণেন্দু মন্ডল মূল্য - পনেরো টাকা এক নব্যপন্হী কাব্যিক মননের প্রকাশ সংস্কৃতি ব্যানার্জী " তৃষ্ণার গলায় আঙুল দিয়ে আমি যখন মা'কে জড়াই দেখি জল। আলো মাটি লুকোচুরি খেলে মায়ের আঁচলের ঠিক উপরিভাগটাই "... 'পৃথিবী মা' নামক কবিতায় এমনই সহজ সত্যকে কবিতা করে তুলেছেন নতুন প্রজন্মের কবি রিম্পা নাথ তাঁর এপিসেন্ট্রিক্যাল @ব্যক্তিগত কাব্য গ্রন্থে। প্রথাভাঙা কাব্য ভাষায় সুনিপূন ভাবে জীবনের ভেতর ও নৈঃশব্দের কথা ফুটিয়ে তুলেছেন লেখায়। "মালিশে নজরে প্লাসটার সভ্যতা ,নাইট্রিক বৃষ্টিতে ভবিষ্যত শুয়ে"...তাঁর 'স-সভ্যতা' কবিতাটির মধ্য দিয়ে এক ভিন্নতর দর্শনের সন্ধান পেয়েছেন পাঠক। সামাজিক টানাপোড়েন, আবেগ অনুভূতি , অস্তিত্বের ভাবনা সবকিছু দিয়ে কবি তার শব্দচিত্র তৈরি করেছেন।এক অনন্য মাত্রা যোগ হয়েছে যেখানে তিনি বলছেন, "রোজ একটু জোৎস্না খাই"।প্রতিটি লেখার ভিতর নিজেকে ভেঙেছেন রিম্পা। বলছেন "মাথার মধ্যে গুঁড়ো গুঁড়ো চারা জন...

বিক্ষুব্ধ এ ভারত ।। রণেশ রায় ।।পর্যালোচনা : নির্মল ব্রহ্মচারী (নরওয়ে)

  বই: বিক্ষুব্ধ এ ভারত গ্রন্থকার: রণেশ রায় প্রকাশক: আন্তর্জাতিক প্রকাশন প্রকাশ: ডিসেম্বর 2017 মূল্য: 130 টাকা          বিক্ষুব্ধ এ ভারত ---- সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা নির্মল ব্রহ্মচারী (নরওয়ে) আন্তর্জাতিক প্রকাশন প্রকাশিত বিক্ষুব্ধ এই ভারত নামে রণেশ রায়ের লেখা বইটি তথ্য ও তত্ত্বের এক অসাধারণ সমন্বয়। সাবলীল ভঙ্গিতে কঠিন তত্ত্বের বিশ্লেষণ যেমন বিষয়কে সহজবোদ্ধ করে তুলেছে তেমনি পরিসংখ্যান তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে তুলতে সমর্থ হয়েছে । প্রবন্ধে কবিতার ব্যবহার এমন একটা গুরুগম্ভীর বিষয় পাঠকে মনোগ্রাহী করে তোলে। এগারোটি পরিচ্ছদে লেখা এই বইটিতে আদিবাসী অঞ্চলে যে বিপুল খনিজ সম্পদ তার বিশদ হিসেব দিয়েছেন লেখক। অপূর্ব নিপুণতায় তুলে ধরেছেন আজকের নয়া সাম্রাজ্যবাদের স্বরূপটা। আর এই খনিজ সম্পদের ওপর দখল নিতে এসে ঝাঁপিয়ে পড়েছে কর্পোরেট দুনিয়া, সরকার তাদের সহায়ক। আদিবাসীদের উচ্ছেদ যোজ্ঞ চলছে অবাধে। এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে আদিবাসী সমাজ। আদিবাসী অভ্যুথ্যানের যেন এক গাঁথা রচিত হয়েছে বইটিতে । জীবনজিবিকার শ্রেনিযুদ্ধের সঙ্গে পরিবেশ ও প্রযুক্তি...

• সুজাতা ও হেমন্তকালীন কবিতা গুচ্ছ / উপানন্দ ধবল ।। পাঠ প্রতিক্রিয়া : শৈলেন চৌনী

• বইঃ সুজাতা ও হেমন্তকালীন কবিতা গুচ্ছ কবিঃ উপানন্দ ধবল প্রকাশক - কবিতা দশদিনে প্রচ্ছদ/ ব্লার্ব - নয়ন রায় মূল্য - ৩০ টাকা এক অন্য স্বরের কবিতা   শৈলেন চৌনী ▪কাল্পনিক অথবা খুব সাক্ষ্যাৎ, কবি নিজের আড়মোড় ভেঙে স্ব-মহিমায়, ঐকান্তিক স্পৃহায় আটপৌরে যাপনের ভাবাবেগ সম্বলিত করে আমাদের উপহার দিয়েছেন এক অন্য স্বরের কবিতা, অন্য মাত্রার কবিতা। বইয়ের সর্বত্র শুধু সুজাতা এবং সুজাতা! কে এই সুজাতা? পদবী কী? কী চায় কবির কাছে? আর কবিই বা কেন মনোরথে চড়ে পাড়ি দিতে চান উদ্ভ্রান্তের পথে? উপানন্দ ধবলের 'সুজাতা ও হেমন্তকালীন কবিতা গুচ্ছ' কবিতা সংকলন টি পড়ে এমনই আগ্রহ এবং কৌতুহল জন্মেছে। বইয়ের পনেরোটি কবিতা জুড়ে কবি কেবলমাত্র লিখেছেন তাঁর কল্পনাপ্রসূত ভাবনা, নিজের বিষন্ন অথবা স্মৃতিভরা সুখ মুহূর্তের কথা, সাথে বাদ যায়নি আঞ্চলিক উপভাষার মহিমাও, দেখুন —"তবু জাড় কাটানোর লীনতাপ রয়ে গেছে বাকি"।কবিতায় বিশেষ করে আঞ্চলিক ভাষার উপমা কমই দৃষ্টিগোচর হয়, হয়তো বা কেউ কেউ সর্বসাধারনের বোধগম্যতাকে লক্ষ্য করে বাদ দেন, তবুও আঞ্চলিক শব্দ, ...

"দশমিক" (অণুগল্প সংকলন) সোমনাথ বেনিয়া।। আলোচনা-- অমিত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়

  দশমিক: এক অনবদ‍্য সৃষ্টি -- অমিত বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় প্রখ‍্যাত সাহিত‍্যিক সোমনাথ বেনিয়ার "দশমিক" একটি অণুগল্পের সংকলন। উড়ান প্রকাশনের হাত ধরে এই ব‌ইটি প্রকাশ পেয়েছে। ব‌ইটি তার গর্ভে রেখেছে ২৬টি অণুগল্পকে। বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে তুলে আনা এক একটি গল্পের চরিত্র সামাজিক চিত্রটা খুব প্রাঞ্জল ভাবে মেলে ধরেছে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে "দশমিক" একটি জীবন দর্শন তুলে ধরেছে পাঠকের সামনে। ব‌ইটির প্রথম গল্প 'চিংড়ি' যেমন সম্পর্কের গাঢ়ত্বের উজ্জ্বলতা ছড়িয়ে দিয়েছে পাঠকের মনে, ঠিক তেমন‌ই ব‌ইটির শেষ গল্প 'বিশ্বাস' একটি সামাজিক দর্পণ হিসাবে পাঠককে রোমাঞ্চিত করে। এছাড়াও যে গল্পটির নামে এই ব‌ইটির নামকরণ হয়েছে সেই 'দশমিক' গল্পটিও নিঃসন্দেহে বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে। এছাড়াও 'দোসর', 'বীজ', 'নৌকা', 'দুধ', 'সাইকেল' এরকম আর‌ও অনেক অণুগল্পের মাধ‍্যমে সোমনাথ বাবু পাঠকের মন ছুঁয়ে নিয়েছেন। প্রত‍্যেকটি অণুগল্প‌ই এককথায় অসাধারণ। "দশমিক" হলো আমার তোমার কথা। প্রত‍্যেকটি গল্প প্রতি নিয়ত ঘটে যাওয়...

রূপকথাদের আরশিনগর(কাব্যগ্রন্থ) ।। দেবাশিস তেওয়ারি ।। গ্রন্থালোচনায়--অনিন্দ্যকেতন গোস্বামী

রূপকথাদের আরশিনগর (কাব্যগ্রন্থ) দেবাশিস তেওয়ারি  প্রকাশকঃ পত্রলেখা।  দাম ৫০ টাকা।  প্রকাশকাল ২০১৩।  বৃত্তালোকের বাইরে অনিন্দ্যকেতন গোস্বামী  বাংলাদেশের বিখ্যাত কবি মহাদেব সাহা তাঁর "এই গৃহ এই সন্ন্যাস" কাব্যগ্রন্থে 'আমার দুঃখগুলি' কবিতায় একজায়গায় বলেছেন— "—ইচ্ছার বীজানুগুলি ঘামপুরে ছেড়ে দিই, অথবা আরেকটু হেঁটে চলে যাই জনাকীর্ণ নগরে মোড়ে কিছুক্ষণ জাদুর ভেল্কি ছুঁয়ে সানন্দে ডুগডুগি বাজাই" এই রকম নগরের ঘ্রাণ এবং নাগরিক সভ্য সমাজের কিছু ছবি এবং বিপুল ইংরেজি শব্দের উৎসারে কবি দেবাশিস তেওয়ারির কাব্যগ্রন্থ 'রূপকথাদের আরশিনগর' কে দেখতে পাই। 'প্রবেশক' ধরে মোট ৪১টি কবিতায় কবি নগর সভ্যতার মুখকে ধরতে চেয়েছেন এই কাব্যে। কবি যেন—"ঈশ্বর সে পথে হেঁটে যান যেতে যেতে দেখতে পান সবুজ গমের ক্ষেত, মিষ্টি ফুল গন্ধ পার হয়ে কোথায় লুকিয়ে পড়লেন পোড়া দুটো প্রান" কবি তো ঈশ্বরেরই প্রতিরূপ, তথা ঈশ্বরেরই আরশি...তাই কবিও যেন লুকিয়ে পড়লেন গ্রাম্যতার ভেতর...জন্মনিলেন আরবান কালচারে... তার 'রূপকথাদের আরশি...

কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা -- নকুল সামন্ত

কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা -- আজও প্রাসঙ্গিক নকুল সামন্ত আমার জীবনাকাশে যে কাব্যানক্ষত্র চিরকাল ধ্রুবতারার মতো ঝিকমিক করে জ্বলছে তার নাম "সঞ্চিতা" ।বিশ্ব সাহিত্যের অনেক অংশ তন্য তন্য করে খুজেঁও এমন অরূপ রতন আর পেলাম না ।এ যেন সেই কল্পতরু যার তলায় বসে যা চাইব ,তাই পাইব । এই গ্রন্থে কবি নজরুলের ধর্মীয় সম্প্রীতি, তারুণ্যের উছ্বাস, শিশুর সাধ, বীরের আবেগ,বিপলবীর গতি, পরাধীন দেশের কথা, দারিদ্র্যের মহানতা প্রভৃতি বিষয় গুলো আমাকে ছুঁয়ে গেছে ।তাই এই কাব্য অমর -অক্ষয়-অব্যয় । বর্তমান সমাজ যে অন্ধকার পথে চলছে, তার থেকে ফিরে আসতে গেলে অবশ্যই সঞ্চিতা বারবার পড়তে হবে এবং অনুসরণ করতে হবে । প্রাথমেই বলি ছাত্রসমাজ যে পথে চলছে- তা বড় ভুলপথ ।আজ ছাত্রসমাজের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি তেমন অনুরাগ নেই , শিক্ষক ও গুরুজন দের প্ৰতি শ্রদ্ধা নেই, পিতামাতার প্ৰতি কর্তব্যবোধ নেই ।আছে কেবল আধুনিক পাশ্চাত্য অনুকরণে জীবনযাপনের ইচ্ছা ।তাই পড়ার নাম করে খুন,অপরাধ, মাদকসেবন, অন্যায় রাজনীতি করে চলেছে ।এই অবস্থায় তাদের ছাত্রদলের গান কবিতাটি পড়তে হবে ।সেখানে কবি তাদের উদ্যেশে বলেছেন তার...

আবর্তন ।। তরুনার্ক লাহা ।। আলোচনাঃ বাবলু কুমার ঘোষাল

          আবর্তন তরুনার্ক লাহা কৃষ্ণসীস প্রকাশন ১২০ টাকা           আবর্তন : চোদ্দ পার্বণী গল্পসংকলন বাবলু কুমার ঘোষাল ছোটগল্প বাংলা সাহিত্যের সম্পদ। প্রতিদিনের জীবন-জীবিকার সংঘাত, প্রতিবাদ ও বিলাস ছোটগল্পের মাধ্যমেই মূর্ত হয়ে ওঠে। ফলে ছোটগল্পের প্রতি পাঠকমাত্রেই বিশেষ আকর্ষণ দেখতে পাওয়া যায়। ব্যক্তি আমিও এর ব্যতিক্রম নই। ফলে কোথাও কোনো ছোটগল্প প্রকাশ পেলেই আদ্যন্ত পড়ে ফেলতে ইচ্ছে করে, নতুন লেখকের ছোটগল্পের বই বেরোলেই লেখক সম্পর্কে কৌতূহল অধীর হয়ে ওঠে। এভাবেই একদিন গোগ্রাসে পড়ে ফেলেছিলাম তরুনার্ক লাহার 'আবর্তন'। তরুনার্কবাবু নতুন গল্পকার। 'আবর্তন' তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ। প্রথম গ্রন্থ সমালোচনার ক্ষেত্রে দুটি দায় সমালোচককে প্রথমেই স্বীকার করে নিতে হয়। প্রথমত, প্রথম গ্রন্থে লেখকের হাত মকশো করার নানা ছাপ সমালোচককে মেনে নিতে হয়, হয়তো এড়িয়েও যেতে হয়। আর দ্বিতীয়ত, জীবন সম্পর্কে লেখকের সামগ্রিক জীবনদর্শন কোনোভাবেই তাঁর প্রথম গ্রন্থে স্পষ্ট হয় না। কারণ তখন তিনি বিষয় থেকে বিষয়ান্তরে নিজেকে খোঁজার চেষ্টা...

...এবং অস্পৃশ্য হাত।। বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় ।। আলোচকঃ তনুশ্রী পাল

...এবং অস্পৃশ্য হাত: অপূর্ব পাঠ তনুশ্রী পাল সার্থক অণুগল্প রচনা কঠিন সাধনালব্ধ বিষয়ই বটে। আকারে ক্ষুদ্র বলেই তার দায় বেশি।অর্থাৎ ছড়িয়ে ছিটিয়ে শাখা-প্রশাখায় কাহিনী বিন্যাস করে রসগ্রাহী পাঠককে তুষ্ট করার সুযোগ অণুগল্পের আদৌ নেই। পরিসর তার স্বল্প ,বহু চরিত্র বা বিশাল প্রেক্ষাপটে গল্প তো লেখা যাবেনা। প্রতিটি শব্দ ,চরিত্র সুনির্দিষ্ট ও সুপ্রযুক্ত হওয়া চাই । অণুগল্পের আকৃতি ছোটোই হবে কিন্তু এই স্বল্প আয়োজনটুকু সার্থক করে তুলতে হবে গল্পকারকে। সুতরাং প্রতিপদেই তার পরীক্ষা ।খুব দক্ষ শিল্পী ছাড়া কাজটি নেহাতই কঠিন । বড়গল্পকে চেপেচুপে ছোট আকার দিলেই সে অণুগল্প হবে না।বিদগ্ধ পাঠকের চোখে তা ধরা পড়ে যাবে। বেশি ভার অণুগল্প নিতে পারেনা ,অতিকথনে উদ্দেশ্য তার ব্যর্থ হয়ে পড়ে। অণুগলপে গল্পটি থাকতেই হবে ,খুব কম শব্দে বিশেষ কথাটি বলতেই হবে। উপমা দেওয়া যেতে পারে এ ভাবে, ক্ষুদ্র জলাধারে বৃহৎ আকাশের রূপটুকু প্রতিবিম্বিত হওয়াই চাই। আজ্কাল বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় অজস্র অণুগল্প ছাপা হচ্ছে। এখন ভাবার বিষয় সেগুলি সবই কি সার্থক অণুগল্প হয়ে উঠছে?পাঠক বিচার করবেন। হ্যাঁ মোট সাইত্রিশটি গল্পে...

সুকমল দালালের 'সরোবর বাঁধে খরতাপ '।। আলোচনায় প্রতীতি চৌধুরী

 # সরোবর বাঁধে খরতাপ  # সুকমল দালাল 'অনুভূতি'রা বেঁচে থাকবে তাঁর স্বপ্নে, কাব্যে, ভালোবাসায়... প্রতীতি চৌধুরী। 'কবিতা' এই তিন অক্ষরের শব্দটা আমার বড্ড প্রিয়। হয়তো সেই ছোট্ট বেলা থেকে বন্ধুত্ব, খুনসুটি, মান-অভিমান, প্রেম, বিরহ, মন খারাপের বেলা, প্রতিবাদী মনের কথা, ইচ্ছা, ভাবনা, চেতনা সব কিছুই কবিতার মাধ্যমে বরাবর কয়েদ করেছি ডায়েরিতে।কবি সুকমল দালালের সঙ্গে অল্প সময়ে আলাপ লেখা লেখির সূত্রে।বিশ্বভারতীর বাংলা বিভাগের ছাত্র।গত বৈশাখে তার একুশের জন্মদিনে কবিতার বই 'সরোবর বাঁধে খরতাপ' প্রকাশিত হয়েছে। শান্তিনিকেতনের 'রুআক' প্রকাশনী থেকে। 'আন্তঃ কবিতাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত-একজন শ্রমিকের বই এটি' ভূমিকাতেই উল্লেখ করেছেন কবি রাহুল ঘোষ।কবিতাগুলি পড়লে মনে হয় সত্যি যেন রুদ্রতেজের কবিতা। বিশ্বভারতীর ছায়াতেই মনে হয় এমন কিছু প্রাণের স্পন্দন রয়েছে, এমন কিছু অলৌকিক ক্ষমতা রয়েছে যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও কাব্যধারা সঞ্চার করতে সক্ষম। বইয়ের প্রতিটা কবিতাই বেশ ভালো। বলা ভালো ছোট্ট বইটিতে ছোটো বড়ো সকলেরই পড়ার উপযোগী কব...

বইঃ মুসলমানের দুর্গাপুজো।। লেখকঃ চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য।। আলোচনাঃ সুদীপ্ত মণ্ডল

# বইঃ মুসলমানের দুর্গাপুজো।। # লেখকঃ চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য।। # প্রকাশকঃ জনস্বার্থ বার্তা। আলোক সন্ধানী বই সুদীপ্ত মণ্ডল প্রকৃত  অর্থে কিছু কিছু ধর্মীয় প্রথা সর্বাঙ্গীণ ভাবে জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষের মিলন স্থল হয়ে ওঠে। তা নিছক নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রথা থাকে না। তাতে ভিন্ন ধর্মের সংস্কৃতির সাক্ষরও থাকে। আর আমাদের দেশ,বাংলা হিন্দু মুসলমানের যুক্ত সংস্কৃতির ফসল।লেখক চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য গোটা বইটিতে এই কথাই বলার চেষ্টা করেছেন।আজ যখন সারা দেশ উগ্র ধর্মীয় বিদ্বেষ, জাতি সম্প্রাদয়গত বিদ্বেশে মেতে উঠেছে তখন এই বইটি আমাদের আলোকের সন্ধান দেয়। এই বইটি পড়ে জানতে পারি, রাজস্থানের একটি দুর্গাপুজোয় ৬০০ বছর ধরে মুসলমান পুরোহিত পুজো করে আসছেন।এই সেই রাজস্থান যেখানে পদ্মাবতী সিনেমাকে কেন্দ্র করে বিভাজনের রাজনীতি আমদানী করার চেষ্টা হয়েছে,সেখানে ওখানকার বাগোরিয়ায় দুর্গা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত মুসলমান হবেন। তাতে হিন্দু মুসলমান কারোর সমস্যা হয় না। হুগলী জেলার পান্ডুয়ার কাছে বর্ধিষ্ণু গ্রাম জামগ্রাম। সেখানে মাজারে সিন্নি চড়িয়ে তবেই ওখানকার লক্ষী জনার্দন ঠাকুরে...

আই-সোসাইটি ও ‘স্তুতি কবিতা’ ।। আলোচকঃ জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি

  আই-সোসাইটি ও 'স্তুতি কবিতা' জ‍্যোতির্ময় মুখার্জি অনেকেই প্রশ্ন করছেন, আচ্ছা, আই-সোসাইটি ব‍্যাপারটো ঠিক কী বটেক? কেন? ও কীভাবে? ব‍্যাপারটো একটু বুঝাইয়া বলেন দিকি। এত্তো সহজে ও অল্পে আমি বুঝাইতে লারবো? এখন শুধু স্পষ্ট করে আই-সোসাইটির মূল চিন্তন বা উদ্দেশ‍্য'টা জানিয়ে দিই আপনাদের, বাকি কথা না'হয় পরেই হবেক। সাধারণ ভাবে মানুষ দুই প্রকার, ভালো ও খারাপ। (বাকি ভাগগুলোর প্রয়োজন আছে কী? তুমি হিন্দু না মুসলিম, গরীব ও ধনী ইত্যাদি ইত্যাদির প্রয়োজন কী? আরে মশাই, আপনি মানুষ, that's enough) আরো গভীর গিয়ে লক্ষ্য করলে দেখবেন মানুষ আদতে একপ্রকার'ই এবং তা হলো, ভালো ও খারাপ এনার্জি সমন্বিত একটা চিন্তা স্রোত। একটি মানুষের মধ্যেই বাস করে ভালো ও খারাপ দুটি মানুষ। চামড়া, মাংসের কাঠামোটা তো আসলে মানুষ নয়, মানুষ আসলে মানুষ তার চিন্তনে। যে চিন্তন নিয়ন্ত্রণ করে তার সামগ্রিক কর্মকাণ্ড। আই-চিন্তন বলছে (যা আসলে ভারতীয় সংস্কৃতি তথা সাহিত্যের মূল কথা) আমরা পারি আমাদের মধ্যে বয়ে চলা এই চিন্তা স্রোতকে নিয়ন্ত্রণ করতে, আমরা পারি ক্রমাগত নেগেটিভ এনার্জি'কে বিনষ্ট ...

কবি শঙ্খ ঘোষের গদ্যসংগ্রহ।। আলোচনায় শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস

ধারনাতীত এক সমুদ্র শঙ্খ ***************************************** শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস যেভাবে কবিকে পড়ছি, যতবার পড়ছি,ঠিক ততবারই চোখবন্ধ করলে ভেতরে এক আলোড়ন!..... পরিচয়? কেন পরিচয় চাও প্রভু? ওই ওরা বসে আছে অন্ধকার বনচ্ছায়ে সকলেই ঋদ্ধপরিচয়? বনে ভরে আগুনকুসুৃম-- আপন সোপানে কারা জলস্রোতে দেখেছিল মুখ? বুকে জ্বলে আগুনকুসুম-- আমি যে আমিই এই পরিচয়ে ভরে না হৃদয়? কেন চাও আত্মপরিচয়?.... কবি শঙ্খ ঘোষের জাবাল সত্যকাম কবিতাটির কিছুঅংশ তুলে ধরলাম পাঠকের জন্য। এমন অন্ধকার দিনেইতো শঙ্খ ঘোষকে পড়তে হবে, আর কবি শঙ্খ ঘোষ যখন আক্রান্ত হন, তখন সারা বাংলার কাব্যভুবন আক্রান্ত হয়ে যায়,একথা নির্নিমেষে বলার সময় এসেছে আজ। কবিতার একটি অন্যভুবন আছে।সেই বিশ্বলোক ও গ্রহতারকাখচিত আকাশে আছে রহস্য। আছে কিছু জটিল উপদ্রব! যেমন গরীব,অসংবৃত ও যুধ্যমান। কবি শঙ্খ ঘোষের গদ্য সংগ্রহ এমনই এক যুধ্যমান বই, যা তার প্রিয় ফুলদিকে উৎসর্গীকৃত। কে এই ফুলদি, প্রসঙ্গক্রমে তিনি আসবেন। কিন্তু হতে পারতো বইটির নাম গদ্য সমগ্র। অথচ তা না হয়ে বইটির নাম হলো গদ্য সংগ্রহ। কেন, তা পাঠকের বিষয় হলেও একক ভাবে পাঠকের ওপর...

তপন মুখোপাধ্যায়ের কাব্যগ্রন্থ – ১)কবিতার কাছাকাছি ২)হৃদয় পুরের পদ্যকথা ।। আলোচনাঃ অসীম মালিক

কবি তপন মুখোপাধ্যায়ের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ – ১)কবিতার কাছাকাছি ২)হৃদয় পুরের পদ্যকথা # প্রকাশনায় সোনালী রোদ # গ্রন্থ দুটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন হরিপ্রসাদ মেদ্দা। পাশাপাশি হাঁটার আলাদা উষ্ণতা অসীম মালিক ------------------------------------------------------------------------------ কবিতা কি আদেও হয়ে উঠেছে? এ প্রশ্ন শাশ্বত, প্রত্যেক কবির। দেখার চোখ বা কবিদৃষ্টি হয়ত বা কবিতার গুনগত মানের তারতম্য ঘটায়। তবুও কোনও কবিই তৃপ্ত নন। এর একটাই কারণ, সৌন্দর্যের কোনও প্রান্ত সীমা নেই। সম্প্রতি সোনালী রোদ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে কবি তপন মুখোপাধ্যায়ের 'কবিতার কাছাকাছি' এবং 'হৃদয় পুরের পদ্যকথা' নামক দুটি কাব্যগ্রন্থ। প্রথমেই আসি কবিতার কাছাকাছি 'বইটির আলোচনা প্রসঙ্গে । কবি ভূমিকায় লিখেছেন 'এই বইয়ের মলাটবদ্ধ অক্ষরের সারি কবিতার পর্যায়ভুক্ত হয়েছে কিনা জানি না , তবে 'কবিতা' আর 'না কবিতার' কাছাকাছি পৌঁছতে পেরেছে বলেই আমার বিশ্বাস । 'কবি কতটা কবিতার কাছাকাছি পৌঁছতে পেরেছেন, তা সময়ই পাঠককে দিয়ে বলিয়ে নেবে। যে কোনওকবিতাই তা...

কাব্যগ্রন্হ - কনফিডেন্সিয়াল ডায়েরী কবি - অর্ঘদীপ পানিগ্রাহী ।। পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ পৌলমী দেবনাথ ও কেয়া রায়

কাব্যগ্রন্হ - কনফিডেন্সিয়াল ডায়েরী কবি - অর্ঘদীপ পানিগ্রাহী প্রকাশক - প্রাণেশ ভট্টাচার্য্য প্রকাশনী - ৯ নং সাহিত্য পাড়া লেন মূল্য - তিরিশ টাকা প্রচ্ছদ - সাগরিকা সরকার। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ লেখা পৌলমী দেবনাথ "কনফিডেনসিয়াল ডায়েরী " বইটিতে সর্বমোট ১৩টি কবিতা প্রত্যেকটিতেই কবি নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না | ডায়েরী শুনলেই কেমন যেন গোপনীয়তা কিংবা না বলা কিংবা কিছু প্রতিশ্রুতিবদ্ধ লেখা থাকে. এই কবির কনফিডেনসিয়াল ডায়েরী ও বোধ করি কবির কোনো এক ডায়েরীর পাতা থেকেই উঠে এসেছে...এই বইয়ের মধ্যে থাকা প্রতিটা কবিতাই যেন তার কাউকে না বলা কিছু শব্দগুচ্ছ।" ক্ষ্যাপা কাব্যির প্রেম নিবেদন" আর "তোমাকে ছুঁয়ে ডুবচোরেরা" সে এক আলাদাই লেখনী...এমন সুন্দর ভাষার প্রয়োগ এই সময়ের লেখনীতে কমই দেখা যায়...এছাড়াও "ব্রাত্য ক্ষুধা","বেরঙা প্রচ্ছদ" বইটির অন্য মাত্রায় সৌন্দর্য এনে দেয়।এছাড়াও কিছু এমন কবিতাও আছে যা মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।কোনটা ছেড়ে কোনটা বলি,আসলে সবই প্রিয়,কিছু কিছু বিশেষভাবে ভালোলাগার কবিতা।কিছু কিছু লাইন...

পুরাবর্ত্ম – নতুন সরণী বেয়ে পুরাণের নবনির্মাণ। লেখক শমীক জয় সেনগুপ্ত।।আলোচকঃ দীপা কর্মকার

# পুরাবর্ত্ম – নতুন সরণী বেয়ে পুরাণের নবনির্মাণ। # লেখক শমীক জয় সেনগুপ্ত।  # প্রকাশক – অভিজয় প্রকাশনী। সম-বিসম-উভকামিতা এসবের উর্দ্ধে গিয়ে মানুষের সম্পর্কের কথা    দীপা কর্মকার কলকাতা বইমেলার লিটল ম্যাগাজিন প্যাভেলিওনে ঘুরতে ঘুরতেই হঠাৎ দেখলাম কোন এক নিউজ চ্যানেলে ভদ্রলোক (যদিও দেখে মনে হল খুব বেশী বয়স হলে পঁচিশ বছর হবে) বাইট দিচ্ছেন। প্রসঙ্গ – ভারতীয় পুরাণ মহাকাব্য ও সমকামিতা। সমকামিতা এমনই এক সেক্সুয়াল প্রেফারেন্স বা যৌন চাহিদা যা নিয়ে লোকজন যে প্রকাশ্যে কথা বলে এমন ধারণা আমার ছিল না। অনেকের মতে আমিও ভাবতাম এ জিনিসটা আমাদের দেশে কেন? কিন্তু ছেলেটির কথা বলার মধ্যে এমন এক সততা ছিল যা আমাকে মুগ্ধ করে। চলে যেতে চেয়েও পাশের টেবিলে বই নাড়াচাড়ার অছিলায় দাঁড়াই। শুনি কি বলছে। কথাগুলো যুক্তিসঙ্গত তাও মানতে কেন জানি দ্বিধা হচ্ছিল। চ্যানেলের লোকজন চলে যেতে ওদের স্টলে গেলাম। সপ্তপর্ণ পত্রিকা। আর পাঁচজনের মত ছেলেটি আমাকে বই পত্রিকা এসব দেখাচ্ছিল। আমি সাহস করে ওর ওই মিডিয়াকে বলা কথাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারলাম না। একে আমার ছেলের বয়সী, তায় আমি এই ...

কবি শেখ সামসুল হকের কাব্য "রমণীয় স্বাধীনতা" আলোচকঃ ড. নাসরীন সুলতানা

কবি শেখ সামসুল হকের কাব্য শক্তি ড. নাসরীন সুলতানা কবি শেখ সামসুল হক পারিপাশ্বিকতা থেকে মোহমুক্তি চেয়ে; নিরাসক্তভাবে স্বাধীনতার সুখ অনুভবের সংশ্লেষণের সাথে জাগতিক আবিষ্টতার মন্ময়তা কবিকে সত্যিই স্বাধীনতার সুখ দিয়েছে রমণীয় স্বাধীনতা। রমণীয় স্বাধীনতা কাব্যগ্রন্থে মুক্তির সাধ পেতে মুক্তির আকুলতা যেমন তীব্রতা পায়নি, তেমনি মোহ নির্মোহ দৃষ্টিতে ব্যক্তির স্বাধীনতা দেখেছেন। এ যেন অনেকটা ঘুড়ি খেলা- নাটাই হাতে ঘুড়িকে আকাশে উড়তে দেয়া আবার ঘুড়ির বেশী স্বাধীনতায় বাধা এ যেন দৃশ্য অদৃশ্য খেলা। স্বাধীন সত্তায় সুখ তীব্রতা ছড়ায় না। রমণীয় আমেজে বিভোর থাকে। স্বাধীন হওয়াটা বড় গোলমেলে। এ যেন কবি নিজের কাছে নিজে স্বাধীন। রূপের জগতে মায়ার জগতে মানুষ কি স্বাধীন ? এ যেন কবির ডুব সাঁতার। কবি কবিতা আলোচনা করলে কবিত্ব শক্তির পরিচয় পাওয়া যাবে। 'হেমন্ত স্পর্শে' কবিতায় বাঁজখাই যাপিত জীবনের রমণীয় শরৎ অসীমতার মাঝে চিত্রকল্পে কবি হেমন্তের কাব্যময় সন্ধ্যার বর্ণিল রূপময় জগতের খন্ড খন্ড চিত্র বর্ণনায় হেমন্তের স্নিগ্ধ রূপায়নে প্রাণের অস্তিত্ব যেন ঘোষিত হয়েছে। আর এ প্রানের ...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

তারা খসার আলোয় ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

তারা খসার আলোয়  তীর্থঙ্কর সুমিত  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা--- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে-চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।  ============== তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন -৭১২১৩৯

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

কবিতা ।। সুশান্ত সেন

কবিতা সুশান্ত সেন কোবতে লেখা সহজ নয় ত মোটে কল্পনা নেই। কি নিয়ে সে ছোটে! ছুটবে কেন? সে কি রেসের ঘোড়া বাজি জেতার তার নেই কি জোড়া? বাজি?  সে ত কালি পুজোয় ফাটে ভয় পাই যে দাঁড়িয়ে চৌকাঠে। চৌকাঠ টা বেজায় বড় বাঁধা পেরিয়ে যাওয়া বেজায় শক্ত, দাদা! অন্বেষণে বিরাট বিকট শব্দ কোবতে খানা তাতেই হবে জব্দ।   ============ সুশান্ত সেন ৩২বি , শরৎ বসু রোড কলিকাতা ৭০০০২০

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৪তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  এই সংখ্যায় একটি গ্রন্থ আলোচনা ও একটি ধারাবাহিক রচনা ছাড়া সব লেখাই ভাষা দিবস, মাতৃভাষা, ভাষাচেতনা ও ভাষা সমস্যা বিষয়ক রচনা। লেখাগুলি এই সংখ্যাকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। পড়ুন। শেয়ার করুন। মতামত জানান। লেখকগণ নিজের নিজের লেখার লিঙ্ক শেয়ার করুন যতখুশি, যে মাধ্যমে খুশি। কিন্তু স্ক্রিনশট শেয়ার নৈব নৈব চ!  অন্য বিষয়ের লেখাগুলি আগামী সংখ্যার জন্য রইল।  সকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। ভালো থাকুন।   --সম্পাদক, নবপ্রভাত। ==  সূ  চি  প  ত্র  == প্রবন্ধ-নিবন্ধ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা দুর্জয় দিবস।। বটু কৃষ্ণ হালদার ভাষা শহীদদের পঁচাত্তর বছর।। অনিন্দ্য পাল একুশে ফেব্রুয়ারি : বাঙালির শ্রেষ্ঠ অশ্রুবিন্দু।। জীবনকুমার সরকার কবিগানের সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক মূল্য।। বারিদ বরন গুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।। শ্যামল হুদাতী মায়ের দুধ আর মাতৃভাষা।। প্রদীপ কুমার দে একুশে ফেব্রুয়ারি : কিছু কথা।। বনশ্রী গোপ বাংলায় কথা বাংলায় কাজ।। চন্দন দাশগুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও তার মুক্তির পথ।। মিঠুন মুখার্জী. হে অমর একুশে, তোমায় ভুলিনি, ভুলব না।। মহম্মদ মফিজুল ইসলা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে দীনেশ চ্যাটার্জী যে পথ শরীরে ক্লান্তি আনে, সেই পথেই আত্মা খুঁজে পায় মুক্তি। দিবস ১ — যাত্রার সূচনা মানুষের জীবনে কতকগুলি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাহার ব্যাখ্যা বুদ্ধির দ্বারা মেলে না, তৎসত্ত্বেও হৃদয় তাহার প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। কেদারনাথ যাত্রা আমার কাছে তেমনই এক আকাঙ্ক্ষা ছিল। বহুদিন ইচ্ছা ছিল—কখনো পূর্ণ করি নাই। আজ তাহারই প্রথম অধ্যায় আরম্ভ হইল। ভোররাতে ঋষিকেশে পৌঁছিলাম। স্টেশন হইতে বাহির হইবার মাত্রই অনুভব করিলাম—বাতাসে এক গভীর প্রশান্তি। শহুরে কোলাহল, ধুলো, অধৈর্যতার পরিবর্তে এখানে নীরবতা, শীতলতা, আর যেন স্নিগ্ধ তপস্যার আবহ। গঙ্গার তীরে এসে দাঁড়াইলাম। নদী এখানে শুধু জলের স্রোত নহে—সে যেন জীবন্ত ধর্ম; যাহার মধ্যে কালান্তরে সঞ্চিত স্নেহ, পবিত্রতা ও শক্তি। তাঁর জলে ভোরের সূর্যালোক পড়িয়া মৃদু ঝিলিক তুলিতেছিল। মনে হল—মহাশান্ত পৃথিবীর বুকে আমি ক্ষুদ্রমাত্র। বিকেলে লক্ষ্যণঝুলা দেখিবার উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলাম। সেতুর ওপর দাঁড়াইলে নিচে গঙ্গার প্রবল স্রোত দেখি—হৃদয় থমকায়ে দাঁড়ায়। সেতুটি হালকা দুলিতে থাকে, কিন্তু ভয়ের পরিবর্তে সেখানে ছিল এক অদ্ভুত আহ্বান—যেন প্রকৃতি বলি...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432