Skip to main content

Posts

নিবন্ধ ।। ভাষার মৃত্যু এবং বাংলাভাষা ।। অনিন্দ্য পাল

  ভাষা মানুষের সর্বোত্তম সৃষ্টি, একথা বললে খুব একটা অত্যুক্তি করা হবে না। বৈজ্ঞানিক সমস্ত আবিষ্কারের কথা মনে রেখেও মানুষকৃত সম্পূর্ণ নিজস্ব বৌদ্ধিক উন্নয়নের অন্যতম স্বাক্ষর হিসাবে ভাষার উল্লেখ বোধহয় অযৌক্তিক নয়।  SIL international , 2009 এর সমীক্ষা অনুযায়ী পৃথিবীতে ৬৯০৯ টা ভাষায় মানুষ কথা বলে। পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা মাত্র ২৩টি ভাষায় কথা বলে।   বিশ্বের ১৪৬ টিরও বেশি দেশে মানুষ ইংরেজি ভাষায় কথা বলে। ভাষার দিক দিয়ে ইংরাজি বর্তমানে পৃথিবী তে ১ম স্থানে রয়েছে। পৃথিবীর ১০৬ টি দেশের প্রায় ৩৮ কোটি মানুষ আছে যারা তাদের প্রধান ভাষা হিসেবে ইংরেজি ব্যাবহার করে থাকে। তবে সারা পৃথিবীতে ১১৩ কোটির বেশি মানুষ বর্তমানে ইংরেজি ভাষাতে কথা বলে থাকে।          পৃথিবীতে কথা বলার জন্য ২য় সবচেয়ে বেশি যে ভাষা ব্যাবহার করা হয় তা হল-মান্দারিন বা ম্যান্ডারিন। এ ভাষায় কথা বলে চীনের প্রায় ১১১ কোটিরও বেশি মানুষ। পৃথিবীর মোট ২৯ টি দেশে এ ভাষায় মানুষ কথা বলে থাকে। চিনের মোট জনসংখ্যার ৯০% (১২৮ কোটি) এর বেশি মানুষ শুধুমাত্র উ-চাইনিজ ও মান্দারিন ভাষাতে কথা বলে থাকে। ...

একুশের গান ।। তুহিন কুমার চন্দ

একুশ আমার জানলা দিয়ে আগুন ছড়ায় রোজ, একুশ আমার ফাগুন দেখায় পলাশ বনের খোঁজ একুশ আমার বুকের ভেতর রক্তক্ষরণ গানে, বাংলা ভাষা সেই কবেকার কন্ঠে প্রনাম আনে। ফুটপাতে রোজ সালাম রফিক ভিক্ষাপাত্র হাতে বাংলা ভাষায় গান গেয়ে যায় গভীর নিঝুম রাতে। বাংলা ভাষার কলার ভেলায় বাংলার গানে গানে রক্ত মাখানো বাংলার পথ জেগেছিলো মহারণে। বাদাম গাছের সবুজ ডালে বাংলার পদাবলী,  করুন কন্ঠে পাখির ভাষায় দুয়ার দিয়েছে খুলি।  একুশের রাত ডেকে গেছে কাল রক্তের ইতিহাসে  বাউলের সুরে আকাশে বাতাশে বাংলারই সুর ভাসে। ইতিহাস যত কাঙ্ক্ষিত কথা বলে গেছে ইতিহাসে একুশের মাটি রক্ত মেখেছে বাংলার প্রতিভাসে।  রাষ্ট্র ভাষা বাংলাকে চাই দাবী ছিলো ঘরে ঘরে   বুক পেতে তাই রফিক সালাম ইতিহাস গেছে গড়ে। একুশ আমার জানলা দিয়ে আগুন ছড়ায় রোজ, একুশ আমার ফাগুন দেখায় পলাশ বনের খোঁজ একুশ আমার বুকের ভেতর রক্তক্ষরণ গানে, বাংলা ভাষা সেই কবেকার কন্ঠে প্রণাম আনে। ============================= ঠিকানাঃ তুহিন কুমার চন্দ সুদর্শনপুর,রায়গঞ্জ-৭৩৩১৩৪ উত্তর দিনাজপুর (প.ব.) ভারত। মোঃ ৮৬১৭৮২৯১৩৩ tuhinchanda030@gmail.com

কবিতা ।। অ্যালবাম ।। সিদ্ধার্থ বসু

শীতঘুমে চলে যাওয়া স্বপ্নের এপিটাফ,  মজে যাওয়া শোকতাপ, নিঃশব্দে ঘুমিয়ে পড়া ভালোবাসার অ্যালবাম, রোদ্দুরে চুঁইয়ে ঝরে টুপ করে হৃদ্ মাঝারে। বোধের দেউড়িতে কড়া নেড়ে যায়, সদর্থক দায়বদ্ধতা............. প্রত্যাশার ফানুস চুপসে যায়, আতিশয্যের বাহারে।  যন্ত্রনার সাতকাহন........  অবিচ্ছিন্ন প্রবাহের ফুরিয়ে যাওয়া আগ্রহে, চোরাবালি আর তমসার বিনির্মাণ, রক্তাক্ত অক্ষরমালার নিটোল বুনটে, ষোলকলায় পূর্ণ হয় ছন্দসংবেদ দর্পণ। দহনক্লান্ত মননে আশ্লেষ,  ২১ শে ভাষা বিপ্লব দিবস, শব্দবোধের সংবেদ ও এক অসংজ্ঞেয় স্বজ্ঞা, কৃষ্টি ও সৃষ্টির মেল বন্ধনের প্রজ্ঞা।।

ভাষাদিবসের কবিতা ।। জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

সা। সারারাতই নীরব ছিল পাড়া ভোরের বেলা উঠলো জেগে কারা ছোটো এবং বড়ো সবাই মিলে শামিল দেখি কীসের সে মিছিলে কানে কানে বাতাস এসে বলে মাতৃভাষার জন্য ওরা চলে। রে। রে রে করে উর্দুভাষী সেনা মিটিয়েছিল হিংস্রতার দেনা। রক্তে রাঙা মায়ের বুকের জমি লুটিয়ে পড়ে মা বলে শেষ নমি। গা। গাইলো ওরা কাঁদলে তুমি মা বুকে তোমার পুত্রশোকের ঘা কোন রাগেতে জ্বলেছিল ফাগ বেহাগ দীপক অথবা বৈরাগ? মা। মাতৃভাষায় অমৃতময় সুখ আনতে গেলে রক্ত দিতে হয়! জলে ডোবা শিশুর মতো মুখ তবু কেবল বলতে হবে জয়! পা। পায়নি বিজয় অত্যাচারীর দল বলিদানের গর্বে পাওয়া বল মাতৃভাষা মায়েরই এক নাম চোখের মতোই মহামূল্যবান। ধা। ধারের কথায় কদিন বাঁচা যায় দেশে থেকেও পরাধীনের ভাব ঘুচিয়ে গেল বীর শহিদের দল তাদের স্মৃতি নিত্য জেগে থাক। নি। নিষেধ ভাঙা মাটির উপর বাস বিস্মরণের কালো করে গ্রাস অস্ত্রহীনের মুখর প্রতিবাদে শাসকবুকে প্রবল তুফান জাগে। সা। সারাবেলা পাতা ঝরেই চলে সেই যে গাছের শহিদপুজোর ফুল আমরা আনি আনন্দটা তুলে মালির কথা সারাজীবন ভুল। ============================= গোপেশ্বরপল্লি, বিষ্ণুপুর,বাঁকুড়া - ৭২২১২২ কথা ...

কবিতা ।। বাংলা ভাষা ।। সুমন নস্কর

বাংলা আমার মায়ের ভাষা পাড়া কিম্বা গাঁয়ের ভাষা প্রাণের ভাষা গানের ভাষা গ্রহণ এবং দানের ভাষা বাংলা ভাষা চলার ভাষা মনের কথা বলার ভাষা বড়োই ভালো মিষ্টি ভাষা কাব্য ছড়ার সৃষ্টি ভাষা মনের বেদন বোঝার ভাষা আপন জনের খোঁজার ভাষা বাংলা ভাষা মায়ের ভাষা শহর কিম্বা গাঁয়ের ভাষা গানের ভাষা মানের ভাষা ছন্দ লয় ও তানের ভাষা ছোট্ট শিশুর মুখের ভাষা সুখের ভাষা দুখের ভাষা কান্না এবং হাসির ভাষা শিক্ষিত ও চাষির ভাষা সুরের ভাষা স্বরের ভাষা একান্ত এ ঘরের ভাষা বাংলা ভাষা মধুর ভাষা গাঁয়ের যতো বধুর ভাষা মাঝি কিম্বা জেলের ভাষা দুষ্টু সকল ছেলের ভাষা লেখা এবং পড়ার ভাষা মজার মজার ছড়ার ভাষা "মোদের গরব মোদের আশা" আ মরি সেই বাংলা ভাষা।। =================== সুমন নস্কর।।বনসুন্দরিয়া।।দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা

কবিতা ।। আট-ই ফাগুন ।। উৎপলকুমার ধারা

আট-ই ফাগুন উথলে ওঠা পদ্মানদীর জল কিংবা একুশ ফেব্রুয়ারির ফুলফোটা রোদ্দুর ওই দিন-ই তো বাংলা মায়ের দামাল ছেলের দল গাইলো সবাই মাতৃভাষার বাঁধন ছেঁড়ার সুর ! জুটলো সবাই ছুটলো মিছিল কাঁপলো রে রাজপথ খানসেনাদের সঙ্গে লড়াই বাধলো ভীষণ জোর সবার জন‍্যে আনতে জানি আলোর ভবিষ্যৎ  বীর শহিদের রক্ত-রঙে ফুটলো নতুন ভোর ! যাদের জন‍্যে পেরিয়ে নিকশ অন্ধকারের বাঁধ যাদের জন‍্যে এগিয়ে চলার অগাধ সাহস পাওয়া আজ পেয়েছি মায়ের ভাষার অমল সুখের স্বাদ যাদের জন‍্যে পেলাম সবাই রোদ বিছানো দাওয়া ! তাদের শহিদ বেদীর পরে আলপনা আজ আঁকি রফিক সালাম জব্বার-ভাই এবং আবুল কালাম যাদের জন‍্যে আমরা সবাই মুক্ত ডানার পাখি সেই ভায়েদের জানাই হাজার-হাজার কোটি সালাম !! --------------------------------------------------------   From :- Utpal Kumar Dhara, Purba Nischintapur, Budge Budge, Kolkata - 700138, mob. no. 7980252249, w/a. no. 8017479045,

কবিতা ।। মাতৃভাষা বাংলাভাষা ।। মাথুর দাস

জন্ম থেকেই  যে ভাষাতে  সহজ কথা বলা, ভাব-বিনিময় আদান-প্রদান এবং হাঁটা চলা ; শ্বাসবায়ুতে  মিশে থাকে  জীবনের যে ভাষা, সেই তো আমার মাতৃভাষা, আমার বাংলাভাষা । যে ভাষাতে মনের আকাশ থাকেই নীলে নীল, উড়তে থাকে  উদাস ডানায়  কল্পনা-গাংচিল ; মিষ্টি মধুর যে ভাষাতে  গানের কথা কলি, কাব্য গাথা কথকতা  সেই ভাষাতেই বলি । শিখতে পারি  অন্য ভাষাও  শখ-প্রয়োজন-কার্যে, মাতৃভাষার মতো সাবলীল হতে কি পারি আর যে ! শরীর-মনে রক্তসমান যে ভাষাটি সারা জীবন বয় সেই বাংলাভাষার মর্যাদা থাক যে কোনও বিনিময় । *******************************       মাথুর দাস, দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান   *******************************

কবিতা ।। অমর একুশ আমার একুশ ।। রমলা মুখার্জী

অমর একুশ আমার একুশ, একুশ সবার গান- খুনে রাঙা দিন স্বপ্ন রঙিন শহীদের বলীদান। বিশ্বসভার উদার আকাশে একুশ ধ্রুবতারা - বাংলা পরম বাংলা ধরম বাংলা ঝর্ণা-ধারা। একুশের বাণ বাংলার মান একুশ স্নেহের টান.... ভোরের আকাশে একুশ বাজায় ভালোবাসার তান। রফিক, আব্দুল, বরকত, সালাম, সেলাম ভাইজান- বাংলার দুখে বুলেটের মুখে বাংলাতে শেষ ঘ্রাণ। ঢাকের বাদ্যি ঈদের আজান একুশে সবার দান- মিলেমিশে হাসি ভেদাভেদ নাশি হিন্দু-মুসলমান। প্রথম ফাগুনে একুশ পালনে একসাথে ধরি তান- বাংলাভাষার দৈনদশা ভেঙে করি খান খান। কাছাড়ে আসামে বাংলার নামে দিয়েছে এগারো প্রাণ- তাদের স্মরণে আজ শুভদিনে গাই বাংলার গান। একসাথে আসি বাংলা-ভাষী বাংলাতে হাঁটি পথ- বাংলা ভাষার গরবে সরবে ওড়াবো জয়ের রথ।    ===========================   ডঃ রমলা মুখার্জী, বৈঁচী, বিবেকানন্দপল্লী, জেলা হুগলী, পিন 712134, মোঃ 7003550595 হোয়াটস এপ 9474462590

কবিতা ।। ভাষাবাড়ি ।। বনশ্রী রায় দাস

                কোথায় আমার বাড়িঘর , প্রায়ই একথা বলতে । যেখানে যখন থাকি সেটা আমার ঘর জবাবে বলেছি আমি তোমাকে । বিরক্তি ভাবে তুমি বলেছিলে  এবার তোমার নিজের ঘর বানাও । মৌন হাওয়া তরঙ্গ ঢেউয়ের পায়ে নূপুর হলো চোখের কোণে ঝিলিক দিল অনন্ত সুরের  ঘর বাঁধার স্বপ্ন ,শৈল্পিক আঙুলের মুদ্রায় বানাই আমার ঘর জন্ম থেকে জন্মান্তরে । গর্ভগৃহে রাখলাম স্বরবর্ণ ব্যঞ্জন বর্ণ, আর জানালার গরাদে চন্দ্রবিন্দু,দালান থেকে  দরজা বরাবর সূর্যমুখী হাওয়া ,চিলেকোঠায় কুলুপ এঁটে বসে জিজ্ঞাসা চিহ্ন । দেওয়ালের গায়ে শ্বেতপাথর হয়ে  লুটিয়ে পড়ে টগরের হাসি পলাশ-ব্যকরণ বারান্দায় ধ্যানস্থ বিসর্গ' এর বেড়া ছুঁয়ে  বেজে যায় চাঁপাতলার হারমোনিয়াম  ঘরের ছাদে খেলা করে সময়ের শুকতারা , নদীর সন্ধ্যা শোনে আঁচলের পূর্ণচ্ছেদ । নির্মাণ সম্পূর্ণ হলে সে ঘর আমার থাকে না  সেখানে বসত করেন আমার ভাষাজননি , ইতিহাস , ভূগোল আর প্রেমের ঝুমঝুমি । হৃদয়ে ঢেউ তুলে ধ্বনিময় স্রোত  সিংদরজায় হয়তো বা ফুটে উঠতে পারে  ভিমবেটকার কারুশিল্প অথবা আলতামিরার বিখ্যাত সেই গুহাকারু।   ...

কবিতা ।। মা, খোকা ও বর্ণমালা ।। মোয়াল্লেম নাইয়া

      পলাশ রাঙা আকাশ জুড়ে ফেব্রুয়ারি এলো মায়ের চোখে শিশিরের ভোর, কি সুখ তাহা বলো! খোকা গেছে অনেক দূরে আনতে কথার ঝুড়ি রক্তনদী পার হয়ে সে ফিরবে তবে বাড়ি ৷ বিন্নি ধানের খই ভাজে মা প্রিয় খোকার তরে ডালের বড়ি শুকায় রোদে সারা উঠোন জুড়ে ৷ দুখিনী মা সাজায় কুঁড়ে সজনে ডাঁটার ফুলে আসবে খোকা প্রতীক্ষা তার স্বপ্ন রাখে তুলে ৷ এসেই খোকা বলবে মাকে কী আছে দাও খাই খাওয়ার পরে মায়ের আদর চাই যে তাহার চাই ৷ এমনি ছিল খোকার সাথে মায়ের আলাপন চন্দ্র-সূর্য ওঠার মত সত্য চিরন্তন। যাওয়ার আগে খোকা নাকি শুনিয়ে ছিল মাকে মুখের ভাষা হারিয়ে গেলে কিইবা পড়ে থাকে! মনে পড়ে তোমার কাছে গল্প শোনার রাত? কাড়তে ওরা চাইছে মাগো, তাইতো প্রতিবাদ৷ লক্ষ্মীটি মা রাগ কোরোনা ফিরব তাড়াতাড়ি সঙ্গে নিয়ে আসবো তোমার লক্ষ কথার ঝুড়ি ৷ আবার তুমি ঘুম পাড়াবে বাংলা ভাষার সুরে কি এসে যায় আমার থাকা কিংবা যাওয়া দূরে? ফিরল খোকা অনেক রাতে পলাশ রাঙা দেহে সঙ্গে এলো কথার ঝুড়ি রক্ত নদী বেয়ে ৷ ঝাপসা চোখে তাকিয়ে দেখে বাংলা ভাষার মা শবের পাশে ফুল নয় তো,.. যেন হাজার বর্ণ জমা! ভাষার শরীর শান্ত হলো, মিঠলো ঠোঁটের জ্বালা উঠ...

কবিতা ।। মাতৃভাষা ।। তরুণ মান্না

     এপারে বাংলা,ওপারে বাংলা    মধ্যে কাঁটাতার ,    দেশ কখনো ভাগ হয় না    একই ভাষা যার।    এপারে দাদা,ওপারে ভাই         মধ্যিখানে দেওয়াল,    দুজনার হৃদয়ে প্রবাহিত     রক্তের রঙ লাল।    এপারে অ-আ,ওপারে অ-আ    তবুও ভেদাভেদ,    মাকে কেটে ভাগ করেছি    জীবন জুড়ে ক্লেদ।    যার কোলে জন্ম নিলাম    সে তো মাতৃভূমি-মা,    আর যে মুখে ভাষা দিল    সেও কি নয় মা ?    শোক-দুঃখ সকল আবেগ    যে ভাষাতে ফোটে,    সে-ই তো মাতৃভাষা     জননী হয়ে ওঠে।            -------------------------------      Tarun Manna.    Vill : Khandalia.    P.O. : Kalatalahat.    Dist : South 24parganas.    PIN : 743504.     M.NO : 9732035536                 9851648323.   ...

কবিতা ।। বর্ণপরিচয় ।। হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

      ১ রোদের কাছে কিছুটা রঙ পাওয়ার পর আমাদের ক্যানভাসের শ্যাওলায়  আগুন আগুন ক্ষীণ একটা নদী দেখা যায় অনেকদিন পর ধানের জমিতে গোছ এলে তাকে বর্ণপরিচয় বলে । ২ বেদনার শরীরে বাঁকের মুখে যে তালগাছ দাঁড়িয়ে আছে ঝড়ের লিপি তার যে মেরুদণ্ড এঁকে দেয় তাকে বর্ণপরিচয় বলে । ৩ মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার পর অনেক রাতে চাঁদ ওঠে রান্নাঘরে খুব একচোট হৈ চৈ হওয়ার পর জানলা দিয়ে দু'একজন হাসি মুখ বাড়িয়ে দিলে তাকে বর্ণপরিচয় বলে । ৪ ভাতের যন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে লাইন ধরে হেঁটে চলে অগণন পা বুকে পেটে কাঁধে ছানাদের চোখ চেনা গেলে তাকে বর্ণপরিচয় বলে । *************************   হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ময়নাডাঙা ( আশ্রয় অ্যাপার্টমেন্ট ) পোঃ --- চুঁচুড়া. আর. এস. জেলা --- হুগলী পিন --- ৭১২১০২ পশ্চিমবঙ্গ ভারতবর্ষ ফোন --- ৯৪৩৩৩১২৯৬২

কবিতা ।। বর্ণমালা ।। সুদীপ চৌধুরী

  আমি তাকে দেখেছিলাম  মৃত ভাষার ভাগাড় থেকে খুঁজছিল বর্ণমালা ভাষাহীন নীরবতায় মৃত নক্ষত্রের মতো…   পরিযায়ী পাখিসব নখরে চিরে ফেলে   অক্ষর ছিন্ন হয় আমাদের ভাষা পরিচয়। ভাষাভষ্ম হতে যদি, আহা! ফিনিক্স  জীবন হয় তবে 'মা' বলে আবার ডাকব তোমায়। বর্ণমালা, আমার সাধের উচ্চারণ।    ======================      সুদীপ চৌধুরী শিলিগুড়ি  ৮০০১৩৯১৬৮২

কবিতা ।। বাংলা মায়ের প্রাণের ভাষা ।। সুব্রত চৌধুরী

বাংলা   সবার   প্রাণের   ভাষা   বাংলা   সবার   বুকে বাংলা   সবার   মাথার  ' পরে   সবার   সুখে   দু ' খে। বাংলা   খোকার  ' মা ' ' মা '  ডাকে ,  হাসি - খুশি   কান্নায়   বাংলা   খোকার   হাতে   খড়ির   হীরে  - মোতি  - পান্নায়। বাংলা   নদীর   কুলকুল   রবে   ছোটে   সাগর   পানে বাংলা   পাখির   কুজনে   আর   ছিন্ন   বীণার   তানে। বাংলা   বাউলের   একতারাতে     সুরে   সুরে   বাজে বর্ণমালার   মালা   পরে   শহীদ   মিনার   সাজে। বাংলা   মুক্তির   মাথার  ' পরে   বাংলা   মুক্তির   বুকে বাংলা   মায়ের   ডাকে   মুক্তি   শত্রু   সেনা   রুখে। বাংলা   সবার   প্রানের   ভাষা   রবি   সেরার   সেরা দুখু   আমার   বিদ্রোহী   বীর   ভাঙ্গে   বাধার   বেড়া। সাতই   মার...

একুশের কবিতাগুচ্ছ ।। বিচিত্র কুমার

একুশের গান একুশ এলেই মনে পড়ে বর্ণমালার গান, ভাষার প্রতি শহীদ ভাইদের কী নিদারুণ টান। ভাষার দাবিতে রাজ পথে দিলো যারা তাজা প্রাণ, তাদের রক্তে লেখা হলো বাংলা অভিধান। মায়ের মুখের মাতৃভাষা পেলো স্বাধীনতা, একুশ এলেই পুষ্প শয্যায় জানাই কৃতজ্ঞতা। জীবন দিয়ে রেখে গেল যারা মাতৃভাষার মান, সেই শোকেতে গাই আমরা একুশের গান। বাংলা ভাষার উপাখ্যান মায়ের মুখে শুনেছি আমাদের বাংলা ভাষার উপাখ্যান, ঊনিশ'শ বাহান্নর আগে ছিলো না এই মাতৃভাষার এত সম্মান। শুনছিলাম ভিনদেশিদের ভাষাই বলে বলতে হবে আমাদের কথা, এই খবরে পর্ব বাংলার ছেলেদের ভীষণ মাথা ব্যথা। ক্ষিপ্ত হয়ে ছেলেরা সব গেল রাজ পথে, স্লোগান মিছিল চলে দিকেদিকে "রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই"এই শপথে। ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ মিছিল মিটিং সব নিষিদ্ধ, রফিক শফিক বরকত জব্বার সহ হলো আরো অনেকে গুলিবিদ্ধ। প্রতিবাদের ঝড় উঠে সমগ্র বাংলা জুড়ে, স্বীকৃতি পায় বাংলাভাষা আমাদের ঘরে ঘরে।   একুশের চেতনা একুশ আমাদের জাগ্রত চেতনা এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা, একুশ মায়ের দুঃখ বেদনা একটি জাতির উদ্দীপনা। ...

কবিতা ।। আমার মাতৃভাষা বাংলা ।। সুবীর ঘোষ

আমার মাতৃভাষা বাংলা           সুবীর ঘোষ     প্রথম যখন ভাষা উঠল আমার দুটি নরম ঠোঁটে সেই থেকে তার সঙ্গে আমার শহীদ জীবন বৃন্তে ফোটে ।   ঘর সংসার শিশুর কান্না অসাবধানী প্রেম মহরৎ আমার ভাষা শেখায় যত্নে শালীনতার সব সহবৎ ।   কারখানাতে যন্ত্র ঘোরে একঘেয়েমি ছন্দে তালে তার মধ্যেও আমি জড়াই আমার ভাষার মুক্তিজালে ।   নদীর বুকে নৌকো যখন উড়তে থাকে হাওয়ায় হাওয়ায় আমি আমার মাতৃভাষার স্পর্শ দেখি সেই সে যাওয়ায় ।         সুবীর ঘোষ ৩০১ আশ্রয় এ্যাপার্টমেন্ট গ্রুপ হাউসিং , বিধাননগর দুর্গাপুর—৭১৩২১২ চলভাষ—৯৯৩২৬৪০৯৪৯  

কবিতা ।। বাংলা ভাষা ।। শুভাশিস দাশ

কৃষ্ণচূড়া পলাশ রাঙা ফাগুনে দিন এলে বাংলা ভাষার বর্ণমালা বিশ্বে মাথা তোলে।   এই ভাষারই জন্য কত প্রাণ গিয়েছে চলে বুক ফেটে যায় বাংলা মায়ের তাইতো একুশ এলে ।   গর্ব তবু বাংলা ভাষার গর্ব বাংলা মায়ের বুকের রক্ত যায়নি বৃথা আমার শহীদ ভায়ের।   ==============    শুভাশিস দাশ দিনহাটা মো 9932966949

কবিতা ।। বাংলাভাষা তোমাকে ।। সুমনা ভট্টাচার্য্য

  স্মৃতির হাতে বেঁধেছো যে রুমাল শব্দে গাঁথো দিনশেষের সে শোক টেবিলজুড়ে মন কেমনের যে জাল মুখরতা সে তোমার নামে হোক   শেকড়ের টান চিনিয়ে দাও তুমি - ছাতিম গন্ধে অস্থিরতার চাবুক  অক্ষরে মন বাড়ায় সালতামা মি তোমায় ছুঁয়ে আনমনা যে চিবুক ।   তোমার ক্ষত চিনেছিলো যারা তাদের বুকে শহীদ সংক্রমণ - আমদের পথ আজও দিশেহারা তাদের থেকে কিনছি সে দিনযাপন...   নোটপ্যাড চেনে বিষাদের দরবারি অকুণ্ঠতা ও আয়নার শিরোনাম - যে মোহনায় সে ঢেউয়ের ঘরবাড়ি- তার ঢেউ জলে নেভায় কেউ যন্ত্রণা ...   গেরস্থালী শস্যগন্ধে আবাদ যে নদীচর উর্বরতা রই চাষ তারই কাছে নতজানু বারবার তার কাছে হাত বাড়িয়ে নিই আশ্বাস...                 --------------------    সুমনা ভট্টাচার্য্য,বারাসাত

কবিতা ।। একুশে ফেব্রুয়ারি ।। জীবনকুমার সরকার

এক একটা একুশ আসে, আর  আমরা তখনই গা ঝাড়া দিয়ে উঠি  চারপাশে হুল্লোড়  মঞ্চে ওঠার হুড়োহুড়ি  যে আগে বক্তৃতা রাখি  আসলে একুশের চেয়ে আমরা ওটাই ভালো জানি।  এসব দেখে দেখে চোখে নামে অবসাদ ছেলেমেয়ে সব ইংলিশ মিডিয়াম, অথচ  আমরা সবাই একদিনের একুশে ফেব্রুয়ারি।  কত দিন, কত দিন, কত দিন এভাবে  একুশ বাঁচিয়ে রাখা যায়?  তবুও একুশ ফিরে ফিরে আসে আর আমাদের কিছু ঋণ মনে করায় । আমরা তো বাংলাভাষী  তাই আমরা এখন জীবন্ত লাশ  বাঙালির একুশ থাকলেও  ঘরে ঘরে মৃত্যুর উৎসব।  ================= জীবনকুমার সরকার পরশপাথর অ্যাপার্টমেন্ট, ৩ নং গভঃ কলোনী ইংরেজ বাজার, মালদা-- ৭৩২১০১। ই-মেল : shabdabhaash@gmai.com  

কবিতা ।। লড়াই থাকবে জারি ।। নৃপেন্দ্রনাথ মহন্ত

যে রাজপথ কান্নায় আর রক্তে লাল ভোলেনি তো সে ফেব্রুয়ারির একটি দিন ক্ষোভে বিক্ষোভে চিহ্নিত ক্লিন্ন গাল। বুকের আগুনে পতাকায় লাগে রক্ত ছোপ রক্তের ঘ্রাণে আজো ভরপুর শিক্ষালয় বলছে : হে শাসক, ধর্মের দিও না টোপ। আপন মায়ের মুখের ভাষা যেমনি হোক তার চেয়ে মধুর নেই কিছু বিশ্বময় সে ভাষাই হোক রাষ্ট্রভাষা চেয়েছে লোক। রক্ত পতাকা। আঁকা হয় তাতে মৌনমুখ শুনছ না তাতে বিশ্বাসের কণ্ঠস্বর?  এখনো কি দ্বিধা? কোথায় পাবে স্বর্গসুখ?  যারা ঢাকার রাজপথে বা বরাকে আসামে মাতৃভাষার সংগত  ন্যায্য দাবিতে  প্রাণ দিল একুশে ফেব্রুয়ারি ঊনিশে মে তাদের আমরা ভুলব কি? টানব কি দাঁড়ি  লড়াই আন্দোলনে?না, না। ভাষার দাবিতে   চিরকাল আমাদের লড়াই থাকবে জারি।    ****************************** Nripendranath Mahanta  Vill.& Post-HEMTABAD District :-Uttar Dinajpur PIN-733130  Mobile No. -8918861003

কবিতা ।। প্রাণের ভাষা ।। সাইফুল ইসলাম

বাংলা ভাষার মধূর সুরে                 যাচ্ছে বাউল পথে, মন মেতেছে সুরের ভেলায়                 একতারাটি হাতে।  ঢেউয়ের তালে নৌকা দুলে                 যায় যে মাঝি দূর, কন্ঠে তাহার বাংলা ভাষার                  ভাটিয়ালি সুর।  বাংলা আমার প্রাণের ভাষা                  বাংলা আমার মা, পল্লীগীতি-লোকগীতি                  কিংবা টুসু গা।  কোথায় আছে এমন ভাষায়                   প্রাণ জুড়ানো গান,  গরমকালে শীতল সমীর                   যেমন জুড়ায় প্রাণ।  সেলাম তোমায় অমর শহীদ                   বাংলা ভাষার লাগি, রফিক,সালাম,জব্বার,বরকত                  ...

কবিতা ।। একুশে ফেব্রুয়ারি ।। তপন তরফদার

  একুশে ফ্রেবুয়ারি সার্থক না হলে,  মানুষ ভুলে যেত বাংলার কথকতা-- পৃথিবীর আলোয় প্রচার হতো না রবি কাব্যের প্রয়োজনীয়তাও মাধুর্যতা। একুশে ফ্রেবয়ারি সার্থক না হলে  যুদ্ধ হতোই পড়শী ভায়ে ভায়ে প্রাদেশিকতার ঘোর  নির্মম আঘাতে এতদিনে অবশ্যই লুপ্ত হত বাংলা বর্ণমালা--- একুশে ফেব্রুয়ারি সফল না হলে ইয়াঙ্কী কালচারে মগজ যেত ভরে আমদানি করতো অশ্রাব্য সৃষ্টি  হারিয়ে যেত, বাংলার লোকসংস্কৃতি একুশে ফেব্রুয়ারি সফল না হলে     বিদেশি ভাষায় দেশ যেত ভেসে  চারিধারে ঝুলতো  নগ্ন নায়িকার ছবি      বাংলা হয়ে যেত  মহেঞ্জাদারোর জুড়ি ।  একুশে ফেব্রুয়ারি সফল না হলে, থাকতো না কোনো মনের ভাষা ধরণী র ধূলায় লুন্ঠিত হতো আরো  অনেক অনেক মধুর মিষ্টি মাতৃভাষা।   =========================   তপন তরফদার, প্রেমবাজার (আই আই টি) খড়্গপুর।                 ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ 9434077490

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। স্বপন চক্রবর্তী

স্বপন চক্রবর্তী জগন্নাথ কাহিনী পুরী জগন্নাথধাম                    করিব প্রভুর নাম                    আজি মোর কাব‍্যের ছন্দে, জগদীশ্বর তিনি                       জোগান সবারে চিনি                     রাখেন মোদের ভালো-মন্দে।  নীলাচলে এক নারী                  ভক্তির ধ্বজাধারী                       ঈশ্বর-প্রেম ছিল অপার, কর্মাবাঈ নামে তিনি                    প্রভুর হৃদয় জিনি                       করিতেন দিব্য সংসার। ভিখারিণী অতি দীন                    বার্ধক্যে শক্তিহীন              ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

ভুতের গল্প : ভুতেরাও ভদ্র হয় ।। দীপক পাল

ভুতেরাও ভদ্র হয়  দীপক পাল  কোন এক রহস্য পত্রিকার জন্য একটা ভুতের গল্প লেখার তাগিদে রাত এগারোটা বাজার পরে শোওয়ার ঘরের লাইট নিভিয়ে আমার লেখার ঘরে ঢুকে জানালার সামনের টেবিলে গিয়ে চেয়ারটা টেনে বসলাম। ঘরে লাইট জ্বললে আমার স্ত্রীর চোখে ঘুম আসে না। অন্য দিকে ভাবলে ভুতের গল্প লিখতে গেলে একটু বেশী রাত ও একদম নির্জন পরিবেশ দরকার। হাতে কাগজ কলম নিয়ে জানালার বাইরের আলো আঁধারিতে চোখ মেলে তাকালাম। পথের আলোর জন্য এই আলো আঁধারির সৃষ্টি যদিও এই অমাবস্যার রাতে সেই আলো বড়ো অপর্যাপ্ত। একটু ভেবে আমার গল্প লেখা শুরু হলো। সারাদিন কাজের ফাঁকে মনে মনে গল্পটা মোটামুটি ফেঁদে রেখেছিলাম। এখন সেটাই গুছিয়ে লেখার পালা। সেটাই করে চলেছি একটানা। হঠাৎ একটা গলাখাঁকারির আওয়াজ এলো কানে। ভাবলাম পাশের বাড়ী থেকে বুঝি আসছে। তাই পাত্তা না দিয়ে লিখে যাচ্ছি। কিন্তু দ্বিতীয় বার গলা খাঁকারির আওয়াজ শুনে জানালার বাইরে তাকালাম। দেখি জানালার ওপাশে একটা আবছা ছায়ামূর্তি যার চোখজোড়া অল্প অল্প জ্বলছে। কিন্তু মুখে অল্প হাসি হাসি ভাব। এক মনে ভুতের গল্প লেখি যাওয়ার ফলে আমি যেন ভুতের রাজ্যে বিচরণ করছিলাম তাই স্বচক্ষে স...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য ।। পাভেল আমান

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য যিনি শিক্ষা দান করেন তিনিই শিক্ষক। শিক্ষা বলতে কেবল প্রথাগত শিক্ষা বা পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বৃহৎ অর্থে প্রথা বহির্ভূত জ্ঞান ও কর্মের বাস্তব অভিজ্ঞতা। রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করে বলা যায় যে, উত্তম শিক্ষক হবেন উত্তম ছাত্র। শিক্ষকের মধ্যে ছাত্রত্ব বেঁচে না থাকলে ছাত্রেরা তাঁর মনের নাগাল পেতে সমর্থ হয় না।শিক্ষকরা হলেন সমাজ গড়ার কারিগড়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকেরা। আদিকালের সামাজিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সেই আবাসিক গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থার যুগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিল নিবিড় ও মধুর সম্পর্ক। পিতা মাতার পর দ্বিতীয় পিতা বা অভিভাবক হিসেবে শিক্ষকদেরকে মান্য করতেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কাছে শিক্ষক ছিলেন পরম গুরু। গুরুর আশীর্বাদ ও দাক্ষিণ্য ছাড়া জীবনে সাফল্য অধরা থেকে যায়। গুরুর নির্দেশিত পথে অনুগমন করলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। শিক্ষক তথা গুরুর প্রতি ছাত্র তথা শিষ্যের আনুগত্য, ভক্তি, বিশ্বাস ও আত্মনিবেদন ছিল দৃষ্টান্ত মূলক। প্রাচীন ভারতে গুরু গৃহে গুরুর সাহচর্যে বসবাস করে শ...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...