নীল ডায়েরির গুচ্ছকবিতা চন্দ্রপলাশের গোপনপত্র তোমার পদধ্বনি এলেই পলাশগাছের ডালে জ্বলে ওঠে রক্তচাঁদের শিখা। হৃদয়বাগানের প্রতিটি শিরায় তুমি লিখে দাও স্বপ্নলিপির সোনালি আঁচড়। বৃষ্টিধ্বনি ছুঁয়ে যায় তোমার নীরবতার বারান্দা, যেখানে আমার অশ্রু জমে আছে কাচের শিশিতে। তোমার ছোঁয়া মানেই ভাঙা ঘড়ির কাঁটা আবার বেজে ওঠে সময়ের সুরে। আমার বুকের ভেতর এক অদৃশ্য নদী বয়, যার তীরে তীরে কেবল তোমার নামের নুড়ি। তুমি আসো—আর ভোরের কণ্ঠে শালিকেরা গেয়ে ওঠে গোপনপত্রের গান। এ শহরের অজানা সব রাস্তা আমাকে নিয়ে যায় তোমার দরজার সামনে। যেখানে দরজার কপাট খুললেই আকাশ হেলে পড়ে আমার কাঁধে। গোধূলিবিন্দুর আশ্রয় গোধূলির লালিমায় তোমার ছায়া মিশে যায় ধানের শিষের স্বপ্নে। হাওয়াগুলো কানে কানে বলে— তুমি আমার হারানো মন্ত্রফুল। দিগন্তের প্রান্তে পাখিদের উড়ান যেন তোমার হাসির খসড়া আকাশে লেখা। আমার প্রতিটি শ্বাসে লুকানো থাকে তোমার অজানা ছোঁয়ার তৃষ্ণা। বৃষ্টির সঙ্গীতে ভিজে যায় গলিপথ, যেখানে প্রথম তোমার হাত ধরেছিলাম। সেই মুহূর্ত যেন সময়ের তালাবদ্ধ কুঠুরি, যেখানে আমি আজও বন্দী। তুমি দূরে গেলে শহর হয়ে ...
এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র! কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও বোধহয় যে...