Skip to main content

Posts

কবিতা ।। মেয়েটির মৃত্যু দেখে ।। তুষার ভট্টাচাৰ্য

মেয়েটির মৃত্যু দেখে  তুষার ভট্টাচাৰ্য  এই মৃত্যু উপত্যকায় রাত দুপুরে নিরীহ  অসহায় মেয়েটির হাড় হিম নৃশংস    মৃত্যু দেখে যদি প্রতিবাদে না নামো আজ  রাস্তায় পথে পথে তবে বুঝে নেবো সুবিধাবাদী  তোমার     মেরুদন্ড    বিকিয়ে     গেছে কবেই    শাসকের কাছে    ; যদি আজ না নামো রাস্তায় l ============ তুষার ভট্টাচাৰ্য l কাশিমবাজার l বহরমপুর l মুর্শিদাবাদ l

কবিতা ।। অন্ধকারের আলো ।। বিবেকানন্দ নস্কর

অন্ধকার ের  আলো বিবেকানন্দ নস্কর অন্ধকার  ডেকেছে তোমায় অন্ধ স্রোতে ভেসে যাও আঁধার পৃথিবী  এঁকেছো  এভাবে ? অন্ধ হয়েছো মোহে অন্ধ কারাগারে নত মনুষ্যত্বের ছবি হা জির জিরে কালসিটে মুখ ! আমাদের পৃথিবী এত  আলো  মাখা তার পিঠে কালি দিয়ে আমরা এঁকেছি  অন্ধকার   ! অন্ধ মুনির উপাসনাতে থাকে  আলো অন্ধ পথের দু পাশে  আলো র সারি আড়ালে লুকিয়ে কাঁদে  ! আদিম  অন্ধকার ের জীব খুঁজেছো কি  অন্ধকার ের  আলো অন্ধ রাতেই জ্বলে ওঠে দীপ । ================ বিবেকানন্দ নস্কর সন্তোষপুর ফলতা দক্ষিণ ২৪ পরগনা পিন ৭৪৩৫০৩

কবিতা ।। ঘোষণা ।। প্রতীক মিত্র

ঘোষণা  প্রতীক মিত্র হুমকি যত বাড়তে থাকবে ফুলকি তত ছড়াতে থাকবে এদিক ওদিক সবদিকে। তুমি বরং মাপতে থাকো জল রাস্তায় সাধারণের ঢল উঁচু ছাদের কার্নিশে ঝুঁকে। নিভবে না এ আগুন যতদিন না মিলছে বিচার, মৃত জাতি জেগেছে কি দারুণ  এটাই তো ছিল হওয়ার। দর কষাকষি ছেড়ে মিথ্যের শহরে আয়নায় মুখ দেখে জানিয়ে দিই নিজের পরিচয় আশাবাদেরই আলো চোখে। যে যেদিক থেকে আসুক মিলবে পথ একই অভিমুখে। পা যতটা পথই হাঁটুক এ বিবেকে নেই কোনো অসুখ। হুমকি যত বাড়তে থাকবে ফুলকি তত ছড়াতে থাকবে এদিক ওদিক সবদিকে। ============== প্রতীক মিত্র, কোন্নগর, পশ্চিমবঙ্গ

কবিতা ।। অপেক্ষায় ।। রণেশ রায়

অপেক্ষায় রণেশ রায়  নিশি ডেকে বেড়ায়  চোখ বন্ধ রাতে, ঘুম হারায়,  কার যেন পদধ্বনি শুনি----  কোন এক নীরবতা জানায়, কথা বলে আমার অশরীরি বেটি  অভয়া বা নির্ভয়া বা তিলোত্তমা  বা ওই আদিবাসী মেয়েটি---   সুপ্ত নারীশক্তির জাগরণ, ওদের বুকে ত্রাস ছড়ায় নতুন দিনের দিশা দেখায়  অন্ধকার  পথে  আলো  ছড়ায়, ছিনিয়ে নেয় চলার  অন্ধকার  পথ,  লক্ষ্য কোটি মানুষের গর্জন জ্বলে ওঠে মশাল  রাতের আঁধারে ঊষার আগমন। চোখে উজ্জ্বল সকাল, আমি বসি উঠে  অপেক্ষায় থাকি কখন সূর্য ওঠে।

কবিতা ।। গ্লানি ।। সুজন দাশ

গ্লানি  সুজন দাশ  কতটা ক্ষমতা থাকলে ওদের উপেক্ষা করে জনতার দাবি ,  জনগণ বুঝি জেনে গেছে সব?  কার কাছে আছে ক্ষমতার চাবি!  জানে ওরা জানে বিচার করলে  থলের বিড়াল ডাক দেবে মিউ,  বাঁচাচ্ছে তাই সন্দেহ নাই  দেয় না পাত্তা পাবলিক ভিউ।  আগুন জ্বালালে জনতার মনে  নিস্তার নেই এটা মনে রেখো,  দাবানল হয়ে জ্বলে ধিকিধিকি  না শিখলে তাহা দেখে শুনে শেখো।  আর জি করের অভয়া তুমি  ভেবো না জননী হবে না বিচার,  বেরিয়ে আসবে পশুদের নাম  ফুটবে কলমে ঠিকই ফিচার।  আমরা রেখেছি চোখ চারিদিকে  ব্যর্থ হবে না বিচারের বাণী,  ক্ষমা চাই মাগো সবার পক্ষে  চাইনা আসুক এরকম গ্লানি। =================== সুজন দাশ  আটলান্টিক সিটি, নিউজার্সি,  যুক্তরাষ্ট্র।

কবিতা ।। বিনীত আবেদন ।। শংকর ব্রহ্ম

বিনীত আবেদন শংকর ব্রহ্ম ভাতা পাওয়া বুদ্ধিজীবী কোথায় আছ সব? দেশে যা আজ ঘটছে সেটা করছ অনুভব? ভাতাজীবী বুদ্ধিজীবী সব অন্ধ কালা হয়ে, রাজ্যে যা সব ঘটছে দেখবে না তা চেয়ে? ভাতায় লোভে চোখটি বুজে  মুখটি বুজে থেকে,  দলদাস করবে প্রমাণ সব কিছু আজ দেখে? বিবেক কোথায় হারিয়ে গেছে খোঁজ করে তা দেখ দু'এক ছত্র সুবিচার চেয়ে আজকে না হয় লেখ। ------------------------ SANKAR BRAHMA. 8/1, ASHUTOSH PALLY, P.O. - GARIA, Kolkata - 700 084 .

কবিতা ।। তুই যে মেয়ে তিলোত্তমা ।। অশোক দাশ

তুই যে মেয়ে তিলোত্তমা অশোক দাশ তুই যে মেয়ে তিলোত্তমা,  চোখ ফেটে তোর রক্ত ঝরে                    ক্ষতবিক্ষত শরীর, হায়নার  দল  খুবলে খেলো  স্বপ্নের  কুঁড়ি  ছিঁড়ে   নিলো নিলো কেড়ে তাজা ফুটফুটে প্রাণ। তুই যে মেয়ে তিলোত্তমা               বুকে অযুত বল,  দুর্জনের দুর্নীতি ভ্রষ্টাচারের     ভেঙেছিলিস সুখের ঘর। স্বপ্ন  চোখে  সেবার   মন্ত্র              কর্তব্যে  অবিচল,  বাঁচতে তাই দিলো না তোকে  জেনেছিলিস ওদের কু কীর্তির মতলব।  তুই যে মেয়ে তিলোত্তমা  আগুন রাঙা পলাশ কৃষ্ণচূড়া, সারা ভুবন একটাই দাবি জাস্টিস                             রাত দখল ধরনা। তোর   যন্ত্রণার  আর্তনাদ  কোটি  কন্ঠে  অগ্নি-স্বর, ঘৃণার বারুদে জ্বলে ক্রোধ        ধিক্কার ধর্ষক...

কবিতা ।। শোক সন্তাপের দুর্গা ।। সুদামকৃষ্ণ মন্ডল

শোক সন্তাপের দুর্গা সুদামকৃষ্ণ মন্ডল আমার দুর্গা হারিয়ে গেছে শোক বিহ্বল রাতে ফিরবে না সে আর কোনওদিন শরৎ শিউলি প্রাতে ঘরে বাইরে কুমারী প্রতিমা  রাস্তায় ট্রেনে বসে বারো মাসে দিনে রাতে হাঁটছে উষ্ণ শ্বাসে হায়না শেয়ালে রক্ত চাটে শকুনে খায় মাংস নারীর মাংস ওদের প্রিয় মাতৃ নিধনে অংশ রক্তেও ঘামে শহর গ্রাম মিছিলে আমজনতা মোমের বাতি জ্বলছে মৃদু শাসক মুখে ভণিতা রক্ষক দলে ভক্ষক ভিড়ে গদি দখলে হুমকি সাধুর বেশে শয়তান ঘুরে নয়তো বিষয় ঠুনকি চোখের জলে প্লাবন আসে কন্যার পিতা কাঁদছি কন্যা  হারানোর বিষম ব্যথায় সন্তাপে  মুষড়ে  আছি ================== সুদামকৃষ্ণ মন্ডল গ্রাম: পুরন্দর পুর (অক্ষয় নগর) পোস্ট : অক্ষয় নগর থানা : কাকদ্বীপ জেলা : দঃ চব্বিশ পরগণা

কবিতা ।। মেয়েদের স্বাধীনতা চাই ।। সুনীপা শী

মেয়েদের স্বাধীনতা চাই  সুনীপা শী আসিসনে মা মর্তে এবার,  আসিস নে মা আমাদের মাঝে। ভয় যে হয় তোকে ও নিয়ে, দানব দের কু নজরে পরিস নে যেনো তুই ও। স্বর্গ লোকে করেছিস তুই অসুর দমন। মর্ত লোকে করবে কে অসুর নিধন?  জনগণ আজ রাস্তায় নেমে করছে আন্দোলন।  দলে দলে এক হয়ে চাই ছে বিচার।  চাই ছে মেয়েদের নিরাপত্তা,স্বাধীনতা। জনগণের মাথার উপর বসে যারা, তাদের আন্দোলনের ডাক যায় না শোনা।  তাদের কাছে ধর্ষিতা মেয়েদের দাম - মাত্র দশ লক্ষ টাকা। তারা তো জনগণের মুখ বন্ধ করতে চাই।  চাই, জনগণ কে আড়াল করতে। লক্ষীর ভান্ডার আছে,  অথচ ,লক্ষীদের নিরাপত্তা নেই।  কন্যাশী, রুপশী এমন কি -  বছর বছর - তুই মা আসবি বলে, মণ্ডপে মণ্ডপে হাজার হাজার টাকা দিচ্ছে । চাই না আমরা অমন টাকা। চাই না অমন টাকায় মণ্ডপ সাজিয়ে-  তোকে সজ্জিত করতে। ভয় যে হয় দানব দের চোখে , তুই যেনো না -পরিস মা । তুই যেনো না পরিস । ===================== নাম-সুনীপা শী গ্রাম -মামুদপুর থানা -ফলতা পোষ্ট- রাজারামপুর জেলা -দক্ষিণ ২৪পরগনার 

কবিতা ।। গর্জে ওঠো এবার ।। সঞ্জয় বৈরাগ্য

গর্জে ওঠো এবার  সঞ্জয় বৈরাগ্য  বিচার চাই, বিচার চাই বলে, আর আবেদন নয়, নয় কোনো প্রার্থনা  ওগো নারী, এবার তোমরা গর্জে ওঠো! মোমবাতিগুলো নিভিয়ে দিয়ে, জ্বালো এবার, মশাল জ্বালো। প্রভাবশালী, ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে  গর্জে ওঠো, আওয়াজ তোলো। তুমি তো সেই নারী, দশ হাতে, দশটি অস্ত্র নিয়ে বধিলে  মহিষাসুর, শুম্ভ-নিশুম্ভ আর রক্তবীজের দল, তবে আজ কেন ঘুমিয়ে তুমি! আর কতদিন, কতদিন আর, থাকবে তোমরা চুপ? করো প্রতিবাদ, ওঠো গর্জে আমরাও আছি তোমাদের সাথে; আজকে যদি গর্জে না ওঠো, তবে তোমার রক্তে, তোমার যন্ত্রণা'য়  ঐ নরপিশাচদের হবে জয়! ============= ✏️ সঞ্জয় বৈরাগ্য   কৃষ্ণনগর , নদীয়া ।

কবিতা ।। ভবিতব্য ।। জীবন সরখেল

ভবিতব্য জীবন সরখেল ছল চাতুরী নকল সাজে  বাগালেও শিরোপা  মুখোশ খুলে হবেই একদিন  মিথ্যের দফারফা! সবাই জেনে বুঝে আপনার কদর্য চরিত্র  নামটাও মুখে নেবে না কেউ  ঘৃণায় হবে ক্ষিপ্ত! দেরি হলেও সত্যের জয়  সময়ের অপেক্ষা ভুলবেই মেকি অবদান সব অভিনয় আর ভিক্ষা!  মানুষ বাঁচুক খেলুক হাসুক শুভবোদ্ধা তাই চায় শোষণ ক্ষমতা দম্ভে কেউ  শ্রদ্ধা সম্মান কী পায়?  _________________ জীবন সরখেল, বাঁকুড়া, ভারত। 

কবিতা ।। ঘুমিয়েই থাকবে? ।। মনোরঞ্জন ঘোষাল

ঘুমিয়েই থাকবে? মনোরঞ্জন ঘোষাল ঘুমিয়ে কি থাকবে চিরকাল? মানুষ! কুম্ভকর্ণ রাক্ষস সেও ঘুমিয়ে থাকত; ছয় মাস অত‍্যাচারের সাম্রাজ্য ঘিরে দমন নীতি। স্বাধীনতা হরণ করে দমিয়ে রাখা যায়? তারা ছিল ইংরেজ বিভেদী মানুষ লোভ লালসায় সম্পর্কে ধরেছে ছেদ জন্ম দিয়েছে শোষণ দমন বিচ্ছেদ। আর কত কাল? কত কাল সইবে বল শুধু বদল নয়, বদলাও চাই যত পাকা হাত কলুষিত মন আর দুষ্টু বুদ্ধি আর নেই দরকার; হোক সংস্কার  চলে যাক সব মর্গে; ফেলে দাও আবর্জনার দলে নতুন সূর্য উদয় হোক নতুন এক ভোরে। যদি দেখ বেগতিক তার; তবে থাকবে না সেও শেকড় গেড়ে বট বৃক্ষের মত যুগ থেকে যুগ পেরিয়ে যেতে দেবেনা তারে ধরণীর যেন বোঝা হয়ে সে না রয় জয়ী হয়ে চিরকাল অন‍্যায় সমরে। ================= মনোরঞ্জন ঘোষাল আত্মারামপুর পশ্চিম রামেশ্বর পুর বজ বজ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা পিন 700140

কবিতা ।। লিখতে পারো ।। নীলমাধব প্রামাণিক

লিখতে পারো নীলমাধব প্রামাণিক সত্যি তুমি লিখতে পারো পারোই তুমি লিখতে তাই গিলতে হবে যতোই সে হোক অস্বস্তিকর যাচ্ছেতাই । সত্যি সত্যি লিখতে পারো টেনেই সে সব প্রসঙ্গ লিখতে সবার হয়না সাহস হবেন শেষে অনঙ্গ  ? সত্যি কি আর লিখতে পারো কেবল শুধু যাও বলে ঘটতে থাকা দৃশ্যাবলি চোখের সামনে জ্বলজ্বলে । সত্যি সত্যি লিখতে বসে হিজিবিজি ভ্যানতাড়ায় সময় কাটে ঠাটবাটে আর তফাৎ বাড়ে শিরদাঁড়ায় । মিথ্যে না হোক ফলিয়ে যদি বলিয়ে হন নামকরা সত্যি ভীষণ বিখ্যাত লোক ভীতরে বেশ ঘুণধরা । সত্যি তুমি লিখতে পারো বলতে পারো যা ইচ্ছে মিথ্যে কেবল মানুষ হলে গুরুত্ব আর কে দিচ্ছে । -------- নীলমাধব প্রামাণিক কিসমত মাধব নগর (ধোপাহাট) ডাক- পূর্ব চাঁদপুর, মন্দির বাজার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ডাক সূচক-  ৭৪৩৩৩৬

কবিতা ।। একটু শান্তির খোঁজে ।। দীপক পাল

একটু শান্তির খোঁজে দীপক পাল তোমাদের নিয়ে এবার বিবেকের       ডাক এসেছে আমাদের মননে তোমরা এক এক জন চিকিৎসক,       অবশ্য কেউ কেউ বলে ভগবান, কত আশা কত স্বপ্ন নিয়ে       হয়েছ এক এক জন ডাক্তার। মানব সেবার শপথ নিয়ে        করবে সব রোগের সমাধান। মূমূর্ষ রুগীর চিকিৎসা করে        পেয়েছ কত আনন্দ, চোখে জল আনে তখন যখন       সুস্থ হয়ে ভরে তোলে আশীর্বাদে। কত সন্মান পাও মানুষের       পাও যে কত শ্রদ্ধা তাদের কাছে, অতি উৎসাহে করে যাও রুগীর সেবা       বেডের পর বেড অতি নির্বিবাদে। কিন্তু এত নিঃস্বার্থ সেবার কাজ বিঘ্নিত হয়       কিছু দুর্নীতিপরায়ন মানুষের জন্য। হিংস্র পশুরা যেমন তার শিকার ধরে       তার মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খায়, এরাও কেউ কেউ রাতের আঁধারে       নারী সঙ্গে পেতে চায়। অন্ধকারে নীর্জন পথে চলে তারা        বিষাক্ত হিংস্র শ্বাপদের মত সুযোগ খুঁজে বেড়ায় প্রতিবাদীদেরকে       খুন  কর...

কবিতা ।। গণতন্ত্রের পরিহাস ।। মোহিত ব্যাপারী

  গণতন্ত্রের পরিহাস  মোহিত ব্যাপারী  মরছে মানুষ মারছে মানুষ। চলছে খেলা গণতন্ত্রের। বন্দুকের গুলি আর বোমার শব্দে বুক কেঁপে ওঠে। আকাশে বাতাসে গণতন্ত্রের জয় ধ্বনিত হয়। মাইকের স্বরে জননেতার কন্ঠ চড়ে। মাথা নষ্ট হয় সাধারণ মানুষের। গণতন্ত্র গণতন্ত্র গণতন্ত্র। চিৎকার চেঁচামেচি। গণতন্ত্রের নামে শুধুই প্রহসন দেখি। যে জনগণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না তারাই গনতন্ত্রের ভিত্তি। যে জনগণ ভাইয়ের গলা টিপে ধরে তারাই গণতন্ত্রের খুঁটি। একটা বাংলা মদের বিনিময়ে যারা নিজের ভোট বেঁচে দেয়,  তারাই শেষ কথা বলে। দুর্ভাগ্যের এখানেই শেষ নয়। দেশ মানে যার কাছে অস্পষ্ট ভূখণ্ড, সরকার মানে যার কাছে দু'কেজি আটা পাঁচ কেজি চাল, তারাই সরকার নির্বাচন করে। একে একে ভোট দিতে যায়। ব্যালট পেপারটা বুক পকেটে নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। উৎকোচ নিয়ে ভোট দেয় যারা তারাই আবার আশা রাখে, ঠিক পথে হাঁটবে সরকার। মরছে মানুষ মারছে মানুষ। চলছে বোমা গুলির লড়াই। রাজনীতির ময়দানে স্বজন দুর্জন হয়। আর নেতারা সব এক টেবিলে চুমুক দেয়। গণতন্ত্র গণতন্ত্র গণতন্ত্র। অকারণ চিল চিৎকার। গণতন্ত্রের নামে শুধুই প্রহসন। পেটে খিদে নিয়ে খালি পায়ে মানুষ চায়...

কবিতা ।। বিচার চেয়ে যাব ।। শঙ্খ চক্রবর্তী

বিচার চেয়ে যাব   শঙ্খ চক্রবর্তী   তুমি আমায় গন্ধ দিয়ে যেও।  আমি পরাগরেণু হব।  মাটির গায়ে ছড়িয়ে পড়ে জোরসে বিচার চাব।  বিচার যদি না মেলে তবে হাওয়ায় উড়ে যাব।  নতুন দেশের নতুন ফুলের গর্ভমুণ্ডে মিশে,  নতুন রঙের নতুন গানের নতুন  ফুল ফোটাব।  পাওয়া যত অবিচারের, কথা যত অন্ধকারের, সবই ভুলে যাব।  আমি পরাগরেণু হব।  তুমি বৃষ্টি দিয়ে যেও,  এই মাটিতেই আবার জন্ম লব।  মাটির বুকে ফসল হয়ে, কখনো সোনার রোদ্রু হয়ে, আবার বিচার চাব। তুমি আমায় হৃদয়ে ধরে রেখো।  আমি তোমার গান গাব। এমনভাবেই প্রতিকালে বিচার চেয়ে যাব।  ======================= শঙ্খ চক্রবর্তী ১৭৪, পূর্ব সিঁথি বাই লেন,  রাধারমণ প্লাজা, ফোরথ ফ্লোর, ফ্ল্যাট ফোর এ, দমদম, কোলকাতা।

কবিতা ।। অপেক্ষায় ।। রণেশ রায়

অপেক্ষায় রণেশ রায়  নিশি ডেকে বেড়ায়  চোখ বন্ধ রাতে, ঘুম হারায়,  কার যেন পদধ্বনি শুনি----  কোন এক নীরবতা জানায়, কথা বলে আমার অশরীরি বেটি  অভয়া বা নির্ভয়া বা তিলোত্তমা  বা ওই আদিবাসী মেয়েটি---   সুপ্ত নারীশক্তির জাগরণ, ওদের বুকে ত্রাস ছড়ায় নতুন দিনের দিশা দেখায়  অন্ধকার পথে আলো ছড়ায়, ছিনিয়ে নেয় চলার অন্ধকার পথ,  লক্ষ্য কোটি মানুষের গর্জন জ্বলে ওঠে মশাল  রাতের আঁধারে ঊষার আগমন। চোখে উজ্জ্বল সকাল, আমি বসি উঠে  অপেক্ষায় থাকি কখন সূর্য ওঠে। ===========

কবিতা ।। মেয়ে ডাক্তার খুঁজিস না আর ।। প্রবীর বারিক

মেয়ে ডাক্তার খুঁজিস না আর  প্রবীর বারিক  "মা মাগো আমি দেশসেবা করব বীর দেশপ্রেমিকের মতো  দরিদ্র আর্তের জন্য উৎসর্গ করব ঘুচিয়ে দেব সকল জ্বালা ক্ষত।" ছোট্ট মেয়ের জীবনাদর্শে মা আপ্লুত "তোর স্বপ্ন সার্থক হোক মামি" মা একগাল হেসে বুকে টেনে নেয় "মৌ তুই আমাদের জীবনে সবচেয়ে দামি"। বইয়ের পাতায় বুঁদ হয়ে কঠোর সংগ্রাম  জীবনে এমন কিছু করতে হবে যা মানুষকে ভগবানতুল্য করে দেয় মেয়ে হয়েও টেক্কা দেবে সবে। দিনরাত এক করে ঈশ্বর হওয়ার সাধনায়  সর্বপ্রকার স্বাধীনতা ছিল তার পিতা কখনও আক্ষেপ করে না "মেয়ে হয়েছে আমার"। বরং আদর যত্ন ত্যাগ তিতিক্ষা বহুগুণে বাড়িয়ে দেন মানব সেবক ডাক্তার হতে হবে আপোষহীন স্বপ্নের লেনদেন। নারী পুরুষ সমানাধিকার এক বিংশের বাণী তিলোত্তমাও টের পেয়েছে কত সম্মানহানি। ভগবানরূপে সেবা করে যায়  বিনিদ্র রাত্রি সেমিনার হলে চোখ ঢলে যায় মৃত্যুপথের যাত্রী। নর পিশাচ পাষণ্ড ধর্ষক মদ্যপ ক্ষুধার্ত হায়না  চুল থেকে নখ সর্বাঙ্গ রক্তস্নাত আয়না। সমাজ বিরোধী অমানুষেরা আজ দাপায় যত্রতত্র ওরা হল এক দানব নেই তাদের কোন গোত্র। সভ্য সমাজ বুদ্ধিজীবী বিক্রি হয়...

কবিতা ।। তিলোত্তমা ।। শম্পা পাত্র

তিলোত্তমা শম্পা পাত্র  হে অভয়া কাদম্বিনী তিলোত্তমা তুমি প্রতিবাদের পথ দেখলে আমার বঙ্গভূমি। মৃত্যু আজি পরাজিত তোমার রুদ্র রূপে কত শত নর নারী  জ্বলছে মশাল ধূপে। সভ্য সমাজ মুখোশ পরে  করে রক্তের খেলা নগ্নতার ঘোর বহিঃপ্রকাশ সহনের শেষ বেলা। বিচারের দাবি সবার মুখে হৃদয় বহ্নিশিখা দোষীদের আর নয় গো ক্ষমা  ফাঁসি হোক তার টিকা। লোক সমাবেশ সড়ক জুড়ে সিংহ সম গর্জন অত্যাচারী মূষিক গর্তে  কুর্শি করে বর্জন। =========== 

কবিতা ।। আসিস না মা ।। প্রিশিতা পরী

আসিস না মা প্রিশিতা পরী  এই বাংলায় আসিস না মা কৈলাস ধামেই থাক তুই যারা তোকে একহাতে পুজো করে তারাই অন্য হাতে জ্যান্ত্দুর্গা নিধন করে। তোর জন্য তাই আর কাশফুল হাসে না মহালয়ার সুরও বিষন্নতায় পূর্ণ হয়েছে কুমোরটুলিতে তোর মৃন্ময়ী রূপ আর চিন্ময়ী নেই তোকে বরণ করার মতো মায়ের আঁচল নেই। তোর আগমনে নববস্ত্রে নবপুষ্পে ভরে উঠতো ধরা খুশির বীণার রাগ ছড়িয়ে পড়ত আকাশে বাতাসে সকল গ্লানি বেদনা ভুলে উৎসবে মত্ত হতো বাঙালি যে হাত তোর পাদস্পর্শ করতো সে আজ কলঙ্কিত। ফিতে কেটে যে তোর আবাহন দিত মুখোশের আড়ালে সেই খুনের কান্ডারী ধর্ষকের মুখ বাঁচাতে ন্যায়ালয়ে হাজির বাঙালি হয়ে আমরা লজ্জিত। যে শারদোৎসব বাংলার ঐতিহ্য মাতৃশক্তির আরাধনা হত প্রতিটি ঘরে সে আজ মুহ্যমান তাসের ঘরের মতো ভগ্ন গগন বিদারী আর্তনাদে মানুষ আজ ঘুমহীন। ================

ছড়া ।। শিরদাঁড়া ।। প্রনীল মাধব

শিরদাঁড়া প্রনীল মাধব শিরদাঁড়াটা কোথায় গেল পাই না খুঁজে ভাইরে  সাধারণের মিছিল দেখে ভয়ে মরে যাইরে । পদলেহল করে করে থাকি সদাই নিচে মাথা তুলে দাঁড়াবো কি বিবেক বুদ্ধি মিছে। কেমন করে নামবো পথে প্রতিবাদের ভিড়ে তাবেদারি না করে যে ভিজে না মোর চিড়ে। বুদ্ধিজীবী ছিলাম ভালো সুটে বুটে কোটে  আজকে সবাই ধিক্কার দেয় রে আমার উপর চটে। শিরদাঁড়াহীন বাঁচবো না আর করছে খোকা শপথ না যদি আজ শুধরে যাই  আসবে ঘরে আপদ। ==========

ছড়া ।। জাস্টিস ।। সুজিত কুমার মালিক

  জাস্টিস সুজিত কুমার মালিক  ছুটছে গিমিক বাজছে রিমিক বুনছি লিরিক। আছি ভাতায় মিলছে খাতায় তলায় তলায়। নেই আর্জি  বড্ড পাজি সব কারসাজি। এসো উৎসবে, সব ভুলে যাবে বিচার পাবে! নেই অহংকার ছাড়বো চেয়ার ডোন্ট কেয়ার। মাতাল হাওয়া  পাল্টি খাওয়া চোখ সওয়া। শহীদ মিনার আর জি কার এক দাবি এক স্বর। ওহে মাস্টার একি ডাক্তার পাবে বিচার! =================   সুজিত কুমার মালিক  হেলান, আরামবাগ, হুগলী 

কবিতা ।। উৎসব ।। গীতা রাউথ

উৎসব গীতা রাউথ  কী উৎসব কোথায় হবে জানো কি তার দেশ মহালয়ার গান বাজবে আগমনীর রেশ। মাতবে কারা হই হুল্লোড় নব পোশাক পরে বোধ বুদ্ধি নেই যাদের শোষণ জালে মরে। যে কন্যাটা হাসতো সদা পিতামাতায় দেখে শুভ বিজয়া প্রণাম দিত সোহাগ রাশি মেখে। ফিরবেনা সে মায়ের কাছে শারদ প্রাতে কভু প্রতীক্ষায় প্রহর গুনে বিচার চাই তবু। প্রতিবাদী পা থেমে যাক না ধামা চাপায় রোষে বঙ্গদেশে অপরাধীরা নৃত্য করে জোশে। ===========

কবিতা ।। রণজয় ।। বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত

রণজয়  বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত  যা সুন্দর তা সুন্দর  তার ঘটে যাওয়া সর্বনাশে উজ্জ্বল নয় ফিকে হতে হতে  হারিয়ে যায় সর্বনাশী মন কোথায় পালাবে তুমি সুমন!  পালাতে পালাতে ইতিহাস থেকে  কবে আর খুঁজে পাবে  জীবন! ওরা কারা তোমার জীবন থেকে সূক্ষ্মতায় কেড়ে নিতে চায় অধিকার! চুপ নয়, তোমার অস্ত্র আজও নির্ভয় পৌরাণিক চিৎকার।  আজন্ম রণজয়।           --০-- বিশ্বজিৎ সেনগুপ্ত  যশোহর রোড  অমরপল্লী, কোলকাতা-৭০০০৭৪ 

কবিতা ।। অবশিষ্ট কত কথা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

অবশিষ্ট কত কথা তীর্থঙ্কর সুমিত অবশিষ্ট কত কথা চাদরের মত জড়িয়ে আছে নদীর এপাড় থেকে ওপাড় বিস্তর ব্যবধান না এর ঘরে হ্যাঁ কথারা দাঁড়িয়ে ক্ষণিকে ক্ষণিকে মিশে যায় অবলুপ্তির প্রান্তরেখা তাইতো আজও পথে মিছিল কৃষ্ণচূড়া গাছে পাখি বসে নদী মেশে সাগরে আমি দাঁড়িয়ে থাকি গোধূলির রঙ গায়ে মাখবো বলে। ============= তীর্থঙ্কর সুমিত মানকুন্ডু ব্রাহ্মণ পাড়া হুগলী  ৭১২১৩৯

গল্প ।। আলোকতীর্থ ।। সৌমেন মণ্ডল

আলোকতীর্থ   সৌমেন মণ্ডল   ( এক) রাঘব সরকার শিক্ষাদরদী মানুষ। শিক্ষক হয়েছেন , তবে এখনো পড়াশোনা ছাড়েননি। যখনই সময় পান বই নিয়ে বসেন। শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষায় তিনি রাজ্যে প্রথম হয়েছিলেন। চাইলে সুসজ্জিত শহরের কোনো স্কুলকে কর্মক্ষেত্র করতেই পারতেন। কিন্তু তাঁর সাধক মন বেছে নিয়েছে গ্রামের এক প্রত্যন্ত স্কুল। উদ্দেশ্য , আলোর সাধনা — মনের মতো কিছু মানুষ গড়া।       ছোট্ট একটা বাজার পেরিয়ে স্কুল। সবুজে শোভিত তার চত্বর। বিল্ডিংগুলি আয়তাকারে চতুর্দিক থেকে ঘিরে রেখেছে মধ্যবর্তী প্রাঙ্গনকে। প্রথম দিন এই স্কুলে ঢোকার মুখে রাঘববাবু নিজ আদর্শকে মনে মনে প্রণতি জানালেন। স্কুলে যোগ দিয়ে অফিসিয়াল আনুষ্ঠানিকতা ও সহকর্মীদের সাথে আলাপ সেরে শ্রেণিকক্ষে পড়াতে গেলেন। পড়াশুনায় দৈন্যতাকে উপলব্ধি করে মন প্রাণ দিয়ে দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রমে তিনি শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনাকে প্রস্ফুটিত করতে চাইলেন। কিন্তু যত সময় গড়াল ততই অভিজ্ঞতা অন্যরকম হতে লাগল। একদিন ক্লাস নাইনে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ' দাম ' পড়াচ্ছিলেন। গল্পের একটি বাক্য ছিল ' গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করা যায় না...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং অফিসে ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

বর্ষার কবিতা ।। বিচিত্র কুমার

কয়েকটি বর্ষার কবিতা বিচিত্র কুমার (০১) শ্রাবণের আকাশ শ্রাবণের আকাশ, যেন অশ্রু লুকিয়ে রাখা দুটি চোখ; হাসির আড়ালেও যার ভেতরে বৃষ্টি জমে থাকে। কদমের গন্ধ, যেন শৈশবের ডাক; সময় যত দূরেই নিয়ে যাক, মন তাকে ভুলতে পারে না। ভেজা পথ, যেন জীবনের অসমাপ্ত অধ্যায়; প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন অর্থ লেখা হয়। যে স্মৃতিকে সম্মান করতে পারে, সে বর্তমানকেও সুন্দর করে বাঁচতে শেখে। (০২) ভেজা বিকেল বর্ষার বিকেল, যেন পুরোনো ছবির অ্যালবাম; প্রতিটি দৃশ্য ভুলে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনে। দূরের বাঁশবন, যেন অপেক্ষার দীর্ঘ ছায়া; সময় বাড়ে, অথচ আশার আলো নিভে না। পথের ছোট্ট জলধারা, যেন অবহেলিত স্বপ্ন; একদিন সেও নদীর সঙ্গে গিয়ে মিশে। ছোট বলে কোনো স্বপ্নকে অবহেলা কোরো না; সমুদ্রও একদিন একফোঁটা জল থেকেই শুরু হয়। (০৩) বৃষ্টির প্রদীপ বর্ষার রাত, যেন গভীর ধ্যানের একটি মন্দির; অন্ধকারও সেখানে আলোকে জন্ম দিতে শেখায়। বৃষ্টির ফোঁটা, যেন ছিন্ন স্বপ্নের মুক্তো; মাটিতে পড়েই তাদের প্রকৃত মূল্য প্রকাশ পায়। ভেজা জানালা, যেন মনের আয়না; অশ্রু মুছে গেলেও অনুভূতির দাগ থেকে যায়। ভাঙা স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়েই মানুষ নতুন আকাশ দেখতে ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত

 তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত নবপ্রভাতের   আহ্বান রাতের   শেষে   ফুটল   ভোর , সোনার   রঙে   রাঙে   ঘোর।   শিশির ভেজা   ঘাসের   বুকে , সূর্য   হাসে   মিষ্টি   মুখে। পাখিরা   গায়   নতুন   গান , জেগে   ওঠে   সারা   প্রাণ। নদীর   জলে   রোদের   নাচ , মেঘের   গায়ে   আলোর   আঁচ। ফুলের   ডালে   মধুর   গন্ধ , মনটা   ভরে   আনন্দ। হাওয়া   বয়ে   আনে   সুখ , মুছে   দেয়   সব   দুঃখ। নতুন   দিনের   নতুন   ডাকে , স্বপ্ন   জাগে   হৃদয়   ফাঁকে। চলার   পথে   আশা   সাথি , সাহস   থাকে   প্রতি   রাতে। পরিশ্রমে   ফুটুক   ফুল , ভেঙে   যাক   সব   ভুল। ভোরের   আলো   বলে   তাই , জীবন   জয়   করবই।   বৃষ্টির   সুরে   বাংলা কালো   মেঘে   ঢাকে   আকাশ , বৃষ্টি   নামে   উচ্ছ্বাস। কদম...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭