Skip to main content

গল্প ।। যা বলা হয়নি, যা থেকে গেছে ✍️ শিবাশিস মুখার্জী

 

প্রেম-নবপ্রভাত

যা বলা হয়নি, যা থেকে গেছে

✍️ শিবাশিস মুখার্জী

 

১

আমার স্ত্রীর শহর ছিল লখনউ। লখনউই ওর বেড়ে ওঠার মাটি, ওর ভাবনার ভাষা, ওর নিঃশ্বাসের শহর।
আমি যখন প্রথম ওর গল্প শুনি, তখন বুঝিনি যে
একটা শহর কীভাবে একজন মানুষকে এত গভীরভাবে গড়ে তুলতে পারে।

আমার স্ত্রীর চোখে আমি প্রায়ই চারটে শহর দেখি।
চারটে নদী, চারটে ঋতু, চারটে ভাষা।
দারভাঙ্গা, ঝাঁসি, লখনউ, আর শেষে কলকাতা।
বাইরের মানুষ হয়তো কেবল মানচিত্রে রেখা টেনে
এই নামগুলোকে আলাদা করে রাখে, কিন্তু ওর ভেতরে কোনও শহরের দেয়াল নেই — সবকিছু একসঙ্গে বয়ে চলে, যেন কোনও প্রাচীন নদীর ডেল্টা।

দারভাঙ্গা তার শৈশব। ওর প্রথম হাঁটার শব্দ, প্রথম বৃষ্টিভেজা দুপুর। ওর কণ্ঠে যখন আমি সেই সময়ের গল্প শুনি, মনে হয় শহরটা যেন সবসময় কুয়াশার ভেতর ডুবে আছে। সব মিলিয়ে দারভাঙ্গা যেন এক অস্পষ্ট প্রস্তাবনা। ও বলত,
"সেই শহরে কোনও তাড়াহুড়ো ছিল না।
মানুষ যেন সময়ের সঙ্গে বসবাস করত,
সময়কে পেছনে ফেলে নয়।"

কিন্তু খুব ছোটবেলাতেই ওর পরিবার চলে আসে ঝাঁসি। শহরটা ছিল কঠিন।পাথরের দেয়াল, লাল মাটির দুর্গ, আর ইতিহাসের ভার যেন সবসময় কাঁধে চেপে বসে আছে।ঝাঁসি মানেই রানির লড়াই, তলোয়ারের ঝনঝনানি,শক্তির কিংবদন্তি।
ওর কিশোরবেলার ভাষায় তখন শক্ত একটা সুর চলে এল। দারভাঙ্গার সরল মিঠে মৈথিলীর সঙ্গে মিশে গেল ঝাঁসির হিন্দি উচ্চারণ। ও বলত, "ঝাঁসি আমাকে দাঁড়াতে শিখিয়েছিল, যখন সবকিছু ভেঙে পড়ছিল।"

কিন্তু জীবন থেমে থাকেনি। তারপর এলো লখনউ।
এই শহরটাই আমার কাছে সবচেয়ে জটিল, সবচেয়ে নরম, সবচেয়ে গভীর রহস্যে ভরা। আমাদের বিয়ের পর প্রথমবার যেদিন আমি লখনউ গিয়েছিলাম, চারবাগ স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নামতেই মনে হল আমি কোনও শহরে নই, বরং এক পুরনো কবিতার পাতায় পা দিয়েছি।

লখনউর বাতাসে যেন একটা ধীরে বয়ে যাওয়া ছন্দ।
এখানে কথার মধ্যেই নরম সিল্কের পরশ, শিষ্টতার ভেতরে লুকিয়ে থাকে হাহাকার, গলির কোণে এখনো ঝুলে থাকে বাইজি সংস্কৃতির শেষ প্রদীপ। আমিনাবাদের ভিড়,
চিকনকারির শাড়ির দোকান,
রাতের হাজরতগঞ্জের আলো —
সবই যেন একসঙ্গে বাস্তব আর স্বপ্ন।

কিন্তু ওর জীবনের আসল বাঁকটা এসেছিল লখনউতে। লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার দিনটার কথা ও প্রায়ই আমাকে বলেছে। তখনও লখনউ ওর কাছে শুধু একটা 'শহর' ছিল, কিন্তু গোমতী নদীর পাশ দিয়ে যখন প্রথমবার শহরে প্রবেশ করল, ও বুঝেছিল, এখানে ইতিহাস শুধু বইয়ে লেখা নেই — এখানে ইতিহাস বাতাসে মিশে আছে। পুরনো হেরিটেজ বিল্ডিং, ফিকে সাদা কুলুঙ্গিতে ঝুলে থাকা আলো, ইমামবাড়ার সবুজ গম্বুজ, আমিনাবাদের ছোট ছোট অলিগলি, চকের বাজারে মসলা পেষার শব্দ, হাজরতগঞ্জের ব্যস্ততা, নিশাতগঞ্জের নীরব রাত — সব মিলিয়ে লখনউ যেন একটা বিশাল গল্পের বই, যেখানে প্রতিটি মোড়ে নতুন একটা পৃষ্ঠা।

লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ে অরুণিমা সমাজতত্ত্ব পড়ত আর একটা আলাদা কৌতূহল গড়ে উঠেছিল আমাদের মধ্যে— মানুষের আচরণ, সম্পর্কের ভাঙাগড়া, শহরের ভাষার ভিন্নতা — সবকিছু। এই শহরে সমাজকে পড়া যায় দু'ভাবে — ক্লাসরুমে আর ফুটপাথে। ফুটপাথের পাশে বসা পুরনো গজলশিল্পীরা, নুক্কড়ের চায়ের দোকান, স্টেশনের কুলির ভিড়, আমিনাবাদের শাড়ির দোকানের দরদাম — সবকিছুই ওর কাছে ছিল সমাজতত্ত্বের পাঠ্যবই।

লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের পর ওর জীবনে এল আইটি কলেজে পড়ানোর।
সেই কলেজের করিডরে ও শিক্ষকতা শুরু করে।

ওর ছাত্ররা প্রায়ই হিন্দি মিশিয়ে ইংরেজি বলত,
আর ওর মাতৃভাষা বাংলা উচ্চারণ। তাদের কাছে ছিল এক ধরনের রহস্য। ভাষার এই পার্থক্য
আমার স্ত্রীর জীবনে একটা বড় শিক্ষা ছিল। আমি জানতাম একটা শহরকে বোঝার জন্য ওর ভাষা শেখা লাগে না, শুধু ওর শব্দগুলোর ভেতরে কীভাবে মানুষ বাঁচে সেটা দেখতে হয়।"

আমার বিয়ের পর প্রথমবার যখন লখনউ গেলাম,
ট্রেন পৌঁছল চারবাগ স্টেশনে। রাত তখন নামছে ধীরে ধীরে, স্টেশনের লাল ইটের দেওয়াল পুরনো কালের মতো দাঁড়িয়ে আছে। আমার মনে হচ্ছিল
আমি যেন কোনও সিনেমার সেটে নেমেছি।
ও আমার হাত ধরে বলল, "এই শহরটা তোমাকে আমি আলাদা করে দেখাব।"

একদিন সন্ধ্যায় আমাকে নিয়ে গিয়েছিল ভাতখান্ডে সঙ্গীত বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে এক প্রবীণ উস্তাদ 
হারমোনিয়ামে গজল গাইছিলেন। বলেছিল,
"তুমি জানো, এখানে গজল মানে শুধু সঙ্গীত নয়,
এটা একটা জীবনদর্শন।"

পরের দিন আমরা বের হলাম আমিনাবাদের ভিড়ভাট্টা দিয়ে। রাস্তার এক পাশে পুরনো টিনের চালের দোকান, পাশে মসলা মিশিয়ে রাখার ধোঁয়া,
আর বাতাসে ভাসছে লখনউর ইতিহাসের গন্ধ।

আমি আর আমার স্ত্রী তখন হেঁটে যাচ্ছিলাম লখনউয়ের সবচেয়ে বিখ্যাত তুন্দে বিরিয়ানির দোকানের দিকে। দোকানের বাইরে সারি—লোকেরা দাঁড়িয়ে, চেয়ার খুঁজে, টেবিলে বসে, বিরিয়ানি খাচ্ছে। শহরের শব্দের সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল কৌতূহল, আনন্দ, আর ক্ষণিকের নীরবতা।

আমার স্ত্রী বলল, "দেখছো, লখনউ মানে শুধু বাজার নয়, শব্দ নয়, মানুষ নয়— লখনউ মানে তুন্দে বিরিয়ানি। একবার চেখে দেখলে বুঝতে পারবে,
এই শহরের স্বাদও ইতিহাসের মতো গভীর।"

দোকানের ভিতরে ঢুকেই ধোঁয়া, মশলার সুবাস, গরম বিরিয়ানির ধোঁয়া আমাদের মুখে এসে লেগে যায়। আমরা টেবিলে বসি, চামচ দিয়ে বিরিয়ানি মুখে ফেলি। এই মুহূর্তে আমি বুঝি, শহর, খাবার, মানুষ, ইতিহাস— সব মিলেই একজন মানুষের ভেতরের জীবনচক্র তৈরি করে।
এই পুরোনো দোকানে বসে দেখলাম কলকাতার বিরিয়ানির মতো এখানে আলু নেই। স্ত্রী হাসল, "তুমি ভাবছ, আলু না দিলে বিরিয়ানি হয় না?" আমি চুপচাপ মাথা নাড়লাম। তখন সে বলল, "এটাই তো লখনৌ। এখানে প্রতিটি গন্ধ, প্রতিটি স্বাদ, প্রতিটি ছোঁয়া অন্যভাবে শেখায়। নতুনকে গ্রহণ করা, পুরনোকে ছেড়ে দেওয়া।"


আমার শ্বশুরবাড়ি ডালিগঞ্জ।
প্রথমবার সেখানে গিয়ে যা সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে,
তা হল আঙিনার ভিজে মাটির গন্ধ আর বেড়াল পট্টি। ছোট্ট, ছোপছোপ, লাল-ধূসর একদল বেড়াল।
তারা ছিল লখনউর অলিগলির মতোই ধীর, নিজের গতি অনুযায়ী চলত, কেউ না দেখলেও সে সবকিছু জানত। প্রথম দিনেই আমাকে চেনার চেষ্টা করল। ওদের চোখে ছিল এক অদ্ভুত দার্শনিক ভ্রাম্যমাণ দৃষ্টি। মাথা টিপে ঘুরে বেড়ানো, আমার জুতোতে ঘষে ঘষে কেবল অভ্যর্থনা, আর কখনও কখনও জানালার পাশে বসে নীরবভাবে বাইরে তাকানো — মনে হতো তারা শহরের অতীত আর বর্তমানকে একসাথে ধরতে চাচ্ছে। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছিল দম বিরিয়ানির ধোঁয়া, আর টেবিলে সাজানো ছিল শিরমালের রুটি।
রাতের খাওয়ার পর ছাদে উঠে গিয়ে আমরা দু'জনে বসেছিলাম। গোমতী নদীর হাওয়া দূরে বয়ে যাচ্ছিল,
আর আকাশে টিমটিমে তারা। ও তখন গল্প করছিল
লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের, আইটি কলেজের ছাত্রদের, আর আমিনাবাদের ঠাসা বাজারের। আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন ওর ভেতরে গোপনে শহরের প্রতিটি কোণ দেখছি।

পরের দিন ও আমাকে নিয়ে গেল ইমামবাড়া।
দেয়ালের নকশা, প্রতিটি খিলান, আর সেই ভৌলভুলাইয়া করিডর — সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল
ইতিহাস এখনও নিঃশ্বাস নিচ্ছে। হয়তো নিজের শহরের গোপন সৌন্দর্য প্রিয়জনকে দেখানোর মধ্যে
একটা ব্যক্তিগত পরিতৃপ্তি থাকে।

বিকেলে আমরা গিয়েছিলাম হাজরতগঞ্জ,যেখানে রঙিন আলোয় ঢাকা দোকানপাট, বইয়ের দোকানের ধুলো গন্ধ, চায়ের দোকানে আর কুলফি, চাট আর রংবেরঙের দোকান। 

সন্ধ্যায় ও আমাকে নিয়ে গেল রামকৃষ্ণ মঠে।
সেখানে প্রার্থনার ঘণ্টার ধ্বনি ও গোমতীর হাওয়া একসাথে মিশে যাচ্ছিল। আমার মনে হচ্ছিল,
এই শহর শুধু মুসলিম কবি আর নবাবি ইতিহাসে নয়,
এই শহরের আকাশে বহু দর্শন পাশাপাশি বেঁচে আছে।

লখনউতে কাটানো দিনগুলো আমাকে অদ্ভুতভাবে বদলে দিয়েছিল। আমি শিখেছিলাম শহরকে বোঝা মানে তার অলিগলির ভাষা শোনা, তার বাজারের কোলাহলে কান পাতানো, তার নিঃশব্দ রাতের ভেতর
নিজেকে একবার নতুন করে খুঁজে পাওয়া।

আমার স্ত্রী একদিন বলেছিল, "শহর আসলে মানুষের মতো, ওরও একটা স্মৃতি আছে, ওরও একটা নীরবতা আছে।" আমি তখন ওর মুখের দিকে তাকিয়েছিলাম আর মনে হয়েছিল, ও শুধু লখনউতে থাকেনি, ও লখনউ হয়ে গেছে।

আমরা কলকাতায় থাকি, কিন্তু কখনও কখনও যখন ও গজল গুনগুন করে, বা চুপচাপ নিশ্বাস ফেলে আমিনাবাদের অলিগলির কথা ভাবে, আমার মনে হয় লখনউ এখনও আমাদের ঘরে আছে। তার গন্ধে, তার সুরে, তার অন্তহীন ইতিহাসে।


২
কলকাতার সকাল। জানলার কাচে জমে থাকা আলোয় শহরটাকে দূর থেকে দেখতে ইচ্ছে করে। রাস্তায় তীব্র কোলাহল, অথচ ভেতরে কোথাও এক অদ্ভুত নীরবতা। চায়ের দোকানের ধোঁয়া, বাসের হর্ন, বইয়ের ব্যাগ কাঁধে ছুটে চলা ছাত্রছাত্রীরা—সবকিছু প্রতিদিনের মতো এক অদৃশ্য ছন্দে বাঁধা। কিন্তু সেই ছন্দের ফাঁকেই লুকিয়ে থাকে কিছু অশ্রুত শব্দ, কিছু অদেখা মুহূর্ত, যা কেবল অন্তর্গত মনে বাজে।
আমার জীবনও এই শহরের মতো—কোলাহলের ভেতরেই নীরবতার বাস। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই আমি। সকাল থেকে দুপুর, একের পর এক ক্লাস, ছাত্রছাত্রীদের ভিড়, তাদের প্রশ্ন, তাদের অজস্র সম্ভাবনা—মনে হয় সময়টা যেন অন্য কারও জন্য বয়ে যাচ্ছে। অথচ আমার ভেতরে থাকে এক অন্তহীন নিঃশব্দ নদী। আমি কথা বলি, অথচ নীরব থাকি।
আমরা এখন কলকাতায় থাকি। শহরের চেনা ভিড়, লাল-সবুজ আলো, রাস্তার ধারে সারিবদ্ধ গাছ, ফুটপাতের দোকান, বইপত্র, পথের ধুলো—সবই আমাদের প্রতিদিনের অংশ। আমার স্ত্রীর জীবন আমার থেকে একেবারে আলাদা। হারমোনিয়ামের রিড এ আঙুল ছোঁয়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ছোট্ট ফ্ল্যাটে ঢুকে পড়ে অন্য এক আলো। ওর গলায় যে গান ধ্বনিত হয়, তা কেবল সুর নয়, এক ধরনের মুক্তি। আমি পাশের ঘরে বসে নোটস লিখি, তবু মনে হয়—তার গানের ভেতরেই আমার নিঃশব্দ সময় বেঁচে থাকে।
আমার স্ত্রীর পৃথিবী আমার থেকে বহুগুণ রঙিন। গান শেখা, ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, ছোটখাটো বেড়াতে যাওয়া—তার প্রতিটি দিনই নতুন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ের প্রতি ওর এক অদ্ভুত টান। প্রায়ই বলে, "যদি একদিন পাহাড়ের কোলে থাকতে পারতাম! সকালের কুয়াশা, চা-বাগানের গন্ধ, নিস্তব্ধতার ভেতরে গান গাইতাম।"
আমি শুনি। কিছু বলি না। ও জানে না, তার এই অসম্পূর্ণ স্বপ্নের প্রতিটি রেখা আমার হৃদয়ে নীরবে জমা হয়।
আমাদের বাড়ি চুঁচুড়ায়। গঙ্গার ধারে সেই পুরনো বাড়ি, যেখানে শৈশবের প্রতিটি দুপুর আজও নীরবতার মতো ঝুলে আছে। নদীর ঘাটে বসে জলস্রোত দেখা, পাড়ার গলিতে ক্রিকেট খেলা, বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় ভিজে ফেরা—সবকিছু আজও ভেতরে কোথাও জীবন্ত। কলকাতার এই কোলাহলে থেকেও আমি প্রতিদিন চুঁচুড়ার সেই ঘাটে ফিরে যাই। কখনও স্ত্রীকে বলি না। বলা যায় না, কারণ কিছু স্মৃতি শব্দ সহ্য করতে পারে না।
আমাদের সম্পর্কে আছে নীরবতা, আবার আছে গোপন উষ্ণতা। কখনও আমরা ঝগড়া করি—তুচ্ছ কারণ, সামান্য ভুল বোঝাবুঝি। কিন্তু প্রতিবারই আমরা জানি, সেই ঝগড়ার নিচে আছে এক গোপন প্রবাহ, যা কখনও থামে না। রাতে খাওয়ার টেবিলে বসে আমরা দু'জনেই চুপচাপ খাই। মনে হয়, আমাদের প্রেমের ভাষা এই নীরব সুরের মধ্যেই লুকিয়ে আছে।
আমার স্ত্রী ভক্ত হনুমানজির। প্রতিদিন সকালে রাম নাম লেখে। একটার পর একটা নাম, পাতার পর পাতা। ওর বিশ্বাসের ভেতরে আমি দাঁড়িয়ে থাকি, দূর থেকে দেখি। আমার বিশ্বাস আলাদা, কিন্তু তার ভক্তির ভেতর দিয়ে আমি নিজের নীরব প্রার্থনা খুঁজে পাই। মনে হয়, জীবনের সমস্ত ক্লান্তি, দুঃখ, আকাঙ্ক্ষা—সবকিছুই এই রাম নামের ভেতরে আশ্রয় নেয়।
মাঝে মাঝে আমরা চন্দননগরে যাই। শ্বশুরবাড়ির পুরনো বাড়ি, গঙ্গার ধারের আলো, ফরাসি কলোনির নিস্তব্ধতা—সবকিছুই অন্য এক আবহ তৈরি করে। স্ত্রী চন্দননগরে গেলেই যেন নতুন মানুষ হয়ে ওঠে। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করে পুরনো দিনের স্মৃতি রঙিন করে। আমি পাশে বসে দেখি। মনে হয়, আমাদের সম্পর্কের অদেখা শিকড়গুলোও এখানে কোথাও লুকিয়ে আছে।
আমাদের সংসারে বড় কোনও চমক নেই, নেই নাটক। আমাদের প্রেম বেঁচে থাকে ছোট ছোট মুহূর্তে। সকালের একসঙ্গে চা খাওয়া, বইয়ের পাতায় আঙুল ছোঁয়ানো, সন্ধ্যায় হারমোনিয়ামের সুর, কিংবা ঝগড়ার পর নীরব হাসি—এসবই আমাদের অনুচ্চারিত ভাষা।
রাতে, শহর ঘুমিয়ে গেলে, আমি বারান্দায় বসে থাকি। দূরে আলো ঝলমল করে, হাওয়ার মধ্যে অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা। স্ত্রী এসে পাশে বসে, কিছু বলে না। সেই নীরবতার মধ্যে আমি শুনি—চুঁচুড়ার গঙ্গার জল, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি বাতাস, ছাত্রছাত্রীদের স্বপ্ন, তার গানের সুর—সবকিছু এক নদীর মতো মিশে যায়।
কোনো এক রাত, বারান্দায় বসে আমি ভাবি, আমাদের জীবন যেন এক বহুমাত্রিক নদী। তার ভেতরে প্রতিটি স্মৃতি, প্রত্যেকটি প্রত্যাশা, প্রতিটি অনুভূতি—সবকিছু একসাথে বয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রেমের কোনো উচ্চারণ নেই, তবু তার গভীরতা সীমাহীন। আমরা বেঁচে আছি সম্ভাবনার ভেতরে। যেমন কবি এমিলি ডিকেনসন বলেছেন "I dwell with possibility"। নীরবতা আমাদের আশ্রয়, গান আমাদের সেতু, বিশ্বাস আমাদের আলো। সময় বয়ে যায়। নদী বদলায়, ঋতু পাল্টায়। তবু কিছু সম্পর্ক নদীর তলদেশের মতো—চোখে দেখা যায় না, তবু সমস্ত প্রবাহকে বহন করে। আমাদের সম্পর্কও ঠিক তেমন।
যা বলা হয়নি,
 যা গোপন,
 যা নীরব—
 তার ভেতরেই বাস করে এক অদৃশ্য প্রেম,
 যা শব্দ ছাড়িয়ে যায়,
 যা সময়েরও ঊর্ধ্বে।
রাত্রির শেষ প্রান্তে, আমি জানি—আমাদের নিঃশব্দ নদী কোনোদিন থামবে না। সম্ভাবনার প্রতিটি ঢেউ, প্রত্যেকটি গোপন স্বপ্ন, প্রত্যেকটি অচেনা স্মৃতি—সব মিলিয়ে আমাদের জীবনের নীরব, রঙিন ছন্দ তৈরি করছে।
এটাই আমাদের প্রেম, আমাদের জীবন, আমাদের "সম্ভাবনার নদী"।

৩

কিছু সম্পর্ক কখনও শেষ হয় না। মানুষ হারিয়ে যায়, ঘর বদলে যায়, শহর পাল্টে যায়, কিন্তু কিছু সুর, কিছু গন্ধ, কিছু দৃষ্টি — আমাদের মধ্যে থেকে যায়। আমি যতই সময়ের স্রোতে ভেসে যাই, ততই বুঝি, জীবনের গভীরে লুকিয়ে থাকা স্মৃতিরা একদিনও পুরোনো হয় না।

আমার শ্বশুরমশাই ছিলেন এক অদ্ভুত মানুষ। তার ভেতরে যে রকম সংযম, সেই রকম দৃঢ়তা, সেই রকম মানবিকতা — আজকের দিনে খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমাকে প্রথম দেখাতেই খুব পছন্দ করেছিলেন। বলেছিলেন, "জীবনে ভরসা রাখবে নিজের পরিশ্রমের ওপর। ভরসা রাখবে জ্ঞানের ওপর। সব হারালেও এ দুটো কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।"

আমার জীবনে কোনো একটা সময়ে অনিশ্চয়তা ছিল। বাইশ বছর বয়সে বাবা চলে গিয়েছিলেন। সেই অভাব, সেই শূন্যতা আমার ভেতরে আজও রয়ে গেছে। কিন্তু শ্বশুরমশাইয়ের সঙ্গে কাটানো সময়গুলো আমাকে শিখিয়েছিল — মানুষের আসল শক্তি তার মূল্যবোধে। তিনি সংসারকে, সম্পর্ককে, ভালোবাসাকে, দায়িত্বকে যেভাবে বাঁচাতেন, তা যেন এক নিঃশব্দ শিক্ষার মতো।

শাশুড়িমা ছিলেন ভিন্ন স্বভাবের। নিতান্ত সংসারী মানুষ, কিন্তু তার গানের সুর ছিল যেন অন্য জগতের। এক রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে শুরু করলেই ঘরের মধ্যে এক আশ্চর্য নীরবতা নেমে আসত। মনে হতো, সেই মুহূর্তে সময় থমকে গেছে। এখন তিনি নেই, কিন্তু মাঝে মাঝে সন্ধ্যাবেলায় হারমোনিয়ামের শব্দ কানে বাজে। মনে হয়, কেউ যেন পর্দার আড়াল থেকে ডাকছে।

আমাদের সংসার ছোট ছিল, কিন্তু তার ভেতরে ছিল সুর, ছিল আলো। শ্বশুরমশাইয়ের অনুপ্রেরণা, শাশুড়িমার সুর, স্ত্রীর হাসি, মেয়েদের ছোট ছোট দৌড়ঝাঁপ — সব মিলিয়ে জীবনের চলমানতা একটা ছন্দ তৈরি করেছিল। কিন্তু সময় কখনও থেমে থাকে না। একে একে সবাই চলে গেলেন। এখন সংসারে অনেক নতুন মানুষ এসেছে, নতুন গল্প, নতুন হাসি। তবু ভিতরের শূন্যতা কিছুতেই ভরে না।

আমার শালী দিল্লিতে থাকে। সরোদ বাজায়। তার আঙুলের ছোঁয়ায় সুরগুলো যে জন্ম নেয়, তাতে আছে স্মৃতি আর অভিমান, আলো আর অন্ধকার, ঘরে ফেরা আর হারিয়ে যাওয়ার মায়া। মাঝেমধ্যে যখন কলকাতায় আসে, আমাদের বাড়ি ভরে যায় সেই সুরে। আমি বসে শুনি। মনে হয়, কোনও অতীতের দরজা খুলে গেছে।

হঠাৎ মনে পড়ল লখনউ-এর সেই দিনগুলোর কথা। তখন প্রায়ই সেখানে যেতাম। সেই শহরের রাস্তাগুলো, পুরোনো বাড়িগুলোর ছায়া, বিকেলের গলিপথে জমে থাকা রোদ — সবকিছু আজও জীবন্ত। বিশেষ করে আমাদের বাড়ির সেই বেড়ালগুলো! তারা ছিল পরিবারেরই অংশ। ছোট ছোট চোখ, নিরীহ মুখ, কিন্তু ভীষণ দুষ্টু। কখনও জানালার ধারে বসে থাকত, কখনও অকারণে ঘরে ঢুকে পড়ত। খাওয়ার সময় প্লেট থেকে মাছের টুকরো চুরি করে নিয়ে যাওয়ার পরও রাগ করতে পারতাম না।
আর ছিল তুলতুল — আমাদের কুকুর। তাকে রাস্তা থেকে একদিন আমরা তুলে এনেছিলাম। মনে আছে, সেদিন ঠান্ডায় কাঁপছিল, চোখে অসহায়ত্ব। কোলে তুলে এনেছিলাম, ভেবেছিলাম হয়তো কয়েকদিন রাখব। কিন্তু তুলতুল থেকে গেল — চিরদিনের জন্য।
তুলতুল কেবল কুকুর ছিল না। আমাদের পরিবারের এক অদৃশ্য রক্ষক, এক অব্যক্ত ভাষার সঙ্গী। আমার মেয়েদের চারপাশে সে ছায়ার মতো ঘুরত। কেউ দরজায় এলে প্রথম তুলতুল ছুটে যেত। কখনও তার চোখে এমন এক নির্ভরতার দৃষ্টি দেখেছি, যা মানুষের চোখে খুঁজে পাইনি।

কিন্তু এখন সময় চলে গেছে। মেয়েরা বড় হয়েছে। সংসারের আলো ছায়া বদলেছে। শ্বশুরমশাই নেই, শাশুড়িমা নেই, তুলতুলও নেই। বেড়ালগুলোও একদিন হারিয়ে গেছে। লখনউ-এর সেই বাড়িটিও আর নেই। কিন্তু স্মৃতি বদলায় না। এই স্মৃতিগুলো আমার ভেতরে নীরব নদীর মতো বয়ে চলে। রাতে যখন শহর ঘুমিয়ে পড়ে, আমি বারান্দায় বসি। আকাশে তাকাই। দূরে আলো, হাওয়ার মধ্যে এক অদ্ভুত স্তব্ধতা। তখনই মনে পড়ে — জীবনে কত মানুষ এসেছে, কত মানুষ চলে গেছে, কত সুর থেমে গেছে, কত সুর বেজে উঠেছে। স্ত্রী পাশে এসে বসে। কিছু বলে না। আমি তাকিয়ে থাকি। আমাদের নীরবতা তখনও কথার চেয়ে গভীর। মনে হয়, আমাদের সমস্ত সম্পর্ক, সমস্ত ভালোবাসা, সমস্ত বেদনা, সমস্ত প্রার্থনা এই নীরবতার ভেতরে গোপনে আশ্রয় নিয়েছে।

আমি ভাবি, জীবন আসলে একটাই নদী। তার স্রোতে আছে হাসি, কান্না, সুর, অভিমান, বিশ্বাস, হারানো, পাওয়া, ভালোবাসা। আমরা কেবল ভেসে চলি। নদীর তলদেশে লুকিয়ে থাকে যে নীরব সত্য, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

কখনও স্ত্রীর গানের সুরে আমি শাশুড়িমার কণ্ঠ খুঁজে পাই। কখনও শ্বশুরমশাইয়ের উপদেশে ফিরে যাই নিজের বাবার কাছে। কখনও তুলতুলের স্মৃতিতে নিঃশব্দে হাসি। কখনও আবার সরোদের সুরে শালীকে দেখতে দেখতে মনে হয় — আমাদের জীবনটাই আসলে এক সঙ্গীত।

যা নেই, তার অভাব থেকে যায়। কিন্তু যা আছে, তার আলোয় আমরা টিকে থাকি। এই আলো, এই নীরবতা, এই সুর — এগুলোই আমাদের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় ভাষা।


৪

জীবনের সমস্ত সম্পর্ক, স্মৃতি, ভালোবাসা — সবকিছু মিলেই যেন এক অদৃশ্য নদীর স্রোত। এই নদীর কোনও শুরু নেই, শেষও নেই। আমাদের প্রিয়জনেরা কেউ চলে যায়, কেউ আসে; কেউ সুরের ভেতরে বেঁচে থাকে, কেউ গন্ধের, কেউ এক টুকরো নিরবতার মধ্যে। তবু এই নদী থেমে থাকে না।

আমি যত বয়সে বড় হই, তত বুঝি — মানুষ আসলে তার হারানোদের দিয়েই তৈরি হয়। যাদের আমরা হারিয়েছি, যাদের স্পর্শ আজ আর নেই, যাদের কণ্ঠস্বর কেবলই স্মৃতির ভেতরে বেঁচে আছে — তারা-ই আমাদের ভিতরের নকশা তৈরি করে। আমার শ্বশুরমশাইয়ের মূল্যবোধ, শাশুড়িমার গান, সরোদের সুর, তুলতুলের নীরব ভালোবাসা — সব মিলেই আমরা যে মানুষ, তার ভিত্তি গড়ে উঠেছে।

সময় আমাদের শেখায়, স্থায়িত্ব বলে কিছু নেই, কেবল স্মৃতির পুনর্জন্ম আছে। প্রতিটি সম্পর্কেরও এক অদৃশ্য রূপান্তর ঘটে। যা হারিয়ে গেছে, তা হয়তো অন্যভাবে থেকে যায় — কোনও পুরোনো চিঠির গন্ধে, কোনও গানের সুরে, কোনও ফেলে দেওয়া চেয়ারের কাঠে, বা কোনও কুকুরের ভেজা চোখে।

আমার স্ত্রী যখন নীরব হয়ে পাশে বসে থাকে, তখন আমি দেখি — আমাদের সম্পর্কের ভাষা বদলে গেছে। আগের মতো তর্ক, অভিমান, রাগ সব আছে, কিন্তু তার ভেতরেই আছে এক গভীর সহযাত্রা। আমরা একে অপরের মধ্যে অনেকটা হারিয়েছি, আবার একে অপরের মধ্যে অনেকটা খুঁজে পেয়েছি।

আমার কাছে মনে হয়, ভালোবাসা আসলে এক ধরনের নীরবতা। সে কোনও উচ্চারণ চায় না, কোনও প্রমাণ চায় না। সে থাকে ভিতরের নদীর মতো — ক্রমাগত বয়ে চলে, আমাদের ছুঁয়ে যায়, আমাদের পরিবর্তন করে, আবার আমাদের নিজের কাছেই ফিরিয়ে আনে।

আজও রাতে যখন আকাশের দিকে তাকাই, মনে হয় — উপরে অসংখ্য নক্ষত্রের আলো ঝলমল করছে, অথচ প্রতিটি আলোই অতীতের। আমরা যে জীবন বাঁচি, সেটাও অনেকটা সেইরকম। আমরা হারানোদের আলোয় বেঁচে থাকি।

 
✍️ শিবাশিস মুখার্জী
ফ্যাকাল্টি, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় 
এন এস সি বোস রোড,
এটলাস মোড়, কলকাতা ৭০০ ১৪৬





Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,