Skip to main content

তোমাকে ।। আরজু মুন জারিন

 

প্রেম-নবপ্রভাত

তোমাকে 

আরজু মুন জারিন


দেখতাম তোমাকে কলেজ যাওয়ার সময়। কখনও আদিযুগের পুরনো সাইকেলে চড়ে, কখনও বা হেঁটে হেঁটে যেতে।পুরনো ধরনের সাধারণ পোষাকে, আরেকবার স্টাইল করে চুল আঁচড়িয়ে, জিন্স আর টিশার্ট পরা, কোনো দিকে যেন তোমার ছিল না কোনো নজর। যেনতেন একটা পাঞ্জাবী পরতে। চুলগুলো দেখে মনে হত- যেন বাবুই পাখির বাসা। এই যে তোমার সাদাসিধে আটপৌরে ভাব সেটাই আমার মনকে জয় করে নিয়েছিল সবচেয়ে বেশি। তোমার অধিকাংশ বন্ধুরা বাবার গাড়ী দিয়ে বিলাসতা করে যেত ভার্সিটিতে। এসব বিলাসিতা কিংবা লোক দেখানো, কোনো কিছুতেই যেন কোনো মনোযোগ ছিল না তোমার। কারও গাড়ীতেও চড়তে চাইতে না। ক্যাব-ট্যাক্সিও পছন্দ করতে না। প্রতিদিন সকালে আমার জানালার পাশ দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যেতে ভার্সিটিতে। আমি জানালা দিয়ে লুকিয়ে দেখতাম। খুব ইচ্ছা হত, পিছন ফিরে একবার তাকাতে যদি তখন। আমি মায়ের সেই ফুলতোলা শাড়িটি পরে জানালার আড়ালে লুকিয়ে থেকে তোমাকে দেখে যেতাম। ভীষন ইচ্ছে হত- সাইকেল ক্যারিয়ারে যেখানে ব্যাগটা রাখা, সেখানে বসে হাতটা তোমার কাঁধে রাখি। এ ছিল আমার প্রথম কোনো পুরুষকে উপলব্ধি। ঠিক বলতে পারছি না- এটা কি কোন প্রেম ছিল? নাকি ছিল আমার নারীত্বের প্রথম অনুভূতি? বয়সটা তখন আমার সতের। দুইমাস পর ইন্টারমেডিয়েট পরীক্ষা। তুমি তখন বাংলায় মাস্টার্স এর ছাত্র। দিনরাত পার করে দিতাম আমি তোমার সাইকেলের বেলটা শোনার জন্য। সন্ধ্যায় পড়ার টেবিলে বসেও কান পেতে রাখতাম- এই বুঝি তোমার সাইকেলের আওয়াজটা শোনা যায়। এভাবেই কেটে যেত কতটা সময়; ঠিকই জানতাম, কোন সময়ে তুমি আসতে এই পথে,কোন সময়ে পার হতে। সে বছর দূর্গা পূজোর আগের রাত। সাহস বুকে ভাবলাম যা-ই হোক, আজ তোমার যাওয়ার রাস্তায় হাঁটব, অভিনয় করে, ঠিক সিনেমার নায়িকার মত। যেন আচমকা ঠিক পড়ে যাই তোমার সাইকেল এর সামনে । পড়ে গিয়েছিলামও বটে। কিন্তু সাহস হয় নি তোমার সামনে আসার। দেখলাম, বেশ সুন্দর দেখতে একটা মেয়ে তোমার সাইকেলের পেছনে বসে। তোমার কাঁধে হাত রেখে। দিবানিশি যার কল্পনা আমি করতাম ।তোমাদের দুজনের চোখে মুখে ছিল মুগ্ধতা। কী একটা কথার ছলে হাসতে হাসতে নুয়ে পড়ছিলে দুজনে। আমার সাহস আর ইচ্ছারা জ্বলে পুড়ে মরে গেল যেন সেই বিকালে। ঠিক জানি না আসলে কী সম্পর্ক ছিল দুজনের মাঝে?

বন্ধুত্বের? নাকি প্রেমের? আমার মনে বার-বার ভেসে ওঠছিল- তোমাদের সেই আনন্দ আর হাসিমাখা মুগ্ধ দৃষ্টি।

এরপর তোমার আসা যাওয়ার রাস্তায় আর দাঁড়ানোর কথা ভাবি নি। কিন্তু তোমার কল্পনা করা কখনও বন্ধ করতে পারি নি। স্বপ্নও দেখেছি কত।জানো কি? তোমাকে নিয়ে এরকম একটা সন্ধ্যা বিকালের স্বপ্ন দেখেছিলাম আমিও। তোমার আসার রাস্তায় পড়ে আছি একদিন বেহুশ হয়ে। তুমি দৌঁড়ে এসে আমার পাশে বসে পড়লে। পানি ছিটিয়ে দিয়ে আমার জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করলে। আমার বুকে মাথা রেখে হৃদয়স্পন্দন শুনতে চেষ্টা করলে।আমি ঠিক সিনেমার অভিনেত্রীর মতই নিঃশ্বাস বন্ধ করে নিথর শুয়ে রইলাম। আমাকে অক্সিজেন দিতে চেষ্টা করলে। তোমার মুখটা আমার মুখে লাগিয়ে।

জেগে ওঠলাম হঠাৎ। কী যে এক বেদনার স্বপ্ন। কিন্তু আমার মনটা হয়ে গেল বেশ ফুরফুরে। প্রজাপতির মত আনন্দে নাচতে চাইল । সারাটা দিন স্বপ্নের স্পর্শ আমার মনকে আবিষ্ট করে রইল। পরের দিন তোমার বড় বোন এলেন আমাদের বাড়ী। সে কী এক উত্তেজনা যে ছুঁয়ে গেল আমার। মনে হলো, তোমার বোনকে একবার ছুঁতে পারলে যেন তোমাকে ছোঁয়া হবে। আমি ঠিক ইচড়েপাকা মেয়ের মত মার আরেকটা শাড়ি পরে ঘুরঘুর করতে লাগলাম তোমার বোনের চারিপাশে। তোমার বোন এর নজর পড়ল একসময় আমার ওপর।

"আরে খালাম্মা! শিমুল তো একেবারে বড় হয়ে গেছে। কনের মত লাগছে দেখতে"।

"হুম! ছেলে দেখে তোমাকে বিয়ে দিতে হবে"। এটা বলে মজার ছলে আমার মাথা নেড়ে দিলেন উনি। মা হাসলেন শুনে।

"দেখো পাকনা মেয়ের কাণ্ড! একেবারে শাড়ি পরে গিন্নী বনে গেছে"।

কথায় কথায় তোমার বোন বলে ওঠলেন- উনার ননদের সাথে নাকি তোমার বিয়ে ঠিক হয়েছে।

তোমাদের নাকি একে অপরকে পছন্দ।

মা আশ্চর্য হয়ে বললেন, "সে কি? ওর বয়স কত? পড়াশোনাই তো শেষ হয়নি"।

জানতে পারলাম, মেয়েটার অন্য জায়গায় বিয়ে ঠিক হওয়াতে সে প্রচুর কান্নাকাটি করছিল। অবশেষে তোমাদের সম্পর্কের কথা বাড়ীতে বলে দিয়েছিল।

দুপক্ষ এই সম্পর্ক মেনে নিয়েই নাকি বিয়েতে সম্মতি দিয়েছে। তুমি আপাতত ওদের দোকানে বসবে। ঘরজামাই হয়ে থাকবে। তাই আমিও রাজী হয়ে গেলাম। খালাম্মা, ভাই সাথে থাকবে বলে। না হলে শিমুলকে কত পছন্দ ছিল আমার। তোমার বোন বললেন কথাগুলো।

পরের মাসে ঘটা করেই তোমাদের বিয়েটা হয়ে গেল। তুমি জানো না, আমার অনেক জ্বর নিয়েও তোমার বিয়েটা দেখতে গিয়েছিলাম। তোমার স্ত্রীর চারিপাশে ঘুরে ঘুরে নেচেছিলামও আমি । কেউ বুঝতে পারেনি, আমার এত জ্বর ছিল। ঘরে আসার পর শুধু মা জিজ্ঞাসা করল তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন? আমার গায়ে হাত দিয়ে চিৎকার দিলেন। সেই বছর আর পরীক্ষা দেওয়া হয় নি। কঠিন টাইফয়েড হয়ে গেল। মাথার চুল ঝরে গিয়ে এক কিম্ভুতকিমাকার চেহারা দাঁড়াল। একদিন বান্ধবীর বাসা থেকে নোট নিয়ে আসার পথে ঠিক তোমাদের মুখোমুখি। আমি তো একেবারে লজ্জায় লাল ! পালিয়ে যাচ্ছিলাম।তোমার স্ত্রী আমার নাম ধরে ডেকে থামিয়ে দিল।

"এই মেয়ে! তুমি তো শিমুল। তাই না"?এই শোনো! তুমি না যা সুন্দর নাচতে পারো।তুমি অবশ্য আমার দিকে কোনো মনোযোগ দিচ্ছিলে না। ফোনের ম্যাসেজ দেখায় ব্যস্ত ছিলে। তাড়া দিচ্ছিলে তোমার স্ত্রীকে,

"বাবা আমাদের জন্য ওয়েট করছে। গেস্টরাও চলে আসছে"। এই বলে স্ত্রীর হাত ধরে টানছিলে। সেইদিন-ই প্রথম বুঝতে পারলাম,তুমি আমাকে খেয়াল-ই করো নি কোনোদিন। আমরা যখন কাউকে ভালোবাসি আমাদের মনে এই স্বপ্ন থাকে যে, সেও হয়তো আমাকে ভালোবাসে ।

আজ আবার কতদিন পরে তোমাকে দেখলাম। আমার প্রথম প্রেম তো ছিলে তুমি। হোক না সে একতরফা।

আমি তো সত্যিই ভালোবেসেছিলাম তোমাকে। দুটো বছর কেটে গেল এভাবে তোমার স্মৃতির সাথে তোমাকে না দেখে। সামনে পরীক্ষা চলে এসেছে। সব ভুলে এবার বেশ সিরিয়াসলী পরীক্ষা আর পড়াশোনার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সেই বছর ভীষন গরম পড়েছিল। এরকম এক জৈষ্ঠ্য মাসের গরম বিকালে আম কাঠালের মৌসুমে তোমাকে দেখলাম আচমকা, এক বিরাট কাঠাল হাতে। আমাদের বাসার পিছন দিকে ছিল ফলের বাগান। যেখানে বড় আম গাছ বরই গাছ আর ছিল দুই কাঠাল গাছ। কাঠাল গাছ দুটো এমন অদ্ভুত ভাবে ঝুকে থাকা ভঙ্গিতে দাড়িয়ে যা অনেক টা একটা ছেলে একটা মেয়ে যখন কথা বলতে বলতে আবেগে ঝুকে পড়ে পরস্পরেরর !। আমার অতি প্রিয় দুটি গাছ। এদের গায়ে হেলান দিয়ে চলত আমার বিকালের গল্প বই পড়া। যদিও কাঠালের গন্ধে পালাতাম আমি আমরা সব ভাই বোন তখন। বাবা কাঠাল এনে আমাদের পিছনে হাটতে থাকতেন খাওয়ানোর জন্য। আমরা বোনরা পালিয়ে বেড়াতাম বাবার কাছ থেকে কাঠালের গন্ধ থেকে বাঁচার জন্য। শুধু ছোট ভাই বাধ্য ছেলের মত বাবার পাশে গিয়ে বসতো, বাবাকে খুশী করার জন্য। বাবা একটা একটা কোষ বের করে চিপে নিতেন, তারপরে মেশাতেন দুধ। এরপর মেশাতেন মুড়ি, খই। এ ছিল ওনার ভারী পছন্দের খাওয়ার। পুরো দুই মাস এই খেতেন, বলা যায়। একটা শেষ হলে কিনে নিয়ে আসতেন আরেকটা কাঠাল।

ছোট ভাই মুখ একটু করুন করে বলতো

"আমি খালি কাঠাল খাব আব্বা, দুধ মুড়ি না"। আব্বা যে মেখে রস বানিয়ে ফেলত তা ছিল ওর অপছন্দ। এরকম এক বিকালে বাবার কাঠাল খাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে আমি চলে গেলাম পিছনের বাগানে, হাতে গল্পের বই ।

তখন ই দেখলাম তোমাকে, আমাদের বাগানের কাঠাল গাছের নীচে মাটিতে হেলান দিয়ে বসে, খাওয়ার প্রস্তুতিতে। হৃৎপিন্ড লাফ দিয়ে উঠল একেবারে তোমাকে দেখে!! তুমি এখানে কেন কিভাবে !!তা মাথায় আসেনি তুমি ই এখানে এই ব্যাপার !!! সামনে না গিয়ে লুকিয়ে গেলাম বড় আম গাছের আড়ালে। দেখলাম !হাত এর পাঁচ আঙ্গুল জড় করে দিলে বাড়ি কাঠাল এ। খুলে আপনমনে খেতে থাকলে। মনে হয় খুব ক্ষুধার্ত ছিলে। বা কেউ দিয়েছিল তোমাকে আসার সময়। হয়তো তোমার ঘরে যাওয়ার নেই সময়। এই কাঠাল টিকে ফেলে দিতে চাইছোনা বলে খাচ্ছো বা কাঠাল হয়তো তোমার পছন্দের। আমার তো আর কখন ও জানা হলনা আসলে কি কি তোমার পছন্দের।

পছন্দের খাওয়ার কি, পছন্দের লেখক কে? পলাশ ফুল হয়তো তোমার পছন্দের। দেখতাম প্রায় হাতে পলাশ ফুল বাড়ী যাওয়ার সময়। এর পরে বেশ কিছুদিন এই রাস্তায় তোমাকে দেখিনি। আমি প্রতিদিন বসে থাকতাম জানালার পাশে অপেক্ষায়। দিন চলে যায় মাস ঘুরে আসে । হঠাৎ ই অনেকদিন পরে এক শীতের বিকালে বাড়ীর সামনের রাস্তায় তোমাকে পেলাম। দেখে চমকে গেলাম। আমি একটু দুরে দাড়িয়ে। যাই হোক একটা জলজ্যান্ত মানুষ তাও মেয়ে তাও একা তুমি খেয়াল করলে কিনা তাও বুঝলামনা। দেখলাম তুমি সিগারেট খাচ্ছো !! ও কি অসহ্য !! তুমি জাননি আমি কত কষ্ট পেয়েছিলাম সেদিন। তোমার চেহারায় সেই ধীর স্থির যে ভাবটার আমি প্রেমে পড়েছিলাম সেখানে আজ একটু বিরক্তি অস্থিরতা। সিগারেট এক টান দিয়ে ফেলে আরেকটা ধরাচ্ছো। আমার ইচ্ছে হল ছুটে গিয়ে তোমার হাত থেকে সিগারেট কেড়ে নিয়ে ফেলে দিতে। সিগারেট এর থেকে যে ভয় হচ্ছিল বেশী তুমি কোন নেশা গাজায় আসক্ত হচ্ছোনা তো। কেননা তোমাকে অস্থির দেখাচ্ছিল। হাতে তোমার একতাড়া কাগজ। কিছু লিখছিলে সম্ভবত। আবার ছিড়ে ও ফেলছিলে কাগজ ধুর ধুর বলে। হঠাৎ করে যেন তোমার মনোযোগ পড়ল আমার দিকে। আমাকে হাত ইশারা করে ডাকলে মনে হল পরে নিজে আবার এগিয়ে আসতে শুরু করলে আমার দিকে। আমার পা মনে হচ্ছিল কেউ যেন মাটির সাথে গেঁথে রেখে দিয়েছিল। ছুটে বাড়ীর ভিতরে চলে যেতে চাইলে ও পারছিলামনা।

"এই কি আপনার বাড়ী
?" খুব মায়াভরে আমাকে জিজ্ঞাসা করলে। আমি তোমার কথায়, স্বরে চাহনিতে একেবারে দ্রবীভুত হয়ে যাচ্ছিলাম একটু আগের ভয় ভুলে।

মাথা নেড়ে সায় দিতে বলল "আমাকে একটু জল খাওয়াবেন"। এখন দেখলাম বেশ ভাল করে আবার মুখটা। না চেহারা অভিব্যাক্তি বেশ চকচকে স্বচ্ছ। কোন গাজা নেশার ছাপ নাই তাতে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম এবার। দৌড়ে গিয়ে জল আর কিছু মিষ্টি ছিল ঘরে তা নিয়ে এলাম। ছো দিয়ে বলা যায় কেড়ে নিলে আমার হাত মিষ্টির প্লেট আর জলের গ্লাস।

"কিভাবে জানলেন আমার খিদে পেয়েছে। আমি আজ না খেয়ে ঘর থেকে বের হয়েছি মায়ের সাথে ঝগড়া করে জানেন"।

আমি জানি মনে মনে বললাম। বাহিরে বললাম "শুধু জল আমরা দেইনা কোন অতিথিকে"।

"আমি কি অতিথি? আমি তো হঠাৎ উড়ে আসা আগন্তক"!!! বলে হাসলে চমৎকার। যাক আমি নিঃশ্চিত এবার তুমি কোন ও গাজা নেশা করছিলেনা।

তুমি আবার ও বললে "সন্ধ্যার এই অন্ধকার রাস্তায় একা কেন দাড়িয়ে আপনি? এ তো নিরাপদ না মেয়েদের জন্য। যদি ও আপনি থাকাতে এই জল খাওয়ার টা খেতে পারলাম আমি ধন্যবাদ দিই তাতে। তার জন্য কনসার্ন না দেখিয়ে পারছিনা"।

পরক্ষনে আবার ও হাসলে। বললে এবার মজার কথা। "এ তোমাকে বলবে সমাজ ,মানুষ। রাতে ঘরের বাহির হোয়না একা। তুমি মেয়ে। মেয়ের গন্ডী টেনে চল। বলে একটু হাসলে আবার ও।

আপনি থেকে তুমি সম্বোধনে আবার । তুমি মনে হয় খেয়াল ও করছোনা কখন আমাকে আপনি বলছ কখন তুমি।

"এ মোটে ই আমার কথা না। অন্য মানুষের, সমাজ এর। সমাজ মেয়েদের কে একটা সীমারেখায় রেখে দিতে যায় । আমি এখন ই আবার এ বলছি খবরদার তুমি এইভাবে সন্ধ্যায় চুল ছেড়ে এইভাবে পার্কে দাড়িয়ে থাকবে, যাতে আমার চিত্ত হেলে যেতে পারে বলে এবার হেসে উঠলে হো হো করে। আমাকে জল আর মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করবে অর্থাৎ পথচলতি অসহায় আগন্তক যার সাহায্য দরকার তাকে সাহায্য করবে। সীমারেখা আবার কি? আমরা ই টানি প্রয়োজনে আমরা ই সরিয়ে দিব। তুমি সীমারেখা সরাতে পারলে তো তুমি বুঝবে তোমার আছে কি কি সম্পদ সম্ভাবনা? তুমি জানতে পারবে চাইলে তুমি পারবে করতে কত কিছু"!!!

"এই যে দেখ এই ব্যাপার আমার লেখালেখি নিয়ে আজ একটু মনোমালিন্যের মত হয়ে গেল মায়ের সাথে! আমি বিসিএস পাশ করে বসে আছি। কোন ও জব এর খোঁজ করছিনা। আমি লিখি ! মা আপনজনরা তো এ বুঝতে পারেনা । আমি বড় আকারে সমাজের কথা ভেবে লিখি এ হয়তো বুঝেনা। আপনজন মনে করে কোন কষ্ট ব্যাথা পেলে বুঝি মানুষ লিখে। হ্যা ব্যাথা অনুভব করা ও লেখার প্রধান প্রেরণা বা চালনাশক্তি। হয়তো আমি সবার বেদনা বুঝি তাই বেদনা লিখে মানুষকে তার সমাধান দিতে চেষ্টা করি"। একনাগাড়ে কথাগুলো বলে হাঁপাতে থাকলে । আমার ভিতরটা এক ব্যাখ্যাতীত মায়ায় ভরে গেল তোমার জন্য। আমি ও যে ঠিক তোমার ই মত আট দশজনের ভাল জীবন নিয়ে ভাবি।




অনিদ্রার ব্যাপারটা শুরু হল আমার তখন থেকে। রাত জেগে থাকা অভ্যাস এ পরিনত হয়ে গিয়েছিল যেন। মাঝে মাঝে চোখের পাতা বন্ধ হয়ে আসত যেন খুলে রাখতে পারতামনা। ঝিমিয়ে পড়তে পড়তে একসময় ঘুমাতাম রাত জাগা পাখীর মত প্রাতে । ঘুমাতে ভাল লাগতনা। ইচ্ছে হত সারা জাত জেগে জপি আর ভাবি তোমাকে। রাত জেগে তোমার ছবি দেখি। তোমার ভাবনায় যে এত আনন্দ ঘুম ও আমার সেই আনন্দে ব্যাঘাত করতে চাইতনা।তোমার একটা ছবি আছে আমার কাছে। কিভাবে সংগ্রহ করেছি এ বলা যাবেনা গোপনীয়তা কাম্য। একদিন কোন কারনে তুমি আমাদের বাসার সামনে বাসে চড়েছিলে। আমি ছিলাম তোমার পাশের সিটে। তাও তোমার নজর পড়েনি আমার দিকে। জানালা থেকে প্রকৃতি দেখতে ব্যাস্ত ছিলে তুমি। একসময়ে মনে হল একটু ঘুমিয়ে ও পড়লে। মনে হল আহারে রাতে ঘুমাওনি নিঃশ্চয় ।

আমার ও ঘুম পাচ্ছিল বেশ বাসের দুলুনিতে। তাও জেগে রইলাম শিয়রে বসে। আমার স্কুল চলে গেল নামতে ও পারলামনা। তোমার ঘুম ভাঙ্গিয়ে জাগাতে ও পারলামনা। তোমার গন্তব্য তো আমার নাই জানা। কেউ একজন দাড়াল এসে তোমার সামনে। তাতে তুমি জেগে উঠলে। সামনে বুজুর্গ দেখে আসনটি তে ওনাকে বসতে দিয়ে এসে দাড়ালে ঠিক আমার সামনে হ্যান্ডেল টি ধরে।এত কাছে এক ইঞ্চির দুরত্বে। সেদিন বাসে অনেক ভীড় বাসের দুলুনীতে ঝুকতে ঝুকতে তুমি একেবারে চলে এলে আমার খুব কাছে যে আমি স্পষ্ট তোমার নিঃশ্বাস এর আওয়াজ শুনতে চাচ্ছিলাম। হঠাৎ বাস ব্রেক কষে থামায় তুমি অনেক টা আমার কোলে বসে পড়ার মত হয়েছিলে তাতে এই প্রথম তোমার আমার চোখাচোখি হয়ে গেল।




এই প্রথম মনে হল তুমি যেন আমাকে একটু বুঝলে

গভীরভাবে তাকালে। ছেলেরা মেয়েদের দিকে তাকায় দুভাবে। আর এই দৃষ্টিতে মেয়েরা চিনে নেয় তাদের।

একদল ছেলে আছে যারা প্রথমে মেয়ে একটা শরীর কে দেখে। আর এভাবে যারা দেখে তারা একটা মেয়ে সম্ভ্রান্ত কি বংশীয় ভাবেনা। মেয়েরা ও গভীর আত্মিক হয় এ সম্ভবত তারা শিখতে পারেনা তার অভ্যস্ত পারিপাশ্বিক এর কারনে। নিজেদের মতই সঙ্গীকে পার্থিব রুপে দেখে অভ্যস্ত । আরেক দল আছে এই যে যার ছায়া আমি দেখেছি তোমার মধ্যে । মেয়েদের চোখের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করে। হয়তো ভবিষ্যতে তোমার ও পরিবর্তন হতে পারে।আমাকে দেখে কি বোধ করলে তাতো আর জানতে পারিনি কখন ও তবে অনুভূতির শিহরনে তোমার নৈকট্যে কাঁপছিলাম একটু একটু আমি। এবার তোমার দৃষ্টিতে আমি ও দেখলাম বিষ্ময়ের ভাব

ভাবছিলে হয়তো এ কে ? আমাকে কি চিনে !!! আমাকে এভাবে দেখছে কেন? তোমাকে ঝুকে থাকতে দেখে আমি ও এবার দাড়িয়ে গেলাম "আপনি বসবেন বসুন না তোমাকে আসন অফার করলাম তখন। তাতে খুব কাছে চলে এলাম আমরা। আমি আবেগে আবেগে মরে যাচ্ছিলাম। এত কাছে আমরা দুজন চাইলে চাইলে ই আমাকে বুকে আগলে রাখতে পারতে। আমি অনেকটা এবার ভিখারীর মত উম্মুক্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম তোমার চোখে। তুমি আবার ও পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর হাসি দিয়ে নড়িয়ে মাড়িয়ে দিলে একেবারে আমাকে। এবার কথা বললে আমার সাথে জীবনে প্রথমবার এর মত। খুব শুদ্ধ পরিস্কার বাংলা উচ্চারনে

"আরে না কি বলছো? মজা করে বললে আমি ভাবছি না এ যে তুমি মেয়ে বলে বসতে হবে। তুমি বসেছিলে তাই এ তোমার সিট। হ্যা যদি আমার জায়গায় বয়স্ক কেউ এরকম দাড়িয়ে থাকত আর তুমি তাকে এই সিট অফার না করতে আমি নির্ঘাৎ তোমার সাথে ঝগড়া করতে আসতাম বলে আবার ও হাসলে বিশ্বের মধুরতম হাসি। এই একটি দুটি কথায় তুমি নিজের সম্পর্কে কত কিছু বলে দিলে আমায়। আমি বুঝলাম তুমি মানুষটি বেশ স্বচ্ছ সরল স্ফটিকের মত।

তুমি মানবিক বয়স্কদের মায়ায় শ্রদ্ধায় দেখ। বাতাসে আমার দুএক টা চুল উড়ে এসে তোমার মুখে স্পর্শ করে যাচ্ছে। তোমার এ দিকে কোন ও খেয়াল ও নেই।বা আমাকে মেয়ে বলে আমার সান্নিধ্যে দাড়ানোর কোন ও চেষ্টা নেই। আর এই যে অনায়াসে তুমি করে বলা প্রথমবারে তাও বলে দিল প্রথাগত সামাজিক সৌজন্যের দিকে তোমার নাই কোন ভ্রুক্ষেপ।

তোমার জায়গায় আসতে আমাকে একেবারে কিছু না বলে বিদায় সম্ভাষন না করে নেমে পড়লে। এ ও ভারী অদ্ভুত লাগল আমার। তুমি ও জানলেনা যতক্ষন তোমাকে দেখা যাচ্ছিল আমি তাকিয়ে ছিলাম তোমার পথের দিকে। সেদিনে বিকালে বেশ ঝড় তার সাথে তুমুল বৃষ্টি। বৃষ্টির পানির ছাট ঘরে চলে আসছিল দেখে তাড়াতাড়ি বারান্দার দরজা বন্ধ করতে এলাম। অন্ধকার বারান্দায় এক দীর্ঘ ছায়ামূর্তিকে দাড়িয়ে থাকতে দেখলাম। আঁতকে পিছিয়ে যেতে ছায়ামূর্তি বলে উঠলো

"ভয় পাবেন না। আমি বৃষ্টি থামলে চলে যাব। এবার ঘরের আলোয় দৃশ্যমান হলে তুমি। টপ টপ করে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো চোখ বেয়ে। অন্ধকার আর বৃষ্টিতে আমার চোখের জল কে লুকিয়ে ফেলতে পারলাম।

"এ তো ডেসডিমোনা ! না না মিরান্ডা। তুমি বললে কৌতুকে।

"কে রে ভিতর থেকে মায়ের গলার আওয়াজ পেলাম। মা ও বের হয়ে তোমাকে দেখলেন "ও মা পলাশ দেখি" বাহিরে কেন? ভিতরে এসো"।

"আপনি আমাকে চেনেন" তোমার অভিভূত কন্ঠস্বর। তুমি পলাশ। পুতুলের ভাই। মনে নেই তোমার বিয়ের দিন আমার প্লেটে বরের রোষ্ট দিয়েছিলে আমি মজা বলায়, মা হেসে বললেন। এবার তুমি কাদা জুতা নিয়ে ঘরে ঢুকে পড়লে আর বললে " মাসী তাহলে একটা আব্দার ছিল। এক কাপ গরম চা আর ঝাল মুড়ি খাওয়াবেন? বৃষ্টির জল গায়ে লেগেছে। ঠান্ডা লেগে গেছে মনে হয়"। মা ব্যাস্ত হয়ে পড়লেন। "শিমুল টাওয়াল দে ওর মাথা মোছার জন্য। আমি এক্ষনি তোমার জন্য চা আনছি। মা মাত্র ই সিঙ্গারা, ছোলা বানিয়ে টেবিলে রেখেছিলেন বিকেলের জলখাবার হিসেবে। "ও মাসীমা আমার মা এত সব প্রিয় খাবার। এক চেয়ার টেনে বসে পড়লে। অনুমতির তোয়াক্কা না করে খেতে শুরু করলে সিঙ্গারা একটার পর একটা। ছোট বোন আমার দিকে তাকিয়ে চোখ টিপলো।

এইভাবে আমার এইচএসসি পাশ এর খবর আসল একদিন ভাল রেজাল্ট সহ। বাসায় আনন্দের পরিবেশ। বাবা মিষ্টি নিয়ে এসেছে। সেই সন্ধ্যায় দরজায় টোকা। খুলতে ধ্বক করে উঠল বুকের ভিতরটা খুশীতে আনন্দে পুতুল আপুর সাথে তুমি ও দাড়িয়ে। কনগ্র্যাচুলেশন ! সেলিব্রেশান
শিমুল! মাই গড এত ভাল রেজাল্ট !! আমি তো ভেবেছিলাম তুমি একটা ফেলু কাঁদুনে মেয়ে !
মাই গড ফিঁচকে হেসে বললে তুমি।
আমি তাড়াতাড়ি ভিতরের ঘরে চলে এলাম। আয়নায় চেহারা দেখে হয়ে গেলাম হতাশ। এমন বিশ্রী শুকনা লাগছিল ওইদিন আমাকে। রেজাল্ট এর টেনশনে না ঘুমিয়ে চেহারা র প্যাটার্ন হয়ে গেছিল কাকতাড়ুয়া টাইপ। ইশ আগে জানলে একটু সেজে থাকতে পারতাম। এখন তুমি দেখে ফেলছ । জামা টা ও চেন্জ করা যাবেনা। অগত্যা একটু চোখে মুখে পানি দিয়ে ফ্রেশ ভাব আনার চেষ্টা করলাম। বোন লুকিয়ে দেখতে লাগল আমাকে! ড্রইং রুমে এসে দেখি মা আর বোন মিলে নাস্তার টেবিলের স্তুপ বানিয়ে ফেলেছে।
পুতুল আপু কাছে এসে বললেন "তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে শিমুল বলে একটা প্যাকেট দিলেন আমার হাতে।
কি এটা আমি খুশী আর উত্তেজনা চেপে জিজ্ঞাসা করলাম।
দেখনা পলাশ তোমার জন্য কি গিফট আনছে!

তোমার মুখ টা এবার লজ্জায় লাল হয়ে গেল। আরে না না বলে উঠলে বিব্রত ভঙ্গীতে
কে বলে ছেলেদের লজ্জায় মানায়না। লজ্জাকে বলে নারীর ভূষন।
এই যে লজ্জা টা হজম না করে কেমন আলোকিত হয়ে গেল তোমার চেহারাটি।
"না না আসলে আমি কিছু টাকা পেয়েছি আমার পাবলিশার থেকে প্রথম কবিতার বই ছাপানোর জন্য। আজ সবার জন্য কিছু না কিছু কিনেছি। তুমি আমাকে কত মজার খাওয়ার খাওয়ালে দুইদিন । কৃতজ্ঞতা বলে একটা ব্যাপার আছে না। তাছাড়া তুমি এত ভাল রেজাল্ট করলে"।
"শিমুল এখানে একটা শাড়ি আছে তুমি যদি পড় আমি খুব খুশী হব" এবার তুমি বেশ ফ্রী হয়ে লজ্জা ভেঙ্গে কথা বললে আর প্যাকেট থেকে বের করে দেখালে । মা বাবা দুজনে মুখ চাওয়া চাওয়ি করলেন এবার।
আমার জীবনের চরম আনন্দ খুশীর দিন ছিল সেদিন। তুমি আমার জন্য কোন গিফট কিনে আনতে পার এ আমার কল্পনার ও অতীত। আনন্দ, লজ্জা সবার অনুসরনের দৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য ভিতরের ঘরে চলে এলাম। এসে খুললাম শাড়ীটি। কি সুন্দর ! হলুদ আর ক্রিম জমিনে চমৎকার এক শিফন শাড়ি। এত পাতলা শাড়ি পরতে আমি লজ্জা পাই। শরীর দেখা যায় বলে। কিন্তু আজ পরে ফেললাম তোমার জন্য।
কি রে পলাশ ভাই এর ব্যাপার কি শুধু তোর জন্য গিফট !! আমাদের টা কই? বোন বলল মজা করে
আমাকে তো ভাল রেজাল্ট এর জন্য দিয়েছে হিংসুটি বুড়ী এবার আমি ও বোনের সাথে মজা করলাম।
শাড়ীটাকে শত পিন মেরে পড়লাম যাতে কোন দিক থেকে শরীর দেখা না যায়।
ড্রইং রুমে আসতে তুমি আমার সামনে চলে এলে ।
"সত্যি তোমাকে এত সুন্দর লাগছে যে কি বলব"। এই প্রথম মনে হল তুমি আমাকে দেখলে একজন পুরুষ এর আবেগ ঘন দৃষ্টিতে। তোমার স্বরে ও আবেগ আর মৃদু কম্পন টের পেলাম।
আমি লজ্জা, খুশী আবেগে নুয়ে ছিলাম।
আচ্ছা যদিও শাড়ীটা পরা তোমার প্রোপার হয়নি। আমি কি ঠিক করে তোমাকে পরিয়ে দিব বলে নিজে লজ্জা পেয়ে গেলে ভীষন। তারপর যেন অনেকটা কৈফিয়ত দেওয়ার ভঙ্গিতে বললে তোমার বোনকে লক্ষ করে
"আপা শিমুল এর শাড়ীটা ঠিক করে পরিয়ে দিবি !? আমি ওর একটা ছবি তুলব। ওর ছবি আমাদের পেপারে দিব।
এবার মা উত্তেজিত হয়ে গেলেন। "অসুবিধা নাই ছবি তোল । এ তো অনেক গর্বের ব্যাপার। শিমুল এর ছবি পেপারে যাবে"। আগেরদিন তোমার বোন পুতুল আপার জেনেছি তোমার আর তোমার স্ত্রীর সেপারেশান চলছে। তোমাদের নাকি বনিবনা হচ্ছিলনা। আমার ভিতরটা ছলাৎ করে উঠেছিল। এক দ্বিমূখী আবেগে ভেসে যাচ্ছিলাম। আমি তো এখন ও তোমাকে ভালোবাসি। আবার এ ও মনে হচ্ছিল তোমার নিশ্চয় মন খারাপ। তাই না দেখার মত আবার আড়চোখে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিলাম। একটু রুখু সুখু হয়ে গিয়েছো। পুতুল আপু আফসোস এর স্বরে বলছিল "খালাম্মা বিয়েটা খুব ভুল হয়েছিল। এত অল্পবয়সে ভাই এর বিয়ের বিরুদ্ধে আমি ছিলাম। চমক ভাঙ্গলো তোমার কথায়
"এই এই তুমি শাড়ীতে এত পিন লাগিয়েছ কেন? পোটলার মতন মনে হচ্ছে। শাড়ী পরবে ফিগারের ভাজে ভাজে এমনভাবে যাতে সুন্দর ফিগার টি বোঝা যায়। পুতুল আপু চিমটি কেটে দিয়েছিল তোমার হাতে। ভাগ্যিস মা তোমার কথা শোনেনি। আমি জানি তুমি এত ই সরল সহজ ভাবে কথাটা বলেছ । তুমি এতে দোষের কিছুই পাওনি। মা কি দেখাতে পুতুল আপাকে ভিতরে নিয়ে গেলেন। তুমি কাছে এসে আমাকে প্রথমে দেখলে মাথা থেকে পা পর্যন্ত। এ কোন ছেলের মেয়েদের ফিগার দেখার মত করে নয় আসলে তারপরে ও আমি লজ্জায় শিহরনে কাঁপছিলাম

ধ্যেৎ এ একটা শাড়ী পরা হল নাকি বিরক্তিতে বলে উঠলে তুমি। কিছু বলার আগে কাছে এসে শাড়ী থেকে বাড়তি পিন গুলি খুলে নিলে তারপর নীচু হয়ে পায়ের কাছে পাড় টেনে দিলে। কুঁচি গুলি আর ও গুছিয়ে দিলে।
হু এই তো ! বললে হাত তালি দিয়ে যাও এবার দেখে এস আয়নায়। দাড়াও দাড়াও আগে তোমার একটা ছবি তুলি। একটার কথা বলে ক্লিক করে বেশ কয়েকটা ছবি তুললে। আয়নায় সামনে দাড়িয়ে সত্যি আমি নিজেকে চিনতে পারছিলামনা। অনন্ত প্রেম ছবির ববিতার মতই মনে হচ্ছিল। সারারাত আর ঘুমাতে পারিনি আবেগে কল্পনায় আবেশে।




ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক বিভাগে পরীক্ষা দিলাম। চান্স পেয়ে ভর্তি ও হয়ে গেলাম অতঃপর। প্রথম দিনে ই কার্জন হলের সামনে তোমাকে পেয়ে গেলাম এক দঙ্গল বন্ধুসহ হৈ হুল্লোড় করতে করতে কলা বিভাগের দিকে চলে যাচ্ছ। কি এক কথায় কথায় এক মেয়ের পিঠে জোরে চাপড় দিয়ে দিলে। আমার বেশ মন খারাপ হয়ে গেল জানো। যদি ও আমি অনুমানে বুঝতে পারি ওই মেয়েকে এই চাপড় মেরেছ ছেলে বন্ধুর মতই মনে করে। তবে মেয়েটি তো আর হয়তো সেভাবে তোমাকে দেখেনা। তার চোখে স্পষ্ট দেখেছি গভীর আবেগ এর ছাপ। আমাকে কি দেখনি নাকি না দেখার ভান করেছিলে বুঝতে পারিনি। বেশ ভূষায় এখন বেশ পরিবর্তন তোমার। আমার ক্লাস ছিল কার্জন হলে । আমি বাসা থেকে ভার্সিটি তে যাওয়া আসা করতাম। ভার্সিটির বাসে করে যেতে বেশ ভাল লাগত। বাবা এক স্পেশাল ড্রাইভার নিয়োগ দিলেন আমার জন্য। প্রথম দিন বাবা জেদ শুরু করলেন গাড়ীতে যেতে হবে আর তিনি ও আমার সাথে আসবেন। মা ই জবরদস্তি করে থামালেন। তোমার মেয়ের স্বভাব জাননা। ও একাই একাই যেতে চায় যাক। বাবার গো না আজ প্রথম দিন দিয়ে আসি অম্তত। ও যদি রাস্তা খুঁজে না পায়। না পেলে পাবে । খুঁজে খুঁজে যাবে। ওই সময়ের এক মা এত স্মার্ট ধীরস্থির কিভাবে হল জানো সত্যি অবাক লাগে। মা অন্যসকল মা থেকে ছিলেন বড় আলাদা। মা আমাদের মানুষ করেছিলেন এত আলোকিত ভাবে এখনকার অনেক শিক্ষিত মা এভাবে ভাবতে ও পারবেনা। একবার হয়েছিল কি জানো ! এ তোমার সাথে আমার দেখা হওয়ার আগের বছরের ঘটনা। আমাদের স্কুলে পড়তো ডিস্ট্রিক্ট কমিশনারের ছেলে। এই ছেলে খুব ছেলে টাইপ অর্থাৎ ওই বয়সের ছেলেদের যে একটা স্টাইল পোজপাজ করার সব করতো। তুমি মন খারাপ কোরনা যেন এই কথা শুনে কিছু মেয়েদের মধ্য ক্রেজ সৃষ্টি করা টাইপ ছেলে আছেনা লিডারের মত আসতো পিছনে একদঙ্গল ছেলেমেয়ে নিয়ে। হোন্ডা করে আসতো কখন ও কখন বাড়ীর গাড়ীতে।আমার চেয়ে পড়তো চার ক্লাস উপরে। আমি ছিলাম এইট এ ছিল সেকেন্ডারী ইন্টারমেডিয়েট পরীক্ষা সামনে। নিজে গাড়ী চালিয়ে আসতো। গাড়ীর চাবির রিং ঘোরাতে ঘোরাতে চলতো কিছু মোসাহেব নিয়ে। কেন্টিন এর কর্মচারী কে খাওয়ার বিল করতে হতনা। কেননা কোনদিন এসে একতাড়া টাকা দিয়ে সবাইকে কিনে রাখে। তো এইধরনের ছেলেদের নিয়ে কিছু মেয়ে আছে তারা ফিসফাস গুন্জন করে। সেই ছেলে একদিন আমার রাস্তার সামনে দাড়াল। কি ব্যাপার ! আমার ব্যাগের জিপ খুলে গিয়ে একটা বই আর কলম পড়ে গিয়েছিল রাস্তায়। আমার সামনে এসে দাড়াল ! কিছু সময় দেখল আমাকে আপাদমস্তক অনেকটা তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে !! হু তার সাথে যা বলল গায়ে জ্বালা ধরানোর মত ই কথা। "হু লাটবহর নিয়ে চলছেন মহারানী !!
হু পাইক পেয়াদা কোথায় ? জিনিস পত্র রাস্তায় যে ফেলে দিয়ে চলছ এ কি দরকার নাই? আমার কলম আর বই মুখের উপর ঘুরাতে লাগল। এই ধরনের ছেলেগুলোকে কেন জানি কখন ই পছন্দ করতামনা যারা বাবার ধনের বড়াই করে। আমি হনুমানটার দিকে পলক ও না তাকিয়ে আমার বই কলম ছিনিয়ে নিলাম বলা যায়। তারপর ধন্যবাদ না বলে দ্বিতীয় দৃষ্টি না দিয়ে সামনে হাটা দিলাম। না তাকিয়ে ও বুঝতে পারলাম বেচারা হাবা হয়ে গেছে। এরকম অভ্যর্থনা সে কখন ও মনে হয় পেয়ে অভ্যস্ত নয়। সারাক্ষন মাস্তান অনুসারীর দল নিয়ে চলে অভ্যস্ত মানুষ কার ও অবহেলা সহজে মেনে নিতে পারেনা। পরের দিন স্কুলে আসতে দেখি ওই মূর্তি সামনে! আজ হাবভাব বেশ শান্ত ভদ্র। কথা ও বলল অনেক শান্তভাবে !
"ইয়ে তুমি কি আমার উপর কোন কারনে রেগে আছ"? জিজ্ঞাসা করল বেশ আন্তরিকভাবে। এতক্ষনে আমি ও বোধ করলাম আমার ব্যাবহার ভদ্রজনোচিত হয়নি।
"না না কেন রাগ করব বলুন ! আপনি কি করেছেন । আপনি বরং আমার জিনিস মাটি থেকে তুলে আমার হাতে দিয়েছেন" বললাম এবার ক্ষমা প্রার্থনার সুরে। সেই বিকালে স্কুল শেষে আমার পথের সামনে। আজ গাড়ী ও নাই হোন্ডা ও নাই।
"কি ব্যাপার আপনার সেনাপতির লটবহর কোথায়? একটু মজা করতে ভুললাম না এবার। আজ তোমার সাথে হাটব বলে ওদের ফিরিয়ে দিয়েছি বলল এক গভীর অর্থপূর্ন দৃষ্টি দিয়ে। "আমি কোন ছেলের সাথে এভাবে হাটলে আমার মা বাবা পছন্দ করবেন না" স্পষ্টভাবে ই বললাম।
"তাহলে কি তুমি আমার সাথে কাল একটা জায়গায় যাবে বেড়াতে"? একটু অনুনয়ের স্বরে বলল এবার।
"আশ্চর্য্য আপনার সাথে আমি কোথাও যাব কিভাবে ? আমি তো আপনাকে চিনিনা। তাছাড়া আমার এখন ও বয়স হয়নি এভাবে ঘুরার। আমার বাসা থেকে অনুমতি দিবেনা"। আমি সত্যি টা বললাম।
"আরে বোকা মেয়ে ! বাসায় বলতে হবে কেন? লুকিয়ে যাব আমরা। তুমি আমাকে জাননা বলছ তাই আমি চাচ্ছি তুমি আমাকে জান চেন"। রাগে ভয়ে বিরক্তিতে এবার একটু ঝাঝিয়ে উঠলাম
"আমি মাকে মিথ্যে বলে কোন ছেলের সাথে বাহিরে যাবনা"। মা অনুমতি দিলে যাব।
বলে আর কোন ও কথা বলার সুযোগ না দিয়ে হাটা শুরু করলাম। এবার আমার পিছনে পিছনে আসতে শুরু করল ।
রাগ, অস্বস্তি শিহরন সব ই একসঙ্গে হতে লাগল। আমার বয়স মাত্র তের তখন চিন্তা কর অবস্থা। এই বয়সী মেয়ের জীবনে এই প্রথম। এ নুতুন অচেনা অনুভূতি। নিষেধ করতে চাচ্ছি যেন পিছনে না আসে। কিন্তু কেন জানি বলতে পারছিলামনা। ঘরের কাছে পৌছতে মা দরজা খুলে দাড়ালেন। ছেলেটা এবার হকচকিয়ে মুখ লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করতে লাগল। বুঝলে মা সরাসরি ছেলেটিকে ঘরে আসতে বললেন।
"তুমি বুঝি একই স্কুলে পড় শিমুলের সাথে বাবা"
আস ভিতরে আস" বললেন মা আন্তরিকতার স্বরে। মা সুন্দর করে একই টেবিলে একই খাওয়ার দিলেন আমাদের দুজনকে। খাওয়া শেষে মা দরজা পর্যন্ত ছেলেটিকে এগিয়ে দিলেন জান আর বললেন

"যখন ই তোমার কোন প্রয়োজন শিমুলের সাথে চলে আসবে আমাদের এই বাসায় কেমন বাবা।
তোমার নাম কি বাবা? মায়ের সরলতার কাছে ও তোতলাতে শুরু করল
অনিক ! ছেলেটি চলে যাওয়ার মা প্রকাশ করল "আসল কথা শোন আমি ছেলেটিকে ঘরে আসতে এই কারনে বলেছি যাতে ও রাস্তায় তোর পিছনে হাটাহাটি আর না করে"। কিছু সময় চুপ করে মা আবার জিজ্ঞাসা করেন একটু হেসে
"তোর কি এই ছেলে পছন্দ?
না না আমি চিৎকার করে প্রতিবাদ করলাম এবার।
"পছন্দ করলে ও লাভ নাই মা। তোমার এখন পড়ালেখার বয়স। বাইরে এই ছেলের সাথে ঘোরার বয়স তোমার এখন ও হয়নি। তবে ও যদি ঘরে আসতে চায় তোমরা একসঙ্গে পড়ালেখার বিষয় আলোচনা করতে চাও আমার মত আছে"।
কত জোরে জড়িয়ে ধরেছিলাম মাকে। এরকম ভাবে আমার মাই ভাবে। মা কত জ্ঞানী ভাবছিলাম। মা যদি এ না করতো আমি কি করতাম হয়তো একদিন এর জবরদস্তির কাছে হার মানতাম তার সাথে সিনেমা দেখতে যেতাম। সিনেমা হলে অন্ধকারের সুযোগে এ আমার গায়ে হাত দিত। এ স্বাভাবিক। উঠতি বয়সের টিনএজ ছেলেমেয়েরা তো এইভাবে কিছু বোঝার আগে সম্পর্কে জড়িয়ে নেয় নিজেদের সম্পর্ক কি বোঝার আগে। পরে এ আমাকে দুর থেকে তাকিয়ে দেখতো। সামনে আর আসেনি। জানো আমাদের ফিজিক্যাল কেমেষ্ট্রীর টিচার ছিল একটু অদ্ভুত স্বভাবের। চশমার ফাক দিয়ে মেয়েদের তাকিয়ে থাকা ছিল ওনার এক হবি। শুনতাম উনি বড় এক নাস্তিক। নাস্তিকতা কি এক রোগ নাকি ? নাস্তিকদের অধিকাংশ দের দেখি স্থুল বাজে কথা আর গাজা নেশার আড্ডায় ব্যাস্ত থাকে। ওরা আল্লাহ ধর্ম কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতে দেখাতে প্রচলিত সমাজ রীতি নীতি সভ্যতা সবকিছুতে ই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর অভ্যাস তৈরী করে ফেলে নিজেদের। এই ফিজিক্যাল কেমিষ্ট্রির টিচার নাকি নেশা আর স্থুল অশালীন কথার টিচার বুঝতে পারলাম না জান। আর প্রথম দিন ই ইনি আমাকে টার্গেট করে ফেলল।একই দিন বিকালে তোমার সাথে দেখা হয়ে গেল ক্যান্টিন এ।
আরে আরে আমার সুন্দরী শিমুল রানী তুমি ঢাকা ভার্সিটিতে! কি পড়তে!
আমি মাথা নেড়ে সায় দিলাম। "আমি তো মনে করলাম তুমি লন্ডন ইউএস এ সেটল করবে হায়ার স্টাডিস এর জন্য। বললে একটু কুটনী হেসে।
"এই নাও নাও সিঙ্গারা খাও এই আবুল বলে ক্যান্টিন এর ছেলেটাকে ডাকলে বললে ।"এই ম্যাম এর জন্য সিঙ্গারা এক প্লেট !রাগ উঠে গেল ম্যাম শুনে। "বুঝলে ম্যাম শিমুল ম্যাডাম সিঙ্গারা বানানোতে তুমি চ্যাম্পিয়ান। সারা পৃথিবীর কেউ তোমার মত মজার সিঙ্গারা বানাতে পারেনা আর আমাকে এভাবে দোলাতে পারেনা আস্তে আস্তে নিজেকে শুনিয়ে ফিসফিসিয়ে বললে"। চমকে আমার হাত থেকে সিঙ্গারা পড়ে যেতে নিয়েছিল।
"কি কি বললেন"?
"হুম বলবনা" একটু মুচকি হাসতে হাসতে আমার মুখ জরীপ করতে শুরু করলে এবার।
তুমি কেন যে এরকম করতে বল তো ?
তুমি কি আমাকে পছন্দ করতে শুরু করছিলে ওই মূহূর্ত থেকে।




সিনেমার মত এক ব্যাপার ঘটে গেল বুঝেছ সেদিন। এমন এক কুক্ষনে স্বপ্ন দেখলাম রে এখন ও মনে হলে বুক ধড়পড়িয়ে যাচ্ছে । তুমি অবশ্য শুনলে হাসতে জানি।

স্বপ্ন দেখেছি তাও আবার ফজর নামাজের আগে। বিয়ে হচ্ছে আমার তোমার সাথে। লাল কাতান পরে আমি স্টেজে বসে। এমন সময় সবাই শোরগোল করতে শুরু করল বর এসেছে বর এসেছে বলে। আমি ঘোমটার ফাঁকে দিয়ে দেখছি ঠিক গ্রামের কনে বউদের মতন। ওমা দেখছি তুমি হাতির পিঠে চড়ে এসেছ। অনেকটা আকবর জমানার টাইপের। হাতির উপর চেয়ার দিয়ে সিংহাসন এর মত বানানো হয়েছে। আর তুমি রাজকীয় এক মুকুট পরে আছ। আবার হিন্দী সিরিয়ালের নায়কদের মত সেহরা একটা ঝালর দিয়ে তোমার মুখ ঢাকা। আমি খুব চেষ্টা করে যাচ্ছি তোমার অপরুপ মুখটা দেখতে। তারপর আমাদের বিয়ে ও হয়ে গেল। বাসর রাতে খাটে বসে আছি। তুমি ঘরে ঢুকলে সেহরা সহ। বিয়ের সময় ও.মুখ দেখালেনা। তোমার পুরোহিত নাকি বলেছে বিয়ে শেষ না হওয়া পর্যন্ত মুখ দেখানো চলবেনা। তুমি আস্তে আস্তে ঘুরে দাড়ালে আমার দিকে মুখ থেকে ঝালর সরিয়ে !
আমি চিৎকার দিয়ে উঠলাম সামনে দেখি ডিপজল! সামনে লাঠি পেয়ে দিলাম গুন্ডাটার মাথায় বাড়ি। দেয়ালে লটকানো একটা ছাতা পেয়ে নিলাম হাতে । ছাতার মাথাটা বন্দুকের মত তাক করে ভিলেনটাকে বললাম এই বল তুই আমার স্বামীকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছিস! চিৎকার করতে করতে আমি সিড়ি দিয়ে লাফিয়ে নামতে শুরু করলাম। সিড়ি এখন হয়ে গেল সাহারা মরুভূমির মত। আমি স্লো মোশনে বিয়ের ঘাঘরা পরে দৌড়াতে লাগলাম । আর পিছনে আমাকে তাড়া করছে ডিপজল। আর ওই সময় লাফ দিয়ে উঠে বসলাম বিছানায়। কি অলক্ষুনে স্বপ্ন রে বাবা! বুকে থু থু দিয়ে সময় দেখলাম সকাল পাঁচ টা। আচ্ছা স্বপ্ন এত উদ্ভট হয় কেন বলতো? চিৎকার করে হাসব না কাঁদব বুঝে উঠতে পারছিলামনা ঘুম ভাঙ্গার পর। আচ্ছা আচ্ছা মনে পড়েছে আম্মার সঙ্গে ওইদিন সিনেমা দেখছিলাম ডিপজল ভিলেন এর হিম্মত।
খুব হাসাহাসি হল আম্মার আর বোনদের সাথে স্বপ্নটা নিয়ে। ও আমার মেয়ে তাহলে বিয়ের স্বপ্ন দেখে এমন আম্মা বললেন মজা করে। এর মধ্যে কত কিছু হয়ে গেল জীবনে। তোমার কোন সাড়া শব্দ ও আর পেলামনা কিছু দিন। তুমি বড় কবি হয়ে গিয়েছ তা শুনছি মানুষের কাছে থেকে। পেপারে প্রায় ই তোমার কবিতা ছাপা হয়। আমি তোমার কবিতার অংশটুকু কেটে রেখে দিই পেপার হাতে পাওয়া মাত্র। সামনা সামনি দেখা না হলে ও এমনি খবর পাই মানুষের কাছে থেকে। তোমার বোন পুতুল মাঝে মাঝে আসে কোন নাস্তা খাওয়ার নিয়ে। আর আমি আর মা বানিয়ে দেই তোমার সব প্রিয় নাস্তা।


অবশেষে আজ সেই দিন এল। বধু সেজে আজ তোমার প্রতীক্ষায়। রাত দশটা ঘরে এলে তুমি

"কি শিমুল রানী চলবে তো এই বর"?

"হুম দৌড়াবে আমি হাসলাম মজা করে। সেই থেকে চলছে আজ অবধি তোমার আমার এক বৈতরনীতে চলা একসাথে সকল দুঃখ, কষ্ট, আনন্দ, বেদনাকে সঙ্গী করে।


------------------------




Hosne Ara Arzu

40 Teesdale Place, Unit 1903

Scarborough, Ont, M1L1L3 Toronto

Canada


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,