তিনটি কবিতা ।। মনিকা চট্টোপাধ্যায়
শ্রাবণ
শ্রাবণের মেঘে ঢাকে নীল আকাশখানি,
বৃষ্টির সুরে বাজে প্রকৃতির বাণী।
টুপটাপ জলের ধারা নামে সারাদিন,
সবুজে ভরে ওঠে মাঠ আর প্রান্তরচিন।
কদম ফুলের গন্ধে ভরে যায় পথ,
শীতল হাওয়ায় জাগে মনের আনন্দ রথ।
নদীর জলে ওঠে নতুন এক ঢেউ,
বর্ষার গানে মেতে ওঠে সব কেউ।
মাটির বুকে নামে স্নিগ্ধতার ছোঁয়া,
চাষির মুখে হাসি, স্বপ্ন হয় বোনা।
ব্যাঙের ডাক শোনা যায় পুকুরের ধারে,
শ্রাবণ আসে সুখের বার্তা নিয়ে ঘরে।
মেঘের আড়ালে লুকায় সোনালি রবি,
বৃষ্টির কবিতায় হাসে ধরিত্রী সবই।
শ্রাবণ যেন প্রকৃতির মধুর গান,
বাংলার হৃদয়ে তার চিরন্তন স্থান।
কী পেলাম
জীবনের পথে কত দূর এলাম,
হাসি আর কান্নার গল্প পেলাম।
সুখের দিনে পেয়েছি আলো,
দুঃখে শিখেছি থাকতে ভালো।
বন্ধুর স্নেহ, মায়ের মমতা,
ভরিয়ে দিয়েছে মনের খাতা।
স্বপ্নের মাঝে আশা জাগে,
নতুন সকাল ডাক দেয় আগে।
হারানোর মাঝে শিক্ষা পেলাম,
ভুলের পথেও জ্ঞান যে পেলাম।
প্রকৃতির কাছে শান্তি খুঁজি,
ভালোবাসার ফুল আজ বুঝি।
ধন-সম্পদ নয় জীবনের দাম,
ভালো কাজে থাকে সত্যিকারের নাম।
পথ চলাতে যত কিছু পেলাম,
কৃতজ্ঞ হৃদয়ে সবই রাখলাম।
আনন্দ
আনন্দ আসে ভোরের আলোয়,
হাসির ফুল ফোটে মনের ডালে।
পাখির গানে জেগে ওঠে প্রাণ,
মধুর সুরে ভরে ওঠে গান।
শিশুর মুখের সরল হাসি,
দূর করে দেয় মনের উদাসী।
ফুলের গন্ধ, নদীর ধারা,
আনন্দ আনে সবার তরে সারা।
বন্ধুর সাথে গল্পের মেলা,
খুশিতে কাটে সময়ের খেলা।
ভালোবাসার ছোট্ট ছোঁয়ায়,
জীবন হাসে নতুন মায়ায়।
দুঃখ পেরিয়ে সুখের সন্ধান,
আনন্দে ভরে ওঠে এই প্রাণ।
সবার মাঝে বিলিয়ে দিই,
আনন্দে যেন পৃথিবী সাজাই।
=====================
মনিকা চট্টোপাধ্যায়
সালকিয়া, হাওড়া - ৬

Comments
Post a Comment