Skip to main content

অসবর্ণ ।। দেবাংশু সরকার

banglar sarat prakriti

অসবর্ণ

দেবাংশু সরকার


      ইন্টারভিউ দেওয়ার পর অরূপের মনে হয়েছিল চাকরিটা হয়তো সে পেয়ে যাবে। বেশ ভালোভাবেই সে ইন্টারভিউতে করা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছিল। সেইসঙ্গে ক্যাশ হ্যান্ডেলের তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও বলেছিল। অরূপের মনে হয়েছিল ইন্টারভিউ বোর্ডে যারা ছিলেন তাদের হয়তো অরূপের কথাবার্তা বেশ ভালো লেগেছে। বারে বারে তাদের মাথা নাড়া, মুখের হাসি দেখে অরূপের মনে হয়েছিল তারা হয়তো অরূপের প্রতি কিছুটা হলেও সন্তুষ্ট। বেসরকারি চাকরি হলেও এই অফিসটা সব রকম সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলে। প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি, বোনাস সব রকম সুবিধা কর্মচারীরা পায়। চাকরির শেষে পেনশনের ব্যবস্থাও আছে। হয়তো সরকারি চাকরির মত বড় অঙ্কের  পেনশন এই কোম্পানির অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা পায় না। কিন্তু পেনশন বাবদ প্রতি মাসে কিছু টাকা তাদের হাতে আসে। মাহিনাও খুব একটা খারাপ নয়। অর্থাৎ সরকারি চাকরির মত অত সুবিধা না থাকলেও, তুলনামূলকভাবে খুব একটা খারাপও নয়। কিন্তু একটাই অসুবিধা তাকে বাড়ি ছেড়ে থাকতে হবে। কারণ এই অফিসটা অরূপের বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে। বাড়ি থেকে প্রত্যেক দিন অফিসে যাতায়াত করা সম্ভব নয়। অফিসের কাছাকাছি কোনও বাড়ি ভাড়া করে থাকতে হবে।
      ইমেল মারফত চাকরির অফার লেটারটা পাওয়ার পরে অরূপ এসেছে তার নতুন অফিসে।  ফ্যাক্টরি সংলগ্ন অফিস। সহরাঞ্চল থেকে বেশ কিছুটা দুরে। আশপাশের পরিবেশটা অনেকটাই গ্রাম্য। কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হবে। তাছাড়া আরও কিছু অফিসের নিয়ম কানুন তাকে পূরণ করতে হবে। সেইসঙ্গে একটা ভাড়া বাড়ির ব্যবস্থাও সে করে যাবে বলে ঠিক করেছে। এক কামরার খুব ছোট ঘর হলেও তার চলবে। সে রান্নাবান্না মোটামুটি করতে জানে, একা থাকলেও তার অসুবিধা হবে না। নতুন অফিসে এসে প্রথম দিন অরূপের ভালোই লেগেছে। প্রথম দিনেই তার মনে হয়েছে অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা খুব মিশুকে। প্রথম দিনেই তারা অরূপের সঙ্গে মন খুলে কথা বলেছে। তার সম্বন্ধে যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছে। এমনকি কোনও কিছু প্রয়োজন হলে, কোনও রকম দ্বিধা না করে অরূপ যেন তাদের বলে সে কথাও জানিয়েছে। সহকর্মীদের আন্তরিক ব্যবহারে অরূপ মুগ্ধ হয়।
      শ্যামল নামের এক সহকর্মী যে অরূপের প্রায় সমবয়সী তাকে অরূপ একটা ছোট খাটো ভাড়া বাড়ি দেখে দেওয়ার জন্য বলে। শুনে শ্যামল বলে, "ভাড়া বাড়ি নিয়ে কোনও চিন্তা করোনা। আমাদের নবীনদার কয়েকটা ছোট ছোট বাড়ি আছে। ভাড়া দেয় তুমি একা থাকবে, খুব বড় বাড়ির প্রয়োজন নেই। ছোট এক কামরার ঘরেই তোমার হয়ে যাবে। এখানে খুঁজলে তুমি অবশ্য বড় বাড়িও পেয়ে যাবে। তবে বড় বাড়ি তোমার মনে হয় না খুব একটা প্রয়োজন। তাছাড়া বড় বাড়ির ভাড়াও বেশি পড়বে। তুমি নবীনদার সঙ্গে কথা বলে দেখো। নবীনদারন্ত যদি বাড়ি খালি থাকে, তোমার ব্যবস্থা হয়ে যাবে। না হলে অন্য ব্যবস্থা করতে হবে।" 
      - "নবীনদাকে আমি চিনি না। তুমি একটু কথা বলে দেবে?" 
      - "এক্ষুনি কথা বলে দিচ্ছি। এসো আমার সঙ্গে।"
       শ্যামল অরূপকে নিয়ে পাশের ঘরে গিয়ে নবীন বাবুর সঙ্গে অরূপের আলাপ করিয়ে দেয়। নবীন ব্যানার্জি বয়স্ক মানুষ। তার তিন মেয়ে, ছেলে নেই। অবসরের কাছাকাছি চলে এসেছেন। অফিস থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে তার বাড়ি। ছাপোষা মানুষ, রোজগার করে যেটুকু টাকা জমাতে পেরেছেন তার অনেকটাই খরচ হয় গেছে বড় দুই মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে। ছোট মেয়ে জয়ী কলেজে পড়ে। এবারে তাকেও পাত্রস্থ করতে হবে। সেইজন্য ভেবে চিন্তে হিসাব করে সংসার চালান। একটু একটু করে টাকা জমাচ্ছেন। নবীন বাবু সাত্বিক ব্রাহ্মণ। আজন্ম নিরামিষাশী। প্রতিদিন জপ আহ্নিক না করে অন্নজল গ্রহণ করেন না। বড় দুই মেয়েকে কুলীন ব্রাহ্মণ ঘরে বিয়ের দিয়েছেন। ছোট মেয়েটির বিয়েও দেখে শুনে সেই রকম কোনও উচ্চ বংশের সন্তানের সঙ্গে দেবেন বলে মনস্থির করে রেখেছেন। তবে ছোট মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে তিনি কিছুটা হলেও চিন্তিত। চিন্তার একটাই কারণ টাকা। নিজের পছন্দ মত কুলীন ঘরের পাত্র পেতে হলে আজকের দিনেও খরচ খরচা বেশ ভালই হয়। পণপ্রথা নিয়ে এত আন্দোলন, এত প্রচার, এত আইনের ব্যবস্থা হলেও পুরোপুরি পণপ্রথা এখনও সমাজ থেকে উঠে যায়নি। বরং কোথাও কোথাও যেন আরও জাঁকিয়ে বসেছে। বাড়ি ভাড়ার কথা বলতে নবীন বাবু অরূপকে জানালেন যে তার একটা এক কামরার ঘর কিছুদিন হল খালি হয়েছে। তিনিও ভাড়াটে খোঁজা শুরু করেছেন।
      বললেন, "আমরা সহকর্মী হতে চলেছি। এক অফিসে একসঙ্গে দুজনে কাজ করব। আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া এমনিতেই তৈরি হয়ে যাবে। তাই আপনাকে ভাড়াটে হিসেবে পেলে আমার সুবিধাই হবে।" 
      - "আমাকে আর 'আপনি' বলবেন না নবীনদা। আমি প্রায় আপনার ছেলের বয়সী।" 
      - "ঠিক ঠিক। আমার ছেলে না থাকলেও তুমি আমার বড় মেয়ের বয়সী। তোমাকে আমি তাহলে তুমি বলে ডাকব। তুমি অবশ্য আমাকে 'নবীনদা' বলে ডেকো। অফিসে এসে কাকা জ্যাঠা সম্মোধনটা ঠিক ভালো লাগে না।" নবীন বাবুর কথা শুনে অরূপ শ্যামল দুজনেই হেসে ওঠে। "কিন্তু অরূপ, আমার বাড়ি এই অফিস থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে। অটোতে আসতে আমার অনেক টাকা খরচ হয়। সেইসঙ্গে কিছুটা হাঁটতেও হয়। এ ব্যাপারে তোমার কোনও অসুবিধা হবে না তো?"
      - "তেমন অসুবিধা হবে না। আমার একটা মোটর বাইক আছে। সেটা না হয় এখানে নিয়ে আসব। আপনাকেও তাহলে আর রোজ অটোতে চড়তে হবে না।" 
      - "সে তো ভালই হবে। তাহলে চলো ঘরটা দেখে আসবে। ভাড়া নেওয়ার আগে দেখা দরকার। পছন্দ অপছন্দের একটা ব্যাপার আছে। এবারে আধঘন্টার টিফিনের ব্রেক হবে। এরমধ্যে আমরা দেখে আসি।" নবীন বাবু অরূপকে নিয়ে বেরিয়ে যান। অন্যান্য কলিগদের বলে যান যে ফিরতে একটু দেরি হতে পারে, তারা যেন সামলে নেয়। সেইসঙ্গে তার স্ত্রীকে ফোন করে জানিয়ে দেন যে তিনি একজনকে নিয়ে ঘর দেখাতে যাচ্ছেন। ঘর দেখে মোটামুটি ভালো লাগে অরূপের। ভাড়ার ব্যাপারে কথাবার্তা বলে নেয়। নবীন বাবুর স্ত্রীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বাড়ি দেখার পর তারা নবীন বাবুর ঘরে আসে। নবীন বাবুর স্ত্রী আগে থেকেই রান্না করে রেখেছিলেন। তিনি কিছুতেই অরূপকে না খাইয়ে ছাড়বেন না। অগত্যা অরূপকে বসতেই হয় ডাইনিং টেবিলে। 
      - "বৌদি আমার মা বেশ কয়েক বছর আগে গত হয়েছেন। আজ মনে হল অনেকদিন পর যেন মায়ের হাতের রান্না খেলাম। সত্যিই পেটের সঙ্গে মন ভরে গেল।" 
      - "ঠিক আছে, এবারেতো এখানেই থাকবে। মাঝে মাঝে আমার রান্না খেয়ে দেখবে।" 
      নবীন বাবু ঘড়ির দিকে তাকান। ভাবেন আর সময় নষ্ট করা যাবে না। তাহলে অফিসে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। বেরিয়ে পড়েন তারা। বের হওয়ার আগে নবীন বাবুর স্ত্রী অরূপকে বলেন, "আজ একজনের সঙ্গে দেখা হল না। আমার ছোট মেয়ে জয়ী, কলেজে গেছে। কলেজ করে, প্রাইভেট পড়ে ফিরতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যাবে। রোজ অবশ্য দেরি হয় না। সপ্তাহে একদিন দেরি হয়। সেদিন আমি একটু চিন্তায় থাকি। মেয়ে ঘরে ফিরলে নিশ্চিন্ত হই।" 
      - "আজ আপনার মেয়ের সঙ্গে আলাপ হল না। পরে নিশ্চয়ই হবে।" 
     - "সে তো হবেই। পাশাপাশি বাড়িতে থাকলে দেখা সাক্ষাৎ আলাপ পরিচয় হবে।" 
      পরের মাসে অরূপ নতুন চাকরিতে যোগ দেয়। সেইসঙ্গে চলে আসে নবীন বাবুর ভাড়া বাড়িতে। ভাড়া বাড়িতে অরূপ নিজেই রান্না করে খায়। খুব সকালে তাকে ঘুম থেকে উঠে রান্না করতে হয়। তারপর সাড়ে নটা নাগাদ সে বেরিয়ে পড়ে তার অফিসের উদ্দেশ্যে। নবীন বাবুও অটোর বদলে অরূপের বাইকে চড়ে প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত করেন। অটোর ভাড়াটা বেঁচে যায়। এমন এক ভাড়াটেকে পেয়ে তিনি বেজায় খুশি। নবীন বাবুর স্ত্রী মাঝে মাঝে অরূপের খোঁজ খবর নেন। কোনও কিছু অসুবিধা হচ্ছে কিনা জানতে চান। নবীন বাবুর ছোট মেয়েকে অরূপ দু একবার দেখতে পেলেও, তার সঙ্গে অরূপের এখনও আলাপ হয়নি। কলেজ যাওয়া, পড়তে যাওয়া ছাড়া নবীন বাবুর ছোট মেয়ে জয়ী খুব একটা বাড়ির বাইরে বের হয় না। সপ্তাহে  একদিন তার কলেজের পর প্রাইভেট টিউশনি পড়ে বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। 
      সকালে সময় অল্প, তাই মাঝে মাঝে সন্ধ্যার পর অরূপ অফিস থেকে ফিরে আবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। স্টেশন সংলগ্ন বাজার থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কাঁচা আনাজ এবং রান্নার অন্যান্য জিনিস সে সন্ধ্যার পর কেনাকাটা করে। রাতেই সে রান্নার জন্য শাকসবজি, আনাজ কেটে রাখে। সকাল হতে না হতেই রান্না চাপিয়ে দেয়।  
      - "ম্যাডাম, শুনছেন।" ঘুরে তাকায় জয়ী। দেখে তাদের নতুন ভাড়াটিয়া  তাকে ডাকছে। 
      - "আমি এখন বাড়ি যাব। অটোর জন্য লম্বা লাইনে না দাঁড়িয়ে আপনি আমার সঙ্গে যেতে পারেন।"
       - "যেতে পারি, কিন্তু..."‌। 
       - "কিন্তু কি?" 
       - "আমি এর আগে কারও বাইকে উঠিনি। তাই ভয় করছে।" 
      - "ঠিক আছে, উঠে আসুন খুব আস্তে চালাব।" 
      - "আসতে চালাবেনতো?" 
      - "কোনও ভয় নেই। খুব আস্তে চালাব।"
      - "তবুও ভয় লাগছে। যদি আস্তে চালাতে গিয়ে ব্যালেন্স হারিয়ে পড়ে যান! আমিওতো পড়ে যাব। খুব চোট লাগবে।"
       জয়ীর কথা শুনে হেসে ফেলে অরূপ। বলে, "আমি খুব খারাপ ড্রাইভার নই ম্যাডাম। এখন আমার কাছে বাইক চালানোর সার্টিফিকেট নেই। বাড়িতে চলুন, আপনার বাবা রোজ আমার বাইকে চড়েন। ওনার থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে আপনাকে দেখাব।" 
      বাইকে উঠে পড়ে জয়ী। বাইকে বসে প্রশ্ন করে, "কিছু ধরার জায়গা নেই?" 
      - "আছেতো। পুলিশ যেভাবে চোরের কলার ধরে টেনে নিয়ে যায়। আপনিও সেভাবে আমার জামার কলারটা ধরুন।" 
      - "ঠিক আছে। তবে খুব আস্তে চালাবেন। আমার সত্যিই খুব ভয় করছে।" পুরো রাস্তাটা জয়ী প্রায় দম বন্ধ করে বাইকে বসেছিল। বাড়ির সামনে এসে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলে, "আপনি ভালোই গাড়ি চালান। আমি একটুও টলমল করিনি। অকারণে ভয় পাচ্ছিলাম।" 
      - "প্রথমবার বাইক চড়াটা আপনার কাছে রীতিমতো একটা অ্যাডভেঞ্চার হল।" 
      - "সত্যিই বাইকে উঠে প্রথমে খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম। এখন মনে হচ্ছে তেমন ভয়ের কিছু নেই বরং বেশ মজাই লাগল। মাঝে মাঝে চড়ব আপনার বাইকে। মাকেও চড়াব।" 
      সন্ধ্যার পর অরূপ নিজের ঘরে বসে টিভি দেখছে। এমন সময় দরজায় টোকা। উঠে গিয়ে সে দরজা খোলে। নবীন বাবুর স্ত্রী এসেছেন। হাতে একটা বাটি। তার পেছনে জয়ী। 
      - "আজ ফ্রাইড রাইস করেছিলাম। ভাবছিলাম তুমি কখন বাড়ি ফিরবে।" 
      - "আমি যে বাড়ি ছেড়ে এত দূরে একা আছি। আপনার জন্য সে কথা বুঝতেই পারিনা।" 
      অরূপের কথার মাঝেই জয়ী বলে, "জানো মা, আজ একটা এডভেঞ্চার হল। আমি স্টেশন থেকে অরূপের বাইকের চড়ে বাড়ি ফিরেছি। যতক্ষণ বাইকে বসে ছিলাম, কি ভয় করছিল! যখন নামলাম তখন মনে হল ভয়ের কিছুই নেই। তুমি একদিন চড়বে অরূপের বাইকে?"
      - "না বাবা, আমার দরকার নেই। তারপর পড়ে গিয়ে বুড়ো বয়সে হাত পা ভাঙব?" 
      - "ঠিক করে বসলে পড়ে যাওয়ার কোনও চান্স নেই। তুমি শুধু শুধু ভয় পাচ্ছ। প্রথমে আমিও ভয় পেয়েছিলাম। তারপর বেশ মজা লাগল। কি রকম হুশ করে চলে এলাম। সত্যি পরের দিকে আমার বেশ মজা লাগছিল। অরূপ তুমি কি রোজ সন্ধ্যাবেলা স্টেশনের দিকে যাও?" 
      - "রোজ না হলেও, প্রায়ই যাই।" 
      - "ঠিক আছে, আমি যেদিন পড়ে ফিরব সেদিন অন্তত যাবে। আমি তোমার বাইকে ফিরব। বেশ মজা হবে।" 
      - "সেইসঙ্গে অটোর ভাড়াটাও বাঁচবে। ওই টাকায় ফুচকা খাব। সত্যি কি ধান্দাবাজ আজকালকার মেয়েগুলো!" ফোড়ন কাটেন নবীন বাবু স্ত্রী। 
      নবীন বাবুর স্ত্রীর কথাগুলো শুনে হেসে ওঠে অরূপ। বলে, "এতে অসুবিধের কিছু নেই। এমনিতেই আমাকে সপ্তাহে তিন চার দিন বাজার করতে যেতে হয়। জয়ী পড়তে যাওয়ার দিন আমি বাজার করতে যাব। তাহলে আমিও ফুচকার ভাগ পাব।" 
      কেবল পড়ে ফেরার দিন নয়। মাঝে মাঝেই জয়ীকে অরূপের বাইকে চেপে ঘুরতে দেখা যায়। সেইসঙ্গে স্টেশন চত্বরে গজিয়ে ওটা নতুন রেস্টুরেন্টে আড্ডাও চলে।
      - "অরূপ তুমিতো আমার বাবাকে নবীন দা বলো। মাকে বৌদি বলো। তাহলে তোমাকে আমার কাকা বলা উচিত।" 
      - "এই না, একদম নয়। কখনো আমাকে কাকা বলে ডাকবে না।" 
      - "কাকা নয়। তাহলে কি বলব?" 
      - "জ্যাঠা।" 
      - "এই ফোট এখান থেকে। এইটুকু ছেলেকে জ্যাঠা বলতে হবে! মামার বাড়ির আবদার।" 
      - "তাহলে যা বলছ, তাই বলো। 'হ্যাঁগো', 'ওগো' করে চালিয়ে যাও।" 
      - "এই অরূপ বলো না, কবে সত্যি সত্যি 'হ্যাঁগো', 'ওগো' বলে ডাকব?"
      - "জানি জানি সব জানি। প্রথম প্রথম সবাই সোহাগ করে মিষ্টি সুরে 'হ্যাঁগো', 'ওগো শুনছো' বলে। তারপর যখন পুরানো হয়ে যাব, তখন 'মুখ পোড়া মিনষে' বলে ডাকবে।" 
      - "ধ্যাৎ! ওসব বুড়ো বুড়িরা বলে।" 
      - "তুমি কি কোনও দিন বুড়ি হবে না? চিরদিন একরকম থাকবে?" 
      - "কি রকম?" 
      - "এই যে রকম আছো। সুন্দরী, সেক্সি।" 
      - "এক চড় মারব। খালি উল্টোপাল্টা কথা।"
      - "কেন? উল্টোপাল্টা কেন? যখন তুমি আমার বাইকে চড়ে যাও, তোমাদের পাড়ার ছেলেরা করুণ চোখে তাকিয়ে থাকে! হয়তো ভাবে...।"
      - "কিভাবে?" 
      - "ভাবে, কোন ধ্যাড় ধাড়ে গোবিন্দপুর থেকে এসে পাড়ার এক নম্বর মালটাকে তুলে নিল! আর আমরা পাড়ায় থেকে ইয়ে ছিঁড়লাম।" 
      - "আবার আজে বাজে কথা। তবে আমাদের বিয়েতে খুব ঝামেলা হবে। সেই ঝামেলা সামলানো খুব মুশকিল হয়ে উঠবে। আমি খালি ভাবি কি করে আমাদের সম্পর্কের কথাটা বাড়িতে বলব!" 
      - "কেন? না বলার কি আছে?"
      - "তুমি দাস, মাহিষ্য। আমরা বামুন। বাবা মেনে নেবে না আমাদের সম্পর্কটা।" 
      - "ধুর, আজকের দিনে কেউ ওসব নিয়ে মাথা ঘামায় না।" 
      - "তুমি আমার বাবাকে চেনো না, তাই এ কথা বলছ। আমার বাবা হচ্ছে গোঁড়া বামুন। মাছ মাংসের ধার মাড়ায় না। দিনে তিনবার পুজো আর্চা করে। কপালে চন্দনের তিলক কাটে। সেই লোক অসবর্ণ বিয়ে মানবে?" 
      অফিসের লোকজনদের বলব তোমার বাবাকে বোঝাতে। এমনকি এমডিকে বলব। এমডি এখন আমার হাতে আছে। মানে আমার কাজে খুব সন্তুষ্ট। আমাকে ক্যাশ হ্যান্ডেল করতে হয়। আগে অনেক বেহিসেবী খরচ হত। সেগুলোকে আটকে দিয়েছি। অনেক টেন্ডারে জালিয়াতি, কারচুপি হত। সেগুলো সব বন্ধ করে দিয়েছি। এরজন্য অবশ্য অফিসের অনেকেই আমার উপর রেগে আছে। কিন্তু আমার কাজে কোম্পানির এমডির পুরোপুরি মদত আছে। এমডি আমাকে বলেছেন এভাবে চালিয়ে যেতে। বাজে খরচ, অপচয় আটকাতে। যেখানে এমডি আমার ফেভারে আছে, সেখানে কোন কলিগ আমার এগেনস্টে গেল, না গেল তাতে আমার কিছু আসে যায় না। এমডি মানে কোম্পানির মালিকের কথাই শেষ কথা। সেরকম প্রয়োজন হলে এমডিকে বলব তোমার বাবাকে বোঝাতে যে এইসব পুরানো ধ্যান ধারণার কোনও মূল্য নেই আজকের দিনে।" 
      - "তবে আমার বাবা যা রাগী আর গোঁয়ার! এমনিতে ভালো, কিন্তু রেগে গেলে আর দেখতে হবে না। একেবারে কুরুক্ষেত্র বাঁধিয়ে ছাড়বে। ওসব এমডি ফেমডি কাউকে মানবে না। এইসব লোকেদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা খুব কঠিন।" 
      - "দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে। কোনও ঝামেলা হবে না। তাছাড়া তোমার বাবার বয়স বাড়ছে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সবারই গরম রক্ত ঠান্ডা হয়ে যায়। অত চিন্তা করার কিছু নেই। পরীক্ষাটা ভালোভাবে দাও। তোমাকে কিছু বলতে হবে না। যা বলার আমি বলব।"
      ব্যাপারটা নবীন বাবুরও চোখে পড়েছে। জয়ী কেবল টিউশনি পড়ে ফেরার পরেই অরূপের মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফেরে না। মাঝে মাঝে সন্ধ্যার সময় তাদের দুজনকে বাইকে চড়ে ঘুরতে দেখা যায়। পাড়া প্রতিবেশীদেরও নজরে পড়েছে ব্যাপারটা। অনেকেরই দৃষ্টিকটু লাগছে, কিন্তু কেউ ব্যাপারটা নিয়ে মাথা ঘামায় না। তবে পাড়ার বিলাস বাবু একদিন নবীন বাবুকে ডেকে বললেন, "নবীন তোমার সঙ্গে একটা কথা আছে।" 
      - "বলুন বিলাস দা।" 
      - "ইদানিং তোমার মেয়েকে দেখছি তোমাদের নতুন ভাড়াটের সঙ্গে উড়ে বেড়াচ্ছে। তারমানে তোমাদের নতুন ভাড়াটে কি তোমার ছোট জামাই হচ্ছে?" 
      - "আরে না না, ওসব কিছু নয়। জয়ী টিউশনি পড়ে ফেরার পথে মাঝে মাঝে অরূপের বাইকে ফেরে। অটোর ভাড়াটা বেঁচে যায়। তাই আমি বাধা দিই না।" কথাটা বলে হেসে ওঠেন নবীন বাবু।
      - "কেবল অটোর ভাড়া কেন, এখন দেখে শুনে মেয়ের বিয়ে দেওয়া মানে লাখ লাখ টাকার খরচ। হয়তো দেখবে তোমার সেই খরচটাও বেঁচে যাবে।"
     - "বিলাস দা, আমরা কুলীন ব্রাহ্মণ। অরূপরা দাস, মাহিষ্য। আমি মরে গেলেও এসব মেনে নেব না।" 
      - "যদি ওরা বিয়ে করবে বলে মনস্থির করে। তখন তুমি কি করবে?" 
      - "ব্যাপারটা একটু আঁচ পেয়েই আমি ব্যবস্থা করে রেখেছি। ঘোরাফেরা করছে করুক, তবে অরুপ যদি বামুন হয়ে চাঁদে হাত বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে আমার হাত থেকে রেহাই পাবে না।"
      - "কি করবে তুমি? মানে কি করতে পারবে? একটা এডাল্ট ছেলে, আর একটা এডাল্ট মেয়ে যদি বিয়ে করবে বলে মনস্থির করে, তাহলে তোমার কিছু করার নেই।"
      - "আছে বিলাসদা, সব ব্যবস্থা করা আছে।" কথা বলতে বলতে নবীন বাবু তার পকেট থেকে কিছু একটা বের করে বিলাস বাবুকে দেখান।
      জয়ীর পরীক্ষা শেষ হয়েছে। নবীন বাবুও মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য তোড়জোড় শুরু করেছেন। পাত্র দেখাশোনা শুরু করেছেন। প্রথমে জয়ী চুপচাপ থাকলেও, একদিন সে তার মাকে সব খুলে বলে।
      - "মা এভাবে আমাকে সাজিয়ে গুজিয়ে আর পাত্রপক্ষের সামনে বসাবে না। আমার একদম ভালো লাগেনা। আমি একজন শিক্ষিত মেয়ে। এইভাবে পাত্রপক্ষের সামনে রঙ মেখে নিজেকে দেখানোটা আমার খুব অপমানজনক মনে হয়।"
      - "তাহলে কিভাবে তোকে দেখাব?" 
      - "দেখাতে হবে না। যখন আমার ইচ্ছা হবে, তখন বিয়ে করব।" 
      - "তার মানে?" 
      - "তার মানে।" ক্ষণিক চুপ করে থেকে জয়ী বলে, "আমি অরূপকে ভালোবাসি মা। আমি অরূপকে বিয়ে করব।" 
      - "চুপ কর বেয়াদব মেয়ে। তোর বাবা শুনতে পেলে তোকে কেটে ফেলবে।" 
      - "সে যা করার করবে। আমি অরূপকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করতে পারব না।"
      সেই রাতেই নবীন বাবু তার স্ত্রীর মুখে সব শুনে প্রথমে রেগে গেলেও, মুহূর্তের মধ্যে নিজেকে সামলে নিয়ে চুপ করে যান। পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা করতে থাকেন। 
      বেশ সমস্যায় পড়ে গেছে অরূপ। এতদিন ধরে কাজ করছে, কোনও দিন এরকম ভুল তার হয়নি। কিন্তু এবারে যে কিভাবে হল, সেটা কিছুতেই বুঝতে পারছে না! বরাবরই সে দক্ষতার সঙ্গে ক্যাশ হ্যান্ডেল করে। কিন্তু এবারে কি করে এত বড় ভুল হল কিছুতেই ভেবে পাচ্ছে না! প্রায় লাখ খানেক টাকার হিসেব মিলছে না! কোথায় গেল এতগুলো টাকা? কাকে দিল সে? কিছুই মনে পড়ছে না! সে তো অফিসের বিশেষ আলমারিতেই টাকাগুলো রেখেছিল। সেই আলমারির চাবি তার কাছেই থাকে। তাহলে টাকাগুলো গেল কোথায়? এত আর্থিক তছরূপ। খবর যায় থানায়। পুলিশ আসে। তদন্ত হয়। কিন্তু অরূপ পুলিশের জেরায় কিছুই ঠিক করে বলতে পারে না! 
      খবরটা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে জয়ীর। কি করবে সে বুঝতে পারে না। কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। তার মা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, "অন্যের অপরাধের ফল তুই ভোগ করছিস কেন? যে অপরাধ করেছে সে তো শাস্তি পাবেই।" 
      - "না মা, না, অরূপ অপরাধী নয়। যে কদিন আমি ওর সঙ্গে মিশেছি, তারমধ্যেই আমি বুঝতে পেরেছি অরূপ অত্যন্ত নির্লোভ, সৎ ছেলে। কাজের জায়গা নিয়ে ওর মনে কত উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে সেটা আমি জানি। ও এরকম বোকার মত টাকা সরানোর ছেলে নয়। আমার বিশ্বাস এরমধ্যে কোনও চক্রান্ত রয়েছে। নিশ্চয়ই রয়েছে, না হলে এসব হতে পারে না।" 
      এখন সে কি করবে, কি করা উচিত, অরূপের মুক্তির জন্য কার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত, কোনও কিছু স্থির করতে পারে না জয়ী। সারাদিন সে ঘরে বসে থাকে, ভগবানের কাছে প্রার্থনা করে অরূপের জন্য।
      - "শোনো জয়ীর মা, আর আমি অপেক্ষা করব না। এবারে জয়ীর বিয়ে দিয়ে আমি নিশ্চিন্ত হব। আর কোনও দিন কোনও চ্যাংড়া ছেলেকে বাড়ি ভাড়া দেব না। কেবল মাত্র পুরো সংসার ভাড়া চাইলে, তবেই ভাড়া দেব।" 
      - "মেয়ের বিয়ে দেবে বলছ। কিন্তু অত টাকা জোগাড় হয়েছে?"
      - "হয়ে গেছে। টাকার ব্যবস্থা হয়ে গেছে। সব টাকা আমি ব্যাঙ্ক থেকে তুলে এনে আলমারিতে রেখেছি। দিনকাল ভালো নয়, চারিদিকে টাকা তছরূপের কেলেঙ্কারি ঘটছে। আমাদের অফিসে যা কোনও দিন ঘটেনি, এবার সেটা ঘটল। কাউকে বিশ্বাস নেই। এমনকি ব্যাঙ্কেও বিশ্বাস নেই। ব্যাঙ্কে যদি টাকা চুরি হয়, তখন কি হবে? আমি গরিব মানুষ, টাকার জন্য কার কাছে যাব? ব্যাঙ্কে যা টাকা ছিল সব তুলে এনেছি। এতে জয়ীর ভালোভাবে বিয়ে হয়ে গিয়ে, হাতে বেশ কিছু টাকা থেকে যাবে।"
      ঘরের ভেতরে থাকা জয়ীর কানে যায় তার বাবার কথাগুলো। শুনে অবাক হয় সে। তার বাবা সারাদিন অফিসে ব্যস্ত থাকেন বলে ব্যাঙ্কের কাজ জয়ী করে। ব্যাঙ্কে টাকা জমা করা, টাকা তোলা, পাস বই আপডেট করা সব কাজ সে করে। সে ভালোভাবে জানে তার বাবার ব্যাঙ্কের খাতায় ত্রিশ হাজারের মতো টাকা আছে। এই সামান্য টাকায় তার বাবা তার বিয়ে দেবে! তারপরেও হাতে টাকা থাকবে! কেমন যেন একটা খটকা লাগে জয়ীর মনে। সে বুঝতে পারে কিছু একটা গোলমাল রয়েছে পুরো ব্যাপারটার মধ্যে। সবকিছু তাকে ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। সত্যিটা সামনে আনতে হবে। কিন্তু এখন কিছু করা যাবে না। সে অপেক্ষা করতে থাকে। 
      মধ্যরাত। অনেক আগেই সকলে রাতের খাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু জয়ীর চোখে ঘুম নেই। সে অপেক্ষা করছে। পাশের ঘর থেকে তার বাবার নাক ডাকার শব্দ আসতে শুরু করেছে। এতক্ষণে নিশ্চয়ই তার মা ঘুমিয়ে পড়েছেন। উঠে পড়ে জয়ী, অতি সন্তর্পনে সে গিয়ে ঢোকে তার বাবার ঘরে। দেখে নেয় তার মা ঘুমিয়েছেন কিনা। নিশ্চিত হওয়ার পর সে আলমারি খোলে। আলমারি খুলে সে দেখতে পায় একটা তাকে বান্ডিল বান্ডিল টাকা রাখা আছে। এত টাকা! এত টাকাতো তার বাবার ব্যাঙ্কে ছিল না! তাহলে কোথা থেকে এল? আলমারিটা খুঁটিয়ে দেখে সে। দেখে একটা চাবিও পড়ে আছে টাকার বান্ডিলের পাশে। ওটা কি? হাতে তুলে নেয় জয়ী। একটা শুকনো সাবান, তার উপর একটা চাবির ছাপ। ক্রমশ সবকিছু পরিষ্কার হতে থাকে তার কাছে। পুরো চক্রান্তটাই তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সে বুঝতে পারে অরূপের সরলতার সুযোগ নিয়ে তার বাবা অফিসের আলমারির চাবির নকল বানিয়ে এই কাজ করেছেন। এত নিচে তার বাবা যে নামতে পারেন, সে কথা ভেবে তার বাবার প্রতি তীব্র ঘৃণায় তার মনটা ভরে ওঠে। তবে সে ছাড়বে না। একটা নিরাপরাধ ছেলেকে সে বিনা দোষে জেল খাটতে দেবে না। তারপর সব কিছু জেনে অরূপ তাকে গ্রহণ করবে নাকি চিরতরে পরিত্যাগ করবে সেসব নিয়ে সে ভাবতে চায় না। তবে রাত পোহালে সে একটা হেস্তনেস্ত করবে। রাতেই সে একটা ব্যাগে সমস্ত টাকা, চাবি, সাবান ভরে রাখে। সকাল হলেই সে অফিসের মালিকের বাড়ি যাবে বলে ঠিক করে। 
      দেখতে দেখতে রাত কেটে ভোর হয়। সূর্যের প্রথম কিরণ পৃথিবীর মাটি ছোঁয়ার অনেক আগেই বিছানা ছেড়েছে জয়ী। পুরানো রাতকে দূরে সরিয়ে সামনে এসেছে নতুন ভোর। এরমধ্যে কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে জয়ীর মনে জ্বলে ওঠা আগুন অনেকটা  স্তিমিত হয়েছে। যদিও অরূপের জন্য তার মন খুবই ভারাক্রান্ত। এরকম অন্যায়ভাবে অরূপের জেল খাটা সে দেখতে পারবে না। আবার অরূপকে মুক্ত করতে গেলে সত্য উদঘাটন করতে হবে। সেটা করতে গেলে তার বাবার হাতে দড়ি পড়বে। সেটা কি সে সহ্য করতে পারবে? সেই মানসিক শক্তি কি জয়ীর আছে? না নেই। সে পারবে না। তার বাবার জেল হাজত সে দেখতে পারবে না। সহ্য করতে পারবে না। এখন কি করবে জয়ী? কি করা উচিত! ভাবতে থাকে সে। ভাবতেই থাকে। কিন্তু কোনও উত্তর, কোনও সমাধান সে খুঁজে পায় না।
       অন্যান্য দিন বিভিন্ন কাজ সেরে দুপুরের পর অফিসে আসেন সৌমেন সেনগুপ্ত। কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা মালিক সৌমেন বাবুর অফিসে এসে বসা ছাড়া আরও অনেক কাজ রয়েছে। সেইজন্য অফিসে আসতে তার বেশ দেরি হয়। কিন্তু আজ সকালেই অফিসে এসে গেছেন। অফিসে এসে তলব করেন নবীন বাবুকে।
      ইদানিং সব সময় একটা খুশি খুশি ভাব দেখা যায় নবীন বাবুর মধ্যে। যেন এক যুদ্ধ জয়ের দামামা বেজে চলেছে তার মনের মাঝে। আর বাজবে নাইবা কেন? অনেক ভেবে চিন্তে বুদ্ধি খাটিয়ে বিদায় করতে পেরেছেন আপদটাকে। না হলে জাত, মান, কুল সব খোয়া যেত। খুব জোর বেঁচে গেছেন এই যাত্রায়। নবীন বাবু ঠিক করেছেন এবারে খুব ভেবে চিন্তে বাড়ি ভাড়া দেবেন। অবশ্য জয়ীর বিয়ে হয়ে গেলে আর ওসব চিন্তা থাকবে না। এমডির তলব পেয়ে তার ঘরে আসেন নবীন বাবু। 
      - "নবীন বাবু, আপনি এই অফিসের সব থেকে সিনিয়র স্টাফ। তাই বেশিরভাগ ব্যাপারে আপনার সঙ্গে আলোচনা করি। আজ আমি সকালে অফিসে এসেছি। তবে এক্ষুনি বেরিয়ে যাব। একটা বিয়ের ব্যাপারে ব্যস্ত আছি। মানে আমার কন্যাসমা একজনের বিয়ে দিচ্ছি।"
      - "ভালো ভালো, খুব ভালো।" পুরো কথা না শুনেই মন্তব্য করেন খুশিতে ডগমগ করতে থাকা নবীন বাবু। 
      - "তবে এই বিয়েতে একটা সমস্যা আছে। মানে মেয়ের বাড়ির অমতে, বিশেষ করে মেয়ের বাবার অমতে এই বিয়ে হচ্ছে। অসবর্ণ বিয়েতে মেয়ের বাবার ঘোরতর আপত্তি। নবীন বাবু, আপনি বলুনতো আজকের দিনে এইসব বস্তা পচা চিন্তাভাবনার কোনও মূল্য আছে?"
      কি যেন বলতে গিয়েও নিজেকে সামলে নেন নবীন বাবু। তিনি জানেন বেসরকারি ক্ষেত্রে কাজ করার অনেক হ্যাপা। এখানে সব সময় মালিকের মন যুগিয়ে চলতে হয়। মালিকের কথাই এক্ষেত্রে শেষ কথা। বরাবর সেভাবেই চলার চেষ্টা করে এসেছেন। আর আজ তিনি কেন ভিন্ন মত পোষণ করে মালিকের বিরাগ ভাজন হবেন? এমডিকে সমর্থন করে নবীন বাবু বলেন, "ঠিকই তো, আজকের দিনে এসবের কোনও মানে নেই, যুক্তি নেই। এসব নিয়ে মাথা ঘামানো মানে ক্রমশ পিছিয়ে যাওয়া। আজকাল হাজার হাজার অসবর্ণ বিয়ে হচ্ছে। বামুনের ছেলে মেথরের মেয়েকে বিয়ে করছে। মুচির মেয়ে কায়েতের ছেলেকে বিয়ে করছে। এসব নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না।" বলতে থাকেন নবীন বাবু। ধৈর্য সহকারে শুনতে থাকেন সৌমেন বাবু, "ওসব জাতপাত সব বাজে কথা। আসল কথা হল মানুষ..."। 
      - "সত্যি নবীন বাবু আপনার মত কনসিডারেট ব্যক্তিত্ব আমি খুব কম দেখেছি। আপনি সব সময় যুক্তির উপর চলেন। আপনার মত চিন্তা ভাবনা যদি সবার মধ্যে থাকতো তাহলে দেশের চেহারা অন্যরকম হত।" 
      মালিকের কথায় অতি উৎসাহিত হয়ে নবীন বাবু আবার বলতে শুরু করেন, "সেই জন্যইতো বলছি স্যার, আসল কথা হল মানুষ। সেই কোন যুগে আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট বিয়াস নদী পার হতে হতে তার প্রধান সেনাপতি সেলুকাস কে বলেছিল - 'এট টু ব্রুটাস' যার বাংলা মানে সবার উপরে মানুষ সত্য। আর মানুষের উপরে....।" উৎসাহের আতিশয্যে নবীন বাবু কথা বলতে বলতে খেই হারিয়ে ফেলছেন। একেতো অরূপ জেলে গেছে। তার উপর অফিসের মালিক তাকে এতটা প্রাধান্য দিয়ে কথা বলছেন! দুটো আনন্দের ধাক্কায় নবীন বাবু একেবারে বেসামাল হয়ে গেছেন।  কি বলতে কি বলছেন, নিজেই বুঝে উঠতে পারছেন না। সবকিছু পুরোপুরি তালগোল পাকিয়ে ফেলছেন তিনি। সবকিছু তার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।
      - "ব্যাস ব্যাস, আর বলতে হবে না। ইতিহাস আর সাহিত্যে আপনার প্রগাঢ় পাণ্ডিত্যের কথা আমরা সবাই খুব ভালোভাবে জানি। তবে আমার মত সাধারন মানুষের মাথায় এত ভারী ভারী কথা ঢুকবে না। যাইহোক কালকে আপনাকে আর অফিসে আসতে হবে না। কালকে আপনি সারাদিন আমার সাথে বিয়ে বাড়িতে থাকবেন, আমার এক নম্বর হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে। আর একটা ব্যাপার, মেয়ের পরিবারের কেউ থাকবে না। ব্যাপারটা খুব দৃষ্টিকটু, তাই আপনাকে মেয়ের কাকা, মামা, জ্যাঠা কিছু একটা বলে পাত্রপক্ষের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেব। তাহলে মান সম্মান বজায় থাকবে। তাছাড়া সবকিছুইতো একদিনের ব্যাপার। তারপর কে আপনার খোঁজ নিতে আসবে? আপনার আপত্তি নেই তো?" 
       - "আপনি স্যার যেটা ভালো বুঝবেন, সেটাই করবেন। এতে আমার আপত্তি কেন থাকবে?"
       - "থ্যাঙ্ক ইউ। কাল সকালে আমার বাড়িতে চলে আসবেন। তারপর আমরা একসঙ্গে বিয়ে বাড়িতে যাব।" 
      - "ঠিক আছে স্যার।" 
      - "দেরি করবেন না যেন।" 
      পরের দিন সকালে এক রাশ খুশি, এক রাশ আনন্দসহ নবীন বাবু পৌঁছে যান সৌমেন বাবুর বাড়ি। সৌমেন বাবু বসতে বলেন নবীন বাবুকে। অনেকক্ষণ বসে আছেন নবীন বাবু। বিয়ে বাড়িতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে সৌমেন বাবু যেন কিছুটা বেশি সময় নিচ্ছেন। ক্রমশ ধৈর্যচ্যুতি ঘটছে নবীন বাবুর। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধরে একই জায়গায় বসে আছেন। এছাড়া এই মুহূর্তে আর কিছু করার নেই তার। বেশ কিছুক্ষণ পর বিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন তারা। কিছুক্ষণের মধ্যে পৌঁছে যান বিয়ে বাড়িতে। বাড়িতে ঢোকার মুখে কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছেন। সৌমেন বাবুকে দেখে তারা এগিয়ে আসেন। 
      সৌমেন বাবু তাদের নবীন বাবুকে দেখিয়ে বলেন, "ইনি নবীন বাবু, পাত্রীর বাবা।" 
      একটু চমকে ওঠেন নবীন বাবু। ফিসফিস করে সৌমেন বাবুকে বলেন, "মামা, জ্যাঠা, কাকা অব্দি ঠিক ছিল। একেবারে মেয়ের বাবা বানিয়ে দিলেন আমাকে!"
      - "উত্তেজনায় মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে। বাদ দিন ওসব কথা। চলুন, ভেতরে চলুন।" 
      যেতে যেতে সৌমেন বাবু নবীন বাবুকে বলেন, "ওই ঘরে বর বসে আছে। চলুন ওদিকে যাই।" 
      বরের ঘরে ঢুকে ভূত দেখার মত চমকে ওঠেন নবীন বাবু, "অরূপ! স্যার এরতো জেলে থাকার কথা!" 
      - "গতকাল ছাড়া পেয়েছে। ছাড়া পেয়েই ব্যাটা বিয়ে করতে চলে এসেছে! ছাড়ুন একে। চলুন ওদিকে যাই। ওদিকে কনে আছে, কনের মা আছে। সবার সঙ্গে কথা বলি।" 
      দুরু দুরু বুকে যেতে থাকেন নবীন বাবু। তিনি   যা আশঙ্কা করেছিলেন ঠিক তাই। সেই ঘরে ঢুকে দেখেন জয়ী সেজেগুজে বসে আছে। জয়ীর মাও আছেন! 
      - "নবীন বাবু আপনি যে অপরাধ করেছেন সেটা সত্যিই শাস্তিযোগ্য। প্রথমে ভেবেছিলাম আপনাকে জেলে পাঠাব। পরে ভেবে দেখলাম শাস্তিতো কেবল অপরাধী একা পায় না। তার পরিবারের অন্যান্যদেরও শাস্তি ভোগ করতে হয়। জয়ীর দিকে তাকিয়ে পারলাম না আপনাকে শাস্তি দিতে। তাছাড়া অপরাধতো আপনি করেননি। অপরাধ করেছে আপনার মনে জমে থাকা কুসংস্কার। তাই শাস্তি দিতে হলে আপনার কুসংস্কারকে শাস্তি দিতে হবে। মানে আপনার মন থেকে আগে কুসংস্কারকে তাড়াতে হবে। কাল সকালে জয়ী আমার বাড়িতে এসে টাকা, চাবি সব দিয়ে বলল যে অরূপকে মুক্ত করতে। সেইসঙ্গে বলল তার বাবা যেন শাস্তি না পায়। কারণ তার জন্য তার বাবা জেলে গেলে সে আর নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে না। এইটুকু একটা মেয়ের কথা কি করে ইগনর করি বলুন? তাই কাজকর্ম ছেড়ে অরূপের জামিনের ব্যবস্থা করলাম। অরূপের বাড়ির লোকদের বলে বুঝিয়ে বিয়ের ব্যাপারে রাজি করালাম। এবার আপনি সামনের দিকে তাকান। কুসংস্কার মুক্ত হয়ে মেয়ে জামাইকে আশীর্বাদ করে বাড়িতে নিয়ে যান। আমার দায়িত্ব এখানে শেষ। এখান থেকে শুরু আপনার দায়িত্ব। তবে সব সময় মনে রাখবেন ওসব জাতপাত সব কুসংস্কার। সবার উপরে মানুষ সত্য। আপনার আর আলেকজান্ডারের ভাষায় 'এট টু ব্রুটাস' হা হা হা।"
       কথা শেষ করে সশব্দে হেসে ওঠেন সৌমেন বাবু। হাসিটা সংক্রামক রোগের মত ঘরে উপস্থিত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

                         ।। সমাপ্ত ।।

দেবাংশু সরকার
               M G.ROAD,
               BUDGE BUDGE, 
               KOLKATA - 700137







Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং অফিসে ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

বর্ষার কবিতা ।। বিচিত্র কুমার

কয়েকটি বর্ষার কবিতা বিচিত্র কুমার (০১) শ্রাবণের আকাশ শ্রাবণের আকাশ, যেন অশ্রু লুকিয়ে রাখা দুটি চোখ; হাসির আড়ালেও যার ভেতরে বৃষ্টি জমে থাকে। কদমের গন্ধ, যেন শৈশবের ডাক; সময় যত দূরেই নিয়ে যাক, মন তাকে ভুলতে পারে না। ভেজা পথ, যেন জীবনের অসমাপ্ত অধ্যায়; প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন অর্থ লেখা হয়। যে স্মৃতিকে সম্মান করতে পারে, সে বর্তমানকেও সুন্দর করে বাঁচতে শেখে। (০২) ভেজা বিকেল বর্ষার বিকেল, যেন পুরোনো ছবির অ্যালবাম; প্রতিটি দৃশ্য ভুলে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনে। দূরের বাঁশবন, যেন অপেক্ষার দীর্ঘ ছায়া; সময় বাড়ে, অথচ আশার আলো নিভে না। পথের ছোট্ট জলধারা, যেন অবহেলিত স্বপ্ন; একদিন সেও নদীর সঙ্গে গিয়ে মিশে। ছোট বলে কোনো স্বপ্নকে অবহেলা কোরো না; সমুদ্রও একদিন একফোঁটা জল থেকেই শুরু হয়। (০৩) বৃষ্টির প্রদীপ বর্ষার রাত, যেন গভীর ধ্যানের একটি মন্দির; অন্ধকারও সেখানে আলোকে জন্ম দিতে শেখায়। বৃষ্টির ফোঁটা, যেন ছিন্ন স্বপ্নের মুক্তো; মাটিতে পড়েই তাদের প্রকৃত মূল্য প্রকাশ পায়। ভেজা জানালা, যেন মনের আয়না; অশ্রু মুছে গেলেও অনুভূতির দাগ থেকে যায়। ভাঙা স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়েই মানুষ নতুন আকাশ দেখতে ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত

 তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত নবপ্রভাতের   আহ্বান রাতের   শেষে   ফুটল   ভোর , সোনার   রঙে   রাঙে   ঘোর।   শিশির ভেজা   ঘাসের   বুকে , সূর্য   হাসে   মিষ্টি   মুখে। পাখিরা   গায়   নতুন   গান , জেগে   ওঠে   সারা   প্রাণ। নদীর   জলে   রোদের   নাচ , মেঘের   গায়ে   আলোর   আঁচ। ফুলের   ডালে   মধুর   গন্ধ , মনটা   ভরে   আনন্দ। হাওয়া   বয়ে   আনে   সুখ , মুছে   দেয়   সব   দুঃখ। নতুন   দিনের   নতুন   ডাকে , স্বপ্ন   জাগে   হৃদয়   ফাঁকে। চলার   পথে   আশা   সাথি , সাহস   থাকে   প্রতি   রাতে। পরিশ্রমে   ফুটুক   ফুল , ভেঙে   যাক   সব   ভুল। ভোরের   আলো   বলে   তাই , জীবন   জয়   করবই।   বৃষ্টির   সুরে   বাংলা কালো   মেঘে   ঢাকে   আকাশ , বৃষ্টি   নামে   উচ্ছ্বাস। কদম...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭