Skip to main content

রণেশ রায়ের প্রবন্ধ

কেমন এ ভারত




আদিবাসী অধ্যুষিত ভারতের ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য, জনবন্টন ও মানব উন্নয়নসূচক :

আমরা জনবন্টন, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও মানব উন্নয়নের সূচক ধরে আদিবাসী
অধ্যূষিত এই অঞ্চলগুলির একটা ছবি পেতে পারি। জেলাকে উপজেলায় ভাগ করে
বিশ্লেষণ করলে প্রাচুর্যের অভিশাপ বিষয়টি উদ্ঘাটিত হয় আরো নগ্নভাবে।

আমরা একনজরে দেখলাম যে আদিবাসী অধ্যুষ্যিত দন্ডকারণ্য অঞ্চল জঙ্গলে ঘেরা।
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী কোন দেশের মোট ভূখণ্ডের ৩০%-এর বেশি যেখানে বনজ
অঞ্চল থাকা উচিত সেখানে ভারতে তা ২২% -এ নেমে এসেছে। তৎসত্বেও আদিবাসী
অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে তা ৪০%-এর ওপর। আর এসব অঞ্চলগুলো প্রধানত খনি
অঞ্চল। এইসব অঞ্চল খনি সম্পদে ভরপুর। বিশ্ব স্তরে ভারত খনিজসম্পদে বিশেষ
স্থান দখল করে আছে। কয়লা ও লিগনাইডে ভারতের স্থান তৃতীয়, কাঁচা লোহায়
চতুর্থ , বক্সাইডে ভারতের স্থান পঞ্চম ও ম্যাঙ্গালিজে সপ্তম।

২০১০-১১ সালের একটা সরকারি হিসেব থেকেই দেখা যায় যে কেন্দ্র শাসিত
অঞ্চলগুলো সহ ভারতের ৩২টা রাজ্যে যে খনিজ সম্পদ উৎপাদিত হয় তার সিংহ
ভাগ কেন্দ্রীভূত ১১টি রাজ্যে (সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা সহ) । এই ১১টি
রাজ্যে দেশের মোট খনিজ উৎপাদনের ৯০.০৩% উৎপাদিত হয়। উপকূলবর্তী এলাকাগুলো
এ ব্যাপারে সবচেয়ে অগ্রণী। তারা উৎপাদন করে মোট উৎপাদনের ২৫.৬৪%। এর
পরেই উড়িষ্যার স্থান। সেখানে উৎপাদন হয় ১০.৬২%। রাজস্থান তৃতীয় স্থানে,
৮.৫৮% উৎপাদনের ভাগিদার। অন্ধ্রপ্রদেশে ৭.৮১% ঝাড়খণ্ডে ৭.৭২, ছত্তিশগড়ে
৬.৬২%, গুজরাটে ৬.৬৩ মধ্যপ্রদেশে ৫.২৮,আসামে ৪.৬৪ গোয়ায় ৩.৪৯ ও কর্নাটকে
৩.২৭% উৎপাদিত হয়। বাকি একুশটা রাজ্যের একযোগে ভাগ মাত্র ৯.৯৭%, তবে
এককভাবে এদের কারো ৩%-এর বেশি নয়। ( Ministry of Mine,Government of
India, modified on 10/05/2012 )

কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িষ্যা, ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড, দক্ষিণপূর্ব
মহারাষ্ট্র ধরে দন্ডকারণ্য অঞ্চলের ভৌগলিক, জনবন্টন আর মানব উন্নয়নের
বৈশিষ্ট্য ধরে জানা যায় যে জঙ্গল ঘন আদিবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলগুলোর
প্রামাঞ্চল সব থেকে দারিদ্রপীড়িত, অপুষ্টিতে আক্রান্ত, স্বাস্থশিক্ষার
অভাবে পিছিয়ে থাকা। এই অঞ্চলগুলোর জেলাগুলোকে উপজেলায় ভাগ করে বিশ্লেষণ
করলে দেখা যাবে এই অঞ্চলগুলো ধনী ও গরিব অঞ্চলে বিভক্ত। গ্রামের গরিব
অঞ্চলগুলোতে প্রধানত আদিবাসীদের বাস। এই অঞ্চলগুলি জঙ্গল ঘেরা খনিজ
সম্পদে ভরপুর। এই সব অঞ্চলগুলোতে যে শহরায়ন হচ্ছে তার সুবিধা পেয়ে চলেছে
দেশের বিত্তশালী উচ্চবর্গের মানুষ। সাম্প্রতিক একটা গবেষণা পত্র ধরে আমরা
এই আলোচনায় প্রবেশ করব। প্রাচুর্যের অভিশাপ বলতে আমরা কি বুঝি সেটা তা
দেখিয়ে দেবে। আর আজ এসব অঞ্চলগুলোতে জ্বলে উঠেছে নকশালবাড়ির দাবানল।


জেলা বিভাজন ও প্রাচুর্যের স্ববিরোধিতা :

সারা পৃথিবী ধরেই দেখা যায় প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর অঞ্চলগুলোর ওপর
নিরবিচ্ছিন্নভাবে সাম্রাজ্যবাদের আক্রমন নেমে এসেছে। কর্পোরেট সাম্রাজ্য
লুঠ করে এই সব দেশের সম্পদ। আফ্রিকা এশিয়া লাতিন আমেরিকা ধরে চলেছে এই
ধারাবাহিক লুঠের রাজত্ব। পুঁজিবাদের সর্বোচ্চ স্তর সাম্রাজ্যবাদে
পৌঁছবার কাল থেকেই এই আগ্রাসন পুঁজিবাদী সভ্যতার নগ্নরূপটাকে উদ্ঘাটিত
করে চলেছে। ভারত এর ব্যতিক্রম নয়। সম্পদের প্রাচুর্যের এই অভিশাপ জঙ্গল
ঘেরা বনাঞ্চলগুলিতে কি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে চলেছে তার বিস্তারিত একটা
চিত্র তুলে ধরেন সঞ্চিতা বক্সী, পূর্বতন পরিকল্পনা কমিশনের এক সদস্যা,
অরুণীশ চাওলা, অর্থমন্ত্রণালয়ের যৌথ সম্পাদক, সমাজ প্রগতি সহগের সম্পাদক
ও পূর্বতন পরিকল্পনা কমিশনের সভ্য মিহির শাহ তাদের একটি সাম্প্রতিক
অনুসন্ধ্যানে। এর জন্য জেলাগুলোকে উপজেলায় ভাগ করে বিশ্লেষণ করেছেন
তাঁরা। এই গবেষণামূলক কাজে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে আমাদের আলোচিত
অঞ্চলগুলোর জেলাগুলোকে উপজেলায় ভাগ করলে ধরা পরে বিত্তহীন আর
বিত্তবানদের মধ্যে ভয়ঙ্কর মাত্রায় বিভাজনটি বর্তমান। দেশের অভ্যন্তরিন
উৎপাদনে উচ্চমাত্রায় অবদান রাখলেও আদিবাসী অধ্যুষিত বনজ অঞ্চলগুলো
দারিদ্র নিপীড়িত, অপুষ্ট ও নিরক্ষর। এখানকার প্রান্তিক মানুষেরা চিকিৎসার
সুযোগ থেকে বঞ্চিত, আশ্রয়হীন। প্রকৃতিই এদের আশ্রয়। জীবন জীবিকা
সম্পূর্ণ ভাবে প্রকৃতি নির্ভর। সভ্য সমাজ এতদিন এদের খবর রাখত না। আজ
সম্পদের খোঁজ পেয়ে এরা রাষ্ট্রের সমর্থনে এখানে বন্দুক হাতে উপস্থিত।
উদ্দেশ্য অঞ্চল `সাফ` করে সেখান থেকে বসবাসকারী মানুষকে `উচ্ছেদ` করে
`উন্নয়ন` ঘটানো। উন্নয়ন মানে সেখানকার জল জমি খনিজ সম্পদের ওপর দখল
নেওয়া। বিদেশী বহুজাতিক সংস্থা ও তাদের সঙ্গে গাঁটছড়া বাধা দেশীয়
বহুজাতিক সংস্থার হাতে তা তুলে দেওয়া। লুঠের রাজত্ব কায়েম করা। তথাকথিত
এই উন্নয়নের অভিযানকে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা কলম্বাসের পর
সবচেয়ে সবচেয়ে বড় মাত্রায় জমি দখলের, উচ্ছেদের অভিযান বলে চিহ্নিত করে।
একইসঙ্গে অঞ্চলগুলোর শহরগুলিতে বিত্তশালী একটা সস্প্রদায় গড়ে ওঠে
যারা উচ্চবর্গের মানুষ, দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে যারা আসে। আমাদের
আলোচিত অঞ্চলগুলো খনিজ সম্পদে ভরপুর হওয়ায় এই অবস্থার উদ্ভব ঘটে। সম্পদ
প্রাচুর্য গরিব মানুষের কাছে অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। এর মধ্যেই নিহিত আছে
লুঠের রাজনীতির বীজ। গরিব মানুষকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়। আক্রমণকারী আর
প্রতিরোধকারীদের মধ্যে এক যুদ্ধ ঘোষিত হয়।

১৯৯১ সালে নতুন আর্থিক নীতি চালু হওয়ার পর থেকে অঞ্চলগুলির মধ্যে বিভাজন
প্রকট থেকে প্রকটর হতে থাকে। খনিজ সম্পদের স্বর্ণ লঙ্কায় যে প্রবণতা দেখা
যায় তা সরকারি পরিসংখ্যান সমর্থন করে। ৫০-টি প্রধান খনিজ উৎপাদনকারী
জেলাগুলির মধ্যে ৬০% জেলা দেশের সব থেকে পিছিয়ে পড়া জেলাগুলির
অন্তর্ভুক্ত। দেশের ২৫টি সবচেয়ে দুর্দশাগ্রস্থ জেলাগুলোর ২টি ওড়িশায়,
ঝাড়খন্ড ও ছত্তিশগড়ে ১টি করে অবস্থিত। উড়িষ্যার কেওনঝর জেলায় শিশু
মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। দান্তেওয়ারা লোহা সম্পদে ভরপুর হওয়ায় আজ এই
অন্যতম সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে বিনিয়োগের আকর্ষণ সবচেয়ে তীব্র। এই
জেলা ১৫০টি সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া জেলার মধ্যে তলা থেকে সপ্তম। এই সম্পদধনী
অঞ্চলে মাত্র ৫৩% শতাংশ মানুষের পানের উপযুক্ত পানীয় জলের ওপর অধিকার
আছে। কর্ণাটকের বেলারি আর গুলবার্গের মত অঞ্চল এর অন্যতম যেখানে
রাজ্যের ৮৪% লোহা পাওয়া যায়। চুনা পাথর উৎপাদনে গুলবার্গ সবচেয়ে অগ্রণী।
কিন্তু গুলবার্গ মানব উন্নয়নসূচকের মাপকাঠিতে সব থেকে পিছিয়ে পড়া কুড়িটি
জেলার মধ্যে উনিশতম আর বেলারি সতেরোতম। বেলারিতে ৪৫% মানুষ দারিদ্র
সীমার নিচে অবস্থান করে। দেশের সমস্ত খনিজ অঞ্চলের অবস্থা একই।
ছত্তিশগড়ের লাগোয়া মহারাষ্ট্রের ইয়াবতমল ও চন্দ্রপুর হল দুটি প্রান্তিক
জেলা যেখানে মহারাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কয়লা আর চুনাপাথর উৎপাদিত
হয়। অথচ এই অঞ্চলগুলো সবচেয়ে দারিদ্র পীড়িত। মহারাষ্ট্রের অন্যত্র বিশেষ
করে উন্নত জেলাগুলোতে তেমন খনিজ সম্পদ পাওয়া যায় না। এই রাজ্যের ৩৫টি
জেলার মধ্যে এই পিছিয়ে পড়া দুটি জেলার অবস্থান যথাক্রমে চৌত্রিশতম ও
ছাব্বিশতম। চন্দ্রপুরে ৪৭% মানুষ দারিদ্র রেখার নিচে অবস্থান করে।
ইয়াবন্তমলে ৪৪% মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে।

এবার দেখা যাক পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোকে উপজেলায় ভাগ করে আলোচনা করলে
সঞ্চিতা বক্সীদের গবেষণা আমাদের কি জানান দেয়। সাম্প্ৰতিক কালে মোট
অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে খনিজ উৎপাদনের অবদান বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক ভাবে
পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোর অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলা যায়। কিন্তু একটি
পশ্চাদপদ জেলাকে উপজেলায় ভাগ করলে দেখা যায় জেলার উন্নত অঞ্চলগুলোতে
দ্রুতহারে শহরীকরন ঘটেছে। উন্নত উপজেলায় আদিবাসীদের অংশ কমেছে। সেখানে
অন্য রাজ্য থেকে আসা উচ্চবর্গের বিত্তশালীদের একধরণের কেন্দ্রীভবন
বেড়েছে। পুষ্টি শিক্ষা স্বাস্থ্য সবরকম সুবিধা বেড়েছে। অপরদিকে পিছিয়ে
পড়া জঙ্গলে ঘেরা গ্রামাঞ্চলে আদিবাসীদের কেন্দ্রীভবন কমে নি। তাদের জীবন
জীবিকায় উন্নতি হয়নি। উপরোক্ত গবেষণা অনুযায়ী :

Typically tribal areas are mineral and forest rich and the extraction
of these resources tends to be a one way street with little benefit
flowing to the tribal people.
(Ref: Enclaves of Backwardness, Political and Economic Weekly, 1st Jan 2015)

আলোচনাধীন বিভিন্ন রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত জেলাগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই
উন্নয়ন শিল্পায়ন ও শহরীকরণের ফলশ্রুতিতে উচ্ছেদ ও বিচ্ছিন্নতায় ছেদ
পড়েনি, অনাদিবাসী উচ্চবর্গের মানুষের ভিড় বেড়েছে শহরগুলিতে। পশ্চাদপদ
উপজেলাগুলি রয়ে গেছে আদিবাসী অধ্যুষিত। উন্নয়নের ও সম্প্রসারণের
কেন্দ্রগুলি ঘেরাও রয়ে গেছে গরিবি অপুষ্টি ও শিক্ষার অভাবে ভরপুল
গ্রামাঞ্চলের দ্বারা। অভাবের সমুদ্রে গড়ে উঠেছে শহরকেন্দ্রিক
প্রাচুর্যের দ্বীপ। এই গবেষণা পত্রে বলা হয়েছে :

the most advanced sub-districts are flanked by the most underdeveloped
tribal sub-districts in Korba and Raigarh of Chhattisgarh, Valsad of
Gujrat, PaschimSingbhum, PurbiSingbhum of Jharkhand and Keonjhar,
Koraput and Mayurbhanj districts of Odisha

দ্বাদশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ভূমি সংক্রান্ত আলোচনায় স্বীকার করা
হয়েছে যে গত ষাট বছরে ছয় কোটি মানুষ উচ্ছেদ ও বিচ্ছিন্নতার শিকার হয়েছে।
পৃথিবীতে সাম্প্রতিক কালের সর্ববৃহৎ উচ্ছেদ হলো এটা যাকে সরকার নিযুক্ত
একটা কমিটি কলম্বাসের পর সর্ববৃহৎ উচ্ছেদ বলে উল্লেখ করেছে। এদের মধ্যে
এক তৃতীযাংশের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হয়েছে। বাকিদের সম্পর্কে তেমন কিছু
জানা যায় না। উচ্ছেদ হওয়া মানুষের ৪০% আদিবাসী আর ২০% দলিত। উল্লেখযোগ্য
যে ৯০% কয়লা আর ৫০% অন্যান্য খনিজ পদার্থ পাওয়া যায় এই আদিবাসী অধ্যুষিত
জঙ্গল ঘেরা অঞ্চলগুলিতে যেখানে দারিদ্র আর অপুষ্টি মানুষের নিত্যসঙ্গী
(দ্রষ্টব্য : Planning Commission,2013 Vol-1)

উপরোক্ত গবেষণা চালানো হয় ৬৪০টি জেলা ও ৫,৯৫৫টি উপ-জেলাকে কেন্দ্র করে।
সঠিকভাবেই বলা হয় যে গভীর এবং নির্ভুল বিশ্লেষণের স্বার্থে আলোচনাকে
জেলার গন্ডি পেরিয়ে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যেতে হয় কারন একটি
জেলা একাধিক বিভাজিত উপজেলায় আজ বিভক্ত। তথাকথিত উন্নয়নকে কেন্দ্র করে এই
বিভাজন গড়ে উঠেছে। এই বিভাজন হলো শহর গ্রামের মধ্যে বিভাজন ধনী দরিদ্রের
মধ্যে বিভাজন উচ্চ বর্গের সঙ্গে নিম্ন বর্গের বিভাজন। অর্থিনীতি রাজনীতি
সাংস্কৃতিক বিভাজন। এ এক সর্বাত্মক বিভাজন। উপবিভাজনের ভিত্তিতে এই
বিশ্লেষণ দেখিয়ে দেয় যে আদিবাসী অধ্যুষিত জঙ্গল ঘেরা খনিজ অঞ্চলগুলো
আভ্যন্তরীন জাতীয় আয়ে অধিকতর অবদান রেখে চলেছে কিন্তু এইসব অঞ্চলগুলিতেই
আদিবাসীদের কেন্দ্রীভবন বেশি বেশি করে দেখা দিচ্ছে। এখানেই দারিদ্র ও
অপুষ্টি বাসা বাঁধে। শিক্ষার আলো এখানে পৌঁছায় না। চিকিৎসার সুযোগ নেই
বললেই চলে।

পরিসংখ্যানের সাহায্যে এই গবেষণায় কি বলা হয়েছে তা দেখে নেওয়া যাক। এই
গবেষণায় দেখা যায় যে ২৭টি জেলা আছে যার উপজেলার ১০% সর্বোচ্চ ও ১০%
সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করে। ৯২টি জেলার অন্তর্ভুক্ত উপজেলাগুলোর ২০%
সর্বোচ্চ স্তরে এবং ২০% এর স্থান সর্বনিম্নে। ১০৬টি জেলার ৩০% সর্বোচ্চ ও
৩০% সর্বনিম্ন স্তরের উপজেলা বলে বিবেচিত। এই জেলাগুলি এমনভাবে উপজেলায়
বিভাজিত যে কয়েকটি শহরকেন্দ্রিক উন্নত উপজেলা প্রধানত উচ্চবিত্তদের
বাসস্থান। উন্নয়নের সুবিধা এরা ভোগ করে। কিন্তু এইগুলোকে ঘিরে থাকে
দারিদ্র নিপীড়িত আদিবাসী অধ্যুষিত জঙ্গলঘেরা খনিসম্পদে ভরপুর
গ্রামাঞ্চল। এই বিভাজিত পিছিয়ে পড়া উপজেলাগুলি হলো খনিজ সম্পদ স্বর্গ।
আদিবাসী মানুষের কেন্দ্রীভবন ঘটে এইসব পিছিয়ে পড়া উপজেলায়। জাতীয় উৎপাদনে
খনিজ সম্পদে এই অঞ্চলগুলির অবদান বেশি হলেও দারিদ্র অপুষ্টি অশিক্ষার
অন্ধকার এই অঞ্চলগুলোকেই তমসাচ্ছন্ন করে রাখে। মানব উন্নয়নের যে কোন
মাপকাঠিতেই এই অঞ্চলগুলো সবথেকে পিছিয়ে পড়া। একই সঙ্গে উন্নয়ন ও
শহরায়ণের দৌলতে বিভাজিত শহুরে উপজেলাগুলো দেশের উন্নত অঞ্চলগুলোর সমতুল
যেখানে আদিবাসীরা সংখ্যালঘু হয়ে গেছে। দখলদারি পেয়েছে উচ্চবিত্তরা। এই
কেন্দ্রগুলি কর্পোরেট সংস্থাগুলির ব্যবসা কেন্দ্র। শিক্ষা চিকিৎসা সব
কিছুতেই এগিয়ে থাকা। অন্যভাবে বলা চলে এইসব জেলাগুলো অভাবে ঘিরে থাকা
প্রাচুর্যের দ্বীপ। আর এখানেই নিহিত আছে প্রাচুর্যের অভিশাপের চাবিকাঠি।

উপরের আলোচনা ধরে বলা যায় যে বিশ্বায়নের নমুনায় শিল্পায়নের আশীর্বাদ
বর্ষিত হয় অনাদিবাসী উচ্চবিত্ত জনগনের মাথায়। আমাদের আলোচিত অঞ্চলগুলোতে
উন্নয়নের হার সর্বভারতীয় মানে যথেষ্ট বেশি। শেষ হিসেবে জানা যায় যে
ছত্তিশগড় ঝাড়খন্ড উড়িষ্যায় উন্নয়নের হার যথাক্রমে ৮.৪৪,৭.২৭ ও ৮.২৩ শতাংশ
যা ভারতের উন্নয়নের গড় হার থেকে বেশি। লক্ষণীয় যে গড় উন্নয়নের হার বেশি
হলেও এই অঞ্চলগুলো মানবউন্নয়নের সূচকে সবথেকে পিছিয়ে থাকা যা আমরা আগে
দেখেছি। আরও লক্ষণীয় যে এই জেলাগুলোতে মানব উন্নয়নহার কিছুটা বেড়েছে
শহরগুলোর উন্নয়নের ফলে। কিন্তু গ্রামাঞ্চলগুলো যেই তিমিরে সেই তিমিরেই
আছে। আর আজ গ্রামাঞ্চলগুলোকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে আদিবাসীদের
অভ্যুথ্যান। কারন তারাই আজ সবথেকে তীব্রভাবে শোষিত। আর সাম্রাজ্যবাদের
আক্রমনের ফল-ই এই শোষণ। সুতরাং শোষিত মানুষের সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে
অস্ত্রধারণ-ই বলে দেয় আজ ভারতীয় সমাজে লড়াইয়ের অভিমুখ কোনদিকে কিভাবে
এগিয়েছে। প্রধান দ্বন্দ্ব কোনটা। নকশালবাড়ির আন্দোলন আমাদের প্রধান
দ্বন্দ্বকে চিনতে শিখিয়েছিলো। আর সাহায্য করেছিল এই দ্বন্দ্বের চরিত্র
বুঝতে। লড়াইয়ের নীতি ও কৌশল নির্ধারণে এই বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
জনযুদ্ধের গতিশীলতার এটাই চরিত্র। বাস্তব অবস্থার বদলের সঙ্গে সঙ্গে নীতি
ও কৌশলে বদল আসে। কিন্তু শত্রুতামূলক দ্বন্দ্বের সমাধান করতে গেলে
সশস্ত্র লড়াইটা অনিবার্য। সংসদীয় পথে এর সমাধান সম্ভব নয় কারন শোষণ বজায়
রাখতে রাষ্ট্র সবসময়-ই অস্ত্রহাতে উপস্থিত। ঘোষিত বা অঘোষিত যুদ্ধ
জনগনের ওপর চেপে বসে থাকে। এমনকি ভোটের রাজনীতিতেও অস্ত্র কথা বলে, পয়সা
ভোটযুদ্ধকে পরিচালিত করে। শান্তির ললিত বাণী শোনায় ব্যর্থ পরিহাস। এটাই
আজ সাম্রাজ্যবাদী আক্রমনের মুখে নকশালবাড়ি রাজনীতির শিক্ষা।

উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষাপটে আমরা আমাদের আলোচনার কেন্দ্রগুলির ভৌগোলিক ও
জনবন্টনের বৈশিষ্ট্যগুলি তুলে ধরতে পারি আরেকটু বিস্তৃত ভাবে। একই সঙ্গে
মানব উন্নয়নের সূচক ধরে এখানকার মানুষজনের আর্থ সামাজিক অবস্থা বুঝে
নিতে পারি। আর এটা আজ দেশের সম্পদ লুঠের সঙ্গে কিভাবে যুক্ত সেটা দেখব
আজকের ভারতে সাম্রাজ্যবাদী দখলনীতির প্রেক্ষাপটে। সরকার স্বীকৃত
পরিসংখানের সাহায্যেই আমরা আমাদের মূল প্রত্যয় ব্যাখ্যা করব,
সাম্রাজ্যবাদী লুঠের বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করব।


ভারতের খনিজ স্বর্গ :

জঙ্গল পরিষ্কার করে জীবন জীবিকা থেকে বসবাসকারী মানুষকে উচ্ছেদ করে খনিজ
সম্পদ লুঠ করে উন্নয়নের নামে যে সাফাই কর্মসূচী চলেছে তাকে একটি সামরিক
অভিযান বলা চলে যার পোশাকি নাম "Strategic Hamletting" । ছত্তিশগড়ে এসার
ও টাটা বহুজাতিক সংস্থা ভারতের সামরিক, আধাসামরিক বাহিনীর ও সালভা
জুডুমের সাহায্যে এই সাফাই কর্মসূচি চালিয়ে দান্তেওয়ারায় এক ধাক্কায়
৬৪৪টি গ্রাম ধ্বংস করে দেয়। একটি রিপোর্টে বলা হয় যে সাড়ে তিন লক্ষ
আদিবাসী ও দলিত মানুষকে আশ্রয় হারা করে, জীবিকা থেকে উচ্ছেদ করে। এদের
মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই আদিবাসী . সরকার এদের রাস্তায় বার করে দেয়.
সরকারি শিবিরে এরা অশ্রয় নিতে বাধ্য হয় ! কয়েক লক্ষ মানুষ অন্ধ্র প্রদেশ
বা অন্য রাজ্যে পালিয়ে যায়, কয়েক লক্ষ জঙ্গলে মাওবাদীদের সঙ্গে যোগ দেয় !
হাতে অস্ত্র তুলে নেয় . সরকারি খবরে এর স্বীকৃতি মেলে যখন দেখি সরকার
নিযুক্ত কমিটি On State AgrarianRelation and Unfinished Task of land
Reform নামক রিপোর্টে লেখে :

"শান্তির সন্ধানের কাজে সালওয়া জুডুমকে অর্থ যোগান দিতে প্রথমেই এগিয়ে
এসেছিল টাটা গোষ্ঠী ও এসার গোষ্ঠী ------------------- সরকারি তথ্য
অনুসারে ৬৪০টি গ্রাম রাষ্ট্রের আশীর্বাদ নিয়ে বন্দুকের সাহায্যে আক্রমণ
করে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয় . ৩5৫,০০০ জন আদিবাসীকে ( যা দান্তেওয়ারা
জেলার অর্ধেক) তাদের বাসভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়, তাদের কন্যাদের হত্যা
করা হয় এবং তাদের যুবকদের বিকলাঙ্গ কর দেওয়া হয়. যারা জঙ্গলে পালতে পারলো
না তাদের গরু বাছুরের মত ধরে নিয়ে গিয়ে সালওয়া জুডুম পরিচালিত উদ্বাস্তু
শিবিরগুলোতে আটকে রাখা হলো . বাকিরা আজও জঙ্গলে লুকিয়ে অথবা পার্শবর্তী
মহারাষ্ট্র অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশার আদিবাসী অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে. ৬৪০টি
গ্রাম আজ জনশূন্য . কোটি কোটি টন লৌহ আকরিকের স্তুপের ওপরে বসে থাকা
গ্রামগুলি মনুষ্যবসতিহীন হয়ে নিলামে সর্বোচ্চ দাম হাঁকা মালিকের জন্য
অপেক্ষা করছে".( অনুবাদ স্বাতী ঘোষ , অপারেশন গ্রিনহান্ট. আসানসোল সিভিল
রাইট এসোসিয়েশন )

মাহেন্দ কর্মা নামে এক কংগ্রেসি নেতা সালভা জুডুম নামে নাগরিক
বাহিনীটির অভিযানে নেতৃত্ব দেয় শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে। এরই
প্রতিক্রিয়ায় আদিবাসী জনগণ মাওবাদীদের নেতৃত্বে হাতে অস্ত্র তুলে নেয়। গত
ত্রিশ বছর ধরে এ লড়াই বহমান। মাহেন্দ্র কর্মা সহ বহু নাগরিক ও সামরিক
বাহিনীর জোয়ান যেমন মারা যায় তেমনি মাওবাদীসহ অসংখ্য মানুষ মরে বা জেলে
পচতে থাকে। এ লড়াই ছড়িয়ে পরে বিস্তীর্ণ বস্তার অঞ্চলে, মহারাষ্ট্রের
দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলে, ঝাড়খণ্ডে, বিহারে, উড়িষ্যায়, পশ্চিমবঙ্গের লাল গড়
সহ ভারতের প্রায় একতৃতীয়ংশ অঞ্চলে। প্রধানত জঙ্গল ঘেরা খনিজ অঞ্চলগুলোয়
এই সাফাই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত। আমরা এই অঞ্চলগুলো যে দেশের খনিজ স্বর্গ
সেটা দেখবো।

এই Strategic Hamletting বা সাফাই কর্মসূচি আজ আদিবাসী অধ্যুষিত
অঞ্চলরগুলোকে বিত্তবান আর বিত্তহীনে, আদিবাসী অনাদিবাসী, শহরবাসী আর
গ্রামবাসীতে ভাগ করে দিয়েছে যে সম্পর্কে আগে আলোচনা করা হয়েছে। এই
অভিযান মানুষকে আশ্রয়হীন করে জীবিকাহীন করে পথের ধারে শিবিরে এক পশুর
জীবন যাপনে বাধ্য করেছে। এদের মধ্যে অনেকে অজানা আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়েছে,
অনেকে জঙ্গলে মাওবাদিদের সঙ্গে একত্রে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামিল
হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে জনাতনা সরকার যাকে উচ্ছেদ করতে রাষ্ট্র আকাশপথ
জলপথ ও সড়কপথে সামরিক বাহিনী নামিয়েছে। এই অঞ্চল কেমন খনিজ সম্পদে ভরপুর
তা দেখে নেওয়া যেতে পারে কারণ এই খনি লুঠ-ই হলো অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।
আমাদের আলোচিত তিনটে রাজ্য তথা ছত্তিশগড় ঝাড়খন্ড আর উড়িষ্যা ধরে আমরা
খনিজসম্পদের এই স্বর্গপুরীকে চিনে নেবো।

গুনগত মান ও পরিমানের দিক দিয়ে এই অঞ্চলগুলো খনিজ সমৃদ্ধ বনজ অঞ্চল
যেখানে প্রধানত আদিবাসীদের বাস সেটা আমরা আগেই বলেছি। আমাদের আলোচিত
তিনটে রাজ্য কর্ণাটকের বিরাট অঞ্চল মহারাষ্ট্রের দক্ষিণপূর্ব অঞ্চলের
দন্ডকারণ্য ধরে এই খনিজ সুড়ঙ্গ অঞ্চল গড়ে উঠেছে যাকে আজ শাসক সম্প্রদায়
লাল সুড়ঙ্গ নাম দিয়ে যুদ্ধ অধ্যুষিত অঞ্চল বলে চিহ্নিত করেছে। ওড়িষ্যা
ঝাড়খন্ড ছত্তিশগড়ে একত্রে ভারতের মোট কয়লা সম্পদের ৭০% আকরিক লোহার ৮০%
বক্সাইডের ৬০% ম্যাঙ্গানিজের ৪০% টিনের ৯০% আর ক্রোমিয়ামের ১০০% পাওয়া
যায়। কেবলমাত্র উড়িষ্যায় বক্সাইডের ৫১% ম্যাঙ্গানিজের ৩৫% কয়লার ২৪% আর
লোহার ১৭% পাওয়া যায়। টিনের ৮৮%, লোহার ১০% কয়লার ১৬% আর বক্সাইডের ৫%
সঞ্চিত আছে ছত্তিশগড়ে। এখানে ২৮ ধরণের খনিজ পদার্থ মেলে। রক্তাক্ত
দান্তেওয়ারায় রাজ্যের লোহার ৬৯% পাওয়া যায়। ঝাড়খন্ড একটি খনিজ সমৃদ্ধ
রাজ্য যেখানে দেশের মোট খনিজ মূল্যের ৮% সঞ্চিত। এই রাজ্যে অর্থ মূল্যে
মোট কয়লার ৯০% পাওয়া যায়। এখানে দেশের মোট লোহা র ১৪% ও বক্সাইডের ৩%
সঞ্চিত আছে ( দ্রষ্টব্য Rich and Poor People, Center for Science and
Environment, 2008; Operation Greenhunt ebang Bharat)।
এই খনির স্বর্গপুরীতে জাতীয় উৎপাদনে খনিজ সম্পদের অবদান বেশি হলেও
মাথাপিছু জাতীয় আয় কম। বরং খনিজ সম্পদ তেমন পাওয়া যায় না সেই সব অঞ্চলে,
যেমন তামিলনাড়ু বা মহারাষ্ট্রের উত্তরপশ্চিম অঞ্চলে, গুজরাটে মাথাপিছু আয়
বেশি। এটা সম্পদ প্রাচুর্যের স্ববিরোধিতাটাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে
দেয়। আমরা মানব উন্নয়নের সূচকের সাহায্যে এই স্ববিরোধের দিকটা উন্মোচিত
করতে পারি। উপজেলা ভিত্তিক আলোচনায় দেখা যায় খনিজ সমৃদ্ধ জেলার
খনিজপ্রধান উপজেলায় খনিজ সম্পদের অবদান অভ্যন্তরীণ উৎপাদনে বেশি হলেও
মানব উন্নয়নসূচকের বিচারে এই অঞ্চলগুলোর অবস্থা অবর্ণনীয়। কিন্তু এই সব
জেলায় যেখানে খনিজ সম্পদ পাওয়া যায় না ব্যবসা বাণিজ্যের দৌলতে নগরায়ন
ঘটছে সেখানে মানব উন্নয়ন সূচক উঁচু। আর উন্নত এই সব অঞ্চলে আদিবাসীদের
বাসের শতাংশ কমছে। উচ্চবিত্তদের ভিড় বাড়ছে। অর্থাৎ খনিজ সম্পদের দৌলতে
কিছুটা উন্নতি হলেও তার ফসল খাচ্ছে করপোরেট জগৎ আর উচ্চবিত্ত উচ্চবর্গের
মানুষরা।

জনবন্টন ও মানব উন্নয়ন সূচক :

যদি আমরা জনবন্টন ও তার বৈশিষ্ট্য আলোচনা করি তবে আমাদের আলোচিত
রাজ্যগুলিতে একই ধরনের প্রবণতা খুঁজে পাব। আমাদের আলোচিত তিনটি আদিবাসী
অধ্যুষিত রাজ্যই খনিজ সম্পদে ভরপুর, বনজ অঞ্চল সীমা অতিক্রম করে নেমে
যায়নি যদিও শহরগুলিতে জঙ্গল সাফাই-এর কাজ শুরু হয়ে গেছে ভয়াভয় ভাবে।
ভৌগলিক দিক দিয়ে শহরগুলিও সংকটাপন্ন উচ্চহারে জঙ্গল উচ্ছেদের কাজ চলছে
বলে। গড় হিসেবে তাও এই অঞ্চলের জেলাগুলো কিছুটা হলেও সন্তোষজনক। উড়িষ্যায়
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী রাজ্যের মোট ৪১৯৭৪২১৮ মানুষের মধ্যে
আদিবাসীদের সংখ্যা ৯৫৯০৭৫৬ তথা ২২.৮ শতাংশ। ঝাড়খণ্ডে ৩২৯৮৮১৩৪ জন
বসবাসকারীর মধ্যে আদিবাসীর সংখ্যা ৮৬৪৫০৪২, রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ২৬.২
শতাংশ। ছত্তিশগড়ে মোট জনসংখ্যা ২৫৫৪৫১৯৮। এর মধ্যে আদিবাসীর সংখ্যা
৭৮২২৯০২ যা মোট জনসংখ্যার ৩০.৬ শতাংশ। তিনটি রাজ্যে গ্রামীণ আদিবাসী
জনসংখ্যা যথাক্রমে ২৫.৭, ৩১.৪ ও ৩৬.৯ শতাংশ। লক্ষ্যণীয় যে এই তিনটি
রাজ্যে শতাংশ হিসেবে শহরে আদিবাসী জনসংখ্যা ঝাড়খণ্ডে ৯.৮%, উড়িষ্যায়
৮.৫% আর ছত্তিশগড়ে মাত্র ১০% । যদি শহরীকরণের আগের অবস্থার সঙ্গে তুলনা
করা যায় তবে দেখা যাবে শহরে আদিবাসী উচ্ছেদ শুরু হয়ে গেছে যা কার্যত
আজকের বহুজাতিকসংস্থার স্বার্থে দখল, সাফাই ও উন্নয়ন কর্ম্মসূচির অঙ্গ।

আদিবাসী অধ্যুষিত খনিজ সম্পদে ভরপুর রাজ্যগুলির খনিজঞ্চলগুলো প্রধানত
জঙ্গল ঘন। অথচ এই অঞ্চলগুলোই সবথেকে পিছিয়ে থাকা। আমরা আমাদের আলোচিত
উড়িষ্যা ঝাড়খন্ড আর ছত্তিশগড়ের পশ্চাদ্পদতার চেহারাটা দেখে নিতে পারি।
সাম্প্ৰতিককালে উন্নয়নের নামে সম্পদের ওপর আক্রমন তথা সম্পদ লুঠের কারবার
অবস্থাকে সেখানকার আদি বসবাসকারী মানুষের পক্ষে বিপজ্জনক করে তুলেছে। এই
প্রান্তিক মানুষগুলোর অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে চলেছে। তাদের পৃথক সত্তা মুছে
যেতে চলেছে। আদিবাসী গোষ্ঠীগুলি অবলুপ্তির মুখে আজ রুখে দাঁড়িয়েছে। এটা
নেহাত মাওবাদী সমস্যা নয়, একটা জাতিসত্তার জীবন মরণ সমস্যা। মাওবাদীরা
তেমন না থাকলেও অঞ্চলগুলোতে একভাবে বা অন্যভাবে অভ্যুথ্যান ঘটে চলেছে।
এমনকি কোথাও কোথাও সংসদীয় দলগুলোও জড়িয়ে পড়ছে। যেমন উড়িষ্যায় সিপিআইয়ের
নেতাদের কোথাও কোথাও নেতৃত্ব দিতে দেখা যাচ্ছে। তাদের ওপর রাষ্ট্রের
সন্ত্রাস নেমে এসেছে।

মানব উন্নয়ন সূচকের সাহায্যে এইসব অঞ্চলগুলোর ভয়াভয় দারিদ্র ও দুরবস্থার
কথা আমরা জানতে পারি। আমরা জানি যে আন্তর্জাতিক স্তরে মানবউন্নয়নসূচক
বিচারে ভারত দরিদ্রতম দেশগুলোর অন্যতম। যদিও বিশ্বের ধনীতম মুষ্টিমেয়ের
মধ্যে ভারতের ধনীতমরা আরো উচ্চমাত্রায় জায়গা করে নিচ্ছে। আয় বন্টনের বা
ভাগ বন্টনের সূচক গরিব মানুষকে আরও গরিব করে তুলছে। এই প্রসঙ্গে অমিত
ভাদুড়ির বক্তব্য :

একটা ভারতে আকাশচুম্বী বিলাসবহুল আবাসন, বিরাটাকারের বাণিজ্য সংস্থার
প্রাসাদ, চোখধাঁধানো বিপনন মহল এবং উচ্চ প্রযুক্তিতে গড়ে তোলা উড়ালপথ যার
ওপর দিয়ে নতুন নতুন নকশার গাড়ির মিছিল। আজ যে ভারত প্রথম বিশ্বে জায়গা
পেতে চলেছে এগুলো হল সেই ভারতের ছবি। এর সঙ্গে সহাবস্থান করে আরেক ভারত।
এই ভারতে অসহায় কৃষক একের পর এক আত্মহনননের পথ ধরতে বাধ্য হচ্ছে, অদূরে
গ্রামগুলোতে দলিতদের নিয়মিত খুন হতে হচ্ছে, আদিবাসীরা তাদের জীবন ও
জীবিকা থেকে উচ্ছেদ হয়ে চলেছে আর খুদে শিশুরা যারা ঠিকমত হাটতে অক্ষম
তারা চকচকে শহরগুলোর রাস্তায় ভিক্ষে করে বেড়াচ্ছে দ্রষ্টব্য: Economic
and political Weekly, 17th Feb 2007, Development or Development
Terrorism)।

ভারত মানব উন্নয়ন সূচকের বিচারে পৃথিবীর ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৩৫ স্থানে
অবস্থান করে। অর্থাৎ শেষের দিক থেকে কিছুটা উঁচুতে। বহুজাতিক সংস্থাগুলির
মৃগয়াক্ষেত্র ভারতের সম্পদ সাম্রাজ্যে বনজ অঞ্চলে বসবাসকারী আদিবাসী
জনসাধারণের অবস্থান রাজ্যগুলির মানবউন্নয়ন সূচকে একেবারে সিঁড়ির শেষ
ধাপে বা প্রায় শেষ ধাপে। পুষ্টি শিক্ষা চিকিৎসা পরিচ্ছন্নতা মহিলা বঞ্চনা
প্রভৃতি সূচক নিয়ে গঠিত মানব উন্নয়ন সূচকে ভারত যেমন আন্তর্জাতিক স্তরে
পিছিয়ে তেমনি ভারতে বসবাসকারী আদিবাসী গরিব সম্প্রদায় ভারতীয়দের মধ্যে
সবচেয়ে পিছিয়ে। তাদের মধ্যে আবার জঙ্গলে ঘেরা গ্রামাঞ্চলের মানুষের
অবস্থা আরও খারাপ। সরকারি বেসরকারি সব হিসেবেই এই সত্য ধরা পরে। সরকার
গঠিত কমিটি বা প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এ কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন। ২০০৬
সালে মে মাসে পরিকল্পনা কমিশন গঠিত একটি কমিটির রিপোর্টে বলা হয় :

" গ্রামীণ দরিদ্ররা চিরায়তভাবে চারণভূমি বনাঞ্চল ও জলসম্পদের ওপর
নির্ভরশীল থাকতো। কিন্তু রাষ্ট্রব্যবস্থার সহযোগিতায় ওই সাধারণ সম্পত্তি
ক্রমাগত মুনাফা অর্জনকারীদের হস্তগত হচ্ছে। একদিকে জাতীয় উন্নয়নের হার
বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশ্বের ধনীদের তালিকায় নাম উঠছে ভারতীয় ধনীদের, বহু
ধনপতির বিত্তের হিসেবে পর্বত প্রমান হয়ে উঠেছে ব্যাংকের খাতায়,
কম্পিউটারে অন্যদিকে নি:সীম দারিদ্রের সংবিধানের ৩৯ ধারায় কতিপয়ের সম্পদ
পুঞ্জীভূত হতে না দেওয়ার কথা হাসির উদ্রেক করে। অস্পৃর্শ্যতা পারিবারিক
হিংস্রতা দুর্বলদের প্রতি নিপীড়ন ইত্যাদির ব্যাপকতা লক্ষণীয়। শিক্ষা
স্বাস্থ্য পরিবহন আবাসন প্রভৃতি সর্বক্ষেত্রে বিত্তবান ও প্রান্তিক
মানুষের মধ্যে আকাশজমিন ফারাক দৃশ্যমান। তাই জনগনের একটা বড় অংশ
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যবস্থাপনা থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে করায় অসহিষ্ণু হয়ে
উঠছে। '' ( দ্রষ্টব্য: অপারেশন গ্রিনহান্ট, আসানসোল সিভিল রাইট
এসোসিয়েসন, পৃ ৭৬ )

দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থিত জনসংখ্যার কথা ধরলে দেখা যায় যে তপশীলি
উপজাতির ৪৭.৩ শতাংশ, তপশীলি জাতির ৩৬.৮ শতাংশ আর অন্যান্য পিছিয়ে পড়া
বর্গের ২৬.৭ শতাংশ দারিদ্রসীমার নিচে অবস্থান করে। এর ওপরের সাধারণ
বর্গের ১৬.১ শতাংশ এই বিবেচনায় দরিদ্র। সমস্ত জনসংখ্যাকে একসঙ্গে ধরলে
দেখা যায় যে ভারতে গ্রামাঞ্চলে অক্ষর পরিচয়ের পেক্ষাপটে শিক্ষিতের সংখ্যা
৬৮.২% যেখানে শহরে ৮৪.৮৪% শিক্ষিত। তপশীলি উপজাতিদের মধ্যে গ্রামে
৬১.৫% ও শহরে ৮০.৪% শিক্ষিত অর্থাৎ অক্ষর জ্ঞান আছে। মহিলাদের মধ্যে
অক্ষর জ্ঞান পুরুষদের তুলনায় কম। দেশে সামগ্রিক বিচারে শিশুমৃত্যু গড়
যেখানে ১৮.৪ শতাংশ সেখানে তপশিলী উপজাতিদের মধ্যে এই হার ৩৫.৮% । এদের
মধ্যে স্বাস্থ্য বীমার সুযোগ পায় মাত্র ২.৬% । সারা দেশের গড় হার হল
৩১.৯% । পানীয় জল থেকে পায়খানা জীবনের সমস্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ছবিটা
একই কথা বলে। এসব অঞ্চলে জেলা গুলোকে উপজেলায় ভাগ করলে ছবিটা তপশিলি
উপজাতিদের পক্ষে আরো ভয়ঙ্কর।

দারিদ্র পীড়িত আর দুর্দশাগ্রস্ত উড়িষ্যার মানুষের অবর্ণনীয় দুরবস্থার
কথা জানা যায় মানব উন্নয়ন সূচক ধরে। খনিজ সমৃদ্ধ এই রাজ্যের মানব উন্নয়ন
সূচক 0.৪০৪ যা তলার দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায় বিভিন্ন রাজ্যের সারনী
বিচারে একেবারে তলার দিকে। জাতীয় গড়ের দুইতৃতীয়াংশ ছিল মাথাপিছু আয় যা এই
উন্নয়নের দৌলতে নয়ের দশকের শেষে অর্ধেকে নেমে এসেছে। জাতীয় স্তরে
দারিদ্র অনুপাতের সূচক কমলেও এই অনুপাত উত্তর ও দক্ষিণের খনিজ সমৃদ্ধ
অঞ্চলগুলোতে বেড়ে গেছে। কোরাপুট সুন্দরগর আঙ্গুল ময়ূরভঞ্জ যে সব অঞ্চলে
রাজ্যের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ শতাংশ আদিবাসী মানুষ বাস করে সেগুলো এইসব
অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। সবচেয়ে খনিজসমৃদ্ধ জেলা কঞঝড়রে ৬২% মানুষ দারিদ্র
সীমার নিচে অবস্থান করে। বক্সাইড রাজধানী বলে পরিচিত কোরাপুটে ৭৯% মানুষ
দারিদ্র সীমার নিচে বাস করে। পুষ্টি শিক্ষা পরিচ্ছন্নতা সব বিচারেই
অবস্থা করুন ( দ্রষ্টব্য Riches Out from Under India`s Odisha Tribals,
by Ranjit Devraj, o9.08.2008)।

ঝাড়খণ্ডে মোট জনসংখ্যা ৩.৩ কোটি যা মোট ভারতের জনসংখ্যার ২.৭২%, ২৮% হলো
তপশিলি উপজাতি। ২০০৮-০৯ সালের হিসেবে এ রাজ্যে গড় বনজ অঞ্চল ২৮.৮২%।
খনিজ প্রধান গ্রামগুলি ঘন জঙ্গলে ঘেরা। রাজ্যের ৭৫.৯৫ শতাংশ মানুষ গ্রামে
বাস করে। এর মধ্যে ৯৫% আদিবাসী। মোট তপশিলি জনসংখ্যার ৯১% গ্রামে বাস
করে। গ্রামে উচ্চবর্গ মানুষের বাস নেই বললেই চলে। মানব উন্নয়ন সূচকে এই
রাজ্যের স্থান দেশের শেষ পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে। রাজ্যের মানব উন্নয়ন সূচক
মাত্র ০.৩৬। অক্ষর জ্ঞানে এই রাজ্যে শিক্ষিত ৬৭,৬% মানুষ। ক্ষুধার সূচকে
এই রাজ্যে পরিস্থিতি ভয়াভয়। দারিদ্র অনুপাত সূচক ৪৫.৩ যা দেশের গড় মানের
অনেক উর্ধে। এছাড়া অন্যান্য বিষয়কে ধরলে যাকে বহুমাত্রিক দারিদ্র সূচক
বলা হয় তবে এর মান লাফিয়ে ৭৪.৮-এ উঠে যায়। পানিয় জল ও পায়খানার সুযোগ
এখানে চারজনে একজনও পায় না।

ছত্তিশগড়ে অবস্থা মোটেও এর থেকে খুব ভালো কিছু না। দেশের মোট জনসংখ্যার
২% এই সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া রাজ্যগুলির একটিতে বাস করে। এই রাজ্যে ২৩%
মানুষ শহরে আর ৭৭% মানুষ আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামাঞ্চলে বাস করে। এই
রাজ্যের মোট জনসংখ্যা ২.৫৫ কোটি। ৩১.৭৬% তপশিলি উপজাতি যাদের আমরা
আদিবাসী বলি। ১১.৬১% তপশিলি জাতি। দেশের মোট আদিবাসীদের ১০শতাংশ এই
রাজ্যে বাস করে যা আদিবাসী অধ্যুষিত ঘনতম অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটা। রাজ্যে
অক্ষরজ্ঞানে শিক্ষিতের সংখ্যা ৬৪.৬৬% যা জাতীয় গড়ের অনেক নিচে। গ্রামে
এই শিক্ষার হার শোচনীয়। স্বাস্থ্যের নিরিখে মানব উন্নয়ন সূচক মাত্র ০.৪৯।
পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার ৯০.৩%। মানব উন্নয়নের মান ০.৩৫৮, দেশের
মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। অথচ উন্নয়নের হার ৮%-এর মত যা জাতীয় গড় থেকে
বেশি। রাজ্যের খনিজ সম্পদের অবদানের জন্যই এই হার বেশি। অর্থাৎ রাজ্যটি
বন্টন এবং বঞ্চনার ফাঁকের শিকার ((Ref : about Chattisgarh_UNDP in
India)।

মাথাপিছু আয়, শিক্ষা স্বাস্থ্য, পানীয় জল, পরিচ্ছন্নতা প্রভৃতি সূচক ধরে
এই সব অঞ্চলের গরিব মানুষের গরিবি দুর্দশা আর অসহায় অবস্থাটা জানা যায়।
এসব-ই যেন এক নীরব ক্রন্দনের প্রতিধ্বনি যা আকাশে বাতাসে গুমরে মরে। এই
অসহতাই জ্বলে ওঠে জনরোষে যা স্ফুলিঙ্গ হয়ে দাবানলের সৃষ্টি করে। প্রতিটি
ক্রিয়ারই একটা প্রতিক্রিয়া থাকে। আজ করপোরেট লোভ তাদের দস্যুতা, রাষ্ট্র
যন্ত্র ব্যবহার করে যে উচ্ছেদের ক্রিয়াকান্ড চলছে উন্নয়নের নামে তার
বিরুদ্ধেই বিক্ষুব্ধ এই ভারতের জনজাতি। হিংসা হিংসাকেই ডেকে আনে। আর
রাষ্ট্রীয় হিংসার প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় জনতার রোষ, তার প্রতিহিংসা।
এরই ফলশ্রুতি শ্রেণী যুদ্ধ। এক শ্রেণী কর্তৃক আরেকশ্রেণীকে উচ্ছেদের
নিরলস সংগ্রাম। আর সাম্রাজ্যবাদ যেহেতু কপোরেট শোষকদের হয়ে একটা হিংসা
চাপিয়ে দিয়েছে তাই তার প্রতিক্রিয়ায় জনতার হিংসাকে একটা অনিবার্যতাই
বলতে হয়। সংসদীয় রাজনীতিতে এর সমাধান নেই কারন রাষ্ট্রযন্ত্র শোষকশ্রেণীর
হাতের ক্রীড়নক। শোষনের হাতিয়ার। আজ সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে নিপীড়িত মানুষের
দ্বন্দ্ব ভারত সমাজের প্রধান দ্বন্দ্ব। এ এক শত্রুতামূলক দ্বন্দ যার
সমাধান সম্ভব গরিব মানুষের স্বার্থে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের মাধ্যমে।
নকশালবাড়ির রাজনীতির এটাই শিক্ষা। ব্যাপক মানুষকে সমাবেশিত করে এই
যুদ্ধকে জয়ের পথে নিয়ে যাওয়াকেই জনগণতান্ত্রিক বিপ্লব বলে। এক ধাক্কায়
সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সেরে সমাজতন্ত্রের দরজা খুলে দেওয়া যায় না যুদ্ধের
এই স্তরে। এই লড়াইয়ে শ্রমিক শ্রেণী যেমন গরিব কৃষক সম্প্রদায়ের সঙ্গে
কাঁধে কাঁধ দিয়ে লড়ে তেমনি এর সঙ্গে যুক্ত হয় মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়,
দেশপ্রেমিক শক্তি আর আজকের পরিবেশ কর্ম্মিরা। শ্রেণী স্বার্থ পরিবেশ
স্বার্থ আর আত্মনিয়ন্ত্রণের স্বার্থ এক বিন্দুতে মেলে। এই জনযুদ্ধে
একদিকে যেমন যুদ্ধের হিংসা অনিবার্য তেমনি আরেকদিকে বিকল্প উন্নয়নের একটা
নমুনা সামনে রেখে নতুন সমাজ গঠনের দিকটা তুলে ধরতে হয়। এর জন্য দরকার
ঘাঁটি এলাকা, একটা বিকল্প সমান্তরাল সরকার যার পাহারাদার গণমুক্তি ফৌজ।
আজ ভ্রুনাকারে হলেও এটা ছত্তিশগড়ে দেখা দিয়েছে। নকশালবাড়ির আন্দোলন যে
ডাক দিয়েছিল সে ডাকে সাড়া দিয়েই এই জনযুদ্ধ এগিয়ে চলেছে। সমাজতন্ত্রে
প্রবেশের দরজায় পৌঁছতে গেলে তার আগে যে দরজাটা বন্ধ সেটা খুলতে হয়। আর আজ
প্রধান দ্বন্দ্বের সমাধান পেতে জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবকে সফল করতে হয়। এর
জন্য শ্রমজীবী মানুষ দেশপ্রেমিক শক্তি আর পরিবেশ বন্ধুদের নিয়ে এক
যুক্তফ্রন্ট গড়ে তুলতে হয়।


সিদ্ধান্ত :

আমরা আমাদের আলোচনায় দেখলাম যে খনিজ সম্পদে ভরপুর জঙ্গলে ঘেরা
গ্রামাঞ্চলগুলোতে প্রধানত আদিবাসীদের বাস। দেখা যায় যে বার বার সমতল
অঞ্চল থেকে বিতাড়িত হয়ে পিছু হঠতে হঠতে এরা এই জঙ্গল অঞ্চলে আশ্রয়
নিয়েছে। সেই সুপ্রাচীন কাল থেকেই আর্যদের আগ্রাসনের সময়কাল থেকেই এটা ঘটে
চলেছে। এই প্রসঙ্গে হিমাংশু কুমার নামে একজন গান্ধীবাদী যিনি আদিবাসীদের
সেবা করবেন বলে দান্তেওয়ারা অঞ্চলে আশ্রম করায় রাষ্ট্র কর্তৃক উচ্ছেদ
হয়েছিলেন তিনি বলেন :

এটা আসলে এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক কালক্রমের মধ্যে দিয়ে ঘটে এসেছে। আজ দেশের
যেখানে যেখানে আদিবাসীর বাস, সেখানে সেখানেই খনিজ পদার্থ আছে। আমরা,
আর্যরা, মধ্য এশিয়া থেকে ভারতে এসে সমতলভূমিতে আধিপত্য কায়েম করি। যে
ভূমিপুত্ররা ছিলেন তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করি, যেটাকে আমরা `দেবদানবের`
সংঘর্ষ বলে লিপিবব্ধ করেছি ------ অর্থাৎ `আমরা`, দেবতারা দানবদের সঙ্গে
যুদ্ধ করি। দানবদের যে বর্ননা পাওয়া যায় ------ কৃষ্ণবর্ণ, কুঞ্চিত কেশ,
মাথায় শিং ------- এটা অবিকল আদিবাসীদের বর্ণনা। আমরা অতীতে তাদের
খেদিয়ে দিই। আমরা সমভূমিতে আধিপত্য কায়েম করি। আজও আদিবাসীরা এবড়ো খেবড়ো
জমি, পাহাড়, জঙ্গল এইসব অঞ্চলেই বাস করেন। কৃষিযুগ শেষ হতে চলেছে। ধীরে
ধীরে শিল্পোদ্যোগের যুগ আসছে। এবার চাই খনিজ পদার্থ, যেখানে খনিজ পদার্থ
সেখানেই আদিবাসীদের বাস। ( দ্রষ্টব্য: হিমাংশু কুমার এখন বিসংবাদ
এপ্রিল ২০১০) ।

এই দুর্গম বনাঞ্চলে ব্রিটিশরাও পৌঁছতে পারেনি। ভারতের স্বাধীন সরকার এদের
কোন খবর রাখত না। আজ বহুজাতিক সংস্থাগুলি এখানে লুকনো খনিজ সম্পদের খবর
পেয়ে রাষ্ট্রের সহায়তায় অস্ত্র হাতে হাজির। শুরু হয়েছে 'দখল', 'সাফাই'
আর 'উন্নয়নের' নামে লুঠের কারবার। আজকের সভ্যতা খনি নির্ভর আর এই খনিজ
সম্পদই হলো কর্পোরেট দুনিয়ার লাভের উৎস যা নিয়ে মার্কিন সাহেব ডিউই
এন্ডারসন বলেন :

আধুনিক যুদ্ধে, যুদ্ধশিল্পের শাঁস হিসেবে আলূমনিয়াম এককভাবে সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রচুর পরিমাণে আলূমনিয়াম ছাড়া বর্তমানে কোন
যুদ্ধ সম্ভব নয়, এবং কোন যুদ্ধে বিজয়লাভও সম্ভব নয়। আলূমনিয়াম দিয়ে যুদ্ধ
ও মাল পরিবহনের এরোপ্লেন তৈরী হয়। পারমানিক অস্ত্র তৈরী ও অস্ত্র
নিক্ষেপ দুটোতেই আলমনিয়াম প্রয়োজন। -------- আলুমনিয়াম, হ্যাঁ প্রচুর
পরিমাণে আলুমনিয়াম যুদ্ধে জয় পরাজয়ের মধ্যে পার্থক্য টেনে দেয়। (
উদ্ধৃতি : অপারেশন গ্রিন হান্ট ও ভারত , আপডেট প্রকাশনা পৃ ১২) ।

আলুমনিয়ামি শুধু নয়, ২৫০ বছর শিল্পবিপ্লবের কাল থেকেই আধুনিক শিল্পে
লোহার গুরুত্ব অপরিসীম। ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাস লেখক থমাস কালহিল এই
প্রসঙ্গে বলেন : "the nation which gains control of iron, soon acquires
control of gold"

সুতরাং বলা চলে যে আজকের ভারতে খনিজ সম্পদ খননের প্রশ্নটি খনি থেকে
উন্নয়নের প্রয়োজনে মাটি খুঁড়ে খনিজ সম্পদ তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
আদিবাসী যৌথ সমাজকে ভেঙে তাদের উচ্ছেদ করে কর্পোরেট রাজত্ব স্থাপন করার
এক কর্ম্মযোগ্য হল এটা। এ সম্পর্কে খনি অর্থনীতির গবেষক চন্দ্রভূষণ
বলেন:

Mining in India, therefore, is not a simple `dig and sell` proposition
as it is made out to be by industry. It is, in fact, a highly a
complex socio-economic and environmental challenge: at stake are
natural resources as well as people ----- forests, wildfield, water
,environmental quality and livelihoods----
( Chandra Bhusan )

কর্পোরেট দুনিয়ার কার্যকলাপ ও রাষ্ট্রের দখলদার সন্ত্রাস প্রসঙ্গে অভিজিৎ
প্রভুদেশাই বলেন :

The only terrorist is the capital worshipping industrial-financial
nexus, with its brainwashed / greedy supporters and its mindless
slaves who destroy, displace and enslave man, in order to unleash
their killing machines against the Earth--- I salute all indigenous
people and others who live as a part of nature, for they are the only
protector of our beloved and only planet.

Source:http://www.countercurrents.org/walia030510




# 'প্রাচুর্যের অভিশাপ' নামক পূর্বপ্রকাশের পরের অংশ

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,