ভারতবর্ষের নাম বদলায়নি- বদলে গেছে আচার বিচার,বদলায়নি শহীদ মিনার- গাছগাছালি পাখির কূজন,ফুলের গন্ধ একই আছে, বদলে গেছে সুহৃদ সুজন।মানুষ গুলো একই আছে, বদলে গেছে আচার বিচার।দেশ বলতে কি দেশ হবেনা, মানুষেরই আসল মানে,ভাষা কিংবা পোশাকে নয়,যার অর্থ সবাই জানে।যে দেশটা দেখে তুমি, কবির মতে ভুল ঠিকানা,বিপ্লবীদের রক্তে আঁকা, দেশ বলতে কি দেশ হবে না?একই মাটি পায়ের তলায়, আকাশখানাও একই আছে,তখন শুধু মানুষ ছিল, এখন ভরা মরা গাছে।এখন ভরা মরা গাছে লুকিয়ে জীবন একলা বাঁচে,জানালার রঙ বদলে গেছে, আকাশ কিন্তু একই আছে।প্রথম যেদিন ডাকলো পাখি স্বাধীনতার প্রথম ভোরে,ঘুম মোছা চোখ জেগে ছিল বারুদ মেশা অন্ধকারে।আপনজনা কেউ ছিলনা, নিলো সবায় আপন করে,এখন সবাই আপন হয়ে পরের মত নিজের ঘরে।বদলে যাওয়ার এই যে রীতি, বিবর্তনের ভুল ধারণা,মানুষ জানে মানুষ আছে, প্রমাণ দেবে লোকগণনা।এটাই যদি বাঁচার মানে, অন্য কিছুই আর বোঝ না,হলফ করে বলতে পারি, দেশ বলতে, আর দেশ হবে না।
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

Comments
Post a Comment