Skip to main content

মানুষের অস্থিরতা : বাংলা সাহিত্যে প্রভাব ।। তপন মাইতি

নবপ্রভাত

প্রবন্ধ

মানুষের অস্থিরতা : বাংলা সাহিত্যে প্রভাব

                                   তপন মাইতি


নদী আর সাগরের সাথে তুলনা করলে অস্থির বা চঞ্চল হবে নদী।তার কারণ সাগরের চেয়ে নদীর গভীরতা কম।কিছু কিছু নদী যদি সাগরের গভীরতা ছাপিয়ে যায় সে কথায় যাচ্ছি না আপাতত।ওদিকে ফুলস্টপ দিয়ে মানুষের অস্থিরতার দিকে আলোকপাত করবার চেষ্টা করছি।মানসিক অস্থিরতায় ভোগা মানুষ কখনোই সুখি হতে পারে না।তারসাথে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।
ভোররাতে করল।বিকেলে সন্ধ্যার দিকে করল। রাতে খাওয়ার পর করল। তবু বলছো করেনি?বলি একটা ছেলে কতবার ফোন করতে পারে বলো? বলছি তোমার মাথা টাথা ঠিক আছে তো?এরকম করতে থাকলে মাথায় জল ঢেলে দেব।আগে তো এমন বলতে না?আগে তো এমন করতে না?যত বয়স হচ্ছে তত দিন দিন ভীমরতি চাপছে?মনে আছে ছেলেটা দিন দিন বড় হচ্ছে?আগের দিনের কথা একটু ভাবো সোনার বাবা?তখন হাতের লেখা চিঠির যুগ ছিল।এত ফোনাফোনি ছিল না সেদিন।এখনকার কথা আর আগেকার কথার মধ্যে আকাশ পৃথিবী চাঁদ পার্থক্য।সে কথা বললে শুনবে কেন এখনকার ছেলেরা?তারা কি সেদিনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে কখনও?হয়নি তো? বুঝবে কীভাবে?যেমন যুগ তেমন তাল মিলিয়ে চলতে হয়। না চলতে পারলে পিছিয়ে পড়তে হয় বলে মনে হয়।
এখন যান্ত্রিক-দ্রুত-শর্টকাট যুগ।আধুনিক যুগে কাজের অনেক দরজা খুলে গেছে ঠিকই।তবে যন্ত্র কেড়ে নিয়েছে মানুষের হাতের কাজ ও গুরুত্বপূর্ণ সময়।১০ জনের কাজ একটি যন্ত্র করে দিচ্ছে মুহূর্তের মধ্যে।বেকারত্ব বাড়ছে।পৃথিবীতে জনবিস্ফোরণ ঘটে চলেছে অনবরত।মানুষের ভিড় যত বাড়ছে।তত ঘর বাড়ছে।ছোট পরিবার সুখী পরিবার মানসিকতায় দিন চলছে।ফলস্বরূপ চাষের জমিন কমছে।জমিন কমলে খাদ্য সংকট বাড়ছে।একটা জমিতে যতই বারবার চাষ করা হোক না কেন।চাহিদা কি মিটবে?জমির মাটির উর্বরতা কমে যাচ্ছে ক্রমাগত।ক্ষতিকর কীট পতঙ্গ পোকামাকড় রোগ শোক বাড়ছে।দুর্যোগ বাড়ছে।ফলে মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে।অভাবগ্রস্ত হচ্ছে মানুষজন।যত অভাবগ্রস্থ হচ্ছে তত মানুষের অস্থিরতা বাড়ছে।এটাই স্বাভাবিক এটাই বাস্তবতা ও এখনকার হালহকিকৎ।
এই ধরুন!আজকের দিনে সবার হাতে হাতে মোবাইল।ধরুন আপনার হাত থেকে কয়েক মুহূর্তের জন্য আপনার মুঠোফোনটা হারিয়ে গেল বা কেউ ছিনিয়ে নিল!আপনার কত নথিপত্র হারিয়ে যাবে বলুন তো?পাগলের মত হাতড়ে বেড়াবে।আপনার কি অবস্থা হবে একবার ভাবুন।আপনি কেমন অস্থিরতায় ভুগবেন বলুন তো?এই অস্থিরতায় বসে জল্পনা কল্পনা ভাবনায় শান দিতে হবে।
মানুষের জীবনে মোবাইল প্রতিনিয়ত বহুমুখী ব্যবহৃত হওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে মানুষজন।এর প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।বহু কাজ একসাথে করা হয়ে যায়।ইচ্ছেমতো ভার্চুয়ালের বিভিন্ন শাখায় অবাধ বিচরণ করতে পারা যায়।স্মার্টফোন বা আইফোন থাকলে আপনার হাতে কত অপশন চলে আসবে।ঘড়ির সময় থেকে ব্যাংক ব্যালেন্স,রিচার্জ বা নিত্যনৈমিতিক যাবতীয় প্রয়োজনীয় দেখতে এবং কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।ঘরে বসে কাজ করতে পারবেন তা হাতে নাতে।মানুষের হাতে যখন বহু অপশন চলে আসে সব ভালো ভালো তথ্য সুবিধা পেয়ে যাবেন। তখন মানুষ কোনটি ছেড়ে কোনটি ধরবে এমন অস্থিরতার মধ্যে পড়া খুব স্বাভাবিক।
এই সেলফি প্রয়োজনীয় অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট যুগে মানুষের হাতে যেমন বহু অপশন রয়েছে তেমন করে মানুষের ব্যস্ততা ও বেড়েছে।মানুষের যত ব্যস্ততা বাড়বে তত অস্থিরতা বাড়বে।
এখন রিলাক্স আর ভোগের যুগ।আপনি কেন বই কিনে পড়বেন বলুন তো?আপনি ঘরে কেন আলমারি ভর্তি বই রাখবেন?শুধু শুধু ঘরের জায়গা অধিকার করে রাখা কী ঠিক হবে?এই ওয়াইফাই ইন্টারনেট বিভিন্নরূপ অ্যাপসের যুগে কত কম দামে পিডিএফ পেয়ে যাবেন মুঠোফোন এক মুহূর্তের মধ্যেই?ডাউনলোড করতে পারবেন।এই মোটা মোটা বই বইতে অসুবিধা ও হ্যাঁপা আছে।সেটা যদি মোবাইল বন্দি থাকে তো বেশ ভালো হয়।তাই না?সেটা খুব শৌখিন স্টাইল পোর্টেবল খুব সুবিধাজনক তাই না?মানুষের যেটা সুবিধাজনক সেটাই গ্রহণযোগ্যতা পায়।মনে রাখতে হবে বেশি আরাম হারামের কারণ।অনেক ক্ষণ মোবাইল স্ক্রীনে চেয়ে থাকলে অন্ধকার হয়ে আসে এবং ঝাপসা লাগে।যদিও স্ক্রীনটাচ হওয়ায় অনেক সুবিধা হয়েছে।
এখন মানুষের বিনোদনের চাহিদা এসে গেছে হাতের মুঠোফোনে।অনেক সিনেমাহলগুলোয় তালা ঝুলছে।একটা কথা আছে না?অতি জিনিসটা একদমই ভালো না।সে যাইহোক না কেন।মানুষের অস্থিরতার শিকার হতে হয় খুব।এর প্রভাব বাংলা সাহিত্যে ও পড়ে।যেহেতু আমাদের মাতৃভাষা বাংলা।আমাদের পিতৃভিটে মাটির বাতাসে মিশে আছে বাংলা ভাষা।মায়ের ঘুম পাড়ানি গান।ঠাকুরমার ঝুলি।আবোল তাবোল। বর্ণপরিচয়। সহজপাঠ। একুশে ফেব্রুয়ারি।সাহিত্য হল সমাজের দর্পণ।সমাজের মধ্যে সামাজিক অর্থনৈতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা যত বাড়বে বাংলা সাহিত্যের স্রষ্টা-সৃষ্টি স্থাপত্য ভাস্কর্য নিদর্শনে তত অস্থিরতার ছাপ পড়বে এটাই স্বাভাবিক।
আসলে আগেকার মানুষের কিছু থাক আর নাই থাক তবু একটা বইয়ের আলমারি থাকতো।তারা সময় কাটাত বই পড়ে।এখন মানুষের কাছে বইয়ের বদলে রয়েছে মোবাইল ফোন।আর মোবাইল থাকলে অতি বহু অপশন ও প্রচুর পরিমাণে ভ্যারাইটি আছে।তা মানুষের সময় কাটাবার জন্য যথেষ্ট।আপনি যেমন ভাবে মোবাইল ব্যবহার করবেন কেমন করে তার সুফল কুফল ঠিকই পাবেন।সেটা মানুষের ব্যবহারের উপর ডিপেন্ড করে।এবার মানুষ পড়ে কষ্ট করতে যাবেন কেন?যদি তার কাছে পড়াশোনার গল্পটি যদি অডিও ভিডিও একসাথে পেয়ে যান অ্যাপসে বা ব্লগে এবং সেটা পাওয়া যায় সস্তায় কম দামে।তাহলে আপনি কোনটা বেছে নেবেন বলুন তো?মানুষ ওটাই করছে এবং করাটি স্বাভাবিক তাই না?
এই দ্রুত যুগ ব্যস্ততার যুগে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উল্টে পাল্টে প্রিয় লাইনে আন্ডারলাইন করে উপন্যাস পড়বে কে?তেমন পড়বাবার মানুষ আছে?শখ থাকলেও সময় কি তিনি পান?আপনি কি করবেন বা করেন?বোধহয় না!আপনি যদি না যান তাহলে আপনি খুব ভালো।ধরে নেওয়া যাবে আপনি আর পাঁচজনের মত নয়।আপনি ব্যতিক্রম।
ষোলো লাইনের কবিতা দু লাইন পড়তে পড়তে স্কিট করে সেই সময়ে পাঁচ সেকেন্ডের অনেকগুলো রিলস দেখে নেয়।কম সময়ের মধ্যে আপনি বেশি বিনোদন পেয়ে যাচ্ছেন?দীর্ঘ কবিতা তো দূরের কথা কবিতা পড়বার লোক দুনিয়াতে তুলনামূলক ভাবে অনেক কমে গেছে।এসবের জন্য আরও সংখ্যা কমে যাচ্ছে ক্রমাগত। আর যে সমাজের মানুষ যত কম বই পড়েন সে সমাজের অস্থিরতা তত বেশি দেখা দেয়।মানুষের প্রকৃত যদি কেউ বন্ধু থাকে সে হল ভালো ভালো বই। ভালো বই অমৃতযোগ অমৃত সমান।একটি বই মানুষের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।সময় কাটাতে পারে।বিনোদনের সামগ্রী হতে পারে।একটি বই একজীবনের অনেক কিছুই হতে পারে।
আজকাল শুধু পড়েও মন টেকে না পড়ুয়াদের।পড়তে বসলে ফোন।স্কুলে যেতে ফোন।পথ হাঁটতে হাঁটতে ফোন।খেতে বসলে ফোন।ঘুমোতে গেলে ফোন।আর সেই ফোনের মধ্যে যদি বই থাকে।পড়াশোনার শিখন পদ্ধতি থাকে।তাহলে কেল্লাফতে।এই বহুমাত্রিক যুগে কোনো একদিকে থাকলে চলবে না।ভালো মন্দ উভয়েই নিয়ে চলতে হবে।তবে ভালোকে দমিয়ে মন্দকে প্রশ্রয় দিলে সমাজে অস্থিরতা বাড়বে।মানুষের মানসিকতা মুঠোফোনের মত হওয়ার ফ্রাসট্রেশনে ভোগে প্রতিনিয়ত।আমাকে কিছু একটি করতে হবে।নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে এই অস্থিরতায়।ফলে অস্থিরতা বেড়ে যাচ্ছে ক্রমাগত।তারা মানুষের ভিড়ের মিছিল যেদিকে হাঁটছে তার বিপরীত দিকে হাঁটছে।তারা রহস্যময় ভূত,ভৌতিক,অলৌকিক গল্পের দিকে ঝোঁক বাড়ছে।ওইদিকে ঝোঁক বাড়ছে।কারণ মানুষ ব্যতিক্রমী কিছু চাইছে।একটু অন্য স্বাদ পেলে মানুষ মুখিয়ে পড়ে।ফলস্বরূপ বাংলা সাহিত্যের সৃজনশীল মানুষজন নিজেদের ভালো লাগা বা মাথায় নতুন প্লট ছেড়ে ওদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ছে।কারণ মানুষ নিচ্ছে আজকের দিনে শুনতে বেশ খারাপ লাগে মানুষ নাকি খাচ্ছে!এর অস্থিরতার প্রভাব স্রষ্টার উপরেও পড়ে বা শিল্পীদের উপরে বর্তায়। এই অস্থিরতার প্রভাব সাহিত্যও পড়ে।
মানুষ যেভাবে চাইছে সেভাবে করতে গিয়ে অনবদ্য অসাধারণ কিছুই হচ্ছেই না।ক্ষণজন্মার মত হুজুগে আবেগী শিল্পসত্ত্বা বেঁচে থাকে অস্থিরতায়।প্রাণবন্ত সহজিয়া প্রাণোচ্ছ্বল হৃদয়ঙ্গম হচ্ছে কোথায়।ফলে পাঠকগন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।আকৃষ্ট না হয়ে অনীহা দেখা দিচ্ছে।এমনভাবে দেওয়ার চেষ্টা করলে একটা যুগ শেষ হয়ে যাবে পক্ষাঘাতের মত।এমন চলতে থাকলে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।এখনকারের মানুষ ভার্চুয়াল জগতে ডুবে থাকে প্রতিনিয়ত।ফলে অধিকাংশ মানুষ শিক্ষিত বা পড়াশুনা বা জ্ঞান সঞ্চয় থেকে দূরে যাচ্ছে।এখন ভার্চুয়ালে অবাধ স্বাধীনতা।আমাদের সাহিত্য ভার্চুয়াল কেন্দ্রিক হতে হবে।হলে পাঠকবৃন্দের সন্তুষ্টি পাবে।
কিস্তি খেউর আর নিষিদ্ধ ছবির ফোয়ারায় ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে মামুলী ফিল্টার লাগানো অতিসাধারণ সুন্দর সুন্দরীগন।কিছু ফেক আইডি।কিছু ফেক আইডি নিয়ে দু'নম্বর বেআইনী কাজ রমারমা চলছে গোষ্ঠীবদ্ধ ভাবে।নৈতিক শিক্ষার জায়গাটা কোথাও যেন অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে। মানুষের রুচি মার্জিত সেটা উবে যাচ্ছে মনে হচ্ছে দিন দিন।লাজ-লজ্জার মাথা খেয়ে ফেলছে ক্রমাগত।ফলে মানুষ একটা শিক্ষিত আর অশিক্ষিতর মাঝ বরাবর থেকে যাচ্ছে।মানে ধুতিটাও ছাড়তে পারছে না আবার শুভদিন আসলে পড়তেও পারছে না।আবার ইঙ্গবঙ্গ বাবু হচ্ছে।একটি বাক্য সম্পন্ন হচ্ছে তিনটে ইংরেজী দুটো হিন্দি আর না পারলে তিনটে কোনরকম বাংলা ভাষা গুঁজে দিয়ে কোনরকম বলে স্মার্ট হওয়ার দেমাক দেখানোর ধারাবাহিকতা চলে আসছে দেখা যাচ্ছে।এই জগা-খিচুড়ি সংমিশ্রণ সংস্কৃতি বাংলা সাহিত্যে প্রবেশ করছে।আর বানানের কথা বলব কি তার তো কোন মাথামুন্ডু নেই।
 এই জনবিস্ফোরণ,কর্মসংকট,কর্মসংকোচন,বেসরকারিকরণ,ই-কমার্স ও দ্রুত আপডেট যুগে শুধু তীব্র প্রতিযোগিতা আর প্রতিযোগিতা।ফলে সেরার সেরা হওয়ার প্রতিযোগিতা।সে ক্যারিয়ার হোক আর বাংলা সাহিত্য হোক।তোমাকে কিছু না কিছু একটা হতে হবে বা করতে হবে তবেই আপনাকে চিনবে এর অস্থিরতায় ভুগছে।এখন ক্লাসে হয় খুব ভালো ছেলে হও নচেৎ খুব খারাপ ছেলে হও। তবেই তোমাকে ক্লাসমেট,জুনিয়র সিনিয়র ক্লাসশিক্ষক থেকে প্রিন্সিপাল এক ডাকেই চিনবে।এই হাই নম্বর যুগে বেশি নম্বর না তুলতে পারলে কিছু করতে পারবে না।কারণ এটাই সিস্টেম।সেজন্য ডিভিশন থেকে এখন সেমিস্টার গ্রেডেশন এসেছে।ঠিক এমন ভাবে বাংলা সাহিত্যে একটি বিপ্লব বা নবজাগরণ ঘটাতে হবে।কাজ করে ফেলতে পারলে পাঠকদের ভালোবাসা থেকে কেউ আটকাতে পারবে না।
এখন মানুষ একটুতেই সন্তুষ্ট নয়।এক্সপেক্টশন অনেক বেশি।আগ্রাসনও খুব।আগ্রাসী না হতে পারলে এই তীব্র প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌড়ে সবার পিছনে পড়ে থাকতে হবে। আমাদের প্রতিবেশীর ছেলে অনি অঙ্কে একশোর মধ্যে একশো পেয়েছে।সকলে বলবে। এটা সবেমাত্র মাধ্যমিক।সবে তো শুরু।এখন অনেক বাকি।এখানে এত নম্বর পেয়ে ডানা গজিয়ে গেলেই সব যাবে।হয়ে গেল ধপ করে পড়ে যাবে বাস্তবের মাটিতে। নিজেও বুঝতে পারবে না।এই পড়াশোনা ধরে রাখো যতদিন না নিজে প্রতিষ্ঠিত করতে পারছ ততদিন থামবে না।মাঝখানে কত ভালো ছেলে তলিয়ে গেল নিজের চোখে দেখলাম।তেমন ভাবে বাংলা সাহিত্যেকে তলিয়ে যেতে দিলে হবে?
একটা কিছু পাওয়ার জন্য কত কিছু ত্যাগ করতে হয় জানা আছে?তুমি কত কঠোর পরিশ্রম করলে কত অধ্যাবসায় থাকলে কত ধৈর্যশীল হলে সেটাই তোমার সফলতার উপর নির্ভর করবে।তবে মনে রেখো তপু আট ঘন্টা ধরে পড়েছে অনি।আমাকে দিনে ৯ ঘন্টা ধরে পড়লে হয়তো ভালো রেজাল্ট হবে।এই পথে না গিয়ে দেখো নিজেকে আগে চেনো। নিজের দুর্বল পয়েন্ট আর স্ট্রং পয়েন্ট চিনতে হবে।তুমি কি পারো আর কি পারো না।কোনটি খুব সহজে ভালো লাগে।সেটাই কর।যেটা সহজে আসে সেটাই গ্রহনযোগ্য।সেটি জীবন হোক বা বাংলা সাহিত্য।
পৃথিবীতে কোনরূপ তুমি সস্তা নও।শুধু মনে করলে হবে না সেটা কাজ-কর্মে দেখাতে হবে এবং প্রমাণ দিতে হবে।এটা দিয়ে কোন ভবিষ্যৎ নেই আমি বলব না। কোন স্বপ্ন ছোট নয়! স্বপ্ন দেখে সবাই কিন্তু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কতজন আছে? পৃথিবীতে তা খুব সামান্য।বেশিরভাগই আমরা তো স্বপ্ন দেখে ঘুমিয়ে পড়ি আর স্বপ্ন দেখে মৃদু ব্যর্থতার হাসি হেসে ফেলি।এই স্বপ্ন ভাঙা স্বপ্ন নিয়ে অস্থিরতা নিয়ে বেঁচে থাকে মানুষ। 
আমাদের চোখের সামনে পাড়া-প্রতিবেশীর একটি ছেলে সুমন নাম তার।পড়াশুনায় ভালো। বাবা-মা দুজনে চাকরিজীবী। বাবার ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার। হয়নি।কোনমতে টেনেটুনে কোনমতে স্কুল শিক্ষকের চাকরি পেয়েছে।তা আবার অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে।এখন তার ছেলেকে সেই স্বপ্নের টিপস দেয়। বাবা তোমাকে ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে...ইঞ্জিনিয়ার হতে গেলে এভাবে পড়তে হয়।ওভাবে আঁকতে হয়।তেমন অভ্যেস করতে হয়।অনুরূপ এভাবে ডিসপ্লিন হও।ইঞ্জিনিয়ার পেশাটি এমন যে যেকোন কিছু করতে পারবে একজীবনে।তার মা স্কুলে পড়ান।ছোটবেলায় তার ইচ্ছে ছিল ডাক্তার হওয়ার।বাপের বাড়ির আর্থিক দুরবস্থার জন্য জীবনের দিক পরিবর্তন করে কোনরকম স্কুল শিক্ষিকার চাকরি পেয়েছে।সুমন তোমাকে ডাক্তার হতে হবে।এমডি হতে হবে।তার জন্য ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে।পড়াশুনা আরও ভালো হতে হবে।একবার ডাক্তার হতে পারলে জীবনটা ঝিঙ্গালালা।তোমাকে মানুষের মত মানুষ হতে হবে।মনে রাখবে নিজের জীবন বাজি রেখে মানুষের জীবন বাঁচাতে হবে।সুমনের দাদু ব্যাংক ম্যানেজার রিটিয়ার্ড মানুষ।তিনি বললেন।চল্লিশ বছর অভিজ্ঞতা থেকে বলছি দাদু?ব্যাংকে চাকরি একদম করবি না। আমি যেভাবে ঠকেছি তুমি ঠকবে না দাদু।যদি আমার কথা শোনো।ওখানে শুধু টাকা ছাড়া কোন গল্পই নেই। মানুষের শুধু সমস্যা আর সমস্যা। সমস্যার শেষ নেই। যদিও সকলকে ব্যাংকেই যেতে হয়। তবু তোকে বলবো দাদু আজকালকার যুগে সব মিটে যাবে নিমেষের মধ্যে।তোর গাড়ি বাড়ি ব্যাংক ব্যালেন্স সব হবে।যদি তুই নেতা মন্ত্রী হতে পারিস।ঠাকুমা রিটিয়ার্ড উকিল।জানিস দাদু এটিএম ক্রেডিট কার্ড অনেক দেখলাম দাদু।মানুষ এখন বড় জটিল।চোখের সামনে পরিবারে সবকিছু শেষ হতে দেখেছি।আর শেষ হওয়ার বাকি কি আছে দেখতে?তুমি বাবা কলেজে প্রফেসর হও। তার মানে পড়াশোনায় তুমি ভালো।আত্মীয়-স্বজন পরিজন সকলে যে যার মত কথা বলে।কেউ বলে ভালো ছবি আঁকো।কেউ বলে ভালো পড়াশোনা করো।কেউ  বলে ভালো রেজাল্ট করো।কেউ বলে ভালো সাঁতার কাটবে,কেউ বলছে ভালো দৌড়োবে, বন্ধু বান্ধবী সবার সঙ্গে ভালো করে ঘুরবে। জীবনের সবকিছু করতে হয়।যতক্ষণ বাঁচো এনজয় করে যাও।দুঃখের বিষয় সুমন কিছু হতে পারেনি।
সব মানিয়ে নিতে হবে।আগে গোল্ডেন যুগের গানের সাথে সাথে এখনকার  ডিজে গানে নেচে নেওয়া শিখে নিতে হবে।এতকিছু করার পরেও প্রতি বছর পরীক্ষা হয় না।সুযোগ কম।মানে চাকরির বাজার মন্দা।অবশেষে ভার্চুয়াল জগতে চুটিয়ে ফেসবুক ইউটিউব ভাইরাল হওয়ার জন্য মুখিয়ে পড়ে যুব সমাজ।বিলিয়ন সাবস্ক্রাইব হলেই মুনাফা।এখন ধরাছাড়া প্রেম ভালবাসা বিরহ বিচ্ছেদের যুগ।বাজারে তো চাকরি অবস্থা বেহাল তা জোটাতে না পারলে ভালো ব্যবসা জুড়ে দিতে হয়।নচেৎ ভবঘুরে,মামুলি টিউশন বা কোচিং সেন্টার বা রাস্তার পাশে খাওয়ার দোকান খুলে বসে পড়তে হয়।কিছু করবার নেই।একটা সময়ের পর না পারবে সংসার করতে না পারবে কোন চাকরি করতে।না পারবে কুলে মুটে মজুরদের সাথে কাজ করতে। একটা ইঁচড়ে পাকা ইঁদুর মার্কা লাটসাহেব বলা ছাড়া উপায় নেই।ওটাই হয়ে যেতে হয়।কিছু করবার নেই।এসব অস্থিরতার বাংলা সাহিত্যে ও প্রভাব পড়ছে।
দলছুট স্কুলছুটের মত কিছু হবে না।মানে কোন কিছু সহ্য হবে না।এবার ধামা ধরে চলতে হবে।তেল দিয়ে চলতে হবে।গাধা পিটিয়ে ঘোড়া।আর ঘোড়া পিটিয়ে বাইক করতে হবে।পৃথিবীতে সব কিছু হয় তেমনটাই মনোভাব মানুষের আজকার দিনে। এমন আকাশ কুসুম স্বপ্নের পর ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে বলবে এই জীবনে কিছু তো করতে পারলাম না।এভাবে শিশুদের শৈশব গেল।কৈশোরের কিশোর স্বপ্ন গেল।যৌবনের টগবগে ফাগুন গেল।অফুরন্ত ঝক্কি ঝামেলা এল। টালমাটালের দিন কাটবে কবে?যত জীবনে নেগেটিভগুলো সরাতে সরাতে জীবনটা এক্কবারে ঘুঁচিয়ে গুছিয়ে গেল।আর যত রাজ্যের খিস্তি খেউর অপসংস্কৃতির মন্ত্র জপ করতে লাগল।আর যত রাজ্যের নিষিদ্ধ গল্প,রগরগে রসিকতা স্থান কাল পাত্র না মেনে চলতে থাকলে সেই অস্থিরতার ও তার প্রভাব বাংলা সাহিত্যে পড়বে।তারপরে মাথায় হাত পড়বে।আমরা কোন সমস্যার সমাধানের পথ না খুঁজে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে গা ভাসিয়ে দিলে কি হবে?ক্ষতি তো আমাদেরই হবে তাই না?বলবে ভাই এবারে আর কিছু করতে পারছি না লোকের পকেট মারা ছাড়া আমার আর কোন উপায় নেই।লোকের টাকা ঝেড়ে ঝুড়ে ট্রেনে বোম মেরে কোথাও লুকিয়ে পড়া ছাড়া কোন উপায় নেই।পৃথিবীতে যত নেশা আছে একসাথে সব নেশায় ডুবে থাকে।জীবনের সমস্যা এভাবে নিরাময় হয় না।হতে পারে না।বাঁচতে তো হবে তাই না?আমি বলি কি আমি মরে যাব।দেওয়াল ধরে চলব।নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করব।তবু কারোর কোন কিছুর প্রতি একটুও লোভী হব না।লোভ সংবরন করব।তাতে এত অস্থিরতার সম্মুখীন হতে হবে না কাউকে।যা আছে সেটা নিয়ে চলতে থাকলে সারাজীবন ভালোভাবেই চলে যাবে।এই অস্থিরতা সমাজের বিশৃঙ্খলা সম্পর্ক ভাঙন বিচ্ছেদের সৃষ্টি হবে।ভাইয়ে ভাইয়ে দ্বন্দ্ব হবে।লোভ লালসায় জায়গা জমি বিষয় সম্পত্তি ভাগ বাঁটোয়ারা সৎ সততার পথে না চলে জোর করে হাতিয়ে নেওয়া হলে অরাজকতা বাড়বে।আর অরাজকতা বাড়লে অস্থিরতা বাড়বে।আর তা যেহেতু আমরা বাঙালি তাহলে বাংলা সাহিত্যেও এর প্রভাব পড়বে।
শিক্ষানীতি যদি ব্যবসায়ী নীতিতে পরিচালিত হয় সেটি মানবতার দিকে লক্ষ্য  রাখতে হবে।আর এটির দিকে আলোকপাত না করলে মানুষের শোচনীয় অস্থিরতায় ভুগতে হবে।যে সমাজের মানুষ যত বেশি শিক্ষিত এবং সমজদার বুঝদার।সে সমাজের উন্নতি কোন কিছুতেই আটকায় না।নচেৎ সব কিছু চুলোয় যাবে। সমাজের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হবে।বড়লোকের ব্যাটারা শুধু পড়বে।বিশেষ বিশেষ সুযোগ সুবিধা পাবে।তারা সামাজিক অর্থনৈতিক রাজনৈতিক সব সুযোগ সুবিধা পাবে।ভাড়াটে বাদশারা অরাজকতা চালাবে।গরিবরা আরো পিছিয়ে পড়বে।ওরা শোষিত নিপীড়িত বঞ্চিত অবহেলিত হবে।মন সহজে খারাপের রাস্তার দিকে পরিচালিত হবে বা ধাবিত হবে। সমাজ যাবে রসাতলে। মানবতারগুলি ধুঁকে ধুঁকে মরবে।সৎ সততা রাষ্ট্র ছেড়ে চলে যাবে।সহানুভূতিশীলতা যুবকাষ্ঠে বলি হবে।মানবতা তো জ্ঞানের ঝুলি নিয়ে পাশ কাটিয়ে চলে যাবে।এসব প্রতিবিম্ব হতে বাধ্য বাংলা সাহিত্যে।মানুষ অস্থিরতায় পড়ে হাবুডুবু খাবে।কোন সময়ে কি করা উচিত তার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারাটা মুস্কিল হয়ে পড়বে।সহজে মাথা গরম হয়ে উঠবে।অসৎ অবলম্বনকারী মানুষেরা দাপিয়ে বেড়াবে।সব কিছুতে অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।তার প্রভাব বাংলা সাহিত্যে পড়া খুব স্বাভাবিক।
এখন একটি নগ্ন নিষিদ্ধ ছবি ২৪ ঘন্টা যেতে না যেতে অসংখ্য লাইক, কমেন্ট, সেয়ার আসে।রাতারাতি ভাইরালও হয়।ইনকাম ও হয়।এই ভার্চুয়াল চক্কর এ পড়ে কত মানুষের ভবলীলা সাঙ্গ হচ্ছে তার ঠিক আছে?এখন বিচিত্রানুষ্টান হলে লোক হয় না।যদি কোন কমিটি ড্যান্স হাঙ্গামা বা ধামাকা করে।লোকের জায়গা দিতে পারছে না।শিল্পীরা কোথাও স্টেজ পারফরম্যান্স করতে গেলে।গানের সাথে সাথে বিকৃতি নাচ করতে হবে।তালে তালে শরীর নাচাতে হবে।অনেক দর্শকদের দেখেছি তারা এই মানসিকতার পরিচয় দেয় যে আমরা তো সবসময়ই গোল্ডেন গান শুনতে পারি যেকোন সময় তবে আজকের অনুষ্ঠানে এসেছি তো নেচে কুঁদে এনজয় করে চলে যাব।সব কিছুর একটা সীমা থাকে তা অতিক্রম হলে অস্থিরতা তো বাড়বেই।তাই অনেক শিল্পীদের আর ডাক পড়ে না কারণ তারা হট গান নাচ উভয়েই করতে পারেন না বলে।অনেক শিল্পী তালে তাল মিলিয়ে পপ সিঙ্গার হতে যাচ্ছে কিন্তু পুরোপুরিই ব্যর্থ হচ্ছে।আচ্ছা বলুন তো জোর করে কেমিক্যাল দিয়ে তাড়াহুড়ো করে ফল পাকালে ভালো লাগে?গাছে পাকা ফলের সুস্বাদটাই কিন্তু আলাদা।তার তুলনা হয় না।মুখে লেগে থাকা স্বাভাবিক।এভাবে কবি সাহিত্যিক শিল্পী সত্ত্বা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত।তাদের মত করে কিছু করতে দেওয়া হচ্ছে না।তাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে অনেককিছুই।আর তারা করতে বাধ্য হচ্ছে তার কারন তারা মানুষের মনে জায়গা করবার জন্য সব কিছু করতে পারে। মনে জায়গা করবার জন্য সদা প্রস্তুতি নেয়।এই অস্থিরতার ও বাংলা সাহিত্যে প্রভাব পড়ছে বা পড়ে।
মানুষের মনের অস্থিরতা বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে মানুষের মধ্যে সমন্বয়হীনতা অসন্তোষ সংঘাত জটিল কুটিলতা পরিস্থিতির কারণে ও হয়। অস্থিরতায় ভোগে মানুষ। অস্থিরতা একটি জটিল ও বহুমাত্রিক সমস্যা। যা রাজনৈতিক অস্থিরতা,অর্থনৈতিক বৈষম্য,সামাজিক বৈষম্য,সাংস্কৃতিক সংঘাত,বেকারত্ব,শিক্ষার অভাবের ফলে সাংসারিক পারিবারিক প্রয়োজনীয়তা চাহিদা মনের অস্থিরতা প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।অর্থনৈতিক বৈষম্য সামাজিক অস্থিরতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন।যদি মানুষ দারিদ্র পীড়িত হয় মানুষের অসন্তোষ ও হতাশা ব্যর্থতা অবজ্ঞা ঘৃণা এগুলো শেষ থাকে না। গোষ্ঠী বৈষম্য দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। ধনী-গরীবের অবদমনের সুযোগ পায়। নিম্ন মধ্যবিত্তদের আর্থিক সুযোগের অভাব,বেকারত্ব সামাজিক অস্থিরতার কারণ বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। যখন যুব সমাজ শিক্ষিত হয়ে কোন কর্মসংস্থানের সুযোগ না পায় তখন তারা তীব্র হতাশায় ভেঙে পড়ে এবং হাতের কাছে যা পায় তাই নিয়ে সন্তুষ্ট  থাকতে হয়।কিছু করবার থাকে না।পি এইচ ডি হোল্ডার স্টেশনে ঝাঁট দেয়।এইট পাশ রাষ্ট্র নায়ক হয়।এমন বিষম অরাজকতা অস্থিরতার প্রভাব যেকোন সাহিত্যের উপর পড়া কি খুব স্বাভাবিক নয়?এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সামাজিক অস্থিরতার প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। শান্তি শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। সামাজিক অস্থিরতার ফলে মানুষ বিশৃঙ্খলা মূলক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। দুর্নীতিতে জর্জরিত হয়ে পড়ে।অর্থনৈতিক প্রবৃত্তি ব্যবহৃত হয় এবং বিনিয়ককারীরা ভীত থাকে সন্ত্রস্ত হয়।সামাজিক বন্ধনকে দুর্বল করে দেয়।সমাজে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন এবং অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়।যা সামাজিক ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
আধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যার অন্যতম আবিষ্কার বা হাতিয়ার হল ইন্টারনেট ইমেইল ফোন।যোগাযোগের ব্যবস্থা অন্যতম হাতিয়ার হল মুঠোফোন স্মার্টফোন বা iphone। মনের অস্থিরতা সভ্য জীবনের একটা অপরিহার্য অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে।সময় সংকট ও চরম ব্যস্ততা মানুষের অস্থিরতার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এর ফলস্বরূপ মানুষের মন খারাপের আকাশ মেঘলা হচ্ছে ক্রমাগত।নিঃসঙ্গতা একাকীত্বে ভুগছে মানুষ।টেনশনের চাপে দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছে। উচ্চরক্ত চাপ,সুগারের মত দুরারোগ্য রোগ হামেশাই লোকের লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।অপুষ্টিতে ভুগছে একাংশের মানুষজন।ক্যান্সার সৃষ্টি হচ্ছে।রোগ শোক জরা ব্যাধি দূষণ উষ্ণায়নে পরিপূর্ণ হচ্ছে।প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাচ্ছে ক্রমাগত।মানুষ বই বিমুখ হয়ে পড়ছে।অস্থিরতার সমস্যা ঘুন পোকার মত কুরে কুরে খাচ্ছে।
বর্তমানে আট থেকে আশি বছরের সকলেই যন্ত্রনির্ভর মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে।যে এটা ঠিকই এ বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে। পড়ুয়ারা পড়ায় তেমন মনোযোগ দিচ্ছে না।বই থেকে মুখ ফিরে আছে এটাও দেখা দরকার।মানুষের যত দুঃখ কষ্ট অশান্তি অস্থিরতা বাড়ছে তত মানুষ হাসির খোরাক মনের খোরাক এবং বিনোদনের পথ খুঁজে নিচ্ছে মানুষ।আগেকার মানুষ একাকিত্ব নিঃসঙ্গতা ঘোঁচাতে ভ্রমণে সময় কাটাতো প্রিয় বই পড়ে সময় কাটাতো।এমনও অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল কারোর কারোর কিছু কিছু মানুষের।যে রাতের বেলা না পড়লে তাদের চোখে ঘুম আসতো না। এখন আর তেমন পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা উপন্যাস পড়া তো দূরের কথা ষোলো লাইনের কবিতা পড়বার সময় বা ধৈর্য নেই কারোর।কারোর স্কুল কলেজের পড়া।কারোর আপিসের ভীষণ কাজকর্ম।কারোর সাংসারিক কাজ।এসব করতে করতে বই পড়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। তাই facebook টুইটার ইনস্টাগ্রাম ফেসবুক পেইজ ইউটিউব আর ও অন্যান্য দেখা যাচ্ছে একসাথে। মানুষের বিনোদনের অনেক অপশন হয়ে গেছে এখন। কোনরকম ভাবনা চিন্তা না করে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।এভাবে চললে হয়তো মানুষের অস্থিরতার ভয়াবহতা রূপ দেখা যাবে একদিন এবং এর প্রভাব যথারীতি পড়ে গেছে বাংলা সাহিত্যে।
এই রিলস আর বহু অপশন যুগে মশকরা খিস্তি খেউর পর্নোগ্রাফি নগ্ন শারীরিক বা দৈহিক নিষিদ্ধ ছবির অবাধ বিচরণ দেখা যাচ্ছে সর্বত্র।স্বাধীনতা আছে বলে মানুষ যা খুশি তা করতে পারে না।তার একটা সীমা থাকে।তা লঙ্ঘন করলে তার খেসারত গুনতে হবে।মানসিক অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।সেটা রুচিশীল মার্জিত হওয়া উচিত। মোবাইল ফোনে অনর্থ কথা বলে সময় নষ্ট করা।এসএমএস করা। গেম খেলা।নানা ধরনের নিষিদ্ধ ছবি দেখায় লিপ্ত না হয়ে আমরা পৃথিবীর ভালো ভালো বই পড়ে ফেলতে পারি।তাতে আমাদের জ্ঞানের পরিধি প্রসার হবে এবং উন্নত মানসিকতার পরিচয় দেওয়া যাবে তাই না?
এখনকার যুবক-যুবতীরা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ছে সংসার ভাঙছে,সম্পর্ক বিচ্ছেদ হচ্ছে।আরও ভালো কিছু পাওয়ার আশায়।একজীবনে একজিনিসে আসক্ত হওয়ার একঘেঁয়েমি লাগার মনোভাব তৈরি হচ্ছে।একজীবনে পৃথিবীর সবকিছু দেখে নেওয়ার চিন্তা ভাবনা চলছে।সেটা কি একটি মানুষের দ্বারা সম্ভব?অনেক কিছু বাজিয়ে দেখবার জন্য,পরীক্ষামূলক অভিজ্ঞতার পাওয়ার জন্য মানুষজীবন স্বার্থপর জটিল ও কুটিল হয়ে পড়ছে। আগেকার মানুষজন রাত জেগে জেগে প্রিয় লেখকের প্রিয় লেখার লাইন খুঁজতো।তার মনের কথা কোথায় লেখা রয়েছে।তার মনের মানুষ কাছের মানুষ পাশের মানুষ হাত ধরে সারাজীবন কাটিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার বদ্ধ মানুষকে গুছিয়ে গাঁথিয়ে বাঁচিয়ে প্রিয় মানুষটার কাছে প্রকাশ করবে কীভাবে তা ভাবতো।উপহারের বইয়ের উপরে লেখা এখনকার ক্যাপশনের মধ্যে খুঁজে পাই তার ধারাবাহিতা।আগেকার মানুষজন তা আন্ডারলাইন করে রাখতেন বইয়ের পাতায়।কিছু না বলে বলতো বইটা পড়ে দেখো বইটায় অনেক কিছু খুঁজে পাবে।আজকাল তো সেসব বালাই নেই।চোখেও পড়ে না।এখন চার পাঁচজন সম্পর্কে ঝুলে থাকে।কোন সময় নেই!ট্রেন এসেছে চড়তেই হবে।কোথায় নামবো?সে ট্রেনে উঠলেই দেখা যাবে। ফলে সমাজের এখন এই অস্থির অবস্থা। তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন এমন হলে তার ছাপ তো বাংলা সাহিত্যে প্রতিনিয়ত প্রতিবিম্বিত হতে বাধ্য।

মনে পড়বে সেটাই করতে হবে? না করতে পারলেই অসুখ অস্থিরতা বাড়বে এবং আরও অনেক কিছু বাড়তে বাধ্য হবে?না করতে পারলে সমস্যা?আজকের সময়ের মানুষের অপেক্ষা প্রতীক্ষায় বালাই নেই।হাইভোল্টেজ টানটান ম্যাচ দেখার আমেজের মত।ইউজ অ্যান্ড থ্রুর মত মানুষের মনোভাব দেখা যাচ্ছে ফলে অস্থিরতার সূচক ক্রমশ উর্দ্ধগতির দিকে ধাবমান।তা তো বাংলা সাহিত্যে প্রভাব পড়বেই।
মানুষের একটা বড় অংশ বই থেকে বিমুখ হচ্ছে।এর ফলে কবি সাহিত্যিক শিল্প ব্যবসা বাণিজ্য সংস্কৃতি সামাজিক অর্থনৈতিক রাজনৈতিক সব জায়গায় মানুষের অস্থিরতার ছাপ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।মানুষ যা চাইছে তা করতে গিয়ে অস্থিরতায় ভুগছে। নতুন ভালো কিছু প্লট বা থিম রেখে সৃজনশীল স্রষ্টা রসিক রহস্য ভৌতিক জাতীয় অবাস্তব অলৌকিক অবান্তর কিছু জিনিস নিয়ে মজে আছে স্রষ্টামহল।এই সমস্ত কিছু কারণ তাদেরকে ওইদিকে যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে অর্থাৎ ভার্চুয়াল জগতের দিকে যেতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে। কিছু করার নেই। কারণ সভ্যতার সৃষ্টি সস্তায় সহজিয়ার  মধ্যে বেঁচে থাকে। যদি পাঠক তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখে।তবে সে বাঁচে।সে কদর পায়।তাকে মাথায় নিয়ে নাচানাচি করে।পাঠকেরা যেদিকেই চায় যা চায় সৃজনশীল স্রষ্টারা সেই দিকেই যেতে বাধ্য হয়।উল্টোটা হওয়া কোন ব্যাতিক্রম নয়।কিছু করবার নেই।আর এই অস্থিরতার ছবি প্রতিফলিত হচ্ছে পুরো সমাজ তথা বাংলা সাহিত্যে।
সময় নেই এই অজুহাতে মানুষ ছুটছে অনুগল্প পরমাণু গল্প বা কবিতায়। লেখা শুরু হয়ে গেছে। কিছু পাঠকের চোখ তৈরি হয়ে গেছে ছোট লেখা ছাড়া পড়বই না।কে পড়বে ইয়া বড় বড় উপন্যাস।হাতে এত সময় কই?মানুষ যা অভ্যস্ত কে ছেড়ে অনভ্যাসকে অভ্যস্ত করে নিচ্ছে।তার মধ্যে ভালোবাসা বা ভালোলাগা না থাকলে সে জিনিসটা সম্পূর্ণভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায় না। অর্থাৎ জোর করে কাঁঠাল পাকানোর মতো অবস্থা আমাদের এখন এই অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে আমাদের সাহিত্যে।
ফলে মানুষ যেদিকে দাঁড়িয়ে আছে সেটা আছে ভেবে তার চারপাশের জন্য পাওয়ার  বা ব্যাকুলতা হয়ে পড়াটা সব সময় ঠিক নাও হতে পারে। ভার্চুয়াল এতটাই মগ্ন হয়ে পড়েছে মানুষজন যে তারা পারিপার্শ্বিক প্রকৃতির দিকে তাকাচ্ছে না।ফলে সৃজনশীল মানুষেরা ভার্চুয়ালের উপর আকৃষ্ট হতে হবে।এবং সুপাঠকের মনমত করে তুলতে হবে।তুলতে পারলেই সফলতা।আর সেই সফলতার ফসল ফলবে আমাদের বাংলা সাহিত্যের উর্বর জমিনে।
মানুষের  যন্ত্রনির্ভর মানবতা সহনশীলতা সহানুভূতিশীল নির্ভর করে তুলতে হবে।যন্ত্র মানব যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে।নচেৎ তাদের চাহিদা পূরণের অস্থিরতা ক্রমশ কমবে।আমাদের মনের মতো কোনো কিছু না পেলে মানিয়ে নেব ধৈর্যশীলত দেখিয়ে।আমাদের মনে রাখতে হবে যে দেশের মানুষের মানসিকতা যত উন্নত এবং মানবিক তাদের উন্নত এবং গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে দারিদ্র্যসীমার নিচে অশিক্ষিত সর্বাগ্রেই এদের উন্নতির কথা চিন্তা করতে হলে সাহিত্য ও বিজ্ঞানের দিকে তাকাতে হবে এবং প্রসার ও সার্বজনীন গ্রাহ্য করতে হবে।সাহিত্যিক তত্ত্ব বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রযুক্তির সাফল্য যদি জনসাধারণের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে আমাদের সাহিত্যের সৃজনশীলতা সফলতা দোর গোড়ায় টৌকা মারবে।
আমাদেরই ব্যর্থতা আমাদের অস্থিরতা ক্রমশ বাড়তে দেওয়া যাবে না। আমাদের জীবন নিয়ে লক্ষ্য মর্মভেদ করা উচিত।অন্ধভাবে ভুলবশত অস্ত্রপ্রচার করা হলে তা বিপদ। তা বিবেচনা করতে হবে।সমালোচনা করতে হবে।তার অস্থিরতার কারণ খুঁজে অতিসত্বর তার সমাধান করে ফেলতে হবে।দুর্নীতি পাহাড় বিলাসিতায় মগ্ন হয়ে থাকা নয়।আমি তো ভালো আছি কার কি হল আমার জানবার দরকার নেই।এত বড় পৃথিবী সবার ঠিক চলে যাবে।আমার কোন যায় আসে না।এমন স্বার্থসিদ্ধির জন্য স্বার্থপরতা সমাজের কাছে কিন্তু মঙ্গলদায়ক নয়।দেওয়া যেমন ঠিকই তার অপব্যবহারী যে কি পরিণাম হতে পারে তার দূরদর্শী চিন্তাভাবনা বা চিন্তা করা আমাদের কর্তব্য।হাত পা গুটিয়ে বসে থাকলে অস্থিরতা বাড়বে বইকি কমবে না।নচেৎ পরের প্রজন্মকে শুধু কি সেলফি ছাড়া আর কি দেখানো থাকতে পারে কি?
 বিশ্বব্যাপী সামাজিক অস্থিরতা দিন দিন বেড়েই চলেছে।মানুষের জ্ঞান মান ইজ্জত নিরাপত্তা নিম্নতম পর্যায়ে পৌঁছাতে বেশিদূর আর বাকি নেই।পৃথিবী এসে মানুষের অবাসযোগ্য হয়ে উঠছে দিন দিন। বর্তমানে বিশ্বের সামাজিক অস্থিরতা মৌলিক কারণ বলা যেতে পারে।আত্মকেন্দ্রিকতা পারস্পরিক স্বার্থপরতা যুবসম্প্রদায় এবং মান ইজ্জত মর্যাদা লাভের প্রতিযোগিতা বাড়ছে দিন দিন।কাঁচা হাতে সুন্দর হাতে লেখা ধৈর্য নিয়ে পড়তে হবে।সমালোচনা মানে শুধু নিন্দা বা কাদা ছেটানো নয়।অনেক সম্মানিত পাঠক পরেন দৈনন্দিন পারিবারিক ও সামাজিক বহুমুখী চিন্তা হতাশা অস্থিরতা মাননীয়তার ঘাটতি মেটাতে পারেন। তারা যদি ধৈর্য ধরে পড়ে সঠিক মূল্যায়ন করেন।নতুনদের সৃজনশীলতা দেখানোর উত্তম প্রন্থা বা সুযোগ পায় কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে আমরা চাইলে সবকিছু আমাদের মনে করলে চলবে না।এই দৈনিক তার পত্রিকা ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া সামাজিক যোগাযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে অজস্র সৃজনশীল কাজ চলছে বা হচ্ছে এখন।সেটার সুযোগ নিয়ে প্রি বুকিং ব্যবস্থা,যে লিখবে সে টাকা দিয়ে বই কিনে পড়বে।তার শুভেচ্ছা মূল্য দিয়ে তাকেই  মানপত্র,মেডেল,বিরিয়ানি ভোজন করানো হবে।এটা ঠিক করতে হবে।,কেউ কারোর কিছু সৃজনশীলতা শোনে না দেখে না শুধু সেলফির ফোয়ারা হয়।বিখ্যাত কারোর পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি যোগাযোগের মাধ্যম বা প্ল্যাটফর্ম খোঁজা ভালো।এর ফলস্বরূপ যারা প্রতিভাবান তাদের মুখ চাপা পড়ে যাচ্ছে ক্রমাগত।সত্যিকারের মেধা বা স্রষ্টাদের সঠিক মূল্যায়নের কোথাও যেন একটা খামতি থেকেই যাচ্ছে।এই অস্থিরতার প্রভাব সাহিত্যে পড়াটা খুব স্বাভাবিক।
সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ তা মানুষের নৈতিকতা অবক্ষয়।সাহিত্য হল সমাজের দর্পণ।সমাজে যা কিছু ঘটবে কবি সাহিত্যিক স্রষ্টা-সৃষ্টিমহল শিল্প জগত তাই ফোটাতে সদা প্রস্তুত।এবার যদি কোন সংবাদ মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া তার ব্যবসার জন্য তোষণ পোষন করতে ব্যস্ত থাকে।তবে অস্থিরতার সম্মুখীন হতে হবে সেটাই স্বাভাবিক।সেই সমাজের ছবি প্রতিবিম্বিত হবে সাহিত্যে এটাই স্বাভাবিক।সাহিত্যিকেরা স্রষ্টা গণ তাঁরা সত্যান্বেষী।আমাদের ভাবনার সময় এসেছে মানুষ মানুষের জন্য। সাহিত্য মানুষের জন্য।মানুষের হৃদয়ঙ্গম থেকে মস্তিষ্কে স্থান করে নিতে হবে বাংলা সাহিত্যকে।মানুষের সকল অস্থিরতা ঘুঁচে যাক মুছে যাক।সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে এই আশা রাখি।বাংলা ভাষা হল পৃথিবীর সবচেয়ে মধুরতম সুমিষ্ট ভাষা।
==================
নাম:তপন মাইতি
ঠিকানা:গ্রাম:পশ্চিম দেবীপুর;পো:দেবীপুর;থানা:মৈপীঠ কোস্টাল;জেলা:দঃ২৪পরগণা;পিন-৭৪৩৩৮৩;

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং অফিসে ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

বর্ষার কবিতা ।। বিচিত্র কুমার

কয়েকটি বর্ষার কবিতা বিচিত্র কুমার (০১) শ্রাবণের আকাশ শ্রাবণের আকাশ, যেন অশ্রু লুকিয়ে রাখা দুটি চোখ; হাসির আড়ালেও যার ভেতরে বৃষ্টি জমে থাকে। কদমের গন্ধ, যেন শৈশবের ডাক; সময় যত দূরেই নিয়ে যাক, মন তাকে ভুলতে পারে না। ভেজা পথ, যেন জীবনের অসমাপ্ত অধ্যায়; প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন অর্থ লেখা হয়। যে স্মৃতিকে সম্মান করতে পারে, সে বর্তমানকেও সুন্দর করে বাঁচতে শেখে। (০২) ভেজা বিকেল বর্ষার বিকেল, যেন পুরোনো ছবির অ্যালবাম; প্রতিটি দৃশ্য ভুলে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনে। দূরের বাঁশবন, যেন অপেক্ষার দীর্ঘ ছায়া; সময় বাড়ে, অথচ আশার আলো নিভে না। পথের ছোট্ট জলধারা, যেন অবহেলিত স্বপ্ন; একদিন সেও নদীর সঙ্গে গিয়ে মিশে। ছোট বলে কোনো স্বপ্নকে অবহেলা কোরো না; সমুদ্রও একদিন একফোঁটা জল থেকেই শুরু হয়। (০৩) বৃষ্টির প্রদীপ বর্ষার রাত, যেন গভীর ধ্যানের একটি মন্দির; অন্ধকারও সেখানে আলোকে জন্ম দিতে শেখায়। বৃষ্টির ফোঁটা, যেন ছিন্ন স্বপ্নের মুক্তো; মাটিতে পড়েই তাদের প্রকৃত মূল্য প্রকাশ পায়। ভেজা জানালা, যেন মনের আয়না; অশ্রু মুছে গেলেও অনুভূতির দাগ থেকে যায়। ভাঙা স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়েই মানুষ নতুন আকাশ দেখতে ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত

 তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত নবপ্রভাতের   আহ্বান রাতের   শেষে   ফুটল   ভোর , সোনার   রঙে   রাঙে   ঘোর।   শিশির ভেজা   ঘাসের   বুকে , সূর্য   হাসে   মিষ্টি   মুখে। পাখিরা   গায়   নতুন   গান , জেগে   ওঠে   সারা   প্রাণ। নদীর   জলে   রোদের   নাচ , মেঘের   গায়ে   আলোর   আঁচ। ফুলের   ডালে   মধুর   গন্ধ , মনটা   ভরে   আনন্দ। হাওয়া   বয়ে   আনে   সুখ , মুছে   দেয়   সব   দুঃখ। নতুন   দিনের   নতুন   ডাকে , স্বপ্ন   জাগে   হৃদয়   ফাঁকে। চলার   পথে   আশা   সাথি , সাহস   থাকে   প্রতি   রাতে। পরিশ্রমে   ফুটুক   ফুল , ভেঙে   যাক   সব   ভুল। ভোরের   আলো   বলে   তাই , জীবন   জয়   করবই।   বৃষ্টির   সুরে   বাংলা কালো   মেঘে   ঢাকে   আকাশ , বৃষ্টি   নামে   উচ্ছ্বাস। কদম...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭