Skip to main content

দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত

গল্প

দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে 

          সমীর কুমার দত্ত 


সমর গুপ্ত নামের যুবকটি সর্বদা ধবধবে সাদা পাঞ্জাবি আর ধুতি পরতো। ওটা শিখেছে ও ওর চেয়ে বয়সে কিছু বড়ো শম্ভুনাথ সরকারের কাছ থেকে বন্ধুত্বের সুবাদে।  ধুতি পরার অভ্যাস শম্ভুর গ্রাম থেকে। গ্রাম থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে এসে পরীক্ষা দিয়ে  কলকাতা কর্পোরেশনে চাকরি পায়। নাইটে নরসিংহ দত্ত কলেজ থেকে বি.কম পাশ করে। রবিবার দিন আর অন্যান্য ছুটির দিনগুলোতে বিকেল বেলায ধুতি পাঞ্জাবি পরে সমরের সঙ্গে বেরিয়ে পড়ে ঘুরতে। ঘোরা বলতে  পাড়ার শাশ্বতী লেডিজ হোষ্টেলের পাশে উকিলবাবুর বাড়ির সামনের রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে সমরের সঙ্গে গল্প করতে।

বহুদূর থেকে হাওড়ার গার্লস্ কলেজে পড়তে আসা চামেলী ঘোষ নামের একটি মেয়ে ওই লেডিজ হোষ্টেলে বোর্ডার হিসেবে এসে ওঠে। নিত্য যাতায়াতের পথে ওই রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শম্ভুনাথ ও সমরের সঙ্গে চোখের দেখায় পরিচিত হয়ে হাসি বিনিময় করে। হাসির পরিণতিতে বাক্যালাপ, বাক্যালাপের পরিণতি প্রেমে পৌঁছায়। একদিন সমর গুপ্তের সালিশিতে শম্ভুনাথের সঙ্গে চামেলীর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ঘনিষ্ঠতা প্রেমে পরিণতি পায়। নিত্য যাতায়াতের ফলে সমর একদিন শম্ভুনাথের হয়ে চামেলীকে প্রোপোজ করে,"এই যে শুনছেন, যদি কিছু মনে না করেন তো একটা কথা বলার ছিলো।"
—না না কিছু মনে করবো না। বলুন আপনি, নির্ভয়ে বলুন।
—আমার বন্ধুকে তো আপনি চেনেন,রোজই দেখছেন। আপনাকে ভালোবাসে এবং আপনার সঙ্গে কথা বলতে কোন নির্জন জায়গায় যেতে চায়, অবশ্য যদি আপনি রাজি থাকেন।
চামেলীও যেন হাতে চাঁদ পেয়ে যায়। ও নিজেও তো ওর বন্ধুকে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু  নিজের থেকে প্রোপোজ ও করবে না,হার মানবার পাত্রী ও নয়। কথায় আছে না —মেয়েদের বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না। বললো,"আচ্ছা আমি ভেবে দেখে জানাবো।"
"জানালে একটু তাড়াতাড়ি জানাবেন।" সমর বললো। আপনার পরিচয় কি জানতে পারি?
—আমার আবার পরিচয়! এই অধমের নাম সমর গুপ্ত। পেশা টিউশন আর ছোট খাটো একটা অফিসে কেরানীর চাকরী। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।

শাশ্বতী লেডিজ হোষ্টেলে চামেলীর রুমমেট ছিলো ব্যঞ্জনা ব্যানার্জ্জী। দুজনের খুব ভাব। চামেলী ব্যঞ্জনাকে কথাটা জানায় এবং বলে," ব্যঞ্জনা,কী বলবো বলতো? তুই একটা যুক্তি দে না। আমার ওদের সঙ্গে যাওয়া কি ঠিক হবে?"
"তোর ভাবভঙ্গি দেখে তো মনে হচ্ছে, তুই ওদের সঙ্গে ভাব করতে মুখিয়ে আছিস। সুতরাং আমি কী বলবো বলতো। আমি বারণ করলে তুই কি শুনবি? শুনবি না। 'মেয়া বিবি রাজি তো কেয়া করেগা কাজী।' লেগে পড়, লেগে পড়। শুভস্যম্ শীঘ্রম্।" ব্যঞ্জনা বললো।
—তুই আমাকে সঙ্গ দিস্। আমার একা যাওয়াটা কি ঠিক হবে? ওদের মুখ চেনা আছে। আসল পরিচয় তো কিছুই জানি না। তুই সঙ্গে থাকলে ভরসা পাই।
—যথা আজ্ঞা। তারপর তো মজে গিয়ে আমায় ভুলে যাবি।
—কী যে বলিস্ না। তোকে ভুলে যাবো। এখানে তুই আমার একমাত্র বন্ধু। আর আশাকরি এই বন্ধুত্বের বন্ধন যেন অটুট থাকে। দুদিন পর চামেলী সমরকে ডেকে জিজ্ঞেস করে,
"আপনার বন্ধু কোথায় যাবেন জিজ্ঞেস করে আমায় জানান।
"মনের কথা বলার মতো জায়গা তো লঞ্চ পেরিয়ে ইডেন গার্ডেন্স। আপনার আপত্তি নেই তো?" সমর উৎসাহিত হয়ে বলে।
— আমি তো এখানের মেয়ে নই। ইডেন গার্ডেন্স কোথায় আমি জানি না। তবে বেশি দেরি করতে পারবো না। সঙ্গে কিন্তু আমার বন্ধু ব্যঞ্জনা থাকবে।
— কেন একা যেতে ভয় পাচ্ছেন?
—ভয় পাওয়ারই তো কথা। একটা মেয়ে একা একা শুধুমাত্র চোখের দেখায় পরিচিত একজন পুরুষের সঙ্গে অপরিচিত জায়গায় যাবে, ভয় পাবে না?
—ঠিক আছে, বান্ধবীকে সঙ্গে নেবেন।
—আপনি থাকবেন তো?
—বলতে পারছি না। ব্যাপারটা আপনাদের দুজনের। আমি থেকে কী করবো? তা ছাড়া আমার উপস্থিতিতে আপনারা দুজনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন না।
—সে তো আমার বন্ধু ব্যঞ্জনাও থাকবে।
—ওই জন্যেই তো বলছিলাম, আবার বন্ধু কেন।
—আপনি নয় আমার বন্ধুর সঙ্গে গল্প করবেন।
—আমরা আর কী গল্প করবো?
—কেন আপনার কোন গল্প নেই?
—আমার আবার গল্প! আমার গল্প মানে তো দুঃখের কাহিনী। কে শুনতে চায় বলুন তো?

পরের দিন ছিলো রবিবার।  শম্ভুনাথ ও সমর দুজনে প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়েছিল যথাস্থানে অর্থাৎ উকিলবাবুর বাড়ির রেলিংয়ে হেলান দিয়ে। চামেলী ও ব্যঞ্জনা দুজনে সেজেগুজে ওদের পাশ দিয়ে চোখের ইশারা করে এগিয়ে গেলো, যাতে পাড়ার কেউ ব্যাপারটা বুঝতে না পারে। বড়ো রাস্তায় বাস এলে চারজনে উঠে পড়লো হাওড়া স্টেশনের উদ্দ্যেশ্যে। চারটে টিকিট কাটলো শম্ভুনাথ।  হাওড়ায় নেমে লঞ্চঘাটের দিকে এগিয়ে গেলো। লঞ্চ পেরিয়ে সামনেই ইডেন গার্ডেন্স। শম্ভুনাথ ও চামেলী একটা গাছের তলায় গিয়ে বসলো পাশাপাশি। আর সমর বসলো সামান্য কিছুটা দূরে একটা গাছের তলায়। ব্যঞ্জনা আরও কিছুটা দূরে একা দাঁড়িয়েছিল। সমরই ওকে ডেকে পাশে বসালো।  চামেলী যেদিন ব্যঞ্জনাকে ওদের কথা বলছিলো , সেদিন কথা প্রসঙ্গে সমরের কথা বলতে গিয়ে বলেছিলো, "জানিস ব্যঞ্জনা, ওই বন্ধুটা নাম সমর খুব দুখী রে। খুলে কিছু বললো না। ওকে দেখে মনে হলো , প্রেম ট্রেমের ধার ও ধারে না। ওকে খুব অসহায় লাগছিলো।"
"তা তুই কি বলতে চাস্ আমি ওর দুঃখের ভাগীদার হই ?" ব্যঞ্জনা বললো।
—না, আমি তা বলবো কেন। কারোর দুঃখের ভাগীদার হওয়া কি  সোজা ব্যাপার। ইচ্ছে করলেই হওয়া যায় না।
—তুই প্রেম করছিস্ আর আমাকে ওর সঙ্গে ভিড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিস্।
—মোটেই না। তুই একা একা বসে থাকবি, তোর ভালো লাগবে না। কুশল বিনিময় করে একটু ভদ্রতা বজায় রাখবি আর সময়ও কেটে যাবে। এই আর কী। তোর ইচ্ছে না হলে শুনিস্ না। আমি তো তোকে প্রেমালাপ করতে বলছি না।

শম্ভুনাথ ও চামেলী এতক্ষণে বেশ মজে গেছে মনে হলো। শম্ভুনাথ শিক্ষিত, মার্জিত ও হ্যান্ডসাম এবং দস্তুর মতো সরকারী চাকুরে। তবে দাদা ও ভায়েরা মিলে একটা বাড়িতে ভাড়া থাকে। সবে গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছে ওরা এক এক করে। গ্রামের ছেলেরা বড়ো একটা খারাপ হয় না। সুতরাং ওর সঙ্গে জীবন জোড়া দেওয়া যেতেই পারে। কিন্তু সমরও দেখতে মন্দ নয়। তবে টিউশনি আর ছোট খাটো একটা অফিসে কেরানীর চাকরী করে এই যা। সমর ও ব্যঞ্জনা দু জনেই কিছুক্ষণ চুপচাপ বসেছিলো। মৌনতা ভঙ্গ করে সমর‌ বললো,"আপনার নাম তো আমার জানা হয়ে গেছে। ভারি সুন্দর নাম। নামের মধ্যেও একটা ব্যঞ্জনা আছে। একটা নতুনত্ব আছে।
—আমার নাম কী করে জানলেন?
— চামেলীদেবীর মুখে শুনেছি।
—চামেলী  দে-----বী----ঈ! বুড়োটে বুড়োটে কথা। ও তো আপনার থেকে ছোটোই হবে। শুধু নাম ধরে ডাকলে পারেন। আর আমার নাম নিয়ে কী বলছিলেন যেন? হ্যাঁ 'ব্যঞ্জনা' আর 'নতুনত্ব'। নতুনত্ব কথাটা অনেকেই বলে কিন্তু 'ব্যঞ্জনা' নামের ব্যঞ্জনা আছে এই প্রথম শুনলুম। এরজন্য ধন্যবাদ। আর আপনার পরিচয়টা একটু দিন।
—এ অধমের নাম সমর গুপ্ত। পেশা টিউশন আর একটা ছেটোখাটো কোম্পানির কেরানীগিরি।
—নিজেকে অধম  বলছেন কেন? আপনাকে দেখলে কেউ অধম বলবে। বেশ হাসিখুশি।
—বাব্বা!  আপনি তো দেখছি আমার সম্পর্কে অনেক জেনে ফেলেছেন। আমি অধম ছাড়া আর কী? যাক্ গে, ছাড়ুন আমার কথা। আপনার কথা বলুন। কথা তো আমাদের বলতেই হবে। না হলে সময় কাটবে কীভাবে। আপনার বাড়ি কোথায়? কে কে আছেন বাড়িতে?
—আমার বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার কাছে। বাড়িতে বাবা, মা,দাদা বৌদি আর এক ভাইঝি আছে। আমাদের জলের পাম্প তৈরির কারখানা। বাবা দাদা মিলে দেখাশোনা করে। 
—তা এতো দূরে কেন?
—হাওড়া গার্লস কলেজের নাম আছে। কবি জীবনানন্দ একসময় এখানে অধ্যাপনা করেছেন শুনেছি। এখানে চান্স পেয়ে গেলাম। তাই হস্টেলে থাকতে হচ্ছে।
—আপনার বন্ধু কি আপনাদের ওখানে থাকে?
— না, না। ওদের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাঁটালে। এখানেই আমাদের পরিচয়।
দুজনে এভাবে বাক্যালাপ করে একসময় দুজনেই চূপ হয়ে যায়। কথা আর খুঁজে পায় না। সমর একটু অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে। ব্যঞ্জনা মাঝে মাঝে সমরকে পর্যবেক্ষণ করে চলে।একসময় ব্যঞ্জনা বলে ওঠে,
"আপনার কথা তো কিছু বললেন না।"
—আমার আবার কথা! ওসব দুঃখের কথা শুনতে কারো ভালো লাগবে না।
—দুঃখের কথা সবার জীবনেই থাকে,কম আর বেশি। দুঃখটাই তো সত্যি। সুখ তো ক্ষণস্থায়ী। '
'দুঃখে যাদের জীবন গড়া, তাদের আবার দুঃখ কিসের।'
—বাঃ, জীবন সম্বন্ধে আপনার উপলব্ধি তো খুব সুন্দর। বাইরে থেকে আপনাকে বোঝা যায় না যে ভিতরে আপনার একটা মূল্যবোধ আছে। জেনে খুব ভালো লাগলো।
—আপনার প্রসঙ্গ এলেই আপনি দেখছি এড়িয়ে যাচ্ছেন। আপনার কথা বলতে কি আপত্তি আছে? বলুন না। আমার শুনতে খুব ইচ্ছা করছে।
— একান্তই শুনবেন, তবে শুনুন।  আমার বাড়ি নদীয়ার বীরপাড়া গ্রামে। আমাদের অনেক জমিজমা ছিলো। ছোটবেলায় আমি আমার মা'কে হারাই। তখন আমি পাঁচ- ছয় বছরের ছেলে। মায়ের মৃত্যু খুব মর্মান্তিক ভাবে হয়। একদিন আমাদের গ্রামের পাশের গ্রামে কি একটা উৎসব উপলক্ষ্যে মেলা বসে। আমি মেলায় যাবো বলে ঘ্যান ঘ্যান করতে থাকি। বাবার তখন সময় ছিলো না, তাই মা আমায় মেলায় নিয়ে যায়। মেলায় নাগরদোলায় চাপবো বলে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিছু দূরে গ্যাস বেলুন বিক্রি হচ্ছিল। বালক মনে এক সাধের উদয় হলো —গ্যাস বেলুন নিয়ে নাগরদোলায় চাপবো। বেশ মজা লাগবে। আমি লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম পর পর উঠবো বলে। তাই মাকে বললাম একটা গ্যাস বেলুন কিনে আনতে। মা গ্যাস বেলুন কিনতে গেলো। এমন সময় হাইড্রোজেন সিলিন্ডার তীব্রভাবে বার্স্ট করলো। মা মর্মান্তিকভাবে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন। তখন বোঝার মতো বয়স হয়নি যে আমি যদি মেলায় যাবার জন্য ঘ্যান ঘ্যান না করতাম কিংবা গ্যাস বেলুন কিনতে মাকে না পাঠাতাম তাহলে মাকে  পৃথিবী থেকে এইভাবে চলে যেতে হতো না, বড়ো হয়ে যেটা আমি মর্মে মর্মে অনুভব করেছি। তখন থেকে আমায় একটা অপরাধ বোধ তাড়া করে বেড়াচ্ছে। বিরলে অশ্রু বিসর্জন করে চলেছি। মা মারা যাবার পর আমার ও বাবার জীবনে অন্ধকার নেমে এলো। ঠাকুরদা, ঠাকুমা মারা যাবার পর আমাদের সংসার ছিলো বাবা, মা, কাকা, কাকীমা, দুই খুড়তুতো ভাই বোন আর আমাকে নিয়ে মোট সাত জনের। বাড়ির সব কর্তৃত্ব ছিলো আমার মায়ের হাতে। এ দায়িত্ব দিয়ে গেছেন আমার স্বর্গীয় ঠাকুরদা। মা মারা যাবার পর সব কর্তৃত্ব চলে গেলো আমার কাকীমার হাতে। সেই থেকে আমার এবং বাবার জীবনে নেমে এলো অমাবস্যার অন্ধকার। আমার বাবা ছিলেন গোবেচারা। কাকা যা করতেন সেটাই বাবা মেনে নিতে বাধ্য হতেন। আমার মা ছিলেন খুব শক্ত। তখন কেউ ট্যাঁ পোঁ টি করতে পারতেন না। মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগে কাকা কাকীমা চাইছিলেন সবকিছু আত্মসাৎ করতে। জমি থেকে কী আয় হতো না হতো তার কোন হিসেবই দিতেন না বাবাকে। ওরা অন্যায় করলেও ফ্যাল ফ্যাল করে দেখা ছাড়া বাবা আর কিছুই করতে পারতেন না। আমি এবং বাবা প্রায় সবকিছুতেই বঞ্চিত হচ্ছিলাম। এমনকি খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারেও। কাকীমা তাঁর ছেলে মেয়ের জন্য ভালো ভালো খাবার সরিয়ে রেখে দিতেন। আমার আর বাবার জন্য যতোটুকু না দিলে নয় ততোটুকুই বরাদ্দ ছিলো। আমাকে এবং বাবাকে একসঙ্গে খেতে দেওয়া হতো না। পাছে বাবা দেখে ফেলেন  আমাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে । একদিন কি কারণে বাবা মাঠ থেকে তাড়াতাড়ি চলে আসেন ‌ কাকীমাকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে রান্না ঘরে যান।দেখেন মাছ ভাজা হচ্ছে। বাবাকে দেখে কাকীমা সঙ্গে সঙ্গে মাছের ওপর বাটি চাপা দিয়ে দেন। উদ্দেশ্য আমাদের মাছ খেতে না দেওয়া। বাবার তা নজর এড়ায় নি। খেতে দেবার সময় বাবা দেখেন তাঁর পাতে মাছ নেই। বাবা মুখে কিছু বলেন না। যা পান তাই খেয়ে উঠে যান। আমিও স্কুলে চলে যেতাম কিছুই জানতাম না। স্কুলে যাবার তাড়ায় যা দিতো নাকে মুখে গুঁজে বেরিয়ে পড়তাম। বাবা রাত্রে আমায় জিজ্ঞেস করতেন, "  সমু, আজ কি দিয়ে ভাত খেলি?" আমি হয়তো বলতাম,"আলু,পটল ভাজা,ডাল, আর তরকারি।" শুনে বাবা চুপ হয়ে যেতেন। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাপড় দিয়ে চোখ মুছতেন। বাপ বেটার শোয়ার ঘরের আবহাওয়াটা তখন শোকাবহ হত। মায়ের কথা মনে পড়ে যেতো বাবার। বাবা বুক চাপড়াতেন। তখন আমার বোঝার মতো বয়েস হয়েছে। তাই কষ্ট পেতাম। বাবা  প্রতিবাদ করতেন না শুধু যে মুখচোরা বলে তা নয়। তিনি শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিলেন। পাছে সংসারে অশান্তি হয় সেই ভয়ে মুখ খুলতেন না।
শুনেছি আমার দাদু ঠাকুমা আমার মা বাবাকে খুব ভালো বাসতেন। কাকা কাকীমাকে একদম দেখতে পারতেন না ওদের ব্যবহারের জন্য। তাঁরা যখন বেঁচে ছিলেন প্রায়ই ঝগড়া হতো। ওরা দাদু ঠাকুমাকে অপমান করতো। আমার মায়ের কাছে জব্দ ছিলো। তাই তো মা মারা যেতে কাকীমা বলেছিলো, "ভগবান মুখ তুলে চেয়েছেন।" গ্রামের কেউ ওদের দেখতে পারে না। মা মরে যেতে ওরা আরও  জো পেয়ে গেলো। আমাদের জীবনে বিপর্যয় নেমে এলো। রাতে বাবার সঙ্গে কথা হতো। বাবা বলতেন," আমি যদি না থাকি, লেখাপড়া শিখে এখান থেকে শহরে চলে যাস্। চাকরি করে ওখানে থাকবি। আর এখানে আসিস না। এখানে থাকলে মরে যাবি। জায়গা জমির লোভে ওরা তোকে মেরে ফেলবে। একদিন তুমুল বৃষ্টিতে ভিজে বাবা জমিতে বাবা কাজ করছিলো। কাকা রোদে জলে কাজ করতে বের হয় না, বাবাকে দিয়ে বাইরের সব কাজ করায়। কাজ করবেন বাবা কর্তৃত্ব করবেন উনি। রাতে বাবার ধূম জ্বর। দুদিন হয়ে গেলো ডাক্তার ডাকার নামই নেই। খালি বলে, "ও ঠিক হয়ে যাবে।" টাকা খরচের ভয়ে ডাক্তার ডাকে না। রোগী কি বলবে ডাক্তার ডাকতে? আমিও বলতে সাহস পাইনা। বাবাকে মেরে ফেলতেই চেয়েছিলো। তাই হলো। দুদিনের মাথায় বাবা মারা গেলেন বেঘোরে মাথায় রক্ত উঠে। ভালো করে শ্রাদ্ধও করলো না। মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবো, আমাকে পড়তে দিতো না। ফাই ফরমাশ খাটাতো । নিজের ছেলেমেয়েকে কিছু করতে দিতো না। আমি রাত জেগে পড়তাম। তাতেও জ্বালা। হারিকেনের তেল পুড়বে তাই। মাঝরাতে বাথরুম করতে উঠে যদি দেখে আমি পড়ছি, বলবে,
" এবার শুয়ে পড়। অতো রাত জেগে পড়তে হবে না। সকালে উঠে অনেক কাজ আছে।"
মাধ্যমিকটা পাশ করার পর, ইতস্ততঃ করছি কাকাকে বলবো উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার জন্য। কিছু বলার আগেই কাকা বললেন," আর পড়ে কী হবে। একটা পাশ তো দিয়েছিস্। এখন থেকে চাকরির দরখাস্ত কর। এখানে পড়ে থেকে মার খাবি। তারচেয়ে বাইরে চলে যা। একটা থাকার জায়গা জুটিয়ে নে। ওখান থেকে চাকরির চেষ্টা করবি। যতদিন না কিছু জোটাতে পারছিস্, আমি না হয় মাসে মাসে কিছু করে টাকা পাঠাবো। ঠিকানাটা পাঠিয়ে দিস্।" আমাকে কিছু বলতে না দিয়ে এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে গেলো। আশা ত্যাগ করে মনস্থির করলাম চলেই যাবো। প্রাপ্য বুঝে নেওয়ার ইচ্ছা বা প্রবৃত্তি আমার হলো না। কারণ যার আসল প্রাপ্য সেই বাবাই যখন মুখ খুলতে পারলো না। আমি একা দাবি করি কি ভাবে। কিন্তু কোথায় যাবো? কিছুই তো চিনি না। ভাবলাম পথ চলতে চলতেই পথ খুঁজে পাবো। সেই পথকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে হবে। কাকা আসার সময় হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে বিদায় করে দিলো। কাকা নয় লোভের বশবর্তী হয়ে এরকম গর্হিত কাজ করতে পারে। কিন্তু কাকীমা তো মায়ের জাত। তাঁর একটু মন কাঁদলো না একজন বাপ - মা মরা কিশোরকে বাড়ি থেকে বিদায় করে দিতে। বিবেকের দরজা কি বন্ধ হয়ে গেছে চিরতরে। মনকে সান্ত্বনা দিলাম বাবা- মা ছাড়া কেউ কারোর নয় এ দুনিয়ায়। তাই নিজের আইনতঃ প্রাপ্য সম্পত্তির মায়া ত্যাগ করে ভাগ্য দেবতাকে সম্বল করে বেরিয়ে পড়লাম অনির্দিষ্ট পথে।"

"শিয়ালদা স্টেশনের বাইরে এসে দাঁড়ালাম। ক্ষুধা ডাক দিয়ে যায়। কাকার দেওয়া টাকাটা পকেট থেকে বের করে একবার চোখ বুলিয়ে নিলাম। ইচ্ছে হলো না টাকাটা খরচ করার, কারণ এটাই তো সম্বল। কলসীর জল গড়াতে গড়াতে কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। তারপর? পাশে রাস্তায় কল দিয়ে জল পড়ে যাচ্ছিল। কেউ কলটা খুলে রেখে চলে গেছে হবে। এভাবে জল অপচয় করলে, একদিন তৃষ্ণার জলও পাওয়া যাবে না। তাই খোলা কালের জল পেট ভরে খেয়ে নিলাম যাতে অনেকক্ষণ খিদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। জন খেয়ে পাশে উদ্দেশ্যহীন ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম। নিজের ওপর খুব ঘৃণা হচ্ছিলো। আমিই তো এই সকল সর্বনাশের আসল স্থপতি। আমার অন্যায় আবদার সেদিন যদি না করতাম, মাকে অকালে মর্মান্তিকভাবে চলে যেতে হতো না আর বাবার আমার এই দুর্গতি হতো না। কেন আমি মা বাবার মতো চলে গেলাম না। সেদিন যদি মায়ের পাশে আমি থাকতাম তাহলে আপদ চুকে যেতো। এখন তো বালাই ছাড়া কিছু না। কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবো এভাবে। তারপর কোথায় যাবো। হে ঈশ্বর,আমায় পথ দেখাও।
আমার এই স্টেশনের বাইরে আসা থেকে আমার অবস্থাটা কেউ একজন বয়স্ক ভদ্রলোক পাশে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করছিলেন। তাঁর কি মনে হলো আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, "বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছো তো। কোথায় যাবে ঠিক করতে পারছো না ।  দেখে তো মনে হচ্ছে খিদেও পেয়েছে। অথচ পকেটে তেমন পয়সা নেই। কি তাইতো? এসো আমার সঙ্গে। ভয় নেই। আমি কোন ছেলেধরা নই। আমার নাম নীলকান্ত রায়। সবাই নীলুবাবু বলে ডাকে।"
আমাকে নিয়ে নীলুবাবু একটা মিষ্টির দোকানে গিয়ে ঢুকলেন। আমি আপত্তি করলে তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন," প্রয়োজনে যেখানে যা জুটবে খেয়ে নিতে হয়। না হলে পেট কাঁদবে। পেটের জ্বালা বড়ো জ্বাল। অবশ্য কোন বাজে লোকের পাল্লায় পড়ে খাওয়া উচিত নয়। এসো তোমার কোন ভয় নেই। আগে তো পেটের চাহিদা মেটাও,তারপর অন্যকিছুর চাহিদা মেটানো যাবে। "
তিনি কয়েকটা কচুরি আর মিষ্টির অর্ডার দিলেন। ইতস্ততঃ করে খাবারের দিকে হাত বাড়ালাম বললাম," আপনি খাবেন না?"
—না , আমার তো খিদে পায়নি। তুমি নির্দ্বিধায়  খাও।"
মনে মনে ভাবলাম —জীব দিয়েছেন যিনি,আহার দেবেন তিনি। কেউ যার নেই, ঈশ্বর আছেন তার। খাওয়ার পর মনে হলো ধড়ে প্রাণ এলো। ভদ্রলোক বললেন, " তোমার নাম যেন কী?
—সমর গুপ্ত। থাকি নদীয়ার বীরনগরে।
—কোথায় যাবে কিছু ঠিক করলে? যাবার যে কোথাও জায়গা নেই, সে তোমাকে আর তোমার হাবভাব দেখে বুঝতে পেরেছি। বাসের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম বাড়ি ফিরবো বলে। তোমায় দেখে বাসের কথা বেমালুম ভুলে গেলুম। এখন বলোতো তোমার কী হয়েছে?
আমি ওনাকে বিশ্বাস করে সব কথা বললাম। ভদ্রলোক বললেন," এ পৃথিবীতে কতো রকমের লোক আছে। কী করে অপরকে মেরে বড়োলোক হওয়া যায়,সেই ধান্দায় ঘুরে বেড়ায়। আবার কতো লোক আছে ধন দৌলতে অন্ধ না হয়ে অপরকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। তবে তাদের সংখ্যা অনেক কম।"
আমি মাঝখানে মুখ ফসকে বলে ফেললাম," যেমন আপনি।" 
ভদ্রলোক হেসে বললেন," আমি আর কী করতে পারি। কিছুই পারি না। করতে পারলে তো পরকালের রাস্তাটা তৈরি করতে পারতাম। আর তাছাড়া উপকার করবো বললেই তো করা যায় না। ভগবান যদি তার সেই মন দেন তবেই সে পারে। রাখে হরি তো মারে কে? তোমাকে দেখে আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম কেন জানো? তোমার মতো আমার একটা ছেলে ছিলো। অনেক দিন আগে সে কোথায় হারিয়েগেছে। আর ফেরেনি। আমার স্ত্রী তার কথা ভেবে ভেবে শেষ হয়ে গেছে। তোমাকে দেখে আমার ছেলের কথা মনে হলো। তোমার মুখটার সঙ্গে তার মুখের অবিশ্বাস্যভাবে মিল রয়েছে। তাই দেখেই তো দাঁড়িয়ে পড়লাম। জানি না তোমার মতোই হয়তো এইভাবে খিদের জ্বালায় কলের জল খেয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। কোন বদ্ লোকের কাছে মানুষ হচ্ছে হবে। আমি তো আশা ছেড়ে দিয়েছি। আমার স্ত্রী আজও তার আশায় আশায় দিন গুনে চলেছে। আমার কথা ছাড়ো। তুমি চলো আমার বাড়ি। আমার স্ত্রী হয়তো কিছু সান্ত্বনা পেলেও পেতে পারে।"
কথা গুলো বলতে বলতে ভদ্রলোকের গলা ভারি হয়ে এল। চোখের কোণায় জল চিকচিক করছিলো। তাঁর দুঃখের কথা শুনে আমি আমার দুঃখের কথা ভুলে গেলাম। পৃথিবীতে কতো দুঃখ আছে আমরা তার কতটুকু জানি। ভদ্রলোক আজ অযাচিত ভাবে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।আমারও ওনাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। না হলে আমিও তো মনুষ্যত্বহীন হয়ে পড়বো। আর তা ছাড়া আমারও তো থাকা-খাওয়ার জায়গা দরকার। ভগবানকে দেখা যায় না। তিনি মানুষের মধ্যে থেকে মানুষকে সাহায্য করেন। এখানে আমার কর্তব্য ও প্রয়োজন দুটোই আছে। আমি সাগ্রহে বললুম,
" চলুন, আমি আপনার সঙ্গে যাবো।"
—তুমি যাবে? আমি জানতাম। তুমি যে সৎ বাবা -মা'র সন্তান এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। চলো আমরা বাসে উঠি হাওড়া যাবো। আমার বাড়ি হাওড়ার কালিবাবুর বাজারের কাছে চৌধুরীবাগানে। তোমাকে দেখলে আমার স্ত্রী খুব খুশী হবে। তবে হ্যাঁ, একটা কথা—তুমি ওনাকে  'মা' বলে সম্বোধন করবে।  আর আমাকে বাবা। তাহলে আরও খুশি হবে। তোমায় আমি সব বলে দেবো কখন কী করতে হবে কী বলতে হবে।
আমি ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানিয়ে বললুম," আপনি আজ আমার জন্যে যা করলেন, নিজের লোকও তা করে না। আর আমি আপনাদের জন্যে কিছু করবো না তাই হয়? তাহলে তো আমি আমার কাকা-কাকীমার মতোই হয়ে যাবো।

"আমাকে নিয়ে নীলুবাবু তাঁর হাওড়ার বাড়িতে এসে পৌঁছলেন। আমাকে দেখে ওনার স্ত্রী আমার মুখের দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন, "কে এ? "
ভদ্র মহিলাকে দেখে মনে হলো একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে জীবনের সব আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেছেন। নীলুবাবু বললেন,"কি চিনতে পারছো?"
—ও  কে---------এ?
—কি চেনা চেনা লাগছে তো? ও আমাদের 'সমু' গো।
—'সমু' ? ওকে তুমি কোথায় পেলে?
—ওকে দেখতে পেয়েই তো ধরে আনলুম। ভগবান মুখ তুলে চেয়েছেন। একজন মায়ের দুঃখ তিনি বুঝেছেন, তাই ঠিক আমার নজরের সামনে এনে হাজির করে দিয়েছেন।
বলেই উনি আমায় চোখের ইশারা করলেন বুঝতে পারলাম ওনাকে ভোলানোর জন্যই এই অভিনয় করছেন। ঘটনাচক্রে আমার নামের সঙ্গে এবং মুখের মিল কাকতালীয় ভাবে মিলে গিয়েছিলো। মুখের মিল থাকার জন্যই নীলুবাবু থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন। অনেকক্ষণ দেখার পর কাছে এসে আমায় জিজ্ঞেস করেছিলেন আমার নাম। আমি বলেছিলাম— সমর গুপ্ত। উনি স্বগতোক্তি করে বলেছিলেন, 
"ওতেই হবে।" আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম," কী হবে?"
—কিছু না।
দেখলাম রমলা দেবী মানে নীলুবাবুর স্ত্রী আমায় পেয়ে কিছুটা স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করছেন। মানসিক ভাবে প্রস্তুত হলাম ওনাকে মায়ের আসনে বসাবার। ওনার মনের আনন্দ ফিরিয়ে আনার জন্য আমিও 'মা'  'মা' বলে দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলাম। তাঁর মনে কোন সংশয় থাকলেও থাকতে পারে। কারণ গর্ভধারিণী মা নিজের সন্তানের গায়ের গন্ধ চেনেন। কিন্তু আমায় হাল ছাড়লে তো চলবে না। আমি ওনাকে ঠকাতে আসিনি। আমি ওনাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করছি ওনার সবচেয়ে কাছের জনের অনুরোধে। তাছাড়া নিজের সার্থ জড়িয়ে আছে ঠিকই। ওনার ছেলে সত্যি  সত্যিই যদি ফিরে আসে, তখন না হয় আশ্রয় ভিক্ষা করে নেবো। বলবো —নিজের মাকে হারিয়ে একজন মা খুঁজতে চেয়ে ছিলাম। আমি তো নিজে মুখে বলিনি ওনার ছেলে। ওনাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে দেখে আমি সেই থেকে ওনাদের ছেলে হয়ে ওনাদের কাছে রয়ে গেছি। নীলুবাবুকে বাবা বলতেই হলো। সেটাও সম্পূর্ণ ওনার ইচ্ছায়। আর তাছাড়া উনি তো আমার সঙ্গে বাবার মতোই আচরণ করেছেন। আমাকে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি করিয়েছেন সমর গুপ্ত নামেই। রমলা দেবী যখন জিজ্ঞেস করেছেন," সমর গুপ্ত কেন? ওর নাম তো সমরেন্দ্র রায়। নীলবাবু বুঝিয়ে দিয়েছেন এই বলে যে ওই নামেই তো মাধ্যমিক পাশ করেছে। তাই ওই নামেই উচ্চ মাধ্যমিক পড়তে হবে। নাম পাল্টানো অসুবিধে। আর নামে কী যায় আসে। সরলমনের রমলা দেবী তাই বিশ্বাস করে নিয়েছেন। এর কিছুদিন পর রমলা দেবী লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মারা যাবার পূর্ব পর্যন্ত তিনি আমাকে নিজের হারানো ছেলে বলেই জানতেন।"

ব্যঞ্জনা কথাগুলো মন দিয়ে শুনছিলো আর ভাবছিলো —সত্যিই ছেলেটা খুব দুখী বটে !
জিজ্ঞেস করলো, " তারপর কাকা -কাকীমার সঙ্গে আর কোন যোগাযোগ রাখেন নি?"
—না, কারণ তিনি আমায় মাসোহারা তো দেবেন না, উল্টে আমি ভালো আছি জানলে, আমার কাছে এসে কাঁদুনি গেয়ে টাকা পয়সা আদায় করার চেষ্টা করবে। ওনাদের ছেলেকে এখানে নিয়ে এসে তুলবে। এখানে আসার সঙ্গে সঙ্গে যদি ঠিকানা দিতাম, উনি এসে সত্যি কথা বলে দিয়ে রমলা দেবীর মন ভেঙে দিতেনই। আমার আশ্রয়টুকূও নষ্ট করে দিতেন। কারণ ওরা তো আমাদের সর্বনাশই চেয়েছিলো। বদলোক সব পারে। শম্ভুদারা আমাদের পাশের বাড়িতে ভাড়া থাকে। সেই থেকে শম্ভুদার সঙ্গে আমার পরিচয়। ওই একটা ভালো মানুষকে আমি পাশে পেয়েছি। আমাকে উচ্চমাধ্যমিক ও বি.এ পাশ করতে সাহায্য করেছে। 
কথাগূলো শুনতে শুনতে ব্যঞ্জনা আস্তে আস্তে সমরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে পড়ে। তারপর থেকে সর্বদাই সমরের কথা ভাবে। ছুটির দিন শম্ভুনাথকে উকিলবাবুর বাড়ির রেলিংয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে আর দেখা যায় না। চামেলীর সঙ্গে ডেটিং থাকে। বেরিয়ে পড়ে তিনজনে। সমর ওদের আর সঙ্গ দেয় না। ভাবে ওদের মধ্যে উপস্থিত থাকা মানে ওদের এবং ওর নিজের অস্বস্তি বাড়ানো। যদিও ওদের মধ্যে ব্যঞ্জনা উপস্থিত থাকে,সে তো চামেলীকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য। আসলে সমর একটু ইনফিরিয়োরিটি কমপ্লেক্সে ভোগে। ও ভাবে ওর মতো 'হারালে খুঁজতে নেই, মরলে কাঁদতে নেই ' এমন মানুষের সঙ্গে কে প্রেম করবে। সেহেতু ও ওদের এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করে। এদিকে ব্যঞ্জনা ছুটির দিনগুলোতে সমরকে দেখতে না পেলে  নিজে থেকেই শম্ভুনাথকে জিজ্ঞাসা করে,
"আপনার বন্ধুকে তো দেখছি না, ওনার কি কিছু হয়েছে?" শম্ভু ও চামেলী পরস্পরে দৃষ্টি বিনিময় করে মুচকি হাসে। ভাবে ব্যঞ্জনার মনে প্রেমের রঙ ধরেছে। ওর মনের কৃষ্ণচূড়া আবির খেলে চলেছে। এবার সমর ছাড়া ও আর আসবে না। আর প্রেমের আমন্ত্রণ ছাড়া সমরও আসবে না। সমরের সঙ্গে ব্যঞ্জনাকে ভিড়িয়ে দিতে পারলে ভালোই হয়। শম্ভু আর চামেলী দুজনেরই সুবিধে হবে।না হলে ওদের সঙ্গে বন্ধুত্বের দূরত্ব বেড়ে যাবে। সেটা মোটেই ভালো দেখায় না। ব্যঞ্জনা কোন্ ইন্টারেস্টে চামলীকে সঙ্গ দেবে। আবার ব্যঞ্জনাকে সঙ্গে না নিলে ব্যঞ্জনা ভাববে —প্রেমের পূর্বে তাকে খুব দরকার ছিলো। এখন মনের মানুষ পেয়ে গিয়ে ও পর হয়ে গেছে। একদিন চামেলী ব্যঞ্জনাকে জিজ্ঞাসা করে, "ব্যঞ্জনা, একটা প্রশ্ন করবো সত্যি সত্যি উত্তর দিবি ?
—উত্তর দেবার মতো হলে দেবো।
—সমরকে তোর কেমন লাগে?"
‌—ভালোই।
—আমি ভালো না মন্দ এটা জানতে চাই না। তোর কি ওকে মনে ধরেছে? যদি ধরে তাহলে একটা যুক্তি দিতে পারি।
— কি যুক্তি?
—একটা কাজ কর। তোর সঙ্গে তো ওর অনেক কথা হয়েছে। তুই একটা প্রেমপত্র লিখে শম্ভু মারফৎ পাঠিয়ে দে। দ্যাখ না কী উত্তর দেয়। না হলে ও আর আসবে না। চামেলীর কথামতো ব্যঞ্জনা সমরকে প্রেমপত্র লেখে। প্রেমপত্র পেয়ে সমরের যে খারাপ লেগেছে তা নয়। বরং তার ভালো লেগেছে এই ভেবে যে তাকে শম্ভুর মতো প্রেম নিবেদন করতে হয় নি। উপরন্তু পত্রের প্রত্যুত্তরে সে তুলে ধরেছে তার সমস্যার কথা। যার অর্থ ভালো মন্দ ফলাফল যাই হোক না কেন তার জন্য সমর কোন ভাবেই দায়ী থাকবে না। ব্যঞ্জনা সবকিছু মেনে নিয়ে সমরের হাত ধরতে রাজি হয়েছে।

চামেলী ও ব্যঞ্জনার লেডিজ হোষ্টেলের থাকার মেয়াদ ফুরিয়ে আসছিলো ,কারণ তাদের এবার তৃতীয় বর্ষ। পার্ট ওয়ান পাশ করেছে। থার্ড ইয়ারের পরীক্ষার একমাস আগে থেকে ওরা ঘোরাঘুরি না করে পড়ায় মনোনিবেশ করেছে। কারণ অনেক পয়সা খরচ করে তারা এতো দূরে হোষ্টেলে থেকে পড়াশোনা করছে। রেজাল্ট খারাপ হলে বাড়িতে জবাবদিহি করতে হবে। শম্ভুনাথও বলে দিয়েছে এ সময় দেখা আর না করতে। শুধু ফেরার সময় পরীক্ষা কেমন হয়েছে জানিয়ে গেলেই হবে। পার্ট ওয়ানের  ফল তাদের ভালোই হয়েছে। পার্ট টু ভালো দিতে পারলেই হলো। কিন্তু পার্ট টু দেওয়ার পর কী হবে? তখন তো তাদের বাড়ি ফিরে যেতে হবে। ওদের সঙ্গে দেখা করবে কী ভাবে? অতদূর থেকে তো আসা সম্ভব নয়। বাড়িতে কী বলবে? শম্ভুনাথ এ কথাগুলো ভেবে রেখেছে। সে মনে মনে ঠিক করেই রেখেছে ওরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যাবে। শম্ভুনাথের বাড়ির দিক থেকে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু ব্যঞ্জনা কী করবে? সমরের মতামত তো জানাই হয়নি। শম্ভু সমরকে বলে,"সমর, দেখ ওদের পরীক্ষা তো শেষ হয়ে যাবে। আমি তো বিয়ে করে নেবো। তুই কি করবি ঠিক কর। আমার মনে হয় ওর সঙ্গে তোর কথা বলা উচিত। তোর বাড়িতে মেসোমশাইকে বললে উনি হাসিমুখে রাজি হয়ে যাবেন।
সমর শম্ভুর কথা ফেলে দিতে পারে না। তাই বলে,"আমার তো এই আয়, ওর বাড়ির লোক কি রাজি হবে? ব্যঞ্জনা মেয়েটা ভালো। খুবই বুদ্ধিমতী ও চটপটে। দেখছি কী করা যায়।
—হ্যাঁ, ও যদি তোকেই বিয়ে করতে চায় তাহলে বাড়ি গিয়ে বাবা-মা'র সঙ্গে কথা বলুক। আর তাছাড়া ও বিয়ে পাশ করে যাবে,তারপর একটা চাকরির চেষ্টা করলেই হলো। চাকরি করতে না চাইলে টিউশন করতে পারে। মেসোমশাই তো পেনশন পান। তোদের ভালো ভাবেই চলে যাবে।
—সে মেসোমশাই  যতোদিন বেঁচে আছেন ততোদিন পেনশন পাবেন। তারপর?
—আরে, তোদের তো বাড়ি ভাড়া লাগবে না। আমার তো বাড়ি ভাড়া দিতে হয়। ও ঠিক চলে যাবে। ব্যঞ্জনা নিশ্চয়ই বাড়িতে জানিয়ে দেবে। কিন্তু তুই মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাক।
সমরের নিজের বলতে কেউ নেই। তাই সে ব্যঞ্জনাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়। মেয়েরা যখন নিজ নিজ পাত্র পছন্দ করেছে পাত্রী পক্ষের পছন্দ না হলেও আপত্তি ওঠে নি। দু বন্ধুর হবু শ্বশুর বাড়ির সঙ্গে দেখাশোনা পর্ব চুকে গিয়ে বিবাহ পর্ব মিটে গেলো।

ছেলেবন্ধু যুগল ও মেয়েবন্ধু যুগল অর্থাৎ শম্ভু -চামেলী আর সমর-ব্যঞ্জনা বেশ ঘরকন্না করে চলেছে। শম্ভু তার অফিসের লোক ধরে হাওড়া মিউনিসিপ্যালিটিতে চামেলীর চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে। সময়মতো দু জনকেই বের হতে হয়। ফলতঃ চামেলী সংসারের তেমন কোন কাজে আসতে পারে না। শম্ভুনাথেরা সাত ভাই। ছোট আর সেজ ভাই দেশে থেকে জমিজমা দেখাশোনা করে। সেজ ভাইকে ছোট ভায়েরা নদা বলে ডাকে,এই কারণে যে ওদের জেঠার ছেলে বংশের সবচেয়ে বড় বলে সবাই তাকে বড়দা বলে আর এদের ভায়েরা মেজ দিয়ে শুরু। অর্থাৎ এদের বড়দা মানে বংশের মেজদা গৌরমোহন রেলওয়েতে ভালো চাকরি করে। কাছাকাছি বিয়ে করেছে এক মস্তিষ্ক বিকৃত মহিলাকে। মস্তিষ্ক বিকৃতি অনেক পরে ধরা পড়ে।  যাইহোক সেই সূত্রে শ্বশুরবাড়িটা পেয়ে যায এবং সেখানেই বসবাস করে। বংশের সেজোভাই অর্থাৎ শম্ভুনাথের মেজদা গোপীনাথ রাজ্য সরকারের হেল্থ ডিপার্টমেন্টে অল্প বেতনে চাকরি করে ছোট ভায়েদের নিয়ে ভাড়াবাড়িতে বাস করে। গোপীনাথের স্ত্রী হাসিদেবী ভীষণ ভালো মহিলা। দেবরদের নিয়ে একা পরিশ্রম করে সংসার চালাতো। সংসারের অভাব পূরণ করার জন্য গোপীনাথকে চাকরির পরে টিউশন করতে হতো। এখানে দু ভাই বিশ্বনাথ ও কাশীনাথের দায়িত্ব। যদিও তারা সেজদা অর্থাৎ ওদের মেজদাকে কিছুটা রেহাই দিতো হাতে টিউশনের কিছু টাকা তুলে দিয়ে। দেশে বাবা-মা ও আরও দুইভায়ের জন্য কিছু টাকা পাঠাতে হতো গোপীনাথকে। সব মিলিয়ে গোপীনাথ জেরবার হয়ে যেতো। তবু গৌরমোহন বড়ো ভায়ের দায়িত্ব পালন করতো না। সম্পুর্ন স্বার্থপরের মতো জীবন যাপন করতো। পরবর্তী কালে বিশ্বনাথ পাশ টাশ করে স্কুলে চাকরি পেয়ে যায়। শম্ভুনাথের কথায় ফিরে আসি। শম্ভুনাথ ও স্ত্রী চামেলী চাকরি করেও নিজেদের টুকু ছাড়া গোপীনাথকে  ও বৌদি হাসিদেবীকে এতোটুকু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়নি কি অর্থ  কি গতর দিয়ে।  ফলতঃ একা হাসিদেবীকে সব কাজ করতে হতো । এ অবিচার তো মেনে নেওয়া যায় না। তাই বিয়ের পর লাগলো সংঘাত। শম্ভুনাথ চামেলীর হাত ধরে বেরিয়ে গেলো সংসার থেকে জায়গা কিনে বাড়ি করে। বিশ্বনাথ কয়লার ব্যবসা শুরু করে দুহাতে আয় করে জায়গা জমি কিনে বাড়ি করে, বিয়ে করে ভেগে গেলো। সবাই যে যার গুছিয়ে নিয়ে বেরিয়ে গেলো। পড়ে রইলো গোপীনাথ।এরমধ্যে ভাড়া বাড়ি ছেড়ে ওরা গৌরমোহনের শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে ওঠে। তার কিছু দিন পর গৌর মোহনের ছেলে 'পল' তার বাবা মারা যাবার পর সকলকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। সবার জন্য করতে গিয়ে গোপীনাথ নিজের একমাত্র ছেলে বাপিকে মানুষ করতে পারলো না। ছেলেটা বদ্সঙ্গে পড়ে মারা গেলো।  একমাত্র মেয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। গোপীনাথ মারা যাবার পর হাসিদেবী মেয়ের কাছে গিয়ে ওঠে। এই হলো শম্ভুনাথের পারিবারিক উপাখ্যান। আমার গল্পের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো সমরকে নিয়ে।  সমর শম্ভুর সঙ্গে চামেলীর প্রেমে মধ্যস্থতা করতে গিয়ে ব্যঞ্জনাকে বিয়ে করে নিজের বিপদ আরও বাড়িয়ে তুললো যার পরিণতি তাকে কোথায় টেনে নিয়ে গেলো। 

ব্যঞ্জনাকে বিয়ে করে আর নীলকান্ত মেসোমশাইকে নিয়ে বেশ সংসার যাত্রা নির্বাহ করে যাচ্ছিল সমর। বিপদ ঘনিয়ে এলো নীলুবাবুর প্রকৃত সন্তান সমরেন্দ্র ওরফে সমু ফিরে এলে। হারিয়ে যাওয়া সন্তান ফিরে এলে নীলুবাবু যার পর নাই আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠলেন। সমরেন্দ্র উড়ে এসে জুড়ে বসা সমর ও তার স্ত্রী ব্যঞ্জনাকে সহ্য করতে পারলো না।  ঘর থেকে বের করে দিলো। নীলুবাবু অনেক চেষ্টা করলেন ওদের আটকাবার। ছেলেকে বললেন,"তোর অবর্তমানে তোর মা ভেঙে পড়েছিলো। তোর মাকে বাঁচানোর জন্য ওকে আমি রাস্তা থেকে তুলে এনেছিলাম। শেষ জীবনটা অনেক শান্তি পেয়েছিলো। কিন্তু তোর শোকে না খেয়ে খেয়ে লিভারের বারোটা বাজিয়ে ফেলেছিলো। তারপর যা হবার তাই হলো। তোর মাকে বাঁচাতে পারিনি। আমি ওর মুখ চেয়ে এতোদিন বেঁচে আছি। আজ ওকে তাড়িয়ে দিলে অন্যায় হবে। আজ তুই ফিরে এসেছিস্ বলে ওকে তাড়িয়ে দেবো? ওকে তাড়িয়ে দিলে আমি মরেও শান্তি পাবো না। সমরেন্দ্র বাবার কথা শুনলো না। সমর‌ ও ব্যঞ্জনাকে বললো," তোমাদের লজ্জা করে না,থাকার জায়গা নেই আবার বিয়ে করছো?" নীলুবাবু অসহায়ের মতো ফ্যালফ্যাল করে দেখতে দেখতে চোখের জলে ওদের বিদায় নিতে দেখলেন। দুচোখ দিয়ে গাল বেয়ে বেদনাশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগলো। ক্রন্দনরত অবস্থায় বলতে লাগলেন,"যে দিন তোমার সঙ্গে প্রথম দেখা হলো আমি তোমায় বলেছিলাম — রাখে হরি তো মারে কে? আর আজ বলছি — মারে হরি তো রাখে কে? তোমায় অনেক বড়ো মুখ করে ঘরে এনেছিলুম কিন্তু কোন নিরাপত্তা দিতে পারলুম না। তোমরা আমায় ক্ষমা করে দিও।  এ পৃথিবীতে  তোমার কাকা-কাকীমাদের মতো লোক অনেক আছে। তাদের হাত থেকে বাঁচা খুব মুশকিল। আমি এমন সন্তান ফিরে পেতে চাই নি।" কথাগুলো বলে নীলু বাবু মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লেন। মৃত নীলু বাবুর চরণস্পর্শ করে মাথায় হাত  ঠেকিয়ে প্রণাম করে সমর আর ব্যঞ্জনা দুজনে বিনা বাক্য ব্যয়ে মাথা নিচু করে ধীর পদক্ষেপে বেরিয়ে গেলো।
ওদের সঙ্গে কিছু নেওয়ার ছিলো না। কারণ সমর এসেছিলো নীলু বাবুর সাজানো সংসারে। এখন তাদের নতুন করে সবকিছু কিনতে হবে। সর্বপ্রথম যে কাজটা তাদের করতে হবে তা হলো একখানা ঘর ভাড়া করা। তারা পেয়েও গেলো অল্প ভাড়ায়। এখন তাদের আর পাঁচ জন ভাড়াটেদের সঙ্গে থাকতে হবে। মাথার ওপরের ছাতাটা ঝড়ে উড়ে গেলো। সমর আবার নিমজ্জিত হলো অন্ধকারে। ব্যঞ্জনা সন্তানসম্ভবা। সময় একদম এগিয়ে এসেছে। সেই সেদিনের মতো , যেদিন বেরিয়ে পড়েছিলো ঘর ছেড়ে  নিঃসম্বল দিশেহারা হয়ে, কি করবে ভেবে পাচ্ছিল না, সেদিন তো ও একা ছিলো। এমনসময় এক ঈশ্বর এসে ওকে বাঁচিয়েছিলো। কিন্তু আজ তো ও একা নয়। ওর মুখ চেয়ে আছে আরো কেউ। আজ কি কোন ঈশ্বর তার সামনে এসে দাঁড়াবে না? 

সেদিন আকাশের মুখ কালো সকাল থেকে। দিন যতো গড়িয়ে যায় আকাশ ততো ঘন মেঘে ছেয়ে যায়। বিদ্যুৎ ঝলক সঙ্গে মুহুর্মুহু বাজের তীব্র আওয়াজ ভেদ করে বেরিয়ে আসে দুই সদ্যজাতকের অসহায় আর্তনাদ জন্মদাত্রীর হৃদস্পন্দনকে স্তব্ধ করে দিয়ে চিরকালের মতো। সমর কান্নায় ভেঙে পড়ে। এ কি দায় দিয়ে গেলো তার কাঁধে একা করে রেখে গিয়ে! যাবে যদি কেন এলো সে ওর রুক্ষ মরুময় জীবনে ।সমরের চোখের সামনে যেন প্রেতাত্মারা অট্টহাস্য করছে তার দুর্ভাগ্যকে দেখে। সদ্যজাতরা চিৎকার করে কেঁদে উঠে যেন বলছে — আমরা মাতৃহারা হয়ে পড়েছি,  তুমি এভাবে ভেঙে পড়লে আমরা  কোথায় যাবো?

Samir Kumar Dutta 
Pune, Maharashtra 
Mobile no. 9051095623


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী ।। মো: বিপুল রহমান

  সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী মো: বিপুল রহমান এক নীল আকাশের নীচে, স্বপ্নের ঝিলিক, মাটির গন্ধে মেশে হৃদয়ের টান, হিন্দু–মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, এক সুরে বাঁধা, এক প্রাণের সম্মিলন। দুর্গার দীপ্ত আলোয় জ্বলে উৎসবের রাগ, ঈদের চাঁদ ছড়ায় শান্তির অমৃত জ্যোৎস্না, বড়দিনের প্রার্থনা গায় কোমল সুরের ডাক, বুদ্ধ পূর্ণিমার প্রদীপে মুখরিত নীরব প্রভা— এক হৃদয়ে জাগে, এক দীপশিখার আলো। ভাষার তুফানে, স্বাধীনতার অগ্নিশপথে, কাঁধে কাঁধ মিলে দাঁড়ায় বাঙালী অটল, ভ্রাতৃত্বের মন্ত্রে জেগে ওঠে জাতির প্রাণ, এক স্বরে, এক ছন্দে-চির অম্লান। পাড়ার উঠোনে, ছায়ায়-আলোয়, হাসির রঙে, কান্নার সুরে, হাতে হাত গেঁথে ওঠে সেতু-অটুট, নির্মল, নাম তার সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী। এই মাটির ধূলি, এই আকাশের নীল, হৃদয়ের গভীরে বাজে একতার সুরলীল, বাঙালী-তুই চির অখণ্ড, চির জাগ্রত, সম্প্রীতির কাব্যে লেখা, তুই চিরন্তন। উৎসর্গঃ এই কবিতা উৎসর্গ করছি সকল বাঙালীর প্রতি, যারা সময়ের সব বাঁধা-বিপত্তি, ভাষা, ধর্ম বা সংস্কৃতির ভেদাভেদ ভুলে একতার বন্ধন গড়ে তোলেন। যারা নিজেদের হৃদয়ে ভ্রাতৃত্বের দীপ জ্বালিয়ে রাখেন, আনন্দে ও দুঃখে পাশে থাকেন, উদযাপনে অংশ ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

অনুসরণ ।। সমীর মন্ডল

অনুসরণ সমীর মন্ডল অসীম কে কি মনে পড়ে? পড়ে! পড়ে! পড়ে! কাবেরীকে কি মনে পড়ে? পড়ে!পড়ে!পড়ে! অর্ধেক জীবন পার করেছো সঙ্গী অন্য কেউ জলের দরে সময় ফুরায়  নৌকা ভাসাও কই? মাঝে মাঝে দেখা হয় অল্প কথায় দাঁড়ি অনেক কিছু চাওয়ার থাকে গোপন ব্যথায় পাড়ি। পথের দেখা পথের মতোই হাতছানি দেয় দূরে যেখানে যাও, যেখানে থাকো গান বাঁধি সেই সুরে। ছিন্ন বীণায় ফুটেছে ফুল ভুলের কাঁটায় জীবন অভিসারে দিনগুলি যায় নিভৃতে অনুসরণ। ============= সমীর মন্ডল  শাঁকারীপাড়া, কাঞ্চননগর, পূর্ব বর্ধমান, পিন-৭১৩১০২

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

কবিতা ।। ঘাস ।। সেখ নাসিবুল আলি

  ঘাস  সেখ নাসিবুল আলি                       জষ্টির রবি রশ্মিতে দিনে-দিনে       ভীষণ ক্লান্ত সে আজ  একটু শাদা শীতল  জল চায় !         নইলে জ্বলে যাচ্ছে,               তার প্রতিটি লতা পাতা যেন ওর বেড়ে গেছে,   - চিন্তা ! তাই, সংকোচে জানাই সুমধুর শব্দ বিন্যাসে বর্ষার জলদকে।      সে যেন তাকে দ্যায় দু ফোঁটা শাদা শীতল জল তাহলে সে আবার  সবুজে সবুজে  সেজে ওঠবে । জলদ' দের দু ফোঁটা জলের  শব্দ        গভীর গহবরে  জন্ম দেব                এক একটি সন্তান -                ক্লান্ত পৃথিবীর বুকে ।  ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি বাঙালির সামষ্টিক স্মৃতি, কৃষিনির্ভর সভ্যতার চিহ্ন, অর্থনৈতিক বিন্যাসের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সময়কে মানুষ ক্যালেন্ডারে বন্দি করলেও, নববর্ষ আসলে মানসিক পুনর্জন্মের এক সামাজিক অনুষঙ্গ। বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সংকল্প করে। পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা—এই ধারণা বাঙালি জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত। নববর্ষ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি স্মৃতি, শ্রম, আশা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সামাজিক চুক্তি। বাংলা নববর্ষ তাই একদিকে কৃষিজীবনের ঋতুচক্রের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে নাগরিক সংস্কৃতির আধুনিক উৎসবে রূপান্তরিত এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা সনের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় মুঘল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌরভিত্তিক বাংলা সাল চালু করেন। কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল কাটার সময় অনুযায়ী কর আদায় প্রয়োজন ছিল।হিজরি চান্দ্র সন কৃষির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।ফলে সৌরবর্ষভিত্তিক বাংলা সনের প্রবর...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...