Skip to main content

গল্প ।। অপেক্ষা ।। দেবাংশু সরকার

অপেক্ষা

(আজাদ হিন্দ ফৌজের ভারত অভিযানের প্রেক্ষাপটে লেখা একটা সম্পূর্ণ কাল্পনিক গল্প)

দেবাংশু সরকার


এক


       আবছা অন্ধকার ঘরটাতে টিমটিম করে একটা বাতি জ্বলছে। তিনজন মানুষ বসেছে এক গোপন আলোচনায়। এতটাই গোপন আলোচনা যে ঘরের সবকটা জানালা দরজা বন্ধ রয়েছে, যাতে কাক পক্ষীতেও টের না পায় যে এখানে তিন মাথা এক হয়েছে।  

      - "তাহলে এখন আমাদের কাজ কি?"

      - "আমাদের তেমন কিছু করতে হবে না। যা করার সুভাষ চন্দ্র বোস আর তার ফৌজ করবে। আমাদের কাজ দেশের ঘুমন্ত মানুষকে জাগিয়ে তোলা। আর বোসের পথ সুগম করা। বিশাল ফৌজ নিয়ে এগিয়ে আসছেন বোস। কুড়ি হাজার ভারতীয় সেনা যোগ দিয়েছে বাহিনীতে। এমনকি লক্ষী স্বামীনাথনের নেতৃত্বে পাঁচশো নারী সেনাও রয়েছে। গতকাল সিঙ্গাপুরে এক প্রকাশ্য জনসভায় রাস বিহারী বোস আজাদ হিন্দ ফৌজের দায়িত্ব সুভাষ চন্দ্র বোসের হাতে তুলে দিয়ে, তাকে সর্বময় নেতা ঘোষণা করে, তাকে 'নেতাজী' বলে সম্বোধন করেছেন। বিভিন্ন ব্রিগেড নিয়ে গঠিত হয়েছে এই বিশাল বাহিনী। যেমন আজাদ ব্রিগেড, গান্ধী ব্রিগেড, নেহরু ব্রিগেড, সুভাষ ব্রিগেড এবং রাণী ঝাঁসী ব্রিগেড।  আজাদ হিন্দ ফৌজ যত এগোতে থাকবে, যত লড়তে থাকবে তত লোকক্ষয় হবে, তত অস্ত্রক্ষয় হবে, ফৌজের রসদ কমতে থাকবে। আমাদের কাজ হবে যে লোকক্ষয়, যে অস্ত্রক্ষয় হবে সেটা পূরণ করা। সেনাদের খাদ্য, বস্ত্র এবং অন্যান্য ঘাটতি পূরণ করা, আহত সেনাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। ফৌজ ভারতে ঢুকলে আমাদের দায়িত্ব বহুগুন বেড়ে যাবে। সেইজন্য আমাদের মানুষের ঘরে ঘরে যেতে হবে। পরিস্থিতি বুঝিয়ে সাহায্য চাইতে হবে। সেই টাকা দিয়ে রসদ, অস্ত্র জোগাড় করে, যোগান দিতে হবে। গৌহাটিতে বসে এসব করা সম্ভব নয়, এরজন্য আমাদের দুর দুরান্তরে, গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে পড়তে হবে। মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। দেশের দাসত্ব মোচনের জন্য যে তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে, সে কথা তাদের বোঝাতে হবে। সবাই বুঝবে না। সবাই এগিয়ে আসবে না। কিন্তু কেউ কেউ আসবে। তাদের নিয়েই এগোতে হবে। তাদের নিয়েই সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। অনেকে বিরোধিতা করবে। তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। সব থেকে বেশি সাবধান থাকতে হবে টিকটিকিদের থেকে। চারিদিকে টিকটিকি ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাদের মধ্যে মিশে রয়েছে। যা করার খুব গোপনে করতে হবে। আমাদের সদস্য সংখ্যা বাড়াতে হবে। তবে খুব ভেবেচিন্তে, ভালোভাবে যাচাই করে তবেই কাউকে দলে ঢোকানো হবে। না হলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে।"

      - "কিন্তু আমরাতো মাত্র পাঁচজন। তারমধ্যে দুজন অর্থাৎ অরুণ আর পরাশর এখন কোলকাতায়। কবে ফিরবে তার কোনও ঠিক নেই! এই পাঁচজনেের পক্ষেতো খুব বেশি টাকাকড়ি জোগাড় করা সম্ভব হবে না!"

      - "আজ আমরা পাঁচজন।  কিন্তু সদস্য সংখ্যাতো ক্রমশ বাড়বে। আজ এখানেই কথাবার্তা শেষ করতে হবে। বেশিক্ষণ এখানে থাকা যাবে না। তিনজন একসঙ্গে এখান থেকে বের হবো না। তাহলে কারও নজরে পড়ে যেতে পারি। নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ে আবার আমরা এখানে মিলিত হবো।"

      আলোচনা শেষ হলো। ঘর থেকে বেরিয়ে যে যার মত অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।


                            
দুই 


      গ্রামের ছেলে মহাদেব। বাবা, মা,ছোটো বোনকে নিয়ে তাদের চারজনের সংসার। সে এখনো বিয়ে করেনি। নিজের জমিতে চাষবাস করে। আজ চাষের কাজে না গিয়ে সে তার তলোয়ারটাকে একটা পাথরে ঘষে চলেছে, আর মাঝে মাঝে তার ধার পরখ করছে। নকুল গগৈ যেতে যেতে মহাদেবকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়ে। এই গ্রামেই নকুলের মাসির বাড়ি। মাঝে মাঝেই সে আসে এই গ্রামে তার মাসির বাড়িতে। মহাদেব তার সমবয়সী। আগে থেকেই আলাপ পরিচয় আছে।

      তাকে দেখে নকুল বললো, "মহাদেব, সকাল বেলায় তলোয়ারে ধার দিচ্ছো কেন? যুদ্ধে যাবে নাকি?"

      - "দেশের অবস্থা ভালো নয় নকুল। গোরারা চারিদিকে খুব অত্যাচার চালাচ্ছে। শুনলাম তিনসুকিয়ায় একটা বাড়ি থেকে দুজন মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে। আমাদের গ্রামে এই খবর আসতে খুব হৈচৈ হচ্ছে। সবাই খুব আতঙ্কে আছে। আমাদের বাড়িতেও মা বোনেরা রয়েছে। সেইজন্য আগে থেকে অস্ত্রটাতে ধার দিয়ে রাখছি। যাতে বাড়িতে হামলা হলে কাজে লাগাতে পারি।"

      - "কিন্তু মহাদেব, যদি তোমার বাড়িতে হামলা হয়, তুমি একা একটা তলোয়ার দিয়ে কজনকে ঠেকাতে পারবে? গোরাদের কাছে বন্দুক আছে, লোকবল আছে। তুমি একা কিছুই করতে পারবে না। না পারবে বাড়ির মেয়েদের সম্ভ্রম বাঁচাতে, না পারবে তোমার প্রাণ বাঁচাতে।"

      কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে মহাদেব প্রশ্ন করে, "তাহলে কি করা যায় বলতো নকুল! আমরা কি পড়ে পড়ে মার খাবো? কিছুই করতে পারবো না?"

      - "কেন পারবে না? চেষ্টা করলে সবকিছুই পারা যায়। তাছাড়া এ সমস্যা কেবল তোমার একার নয়। এই সমস্যা, এই ভয়, এই আতঙ্ক এখন সব বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। তোমাদের গ্রামে অনেক ছেলে আছে, তাদের সবার সঙ্গে এই সমস্যা নিয়ে আলোচনা করো। তাদের একজোট করো। সবাই একজোট হয়ে থাকলে কেউ তোমাদের ক্ষতি করতে পারবে না। আমাদের গ্রামে আমরা একজোট হয়েছি। রাতে পালা করে পাহারা দিই। সবাই মিলে টাকা দিয়ে গোপনে আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড় করে রেখেছি। গোরা সাহেবরা খারাপ উদ্দেশ্যে আমাদের গ্রামে ঢুকলে, প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে না। আমাদের গ্রামে চল্লিশজন ছেলে আছে। গনধোলাই কাকে বলে দেখিয়ে দেবো। গোরাদের জন্য আমরা পুরোপুরি তৈরি। তোমরাও একজোট হও। গ্রামের ছেলেদের জড়ো করো। বোঝাও যে এই সমস্যা কারো একার নয়। যে কোনও বাড়িতে গোরারা হামলা করতে পারে। যে কোনো সময়ে যে কোনো বাড়ি থেকে মেয়েদের তুলে নিয়ে যেতে পারে। তখন কপাল চাপড়ানোর বদলে, আগে থেকে নিজেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিজেরা করে রাখো। না হলে যে কোনো পরিবার যখন তখন বিপদে পড়তে পারে।"

      - "আমি আজই সবাইকে ডেকে ব্যবস্থা করছি। আমাদের গ্রামে ত্রিশ পঁয়ত্রিশজন ছেলে আছে। আমরাও নিজেদের স্বার্থে একজোট হবো। তারপর টাকা জোগাড় করে বন্দুক কিনবো।"

      - "আগে সবাইকে একজোট করো, সংঘবদ্ধ করো। তারপর আগ্নেয়াস্ত্র কেনার কথা ভাববে। আমি আবার আসবো। শুনবো তোমাদের সংগঠনের কথা"

      সলতে পাকানোর কাজটা নিখুঁতভাবে নকুল করে দিল। সে জানে বাকি কাজটা মহাদেব করবে। নিজের গরজেই করবে।

      গৌহাটি সহরে বাস করলেও বীরেন্দ্রর আদি বাড়ি শিলচরে। মাঝে মাঝে সে শিলচরে যায়। সেখানে তাদের বাড়ি আছে। সেই বাড়িতে তার কাকা জ্যাঠারা থাকে। বাড়ি পৌছে বীরেন্দ্র তার জ্যাঠার ছেলে হরিহরের মুখে শুনলো এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গেছে। একজন মদ্যপ গোরা সাহেব শিকারে বেরিয়ে, সারাদিন বন্দুক হাতে ঘুরে কোনো শিকার না পেয়ে হতাশ হয়ে এক বৃদ্ধকে গুলি করে মেরে দেয়। ঘটনাটা শুনে রাগে উত্তেজনায় কাঁপতে থাকে বীরেন্দ্র। সে বলে, "দুশো বছর ধরে আমরা গুলি খেয়ে চলেছি! এখনো যদি সচেতন না হই এভাবেই গুলি খেয়ে মরতে হবে সকলকে।"

      হরিহর পাল্টা প্রশ্ন করে, "কি করতে পারি আমরা? কি করার আছে আমাদের? যে প্রতিবাদ করতে যাবে সেই গুলি খাবে।"

      - "একজনে যে কাজ করতে পারবে না, দশজনে করো। গ্রামের ছেলেদের ডাকো, জোটবদ্ধ হও। তারপর সবাই মিলে ঐ গোরাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ো। চলো আমরা দুজনেই কাজ শুরু করি।"

      হরিহরকে সঙ্গে নিয়ে বীরেন্দ্র বেরিয়ে পড়ে। গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সে ছেলেদের বোঝাতে থাকে। তাদের একজোট হওয়ার জন্য, সংঘবদ্ধ হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে থাকে। গ্রামের ছেলেরাও বুঝতে পারে একজোট না হতে পারলে, রুখে না দাঁড়ালে সাহেবদের অত্যাচার থেকে কেউ রেহাই পাবে না। কাউকে বাঁচতে দেবে না এই গোরা সাহেবরা। মেরে ফেলবে সবাইকে। এদের হাত থেকে বাঁচতে হলে মার খাওয়ার আগে পাল্টা মার দিতে হবে।

      - "একটা গোরা গ্রামে ঢুকে বেয়াদবি করলে, তোমরা ত্রিশ পঁয়ত্রিশজন ছেলে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। হায়নার মত দলবদ্ধভাবে আক্রমণ করবে।"

      - "সাহেবদের কাছেতো বন্দুক থাকে বীরেন্দ্র। বন্দুকের সামনে আমরা দাঁড়াবো কি করে?"

      - "একজন সাহেবের কাছে কটা বন্দুক থাকে? কটা গুলি থাকে? বন্দুক দিয়ে সে একা কজনকে ঘায়েল করতে পারবে? দরকার হলে তোমরা গাছের আড়াল থেকে তির ছুঁড়বে, বর্শা ছুঁড়বে, পাথর ছুঁড়বে। আঘাতে আঘাতে জেরবার করে দেবে। সাহেবও গুলি চালাতে থাকবে। একসময় গুলি শেষ হয়ে যাবে। তখন তোমরা আড়াল থেকে বেরিয়ে সবাই মিলে ঘিরে ধরে আক্রমণ করবে, যাতে জ্যান্ত ফিরে যেতে না পারে। এতদিন ওরা তোমাদের আতঙ্কিত করে রেখেছে। এবার তোমরা ওদের আতঙ্কিত করে তুলবে"।

      বীরেন্দ্রর কথার মাঝেই একজন বলে উঠলো, "তোমার কথাই ঠিক বীরেন্দ্র। কাল থেকেই আমরা তির, তলোয়ারের অভ্যাস শুরু করবো। নিখুঁত নিশানায় তির ছোঁড়ার জন্য অভ্যাসের প্রয়োজন।"

      - "খুব ভালো। আমি মাঝে মাঝে এসে দেখে যাবো তোমাদের অনুশীলন। 

      বীরেন্দ্র নিশ্চিত হয় যে তার গ্রামের ছেলেরা সমস্যাটা বুঝতে পেরেছে। এবার তারা নিজেদের তৈরি করে নেবে আত্মরক্ষার জন্য।  তারপর আসল লড়াইয়ের বীজমন্ত্র তাদের দেওয়া হবে।

      পড়াশোনার জন্য গৌহাটিতে এসেছে মুকুন্দ। বাবা চা বাগানের শ্রমিক। চা বাগানের সামান্য মজুরিতে কোনও রকমে দিন গুজরান হয়। চা বাগানের সাহেব মালিক অত্যন্ত বদমেজাজী। কথায় কথায় চাবুক চালায়। আহত, ক্ষতবিক্ষত করে দেয়  শ্রমিকদের। বয়স্ক শ্রমিকরাও ছাড় পায় না। চাবুকের আঘাতে জর্জরিত শ্রমিকদের সুস্থ হয়ে কাজে ফিরতে সময় লেগে যায়। কাজ বন্ধ, মজুরি বন্ধ, গরীব শ্রমিকরা দেনায় জর্জরিত হয়ে যায়। কঠিন সমস্যার মধ্যে দিন কাটে তাদের। অনেক দিন হলো মুকুন্দর বাবা টাকা পাঠায়নি। টাকার জন্য মুকুন্দ বাড়ি যায়।

      চারিদিক শুনসান। রাস্তাঘাটে লোকজনের চিহ্ন নেই। পুরো পরিবেশটা যেন থমথম করছে। বাড়ির কাছে পৌছে একটা গোঙানির শব্দ পেল মুকুন্দ। মনে হচ্ছে শব্দটা তার বাড়ির ভেতর থেকে আসছে। দৌড়ে গিয়ে সে ঘরে ঢোকে। দেখে তার বাবা বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে। সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। তার মা মেঝেতে বসে কাঁদছে। মুকুন্দকে দেখে  কান্নার বাঁধ ভাঙলো তার মায়ের। কি হয়েছে জানতে চায় সে। অনেক বার জিজ্ঞাসা করার পর তার মা বলে, "চা বাগানে উৎপাদন অনেক কম হওয়াতে গোরা মালিক রেগে গিয়ে চাবুক দিয়ে প্রচন্ড মেরেছে শ্রমিকদের। সেই মারে মারাত্মক আহত হয়েছে অধিকাংশ শ্রমিক।"

      মুকুন্দ জানতে চায়, "তাহলে কাল কারা চা বাগানে কাজ করবে?"

      - "সাহেব হুমকি দিয়ে গেছে, গ্রামের সব জোয়ান ছেলেদের কাল বাগানে যেতে হবে। কাজ করতে হবে।"

      ছিটকে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় মুকুন্দ। চিৎকার করে তার বয়স্যদের ডাকতে থাকে, "রঘু, নীলকান্ত, ব্রজেশ্বর কোথায় তোরা? 

      মুকুন্দর ডাকে তার বয়স্যরা হাজির হলে, মুকুন্দ তাদের প্রশ্ন করে, "তোরা কাল চা বাগানে কাজে যাবি?"

      - "তাছাড়া কি করবো? নাহলেতো চাবুক খেয়ে ঘরে শুয়ে থাকতে হবে।"

      - "সেতো কাজ করতে গেলেও চাবুক খেতে হবে। তোরা কি এভাবেই মরবি বলে ঠিক করেছিস?"

      - "কি আর করবো! সাহেবতো কাল আসবে বলে গেছে। সবাইয়ের ঘাড় ধরে হিড়হিড় করে টানতে টানতে নিয়ে যাবে!"

      - "সাহেব একা তোদের এতজনের ঘাড় ধরে টেনে নিয়ে যাবে! তোরা সবাই মিলে পারবি না সাহেবের ঘাড় ধরতে?"

      - "কি বলছিস মুকুন্দ!"

      - "মেরুদন্ড সোজা করে ভেবে দেখ, আমাদের ভিটে, আমাদের মাটি, আমাদের দেশ। অথচ সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপার থেকে কয়েকটা লাল মুখো বাঁদর এসে দিনের পর দিন আমাদের ওপর চাবুক চালাবে আর আমরা মেনে নেব!"

      - "তাহলে আমরা কি করবো?"

      - "আপাতত হাতে লাঠি তুলে নে। সাহেবের চোখে চোখ রেখে পরিস্কার অস্বীকার কর চা বাগানে কাজ করতে। তারপর দেখ কি হয়।"

      - "কিন্তু কাজ না করলে খাবো কি?"

      - "উল্টো দিক দিয়ে ভেবে দেখ, কাজ না করলে তোরা যেমন মজুরি পাবি না, তেমনি বাগানের মালিকেরও ব্যবসা চলবে না। চা উৎপাদন না হলে বাগান রেখে তার কি লাভ? দলবদ্ধভাবে একবার শক্ত হয়ে দাঁড়া, দেখবি সাহেব নুয়ে পড়বে। নিজের দোষ স্বীকার করবে। আহত মানুষদের ক্ষতিপূরণ করবে। তোদের একটু শক্ত থাকতে হবে। অভাবের তাড়নায় ভেঙে পড়লে চলবে না। তোরা শক্ত থাকলে, সাহেব ঝুঁকে পড়বে। তোরা ভেঙে পড়লে সাহেবের চাবুক চলতে থাকবে। কি করবি তোরা ভেবে দেখ, পড়ে পড়ে মার খাবি, নাকি রুখে দাঁড়াবি।"

      - "রুখে দাঁড়াবো। অনেক মার খেয়েছি। আর মার খাবো না। এবার পাল্টা মার দেবো।" ভিড়ের মধ্যে থেকে  বলে ওঠে একজন। 

     ক্রমশ ভিড় বাড়ছে মুকুন্দদের ঘিরে। প্রায় পঞ্চাশ জন যুবক এসে জড়ো হয়েছে। ক্রমশ শক্ত হচ্ছে তাদের চোয়াল। বদ্ধ হচ্ছে মুষ্ঠি। সবাই ঠিক করলো কাল একটা ফায়সালা করবে সাহেবের সঙ্গে। যে যার বাড়ি থেকে লাঠি, বর্শা, তির, ধনুক বের করে আনলো। তৈরি হলো সাহেবের মুখোমুখি হওয়ার জন্য। 

      পরের দিন সকাল। গ্রাম জুড়ে থমথমে ভাব। প্রতিটা বাড়ির দরজা জানালা বন্ধ। উৎকন্ঠার সঙ্গে সময় গুনছে গ্রামের মানুষ। এই বুঝি সাহেব এলো, অবাধ্য ছেলেগুলোর ওপর বেপরোয়া হয়ে চাবুক চালাতে শুরু করলো। ভাবতে ভাবতেই ঘোড়ায় চেপে সাহেব এলো। এসেই হুঙ্কার ছাড়লো, "হেই ইয়ং মেন, হয়ার আর ইউ অল? কাম আউট ফ্রম হোম অ্যান্ড কাম উইথ মি অ্যাট গার্ডেন।"

      মুকুন্দ বেরিয়ে এলো ঘর থেকে। হাতে লাঠি। সে উত্তর দিলো, "নো মিষ্টার এলিসন। নো বডি ইস রেডি টু গো উইথ ইউ।"

      - "হোয়াই?"

       - "বিকজ লার্জ নাম্বার অফ পিপল অফ দি ভিলেজ আর হাইলি ইনজিওরড। দে নিড ট্রিটমেন্ট। অ্যাট ফার্স্ট ইউ হ্যাভ টু বেগ অ্যাপলজি অ্যান্ড কমপেনসেট ফুললি। দেন আদার পিপল উইল থিঙ্ক অ্যাবাউট ইয়োর গার্ডেন।"

      মুকুন্দর কথা শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠে এলিসন সাহেব। বলে, "হু দ্য হেল ইউ আর? আই নেভার সিন ইউ অ্যাট হেয়ার।"

      - "আই অ্যাম মুকুন্দ। সন অফ ইনজিওরড শ্যাম সুন্দর হাজারিকা। বাট হু আর ইউ? হোয়াট ডু ইউ ডু অ্যাট হেয়ার? গো ব্যাক ইওর কান্ট্রি।"

      উদ্ধত সাহেবের চাবুক ধরা হাত শূন্যে উঠলো। শূণ্যে উঠলো মুকুন্দর হাতে ধরা লাঠি। সেইসঙ্গে শূণ্যে উঠলো মুকুন্দর পাশে এসে দাঁড়ানো আরো দশ বারোজন যুবকের হাতের লাঠি। প্রমাদ গুনলো সাহেব। ঘোড়া ঘুরিয়ে ফিরে গেল। যাওয়ার আগে হুমকি দিয়ে গেল, "আই উইল কাম ব্যাক সুন।"

      কিছুক্ষণ পরে সাহেব আবার ফিরে এলো। এবার তার হাতে চাবুকের বদলে বন্দুক। সঙ্গে দশজন লাঠিধারী রক্ষী। অবশ্য ইতিমধ্যে মুকুন্দ তার মোর্চা গুছিয়ে নিয়েছে। এলিসন সাহেব গ্রামে ঢুকে শূণ্যে গুলি ছুঁড়লো। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বাড়ির, বিভিন্ন গাছের আড়াল থেকে ছুটে আসতে লাগলো ঝাঁকে ঝাঁকে তির, বর্শা, পাথর। কিছু তির বিঁধলো ঘোড়ার গায়ে, সাহেবের শরীরে। পাথরের টুকরোতে ফাটলো সাহেবের কপাল। তার হাত থেকে খসে পড়লো বন্দুক। একজন আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে লাথি মেরে বন্দুকটাকে অনেক দুরে সরিয়ে দিলো। ত্রিশ জন ছেলে লাঠি হাতে ঝাঁপিয়ে পড়লো লাঠিধারী দশজন রক্ষীর উপরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রণে ভঙ্গ দিয়ে লাঠি ফেলে পালালো রক্ষীরা। গনপিটুনী খেয়ে সাহেবও গ্রাম ছাড়লো।

      এলিসন সাহেব প্রথমে ভেবেছিলো আইনি ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু তার শুভাকাঙ্খীরা তাকে বিরত করলো। বোঝালো যে এখন সময়টা ইংরেজদের পক্ষে অনুকূল নয়। তাছাড়া আইনি ব্যবস্থা নিলে বেশ কিছুদিন চা উৎপাদন বন্ধ থাকবে। আখেরে লোকসান হবে। ওসব না করে একটা সমঝোতা করে নেওয়া ভালো। পরিস্থিতি বুঝে সমঝোতার পথে হাঁটলো এলিসন। জয় হলো মুকুন্দর। মুকুন্দ তার বয়স্যদের বললো, "দেখলিতো এরা সব কাগজের বাঘ। একটু রুখে দাঁড়ালেই এদের জারিজুরি শেষ। তবে যতদিন এরা এদেশে থাকবে, ততদিন আমাদের উপর অত্যাচার চালাবে। এই দেশ থেকে এদের সমুলে উপড়ে ফেলব হবে।"

      - "কিভাবে?"

      - "সেটা খুব তাড়াতাড়ি হবে। দেশ নায়ক নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস বিরাট সেনা বাহিনী নিয়ে এগিয়ে আসছে ভারতের দিকে। যখন ঐ বিশাল বাহিনী ভারতে ঢুকবে, তখন ঐ বাহিনীর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তোরা হাত বাড়াবিতো?"


                          
 তিন 


      মুকুন্দ, বীরেন্দ্র, নকুল তিনজন আবার মিলিত হয়েছে নির্দিষ্ট স্থানে, নির্দিষ্ট সময়ে। ভুমিকা ছাড়াই মুকুন্দ বলতে শুরু করলো, "একদিন আমার মনে সংশয় ছিল যে আমরা মাত্র তিনজন কতটা কি করতে পারবো! আজ হিসাব করে দেখা যাচ্ছে যে কয়েকশো যুবককে আমরা বাস্তব পরিস্থিতিটা বোঝাতে পেরেছি। অত্যাচারী ইংরেজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মানসিকতা তৈরি করে দিতে পেরেছি। তারা সর্বশক্তি দিয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। এমনকি দেশের জন্য, জাতির জন্য, সার্বভৌমত্বের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতে তারা প্রস্তুত। আসামের বিভিন্ন জেলায়, গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে থাকা আমাদের সদস্যরা গৌহাটির আসে পাশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসে আশ্রয় নিয়েছে। আজাদ হিন্দ ফৌজের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইতে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।"

      মুকুন্দ থামতেই বীরেন্দ্র বলতে শুরু করে, "আমার কাছে খবর এসেছে যে আমাদের দুই সাথী অরুণ এবং পরাশর কলকাতা থেকে বেশ বড় অঙ্কের রসদ এবং বেশকিছু সদস্য সংগ্রহ করে গৌহাটির পথে রওনা দিয়েছে। এছাড়াও বিহারের পাটনা, উড়িষ্যার কটক, এবং উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ সংগঠিত হতে শুরু করেছে। অর্থাৎ আজাদ হিন্দ বাহিনীর ভারতে ঢোকার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে। অন্য দিকে মণিপুরী, কুকি, নাগা যুবকরাও সংঘবদ্ধ হতে শুরু করেছে। অতয়েব আমাদের স্বাধীনতা কেবল সময়ের অপেক্ষা। এবং..."

      বীরেন্দ্রর কথার মাঝেই নকুল বলতে শুরু করে, "বিশ্ব যুদ্ধের পরিস্থিতি এখন চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপান ক্রমশ প্রভাব বিস্তার করছে। মিত্র শক্তি ক্রমশ পিছু হটতে শুরু করেছে। আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রতি জাপানের সমর্থন যেমন আছে। তেমনি রসদ যোগানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের দখল করা আন্দামান এবং নিকোবর দ্বীপ দুটো তারা আজাদ হিন্দ ফৌজকে দিয়েছে। নেতাজী এই দ্বীপ দুটোর নতুন নামকরণ করেছেন 'শহীদ' এবং 'স্বরাজ'। সামরিক অভিযানের সুবিধার জন্য ভারতের নিকটবর্তী রেঙ্গুনে সামরিক দপ্তর গঠিত হয়েছে। রেঙ্গুন থেকে নদী, পাহাড়, অরণ্য পেরিয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজ পায়ে হেঁটে ভারতের দিকে রওনা হয়েছে। পিঠে সামরিক বোঝা নিয়ে প্রতিদিন তারা কুড়ি পঁচিশ কিলোমিটার হাঁটছে। আজাদ হিন্দ ফৌজ এখন আরাকানের পথে।"

      সারা দেশ আনন্দে মেতে উঠেছে। ঘরে ঘরে উৎসব হচ্ছে। বিভিন্ন ধর্মস্থানে প্রার্থনা চলছে আজাদ হিন্দ ফৌজের সফলতার জন্য। দেশের যুব সমাজ মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত আজাদ হিন্দ ফৌজে যোগ দেওয়ার জন্য।  দেশের হয়ে লড়ার জন্য। এরমধ্যে রেডিও মারফত খবর এসেছে আজাদ হিন্দ ফৌজ আরাকান দখল করেছে। এগিয়ে আসছে ইম্ফলের দিকে।

      প্রত্যেক দিনই আজাদ হিন্দ ফৌজের অগ্রগতির খবর আসছে। বিভিন্ন জেলায়, গ্রামে গঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মহাদেব, হরিহর, রঘু, নীলকান্ত,  ব্রজেশ্বরের মত  শয়ে শয়ে ছেলেরা বাড়ি ঘর ছেড়ে গৌহাটির আসে পাশের অঞ্চলে আশ্রয় নিয়ে সংগঠনের পরবর্তি নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। যত এগিয়ে আসছে আজাদ হিন্দ ফৌজ, তত কোনঠাসা হচ্ছে ইংরেজ তথা মিত্র শক্তি। মহাদেব, হরিহররা আর গোপনে নয়, প্রকাশ্যে রাস্তায় এসে 'জয়হিন্দ' ধ্বনিতে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তুলছে।

      আবার এসেছে সাফল্যের খবর। আবার উদ্বেলিত দেশ। আবার গগনভেদী 'জয়হিন্দ' স্লোগানে মুখরিত ভারত বর্ষ। ভারতের সীমানায় প্রবেশ করে ব্রিটিশদের মৌডক সেনা ছাউনিতে অতর্কিতে আক্রমণ চালায় আজাদ হিন্দ ফৌজ।  ব্রিটিশ সেনারা ভয়ে অস্ত্রশস্ত্র ফেলে পালিয়ে যায়। প্রচুর অস্ত্র করায়ত্ব হয় আজাদ হিন্দ ফৌজের। তারপর আরও সাফল্য। কোহিমা দুর্গ দখল করে আজাদ হিন্দ ফৌজ। কোহিমা ডিমাপুর রোডের একটা ক্যান্টনমেন্ট করায়ত্ব হয় আজাদ হিন্দ বাহিনীর। এরপর মণিপুরের দিকে এগোতে থাকে বাহিনী। মণিপুরের বেশ কিছুটা অংশ অধিকৃত হয় বাহিনীর। মণিপুরের মৈরাংয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হয়। এবার শুরু হলো ইম্ফল দখলের লড়াই। দীর্ঘদিন ধরে চললো লড়াই। আজাদ হিন্দ বাহিনী প্রায় তিন মাস অবরোধ করে রাখে ইম্ফলকে।

      আচমকাই পট পরিবর্তন হলো বিশ্ব যুদ্ধের এবং বিশ্ব রাজনীতির। একই সঙ্গে পরিবর্তিত হলো ঋতুর। এলো বর্ষাকাল। প্রচন্ড প্রাকৃতিক দুর্যোগে রসদের যোগান প্রায় বন্ধ। খাদ্য, বস্ত্রের অভাব সেইসঙ্গে বিষাক্ত কীট পতঙ্গের উপদ্রবে পরিবেশ ক্রমশ প্রতিকূল হয়ে ওঠে আজাদ হিন্দ ফৌজের পক্ষে। অন্যদিকে মিত্র শক্তি প্রচন্ড আক্রমণে দখল করে নেয় বর্মার উত্তরাঞ্চল। জাপান বাহিনী রেঙ্গুন ছেড়ে পালায়। রেঙ্গুন চলে যায় মিত্র শক্তির দখলে। ফলে আজাদ হিন্দ ফৌজের পক্ষে লড়াই চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইংরেজ বাহিনী কামান, ট্যাঙ্ক এবং আকাশ পথে আক্রমণ করে দিশেহারা করে তোলে আজাদ হিন্দ ফৌজকে। ফলে আজাদ হিন্দ ফৌজ অস্ত্র ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। 

      আজাদ হিন্দ ফৌজের পরাজয়ে হতাশ হয়ে পড়ে বীরেন্দ্র, মুকুন্দ, নকুল, মহাদেব, হরিহরের মত সারা দেশের হাজার হাজার, লাখ লাখ তরুণ যুবক। তাদের মুখে একটাই প্রশ্ন "আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে স্বাধীনতার জন্য?"

      না, বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। মাত্র দুবছর পরে ভিন্ন পথে এসেছিল স্বাধীনতা। তবে আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রবল ঝড় ইংরেজদের ভারতে রাজত্ব করার স্বপ্ন এবং মনোবলকে চুরমার করে দিয়েছিল।


                          ।। সমাপ্ত ।।



      ==========================

                দেবাংশু সরকার,
               M.G.ROAD, BUDGE BUDGE,
               KOLKATA  - 700137.


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,