Skip to main content

গল্প ।। মুখোশের আড়ালে ।। মৌসম সামন্ত (অসুর)

মুখোশের আড়ালে 

মৌসম সামন্ত (অসুর)


আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে অনিমা সেই চোখ, সেই, মুখ, সেই রঙ আগের চাইতে চেহারায় লাবণ্য এসেছে কিছুটা এর কারণ ইদানিং মনটা খুব ভালো তার কিন্তু এই ঔজ্জ্বল্যতার আড়ালে কুৎসিত চেহারাটা বাহ্যত দেখা যায় না অথচ সে দেখতে পাচ্ছে ঠিকই নিজের ভেতরের কদর্যতা যখন নিজের চোখেই ধরা পড়ে, যখন আত্মগ্লানি অনুভব হয় সেই মুহূর্তের কষ্টগুলোর সাথে আর কোনো কষ্টেরই তুলনা হয় না বুকের ভেতর ভারি একটা পাথর চেপে বসে, প্রাণখুলে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য ফুসফুস অস্থির হয়ে পড়ে কিন্তু নিঃশ্বাস নিতেও ভয় লাগে নিজের চারপাশে যে পাপের বীজ বুনেছে সে সেগুলোই যেন দূষিত কালো ধোঁয়া হয়ে বাতাসের সাথে মিশে আছে প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে এই দূষিত বাতাস তার ভেতরে প্রবেশ করবে ক্রমশ গ্রাস করে নেবে তাকে আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়ল অনিমা অনেক বড়ো পাপ করে ফেলেছে সে ভালোবেসে ফেলেছে ভালোবাসা পাপ নয়, কিন্তু অনিমার ভালোবাসা, ভীষণ বড়ো পাপ!
__________________________________
 
এই শুনছো, শোনো না?’
 
হুম বলো
 
আমি টেস্ট করেছি সাইন বলছে পজিটিভ
 
মানে কী?’
 
অনিমা বুঝতে পারে না কী বলবে? সারাজীবন বাংলা সিনেমায় যেমন দেখে এসেছে, ‘তুমি বাবা হচ্ছোএভাবে? নাকি বলবে, ‘বাসায় নতুন অতিথি আসছেকিন্তু কোনোটাই সে বলল না একরাশ জড়তা নিয়ে অনিমা বলল,
আমি প্রেগন্যান্ট
 
আচ্ছা কংগ্রেটসএকেবারেই স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল সজীব
 
আমি এখন কী করব?’ ভীত কণ্ঠে জানতে চাইল অনিমা
 
এতো সকালে আর কী করবে? আসো আমার পাশে এসে ঘুমাও
__________________________________
 
বউমাতোমার কয়টা রুটি ছেঁকতে কতোক্ষণ লাগে! সজীব তো রেডি হয়ে বসে আছে ওর অফিসের দেরি হচ্ছে তো
 
শাশুড়ির চিৎকারে অতীত থেকে বাস্তবে ফিরে এলো অনিমা আজকাল কী হচ্ছে কে জানে! ফেলে আসা দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে আর এভাবেই অতীতে বিচরণ করতে করতে বর্তমানের সব কাজ ---- করে ফেলছে টেবিলে নাশতা দিয়ে চুলায় চা বসাতে গেল অনিমা অমনি সজীবের চিৎকার,
 
এগুলো কী রাঁধো অনিমা? ভাজি খাচ্ছি নাকি ঘাস খাচ্ছি বুঝতেই পারছি না বিয়ের দশ বছরেও রান্নাটা শিখতে পারলে না!’
 
অনিমা দৌড়ে গিয়ে হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ভাজিতে সমস্যাটা কোথায় বুঝতে পারছে না সজীবের পছন্দ মতোই তো রান্না করেছে পাতাকপিতে চিংড়ি, টমেটো, বেশি করে কাঁচামরিচ আর শেষে ধনেপাতা সজীব চায় পাতাকপি ভাজি সবুজ হবে আর খুব বেশি সেদ্ধ হবে না অনিমা তাই গুড়া মসলা দেয় না ভাজিটাও আধাসেদ্ধ করে সবই তো ঠিক ঠিক করেছে কিন্তু সজীব এভাবে বলছে কেন! বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি সজীব নিজেই বলছে,
 
এতো মোটা করে কেটেছ কেন? ভাজি এতো মোটা করে কাটে? একটা কাজও তুমি পারফেক্টলি করতে পারো না
 
অনিমা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ওর বলতে ইচ্ছে করে না, পাতাকপির গোড়ার দিকের অংশ একটু মোটা হয় চুপচাপ চলে আসে রান্নাঘরে শুনতে পায় শাশুড়ি বলছে,
তাড়াহুড়ো করে কাটছে মনে হয় সবগুলো তো মোটা হয় নাই
 
আরো অনেক কিছু বলে তিনি ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন কিন্তু অনিমার সেদিকে খেয়াল নেই, চোখদুটো ঝাপসা হয়ে আসছে ওর এতো অল্পতেই কেন এই পোড়াচোখে পানি আসবে? নিজেকেই ইচ্ছেমতো বকতে থাকে সে
 
শীতকালের সময়গুলো ঠিক শীতের মতোই রুক্ষ ঘন কুয়াশা যেন শুধু প্রকৃতিকেই না মানুষের মনকেও চারপাশ থেকে জাপটে ধরে অনিমার বড্ড মন খারাপ হয় সময়গুলোতে বাচ্চাদের স্কুল, ঘরের কাজ, রান্না-বান্না সবকিছু করেও যেন সময়টা কাটতে চায় না আলমারির ড্রয়ারে যত্ন করে রাখা একাডেমিক সার্টিফিকেটগুলো বের করে, দুফোটা চোখের জল গড়িয়ে পড়ার আগেই মুছে ফেলে তারপর যত্ন করে আবার কাগজগুলোকে বন্দি করে রাখে সেই অন্ধকার কুঠুরিতে জন্মদিনে দেওয়া বন্ধুদের উপহারগুলোরও ঠাঁই হয়েছে পাশের এমন আরেকটা আয়তাকার বক্সে একটা কার্ড বের করে উল্টে দেখে, গোটা গোটা অক্ষরে লেখাতোর টোলপড়া হাসিটা অমলিন থাকুক আজীবন- শুভ জন্মদিন দোস্তমৃদুলের লেখা মৃদুল কি জানে হাসতে ভালোবাসা সেই মেয়েটা আজকাল হাসতে ভুলে গেছে!
 
শীতকালের দিনগুলো ছোটোই হয় অথচ অনিমার যেন দিনটা কাটতেই চায় না ছেলেমেয়েরা স্কুল থেকে ফিরে গোসল, খাওয়া-দাওয়া সেরে বাসার টিচারের পড়া তৈরিতে ব্যস্ত থাকে শাশুড়ি এই সময় ইসলামিক বই পড়েন অনিমা একটু গড়িয়ে নেয় কিন্তু আজ কেন যেন চোখদুটো লেগে আসে মাসের কয়টা দিন দুপুরবেলা না চাইতেও ঘুম আসে, ক্লান্তিতে, অবসাদেমোবাইলের রিংটোনে ঘুম ভাঙে অনিমার কানে মোবাইল ধরে বলে,
হ্যালো
 
কী ঘুমাচ্ছ?’
 
হুম
 
ঘুমাবেই তো ঘুম ছাড়া তোমার আছে কী!’ বলেই লাইনটা কেটে দেয় সজীব অনিমা উঠে পড়ে ঘড়িতে দেখে বিশ মিনিটের মতো চোখবন্ধ ছিল তার এটাকে কি ঘুম বলে! আচ্ছা ঘুমালেই বা! তাতে সমস্যাটা কী! কারো তো কোনো ক্ষতি হচ্ছে না বিয়ের পর থেকেই অনিমা খেয়াল করেছে, সজীব ওর ঘুমঘুম কণ্ঠ শুনলেই রেগে যায় অথচ একজন এই কণ্ঠ শুনে বলেছিল, ‘তোমার ঘুমজড়ানো কণ্ঠটা ভীষণ সুন্দর আরেকটু কথা বলো না প্লিজ
 
সে লোকটা অনিমার কেউ ছিল না ওর বান্ধবী বিথীর প্রেমিক ছিল সে একদিন দুপুরবেলা প্রয়োজনেই ফোন করেছিল অনিমা ঠিক আজকের মতোই ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলেছিল,
হ্যালো ফয়সাল ভাই…’
অহ হো, অনিমা ঘুমাচ্ছ?’
 
হুম বলেন সমস্যা নাই
বিথীকে পাচ্ছি না সকাল থেকে তুমি কি জানো কিছু?’
 
জানি না কিছু জানতে পারলে আপনাকে জানাব
 
ইয়ে, অনিমা তোমার ঘুমজড়ানো কণ্ঠটা ভীষণ সুন্দর আরেকটু কথা বলো না প্লিজ
 
ভাই আপনি আমার সাথে ফ্লার্ট করছেন আপনার প্রেমিকা জানলে কিন্তু কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলবে আপনাকে
 
কী বলো! সাংঘাতিক তো ওর ফ্যামিলিতে কেউ কষাই ছিল নাকি! আমি তো জানতাম না
 
অনিমা খিলখিল করে হেসে ফেলেছিল আজ সে ঘটনা মনে পড়াতে আবারো ঠোঁটে একচিলতে হাসি ফুটে উঠল মানুষের মন কী অদ্ভুত! মাত্রই সজীবের কথায় অভিমানে চোখে পানি চলে এসেছিল আর এখন ফয়সাল ভাইয়ের কথা মনে পড়ে মনটা ভালো হয়ে গেছে অনিমা বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে আসরের নামায পড়ে বিকেলের নাশতার আয়োজন করতে রান্নাঘরে যেতে হবে
 
তিহাম আর তিয়ানার টিচার রবিন আসে সন্ধ্যাবেলায় ভার্সিটির স্টুডেন্ট সজীবের বন্ধুর দূর সম্পর্কের ছোটোভাই এমনিতে রবিনের সাথে প্রয়োজন ছাড়া কথাবার্তা হয় না আজ নাশতা দেওয়ার সময় রবিন অনিমাকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে অনিমার অস্বস্তি হয় খুব রবিন বলে উঠে,
ভাবি আপনার শরীর খারাপ নাকি! চেহারা কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে!’
 
অনিমা মুচকি হাসার চেষ্টা করে বলে,
তাই নাকি! কই আমি তো ভালোই আছি
নিজের ঘরে এসে আয়নার সামনে দাঁড়ায় অনিমা সত্যিই কি চেহারা খারাপ হয়ে গেছে! সজীব তো কিছু বলেনি অবশ্য সজীবের কি সময় হয় অনিমার মুখের দিকে তাকানোর? কার ওপর যেন প্রচণ্ড অভিমান হয় অনিমার বুকের ভেতর তীব্র একটা হাহাকার বয়ে যায় মোবাইল নিয়ে ডায়াল করে সজীবের নাম্বারে,
 
হ্যা অনিমা বলো
কী করছ?'
 
অফিসে মানুষ কী করে? লুডু খেলে না নিশ্চয়ই
এভাবে বলছ কেন? তুমি ফোন করেছিলে তখন আমি শুয়েছিলাম তাই এখন…’
 
দরকারে তোমাকে পাওয়া যায় না কখনো বে-দরকারে ফোন করো কাজের প্রেসারে আছি এখন ফাও আলাপের সময় নাই
 
অনিমা কয়েক মুহূর্ত স্থাণু হয়ে বসে রইল সজীব লাইন কেটে দিয়েছে এতো অবহেলা! অভিমানে বুক ভেঙে আসতে চায় অনিমার বুকের ভেতর প্রচণ্ড ভাঙচুর হচ্ছে চিৎকার করে না কাঁদলে এই ভাঙচুর তাকেই ভেঙে ফেলবে দমবন্ধ হয়ে আসতে চাইছে ওর
আম্মা আমি ছাদে যাচ্ছি কাপড় আনতে ভুলে গেছিলাম'
 
তাই বলে এই সন্ধ্যারাতে ছাদে যাবা? কালকে আনিও
 
অনিমা শাশুড়ির কথা আমলে নেয় না দ্রুতপায়ে ছাদে চলে আসে ছাদে আসলে কোনো কাপড় নেই কিন্তু মাথার ওপর খোলা আকাশ আছে এই আকাশের নিচে বসে একটু মনখুলে কাঁদা দরকার নাহলে ভেতরে অল্প যে তোলপার হচ্ছে তা প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে
 
অনিমা শব্দ করেই কাঁদছে প্রতিবার কান্নার দমকে বেরিয়ে আসছে এতোদিনের জমানো দুঃখ, অভিমান, হতাশা একটা সুন্দর জীবনের জন্য মানুষ কত কীই না করে অনিমাও চেয়েছিল গল্পের মতো সুন্দর হবে জীবনটা সিনেমার মতো প্রথম প্রেগন্যান্সির সময় স্বামী কোলে তুলে আনন্দ প্রকাশ না করলেও কপালে অন্তত একটা চুমু খাবে প্রেগন্যান্সির প্রতিটা মুহূর্ত অমূল্য নতুন নতুন অভিজ্ঞতা, নানান রকমের অনুভূতি, রাত-বিরাতে আজগুবি সব জিনিস খাওয়ার ইচ্ছে, কোনো কারণ ছাড়াই কেঁদে বুক ভাসানো, অথবা অকারণেই আনন্দে ঘরময় প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ানো- সব কিছু কারো সাথে শেয়ার করতে খুব ইচ্ছে হয় আর সেই মানুষটা হয় একান্ত আপনজন নিজের স্বামী কিন্তু সজীবকে সে পায়নি সেসময় সেসময় না, পরেও পায়নি আজ এই বোনের মেয়ের বিয়ে, কাল ওই ভাইয়ের ছেলের স্কুলে ভর্তি, গ্রামে জায়গা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা, অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে যাওয়া নানাকাজে ব্যস্ত ছিল সজীব ব্যস্ততা এখন আরো বেড়েছে শুধু মাসের কয়েকটা দিন রাতের বেলা নিতান্ত প্রয়োজনে কাছে আসা মিনিট দশেক উদ্দামতার পর সব নীরব-নিস্তব্ধ দেয়াল ঘড়ির টিকটিক শব্দও যেন অনিমার হৃদয়কে তখন এফোঁড়ওফোঁড় করে দিতে চায়
 
কখনো বৃষ্টি দেখে ভেজার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে পারে না অনিমা জ্যোৎস্নার প্লাবনে গা ভাসাতে পারে না সজীবের উত্তর, ‘বৃষ্টিতে ভেজার বয়স আছে নাকি!’ ‘চাঁদ দেখার কী আছে! চাঁদ তো প্রতিমাসেই ওঠে
 
মানুষের জীবন গল্প বা সিনেমার মতো রোমান্টিক হয় না এটা অনিমা মানে তাই বলে বাস্তবতা এতোটা কঠিন হতে পারে অনিমা সেটা মানতে নারাজ যদি মেনে নিতে পারতো তাহলে নিশ্চয়ই এখন সবার কাছ থেকে লুকিয়ে ছাদে এসে কাঁদতে হতো না কিন্তু এভাবে আর কতো! অনিমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটা সময় তো এভাবেই চোখের জলেই কেটে যাচ্ছে
__________________________________
 
শীতের রুক্ষতার পর প্রকৃতিতে যেমন বসন্ত আসে, ঠিক অনিমার জীবনেও হঠাৎ করে ফাগুন হাওয়া এলো সময় কাটাতে কিংবা অতীতের দুঃখময় স্মৃতিগুলো ভুলে থাকতে অনিমা লেখালেখি শুরু করল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিভিন্ন ওয়েব সাইটেচন্দ্রাবতীছদ্মনামে নিজের জীবনের গল্পগুলোকেই তুলে ধরতে লাগল অল্পদিনেই তার একান্ত নিজের গল্পগুলো সবার গল্প হয়ে গেল কমেন্টবক্স থেকে ইনবক্সেও পাঠকরা ক্ষুদে বার্তা দিচ্ছে, তাদের ভালো লাগা জানাচ্ছে, শুভেচ্ছা জানাচ্ছে অনিমার ভালো লাগে আজকাল সজীবের নিত্য গালমন্দ ভুলে থাকে এই লেখালেখির জগতে ডুবে থেকে সজীব বাসায় এলেই আবার কিছু সময়ের জন্য সব ভুলে পুরোনো অনিমা হয়ে যায় যন্ত্রের মতো সংসারের কাজ করে, এমনকি সজীবের সাথে অন্তরঙ্গতাও হয় অনুভূতিহীন, দায়সারাভাবে এরপর সজীব যখন ওপাশ ফিরে ঘুমায় অনিমা নিঃশব্দে কেঁদে বালিশ ভেজায় সংসার সামলানো, বাচ্চা জন্ম দেওয়া তাদের বড়ো করা আর স্বামীর শারীরিক চাহিদা মেটানো এসবের জন্যই যেন অনিমার প্রয়োজন যেদিন এসব প্রয়োজন সে মেটাতে পারবে না সেদিন ওকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে এতোদিনের সম্পর্ক, অথচ ভালোবাসা, আন্তরিকতা, শ্রদ্ধাবোধ এসবের ছিঁটেফোটার দেখাও মেলে না অনিমা ভাবে, আমি কি এতোই মূল্যহীন!
 
একদিন বিষণ্ন দুপুর অনিমা মোবাইলে ইনবক্স চেক করছিল অচেনা একজনের মেসেজ দেখল আদারস বক্সে রিজভী আহসান নামের একব্যক্তি একটি ইউটিউব লিংক পাঠিয়েছেন, সাথে লিখেছেন, ‘আপনার কবিতা পড়ে এতোটাই বিমোহিত হয়েছিলাম আবৃত্তি না করে পারলাম না
 
অনিমা আবৃত্তিটা শুনল তার নিজের লেখা কবিতা-
 
কোনো এক রাতজাগা পাখির ডানায় চড়ে
ঘুরে বেড়াই তেপান্তর,
ঘুরে ঘুরে দেখি, খুঁজি-ফিরি,
আপন কি কেউ আছে এতো এতো মানুষের ভীড়ে?
কেউ কি আছে একান্ত আমার নিজের?
 
আমার চোখের গভীরতায়
নিজেকে হারিয়েছিল যে যুবক,
আমি তার প্রেমে পড়িনি
নিষ্পলক চেয়ে থাকার মুহূর্তগুলো
বিশেষ নয় বিভীষিকাময় ছিল
আমি তাই ফিরেও তাকাইনি
 
আমার গালের টোলে ডুবে গিয়েছিল যে বালক
আমি তার প্রেমেও পড়িনি,
নিতান্ত অবহেলায় এড়িয়ে গিয়েছি,
অসমবয়সী প্রেম কী করে হয়!
আমি তাই ওপথ মাড়াইনি
 
আমাকে ঠিক আমার মতোই রাখবে বলে
দিব্যি দিয়েছিল যে পাগল ছেলেটা
আমি তাকে বিশ্বাস করিনি,
তার ছলছল চোখের ভাষাকে অবজ্ঞা করেছি,
তার অভিশাপেই কি ভালোবাসা আর আসেনি!
 
আজকাল প্রচণ্ড তৃষ্ণার্থ হয়ে থাকি
একফোঁটা ভালোবাসার আশায় উন্মুখ আমি,
ভালোবাসা এখানে খুব দামী,
সহজে কি বিলানো যায়?
এখন আমি ভালোবাসাহীন কাঙাল ফকির
তোমাদের রাস্তায়
তোমাদের সুখি সুখি মুখ দেখে আমি
মরে মরে যাই, তৃষ্ণায়, ঈর্ষায়
 
একটা সুপুরুষ ভরাট কণ্ঠে নিজের কবিতা শুনে অনিমার মনে অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেল একবার, দুবার, তিনবার এভাবে অসংখ্যবার শুনল যতো শুনে ততই মুগ্ধ হয় একসময় সে আবিস্কার করল, কানে হেডফোন লাগিয়ে সারাদিন শুধু অচেনা ভদ্রলোকের কণ্ঠই সে শুনে যাচ্ছে
 
অনিমা রিজভীকে আবেগাপ্লুত হয়ে মেসেজ করল ভদ্রলোকও প্রতিউত্তর দিল সাথে সাথে এভাবে মেসেজের আদান-প্রদান হতে হতে অনিমা বুঝতেই পারল না কবে, কখন, কীভাবে সে রিজভীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করতে শুরু করেছে এই আকর্ষণ ধীরে ধীরে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে ছোটোবড়ো সবকিছুই সে রিজভীর সাথে শেয়ার করে রিজভী কখনো অনিমাকে বলেনি সে অনিমাকে পছন্দ করে বা ভালোবাসে কিন্তু অনিমা কেন যেন ধরেই নিয়েছিল রিজভীর সাথে সে প্রেম করছে প্রেমে পড়লে যেমন মেয়েদের চেহারায় লাবণ্য আসে অনিমারও এসেছে তাছাড়া আজকাল সে নিজের যত্ন নিচ্ছে খুব
 
নিজের সাংসারিক জীবন ভালোভাবেই চলছিল বরং আগের চাইতেও ভালো মন ভালো থাকলে সবকিছুই ভালো থাকে রিজভীতে আচ্ছন্ন অনিমা সজীবের অবহেলা কিংবা গালমন্দকে আর আমলেই নেই না রাতের অন্তরঙ্গতায় অন্ধকার ঘরে সজীবের মুখটা দেখা যায় না অনিমা নিজের অবচেতন মনেই সজীবের জায়গায় রিজভীকে কল্পনা করতে শুরু করে অন্যরকম রোমাঞ্চ কাজ করে তার মধ্যে সেই থেকে মিলনের রাতগুলোকে আর নিছককরতে হয় বলে করামনে হয় না আজকাল অনিমার আগ্রহই বেশি থাকে সজীব স্ত্রীর এমন আচরণে খুশিই হয় তার স্ত্রী হাসিমুখে তার সাথে অভিনয় করে যাচ্ছে এটা সে ঘুণাক্ষরেও টের পায় না অনিমা বাস্তবতা ভুলে বাস করতে শুরু করে তার নিজের রচিত কল্পনার জগতে যেখানে সে রিজভীর সাথে সংসার পেতেছে ওদিকে অনিমার মনের খবর রিজভীও জানে না সে শুধু ভালো বন্ধু হিসেবেই অনিমার সাথে যোগাযোগ রাখছে
_______________________________
 
আচ্ছা তোমার কি মনে হয় আমরা পরকীয়া করছি?’
 
নাহ! তা মনে হবে কেন? আমরা তো রোজ দেখা করছি না কিংবা অন্তরঙ্গ সময় কাটাচ্ছি না আমরা তো একে অপরকে ঠিক ওভাবে দেখি না আমরা ভালো বন্ধু এখানে পরকীয়া মনে হওয়ার তো কারণ নেই
 
রিজভীর সরল সহজ উত্তরে অনিমার মনটা ভেঙে যায় আবার নিজেই নিজের মতো করে জোড়া লাগায় নিজেই নিজেকে বোঝায় রিজভী তাকে ভালোবাসে কিন্তু প্রকাশ করে না
 
আচ্ছা তুমি বিয়ে করছ না কেন? তোমার মনে হয় না তোমার একটা বিয়ে করা দরকার?’
 
চ্যাট করতে করতে অনিমা রিজভীকে প্রশ্নটা করে রিজভী উত্তর দেয়,
ব্যবসাটা আরেকটু গুছিয়ে নিই বছরে দেড়েক পর বিয়ে করব ভাবছি
 
তাহলে তো এখন থেকেই মেয়ে দেখা দরকার তুমি বললে আমি মেয়ে দেখতে পারি কেমন মেয়ে পছন্দ তোমার?’
 
পাত্রী তো রেডিই আছে শুধু বিয়ে করা বাকি
 
অনিমা ভাবে রিজভী অনিমার কথাই ভাবছে সে আগ্রহ নিয়ে জানতে চায়,
তাই নাকি? কে সে? আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে না?’
 
রিজভী একটু পর একটা মেয়ের বেশ কয়েকটি ছবি পাঠালো, কয়েকটা রিজভীর সাথে বেশ অন্তরঙ্গভাবেই তোলা অনিমা স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছে না তার মনে হচ্ছে তার হৃদয়টা ভেঙে কয়েক সহস্র টুকরো হয়ে গেছে অফলাইন হয়ে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে গেল শাওয়ার ছেড়ে বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল পানির নিচে
 
নাহ! রিজভী প্রতারণা করেনি রিজভী কখনই বলেনি সে অনিমাকে পছন্দ করে তাহলে অনিমার এতো খারাপ লাগছে কেন! কেন মনে হচ্ছে তার পৃথিবীটা উজাড় হয়ে গেছে! আর সে আসলে কী অসম্ভব কল্পনা করছিল এতোদিন! সজীব, তিহাম আর তিয়ানাকে নিয়েই ওর সংসার এরাই তো চরম সত্য এরাই তো অনিমার পৃথিবী তাহলে এতোদিন কোন পৃথিবীতে সে বাস করছিল অনিমা!
 
এরপর শুরু হলো অনিমার নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়া শুরু হলো নতুন করে হিসাব নিকাশ
__________________________________
 
ভুলতে চাইলেই কি ভোলা যায়? কাউকে মনপ্রাণ উজাড় করে ভালোবাসার পর কীভাবে তার সাথে দূরত্ব রেখা টানা যায়! অনিমা এখন ভালোভাবেই জানে রিজভী অন্য কাউকে ভালোবাসে তার পৃথিবীটা শূন্য শূন্য লাগে প্রেমে পড়া, ভালোবাসা পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর অনুভূতি বলা হয়, ভালোবাসা পবিত্র কিন্তু স্বামী-সন্তান-সংসার থাকার পরও অন্য কোনো পুরুষকে মন দেওয়া, ভালোবাসা, সে তো ঘোরতর অন্যায় অন্যায়ের ভার সইতে পারছে না অনিমা পারছে না রিজভীকেও ভুলতে
 
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে প্রতিদিন একজনকে খোঁজে সেই মেয়েটাকে যে ছিল শুভ্র সাদা মনের, যার হাসিতে পবিত্রতা ছিল, যার কথায় আচরণে স্বচ্ছতা ছিল সে মেয়েটা কোথায় হারিয়ে গেছে! আজকাল আয়নায় যাকে দেখা যায়, সে স্বামী কর্তৃক অবহেলিত, পরপুরুষে আসক্ত, নির্লজ্জ, পাপের ভারে বিদ্ধস্ত এক নারী অনিমা নিজেই নিজের চোখে চোখ রাখতে পারে না আজকাল স্বামীর চোখে চোখ রাখতে পারে না দিনরাত এক অভ্যন্তরীণ অনলে পুড়তে থাকে তবুও অনিমাকে সংসার করে যেতে হয় ভেতরে পাপবিদ্ধ মন লুকিয়ে রেখে বাইরে হাসিমুখে অভিনয় করে যেতে হয়, প্রিয়তমা স্ত্রীর চরিত্রে, আদর্শ পুত্রবধুর চরিত্রে নিজের কাছে নিজেকেই অপরিচিত লাগে আজকাল একটি শরীরে যেন কয়েকটি চরিত্রের বসবাস এদের মধ্যে অনিমা খুঁজতে থাকে শুদ্ধ অনিমাকে, ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়ে কিন্তু তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া না
 
আঠারো বছর পর
 
অনিমা আজ সকাল থেকেই খুব ব্যস্ত তিয়ানার বাগদান হবে আজ ছেলে তিয়ানার পরিচিত তিয়ানার সাথে নাকি ভালো বোঝাপড়া আছে নিজের জীবন তো যেমন তেমন কেটে গেছে এখন মেয়ের জীবন নিয়েই চিন্তিত অনিমা রাফিদকে যতটুকু দেখেছে ভালোই মনে হয়েছে বাকিটা এখন তিয়ানার ভাগ্য
 
পায়েশের বাটিতে বাদাম কুচি আর কিশমিশ ছিটিয়ে টেবিলে রাখল নিজের মনেই ভাবছে, এই দুধসাদা পায়েশে সবুজ পেস্তা কুচি আর বাদামী কিশমিশের কারণেই আরো সুন্দর আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে কাচ্চিতে এলাচ আর লবঙ্গ না হলে কি ঠিকঠাক সুগন্ধ আসতো? মাংস পর্যাপ্ত তাপে জ্বাল দিয়ে সেদ্ধ না করলে কি খাওয়া যেত? জীবনটাই কি তেমন না? শুধু একপেশে রোমান্স আর সুখে ভরপুর হলেই কি জীবনের আসল স্বাদটা পাওয়া যেত? দুঃখ, অভিমান, জরা আছে বলেই তো সুখগুলোকে এতো অমূল্য আর লোভনীয় মনে হয়
 
ব্যস্তভঙ্গীতে মোবাইল কানে সজীবকে নিচে নামতে দেখল অনিমা মেহমানরা চলে এসেছে অনিমার চোখ থেকে এক ফোঁটা স্বচ্ছ তরল গড়িয়ে পড়ল এখন আর কোনো দুঃখ নেই অনিমার সজীব হয়তো বেশি রোমান্টিক ছিল না কখনোই, হয়তো ব্যস্ত ছিল বেশি হয়তো রাগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতটা আয়ত্ব করতে পারেনি কিন্তু কোনো দায়িত্বে বিন্দুমাত্র অবহেলা করেনি সমাজের প্রতিটা মানুষ সজীবকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে অনিমাকে ঈর্ষা করে এতো চমৎকার একজন মানুষের সহধর্মিণী বলে একসময় কতো বোকাই না ছিল অনিমা! এভাবে কখনো ভাবেনি এখন বয়স বাড়ার সাথে সাথে বোধে পরিণত হচ্ছে যা কিছু আছে তার জীবনে সবকিছুর জন্যই একবার চোখ বন্ধ করে ধন্যবাদ জানাল সৃষ্টিকর্তাকে
 
মেহমানরা চলে এসেছে সবার সাথে পরিচিত হতে গিয়ে একজনের দিকে চোখ আটকে গেল অনিমার মোটামুটি গড়নের, শ্যামলা বরণ, চোখে ভারি ফ্রেমের চশমা চশমার আড়ালের চোখদুটো খুব পরিচিত আর হাসিটা কখনোই মন থেকে মুছে ফেলার মতো নয় রিজভী! এখানে কেন এসেছে?
 
রাফিদ বলল,
আম্মা ইনি আমার ছোটাচ্চু
 
অনিমা হাসার চেষ্টা করল রিজভী কি অনিমাকে চিনতে পেরেছে? হালকা একটু মেদ এসেছে শরীরে কপালের সামনে অনেকগুলো চুল সাদা এগুলো কি অনিমাকে অপরিচিত লাগার জন্য যথেষ্ট?
 
আচ্ছা! তোমার ছোটো চাচা! তোমার চাচী আসেনি?’
 
আম্মু চাচ্চু তো বিয়েই করেননি
কথাটা বলল তিয়ানা রাফিদ তিয়ানাকে কী যেন জিজ্ঞেস করল দুজন কীসব কথা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল অনিমার কানে কিছুই গেল না এই বাসাভর্তি মেহমান, এতো আয়োজন, এতো হট্টগোল সব ধীরে ধীরে ঝাপসা হতে শুরু করল চোখের সামনে হঠাৎ করেই কালো পর্দা নেমে এলো অনিমার
__________________________________
 
চোখ খুলতেই সজীবের উদ্বিগ্ন মুখটা দেখতে পেল অনিমা মাথার ওপর ফ্যানটা ঘুরছে বেশ শব্দ করেই আগে তো এতো শব্দ করতো না! হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে উঠে বসতে চাইল অনিমা সজীব বাধা দিল,
আরে করছ কী! শুয়ে থাকো কী যে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে!’
 
কী হয়েছিল আমার?’
 
কী হবে আর! ঠিকমতো কিছু করতে তো পারোই না নিজের যত্নও নিতে পারো না প্রেশার কততে নেমেছে জানো? আমি তোমার খাওয়ার জন্য কিছু নিয়ে আসছি তুমি খবরদার উঠবে না
 
সজীব চলে গেল অনিমা চুপচাপ বসে ভাবছে কেন এমন হলো! সব তো ভালোই চলছিল এভাবে রিজভীর এতো বছর কেন সামনে আসতে হলো কী করবে অনিমা! নিজের হৃদস্পন্দন কীভাবে ঠেকাবে! মেয়ের চাচা শ্বশুর তার কোনো আচরণে মেয়ের জীবনে না অন্ধকার নেমে আসে
 
বাগদানের অনুষ্ঠান ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে অনিমাকে কিছুই করতে হয়নি সজীব, রাফিদ, তিহাম ওরাই সামলে নিয়েছে সব বেয়াই, বেয়াইন আর অন্যরা অনিমার রুমে এসেই বিদায় নিয়ে গেছে সেসময় সবার অলক্ষ্যে রিজভী অনিমার হাতে একটা টিস্যু ধরিয়ে দিল অনিমা ওয়াশরুমে গিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে টিস্যুর ভাঁজ খুলল সাদা টিস্যু পেপারে কালো জেলপেন দিয়ে লেখা,
 
চন্দ্রাবতী, এভাবে দেখা হয়ে যাবে ভাবিনি রাফিদ একজনকে ভালোবাসে জানতাম সে যে তোমারই মেয়ে সেটা জানতাম না তোমার সংসার যেন না ভাঙে, বাচ্চারা যাতে বাবা-মায়ের সাথে একছাদের নিচেই হেসেখেলে বড়ো হয় এজন্য আমি সেদিন মিথ্যে বলেছিলাম তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি বলেই তোমার পথ থেকে সরে গিয়েছিলাম আমাদের ভালোবাসাকে পরিণতি দিতে গেলে আজ কি তিয়ানা আর রাফিদের ভালোবাসা পূর্ণতা পেত? সব ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না চন্দ্রাবতী কিছু ভালোবাসা অপূর্ণতাতেই সার্থক হয়
 
চোখের জলের ঝর্ণাধারায় টিস্যুটা অনিমার হাতেই ভিজে গেল তারপর সেটাকে কমোডে ফেলে ফ্লাশ করে চোখমুখ ধুয়ে বেরিয়ে এল অনিমা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকল আকাশের বিশালতায় নিজের সব দুঃখ আর অপ্রাপ্তিগুলোকে মিশিয়ে দিতে চাইছে সে একটু পর টের পেল সজীব এসে দাঁড়িয়েছে পাশে কাঠখোট্টা কণ্ঠের বদলে নরম সুরে সজীব বলল,
বারান্দায় বসে চাঁদ দেখে কী হবে? ছাদে যাই চলো
 
অনিমা অবাক চোখে তাকিয়ে থাকল সজীবের দিকে বিস্ময়ের ধাক্কা সামলাতে পারছে না যন্ত্রমানবের মুখে রোমান্টিক কথা! অনিমাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে সজীব মৃদুস্বরে ধমকে উঠল,
কী হলো? যাবে ছাদে? পূর্ণিমার চাঁদ তো সারারাত তোমার অপেক্ষায় আকাশে বসে থাকবে না
 
চিরচেনা অবতারে সজীবকে ফিরে আসতে দেখেই অনিমা হেসে ফেলল তারপর খুব যত্ন করে সংগোপনে চোখের কোণের জলটুকু মুছে নিয়ে সজীবের বুকে মাথা রেখে বলল,
হুম চলো ছাদে যাই
 
 

সমাপ্ত

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী ।। মো: বিপুল রহমান

  সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী মো: বিপুল রহমান এক নীল আকাশের নীচে, স্বপ্নের ঝিলিক, মাটির গন্ধে মেশে হৃদয়ের টান, হিন্দু–মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, এক সুরে বাঁধা, এক প্রাণের সম্মিলন। দুর্গার দীপ্ত আলোয় জ্বলে উৎসবের রাগ, ঈদের চাঁদ ছড়ায় শান্তির অমৃত জ্যোৎস্না, বড়দিনের প্রার্থনা গায় কোমল সুরের ডাক, বুদ্ধ পূর্ণিমার প্রদীপে মুখরিত নীরব প্রভা— এক হৃদয়ে জাগে, এক দীপশিখার আলো। ভাষার তুফানে, স্বাধীনতার অগ্নিশপথে, কাঁধে কাঁধ মিলে দাঁড়ায় বাঙালী অটল, ভ্রাতৃত্বের মন্ত্রে জেগে ওঠে জাতির প্রাণ, এক স্বরে, এক ছন্দে-চির অম্লান। পাড়ার উঠোনে, ছায়ায়-আলোয়, হাসির রঙে, কান্নার সুরে, হাতে হাত গেঁথে ওঠে সেতু-অটুট, নির্মল, নাম তার সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী। এই মাটির ধূলি, এই আকাশের নীল, হৃদয়ের গভীরে বাজে একতার সুরলীল, বাঙালী-তুই চির অখণ্ড, চির জাগ্রত, সম্প্রীতির কাব্যে লেখা, তুই চিরন্তন। উৎসর্গঃ এই কবিতা উৎসর্গ করছি সকল বাঙালীর প্রতি, যারা সময়ের সব বাঁধা-বিপত্তি, ভাষা, ধর্ম বা সংস্কৃতির ভেদাভেদ ভুলে একতার বন্ধন গড়ে তোলেন। যারা নিজেদের হৃদয়ে ভ্রাতৃত্বের দীপ জ্বালিয়ে রাখেন, আনন্দে ও দুঃখে পাশে থাকেন, উদযাপনে অংশ ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

অনুসরণ ।। সমীর মন্ডল

অনুসরণ সমীর মন্ডল অসীম কে কি মনে পড়ে? পড়ে! পড়ে! পড়ে! কাবেরীকে কি মনে পড়ে? পড়ে!পড়ে!পড়ে! অর্ধেক জীবন পার করেছো সঙ্গী অন্য কেউ জলের দরে সময় ফুরায়  নৌকা ভাসাও কই? মাঝে মাঝে দেখা হয় অল্প কথায় দাঁড়ি অনেক কিছু চাওয়ার থাকে গোপন ব্যথায় পাড়ি। পথের দেখা পথের মতোই হাতছানি দেয় দূরে যেখানে যাও, যেখানে থাকো গান বাঁধি সেই সুরে। ছিন্ন বীণায় ফুটেছে ফুল ভুলের কাঁটায় জীবন অভিসারে দিনগুলি যায় নিভৃতে অনুসরণ। ============= সমীর মন্ডল  শাঁকারীপাড়া, কাঞ্চননগর, পূর্ব বর্ধমান, পিন-৭১৩১০২

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

কবিতা ।। ঘাস ।। সেখ নাসিবুল আলি

  ঘাস  সেখ নাসিবুল আলি                       জষ্টির রবি রশ্মিতে দিনে-দিনে       ভীষণ ক্লান্ত সে আজ  একটু শাদা শীতল  জল চায় !         নইলে জ্বলে যাচ্ছে,               তার প্রতিটি লতা পাতা যেন ওর বেড়ে গেছে,   - চিন্তা ! তাই, সংকোচে জানাই সুমধুর শব্দ বিন্যাসে বর্ষার জলদকে।      সে যেন তাকে দ্যায় দু ফোঁটা শাদা শীতল জল তাহলে সে আবার  সবুজে সবুজে  সেজে ওঠবে । জলদ' দের দু ফোঁটা জলের  শব্দ        গভীর গহবরে  জন্ম দেব                এক একটি সন্তান -                ক্লান্ত পৃথিবীর বুকে ।  ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি বাঙালির সামষ্টিক স্মৃতি, কৃষিনির্ভর সভ্যতার চিহ্ন, অর্থনৈতিক বিন্যাসের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সময়কে মানুষ ক্যালেন্ডারে বন্দি করলেও, নববর্ষ আসলে মানসিক পুনর্জন্মের এক সামাজিক অনুষঙ্গ। বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সংকল্প করে। পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা—এই ধারণা বাঙালি জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত। নববর্ষ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি স্মৃতি, শ্রম, আশা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সামাজিক চুক্তি। বাংলা নববর্ষ তাই একদিকে কৃষিজীবনের ঋতুচক্রের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে নাগরিক সংস্কৃতির আধুনিক উৎসবে রূপান্তরিত এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা সনের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় মুঘল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌরভিত্তিক বাংলা সাল চালু করেন। কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল কাটার সময় অনুযায়ী কর আদায় প্রয়োজন ছিল।হিজরি চান্দ্র সন কৃষির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।ফলে সৌরবর্ষভিত্তিক বাংলা সনের প্রবর...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...