Skip to main content

গল্প ।। মুখোশের আড়ালে ।। মৌসম সামন্ত (অসুর)

মুখোশের আড়ালে 

মৌসম সামন্ত (অসুর)


আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে অনিমা। সেই চোখ, সেই, মুখ, সেই রঙ। আগের চাইতে চেহারায় লাবণ্য এসেছে কিছুটা। এর কারণ ইদানিং মনটা খুব ভালো তার। কিন্তু এই ঔজ্জ্বল্যতার আড়ালে কুৎসিত চেহারাটা বাহ্যত দেখা যায় না। অথচ সে দেখতে পাচ্ছে ঠিকই। নিজের ভেতরের কদর্যতা যখন নিজের চোখেই ধরা পড়ে, যখন আত্মগ্লানি অনুভব হয় সেই মুহূর্তের কষ্টগুলোর সাথে আর কোনো কষ্টেরই তুলনা হয় না। বুকের ভেতর ভারি একটা পাথর চেপে বসে, প্রাণখুলে নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য ফুসফুস অস্থির হয়ে পড়ে। কিন্তু নিঃশ্বাস নিতেও ভয় লাগে। নিজের চারপাশে যে পাপের বীজ বুনেছে সে সেগুলোই যেন দূষিত কালো ধোঁয়া হয়ে বাতাসের সাথে মিশে আছে। প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে এই দূষিত বাতাস তার ভেতরে প্রবেশ করবে। ক্রমশ গ্রাস করে নেবে তাকে। আয়নায় নিজের প্রতিবিম্বের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে হঠাৎ কান্নায় ভেঙে পড়ল অনিমা। অনেক বড়ো পাপ করে ফেলেছে সে। ভালোবেসে ফেলেছে। ভালোবাসা পাপ নয়, কিন্তু অনিমার ভালোবাসা, ভীষণ বড়ো পাপ!
__________________________________
 
‘এই শুনছো, শোনো না?’
 
‘হুম বলো।’
 
‘আমি টেস্ট করেছি। সাইন বলছে পজিটিভ।’
 
‘মানে কী?’
 
অনিমা বুঝতে পারে না কী বলবে? সারাজীবন বাংলা সিনেমায় যেমন দেখে এসেছে, ‘তুমি বাবা হচ্ছো’ এভাবে? নাকি বলবে, ‘বাসায় নতুন অতিথি আসছে।’ কিন্তু কোনোটাই সে বলল না। একরাশ জড়তা নিয়ে অনিমা বলল,
‘আমি প্রেগন্যান্ট।’
 
‘ও আচ্ছা কংগ্রেটস।’ একেবারেই স্বাভাবিক কণ্ঠে বলল সজীব।
 
‘আমি এখন কী করব?’ ভীত কণ্ঠে জানতে চাইল অনিমা।
 
‘এতো সকালে আর কী করবে? আসো আমার পাশে এসে ঘুমাও।’
__________________________________
 
‘বউমা… তোমার কয়টা রুটি ছেঁকতে কতোক্ষণ লাগে! সজীব তো রেডি হয়ে বসে আছে। ওর অফিসের দেরি হচ্ছে তো।’
 
শাশুড়ির চিৎকারে অতীত থেকে বাস্তবে ফিরে এলো অনিমা। আজকাল কী হচ্ছে কে জানে! ফেলে আসা দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ে। আর এভাবেই অতীতে বিচরণ করতে করতে বর্তমানের সব কাজ হ-য-ব-র-ল করে ফেলছে। টেবিলে নাশতা দিয়ে চুলায় চা বসাতে গেল অনিমা। অমনি সজীবের চিৎকার,
 
‘এগুলো কী রাঁধো অনিমা? ভাজি খাচ্ছি নাকি ঘাস খাচ্ছি বুঝতেই পারছি না। বিয়ের দশ বছরেও রান্নাটা শিখতে পারলে না!’
 
অনিমা দৌড়ে গিয়ে হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ভাজিতে সমস্যাটা কোথায় বুঝতে পারছে না। সজীবের পছন্দ মতোই তো রান্না করেছে। পাতাকপিতে চিংড়ি, টমেটো, বেশি করে কাঁচামরিচ আর শেষে ধনেপাতা। সজীব চায় পাতাকপি ভাজি সবুজ হবে আর খুব বেশি সেদ্ধ হবে না। অনিমা তাই গুড়া মসলা দেয় না। ভাজিটাও আধাসেদ্ধ করে। সবই তো ঠিক ঠিক করেছে। কিন্তু সজীব এভাবে বলছে কেন! বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। সজীব নিজেই বলছে,
 
‘এতো মোটা করে কেটেছ কেন? ভাজি এতো মোটা করে কাটে? একটা কাজও তুমি পারফেক্টলি করতে পারো না।’
 
অনিমা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। ওর বলতে ইচ্ছে করে না, পাতাকপির গোড়ার দিকের অংশ একটু মোটা হয়। চুপচাপ চলে আসে রান্নাঘরে। শুনতে পায় শাশুড়ি বলছে,
‘তাড়াহুড়ো করে কাটছে মনে হয়। সবগুলো তো মোটা হয় নাই।’
 
আরো অনেক কিছু বলে তিনি ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু অনিমার সেদিকে খেয়াল নেই, চোখদুটো ঝাপসা হয়ে আসছে ওর। এতো অল্পতেই কেন এই পোড়াচোখে পানি আসবে? নিজেকেই ইচ্ছেমতো বকতে থাকে সে।
 
শীতকালের সময়গুলো ঠিক শীতের মতোই রুক্ষ। ঘন কুয়াশা যেন শুধু প্রকৃতিকেই না মানুষের মনকেও চারপাশ থেকে জাপটে ধরে। অনিমার বড্ড মন খারাপ হয় এ সময়গুলোতে। বাচ্চাদের স্কুল, ঘরের কাজ, রান্না-বান্না সবকিছু করেও যেন সময়টা কাটতে চায় না। আলমারির ড্রয়ারে যত্ন করে রাখা একাডেমিক সার্টিফিকেটগুলো বের করে, দু’ফোটা চোখের জল গড়িয়ে পড়ার আগেই মুছে ফেলে। তারপর যত্ন করে আবার কাগজগুলোকে বন্দি করে রাখে সেই অন্ধকার কুঠুরিতে। জন্মদিনে দেওয়া বন্ধুদের উপহারগুলোরও ঠাঁই হয়েছে পাশের এমন আরেকটা আয়তাকার বক্সে। একটা কার্ড বের করে উল্টে দেখে, গোটা গোটা অক্ষরে লেখা ‘তোর টোলপড়া হাসিটা অমলিন থাকুক আজীবন।- শুভ জন্মদিন দোস্ত।’ মৃদুলের লেখা। মৃদুল কি জানে হাসতে ভালোবাসা সেই মেয়েটা আজকাল হাসতে ভুলে গেছে!
 
শীতকালের দিনগুলো ছোটোই হয়। অথচ অনিমার যেন দিনটা কাটতেই চায় না। ছেলেমেয়েরা স্কুল থেকে ফিরে গোসল, খাওয়া-দাওয়া সেরে বাসার টিচারের পড়া তৈরিতে ব্যস্ত থাকে। শাশুড়ি এই সময় ইসলামিক বই পড়েন। অনিমা একটু গড়িয়ে নেয়। কিন্তু আজ কেন যেন চোখদুটো লেগে আসে। মাসের কয়টা দিন দুপুরবেলা না চাইতেও ঘুম আসে, ক্লান্তিতে, অবসাদে… মোবাইলের রিংটোনে ঘুম ভাঙে অনিমার। কানে মোবাইল ধরে বলে,
‘হ্যালো’
 
‘কী ঘুমাচ্ছ?’
 
‘হুম’
 
‘ঘুমাবেই তো। ঘুম ছাড়া তোমার আছে কী!’ বলেই লাইনটা কেটে দেয় সজীব। অনিমা উঠে পড়ে। ঘড়িতে দেখে বিশ মিনিটের মতো চোখবন্ধ ছিল তার। এটাকে কি ঘুম বলে! আচ্ছা ঘুমালেই বা! তাতে সমস্যাটা কী! কারো তো কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। বিয়ের পর থেকেই অনিমা খেয়াল করেছে, সজীব ওর ঘুমঘুম কণ্ঠ শুনলেই রেগে যায়। অথচ একজন এই কণ্ঠ শুনে বলেছিল, ‘তোমার ঘুমজড়ানো কণ্ঠটা ভীষণ সুন্দর। আরেকটু কথা বলো না প্লিজ।’
 
সে লোকটা অনিমার কেউ ছিল না। ওর বান্ধবী বিথীর প্রেমিক ছিল সে। একদিন দুপুরবেলা প্রয়োজনেই ফোন করেছিল। অনিমা ঠিক আজকের মতোই ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলেছিল,
‘হ্যালো ফয়সাল ভাই…’
‘অহ হো, অনিমা ঘুমাচ্ছ?’
 
‘হুম। বলেন সমস্যা নাই।’
‘বিথীকে পাচ্ছি না সকাল থেকে। তুমি কি জানো কিছু?’
 
‘জানি না। কিছু জানতে পারলে আপনাকে জানাব।’
 
‘ইয়ে, অনিমা তোমার ঘুমজড়ানো কণ্ঠটা ভীষণ সুন্দর। আরেকটু কথা বলো না প্লিজ।’
 
‘ভাই আপনি আমার সাথে ফ্লার্ট করছেন আপনার প্রেমিকা জানলে কিন্তু কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলবে আপনাকে।’
 
‘কী বলো! সাংঘাতিক তো। ওর ফ্যামিলিতে কেউ কষাই ছিল নাকি! আমি তো জানতাম না।’
 
অনিমা খিলখিল করে হেসে ফেলেছিল। আজ সে ঘটনা মনে পড়াতে আবারো ঠোঁটে একচিলতে হাসি ফুটে উঠল। মানুষের মন কী অদ্ভুত! মাত্রই সজীবের কথায় অভিমানে চোখে পানি চলে এসেছিল। আর এখন ফয়সাল ভাইয়ের কথা মনে পড়ে মনটা ভালো হয়ে গেছে। অনিমা বিছানা ছেড়ে উঠে পড়ে। আসরের নামায পড়ে বিকেলের নাশতার আয়োজন করতে রান্নাঘরে যেতে হবে।
 
তিহাম আর তিয়ানার টিচার রবিন আসে সন্ধ্যাবেলায়। ভার্সিটির স্টুডেন্ট। সজীবের বন্ধুর দূর সম্পর্কের ছোটোভাই। এমনিতে রবিনের সাথে প্রয়োজন ছাড়া কথাবার্তা হয় না। আজ নাশতা দেওয়ার সময় রবিন অনিমাকে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। অনিমার অস্বস্তি হয় খুব। রবিন বলে উঠে,
‘ভাবি আপনার শরীর খারাপ নাকি! চেহারা কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেছে!’
 
অনিমা মুচকি হাসার চেষ্টা করে বলে,
‘তাই নাকি! কই আমি তো ভালোই আছি।’
নিজের ঘরে এসে আয়নার সামনে দাঁড়ায় অনিমা। সত্যিই কি চেহারা খারাপ হয়ে গেছে! সজীব তো কিছু বলেনি। অবশ্য সজীবের কি সময় হয় অনিমার মুখের দিকে তাকানোর? কার ওপর যেন প্রচণ্ড অভিমান হয় অনিমার। বুকের ভেতর তীব্র একটা হাহাকার বয়ে যায়। মোবাইল নিয়ে ডায়াল করে সজীবের নাম্বারে,
 
‘হ্যা অনিমা বলো।’
‘কী করছ?'
 
‘অফিসে মানুষ কী করে? লুডু খেলে না নিশ্চয়ই।’
‘এভাবে বলছ কেন? তুমি ফোন করেছিলে তখন আমি শুয়েছিলাম। তাই এখন…’
 
‘দরকারে তোমাকে পাওয়া যায় না কখনো। বে-দরকারে ফোন করো। কাজের প্রেসারে আছি এখন। ফাও আলাপের সময় নাই।’
 
অনিমা কয়েক মুহূর্ত স্থাণু হয়ে বসে রইল। সজীব লাইন কেটে দিয়েছে। এতো অবহেলা! অভিমানে বুক ভেঙে আসতে চায় অনিমার। বুকের ভেতর প্রচণ্ড ভাঙচুর হচ্ছে। চিৎকার করে না কাঁদলে এই ভাঙচুর তাকেই ভেঙে ফেলবে। দমবন্ধ হয়ে আসতে চাইছে ওর।
‘আম্মা আমি ছাদে যাচ্ছি। কাপড় আনতে ভুলে গেছিলাম।'
 
‘তাই বলে এই সন্ধ্যারাতে ছাদে যাবা? কালকে আনিও।’
 
অনিমা শাশুড়ির কথা আমলে নেয় না। দ্রুতপায়ে ছাদে চলে আসে। ছাদে আসলে কোনো কাপড় নেই। কিন্তু মাথার ওপর খোলা আকাশ আছে। এই আকাশের নিচে বসে একটু মনখুলে কাঁদা দরকার। নাহলে ভেতরে অল্প যে তোলপার হচ্ছে তা প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে।
 
অনিমা শব্দ করেই কাঁদছে। প্রতিবার কান্নার দমকে বেরিয়ে আসছে এতোদিনের জমানো দুঃখ, অভিমান, হতাশা। একটা সুন্দর জীবনের জন্য মানুষ কত কীই না করে। অনিমাও চেয়েছিল গল্পের মতো সুন্দর হবে জীবনটা। সিনেমার মতো প্রথম প্রেগন্যান্সির সময় স্বামী কোলে তুলে আনন্দ প্রকাশ না করলেও কপালে অন্তত একটা চুমু খাবে। প্রেগন্যান্সির প্রতিটা মুহূর্ত অমূল্য। নতুন নতুন অভিজ্ঞতা, নানান রকমের অনুভূতি, রাত-বিরাতে আজগুবি সব জিনিস খাওয়ার ইচ্ছে, কোনো কারণ ছাড়াই কেঁদে বুক ভাসানো, অথবা অকারণেই আনন্দে ঘরময় প্রজাপতির মতো উড়ে বেড়ানো- এ সব কিছু কারো সাথে শেয়ার করতে খুব ইচ্ছে হয়। আর সেই মানুষটা হয় একান্ত আপনজন। নিজের স্বামী। কিন্তু সজীবকে সে পায়নি সেসময়। সেসময় না, পরেও পায়নি। আজ এই বোনের মেয়ের বিয়ে, কাল ওই ভাইয়ের ছেলের স্কুলে ভর্তি, গ্রামে জায়গা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা, অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে যাওয়া নানাকাজে ব্যস্ত ছিল সজীব। ব্যস্ততা এখন আরো বেড়েছে। শুধু মাসের কয়েকটা দিন রাতের বেলা নিতান্ত প্রয়োজনে কাছে আসা। মিনিট দশেক উদ্দামতার পর সব নীরব-নিস্তব্ধ। দেয়াল ঘড়ির টিকটিক শব্দও যেন অনিমার হৃদয়কে তখন এফোঁড়ওফোঁড় করে দিতে চায়।
 
কখনো বৃষ্টি দেখে ভেজার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে পারে না অনিমা। জ্যোৎস্নার প্লাবনে গা ভাসাতে পারে না। সজীবের উত্তর, ‘বৃষ্টিতে ভেজার বয়স আছে নাকি!’ ‘চাঁদ দেখার কী আছে! চাঁদ তো প্রতিমাসেই ওঠে।’
 
মানুষের জীবন গল্প বা সিনেমার মতো রোমান্টিক হয় না এটা অনিমা মানে। তাই বলে বাস্তবতা এতোটা কঠিন হতে পারে অনিমা সেটা মানতে নারাজ। যদি মেনে নিতে পারতো তাহলে নিশ্চয়ই এখন সবার কাছ থেকে লুকিয়ে ছাদে এসে কাঁদতে হতো না। কিন্তু এভাবে আর কতো! অনিমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটা সময় তো এভাবেই চোখের জলেই কেটে যাচ্ছে।
__________________________________
 
শীতের রুক্ষতার পর প্রকৃতিতে যেমন বসন্ত আসে, ঠিক অনিমার জীবনেও হঠাৎ করে ফাগুন হাওয়া এলো। সময় কাটাতে কিংবা অতীতের দুঃখময় স্মৃতিগুলো ভুলে থাকতে অনিমা লেখালেখি শুরু করল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিভিন্ন ওয়েব সাইটে ‘চন্দ্রাবতী’ ছদ্মনামে নিজের জীবনের গল্পগুলোকেই তুলে ধরতে লাগল। অল্পদিনেই তার একান্ত নিজের গল্পগুলো সবার গল্প হয়ে গেল। কমেন্টবক্স থেকে ইনবক্সেও পাঠকরা ক্ষুদে বার্তা দিচ্ছে, তাদের ভালো লাগা জানাচ্ছে, শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। অনিমার ভালো লাগে। আজকাল সজীবের নিত্য গালমন্দ ভুলে থাকে এই লেখালেখির জগতে ডুবে থেকে। সজীব বাসায় এলেই আবার কিছু সময়ের জন্য সব ভুলে পুরোনো অনিমা হয়ে যায়। যন্ত্রের মতো সংসারের কাজ করে, এমনকি সজীবের সাথে অন্তরঙ্গতাও হয় অনুভূতিহীন, দায়সারাভাবে। এরপর সজীব যখন ওপাশ ফিরে ঘুমায় অনিমা নিঃশব্দে কেঁদে বালিশ ভেজায়। সংসার সামলানো, বাচ্চা জন্ম দেওয়া ও তাদের বড়ো করা আর স্বামীর শারীরিক চাহিদা মেটানো এসবের জন্যই যেন অনিমার প্রয়োজন। যেদিন এসব প্রয়োজন সে মেটাতে পারবে না সেদিন ওকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে। এতোদিনের সম্পর্ক, অথচ ভালোবাসা, আন্তরিকতা, শ্রদ্ধাবোধ এসবের ছিঁটেফোটার দেখাও মেলে না। অনিমা ভাবে, আমি কি এতোই মূল্যহীন!
 
একদিন বিষণ্ন দুপুর। অনিমা মোবাইলে ইনবক্স চেক করছিল। অচেনা একজনের মেসেজ দেখল আদারস বক্সে। রিজভী আহসান নামের একব্যক্তি একটি ইউটিউব লিংক পাঠিয়েছেন, সাথে লিখেছেন, ‘আপনার কবিতা পড়ে এতোটাই বিমোহিত হয়েছিলাম আবৃত্তি না করে পারলাম না।’
 
অনিমা আবৃত্তিটা শুনল। তার নিজের লেখা কবিতা-
 
কোনো এক রাতজাগা পাখির ডানায় চড়ে
ঘুরে বেড়াই তেপান্তর,
ঘুরে ঘুরে দেখি, খুঁজি-ফিরি,
আপন কি কেউ আছে এতো এতো মানুষের ভীড়ে?
কেউ কি আছে একান্ত আমার নিজের?
 
আমার চোখের গভীরতায়
নিজেকে হারিয়েছিল যে যুবক,
আমি তার প্রেমে পড়িনি।
নিষ্পলক চেয়ে থাকার মুহূর্তগুলো
বিশেষ নয় বিভীষিকাময় ছিল।
আমি তাই ফিরেও তাকাইনি…
 
আমার গালের টোলে ডুবে গিয়েছিল যে বালক
আমি তার প্রেমেও পড়িনি,
নিতান্ত অবহেলায় এড়িয়ে গিয়েছি,
অসমবয়সী প্রেম কী করে হয়!
আমি তাই ওপথ মাড়াইনি।
 
আমাকে ঠিক আমার মতোই রাখবে বলে
দিব্যি দিয়েছিল যে পাগল ছেলেটা
আমি তাকে বিশ্বাস করিনি,
তার ছলছল চোখের ভাষাকে অবজ্ঞা করেছি,
তার অভিশাপেই কি ভালোবাসা আর আসেনি!
 
আজকাল প্রচণ্ড তৃষ্ণার্থ হয়ে থাকি
একফোঁটা ভালোবাসার আশায় উন্মুখ আমি,
ভালোবাসা এখানে খুব দামী,
সহজে কি বিলানো যায়?
এখন আমি ভালোবাসাহীন কাঙাল ফকির
তোমাদের রাস্তায়।
তোমাদের সুখি সুখি মুখ দেখে আমি
মরে মরে যাই, তৃষ্ণায়, ঈর্ষায়।
 
একটা সুপুরুষ ভরাট কণ্ঠে নিজের কবিতা শুনে অনিমার মনে অদ্ভুত শিহরণ বয়ে গেল। একবার, দু’বার, তিনবার এভাবে অসংখ্যবার শুনল। যতো শুনে ততই মুগ্ধ হয়। একসময় সে আবিস্কার করল, কানে হেডফোন লাগিয়ে সারাদিন শুধু অচেনা ভদ্রলোকের কণ্ঠই সে শুনে যাচ্ছে।
 
অনিমা রিজভীকে আবেগাপ্লুত হয়ে মেসেজ করল। ভদ্রলোকও প্রতিউত্তর দিল সাথে সাথে। এভাবে মেসেজের আদান-প্রদান হতে হতে অনিমা বুঝতেই পারল না কবে, কখন, কীভাবে সে রিজভীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করতে শুরু করেছে। এই আকর্ষণ ধীরে ধীরে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ছোটোবড়ো সবকিছুই সে রিজভীর সাথে শেয়ার করে। রিজভী কখনো অনিমাকে বলেনি সে অনিমাকে পছন্দ করে বা ভালোবাসে। কিন্তু অনিমা কেন যেন ধরেই নিয়েছিল রিজভীর সাথে সে প্রেম করছে। প্রেমে পড়লে যেমন মেয়েদের চেহারায় লাবণ্য আসে অনিমারও এসেছে। তাছাড়া আজকাল সে নিজের যত্ন নিচ্ছে খুব।
 
নিজের সাংসারিক জীবন ভালোভাবেই চলছিল। বরং আগের চাইতেও ভালো। মন ভালো থাকলে সবকিছুই ভালো থাকে। রিজভীতে আচ্ছন্ন অনিমা সজীবের অবহেলা কিংবা গালমন্দকে আর আমলেই নেই না। রাতের অন্তরঙ্গতায় অন্ধকার ঘরে সজীবের মুখটা দেখা যায় না। অনিমা নিজের অবচেতন মনেই সজীবের জায়গায় রিজভীকে কল্পনা করতে শুরু করে। অন্যরকম রোমাঞ্চ কাজ করে তার মধ্যে। সেই থেকে মিলনের রাতগুলোকে আর নিছক ‘করতে হয় বলে করা’ মনে হয় না। আজকাল অনিমার আগ্রহই বেশি থাকে। সজীব স্ত্রীর এমন আচরণে খুশিই হয়। তার স্ত্রী হাসিমুখে তার সাথে অভিনয় করে যাচ্ছে এটা সে ঘুণাক্ষরেও টের পায় না। অনিমা বাস্তবতা ভুলে বাস করতে শুরু করে তার নিজের রচিত কল্পনার জগতে। যেখানে সে রিজভীর সাথে সংসার পেতেছে। ওদিকে অনিমার মনের খবর রিজভীও জানে না। সে শুধু ভালো বন্ধু হিসেবেই অনিমার সাথে যোগাযোগ রাখছে।
_______________________________
 
‘আচ্ছা তোমার কি মনে হয় আমরা পরকীয়া করছি?’
 
‘নাহ! তা মনে হবে কেন? আমরা তো রোজ দেখা করছি না। কিংবা অন্তরঙ্গ সময় কাটাচ্ছি না। আমরা তো একে অপরকে ঠিক ওভাবে দেখি না। আমরা ভালো বন্ধু। এখানে পরকীয়া মনে হওয়ার তো কারণ নেই।’
 
রিজভীর সরল সহজ উত্তরে অনিমার মনটা ভেঙে যায়। আবার নিজেই নিজের মতো করে জোড়া লাগায়। নিজেই নিজেকে বোঝায় রিজভী তাকে ভালোবাসে কিন্তু প্রকাশ করে না।
 
‘আচ্ছা তুমি বিয়ে করছ না কেন? তোমার মনে হয় না তোমার একটা বিয়ে করা দরকার?’
 
চ্যাট করতে করতে অনিমা রিজভীকে প্রশ্নটা করে। রিজভী উত্তর দেয়,
‘ব্যবসাটা আরেকটু গুছিয়ে নিই। বছরে দেড়েক পর বিয়ে করব ভাবছি।’
 
‘তাহলে তো এখন থেকেই মেয়ে দেখা দরকার। তুমি বললে আমি মেয়ে দেখতে পারি। কেমন মেয়ে পছন্দ তোমার?’
 
‘পাত্রী তো রেডিই আছে। শুধু বিয়ে করা বাকি।’
 
অনিমা ভাবে রিজভী অনিমার কথাই ভাবছে। সে আগ্রহ নিয়ে জানতে চায়,
‘তাই নাকি? কে সে? আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবে না?’
 
রিজভী একটু পর একটা মেয়ের বেশ কয়েকটি ছবি পাঠালো, কয়েকটা রিজভীর সাথে বেশ অন্তরঙ্গভাবেই তোলা। অনিমা স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে। নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছে না তার। মনে হচ্ছে তার হৃদয়টা ভেঙে কয়েক সহস্র টুকরো হয়ে গেছে। অফলাইন হয়ে সোজা ওয়াশরুমে ঢুকে গেল। শাওয়ার ছেড়ে বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল পানির নিচে।
 
নাহ! রিজভী প্রতারণা করেনি। রিজভী কখনই বলেনি সে অনিমাকে পছন্দ করে। তাহলে অনিমার এতো খারাপ লাগছে কেন! কেন মনে হচ্ছে তার পৃথিবীটা উজাড় হয়ে গেছে! আর সে আসলে কী অসম্ভব কল্পনা করছিল এতোদিন! সজীব, তিহাম আর তিয়ানাকে নিয়েই ওর সংসার। এরাই তো চরম সত্য। এরাই তো অনিমার পৃথিবী। তাহলে এতোদিন কোন পৃথিবীতে সে বাস করছিল অনিমা!
 
এরপর শুরু হলো অনিমার নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়া। শুরু হলো নতুন করে হিসাব নিকাশ।
__________________________________
 
ভুলতে চাইলেই কি ভোলা যায়? কাউকে মনপ্রাণ উজাড় করে ভালোবাসার পর কীভাবে তার সাথে দূরত্ব রেখা টানা যায়! অনিমা এখন ভালোভাবেই জানে রিজভী অন্য কাউকে ভালোবাসে। তার পৃথিবীটা শূন্য শূন্য লাগে। প্রেমে পড়া, ভালোবাসা পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দর অনুভূতি। বলা হয়, ভালোবাসা পবিত্র। কিন্তু স্বামী-সন্তান-সংসার থাকার পরও অন্য কোনো পুরুষকে মন দেওয়া, ভালোবাসা, সে তো ঘোরতর অন্যায়। এ অন্যায়ের ভার সইতে পারছে না অনিমা। পারছে না রিজভীকেও ভুলতে।
 
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সে প্রতিদিন একজনকে খোঁজে। সেই মেয়েটাকে যে ছিল শুভ্র সাদা মনের, যার হাসিতে পবিত্রতা ছিল, যার কথায় ও আচরণে স্বচ্ছতা ছিল। সে মেয়েটা কোথায় হারিয়ে গেছে! আজকাল আয়নায় যাকে দেখা যায়, সে স্বামী কর্তৃক অবহেলিত, পরপুরুষে আসক্ত, নির্লজ্জ, পাপের ভারে বিদ্ধস্ত এক নারী। অনিমা নিজেই নিজের চোখে চোখ রাখতে পারে না আজকাল। স্বামীর চোখে চোখ রাখতে পারে না। দিনরাত এক অভ্যন্তরীণ অনলে পুড়তে থাকে। তবুও অনিমাকে সংসার করে যেতে হয়। ভেতরে পাপবিদ্ধ মন লুকিয়ে রেখে বাইরে হাসিমুখে অভিনয় করে যেতে হয়, প্রিয়তমা স্ত্রীর চরিত্রে, আদর্শ পুত্রবধুর চরিত্রে। নিজের কাছে নিজেকেই অপরিচিত লাগে আজকাল। একটি শরীরে যেন কয়েকটি চরিত্রের বসবাস। এদের মধ্যে অনিমা খুঁজতে থাকে শুদ্ধ অনিমাকে, ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়ে কিন্তু তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া না।
 
আঠারো বছর পর
 
অনিমা আজ সকাল থেকেই খুব ব্যস্ত। তিয়ানার বাগদান হবে আজ। ছেলে তিয়ানার পরিচিত। তিয়ানার সাথে নাকি ভালো বোঝাপড়া আছে। নিজের জীবন তো যেমন তেমন কেটে গেছে এখন মেয়ের জীবন নিয়েই চিন্তিত অনিমা। রাফিদকে যতটুকু দেখেছে ভালোই মনে হয়েছে। বাকিটা এখন তিয়ানার ভাগ্য।
 
পায়েশের বাটিতে বাদাম কুচি আর কিশমিশ ছিটিয়ে টেবিলে রাখল। নিজের মনেই ভাবছে, এই দুধসাদা পায়েশে সবুজ পেস্তা কুচি আর বাদামী কিশমিশের কারণেই আরো সুন্দর ও আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে। কাচ্চিতে এলাচ আর লবঙ্গ না হলে কি ঠিকঠাক সুগন্ধ আসতো? মাংস পর্যাপ্ত তাপে জ্বাল দিয়ে সেদ্ধ না করলে কি খাওয়া যেত? জীবনটাই কি তেমন না? শুধু একপেশে রোমান্স আর সুখে ভরপুর হলেই কি জীবনের আসল স্বাদটা পাওয়া যেত? দুঃখ, অভিমান, জরা আছে বলেই তো সুখগুলোকে এতো অমূল্য আর লোভনীয় মনে হয়।
 
ব্যস্তভঙ্গীতে মোবাইল কানে সজীবকে নিচে নামতে দেখল অনিমা। মেহমানরা চলে এসেছে। অনিমার চোখ থেকে এক ফোঁটা স্বচ্ছ তরল গড়িয়ে পড়ল। এখন আর কোনো দুঃখ নেই অনিমার। সজীব হয়তো বেশি রোমান্টিক ছিল না কখনোই, হয়তো ব্যস্ত ছিল বেশি। হয়তো রাগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতটা আয়ত্ব করতে পারেনি। কিন্তু কোনো দায়িত্বে বিন্দুমাত্র অবহেলা করেনি। এ সমাজের প্রতিটা মানুষ সজীবকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে। অনিমাকে ঈর্ষা করে এতো চমৎকার একজন মানুষের সহধর্মিণী বলে। একসময় কতো বোকাই না ছিল অনিমা! এভাবে কখনো ভাবেনি। এখন বয়স বাড়ার সাথে সাথে বোধে পরিণত হচ্ছে। যা কিছু আছে তার জীবনে সবকিছুর জন্যই একবার চোখ বন্ধ করে ধন্যবাদ জানাল সৃষ্টিকর্তাকে।
 
মেহমানরা চলে এসেছে। সবার সাথে পরিচিত হতে গিয়ে একজনের দিকে চোখ আটকে গেল অনিমার। মোটামুটি গড়নের, শ্যামলা বরণ, চোখে ভারি ফ্রেমের চশমা। চশমার আড়ালের চোখদুটো খুব পরিচিত। আর হাসিটা কখনোই মন থেকে মুছে ফেলার মতো নয়। রিজভী! এখানে কেন এসেছে?
 
রাফিদ বলল,
‘আম্মা ইনি আমার ছোটাচ্চু।’
 
অনিমা হাসার চেষ্টা করল। রিজভী কি অনিমাকে চিনতে পেরেছে? হালকা একটু মেদ এসেছে শরীরে। কপালের সামনে অনেকগুলো চুল সাদা। এগুলো কি অনিমাকে অপরিচিত লাগার জন্য যথেষ্ট?
 
‘আচ্ছা! তোমার ছোটো চাচা! তোমার চাচী আসেনি?’
 
‘আম্মু চাচ্চু তো বিয়েই করেননি।’
কথাটা বলল তিয়ানা। রাফিদ তিয়ানাকে কী যেন জিজ্ঞেস করল। দুজন কীসব কথা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। অনিমার কানে কিছুই গেল না। এই বাসাভর্তি মেহমান, এতো আয়োজন, এতো হট্টগোল সব ধীরে ধীরে ঝাপসা হতে শুরু করল। চোখের সামনে হঠাৎ করেই কালো পর্দা নেমে এলো অনিমার।
__________________________________
 
চোখ খুলতেই সজীবের উদ্বিগ্ন মুখটা দেখতে পেল অনিমা। মাথার ওপর ফ্যানটা ঘুরছে বেশ শব্দ করেই। আগে তো এতো শব্দ করতো না! হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে উঠে বসতে চাইল অনিমা। সজীব বাধা দিল,
‘আরে করছ কী! শুয়ে থাকো। কী যে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে!’
 
‘কী হয়েছিল আমার?’
 
‘কী হবে আর! ঠিকমতো কিছু করতে তো পারোই না নিজের যত্নও নিতে পারো না। প্রেশার কততে নেমেছে জানো? আমি তোমার খাওয়ার জন্য কিছু নিয়ে আসছি। তুমি খবরদার উঠবে না।’
 
সজীব চলে গেল। অনিমা চুপচাপ বসে ভাবছে কেন এমন হলো! সব তো ভালোই চলছিল। এভাবে রিজভীর এতো বছর কেন সামনে আসতে হলো। কী করবে অনিমা! নিজের হৃদস্পন্দন কীভাবে ঠেকাবে! মেয়ের চাচা শ্বশুর। তার কোনো আচরণে মেয়ের জীবনে না অন্ধকার নেমে আসে।
 
বাগদানের অনুষ্ঠান ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। অনিমাকে কিছুই করতে হয়নি। সজীব, রাফিদ, তিহাম ওরাই সামলে নিয়েছে সব। বেয়াই, বেয়াইন আর অন্যরা অনিমার রুমে এসেই বিদায় নিয়ে গেছে। সেসময় সবার অলক্ষ্যে রিজভী অনিমার হাতে একটা টিস্যু ধরিয়ে দিল। অনিমা ওয়াশরুমে গিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে টিস্যুর ভাঁজ খুলল। সাদা টিস্যু পেপারে কালো জেলপেন দিয়ে লেখা,
 
‘চন্দ্রাবতী, এভাবে দেখা হয়ে যাবে ভাবিনি। রাফিদ একজনকে ভালোবাসে জানতাম। সে যে তোমারই মেয়ে সেটা জানতাম না। তোমার সংসার যেন না ভাঙে, বাচ্চারা যাতে বাবা-মায়ের সাথে একছাদের নিচেই হেসেখেলে বড়ো হয় এজন্য আমি সেদিন মিথ্যে বলেছিলাম। তোমাকে ভীষণ ভালোবাসি বলেই তোমার পথ থেকে সরে গিয়েছিলাম। আমাদের ভালোবাসাকে পরিণতি দিতে গেলে আজ কি তিয়ানা আর রাফিদের ভালোবাসা পূর্ণতা পেত? সব ভালোবাসা পূর্ণতা পায় না চন্দ্রাবতী। কিছু ভালোবাসা অপূর্ণতাতেই সার্থক হয়।’
 
চোখের জলের ঝর্ণাধারায় টিস্যুটা অনিমার হাতেই ভিজে গেল। তারপর সেটাকে কমোডে ফেলে ফ্লাশ করে চোখমুখ ধুয়ে বেরিয়ে এল অনিমা। বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকল। আকাশের বিশালতায় নিজের সব দুঃখ আর অপ্রাপ্তিগুলোকে মিশিয়ে দিতে চাইছে সে। একটু পর টের পেল সজীব এসে দাঁড়িয়েছে পাশে। কাঠখোট্টা কণ্ঠের বদলে নরম সুরে সজীব বলল,
‘বারান্দায় বসে চাঁদ দেখে কী হবে? ছাদে যাই চলো।’
 
অনিমা অবাক চোখে তাকিয়ে থাকল সজীবের দিকে। বিস্ময়ের ধাক্কা সামলাতে পারছে না। যন্ত্রমানবের মুখে রোমান্টিক কথা! অনিমাকে এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে সজীব মৃদুস্বরে ধমকে উঠল,
‘কী হলো? যাবে ছাদে? পূর্ণিমার চাঁদ তো সারারাত তোমার অপেক্ষায় আকাশে বসে থাকবে না।
 
চিরচেনা অবতারে সজীবকে ফিরে আসতে দেখেই অনিমা হেসে ফেলল। তারপর খুব যত্ন করে সংগোপনে চোখের কোণের জলটুকু মুছে নিয়ে সজীবের বুকে মাথা রেখে বলল,
‘হুম চলো ছাদে যাই।’
 
 

সমাপ্ত

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,