Skip to main content

ছোটগল্প ।। জল চলে না উজানে ।। সৌমেন দেবনাথ

জল চলে না উজানে

সৌমেন দেবনাথ 


প্রবাদ আছে, গাঙে গাঙে দেখা হয় তো বোনে বোনে দেখা হয় না। চোখের দেখা না হলেও মনের দেখা হয় ছাড়া কি! বুলি আর দুলির দেখা হওয়া অসম্ভব কোনো ব্যাপার না, তবুও তারা একে অপরের সাথে দেখা করে না। দুই বোনের মধ্যে কিভাবে দূরত্ব সৃষ্টি হলো সেটা আগে বলি।
বুলির স্বামী কোটিপতি, ব্যবসায়ী কিন্তু রঙে একেবারে মরা। বুলি আর দশটা মেয়ের মত না হওয়ায় কালো স্বামীকে অনায়াসে গ্রহণ করতে বাঁধেনি। বিবাহের আগে দুলি বিবাহে বাঁধা দিয়েছিলো। বুলি বলেছিলো, সুন্দরের মধ্যে সুখ থাকে না। আর জীবনও সৌন্দর্যসর্বস্ব নয়।

বিবাহ হয়ে গেলো। দুই পরিবারের মাঝে সুন্দর সম্পর্ক হলো। দেবব্রতর সাথে বুলির বোঝাপড়া ভালো। একদিন দেবব্রত বললো, দুলি বড় বেশী সৌন্দর্যপ্রেমী। সৌন্দর্যই সত্য।
বুলি বললো, সত্যই সুন্দর। সত্য চিরস্থায়ী। সৌন্দর্য চিরস্থায়ী নয়। শারীরিক সৌন্দর্যের একদিন শেষ আছে। সুন্দর ও সাদা চামড়াকে নয়, সুন্দর ও সাদা মনকে ভালোবাসতে হয়। দুলি কি মনে সুন্দর? ওর কত রূপের অহংকার! 
বছর যেতেই দেবব্রত আর বুলির কোলজুড়ে কৃষ্ণকালো পুত্রধন এলো। দুলি নাক বাঁকালো। কালোকে দুলি বড় ঘৃণা করে। দ্বীপকে কোলে নিয়ে দুলি বললো, বাবার মত হয়েছো, বাবার মান রেখেছো, বাবা।
বুলি শুনে বললো, ছেলে ছেলেই। ছেলে যে রত্ন হয়েই জন্ম গ্রহণ করে! এটা মনে রাখিস, সোনার আংটি বাঁকাও ভালো।
দুলি বললো, বাঁকা সোনার আংটি যত দামীই হোক তুলে রাখতে হয়। ব্যবহার করা যায় না।
বুলি বললো, আমার দ্বীপ একদিন মানুষের মত মানুষ হবে। রং নয়, কর্মই আসল। ওকে আমি অনেক বড় করবো।
দুলি বললো, যত বড়ই হোক, যত ডিগ্রীই অর্জন করুক, এ সমাজ তোর ছেলেকে দেখলেই নাক সিটকাবে।
বুলি বললো, সেটা সমাজের দোষ। 
দুলি রেগে গেলো, হ্যাঁ, তোর ছেলে রত্নই। এখন সিংহাসনে পা তুলে বসে থাক। আর পা নাচা। কোথায় কৃষ্ণ আর কোথায় দ্বীপ! পাহাড় হবে, আকাশ হবে, অবাক কাণ্ড!
বুলির চোখে জল চলে এলো। বললো, ছেলেটাকে নিয়ে এভাবে বলছিস কেন্? আমার ছেলে কি তোর ছেলে না? নিজের ছেলেকে কেউ আশীর্বাদ না করে অভিশাপ দেয়?
দুলি বললো, বলেছিলাম কালো ভূতের সাথে বিয়ে করিস না। তোর পরবর্তী প্রজন্ম সব কালোই হবে। 
বুলি চোখ মুছে বললো, কালোকে কালী বলিস কেন্? কালোও একটি রং। সন্তানের চেয়ে যদি রং তোর কাছে গুরুত্ব পায়, তবে তুই কালী কিংবা কৃষ্ণের উপাসনা করিস কেন্? কৃষ্ণও কালো, কালীও কালো।
দুলি বললো, কৃষ্ণ, কালীর সাথে কারো তুলনা পাপ। আর কালো রং, কিন্তু সকল অশুভর রং। দিদি, সব ফেলে চলে আয়।
বুলি তখনই রেগে যায়, চলে যা তুই। খবরদার আর আমার বাড়ি আসবি না। যা।
দুলি চলে যায়। দুলির সাথে বুলি আর দেখা বা কথাও বলেনি। এমনকি দুলির বিবাহতেও সে যোগ দেয়নি।

ব্যবসায় ক্ষেত্র থেকে দেবব্রত বাড়ি এলো। প্রতিক্ষার প্রহর শেষ হলো বুলির। বুলির প্রশ্ন, গতকাল যে কাজটি ভুল করেছিলে ঠিকঠাক করেছো?
দেবব্রত বললো, মিষ্টি বৌটার কি চিন্তা দেখো! সঠিকতা থেকে যে শিক্ষাটা না হয়, ভুল থেকে তার বেশী শিক্ষা হয়। আত্ম-সচেতনতা বাড়ে। ক্ষুধা লেগেছে। খেতে দাও। ঘুম চেনে না শ্মশানঘাট, ক্ষুধা চেনে না মুচির পাত।
বুলি খেতে দিলো। দেবব্রত বলো, দুলির সাথে কথা না বলাটা অনুচিত। তুমি ওর বড় দিদি।
বুলি বললো, ছেঁড়া কাপড় সেলাই করে জোড়া লাগানো যায়, কিন্তু দাগ থেকে যায়। ভাঙা কাঁচ কাস্টিং করে জোড়া লাগানো যায়, কিন্তু দাগ থেকে যায়। আর সে দাগ কখনো মুছে না।
দেবব্রত বললো, ভুল বললে, রক্তের বন্ধনে সাময়িক সময়ের জন্য দূরত্ব সৃষ্টি হলেও সম্পর্কে ফাঁটল ধরে না। দাগ তো পড়া দূরের কথা।

দুলি আর জয়ন্তর মধ্যে রেষারেষি লেগেই থাকে। একটু রেষারেষি ভালো, বন্ধনকে সুদৃঢ় করে। জয়ন্ত বললো, পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটির নাম সুখ। যার ক্রেতা সবাই, বিক্রেতা কেউ নেই। আমি সুখ কিনতে চাই, আমার প্রচুর টাকা দরকার।
দুলির জবাব, সুখ যদি কেনা যেত তবে কোটিপতিরাই সুখী হতো। সুখী মানুষের তালিকায় রাস্তার মানুষ ছাড়া খুব কমই অন্য মানুষদের দেখা যায়। অলস! কর্মচোর! কাজ না করে আমার কাছে টাকা চাও! ব্যক্তিত্বপূর্ণ নির্লোভী মানুষগুলো নিরবে কাজ করে যায়। কাজ পাগল হও, টাকা এমনিতেই আসবে।

দেখতে দেখতে অনেক বছর পার হয়ে গেলো। দ্বীপ বেশ বড় হয়েছে। শরীরের রংটা ময়লা বলে সে কেমন হীনমন্যতায় ভোগে। আত্ম-বিশ্বাস পায় না। কিন্তু বন্ধুর অভাব নেই। বান্ধবীর অভাব নেই। মোটর সাইকেল চড়ে দাদু বাড়ি গেলো। দাদু দেখে বললেন, দাদু, বুকে আয়। 
দুলি এসেছে। মাসীকে ভালো, মন্দ জিজ্ঞাসা করলো। বাড়ি এসে মাকে বললো, মা, মাসী কি দাদুদের বাড়িই থাকেন? 
বুলি প্রশ্নের উত্তর না করে বললো, হাত মুখ ধুয়ে আয়। ভাত খাবি।
খেতে বসে দ্বীপ বললো, মা, টাকা আছে, বাইক আছে, তাই বন্ধু আছে। সময়, সুযোগ বা কথাচ্ছলে শ্বেত বন্ধুরা কিছু বলতে পিছপা হয় না। চারিদিকে সাদা চামড়ার বড় বেশী চাহিদা, মা৷ মা, কালো বলে কি অছ্যুৎ?
বুলি বললো, তোর বন্ধুরা তো সত্য বলে। সত্যকে গ্রহণ করতে তোকে শেখাইনি? সুন্দরকে সুন্দর বললে দোষ নেই। তোকে কালো বললে দোষ কিসের?
দ্বীপ খাওয়া বন্ধ করে বললো, সুন্দরকে সুন্দর বলা হয় প্রশংসার্থে, কিন্তু কালোকে কালো বলা হয় অবজ্ঞার্থে।
বুলি বললো, তোর মাসী কি তোকে কিছু বলেছেন?
দ্বীপ বললো, দাদু দেখেই বুকে টেনে নিলেন। আর মাসীকে প্রশ্ন করেও উত্তর পাই না। মা, সবাই সুন্দরের পূজারী।
বুলি বললো, তোর মাসীর সাথে কথা বলার দরকার নেই। পড়াশোনা করছিস কর্। মানুষ হ্ আগে। কৃষ্ণচূড়ার ফুল কিন্তু লাল। তোর সফলতা তোর সকল কষ্টকে দূর করবে।
দ্বীপ বললো, লেখাপড়ায় সফল হলেও ফল শূন্য। ভালো জবের পূর্বশর্ত আগে দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী।
বুলি ছেলের হতাশায় বিমর্ষ। বললো, বাবা রূপে ভোলে চোখ আর গুণে ভোলে মন।
দ্বীপ বললো, মা, আমি পথ চলি, আমি জানি বাস্তবতা। 
বুলি বললো, বাবা, তোর জানা ভুল হতে পারে। গুণের কদর সর্বদা। গুণের মর্ম জানা নেই যাদের তাদের সাথে তুই থাকিস। কদর্য আর কালো এক নয়। তুই নিজেকে মিছে মিছে কদর্য করে ফেলেছিস।

পরদিন দ্বীপ কলেজে গেলো। তিন বন্ধু তৎক্ষণাৎ জুটে গেলো। দেবু মিটিমিটি হেসে বললো, তোর কি জিম্বাবুয়ের নাগরিকত্ব আছে? না, মানে আমাদের প্রিন্সিপালের মেয়ের তো অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব আছে!
দাশু বললো, ওরে না, ওর দাদুর বাড়ি জিম্বাবুয়ে। বংশ পরম্পরায় ওরা কালত্বকে বহন করছে গর্বের সাথে।
দবির বললো, আমার কোকিলের স্বর ভালো লাগে। কাকেরও। দেখ্, কালো বলে কিন্তু বললাম না।
দ্বীপ প্রচণ্ড রেগে গেলো। কিন্তু কিছু বললো না। ও বাড়ি চলে এলো। ওরা তিন বন্ধু হাসাহাসি করতে লাগলো। দাশু বললো, বন্ধুটা আজ বেজেছে ভালো। প্রত্যেক দিন ওকে এভাবে পঁচাবো। 

ব্যবসায় সংক্রান্ত কাজে দেবব্রত ব্যস্ত থাকে। আজ বাবাকে সামনে পেতেই দ্বীপ কিছু একটা বলতে গিয়ে থেমে গেলো। দেবব্রত বললো, কিছু বলবি, বাবা?
দ্বীপ বেশ রাগতস্বরে বললো, বাবা, আমার দ্বীপ নাম রেখেছিলে কেনো? দুনিয়াতে কি আর নাম ছিলো না? কাজল, শ্যাম, শ্যামল রাখলে তো পারতে!
দ্বীপ নিজের ঘরে চলে গেলো। বুলি এলো। দেবব্রত বললো, ছেলেটার কি হলো? এমন আচরণ তো করে না!
বুলি বললো, ওর বন্ধুরা ওকে কালো বলে ক্ষেপায়, কটাক্ষ করে।
দেবব্রত বললো, কই আমাকে তো কেউ কালো বলে না আর! প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। হাতে ক্ষমতা থাকলে সবাই স্যার বলবে। কালো বলার সাহস পাবে না। ছেলে যেন পড়ালেখায় গাফিলতি না করে।
বুলি আড়চোখে চেয়ে বললো, তারমানে তোমাকে ভালোবাসি তোমার টাকা আছে, তুমি প্রতিষ্ঠিত তাই?
দেবব্রত বললো, তোমার চোখ আছে, তুমি মানুষ চেনো। ব্যক্তি হলেই হয় না, ব্যক্তিত্ব থাকা চায়। তুমি যে ব্যক্তিত্বকে ভালোবাসো। সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষ ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই চায় না।
বুলি বললো, অর্থ কি সুখ দেয়? অঢেল সম্পত্তির মাঝে থেকেও কজন সুখ পায়? মিল থাকলেই আর কিছু লাগে না। বাঁচার রশদ ভালোবাসা। যা অর্থ বিত্তে থাকে না।
দেবব্রত বললো, কখনো কাউকে খুব বেশী বিশ্বাস করতে নেই। খুব বেশী ভালোবাসতে নেই। প্রিয়জনের কাছ থেকে খুব বেশী আশা করতে নেই। কারণ পৃথিবী স্বার্থপর নয়। পৃথিবীর মানুষগুলো বড় স্বার্থপর। 
বুলি বললো, তোমার সান্নিধ্য আমার সাধনার ফল৷ তোমার দেয়া কষ্ট হবে আমার উপহার। আমি জানি, নিজ আত্মাকে কেউ কষ্ট দিতে পারে না৷ কষ্ট দেয়ার ভাবনাও জাগে না৷ আমি তোমাকে কারণ ছাড়াই ভালোবেসে যাবো। তোমাকে আকাশ থেকে চাঁদ এনে দিতে পারবো না, মিথ্যা কথার পাহাড় বানিয়ে স্বপ্ন দেখাতে পারবো না। পারবো না ছলনা করতে৷ শুধু ভালোবাসতে পারবো জন্ম-জন্মান্তরে।
দেবব্রত আশ্চর্য হয় আর বলে, এই যুগে তোমার মত সর্বগুণ ধন্যা, সর্বগুণ শ্রেষ্ঠা বৌ না জানি কোন কর্ম গুণে পেয়েছি! 

অনেক দিন পর জয়ন্তকে দুলি ফোন দিলো। জয়ন্ত উচ্চস্বরে বললো, ফোন দিয়েছো কেনো?
দুলি বললো, তুমি আমার বর, আমার বন্ধু, আমার উপর প্রভুত্ব ফলাও কেনো?
জয়ন্ত বিরক্তি প্রকাশ করে বললো, তোমার সাথে আমার কোনো কথা নেই, রাখো।
দুলি বললো, জীবনকে সুখী করার সংলাপই শ্রেষ্ঠ সংলাপ। কথা না বললে থাকতে পারবো?
জয়ন্ত বললো, আমার সংকটে তোমার উদার হস্ত মেলেনি৷ তুমি রাখো।
দুলি বললো, দুঃখ, কষ্ট, সংকট সব চারাগাছ। এতে সার, জল দিলেই বাড়বে। তুমি তোমার সমস্যা উত্তরণে আমাকে পাশে না রেখে বরং আমার উপর বোঝা চাপিয়ে দিয়েছো।
জয়ন্ত বললো, তুমি টাকার বন্দোবস্ত না করে ফিরবে না।
দুলি বললো, টাকাতে সংকট কাটে না। বুদ্ধিতে সংকট কাটে। পরিশ্রমে সংকট কাটে। ত্যাগে সংকট কাটে। মহব্বতে সংকট কাটে। পরিকল্পনাপূর্ণ জীবনই স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়, সাফল্যের দ্বারে সে জীবন নোঙর ফেলতে পারে।
জয়ন্ত বললো, এত মিষ্টি যুক্তিতে জীবন চলে না।
দুলি বললো, যাদের কল্পনাশক্তিই নেই, শ্রদ্ধাশক্তিই নেই, তারা পৃথিবীকে কিছু দিতে পারে না। তোমার নিজের আর কি হবে?
জয়ন্ত বললো, বিশে বিদ্যা, ত্রিশে ধন, চল্লিশে ঠনঠন। ত্রিশ চলছে, এখন ধনের পিছে দৌঁড়ানোর সময়। তুমি আমার ব্যবসায়ের টাকার ব্যবস্থাটা দ্রুত করে তারপর ফেরো।
দুলি বললো, সমাজ আলোকিত হয় শুভবুদ্ধিসম্পন্ন, জ্ঞানবান মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। বিশে বিদ্যা, সে বিদ্যা অর্জন তোমার হয়নি। পাকা ফসল খাওয়াই তোমার শখ। আগে ফসল ফলাতে শেখো।
জয়ন্ত বললো, রূপ নিয়েই ঘরে এসেছো, তোমার রূপ দেখার সময় নেই আমার। সেজে সেজে ঘুরে বেড়াও, পরিবেশকে রঞ্জিত করো। 
দুলি বললো, তোমার মত হীন মন-মানসিকতার মানুষের সাথে ঘৃণা হয় আমার কথা বলতে। টাকার বিনিময়ে যদি সম্পর্ক বাঁচাতে হয়, তবে সে সম্পর্ক আমি রাখবো না। মনে রেখো, আমি ঢোল না যে বাজালেই বাজবো। আমি গ্রামের সংসার বাঁচানো কোনো ভীত মেয়ে না যে, বলবে আর মুটোমুটো টাকা এনে দেবো। থাকো তুমি তোমাকে নিয়ে।
দুলির কথাগুলো দেবাশীষ বাবু শুনলেন। মেয়ের সংসার বাঁচানোর জন্য তিনি বড় মেয়ে বুলির বাড়ি গেলেন। বাবাকে দেখে বুলির চোখে জল চলে এলো। দেবাশীষ বাবু বললেন, মারে, দুলি চার মাস আমার এখানে এসে পড়ে আছে। এক লক্ষ টাকা না নিয়ে গেলে ওর স্বামী ওকে ঘরে উঠতে দেবে না।
বুলি নাকে হাসলো আর বললো, দুলির স্বামী তো কার্তিক ন্যায়। অসুর হলো কবে থেকে?
দেবাশীষ বাবু বললেন, কোনদিন তোকে জানতে দেয়নি। জয়ন্তর ঘরে মেয়েটা আমার একদিনও সুখ পায়নি।
বুলি বললো, ওকে না হয় আমাদের বাসায় আসতে বলো। কটা দিন থাকুক। 
দ্বীপ কলেজে গেছে। দেবু বললো, কিরে শেভ করেছিস? মুখে দাড়ি উঠার সুযোগই পায় না। মন মজলো নাকি কোনো নারীর রূপে?
দেবুর কটাক্ষাচ্চারণে দ্বীপের মন ভেঙে গেলো। দাশু বললো, কইরে তুই কাছে আয়। দিনের বেলাতেও তোকে বাতি জ্বালিয়ে দেখতে হবে নাকি?
দবির বললো, ওহ, কাঠ পুড়ে কয়লা, কয়লা পুড়ে ছাই। তারপর থাকবে না অবশিষ্ট।
দাশু বললো, হাড়ির তলার থেকেও তোর মুখটা গাঢ় কালো। 
দেবু আবার একটু কটাক্ষ মিশিয়ে সান্ত্বনা বাক্য শোনালো, ওরে এভাবে বলিস না। সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই।
দ্বীপ বাড়ি চলে এলো। মাকে বললো, মা, আমার বাঁচতে ইচ্ছে হয় না।
ছেলেকে বুকে জড়িয়ে নিলো বুলি। বললো, কি সব অলুক্ষণে কথা!
দেবব্রত বললো, বন্ধুদের কথা গায়ে মাখিস কেন্? যে যা বলবে এক কান দিয়ে শুনবি তো অন্য কান দিয়ে বের করে দিবি। ফ্রি হ্ বাবা। বন্ধুদের কথায় মন খারাপ করবি না।
দ্বীপ বললো, বাবা, মা, বাইরটা ওদের। জগৎটা ওদের৷ আমাদের প্রতি পদে কটাক্ষ ভোজন করতে হয়।
দ্বীপ ঘরে চলে গেলো। দেবব্রত বললো, তোমার ছেলের মত আজীবন আমিও মনোক্ষুণ্নে ভূগেছি। আমাদের সহসা কেউ গ্রহণ করতে চায় না। বিবাহের আগে আট থেকে দশটা মেয়ে দেখেছিলাম। আমি দুই হাতে রোজগার করি সে কথা কেউ বিবেচনায় নেয়নি। ভগবান কেনো আমাকে এত কালো করে সৃষ্টি করলো তাই নিয়েই ছিলো কানাঘুষা।

বিকালে দুলি এলো। দিদিকে বুকে জড়িয়ে নিলো। দুলি বললো, দিদি আমার চোখ আছে, চোখে দৃষ্টি নেই। ঝলমলে সব মাধ্যমেই সৌন্দর্য যেন অক্সিজেনের মত। আমি তাই সৌন্দর্যকে সুন্দর ভেবে খুব গুরুত্ব দিতাম। জন্ম পরিচয় আর রূপের গর্বের উর্ধ্বে আপন কর্ম পরিচয়। আর এই কর্ম পরিচয়ই আসল পরিচয়। আর এটাই মানুষের জীবতব্রত হওয়া উচিত।
বুলি হ্যাঁ-সূচক মাথা ঝাঁকিয়ে বললো, হৃদয়ের রূপে বিকশিত যে জন তার শারীরিক সৌন্দর্যের কি প্রয়োজন!
দেবব্রত এসে শ্যালিকার ভালো, মন্দ খোঁজ নিলো আর বললো, তুমি যদি সত্যাশ্রয়ী সুন্দর আত্মার হও, তবে তুমি স্বর্গের সুখ পাবে।
দুলি জল চোখে বললো, দাদাবাবু, আপনাকে নিয়ে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে অনেক মন্তব্য করেছি। আপনি আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। খুন করেও তো খুনী ক্ষমা চায়, আর আমার ঐ ভুলের কি কোনো ক্ষমা নেই?
দেবব্রত বললো, আমার চোখে তো তুমি অন্যায়ই করোনি, আমি আমার পরিবেশের অজস্র চাপ খুব সাধারণ ভাবে নিই। এই যে তোমার চিন্তার পরিবর্তন হলো, এটা অনেক কিছু। এটাই আমাদের প্রাপ্তি। একটি বিশুদ্ধ চিন্তার বিবেক সভ্যতার পতন ঠেকাতে পারে। মনে রেখো, তোমার কিছুই নেই যদি উন্নত হৃদয়ের না হও, হৃদয়ে যে উচ্চ সে সদা সম্মানিত।
দুলি বললো, ভ্রষ্ট পথিক ছিলাম, ভ্রষ্ট পথিকের আর্ত-চিৎকার হারিয়ে গেছে বিশাল মরুভূমিতে। আমি আমার জীবন দিয়ে তার প্রায়শ্চিত্ত করছি।
দেবব্রত বললো, কাজের প্রতি আত্ম-নিবেদন হলো সৌন্দর্য। জয়ের জন্য জেদী হলো সৌন্দর্য। অন্যের হিতার্থে হাত প্রসারিত হলো সৌন্দর্য। অর্থে আভিজাত্য নয়। আমি পারবো এটাই আভিজাত্য। আমি সংসারকে ছায়াতলে রাখবো এ ব্রতই হলো সৌন্দর্য। আমি সবার নিরাপত্তায় বিসর্জিত এটাই আভিজাত্য। আমি সুন্দর দেখতে এটা বলা সৌন্দর্য না, এটা আভিজাত্যও না।
বুলি বললো, মানুষের বদ্ধমূল চিন্তাতে শক্ত করে আঘাত করতে হবে নতুন ধ্যান-ধারণা সৃষ্টির জন্য। সমাজের মগজে, শিরা-উপশিরাতে মোজাইক করা যে গদ-বাঁধা চিন্তা তার অনায়াসে পরিবর্তন হবে না। দুলি বোনটা যে আমার বুকে ফিরেছে, এ যে কত বড় প্রাপ্তি! চল্, দূর থেকে এসেছিস, হাত মুখ ধুয়ে নে। বাবা আছেন, মিলেমিশে খাবো।
 
ওরা ঘরে গেলো। দুলি খেতে খেতে জীবন ইতিহাস খুলে বললো। শারীরিক, মানসিক নানা আঘাতের স্বীকার করলো। বুলি সান্ত্বনা দিলো। খাওয়া দাওয়া শেষে টাকা দিতে গেলে দুলি বললো, কিসের টাকা? বাবা বলেছে? রাখ্। টাকা দিয়ে সংসার টিকানোর মানুষ আমি না। বিশ্বাস আর ভালোবাসা সভ্যতার ভিত্তি। এ দুটোর কোনটাই আমাদের মাঝে নেই।

দুলি দ্বীপের রুমে গেলো। দ্বীপ মাসীকে দেখে হতবাক হলো। দুলি দ্বীপের পড়াশোনার খোঁজ নিলো। দ্বীপ বললো, মাসী আপনাকে পর পর মনে হয়। আপনি কি পর?
দুলি দ্বীপের পাশে বসে বললো, বাবা, তোকে আদর করি না বলে ভাবিস না, তোকে ভালোবাসি না। কোলে পিঠে মানুষ করিনি বলে ভাবিস না, তোর ভালো চাই না। মা মাসীতে কোনো তফাৎ নেই। তুই অনেক বড় হবি। 
বুলিও পিছন পিছন এসে বললো, দ্বীপ, আমার কালো মানিক।
দ্বীপ শুনে বললো, মা, এই পৃথিবীতে একমাত্র তুমিই আমাকে কালো বলোনি, তাও আজ বললে? 
বুলি বললো, কোনো সন্তানই তার মায়ের কাছে সাদা কালো বিবেচ্য থাকে না, থাকেওনি। 
দুলি বললো, কালো মানুষ অনেক উদার হয়। অনেক দায়িত্বশীল হয়। পিঠকে দেয়াল করে সকল ঝড় রুখে দেয়। আমার আশীর্বাদ জুড়ে তুই থাকবি।
বুলি বললো, শেষ পর্যন্ত তোর আশীর্বাদ আমার ছেলে পেলো?
দুলি বললো, কালো মানুষের মন তো আর কালো হয় না। তোরা যে ভালোবাসার মধ্যে বাস করিস, আমি তো তার দেখা আজো পেলাম না।

কিছুদিন থেকে দেবাশীষ বাবু আর দুলি বাড়ি চলে গেলো। মাকে দ্বীপ বললো, কালো মানুষ অনেক সুন্দর কিছু চাইতে গিয়ে দ্বিধান্বিত হয়, না?
বুলি বললো, না। সুন্দর কিছু কি? দেখি এনে দিতে পারি কিনা!
দ্বীপ বলতে গিয়েও বললো না। নিজের ঘরে গিয়ে উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে একটি সুন্দর মুখের স্বপ্ন দেখতে লাগলো।
দ্বীপ ঘুমিয়ে গেলো। স্বপ্ন জগতে ভাসতে লাগলো ও। দ্বীপের সামনে একটি অপকাণ্ড দাঁড়িয়ে দ্বীপকে বলছে, এই যুবক, সুন্দর মুখের স্বপ্ন দেখো কেনো? তুমিও তো তবে সৌন্দর্যের পূজারী! তবে অন্যরা তোমাকে কালো বললে রাগো কেনো?

দ্বীপের ঘুম ভেঙে গেলো, প্রচণ্ড শব্দ করে কেঁকিয়ে উঠলো। বুলি আর দেবব্রত দরজায় এসে টোকর দিলো৷ দ্বীপ দরজা খুললো, বুলি বললো, কি হয়েছে বাবা?
দ্বীপ বললো, মা, আমি আর মনোক্ষুণ্ন হবো না। আমি আত্ম-বিশ্বাসী হবো। কেউ কালো বললে কষ্ট পাবো না। 
দেবব্রত বললো, আজে-বাজে চিন্তা বাদ দিয়ে ঘুমা। তোকে কালো যে বলে সে কালো। তোর কালোত্ব নিয়ে যারা মাথা ঘামায় তাদের মাথায় রোগ। কালো কোনো বাঁধা না, কালো কোনো রোগ নয়, মনে মনে দ্বিধান্বিত থাকবি তো মনোরোগে ভূগবি। কালো সফল হওয়ার পথের অন্তরায়ও না। 
বুলি বললো, বাবা, নিশ্চিন্তে ঘুমা। তোর ভবিষ্যৎ নির্মাণে আমাদের দুইজনের ভাবনা আছে। তুই ভুলে থাকবি, দেখবি ভুলে গিয়েছিস। তুই যে কালো তা মনে রাখার দরকার কি! তুই কালো বলে সামনে পাছে যারা কটাক্ষ করে তারা তুই যেদিন বড় হবি সেদিন তোর সামনে দাঁড়াতেও পারবে না। 
দেবব্রত আর বুলি নিজ ঘরে চলে গেলো। দেবব্রত শঙ্কা প্রকাশ করে বললো, মানসিক ভাবে ছেলেটা হেরে যাচ্ছে। সব সময় ওকে শক্তি জোগাবে। 
বুলি বললো, ওর বন্ধু বলয়টাতেই যত গণ্ডগোল। ওদেরকে বোঝাতে হবে। ওদের অত্যাচারে নিয়মিত কলেজে যাচ্ছে না। 
দেবব্রত আর বুলি মিলে দ্বীপের বন্ধুদের নিমন্ত্রণ করলো। সবাই এলো, খেলো। আর কথা দিলো দ্বীপকে পঁচাবে না। এরপর কটা দিন ভালো গেলো। একদিন দাশু বললো, কালো মানুষের রোগ কম হয়, সুঠাম দেহের হয়, শৌর্য-বীর্যও বেশী। কালোই হতাম!
বলেই সবাই হাসাহাসি করলো। 
দেবু বললো, কালো তাই কি দেখতে কি খুব খারাপ! চুল তো আমাদের মতই, নাইজেরিয়ানদের মত তো না, ঠোঁট তো আমাদের মতই, কাঁচকলা তো আর না। তুই আমাদের বন্ধু মাঝে আলাদা যাকে বলে স্বাতন্ত্র্য, নিজ গুণে ব্যতিক্রম। নজর আটকে না পড়লেও নজর তোর দিকেই আগে যায়।
একথা শুনেই আবার সবাই হাসিতে ফেঁটে পড়লো। 
দবির বললো, চুল কালো দোষ নেই, চামড়া কালো হলেই দোষ, না? কেউ দ্বীপকে পঁচাবি না। 
আবার সবাই একচোট হাসলো। দ্বীপ পড়লো বিপদে, যেতে পারলে বাঁচে। 
দাশু আবারও বললো, দেখেছিস দ্বীপের বাবা কি সৌভাগ্যবান, নিজে আফ্রিকান, বৌ পেয়েছেন ইউরোপিয়ান!
দ্বীপের জন্য কথাটি সুখকর ছিলো না। দৌঁড়ে যেয়ে দাশুকে মেরে দিলো দুই ঘুষি। তারপর রাগে ফুঁসে বললো, আমাকে নিয়ে অনেক বলেছিস, তাই বলে এবার আমার বাবা মাকে নিয়ে বলবি?
দাশু বললো, আজ বুঝলাম সিনেমার ভিলেনরা কেনো কালো হয়। তুই বাস্তবের ভিলেন।
দেবু দাশুর পক্ষ নিয়ে বললো, সিনেমার ভিলেন পর্যন্ত যাচ্ছিস কেন্, এলাকার চোর ডাকাতের দিকে তাকা, কেউ পরিষ্কার না, সব কালো।
দবির বললো, তোর বাবার টাকা আছে, যার তার গায়ে হাত তুলবি এটাই স্বাভাবিক।
দ্বীপ বললো, তোরা কথা দিয়ে কথা রাখিসনি। তোরা ভালো হবি না। কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না। 
দাশু বললো, ঠিক বলেছিস, কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না। তুই যতই শেভ করে থাকিস আর বিদেশি স্নো পাউডার মাখিস কোনো লাভ নেই।
পাশ থেকে দবির বললো, ওরে দাশু ওভাবে বলিস না, জাতের মেয়ে যেমন জাতের ছেলেও কালো ভালো।
কত কালো ব্যক্তিই তো জগৎ বিখ্যাত। নাম বলবো দ্বীপ?
দ্বীপ জলচোখে ওখান থেকে চলে গেলো। বন্ধুরা যদি ওকে গ্রহণ না করে তবে জগৎটায় তো পর।

বুলি আর দেবব্রত ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছে না। যত আত্মীয়, স্বজন সবার কাছে খোঁজ নেয়া হলো। ওর বন্ধুরাও হতাশ। দ্বীপ কোথায় গেলো? বন্ধুরাও খুঁজতে লেগে গেলো। বুলি কাঁদছে, দেখে দাশু দবিরকে বললো, এত মশকরা করা ঠিক হয়নি।
দবির বললো, ওর বাবা মা তো বারণ করেছিলেন। আমরা কি কথা রেখেছি?
বুলি সবার উদ্দেশ্যে বললো, দ্বীপকে খুঁজে না পেলে তোমাদের পুলিশে দেবো।
ভয়ে সবাই দ্বীপকে খুঁজতে বের হয়ে গেলো। দিন শেষে তাকে হাসপাতালে খুঁজে পাওয়া গেলো। ধারালো অস্ত্র দিয়ে সে তার মুখ ক্ষত-বিক্ষত, রক্তাক্ত করেছে। দেখে দাশু দেবুরা অঝোরে কাঁদতে লাগলো।
বুলির চোখ থেকে জল শুকায় না। ছেলেকে বুকে জড়িয়ে থাকলো। পৃথিবীতে নিষ্পাপ হয়ে আসি সবাই, কেনো এত অহেতুক ভেদাভেদ সৃষ্টি করে অন্যের স্বাভাবিক জীবন চলনে বাঁধা সৃষ্টি করি? আতিশয্যে যেমন, তেমন অন্যকে হেয় করার মধ্য দিয়ে কখনো মহত্ত্ব প্রকাশ পায় না। মানুষকে প্রাপ্য মর্যাদা দিলে পৃথিবীটা হয়ে উঠবে স্বর্গের চেয়ে সুন্দর। সবার উদ্দেশ্যে কাঁদতে কাঁদতে বুলি দ্বীপের মুখের একটা কথা বারবার বলতে লাগলো, তুই ঠিকই বলেছিলি বাবা, বাইরটা ওদের, জগৎটা ওদের।


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় সভ্য...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

ভুতের গল্প : ভুতেরাও ভদ্র হয় ।। দীপক পাল

ভুতেরাও ভদ্র হয়  দীপক পাল  কোন এক রহস্য পত্রিকার জন্য একটা ভুতের গল্প লেখার তাগিদে রাত এগারোটা বাজার পরে শোওয়ার ঘরের লাইট নিভিয়ে আমার লেখার ঘরে ঢুকে জানালার সামনের টেবিলে গিয়ে চেয়ারটা টেনে বসলাম। ঘরে লাইট জ্বললে আমার স্ত্রীর চোখে ঘুম আসে না। অন্য দিকে ভাবলে ভুতের গল্প লিখতে গেলে একটু বেশী রাত ও একদম নির্জন পরিবেশ দরকার। হাতে কাগজ কলম নিয়ে জানালার বাইরের আলো আঁধারিতে চোখ মেলে তাকালাম। পথের আলোর জন্য এই আলো আঁধারির সৃষ্টি যদিও এই অমাবস্যার রাতে সেই আলো বড়ো অপর্যাপ্ত। একটু ভেবে আমার গল্প লেখা শুরু হলো। সারাদিন কাজের ফাঁকে মনে মনে গল্পটা মোটামুটি ফেঁদে রেখেছিলাম। এখন সেটাই গুছিয়ে লেখার পালা। সেটাই করে চলেছি একটানা। হঠাৎ একটা গলাখাঁকারির আওয়াজ এলো কানে। ভাবলাম পাশের বাড়ী থেকে বুঝি আসছে। তাই পাত্তা না দিয়ে লিখে যাচ্ছি। কিন্তু দ্বিতীয় বার গলা খাঁকারির আওয়াজ শুনে জানালার বাইরে তাকালাম। দেখি জানালার ওপাশে একটা আবছা ছায়ামূর্তি যার চোখজোড়া অল্প অল্প জ্বলছে। কিন্তু মুখে অল্প হাসি হাসি ভাব। এক মনে ভুতের গল্প লেখি যাওয়ার ফলে আমি যেন ভুতের রাজ্যে বিচরণ করছিলাম তাই স্বচক্ষে স...

ছয় দিনের ব্যবধান ।। ইদ্রিস মণ্ডল

ছয় দিনের ব্যবধান   ইদ্রিস মণ্ডল ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। শিউলি গাছের নিচে সারা রাত ঝরে পড়া ফুলে সাদা হয়ে আছে উঠোন। কুয়াশার পাতলা চাদর মুড়ে শহরের পুরোনো পাড়াটা যেন আরও নীরব, আরও আপন হয়ে উঠেছে। দূরের মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে এলে একতলা ছোট্ট বাড়িটির একটি ঘরে আলো জ্বলে ওঠে। এ বাড়িতে এটাই নিয়ম। আজানের আগেই ঘুম ভাঙে কাশেম সাহেবের। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই, তবু জীবনযাপনের ছন্দে কোনো আলস্য নেই। তিনি ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে বসেন, পাশে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী মিরা বেগমের দিকে একবার তাকান। ঘুমের ভেতরেও মিরা বেগমের মুখে অদ্ভুত এক প্রশান্তি লেগে থাকে। এত বছর একসঙ্গে থাকার পর মানুষটিকে আর নতুন করে দেখার কিছু নেই, তবু প্রতিদিন ভোরে তাঁর মনে হয়—এই মানুষটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ওজু সেরে নামাজ পড়ে তিনি বারান্দায় এসে বসেন। শীতের বাতাসে তুলসীপাতার গন্ধ মিশে আছে। একটু পরেই মিরা বেগম দু'কাপ ধোঁয়া ওঠা চা নিয়ে এসে পাশে বসেন। — "চায়ে চিনি কম দিয়েছি। ডাক্তার তো বারবার নিষেধ করেছেন।" কাশেম সাহেব কাপ হাতে নিয়ে হেসে বললেন, — "ডাক্তার যতটা নিষেধ করেন, তুমি তার চে...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্ত স্মরণে ✍️ শিবাশিস মুখার্জি

অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্তকে স্মরণে ✍️ শিবাশিস মুখার্জি ভাষাবিজ্ঞানের জগৎ আজ নিঃসন্দেহে আরও দরিদ্র হয়ে পড়ল। অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্তের প্রয়াণ কেবল একজন খ্যাতনামা ভাষাবিদের মৃত্যু নয়; এটি এমন এক শিক্ষকের বিদায়, যিনি ভাষা, সমাজ ও মানবিক যোগাযোগকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ায় আমরা হারালাম এমন একজন মানুষকে, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ছাত্রদের শুধু ভাষাবিজ্ঞান নয়, চিন্তা করতে, প্রশ্ন করতে এবং মানবিক হতে শিখিয়েছেন। কলকাতায় জন্ম নেওয়া প্রবাল দাশগুপ্ত ভাষাকে শুধুমাত্র ব্যাকরণ ও বাক্যগঠনের বিষয় হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে ভাষা ছিল সমাজ, সংস্কৃতি, পরিচয়, ইতিহাস ও ক্ষমতার জটিল আন্তঃসম্পর্কের এক জীবন্ত প্রতিফলন। বাংলা ভাষাবিজ্ঞান, সমাজভাষাবিজ্ঞান, ভাষানীতি ও ভাষাদর্শন নিয়ে তাঁর গবেষণা নতুন চিন্তার দুয়ার খুলে দিয়েছিল অসংখ্য ছাত্র, গবেষক ও ভাষাপ্রেমীর সামনে। তাঁর প্রয়াণ আমার কাছে কেবল একাডেমিক ক্ষতি নয়, গভীর ব্যক্তিগত বেদনাও। ডেকান কলেজ, পুনেতে অধ্যাপনা করার সময় আমি তাঁর ছাত্র হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করি। সেই সময় প্রায়ই তাঁর কোয়ার্টারে যাওয়ার স...

একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার

  একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন: অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প  উৎপল সরকার মানুষের মৃত্যু কখনও কখনও শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থাকে না; সেটি সমাজের আয়নায় ভেসে ওঠা এক ভয়ংকর প্রতিচ্ছবিও হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষত, কোনো শিল্পীর মৃত্যু হলে সেই প্রশ্ন আরও গভীর হয়। কারণ শিল্পীরা সাধারণ মানুষের মতো শুধু জীবন যাপন করেন না, তাঁরা অনুভব করেন বহু গুণ বেশি। তাঁরা হাসির আড়ালে কান্না লুকোন, আলোর নিচে দাঁড়িয়ে অন্ধকার বহন করেন। বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত পরিচালক অনিক দত্ত— যিনি তাঁর ব্যতিক্রমী রসবোধ, সমাজ-রাজনীতির সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে চলচ্চিত্রে জীবন্ত করে তোলার জন্য পরিচিত ছিলেন— তাঁর মৃত্যু নিয়ে সাম্প্রতিক খবর বহু মানুষকে নাড়া দিয়েছে। যদি সত্যিই তিনি গভীর একাকীত্ব ও মানসিক যন্ত্রণার কাছে পরাজিত হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়ে থাকেন, তবে সেটি শুধু একজন পরিচালকের মৃত্যু নয়; এটি আমাদের সময়ের মানসিক নিঃসঙ্গতার এক নির্মম দলিল। অনিক দত্তের চলচ্চিত্রে বারবার ফিরে এসেছে হারিয়ে যাওয়া সময়, স্মৃতির ভাঙাচোরা বাড়ি, সমাজের ভেতরের নীরব ক্ষয় এবং মানুষের অদৃশ্য একাকীত্ব। “ভূতের ভবিষ...