Skip to main content

ছোটোগল্প ।। মানবেতর জীবন আখ্যান ।। সৌমেন দেবনাথ

মানবেতর জীবন আখ্যান

সৌমেন দেবনাথ


এই না হলে বস্তী! ভোরের কিঞ্চিৎ আলো উঁকি মারার পূর্বেই বড়রা কাজ সেরে মোটামুটি নিশ্চিন্ত। ছোটরা এবার ব্যস্ত। সারি দিয়ে ট্রেন রাস্তার পাশে বসে পায়খানা করছে। পিছনে দুই চারটা কুকুর অপেক্ষায়। এই ট্রেন রাস্তার দুই পাশ দিয়ে ছিন্নমূল কিছু মানুষের বসবাস। 
লুঙ্গি, জামা কোনো রকমে পরে বদরুল বললো, আইজ্জা ফিররা যদি হুনছি তুই কাইজ্জা করছত, তয় তোর মাথার চুলডি ছিররা শাক রাইন্দা খামু।
ওর বৌ নীরব থাকার মানুষ না। জবাব দেয় বলেই মার খায়৷ সারাদিন কান্না করে, যাকে পায় তাকেই স্বামীর নিষ্ঠুরতার কথা শোনায়। আজ অবশ্য কিছু বললো না। শুধু বললো, দেইখা শুইনা রিসকা চালায়েন।
বদরুল রিক্সা নিয়ে বাজারে গেলো। আরো দশ পনেরটা রিক্সা চলে এসেছে। সেই তুলনায় যাত্রী নেই। সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রিক্সা নিয়ে ওরা। রিক্সাগুলো দেখতে সুন্দর ও রঙিন হলেও রিক্সাওয়ালাদের জীবন সুন্দর ও রঙিন নয়। ভরদিন হাড়ভাঙা খাটুনি। এই একটা পেশা যেখানে ফাঁকি চলে না। গন্তব্যে যাত্রী না পৌঁছে দেয়া অবধি কোনো বিশ্রাম চলে না। শহর আলীর পঞ্চাশটার বেশী রিক্সা আছে। তাঁরই কাছ থেকে বদরুল রিক্সা ভাড়া নিয়েছে। দৈনিক দুইশত টাকা ভাড়া দিতে হয়। এক যাত্রী বদরুলকে হাত ইশারা করে ডাকলেন, যাবি?
বদরুল বললো, যামু। তয় আপনি আমারে তুই কইয়া ডাক পাড়লেন? আপনার থেইক্কা কি আমি ছোডো?
যাত্রী রেগে বললেন, খাস তো রিক্সা টেনে। আবার সম্মান চাস? 
বদরুল কথা না বাড়িয়ে বললো, কই যাইবেন?
যাত্রী বললেন, নৈচাপুর।
বদরুল বললো, তিরিশ ট্যাকা লাগবো। তেল, চাইলের দাম বাড়ছে। 
যাত্রী বদরুলকে ঠাস করে এক চড় মেরে বললেন, আমার বেতন বেড়েছে?
বদরুলের মুখটা অন্ধকারে ভরে গেলো। রিক্সা চালায় বলে ও যেন মানুষই না। অন্যের হাতে মারও খায়। মুখ নিচু করে যাত্রীর দুটি ব্যাগ রিক্সায় তুললো আর বললো, কুলির কামও কইরা দেওয়ন লাগে, দুইডা ট্যাকা ধইরা দ্যান কি?
যাত্রী বললেন, অভাবে তোর স্বভাব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। মুখ বন্ধ করে রিক্সা চালা।
নৈচাপুর এসে গামছা দিয়ে মুখ মুছলো বদরুল। নাক ঝাঁড়লো। হাফ ধরে গিয়েছে। ঘৃণায় যাত্রী ওর মুখের দিকে তাকালেনই না। কুড়ি টাকার একটা নোট বের করে দিলেন। টাকাটা ছেঁড়া। বদরুল বললো, বাই, ট্যাকাটা বদলাইয়া দ্যান।
যাত্রী রেগে গেলেন। বললেন, ভাই বললি ক্যান? আমাকে কি তোর ভাইয়ের মত মনে হচ্ছে? প্যান্ট, টাই, কোট দেখছিস না?
বদরুল মুখ নিচু করে থাকলো। লোকটি চলে গেলেন। সেখানে পরিচিত দুই তিনজন রিক্সাওয়ালা ছিলো। তারা কথা বলছে। বদরুল শুনছে। টিপু বললো, কত হইলো নায়ক বাই?
রাজ্জাক বললো, পাইচিলাম এক বেক্কল পাচেনজার, বিশ ট্যাকার জায়গায় আশি ট্যাকা লইচি।
আব্বাস বললো, মারছত। গলা কাটছত তার। তোগো লইগা বেবাক রিকসাওয়ালাগোর বদনাম রটে। হারাম খাইসনারে। আক্কাস, তোর খবর কী?
আক্কাস বললো, শৈলডা ভালা না। বল নাই রিসকা টাননের। গাছতলাত গুমাইচি। 
চুপ করে বদরুল সব শুনলো। সন্ধ্যা বেলা ঘরে ফিরে এলো। পাখিদের মত কিচিরমিচির করছে বস্তীর বাচ্চাগুলো। জরিমন বললো, আপনের বড় পোলারে আইজ্জা নইজা বুড়া মারছে। খেত থেইক্যা বলে কী কী চুরি করতাছিলো।
বদরুল রেগে বললো, মাইরা ফালাই না ক্যান? চিন্তা কমতো।
ছোট ছেলেটা গুড়গুড় করে মায়ের কোলে ঠেলে উঠে নিজের উদরপূর্তির সন্ধান করে। ছোটর বড়টাও কাছে এসে বায়না ধরে। মা বলে, বড় হইছত, খেলগা।
এমন সময় ওদের মাঝে নছিমন বিবি এলো। মনের জমিন বর্গা দিতে দিতে চেহারায় আর সেই আগের জৌলুস ভাব নেই। তাতে কি! সূর্য যতই আলো বিলাক তার কি আলোর ঘাটতি পড়ে! শারীরিক ছলাকলা দেখিয়ে দেখিয়ে প্রচুর কামাই রোজগার করছে৷ বদরুল একবার তাকিয়ে নজর ফিরিয়ে আবার তাকালো। অগ্নি দাহ্য বস্তুর অভাবে প্রজ্জ্বলিত হতে পারে না, নছিমন বিবি যেন বদরুলের সামনে সেই দাহ্য বস্তুই। তার বিকশিত সৌন্দর্য বদরুলের চোখ, নাক, কান, গালে দুলে দুলে যেন ছোবল মারলো। পান খাওয়া লাল ঠোঁট, জিহ্বা থেকে কথা বের হচ্ছে না, যেন অমৃত ঝরছে। বুকের বসন ঠিক নেই, ঠিক রাখেও না সে। এত কামগন্ধময় আর কামনাময় হয়ে নিজেকে প্রকাশ করছে, যে কারোরই রক্ত তার সংস্পর্শে টগবগ করবে।
নিজেকে সংবরণ করে বদরুল বললো, কিত্তে আইছত, বাইর হ্।
সে কথাতে কর্ণপাত না করে নছিমন বিবি বললো, শুকনা বৌয়ের দেহে কি সুখ পাস? যে গাছ দিনের পর দিন ফুল, ফল দিতাছে, তার মাঝে কি সৌন্দর্য আছে?
জরিমন ক্ষেপে গিয়ে বললো, তুই গেলি সামনে থেইক্কা?
নছিমন বিবি বললো, রাগোস ক্যান? কত পোলাপান পেটে ধরবি আর?
জরিমন বললো, যে আমার পেটের ভাত জোগায় তার সন্তান পেটে ধরি, তোর কী তাতে?
নছিমন বিবি হেসে বললো, মাইয়া দুইডা তো ডাগর হইয়া উঠছে, নজরে পড়ে। শাড়ি পরা শিখাবি না? দিয়া দে, লগে নিয়া যাই।
বদরুল দম করে দাঁড়িয়ে উঠে নছিমনকে বললো, বাইর হ্ বেশ্যা বেডি। বাইর হ্।
নছিমন বিবি উঠতে উঠতে বললো, শুকনা বৌয়ের হাড্ডির গুতায় মরবি, যাইস আমার কাছে, রসের কথা কমু।
জরিমন বললো, ঝাটা হাতে নিয়া বেহায়াডারে পিডায়ে দ্যান।
বদরুলকে উদ্দেশ্য করে বলতে বলতে নছিমন চলে গেলো, দর কষাকষি লাগবো না, উপযুক্ত কড়িও দেওন লাগবো না। যাইস, বুকের জমিন দিমু, জল খাবার দিমু। কাঁথার তলে গরম চা খাওয়ামু।
বলেই একগাল হাসি দিতে দিতে চলে গেলো। ওষ্ঠপ্রান্তের ও হাসিতে কোনো মায়াবী ভাব নেই, চাতুরীতে ভরা।
পরদিন বদরুল রিক্সা নিয়ে বাজারে গেলো। কত শৌখিন মানুষ তার রিক্সায় উঠে, অথচ তার জীবন কত অবহেলার। একজন যাত্রী এলো। তিনজন রিক্সাওয়ালা তাকে ডাকছে। যাত্রী পড়ে গেছে বিপদে। শেষে বদরুলের রিক্সায় এসে উঠলো। বদরুল কেতুনগরের উদ্দেশ্য রিক্সার প্যাডেল মারতে শুরু করলো। যাত্রী বললো, আপনার জামাটা তো ছিঁড়ে গিয়েছে।
বদরুল বললো, শরীলডা হুদা ঘামে। কোনো জামা টিকে না। ট্যাকা নাই গাইটে। ছয় ছয়ডা পোলাপান। বাইত চাইল লইয়া গেলে তারা খাইবো।
যাত্রী বললো, এত বাচ্চা নিয়েছেন কেনো?
বদরুল চুপ থাকে। যাত্রী নামলেন। পঞ্চাশ টাকার নোট বের করেছেন। বদরুল বোকার মত চেয়ে বললো, ভাংতি নাই, বাই।
যাত্রী ভাঙিয়ে দেবে বলে ভীড়ের মধ্যে এক দোকানে গেলো, কিন্তু আর ফিরে এলো না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বদরুল বললো, আমার পেটে লাত্থি মারলেন এমনে?
মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো বদরুলের। গাছতলায় বেশ কিছুক্ষণ মনমরা হয়ে ও বসে থাকলো।
সন্ধ্যায় এক যাত্রী জুটলো। বস্তীতে আসবে। ঘরে ফেরার সময় হয়ে গেছে, তাই এই যাত্রীকে পেয়ে খুব খুশী হলো বদরুল। বদরুল বললো, বস্তীতে আমার ঘর। আপনারে তো চিনলাম না!
যাত্রী ইতস্তত করলো কিছুক্ষণ। বুঝে গেছে বদরুল। বললো, নছিমনের কাছে যাইতাছেন? মাইনসে জানলে কলঙ্ক লাগবো না?
যাত্রী বললো, কাঁঠাল খাইলে আঠা লাগবো। আঠার ভয়ে কাঁঠাল খাওয়ন বন্ধ করে কেউ?
বদরুল আপন মনে রিক্সা টেনে চলে এলো। যাত্রী দুটো টাকা ধরে দিলো। বদরুল বললো, বেশী দ্যান ক্যান?
যাত্রী বললো, কাউরে কইয়ো না, বাইত গিয়া বৌয়ের লগেও কওনের দরকার নাই।
বদরুল মাথা নিচু করে ঘরে ফিরলো, পরিবেশটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বুঝতে পারলো। ছেলে, মেয়ে নিয়ে বসবাস করা কঠিন হয়ে উঠবে ভেবে চিন্তিত হলো।
জরিমন খেতে দিলো। আর বললো, বস্তীতে নতুন নতুন বেডা মানুষ কোত্থেকে আয়ে?
বদরুল উত্তর না করে খাওয়া শেষ করতে ব্যস্ত হলো।
ঐ মুহূর্তে মশিউরের বৌ মরিচ নিতে এলো। কিন্তু মরিচ থাকলেও জরিমন দিলো না। বললো, নাই।
মশিউরের বৌ বললো, তোর ঘরে থাহে কি? রিকসা চালাইলে কি সংসার চলে?
বদরুল হিংস্র প্রাণীর মত চেয়ে বললো, তোর ভাতার মশিউরে কী করে? চারকি?
মশিউরের বৌর উত্তর করার আগেই জরিমন বললো, আমার ভাতারে রিকসা চালায়। রোজগার করে। তোর ভাতার তো তাস খেলে, গানজা খায়।
মশিউরের বৌ বললো, আমার সোয়ামী রাজনীতি করে। তাই বন্ধুগো লগে তাস খেলে, গানজা খায়। আমার ঘরে চাইল আছে, ট্যাকা আছে। আছে তোর?
জরিমন বললো, গরীব মাইনসের হক তোর ভাতার মাইরা কাইট্টা আনে। গোণ্ডাগিরি করে, মেম্বর সাবের চামচা।
মশিউরের বৌ বললো, বরো মাইনসোগো লগে মিশশা থাকলে হেইডা চামচা হয়রে হিংসুইটা?
বদরুল জরিমনকে থামতে বললো, জরিমন থামলো না। জরিমন ক্ষিপ্ত হয়ে মশিউরের বৌকে বললো, এত সুকের সংসার, মরিচ নিতে আইচত ক্যান?
মশিউরের বৌ বললো, বদু বাই, দেখচেন আপনের বৌ কেমনে আমার লগে কাইজ্জা করে?
বদরুল জরিমনকে চুপ থাকতে বললো, জরিমন সে কথায় কান না পেতে বললো, আমার সোয়ামীর কাছো আবার নালিশ দ্যাস? এই মুখপোড়া বেডা, আপনের সামনে আপনার বৌরে যাচ্ছেতাই কইতাছে, হুনতাছেন না?
বদরুল ভাত খাওয়া বন্ধ করে বৌর চুলের গোছা ধরে বললো, কাইজ্জা করস ক্যান? খাইয়া কি তর হুদা কাইজ্জা করনের কাম?
মশিউরের বৌ বললো, বদু বাই, বেডির থোতাত মারেন। বেবাক মাইনসের লগে হেইতে লাগে। পোলাপানডির খোঁজ রাহে না।
যতক্ষণ পারলো মরণপ্রায় বৌটাকে মারলো বদরুল। তখন নছিমন বিবি এলো। এসেই বললো, বুঝিরে বদু, তোর মনের জ্বালা। তোর যৌবন থাকতে তোর বৌ হইয়া গেলো বুইরি। জানি তো কোন্ জ্বালাত মরস।
বদরুল বললো, আমার ঘরে ক্যান আইছত? চইলা যা।
নছিমন বিবি মশিউরের বৌ আর বদরুলের বৌর দিকে তাকিয়ে বদরুলকে বললো, নিজ ঘরে তো অনেক খাইছত, একদিন আমার ঘরে খা। বাত্তি হইয়া গেছি? ডেগা লাগবো? আছে। 
তারপর কৌণিক চোখে চেয়ে বললো, বাত্তি ফলে মাছি উড়ে বেশী কিন্তু! তুই দেকি বড্ড বোকা!
বলেই একগাল হাসলো নছিমন বিবি। মশিউরের বৌ বললো, বদু বাই, এই বেডি শেষ কইরা দিলো বস্তীটারে।
বদরুল কিছু বলতে যাচ্ছিলো। নছিমন বিবি থামিয়ে দিয়ে বললো, রোজগার তো কম করলি না। সঞ্চয় কিছু করছত? আমার ঘরে যাইস। পুষ্পশয্যায় শুয়াইয়া সুক ঢাইলা দিমু। এত লজ্জা করস ক্যান? কত বড় বড় ব্যবসায়ী আহে, তুই তো কিয়ের রিকসাচালক। তোরে যে ডাহি, এই তোর কপাল।
বদরুলের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলো। এমন আহ্বানে যেকোন পুরুষই কাবু হয়ে যাবে। জরিমন আর মশিউরের বৌ মিলে নছিমন বিবিকে তাড়িয়ে দিলো, ঠিক যেভাবে কুকুর তাড়ায়।
মশিউরের বৌ বললো, জরি, মিলমিশ করে না থাকলে আমাগো বেডাগো সামলাইতে পারমু না কিন্তু। বস্তী থেইকা এই বেশ্যারে তাড়াইতে হইবো।
বদরুল ঘরে যেয়ে ঘুমালো। যে আগুন নছিমন বিবি জ্বেলে দিয়ে গিয়েছে তাকে তা অস্থির করে রেখেছে। বৌ ঘরে ঢুকতেই বাজপাখি হলো সে।
এভাবে চলতে থাকলো জীবন। দুটো স্কুল ছাত্রীকে নিয়ে বদরুল রিক্সা ছেড়েছে। সে নিজের থেকেই বললো, আমারও দুইডা মাইয়া আছে। ইশকুলে দেবার পারি নাই। পেটের বাত দিতে পারি না, ইশকুলে কেমনে দিমু?
এক ছাত্রী বললো, আপনাদের মত রিক্সাওয়ালাদের দুঃখে আর ব্যথিত হবো না। এমন কথা বলে বলে দুটো টাকা বেশী নিতে চান।
বদরুল বললো, মাগো, ইশকুলে যারা পরে তাগো কাছ থেইকা আমি দুই এক ট্যাকা কমই লই। কিন্তু যারা চারকি করেন তাঁরা তো আমাগো দুই এক ট্যাকা বেশী দ্যান না! মাগো, দুক্কের কপাল নিয়া জন্মাইছি। আমাগো ঘৃণায় করো।
ছাত্রী দুটি আর কোনো কথা বললো না। ওরা যা ভাড়া তা দিয়ে নেমে চলে গেলো। দুটি কবুতরের বাচ্চার দিকে বদরুল চেয়ে থাকলো। আর নিজের অভাগী দুই মেয়ের কথা ভাবতে লাগলো। 
রিক্সা টানলে শরীরে আর শক্তি থাকে না। খালি রিক্সা তাও টেনে নিয়ে যাওয়া ওর জন্য অনেক কষ্টের। তখন এক যাত্রী বললেন, এই যাবি?
বদরুল না-সূচক মাথা ঝাঁকালো। তখন গলা বাজিয়ে যাত্রী সাহেব বললেন, যাবি না কেন্? তেল জমে গিয়েছে? কাঁচা টাকা ইনকাম তো! যা বের হ্।
এমন কথা শুনে শুনে সব সয়ে গেছে। বদরুল কান্না করতে চায়, কান্না করতে পারে না। বড় হলে এই সমস্যা।
উঁকুন বাছা বিকেল বেলায় মশিউরের বৌ বদরুলের বৌর মাথার উঁকুন বেছে দিচ্ছে। ট্রেনের নিচে সেজ ছেলেটা পড়তে যেয়েও পড়েনি। দৌঁড়ে এসে মায়ের কোলে লুকায়। বুকটা তার ধড়ফড় ধড়ফড় করছে। বদরুল বাড়ি ফিরছে। হঠাৎ সেই যাত্রীর সাথে দেখা। আজও সে নছিমনের কাছে আসবে। বদরুলের রিক্সায় উঠলো। বদরুল বললো, বিয়া করেন না ক্যান?
যাত্রী বললো, অল্প ট্যাকাত অনেক মজা। 
বদরুল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, পাপের বোঝা ভারী করতাছেন ক্যান?
যাত্রী বললো, নিষ্পাপ কেডা?
বদরুল চুপ করে রিক্সা টানতে লাগলো। আজও ভেবেছিলো বাড়তি টাকা সে পাবে। পেলো না। বরং হুমকি পেলো। যাত্রী বললো, কাউরে জানাইবেন না। কেউ যদি জাইন্না যায় তবে বস্তীতে রটাইয়া দিমু আপনে আমারে ঠিকানা দিছেন। আপনে দালাল।
বদরুল দাঁতে জিহ্বা কেটে চুপ হয়ে গেলো। ঘরে এলো। সেজ ছেলের বিপদের কথা শুনামাত্রই বৌকে বকলো, করছ কি বাইত? পোলাপানডি দেখস না কেন্? গতর দেখস? গতরে তোর মরিচ গুঁড়া দিমু। 
মুখ বুঝে থাকে জরিমন। মরার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া ছেলেকে বুকে করে বসে থাকে বদরুল। বাচ্চাদের প্রতি এত দরদ জরিমন আজ তা প্রথম দেখলো। ভাত দিয়ে জরিমন বললো, লন, বাতডি খান।
একটি কুকুর এসে দাঁড়িয়ে আছে। জরিমনকে গরম দিয়ে বদরুল বললো, কুত্তাডারে খেদাস না ক্যান?
ছেলেমেয়েদের মুখেও তুলে তুলে খাওয়ায়ে দিলো। বড় মেয়েটা বললো, বাজান, রূপকথার গল্প হুনাইবা? নছিমন কাকী আমারে কোলে বসাইয়া রূপকথার গল্প শোনাইছে। নতুন জামা কিননা দিবো কইছে।
ভাত খাওয়া বন্ধ করে দিলো বদরুল। বললো, তুই নছিমনের ঘরে গেছিলি?
আব্বার রাগ দেখে বড় মেয়ে চুপ হয়ে গেলো। জরিমনকে ডেকে বললো, তোর বড় মেয়ে নছিমনের ঘরে যায় কেমনে? দেইখা রাখস না ক্যান?
জরিমন বললো, কইডারে আমি দেইখা রাখমু? সারাদিন পাগল হইয়া যাই পোলাপানের জ্বালায়।
ছেলেমেয়েগুলোকে বোঝাতে লাগলো বদরুল। কারোর বাড়ি যেতে মানা করলো। মাকে সারাদিন কাজে সাহায্য করতে বললো। 
মেজ মেয়ে বললো, তয় আমাগো দুই বইনের দুইডা লাল জামা কিননা দিবা?
মেয়ে দুটোর মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বদরুল বললো, দিমু। ঈদ আয়ুক।
ঈদ আসতে কত দেরী, তা শুনেই মেয়েদের মুখে হাসি ফুঁটলো। মনে মনে গুমড়ে কাদতে লাগলো বদরুল।
পরের দিন নছিমন বিবি পান খেতে খেতে মশিউরের বৌর কাছে এলো। মশিউরের বৌ নছিমন বিবিকে তিরস্কার করে বললো, দূর হইয়া যা বদমাশ বেডি। তোর লইগা মেম্বর সাব আমাগো উচ্ছেদ কইরা ছাড়বো।
নছিমন বিবি বললো, দূর দূর করতাছস ক্যান? তোর মর্দা তো আমার কুঁইড়াঘরে হান্দায় না। তরুণ তরুণ যুবকরা আহে। এইডা একটা সমাঝ সেবা বুঝলি বেডি। সমাঝে ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, ধর্ষণ এডি হইবো না। মশিউরের বৌ বললো, দূরে কোথাও যাইয়া ব্যবসা খুল। আমাগো ভিটা ছাড়া করিস না।
নছিমন বিবি বললো, মেম্বর ঘর ছাড়া করবো ক্যান? মেম্বর বকবোই বা ক্যান? তাঁর পোলাপান তো দিনে তাঁর পিছে, রাইতে আমার সামনে।
তখন বদরুলের বৌ এলো, বললো, তোরে না কইছি এদিকে আইবি না?
নছিমন বিবি সব কথার উত্তর না করে বললো, ও বেডি, তুই তো দেহি আবার পোয়াতি হইছস! এত বাচ্চা ন্যাস ক্যান? ছয়ডা বাচ্চারে তাই খাইতে দিতে পারস না। তোর ভাতারে তো আচ্ছা পুরুষ! তোর দেহ থেইকা এত সুক লয়?
বদরুলের বৌ রেগে বললো, তুই দূর হবি সামনে থেইকা? ঝাঁটা দিয়া মুখ খুঁচায়া দিমু?
নছিমন বিবি বললো, বেডি, এত রাগস ক্যান? তেজ কমে না ক্যান? আমি তো প্রতি রাইতে পুরুষের সময় দিই, আমার তো বাচ্চা বাঁধে না পেটে! বাচ্চা নিতে নিতে বস্তীডারে যে ভরাইয়া ফালালি। শরীর গরম হইলে তোর মর্দাডারে আমার কুঁইড়াঘর দেহায়া দিতে পারস না? মনের রস মিটাইতে গিয়া দেহডারে তো শেষ করলি। পোলাপানডিরে পালবি কেমনে? 
মশিউরের বৌ বললো, যাবি, না ঝাঁটা নিমু?
নছিমন বিবি তাচ্ছিল্যের হাসি হাসতে হাসতে চলে গেলো। পথে মশিউরের সাথে দেখা। বললো, তোর বন্ধুরা তো আমার কুঁইড়াঘরে আয়ে যায়। যাস না ক্যান? ঘরে বৌ দেইক্কা?
মশিউর বললো, নিজে দাওয়াত না দিয়া দুইডা দালাল লইয়া ল, বেশর্মা।
নছিমন বললো, এক ডাল দিয়া কত দিন ভাত ভালো লাগে ক? তোরা এলাকার বেডা। তোরা গেলে বিক্রি হমু নামমাত্র মূল্যে। আইস, ভোগ যতই করস দেখবি উপভোগ শেষ হইব না।
মশিউর রেগে প্রস্থান করলো, নছিমন থেমে থাকলো না। শুনিয়ে বললো, আইস কিন্তু যে কোনো দিন। কোনো নির্দিষ্ট বার নাইগা আমার কাছে। প্রতিদিনই বেডা ছেলের স্পর্শ লই আমি। মাছের দামে পুকুর পাবি।
নছিমন তারপর নিজ মনে বলতে বলতে চলে গেলো, যাওনের লইগা মন দৌঁড়ায়, বিবেকরে দোহায় দিয়া সাধু সাজে!
ওরা কয়েকজন রিক্সাওয়ালা গল্প করছে। বদরুল নিশ্চুপ। আক্কাস বললো, চুপ ক্যান? 
বদরুল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, বৌয়ের পেটে আবার বাচ্চা আইছে। 
আব্বাস হাস্যোজ্জ্বল মুখে বললো, বৌ পোয়াতি হইছে? মিষ্টি খাওয়াবি না?
বদরুল নির্লিপ্ত নয়নে বললো, ছয় ছয়ডা পোলাপান। সংসার চলে না। থাকনের জায়গা নাই। আবার নতুন মুখ আসতাছে। গলায় দড়ি দিমু? মিষ্টি খাইতে কেমনে চাস? সুকের সন্তান? 
রাজ্জাক বললো, মাগার, সন্তান নিস ক্যান? সারাদিন রিক্সা চালাস। রাইতে না ঘুমায়া বৌর পিছে লাগছ ক্যান?
বদরুল দ্বিতীয় বার দীর্ঘশ্বাস কেটে বললো, কেমনে কি ঘইট্টা যায়, বুঝি না।
আব্বাস বললো, তোর বৌর জমিটা উর্বর। ফসল ফলতেই আছে। শুধু চাষ দেওয়ন দরকার।
বদরুল বললো, টিটকিরি কাটিস না। বুকটা ফাইট্টা যাইতাছে।
টিপু বললো, তোগো বস্তীতে বলে কী কাহিনি হইতাছে রাইতে?
বদরুল অস্বীকার করার চেষ্টা করলো, কি কস! কই পাস এ সব কথা? 
টিপু বললো, দুইডা যাত্রী বেশী টানলেই তো রাইতের খরচা বারাইয়া যাইবো! 
বদরুল বললো, যার মনে যা চায় করগা। চাঁদ মুখো চুমা দিবি, না সাপের মুখের বিষ নিবি যার যার ব্যাপার।
টিপু হেসে বললো, দেখায়া পরিচয় করাইয়া দিবি? দিমুনে কিছু ট্যাকা।
বদরুল রেগে গেলো, বললো, আমারে কি দালাল পাইছত? কমিশন দিতে চাস? যা যা ঠিকানা লইতে লইতে যা, বেশর্মা কাম করবি, শরম করে ক্যান? 
বিড়ি বের করে বদরুল টানতে লাগলো। মাথা গরম হয়ে গিয়েছে। ঐ সময় একটি ছেলে ও একটি মেয়ে এলো। ওরা পার্কে যাবে। ছেলেটি গরম দিয়ে বললো, মুক্ত খোলা বাতাসে বিড়ি টানছেন কেনো?
বদরুল বললো, বিড়ি টানলে একটু বল পাই বাজান। 
বদরুল বিড়ি ফেলে দিয়ে যাত্রীদ্বয়কে নিয়ে পার্কের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো, বললো, পার্কে যাইবেন ক্যান? শুনছি হেনো খারাপ কাম হয়।
যাত্রীদ্বয় পরস্পর পরস্পরের সাথে কথা বলছে। বদরুলের কথার উত্তর করার সময় নেই। বদরুল বুঝতে পারলো রিক্সাতে বসে তারা ভাল কাজ করছে না। রিক্সা থামিয়ে বললো, নামেন। যান। বেদ্দাব সব।
মেয়েটির চোখ মুখ লাল হয়ে আছে। বদরুল বললো, মা, লেকাপড়া শিখখা মানুষ হও। ইজ্জত বিলায়া দিও না। মানুষ যেইডা ভালা বলবো হেইডা কইরো। 
ছেলেটি রেগে বললো, পেটে দুকানি বিদ্যে আছে? জ্ঞান দেন যে! 
বদরুল বললো, ব-কলম আমি। তয় ইজ্জত রাইখা কাম করি। আল্লা তোমাগো মাফ করুক।
ভাড়া না দিয়েই ওরা হাটতে হাটতে পার্কে চলে গেলো। বদরুল ভাবলো, লেকাপড়া শিখখা তো মানুষ বড় হয়। এ তো দেখি সব অমানুষ। আমার মাইয়া দুইডা লেকাপড়া শিখে নাই, তাই কি নষ্ট তো হয় নাই! যাও বাজান যাও পার্কে, কাঁধে সংসারের জোয়াল পড়লে সব মজা ছুটবো।
বাসি রুটি আর পঁচা কলা এই যোগে দুপুর পার। পেটে রোগ লেগেই থাকে।  যাত্রী নেই, সবাই বসে আছে যার যার রিক্সা ধরে। টিপু এক মহিলার দিকে দীর্ঘক্ষণ চেয়ে আছে। দেখে বদরুল বললো, মাইনসের বৌ-ঝির দিকে এমনে চাইয়া থাকোস ক্যান? 
টিপু বললো, তুই না হয় বুইড়া হইছত, আমাগো বুইড়া হইতে দেরী আছে। ভালা কিছু দেখলে নজর পইড়া যায়।
বদরুল বললো, ঘরে তোর মায়া-বৌ আছে। এত নিচে নামোস কেমনে?
টিপু বললো, বৌয়ের বিষ নাই। আমি বেসামাল হইলে থামায় না কেউ। যে গতর নজর পোড়ায়তে জানে না, হেই নজর অন্য দিকে যাইবোই।
বদরুল তীর্যক চোখে চেয়ে ওখান থেকে সরে পড়লো। 
মেম্বারের কানে নিয়মিত ট্রেন রাস্তার বস্তীর খবর যায়। আজ নিজেই চলে এসেছেন নছিমন বিবির কাছে। মেম্বার সাহেব বললেন, কি সব শুনছি? সত্য?
নছিমন বিবি বললো, সইত্য। আপনেও আমার ঘরে আইসেন। সুক দিমু। নিম ফুলের মধু দিমু বিন্দু বিন্দু।
প্রচণ্ড রেগে গেলেন মেম্বার। দাঁত কিটমিট করে বললেন, বেয়াদব মহিলা।
নছিমন বিবি বললো, রাইতে আইসেন। আপনের ঐ কোদাল দাঁতের কোপ বুকের মৃত্তিকায় নিঃসংকোচে নিমু।
মেম্বার আরো রেগে গেলেন। মশিউর, রবিউল মেম্বার সাহেবের পিছন থেকে নছিমন বিবিকে দুই হাত নেড়ে ইশারায় বোঝালো। যার অর্থ মেম্বারকে আমরা বোঝাবো। নছিমন বিবি নিজেকে অনেকটা নির্ভার মনে করে মেম্বারের চোখে মুখে চেয়ে বললো, কি মেম্বর সাব, আমারে দেইখা কি আপনের চোখ টাটায় না? আইয়েন, যৌবনের দাবি পূরণ করমু। নিদ্রালু, তন্দ্রালু আলুথালু অঙ্গে যুদ্ধ যুদ্ধ খেইলেন। গ্রাস হইয়া থাকমু, চোখ বুইজা থাকমু, যা পারেন কইরেন।
মেম্বার সাহেব আর থাকতে পারলেন না। ফিরে চলে গেলেন। তজিমুদ্দিনের কুঁড়েঘরে গাঁজা খাওয়ার আসর বসে। তজিমুদ্দিনের চার সন্তান। একটিও বাবা মায়ের রং পায়নি। বস্তীর সবাই তাকেও ঘৃণা করে। 
রবিউলের বৌটা এসে জরিমনকে বললো, ছাগলডা সারাদিন ডাকছে, ছুটছে, আর পাইতাছি না। 
জরিমন বললো, দেহি নাই।
মশিউরের বৌ এসে বললো, রন্টুর মা, আমাগো মর্দা হাসটারে দেখছোত?
জরিমন বললো, না। দেখ্ তজিমুদ্দিনের গানজার আসরে, না হয় নছিমনের কুঁইড়াঘরে।
মশিউরের বৌ জরিমনের উপর রাগ দেখিয়ে চলে গেলো। রবিউলের বৌ বললো, পোলার বাপ ওহন আমারে দাম দেয় না। রাইত কইরা ঘরে আহে।  ছাগলডার মত হেইও কি আমার থেইক্কা ছুইট্টা গেলো?
জরিমন বললো, বেডা মানুষ পিঁপড়ার লাহান। মিষ্টি যেই দিকে পাইবো, হেই দিকেই ছুটবো।
খুঁজতে খুঁজতে মশিউরকে নছিমন বিবির কুঁড়েঘরে আবিষ্কার করলো তার বৌ। বৌ বললো, শেষ পর্যন্ত আপনেও এই বেইজ্জতি বেডির ঘরে ঢুকছেন? লন, সুক লন। আমার ধারে আইলে আণ্ডা ছাইটা দিমু।
মশিউর বললো, ক্ষেপছত ক্যান? খইয়ের লাহান ফুঁটতাছত ক্যান? তোরে তালাক দিমু।
বৌ বললো, দে তালাক দে। ভালা ভাতার ধরুম।
সন্ধ্যায় বদরুল ঘরে ফিরছে। টিপু নাছোড়বান্দা হয়ে দেখা দিলো। তাকে সাথে নিতেই হবে। বদরুল রাগ দেখিয়ে বললো, রিক্সা চালাস, কোনো এলাকা তোর চিনতে বাকি? আমি লইয়া যাই কেমনে? আমার বদনাম রটবো।
টিপু বললো, সব মাইনসের কাছে সব কথা জিগান যায়? ট্যাকা দিমু। মায়াগো লইগা জামা কিনতে পারবি।
বদরুল বললো, আমার মায়াডি ছেঁড়া জামা পইরা থাকবো, তবুও হারামের ট্যাকা দিয়ে তাগো কিছু কিননা দিমু না।
টিপু বদরুলের উপর ক্ষিপ্ত হলেও নিজেকে সামলে নিলো। বদরুলের সাথে না এলেও পিছু পিছু এসে নছিমন বিবির কুঁড়েঘরে গিয়ে উঠলো।
পরের দিন মশিউরের বৌ কান্না করতে করতে চলে যাচ্ছে। জরিমনকে সামনে পেয়ে বললো, নছিমন আমার ঘর ভাঙলো। তার উপর গজব পড়বো।
জরিমন বললো, দেখছোত পুরুষ মানুষ কিসে পাগল? 
নছিমনকে গাল দিতে দিতে বৌটা চলে গেলো। আয়তনের স্বামী মারা গেছে বছর পাঁচেক আগে। অনেক কষ্টে দুই সন্তানকে মানুষ করছে। নছিমন বিবি তাকে একা পেয়ে বললো, বিয়া করবি না আর?
আয়তন বললো, না। পুলা মায়া দুইডারে মানুষ করতে পারলে জীবন সার্থক হয়।
নছিমন বিবি বললো, স্বামীর সোহাগ লইবি না?
আয়তন দীর্ঘশ্বাস কেটে বললো, কপাল ভাঙছে আমার। সোহাগ পাওনের আশা আর করি না।
নছিমন বিবি বললো, ভবিষ্যতে যদি বিয়া করনের লইগা মন চায় কী করবি? জানস তো, দীর্ঘদিন ক্ষেত পইরা থাকলে জঙ্গল বাঁধে। হেয় ক্ষেতে ফসল হয় না। রাতে রাতে আমার ঘরে আইবি? মেলা পুরুষ আহে। জমিডারে একটু চাষ দিয়া রাখলি এই আর কি!
আয়তন ক্ষেপে গেলো, কি কইলি! তোর মত বেশ্যারে আমি ঝাঁটা মারি! সমাঝ লইয়া থাহি। তুই হইলি হেয় সমাঝের কীট, উচ্ছিষ্ট। 
নছিমন বিবি বললো, প্রতি রাতে নতুন নতুন পুরুষের ছোঁয়া লাগে শরীলে। এর যে কি মজা বুঝবি কেমনে! স্বাদের কথা ভুইলা গেছত?
আয়তন বললো, তোর লজ্জা করে না?
নছিমন বিবি বললো, পানিতে নামলে শাড়ি ভিজবোই, শাড়ি ভেজার ভয়ে কি রোজগারের লগে সুকও হারামু?
নছিমন বিবি আয়তনকে পাত্তা না দিয়ে চলে গেলো। সামনে বদরুলকে পেয়ে যারপরনাই উচ্ছ্বসিত হলো। বদরুল বললো, হাসোস ক্যান? মন রাঙাইতে চাস?
নছিমন বিবি বললো, তুই আমার আদর খাইলি না, ভালা। কিন্তু প্রত্যেক দিন নতুন নতুন খদ্দের আইনা দেস, আমি কিন্তু দেহি। কত কইরা লস? 
বদরুল আকাশ থেকে পড়লো। চোখ মুখ বন্ধ হয়ে গেলো। নছিমন বিবি থেমে থাকলো না, বললো, তুই আমার হইয়া কাজ করতে পারোস। ট্যাকা আমিও দিমু।
বদরুল হাত দিয়ে নিজের কান ঢেকে বললো, শেষ কইরা দিলি আমারে। আর কত ক্ষতি করবি, কত ইজ্জত লইয়া খেলবি? 
নছিমন বিবি বললো, ব্যবসা করি আমি, বদনাম রটাস আমার। তলে তলে লাভ খাস তুই! বস্তীর সবারে জানায়া দিমু।
বদরুল হাত জোড় করে বললো, মান-সম্মান শেষ করিস না, তোর পায়ে পড়ি।
নছিমন বললো, মাফ পাবি না। ক আমার হইয়া কাজ করবি? 
বদরুল নিরুপায় হয়ে বললো, করুম।
বদরুল বাড়ি এলো। নিজেকে নিজে ধিক্কার দিতে লাগলো। সিদ্ধান্ত নিলো যেকোন দিন এ বস্তী ছেড়ে দেবে। ওদিকে আয়তন মেম্বারকে সব কথা বলে দিয়েছে। মেম্বার পড়লেন চিন্তায়। নগ্নতার চর্চা? তিনি বড় সড় সিদ্ধান্ত নিলেন। বিকাল দুইটার দিকে এক ব্যক্তি এসে জানিয়ে দিয়ে গেলেন, কাল দশটার মধ্যে সকলকে চলে যেতে হবে। নতুবা উচ্ছেদ করা হবে। তা শুনে তজিমুদ্দিনের ঘরের গাঁজাখোরগুলো, রবিউল, মশিউর সবাই মেম্বারের কাছে গেলো। রবিউল বললো, মেম্বর সাব, থাকুম কই? যামু কই? 
মেম্বার সাহেব বললেন, তা আমি জানি? তোদের নোংরামি সীমা লঙ্ঘন করেছে, আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।
মশিউর বললো, আপনের কাম-কাজ কইরা দেই, অহন থাকনের জায়গা কাইড়া লইবেন?
মেম্বার সাহেব বললেন, তোরা কাজ মাগনা করে দিস না। কাজের বিনিময়ে টাকা দেই। তোরা এখন যা।
মেম্বারের প্রতি সবার রাগ হয়ে গেলো। সবাই মন খারাপ করে ঘরে ফিরে এলো। একথা এখনো বদরুল জানতে পারেনি। বাড়িতে জরিমন চিন্তিত। রাত হয়ে গিয়েছে। বদরুল ঘরে ফিরছিলো। তখন দুই যুবক বললো, পরমপুর যাবেন?
বদরুল দেখলো অনেক ভাড়া। ও রাজি হয়ে গেলো। কিন্তু পরমপুর অনেক দূর। অন্ধকার রাত ফিরবে কেমন করে? মাঝে মাঝে নির্জন পথ। লোকজনের চলাচল কম। বেশ ভূতুড়ে স্থানে যেতেই দুই যুবক ছুরি, পিস্তল বের করলো, আর বললো, চিল্লাবি না। চিল্লাইলে মুণ্ডু নিমু। 
বদরুল চিৎকার করলো না। ওরা রিক্সাটা নিয়ে চলে গেলো। চেয়ে চেয়ে দেখলো বদরুল। এবার ও করবেটা কী? সোজা শহর আলীর কাছে গেলো, মামা, রিসকাটা খোয়া গেছে। 
শহর আলী বললো, ভালা করছত। কিননা দিবি। নইলে জেলে হান্দায়া দিমু। 
বদরুল দীর্ঘশ্বাস কেটে বললো, কেমনে কিনমু? কই পামু এত্ত ট্যাকা?
শহর আলী চোখ গরম দিয়ে বললো, কেমনে কিনবি হেইডাও কইয়া দিমু? ব্যাংকো থেইক্কা লোন নিগগা। অল্প অল্প কইরা শোধ দিবি। অহন রাইত হইছে, বাইত যা।
বাড়ি ফেরার পথে আব্বাসের  সাথে দেখা। বদরুল বললো, আব্বাইসা, রিসকা ডাকাত নিছেগা। 
আব্বাস হেসে বললো, ডাকাত তোরে পাইছিলো? তাও তো ভালা, ডাকাত দেখছোস। তাগো কি গোঁফ লম্বা লম্বা?
রসিকতা করে আব্বাস চলে গেলো। নানা কিছু ভাবতে ভাবতে বদরুল বাড়ি ফিরলো না। বাচ্চাগুলো না খেয়ে ঘুমিয়ে গেছে। জরিমন পথ চেয়ে আছে।
সকাল বেলা কেউ কেউ মেম্বার সাহেবের বাড়ি যাচ্ছে কারণ মেম্বার সাহেবকে কারা নাকি গুলি করে মেরেছে। নছিমন বিবি বললো, বড়ো ভালা মানুষ আছিলো!
আর কেউ কেউ রইচদের বাড়ি যাচ্ছে চোর দেখতে। গত রাতে ঐ বাড়ি এক চোর ধরা পড়েছে।
 
======০০০======


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...