Skip to main content

ছোটোগল্প ।। মানবেতর জীবন আখ্যান ।। সৌমেন দেবনাথ

মানবেতর জীবন আখ্যান

সৌমেন দেবনাথ


এই না হলে বস্তী! ভোরের কিঞ্চিৎ আলো উঁকি মারার পূর্বেই বড়রা কাজ সেরে মোটামুটি নিশ্চিন্ত। ছোটরা এবার ব্যস্ত। সারি দিয়ে ট্রেন রাস্তার পাশে বসে পায়খানা করছে। পিছনে দুই চারটা কুকুর অপেক্ষায়। এই ট্রেন রাস্তার দুই পাশ দিয়ে ছিন্নমূল কিছু মানুষের বসবাস। 
লুঙ্গি, জামা কোনো রকমে পরে বদরুল বললো, আইজ্জা ফিররা যদি হুনছি তুই কাইজ্জা করছত, তয় তোর মাথার চুলডি ছিররা শাক রাইন্দা খামু।
ওর বৌ নীরব থাকার মানুষ না। জবাব দেয় বলেই মার খায়৷ সারাদিন কান্না করে, যাকে পায় তাকেই স্বামীর নিষ্ঠুরতার কথা শোনায়। আজ অবশ্য কিছু বললো না। শুধু বললো, দেইখা শুইনা রিসকা চালায়েন।
বদরুল রিক্সা নিয়ে বাজারে গেলো। আরো দশ পনেরটা রিক্সা চলে এসেছে। সেই তুলনায় যাত্রী নেই। সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রিক্সা নিয়ে ওরা। রিক্সাগুলো দেখতে সুন্দর ও রঙিন হলেও রিক্সাওয়ালাদের জীবন সুন্দর ও রঙিন নয়। ভরদিন হাড়ভাঙা খাটুনি। এই একটা পেশা যেখানে ফাঁকি চলে না। গন্তব্যে যাত্রী না পৌঁছে দেয়া অবধি কোনো বিশ্রাম চলে না। শহর আলীর পঞ্চাশটার বেশী রিক্সা আছে। তাঁরই কাছ থেকে বদরুল রিক্সা ভাড়া নিয়েছে। দৈনিক দুইশত টাকা ভাড়া দিতে হয়। এক যাত্রী বদরুলকে হাত ইশারা করে ডাকলেন, যাবি?
বদরুল বললো, যামু। তয় আপনি আমারে তুই কইয়া ডাক পাড়লেন? আপনার থেইক্কা কি আমি ছোডো?
যাত্রী রেগে বললেন, খাস তো রিক্সা টেনে। আবার সম্মান চাস? 
বদরুল কথা না বাড়িয়ে বললো, কই যাইবেন?
যাত্রী বললেন, নৈচাপুর।
বদরুল বললো, তিরিশ ট্যাকা লাগবো। তেল, চাইলের দাম বাড়ছে। 
যাত্রী বদরুলকে ঠাস করে এক চড় মেরে বললেন, আমার বেতন বেড়েছে?
বদরুলের মুখটা অন্ধকারে ভরে গেলো। রিক্সা চালায় বলে ও যেন মানুষই না। অন্যের হাতে মারও খায়। মুখ নিচু করে যাত্রীর দুটি ব্যাগ রিক্সায় তুললো আর বললো, কুলির কামও কইরা দেওয়ন লাগে, দুইডা ট্যাকা ধইরা দ্যান কি?
যাত্রী বললেন, অভাবে তোর স্বভাব নষ্ট হয়ে গিয়েছে। মুখ বন্ধ করে রিক্সা চালা।
নৈচাপুর এসে গামছা দিয়ে মুখ মুছলো বদরুল। নাক ঝাঁড়লো। হাফ ধরে গিয়েছে। ঘৃণায় যাত্রী ওর মুখের দিকে তাকালেনই না। কুড়ি টাকার একটা নোট বের করে দিলেন। টাকাটা ছেঁড়া। বদরুল বললো, বাই, ট্যাকাটা বদলাইয়া দ্যান।
যাত্রী রেগে গেলেন। বললেন, ভাই বললি ক্যান? আমাকে কি তোর ভাইয়ের মত মনে হচ্ছে? প্যান্ট, টাই, কোট দেখছিস না?
বদরুল মুখ নিচু করে থাকলো। লোকটি চলে গেলেন। সেখানে পরিচিত দুই তিনজন রিক্সাওয়ালা ছিলো। তারা কথা বলছে। বদরুল শুনছে। টিপু বললো, কত হইলো নায়ক বাই?
রাজ্জাক বললো, পাইচিলাম এক বেক্কল পাচেনজার, বিশ ট্যাকার জায়গায় আশি ট্যাকা লইচি।
আব্বাস বললো, মারছত। গলা কাটছত তার। তোগো লইগা বেবাক রিকসাওয়ালাগোর বদনাম রটে। হারাম খাইসনারে। আক্কাস, তোর খবর কী?
আক্কাস বললো, শৈলডা ভালা না। বল নাই রিসকা টাননের। গাছতলাত গুমাইচি। 
চুপ করে বদরুল সব শুনলো। সন্ধ্যা বেলা ঘরে ফিরে এলো। পাখিদের মত কিচিরমিচির করছে বস্তীর বাচ্চাগুলো। জরিমন বললো, আপনের বড় পোলারে আইজ্জা নইজা বুড়া মারছে। খেত থেইক্যা বলে কী কী চুরি করতাছিলো।
বদরুল রেগে বললো, মাইরা ফালাই না ক্যান? চিন্তা কমতো।
ছোট ছেলেটা গুড়গুড় করে মায়ের কোলে ঠেলে উঠে নিজের উদরপূর্তির সন্ধান করে। ছোটর বড়টাও কাছে এসে বায়না ধরে। মা বলে, বড় হইছত, খেলগা।
এমন সময় ওদের মাঝে নছিমন বিবি এলো। মনের জমিন বর্গা দিতে দিতে চেহারায় আর সেই আগের জৌলুস ভাব নেই। তাতে কি! সূর্য যতই আলো বিলাক তার কি আলোর ঘাটতি পড়ে! শারীরিক ছলাকলা দেখিয়ে দেখিয়ে প্রচুর কামাই রোজগার করছে৷ বদরুল একবার তাকিয়ে নজর ফিরিয়ে আবার তাকালো। অগ্নি দাহ্য বস্তুর অভাবে প্রজ্জ্বলিত হতে পারে না, নছিমন বিবি যেন বদরুলের সামনে সেই দাহ্য বস্তুই। তার বিকশিত সৌন্দর্য বদরুলের চোখ, নাক, কান, গালে দুলে দুলে যেন ছোবল মারলো। পান খাওয়া লাল ঠোঁট, জিহ্বা থেকে কথা বের হচ্ছে না, যেন অমৃত ঝরছে। বুকের বসন ঠিক নেই, ঠিক রাখেও না সে। এত কামগন্ধময় আর কামনাময় হয়ে নিজেকে প্রকাশ করছে, যে কারোরই রক্ত তার সংস্পর্শে টগবগ করবে।
নিজেকে সংবরণ করে বদরুল বললো, কিত্তে আইছত, বাইর হ্।
সে কথাতে কর্ণপাত না করে নছিমন বিবি বললো, শুকনা বৌয়ের দেহে কি সুখ পাস? যে গাছ দিনের পর দিন ফুল, ফল দিতাছে, তার মাঝে কি সৌন্দর্য আছে?
জরিমন ক্ষেপে গিয়ে বললো, তুই গেলি সামনে থেইক্কা?
নছিমন বিবি বললো, রাগোস ক্যান? কত পোলাপান পেটে ধরবি আর?
জরিমন বললো, যে আমার পেটের ভাত জোগায় তার সন্তান পেটে ধরি, তোর কী তাতে?
নছিমন বিবি হেসে বললো, মাইয়া দুইডা তো ডাগর হইয়া উঠছে, নজরে পড়ে। শাড়ি পরা শিখাবি না? দিয়া দে, লগে নিয়া যাই।
বদরুল দম করে দাঁড়িয়ে উঠে নছিমনকে বললো, বাইর হ্ বেশ্যা বেডি। বাইর হ্।
নছিমন বিবি উঠতে উঠতে বললো, শুকনা বৌয়ের হাড্ডির গুতায় মরবি, যাইস আমার কাছে, রসের কথা কমু।
জরিমন বললো, ঝাটা হাতে নিয়া বেহায়াডারে পিডায়ে দ্যান।
বদরুলকে উদ্দেশ্য করে বলতে বলতে নছিমন চলে গেলো, দর কষাকষি লাগবো না, উপযুক্ত কড়িও দেওন লাগবো না। যাইস, বুকের জমিন দিমু, জল খাবার দিমু। কাঁথার তলে গরম চা খাওয়ামু।
বলেই একগাল হাসি দিতে দিতে চলে গেলো। ওষ্ঠপ্রান্তের ও হাসিতে কোনো মায়াবী ভাব নেই, চাতুরীতে ভরা।
পরদিন বদরুল রিক্সা নিয়ে বাজারে গেলো। কত শৌখিন মানুষ তার রিক্সায় উঠে, অথচ তার জীবন কত অবহেলার। একজন যাত্রী এলো। তিনজন রিক্সাওয়ালা তাকে ডাকছে। যাত্রী পড়ে গেছে বিপদে। শেষে বদরুলের রিক্সায় এসে উঠলো। বদরুল কেতুনগরের উদ্দেশ্য রিক্সার প্যাডেল মারতে শুরু করলো। যাত্রী বললো, আপনার জামাটা তো ছিঁড়ে গিয়েছে।
বদরুল বললো, শরীলডা হুদা ঘামে। কোনো জামা টিকে না। ট্যাকা নাই গাইটে। ছয় ছয়ডা পোলাপান। বাইত চাইল লইয়া গেলে তারা খাইবো।
যাত্রী বললো, এত বাচ্চা নিয়েছেন কেনো?
বদরুল চুপ থাকে। যাত্রী নামলেন। পঞ্চাশ টাকার নোট বের করেছেন। বদরুল বোকার মত চেয়ে বললো, ভাংতি নাই, বাই।
যাত্রী ভাঙিয়ে দেবে বলে ভীড়ের মধ্যে এক দোকানে গেলো, কিন্তু আর ফিরে এলো না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বদরুল বললো, আমার পেটে লাত্থি মারলেন এমনে?
মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো বদরুলের। গাছতলায় বেশ কিছুক্ষণ মনমরা হয়ে ও বসে থাকলো।
সন্ধ্যায় এক যাত্রী জুটলো। বস্তীতে আসবে। ঘরে ফেরার সময় হয়ে গেছে, তাই এই যাত্রীকে পেয়ে খুব খুশী হলো বদরুল। বদরুল বললো, বস্তীতে আমার ঘর। আপনারে তো চিনলাম না!
যাত্রী ইতস্তত করলো কিছুক্ষণ। বুঝে গেছে বদরুল। বললো, নছিমনের কাছে যাইতাছেন? মাইনসে জানলে কলঙ্ক লাগবো না?
যাত্রী বললো, কাঁঠাল খাইলে আঠা লাগবো। আঠার ভয়ে কাঁঠাল খাওয়ন বন্ধ করে কেউ?
বদরুল আপন মনে রিক্সা টেনে চলে এলো। যাত্রী দুটো টাকা ধরে দিলো। বদরুল বললো, বেশী দ্যান ক্যান?
যাত্রী বললো, কাউরে কইয়ো না, বাইত গিয়া বৌয়ের লগেও কওনের দরকার নাই।
বদরুল মাথা নিচু করে ঘরে ফিরলো, পরিবেশটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বুঝতে পারলো। ছেলে, মেয়ে নিয়ে বসবাস করা কঠিন হয়ে উঠবে ভেবে চিন্তিত হলো।
জরিমন খেতে দিলো। আর বললো, বস্তীতে নতুন নতুন বেডা মানুষ কোত্থেকে আয়ে?
বদরুল উত্তর না করে খাওয়া শেষ করতে ব্যস্ত হলো।
ঐ মুহূর্তে মশিউরের বৌ মরিচ নিতে এলো। কিন্তু মরিচ থাকলেও জরিমন দিলো না। বললো, নাই।
মশিউরের বৌ বললো, তোর ঘরে থাহে কি? রিকসা চালাইলে কি সংসার চলে?
বদরুল হিংস্র প্রাণীর মত চেয়ে বললো, তোর ভাতার মশিউরে কী করে? চারকি?
মশিউরের বৌর উত্তর করার আগেই জরিমন বললো, আমার ভাতারে রিকসা চালায়। রোজগার করে। তোর ভাতার তো তাস খেলে, গানজা খায়।
মশিউরের বৌ বললো, আমার সোয়ামী রাজনীতি করে। তাই বন্ধুগো লগে তাস খেলে, গানজা খায়। আমার ঘরে চাইল আছে, ট্যাকা আছে। আছে তোর?
জরিমন বললো, গরীব মাইনসের হক তোর ভাতার মাইরা কাইট্টা আনে। গোণ্ডাগিরি করে, মেম্বর সাবের চামচা।
মশিউরের বৌ বললো, বরো মাইনসোগো লগে মিশশা থাকলে হেইডা চামচা হয়রে হিংসুইটা?
বদরুল জরিমনকে থামতে বললো, জরিমন থামলো না। জরিমন ক্ষিপ্ত হয়ে মশিউরের বৌকে বললো, এত সুকের সংসার, মরিচ নিতে আইচত ক্যান?
মশিউরের বৌ বললো, বদু বাই, দেখচেন আপনের বৌ কেমনে আমার লগে কাইজ্জা করে?
বদরুল জরিমনকে চুপ থাকতে বললো, জরিমন সে কথায় কান না পেতে বললো, আমার সোয়ামীর কাছো আবার নালিশ দ্যাস? এই মুখপোড়া বেডা, আপনের সামনে আপনার বৌরে যাচ্ছেতাই কইতাছে, হুনতাছেন না?
বদরুল ভাত খাওয়া বন্ধ করে বৌর চুলের গোছা ধরে বললো, কাইজ্জা করস ক্যান? খাইয়া কি তর হুদা কাইজ্জা করনের কাম?
মশিউরের বৌ বললো, বদু বাই, বেডির থোতাত মারেন। বেবাক মাইনসের লগে হেইতে লাগে। পোলাপানডির খোঁজ রাহে না।
যতক্ষণ পারলো মরণপ্রায় বৌটাকে মারলো বদরুল। তখন নছিমন বিবি এলো। এসেই বললো, বুঝিরে বদু, তোর মনের জ্বালা। তোর যৌবন থাকতে তোর বৌ হইয়া গেলো বুইরি। জানি তো কোন্ জ্বালাত মরস।
বদরুল বললো, আমার ঘরে ক্যান আইছত? চইলা যা।
নছিমন বিবি মশিউরের বৌ আর বদরুলের বৌর দিকে তাকিয়ে বদরুলকে বললো, নিজ ঘরে তো অনেক খাইছত, একদিন আমার ঘরে খা। বাত্তি হইয়া গেছি? ডেগা লাগবো? আছে। 
তারপর কৌণিক চোখে চেয়ে বললো, বাত্তি ফলে মাছি উড়ে বেশী কিন্তু! তুই দেকি বড্ড বোকা!
বলেই একগাল হাসলো নছিমন বিবি। মশিউরের বৌ বললো, বদু বাই, এই বেডি শেষ কইরা দিলো বস্তীটারে।
বদরুল কিছু বলতে যাচ্ছিলো। নছিমন বিবি থামিয়ে দিয়ে বললো, রোজগার তো কম করলি না। সঞ্চয় কিছু করছত? আমার ঘরে যাইস। পুষ্পশয্যায় শুয়াইয়া সুক ঢাইলা দিমু। এত লজ্জা করস ক্যান? কত বড় বড় ব্যবসায়ী আহে, তুই তো কিয়ের রিকসাচালক। তোরে যে ডাহি, এই তোর কপাল।
বদরুলের শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলো। এমন আহ্বানে যেকোন পুরুষই কাবু হয়ে যাবে। জরিমন আর মশিউরের বৌ মিলে নছিমন বিবিকে তাড়িয়ে দিলো, ঠিক যেভাবে কুকুর তাড়ায়।
মশিউরের বৌ বললো, জরি, মিলমিশ করে না থাকলে আমাগো বেডাগো সামলাইতে পারমু না কিন্তু। বস্তী থেইকা এই বেশ্যারে তাড়াইতে হইবো।
বদরুল ঘরে যেয়ে ঘুমালো। যে আগুন নছিমন বিবি জ্বেলে দিয়ে গিয়েছে তাকে তা অস্থির করে রেখেছে। বৌ ঘরে ঢুকতেই বাজপাখি হলো সে।
এভাবে চলতে থাকলো জীবন। দুটো স্কুল ছাত্রীকে নিয়ে বদরুল রিক্সা ছেড়েছে। সে নিজের থেকেই বললো, আমারও দুইডা মাইয়া আছে। ইশকুলে দেবার পারি নাই। পেটের বাত দিতে পারি না, ইশকুলে কেমনে দিমু?
এক ছাত্রী বললো, আপনাদের মত রিক্সাওয়ালাদের দুঃখে আর ব্যথিত হবো না। এমন কথা বলে বলে দুটো টাকা বেশী নিতে চান।
বদরুল বললো, মাগো, ইশকুলে যারা পরে তাগো কাছ থেইকা আমি দুই এক ট্যাকা কমই লই। কিন্তু যারা চারকি করেন তাঁরা তো আমাগো দুই এক ট্যাকা বেশী দ্যান না! মাগো, দুক্কের কপাল নিয়া জন্মাইছি। আমাগো ঘৃণায় করো।
ছাত্রী দুটি আর কোনো কথা বললো না। ওরা যা ভাড়া তা দিয়ে নেমে চলে গেলো। দুটি কবুতরের বাচ্চার দিকে বদরুল চেয়ে থাকলো। আর নিজের অভাগী দুই মেয়ের কথা ভাবতে লাগলো। 
রিক্সা টানলে শরীরে আর শক্তি থাকে না। খালি রিক্সা তাও টেনে নিয়ে যাওয়া ওর জন্য অনেক কষ্টের। তখন এক যাত্রী বললেন, এই যাবি?
বদরুল না-সূচক মাথা ঝাঁকালো। তখন গলা বাজিয়ে যাত্রী সাহেব বললেন, যাবি না কেন্? তেল জমে গিয়েছে? কাঁচা টাকা ইনকাম তো! যা বের হ্।
এমন কথা শুনে শুনে সব সয়ে গেছে। বদরুল কান্না করতে চায়, কান্না করতে পারে না। বড় হলে এই সমস্যা।
উঁকুন বাছা বিকেল বেলায় মশিউরের বৌ বদরুলের বৌর মাথার উঁকুন বেছে দিচ্ছে। ট্রেনের নিচে সেজ ছেলেটা পড়তে যেয়েও পড়েনি। দৌঁড়ে এসে মায়ের কোলে লুকায়। বুকটা তার ধড়ফড় ধড়ফড় করছে। বদরুল বাড়ি ফিরছে। হঠাৎ সেই যাত্রীর সাথে দেখা। আজও সে নছিমনের কাছে আসবে। বদরুলের রিক্সায় উঠলো। বদরুল বললো, বিয়া করেন না ক্যান?
যাত্রী বললো, অল্প ট্যাকাত অনেক মজা। 
বদরুল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, পাপের বোঝা ভারী করতাছেন ক্যান?
যাত্রী বললো, নিষ্পাপ কেডা?
বদরুল চুপ করে রিক্সা টানতে লাগলো। আজও ভেবেছিলো বাড়তি টাকা সে পাবে। পেলো না। বরং হুমকি পেলো। যাত্রী বললো, কাউরে জানাইবেন না। কেউ যদি জাইন্না যায় তবে বস্তীতে রটাইয়া দিমু আপনে আমারে ঠিকানা দিছেন। আপনে দালাল।
বদরুল দাঁতে জিহ্বা কেটে চুপ হয়ে গেলো। ঘরে এলো। সেজ ছেলের বিপদের কথা শুনামাত্রই বৌকে বকলো, করছ কি বাইত? পোলাপানডি দেখস না কেন্? গতর দেখস? গতরে তোর মরিচ গুঁড়া দিমু। 
মুখ বুঝে থাকে জরিমন। মরার হাত থেকে বেঁচে যাওয়া ছেলেকে বুকে করে বসে থাকে বদরুল। বাচ্চাদের প্রতি এত দরদ জরিমন আজ তা প্রথম দেখলো। ভাত দিয়ে জরিমন বললো, লন, বাতডি খান।
একটি কুকুর এসে দাঁড়িয়ে আছে। জরিমনকে গরম দিয়ে বদরুল বললো, কুত্তাডারে খেদাস না ক্যান?
ছেলেমেয়েদের মুখেও তুলে তুলে খাওয়ায়ে দিলো। বড় মেয়েটা বললো, বাজান, রূপকথার গল্প হুনাইবা? নছিমন কাকী আমারে কোলে বসাইয়া রূপকথার গল্প শোনাইছে। নতুন জামা কিননা দিবো কইছে।
ভাত খাওয়া বন্ধ করে দিলো বদরুল। বললো, তুই নছিমনের ঘরে গেছিলি?
আব্বার রাগ দেখে বড় মেয়ে চুপ হয়ে গেলো। জরিমনকে ডেকে বললো, তোর বড় মেয়ে নছিমনের ঘরে যায় কেমনে? দেইখা রাখস না ক্যান?
জরিমন বললো, কইডারে আমি দেইখা রাখমু? সারাদিন পাগল হইয়া যাই পোলাপানের জ্বালায়।
ছেলেমেয়েগুলোকে বোঝাতে লাগলো বদরুল। কারোর বাড়ি যেতে মানা করলো। মাকে সারাদিন কাজে সাহায্য করতে বললো। 
মেজ মেয়ে বললো, তয় আমাগো দুই বইনের দুইডা লাল জামা কিননা দিবা?
মেয়ে দুটোর মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বদরুল বললো, দিমু। ঈদ আয়ুক।
ঈদ আসতে কত দেরী, তা শুনেই মেয়েদের মুখে হাসি ফুঁটলো। মনে মনে গুমড়ে কাদতে লাগলো বদরুল।
পরের দিন নছিমন বিবি পান খেতে খেতে মশিউরের বৌর কাছে এলো। মশিউরের বৌ নছিমন বিবিকে তিরস্কার করে বললো, দূর হইয়া যা বদমাশ বেডি। তোর লইগা মেম্বর সাব আমাগো উচ্ছেদ কইরা ছাড়বো।
নছিমন বিবি বললো, দূর দূর করতাছস ক্যান? তোর মর্দা তো আমার কুঁইড়াঘরে হান্দায় না। তরুণ তরুণ যুবকরা আহে। এইডা একটা সমাঝ সেবা বুঝলি বেডি। সমাঝে ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, ধর্ষণ এডি হইবো না। মশিউরের বৌ বললো, দূরে কোথাও যাইয়া ব্যবসা খুল। আমাগো ভিটা ছাড়া করিস না।
নছিমন বিবি বললো, মেম্বর ঘর ছাড়া করবো ক্যান? মেম্বর বকবোই বা ক্যান? তাঁর পোলাপান তো দিনে তাঁর পিছে, রাইতে আমার সামনে।
তখন বদরুলের বৌ এলো, বললো, তোরে না কইছি এদিকে আইবি না?
নছিমন বিবি সব কথার উত্তর না করে বললো, ও বেডি, তুই তো দেহি আবার পোয়াতি হইছস! এত বাচ্চা ন্যাস ক্যান? ছয়ডা বাচ্চারে তাই খাইতে দিতে পারস না। তোর ভাতারে তো আচ্ছা পুরুষ! তোর দেহ থেইকা এত সুক লয়?
বদরুলের বৌ রেগে বললো, তুই দূর হবি সামনে থেইকা? ঝাঁটা দিয়া মুখ খুঁচায়া দিমু?
নছিমন বিবি বললো, বেডি, এত রাগস ক্যান? তেজ কমে না ক্যান? আমি তো প্রতি রাইতে পুরুষের সময় দিই, আমার তো বাচ্চা বাঁধে না পেটে! বাচ্চা নিতে নিতে বস্তীডারে যে ভরাইয়া ফালালি। শরীর গরম হইলে তোর মর্দাডারে আমার কুঁইড়াঘর দেহায়া দিতে পারস না? মনের রস মিটাইতে গিয়া দেহডারে তো শেষ করলি। পোলাপানডিরে পালবি কেমনে? 
মশিউরের বৌ বললো, যাবি, না ঝাঁটা নিমু?
নছিমন বিবি তাচ্ছিল্যের হাসি হাসতে হাসতে চলে গেলো। পথে মশিউরের সাথে দেখা। বললো, তোর বন্ধুরা তো আমার কুঁইড়াঘরে আয়ে যায়। যাস না ক্যান? ঘরে বৌ দেইক্কা?
মশিউর বললো, নিজে দাওয়াত না দিয়া দুইডা দালাল লইয়া ল, বেশর্মা।
নছিমন বললো, এক ডাল দিয়া কত দিন ভাত ভালো লাগে ক? তোরা এলাকার বেডা। তোরা গেলে বিক্রি হমু নামমাত্র মূল্যে। আইস, ভোগ যতই করস দেখবি উপভোগ শেষ হইব না।
মশিউর রেগে প্রস্থান করলো, নছিমন থেমে থাকলো না। শুনিয়ে বললো, আইস কিন্তু যে কোনো দিন। কোনো নির্দিষ্ট বার নাইগা আমার কাছে। প্রতিদিনই বেডা ছেলের স্পর্শ লই আমি। মাছের দামে পুকুর পাবি।
নছিমন তারপর নিজ মনে বলতে বলতে চলে গেলো, যাওনের লইগা মন দৌঁড়ায়, বিবেকরে দোহায় দিয়া সাধু সাজে!
ওরা কয়েকজন রিক্সাওয়ালা গল্প করছে। বদরুল নিশ্চুপ। আক্কাস বললো, চুপ ক্যান? 
বদরুল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, বৌয়ের পেটে আবার বাচ্চা আইছে। 
আব্বাস হাস্যোজ্জ্বল মুখে বললো, বৌ পোয়াতি হইছে? মিষ্টি খাওয়াবি না?
বদরুল নির্লিপ্ত নয়নে বললো, ছয় ছয়ডা পোলাপান। সংসার চলে না। থাকনের জায়গা নাই। আবার নতুন মুখ আসতাছে। গলায় দড়ি দিমু? মিষ্টি খাইতে কেমনে চাস? সুকের সন্তান? 
রাজ্জাক বললো, মাগার, সন্তান নিস ক্যান? সারাদিন রিক্সা চালাস। রাইতে না ঘুমায়া বৌর পিছে লাগছ ক্যান?
বদরুল দ্বিতীয় বার দীর্ঘশ্বাস কেটে বললো, কেমনে কি ঘইট্টা যায়, বুঝি না।
আব্বাস বললো, তোর বৌর জমিটা উর্বর। ফসল ফলতেই আছে। শুধু চাষ দেওয়ন দরকার।
বদরুল বললো, টিটকিরি কাটিস না। বুকটা ফাইট্টা যাইতাছে।
টিপু বললো, তোগো বস্তীতে বলে কী কাহিনি হইতাছে রাইতে?
বদরুল অস্বীকার করার চেষ্টা করলো, কি কস! কই পাস এ সব কথা? 
টিপু বললো, দুইডা যাত্রী বেশী টানলেই তো রাইতের খরচা বারাইয়া যাইবো! 
বদরুল বললো, যার মনে যা চায় করগা। চাঁদ মুখো চুমা দিবি, না সাপের মুখের বিষ নিবি যার যার ব্যাপার।
টিপু হেসে বললো, দেখায়া পরিচয় করাইয়া দিবি? দিমুনে কিছু ট্যাকা।
বদরুল রেগে গেলো, বললো, আমারে কি দালাল পাইছত? কমিশন দিতে চাস? যা যা ঠিকানা লইতে লইতে যা, বেশর্মা কাম করবি, শরম করে ক্যান? 
বিড়ি বের করে বদরুল টানতে লাগলো। মাথা গরম হয়ে গিয়েছে। ঐ সময় একটি ছেলে ও একটি মেয়ে এলো। ওরা পার্কে যাবে। ছেলেটি গরম দিয়ে বললো, মুক্ত খোলা বাতাসে বিড়ি টানছেন কেনো?
বদরুল বললো, বিড়ি টানলে একটু বল পাই বাজান। 
বদরুল বিড়ি ফেলে দিয়ে যাত্রীদ্বয়কে নিয়ে পার্কের উদ্দেশ্যে রওনা দিলো, বললো, পার্কে যাইবেন ক্যান? শুনছি হেনো খারাপ কাম হয়।
যাত্রীদ্বয় পরস্পর পরস্পরের সাথে কথা বলছে। বদরুলের কথার উত্তর করার সময় নেই। বদরুল বুঝতে পারলো রিক্সাতে বসে তারা ভাল কাজ করছে না। রিক্সা থামিয়ে বললো, নামেন। যান। বেদ্দাব সব।
মেয়েটির চোখ মুখ লাল হয়ে আছে। বদরুল বললো, মা, লেকাপড়া শিখখা মানুষ হও। ইজ্জত বিলায়া দিও না। মানুষ যেইডা ভালা বলবো হেইডা কইরো। 
ছেলেটি রেগে বললো, পেটে দুকানি বিদ্যে আছে? জ্ঞান দেন যে! 
বদরুল বললো, ব-কলম আমি। তয় ইজ্জত রাইখা কাম করি। আল্লা তোমাগো মাফ করুক।
ভাড়া না দিয়েই ওরা হাটতে হাটতে পার্কে চলে গেলো। বদরুল ভাবলো, লেকাপড়া শিখখা তো মানুষ বড় হয়। এ তো দেখি সব অমানুষ। আমার মাইয়া দুইডা লেকাপড়া শিখে নাই, তাই কি নষ্ট তো হয় নাই! যাও বাজান যাও পার্কে, কাঁধে সংসারের জোয়াল পড়লে সব মজা ছুটবো।
বাসি রুটি আর পঁচা কলা এই যোগে দুপুর পার। পেটে রোগ লেগেই থাকে।  যাত্রী নেই, সবাই বসে আছে যার যার রিক্সা ধরে। টিপু এক মহিলার দিকে দীর্ঘক্ষণ চেয়ে আছে। দেখে বদরুল বললো, মাইনসের বৌ-ঝির দিকে এমনে চাইয়া থাকোস ক্যান? 
টিপু বললো, তুই না হয় বুইড়া হইছত, আমাগো বুইড়া হইতে দেরী আছে। ভালা কিছু দেখলে নজর পইড়া যায়।
বদরুল বললো, ঘরে তোর মায়া-বৌ আছে। এত নিচে নামোস কেমনে?
টিপু বললো, বৌয়ের বিষ নাই। আমি বেসামাল হইলে থামায় না কেউ। যে গতর নজর পোড়ায়তে জানে না, হেই নজর অন্য দিকে যাইবোই।
বদরুল তীর্যক চোখে চেয়ে ওখান থেকে সরে পড়লো। 
মেম্বারের কানে নিয়মিত ট্রেন রাস্তার বস্তীর খবর যায়। আজ নিজেই চলে এসেছেন নছিমন বিবির কাছে। মেম্বার সাহেব বললেন, কি সব শুনছি? সত্য?
নছিমন বিবি বললো, সইত্য। আপনেও আমার ঘরে আইসেন। সুক দিমু। নিম ফুলের মধু দিমু বিন্দু বিন্দু।
প্রচণ্ড রেগে গেলেন মেম্বার। দাঁত কিটমিট করে বললেন, বেয়াদব মহিলা।
নছিমন বিবি বললো, রাইতে আইসেন। আপনের ঐ কোদাল দাঁতের কোপ বুকের মৃত্তিকায় নিঃসংকোচে নিমু।
মেম্বার আরো রেগে গেলেন। মশিউর, রবিউল মেম্বার সাহেবের পিছন থেকে নছিমন বিবিকে দুই হাত নেড়ে ইশারায় বোঝালো। যার অর্থ মেম্বারকে আমরা বোঝাবো। নছিমন বিবি নিজেকে অনেকটা নির্ভার মনে করে মেম্বারের চোখে মুখে চেয়ে বললো, কি মেম্বর সাব, আমারে দেইখা কি আপনের চোখ টাটায় না? আইয়েন, যৌবনের দাবি পূরণ করমু। নিদ্রালু, তন্দ্রালু আলুথালু অঙ্গে যুদ্ধ যুদ্ধ খেইলেন। গ্রাস হইয়া থাকমু, চোখ বুইজা থাকমু, যা পারেন কইরেন।
মেম্বার সাহেব আর থাকতে পারলেন না। ফিরে চলে গেলেন। তজিমুদ্দিনের কুঁড়েঘরে গাঁজা খাওয়ার আসর বসে। তজিমুদ্দিনের চার সন্তান। একটিও বাবা মায়ের রং পায়নি। বস্তীর সবাই তাকেও ঘৃণা করে। 
রবিউলের বৌটা এসে জরিমনকে বললো, ছাগলডা সারাদিন ডাকছে, ছুটছে, আর পাইতাছি না। 
জরিমন বললো, দেহি নাই।
মশিউরের বৌ এসে বললো, রন্টুর মা, আমাগো মর্দা হাসটারে দেখছোত?
জরিমন বললো, না। দেখ্ তজিমুদ্দিনের গানজার আসরে, না হয় নছিমনের কুঁইড়াঘরে।
মশিউরের বৌ জরিমনের উপর রাগ দেখিয়ে চলে গেলো। রবিউলের বৌ বললো, পোলার বাপ ওহন আমারে দাম দেয় না। রাইত কইরা ঘরে আহে।  ছাগলডার মত হেইও কি আমার থেইক্কা ছুইট্টা গেলো?
জরিমন বললো, বেডা মানুষ পিঁপড়ার লাহান। মিষ্টি যেই দিকে পাইবো, হেই দিকেই ছুটবো।
খুঁজতে খুঁজতে মশিউরকে নছিমন বিবির কুঁড়েঘরে আবিষ্কার করলো তার বৌ। বৌ বললো, শেষ পর্যন্ত আপনেও এই বেইজ্জতি বেডির ঘরে ঢুকছেন? লন, সুক লন। আমার ধারে আইলে আণ্ডা ছাইটা দিমু।
মশিউর বললো, ক্ষেপছত ক্যান? খইয়ের লাহান ফুঁটতাছত ক্যান? তোরে তালাক দিমু।
বৌ বললো, দে তালাক দে। ভালা ভাতার ধরুম।
সন্ধ্যায় বদরুল ঘরে ফিরছে। টিপু নাছোড়বান্দা হয়ে দেখা দিলো। তাকে সাথে নিতেই হবে। বদরুল রাগ দেখিয়ে বললো, রিক্সা চালাস, কোনো এলাকা তোর চিনতে বাকি? আমি লইয়া যাই কেমনে? আমার বদনাম রটবো।
টিপু বললো, সব মাইনসের কাছে সব কথা জিগান যায়? ট্যাকা দিমু। মায়াগো লইগা জামা কিনতে পারবি।
বদরুল বললো, আমার মায়াডি ছেঁড়া জামা পইরা থাকবো, তবুও হারামের ট্যাকা দিয়ে তাগো কিছু কিননা দিমু না।
টিপু বদরুলের উপর ক্ষিপ্ত হলেও নিজেকে সামলে নিলো। বদরুলের সাথে না এলেও পিছু পিছু এসে নছিমন বিবির কুঁড়েঘরে গিয়ে উঠলো।
পরের দিন মশিউরের বৌ কান্না করতে করতে চলে যাচ্ছে। জরিমনকে সামনে পেয়ে বললো, নছিমন আমার ঘর ভাঙলো। তার উপর গজব পড়বো।
জরিমন বললো, দেখছোত পুরুষ মানুষ কিসে পাগল? 
নছিমনকে গাল দিতে দিতে বৌটা চলে গেলো। আয়তনের স্বামী মারা গেছে বছর পাঁচেক আগে। অনেক কষ্টে দুই সন্তানকে মানুষ করছে। নছিমন বিবি তাকে একা পেয়ে বললো, বিয়া করবি না আর?
আয়তন বললো, না। পুলা মায়া দুইডারে মানুষ করতে পারলে জীবন সার্থক হয়।
নছিমন বিবি বললো, স্বামীর সোহাগ লইবি না?
আয়তন দীর্ঘশ্বাস কেটে বললো, কপাল ভাঙছে আমার। সোহাগ পাওনের আশা আর করি না।
নছিমন বিবি বললো, ভবিষ্যতে যদি বিয়া করনের লইগা মন চায় কী করবি? জানস তো, দীর্ঘদিন ক্ষেত পইরা থাকলে জঙ্গল বাঁধে। হেয় ক্ষেতে ফসল হয় না। রাতে রাতে আমার ঘরে আইবি? মেলা পুরুষ আহে। জমিডারে একটু চাষ দিয়া রাখলি এই আর কি!
আয়তন ক্ষেপে গেলো, কি কইলি! তোর মত বেশ্যারে আমি ঝাঁটা মারি! সমাঝ লইয়া থাহি। তুই হইলি হেয় সমাঝের কীট, উচ্ছিষ্ট। 
নছিমন বিবি বললো, প্রতি রাতে নতুন নতুন পুরুষের ছোঁয়া লাগে শরীলে। এর যে কি মজা বুঝবি কেমনে! স্বাদের কথা ভুইলা গেছত?
আয়তন বললো, তোর লজ্জা করে না?
নছিমন বিবি বললো, পানিতে নামলে শাড়ি ভিজবোই, শাড়ি ভেজার ভয়ে কি রোজগারের লগে সুকও হারামু?
নছিমন বিবি আয়তনকে পাত্তা না দিয়ে চলে গেলো। সামনে বদরুলকে পেয়ে যারপরনাই উচ্ছ্বসিত হলো। বদরুল বললো, হাসোস ক্যান? মন রাঙাইতে চাস?
নছিমন বিবি বললো, তুই আমার আদর খাইলি না, ভালা। কিন্তু প্রত্যেক দিন নতুন নতুন খদ্দের আইনা দেস, আমি কিন্তু দেহি। কত কইরা লস? 
বদরুল আকাশ থেকে পড়লো। চোখ মুখ বন্ধ হয়ে গেলো। নছিমন বিবি থেমে থাকলো না, বললো, তুই আমার হইয়া কাজ করতে পারোস। ট্যাকা আমিও দিমু।
বদরুল হাত দিয়ে নিজের কান ঢেকে বললো, শেষ কইরা দিলি আমারে। আর কত ক্ষতি করবি, কত ইজ্জত লইয়া খেলবি? 
নছিমন বিবি বললো, ব্যবসা করি আমি, বদনাম রটাস আমার। তলে তলে লাভ খাস তুই! বস্তীর সবারে জানায়া দিমু।
বদরুল হাত জোড় করে বললো, মান-সম্মান শেষ করিস না, তোর পায়ে পড়ি।
নছিমন বললো, মাফ পাবি না। ক আমার হইয়া কাজ করবি? 
বদরুল নিরুপায় হয়ে বললো, করুম।
বদরুল বাড়ি এলো। নিজেকে নিজে ধিক্কার দিতে লাগলো। সিদ্ধান্ত নিলো যেকোন দিন এ বস্তী ছেড়ে দেবে। ওদিকে আয়তন মেম্বারকে সব কথা বলে দিয়েছে। মেম্বার পড়লেন চিন্তায়। নগ্নতার চর্চা? তিনি বড় সড় সিদ্ধান্ত নিলেন। বিকাল দুইটার দিকে এক ব্যক্তি এসে জানিয়ে দিয়ে গেলেন, কাল দশটার মধ্যে সকলকে চলে যেতে হবে। নতুবা উচ্ছেদ করা হবে। তা শুনে তজিমুদ্দিনের ঘরের গাঁজাখোরগুলো, রবিউল, মশিউর সবাই মেম্বারের কাছে গেলো। রবিউল বললো, মেম্বর সাব, থাকুম কই? যামু কই? 
মেম্বার সাহেব বললেন, তা আমি জানি? তোদের নোংরামি সীমা লঙ্ঘন করেছে, আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।
মশিউর বললো, আপনের কাম-কাজ কইরা দেই, অহন থাকনের জায়গা কাইড়া লইবেন?
মেম্বার সাহেব বললেন, তোরা কাজ মাগনা করে দিস না। কাজের বিনিময়ে টাকা দেই। তোরা এখন যা।
মেম্বারের প্রতি সবার রাগ হয়ে গেলো। সবাই মন খারাপ করে ঘরে ফিরে এলো। একথা এখনো বদরুল জানতে পারেনি। বাড়িতে জরিমন চিন্তিত। রাত হয়ে গিয়েছে। বদরুল ঘরে ফিরছিলো। তখন দুই যুবক বললো, পরমপুর যাবেন?
বদরুল দেখলো অনেক ভাড়া। ও রাজি হয়ে গেলো। কিন্তু পরমপুর অনেক দূর। অন্ধকার রাত ফিরবে কেমন করে? মাঝে মাঝে নির্জন পথ। লোকজনের চলাচল কম। বেশ ভূতুড়ে স্থানে যেতেই দুই যুবক ছুরি, পিস্তল বের করলো, আর বললো, চিল্লাবি না। চিল্লাইলে মুণ্ডু নিমু। 
বদরুল চিৎকার করলো না। ওরা রিক্সাটা নিয়ে চলে গেলো। চেয়ে চেয়ে দেখলো বদরুল। এবার ও করবেটা কী? সোজা শহর আলীর কাছে গেলো, মামা, রিসকাটা খোয়া গেছে। 
শহর আলী বললো, ভালা করছত। কিননা দিবি। নইলে জেলে হান্দায়া দিমু। 
বদরুল দীর্ঘশ্বাস কেটে বললো, কেমনে কিনমু? কই পামু এত্ত ট্যাকা?
শহর আলী চোখ গরম দিয়ে বললো, কেমনে কিনবি হেইডাও কইয়া দিমু? ব্যাংকো থেইক্কা লোন নিগগা। অল্প অল্প কইরা শোধ দিবি। অহন রাইত হইছে, বাইত যা।
বাড়ি ফেরার পথে আব্বাসের  সাথে দেখা। বদরুল বললো, আব্বাইসা, রিসকা ডাকাত নিছেগা। 
আব্বাস হেসে বললো, ডাকাত তোরে পাইছিলো? তাও তো ভালা, ডাকাত দেখছোস। তাগো কি গোঁফ লম্বা লম্বা?
রসিকতা করে আব্বাস চলে গেলো। নানা কিছু ভাবতে ভাবতে বদরুল বাড়ি ফিরলো না। বাচ্চাগুলো না খেয়ে ঘুমিয়ে গেছে। জরিমন পথ চেয়ে আছে।
সকাল বেলা কেউ কেউ মেম্বার সাহেবের বাড়ি যাচ্ছে কারণ মেম্বার সাহেবকে কারা নাকি গুলি করে মেরেছে। নছিমন বিবি বললো, বড়ো ভালা মানুষ আছিলো!
আর কেউ কেউ রইচদের বাড়ি যাচ্ছে চোর দেখতে। গত রাতে ঐ বাড়ি এক চোর ধরা পড়েছে।
 
======০০০======


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। স্বপন চক্রবর্তী

স্বপন চক্রবর্তী জগন্নাথ কাহিনী পুরী জগন্নাথধাম                    করিব প্রভুর নাম                    আজি মোর কাব‍্যের ছন্দে, জগদীশ্বর তিনি                       জোগান সবারে চিনি                     রাখেন মোদের ভালো-মন্দে।  নীলাচলে এক নারী                  ভক্তির ধ্বজাধারী                       ঈশ্বর-প্রেম ছিল অপার, কর্মাবাঈ নামে তিনি                    প্রভুর হৃদয় জিনি                       করিতেন দিব্য সংসার। ভিখারিণী অতি দীন                    বার্ধক্যে শক্তিহীন              ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

ভুতের গল্প : ভুতেরাও ভদ্র হয় ।। দীপক পাল

ভুতেরাও ভদ্র হয়  দীপক পাল  কোন এক রহস্য পত্রিকার জন্য একটা ভুতের গল্প লেখার তাগিদে রাত এগারোটা বাজার পরে শোওয়ার ঘরের লাইট নিভিয়ে আমার লেখার ঘরে ঢুকে জানালার সামনের টেবিলে গিয়ে চেয়ারটা টেনে বসলাম। ঘরে লাইট জ্বললে আমার স্ত্রীর চোখে ঘুম আসে না। অন্য দিকে ভাবলে ভুতের গল্প লিখতে গেলে একটু বেশী রাত ও একদম নির্জন পরিবেশ দরকার। হাতে কাগজ কলম নিয়ে জানালার বাইরের আলো আঁধারিতে চোখ মেলে তাকালাম। পথের আলোর জন্য এই আলো আঁধারির সৃষ্টি যদিও এই অমাবস্যার রাতে সেই আলো বড়ো অপর্যাপ্ত। একটু ভেবে আমার গল্প লেখা শুরু হলো। সারাদিন কাজের ফাঁকে মনে মনে গল্পটা মোটামুটি ফেঁদে রেখেছিলাম। এখন সেটাই গুছিয়ে লেখার পালা। সেটাই করে চলেছি একটানা। হঠাৎ একটা গলাখাঁকারির আওয়াজ এলো কানে। ভাবলাম পাশের বাড়ী থেকে বুঝি আসছে। তাই পাত্তা না দিয়ে লিখে যাচ্ছি। কিন্তু দ্বিতীয় বার গলা খাঁকারির আওয়াজ শুনে জানালার বাইরে তাকালাম। দেখি জানালার ওপাশে একটা আবছা ছায়ামূর্তি যার চোখজোড়া অল্প অল্প জ্বলছে। কিন্তু মুখে অল্প হাসি হাসি ভাব। এক মনে ভুতের গল্প লেখি যাওয়ার ফলে আমি যেন ভুতের রাজ্যে বিচরণ করছিলাম তাই স্বচক্ষে স...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য ।। পাভেল আমান

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য যিনি শিক্ষা দান করেন তিনিই শিক্ষক। শিক্ষা বলতে কেবল প্রথাগত শিক্ষা বা পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বৃহৎ অর্থে প্রথা বহির্ভূত জ্ঞান ও কর্মের বাস্তব অভিজ্ঞতা। রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করে বলা যায় যে, উত্তম শিক্ষক হবেন উত্তম ছাত্র। শিক্ষকের মধ্যে ছাত্রত্ব বেঁচে না থাকলে ছাত্রেরা তাঁর মনের নাগাল পেতে সমর্থ হয় না।শিক্ষকরা হলেন সমাজ গড়ার কারিগড়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকেরা। আদিকালের সামাজিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সেই আবাসিক গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থার যুগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিল নিবিড় ও মধুর সম্পর্ক। পিতা মাতার পর দ্বিতীয় পিতা বা অভিভাবক হিসেবে শিক্ষকদেরকে মান্য করতেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কাছে শিক্ষক ছিলেন পরম গুরু। গুরুর আশীর্বাদ ও দাক্ষিণ্য ছাড়া জীবনে সাফল্য অধরা থেকে যায়। গুরুর নির্দেশিত পথে অনুগমন করলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। শিক্ষক তথা গুরুর প্রতি ছাত্র তথা শিষ্যের আনুগত্য, ভক্তি, বিশ্বাস ও আত্মনিবেদন ছিল দৃষ্টান্ত মূলক। প্রাচীন ভারতে গুরু গৃহে গুরুর সাহচর্যে বসবাস করে শ...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...