Skip to main content

গল্প -- অয়ন সাঁতরা




 বিকৃত 


লাল গোলাপের পাপড়িটা অনেক্ষণ ধরে পায়ে পায়ে পিষ্ট হতে হতে এখন দলা পাকানো আবর্জনায় পরিনত হয়েছে। বর-আসন এখন শুন্য, বরকে ঘিরে পারিষদের ন্যায় বসে থাকা বন্ধুবর্গদের চেয়ারও শুন্য। সবাই বিয়ের মণ্ডপে। খাওয়ার জায়গাটাও এখন ফাঁকা, তবে পাখাগুলো উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরেই চলেছে। প্যান্ডেলের বাইরে, মাঠের এক প্রান্তে দু জন নারী পুরুষকে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে। তারাও বেশ কিছুক্ষন গল্প করার পর আস্তে আস্তে হাঁটতে হাঁটতে বেড়িয়ে গেল। ক্যাটারারের লোকগুলো দ্রুত কাজ গুছিয়ে নিচ্ছে। একজন এসে হঠাত খবর দিল –' বাড়ির পিছনে এইমাত্র একটা ডেডবডি দেখা গেছে!'  
                                               ১
-' বিয়েবাড়িতে আমি এমনিতে খাওয়া হয়ে গেলে বেড়িয়ে যাই। কিন্তু কোলকাতার বাইরে ... এইরকম গ্রাম সাইডে আসায় রাতে খাওয়ার পরেও আমি মাঠে ঘুরছিলাম।  বিয়ের সময় হতে সবাই একে একে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে গেলও আমি একাই ঘুরছিলাম। এমন সময় হঠাতই পারোমিতাকে দেখতে পাই। সেও আমাকে দেখতে পায়। এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, কেমন আছে সে! এখানেই বা আসা কিভাবে... এইসব আর কি'।
-' আপনাদের রিলেশানটা?'
-'চার বছর আগে একবার বিয়ে হয়েছিল...'
-'একবার বিয়ে হয়েছিল, মানে টেকেনি তাই তো?'
-'বলাই বাহুল্য। তারপর টুকটাক সাধারন কথাবার্তা। জানতে পারলাম ও কনে পক্ষ। ব্রাইডের পি.এইচ.ডি গাইড'।
-'তারপর?'
-'তখন পৌনে দুটো হবে... আমরা ওখান থেকে বেরিয়ে যাই। বিয়ের জায়গায় যাইনি। পাশের পুকুরটার ধারে একটু পাইচারি করি। তেমন কোনো কথা হয়নি। মিনিট পনেরো কুড়ি পরে সুমন আসে..'
-'এক মিনিট। সুমন কে?'
-'অভিরূপের অফিস কলিগ হিসেবে আমরা দু জনেই এসেছিলাম কোলকাতা থেকে'।
-'বুঝেছি। বলে যান'।
-'সুমন এসে বলে সে এবার লজে ফিরতে চায়। আমি সম্মতি দিতে বাইক বার করতে গেল সুমন। পারোমিতা আর কিছু কথা না বলে বিয়ের মন্ডপের দিকে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরে সুমন বাইক নিয়ে এসে দাঁড়াল, আমি উঠে পরলাম। ব্যাস! তারপর আজ সকালে জানতে পারলাম পারোমিতা বাড়ির পাশের খাতটায় পরে মারা গেছে'।
-'আচ্ছা সুমনের সঙ্গে পারোমিতার পরিচয় ছিল?'
-'না। তা কি করে সম্ভব!'
-'ঠিক আছে'।
কৌশিকবাবু এতক্ষন রাজদীপকে জেরা করছিলেন। আর কৌশিকবাবুর পাশে দাঁড়িয়ে রাজদীপের জবানবন্দি শুনছিল অংশুমান।
কৌশিকবাবু এবার পরিতোষবাবুকে, মানে যার মেয়ের বিয়ে ছিল গতকাল, তাকে জিজ্ঞেস করল –' আচ্ছা আপনার মেয়ে বেড়িয়ে গেছে তো?'
-'হ্যাঁ হ্যাঁ... আপনারা আসার আগেই ওইদিকটা আমরা সেরে ফেলেছি'।
-'ধন্যবাদ। তবে ওখানেও আমাদের যেতে হতে পারে... সে যাই হোক, আপাতত আপনি বলুন তো- বিয়ের ব্যাবস্থা তো এই উঠোনেই হয়েছিল?'
বাড়ির উঠোনটার দিকে লাঠি নির্দেশ করে জিজ্ঞেস করলেন কৌশিকবাবু।
-'হ্যাঁ'।
-'খাতটা যেহেতু বাড়ির পিছন দিকে, পারোমিতাকে তাই সেই অবধি যেতে মন্ডপ ক্রস করতে হয়েছে, সেক্ষেত্রে আপনাদের কারুর না কারুর তো তাকে দেখার কথা, কারন আপনাদেরই কথা অনুযায়ী রাত হয়ে যাওয়ায় সেই সময় বেশি কেউ এই বারান্দায় ছিল না। অথচ আপনারা প্রত্যেকেই বলছেন কেউ তাকে বাড়িতে ঢুকতে দেখেননি... এটা কি করে সম্ভব?'
পরিতোষবাবুর স্ত্রী শর্মিলা বললেন –'দেখুন, বিয়ের সময় আমরা সবাই মন্ডপে নানান কাজে ব্যাস্ত ছিলাম। কতজন মাঠ থেকে ভিতরে আসছে...আমরা তো আর সবাইকে লক্ষ রাখিনি। তাছাড়া বাথরুম যেতে গেলেও...'
-'বাথরুমটা দেখাবেন চলুন।' বাথরুমের দড়জার দিকে এগিয়ে গেলেন কৌশিকবাবু। তারপর বললেন –' এটার পিছনেই খাতটা?'
-'হ্যাঁ' বলে দরজাটা খুলে দিলেন পরিতোষবাবু। দরজাটা খুললেই সামনে একফালি ঝুল বারান্দার মত জায়গা, তারপর সেই খাত! বাঁ দিকে আবার বাথরুমের দরজা।
কৌশিকবাবু বিস্ময় প্রকাশ করলেন –'এ তো মশাই ডেঞ্জারাস জায়গা! এখন তো মনে হচ্ছে এটা সুইসাইড বা মার্ডারের থেকে সিম্পিল অ্যাক্সিডেন্টের কথাই আগে ভাবতে হয়'।
-'সে আমরা অবশ্য অস্বিকার করতে পারিনা'।
-'ইনভিস্টেগেশান হয়ে গেলেই আগে এই জায়গাটা ঘিরে দেবেন'।
একজন কনস্টেবেল গোছের লোক কোশিকবাবুকে বললেন –'স্যার, কাল রাতে যারা যারা এই বাড়িতে থেকেছে প্রত্যেককে ছাদে নিয়ে গিয়ে বসিয়েছি'।
-'হ্যাঁ, চল' বলেই একবার পরিতোষ বাবুর দিকে তাকিয়ে বললেন –'ডোন্ট মাইন্ড, আপনার গেস্টদের একটু বিব্রত করতেই হচ্ছে'। তারপর –'আয় অংশু' বলে সিঁড়ি দিয়ে উঠে গেলেন।
গতরাতে যারা যারা এই বাড়িতে ছিল, তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ঘুমিয়ে পরেছিল; যেহেতু বিয়ে ছিল অধিক রাতে। যারা জেগে ছিল তারা বলছে কেউ পারোমিতাকে চিনত না এবং কে এল, কে গেল, বিয়ে বাড়িতে তা নিরিক্ষন করা সম্ভব নয়। তবুও সবাই মোটামুটি নিজের নিজের কার্যকলাপ বর্ণনা করল। কেবল দু জনের বক্তব্যের মধ্যে সন্দেহভাজন কিছু ছিল। প্রথমজন কনের এক মামা আর দ্বিতীয়জন কনের ভাইয়ের এক বন্ধু। 
মামার বক্তব্যঃ বিয়ের দেরি আছে বলে প্যান্ডেল থেকে খেয়ে এসে একবার একটু ঘুমিয়ে পরেছিলাম। তারপর নিচে শাঁখের আওয়াজ টাওয়াজ হতে ঘুম ভেঙ্গে যায়। ঘর থেকে বেড়িয়ে যখন নিচে নামতে যাই তখন স্পষ্ট একজনের ছায়া দেখেছি। আবার যখন নেমে আসছি, তখনো মনে হয়েছে পিছন পিছন আরো কেউ নামছিল, তখন অবশ্য অতটা আমল দিইনি। কিন্তু পরে মনে হয়েছে, উপর থেকে তো আর কারুর নেমে আসার বাকি ছিল না। থাকার মধ্যে আমার ছোত ভাইয়ের বাচ্চা ছেলেটা...সে তো ঘুমচ্ছিল, তাছাড়া তার বয়স তিন। আর মা, তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন, তাঁর বয়স চুরাশি'।
রাজের বক্তব্যঃ (কনের ভাইয়ের বন্ধু) আমি একটা ফোন করতে ছাদে এসেছিলাম। আমি কথা বলতে বলতে চাপা স্বরে একজন ছেলে আর মেয়ের গলার আওয়াজ পেয়েছি। সামথিং ... স্পেশাল... মানে...
রাজের বক্তব্য আন্দাজ করে অংশু ঠান্ডা অথচ গম্ভিরভাবে, এই প্রথম কথ বলল –'মধ্য রাতের গোপন অভিসার বলতে চাইছেন তো! কিন্তু তারা কারা সেটা দেখতে পাননি?'
-'না'
২
এইবেলা অংশুমানের পরিচয়টা দিয়ে রাখা দরকার। অংশুমান প্রথমত কৌশিকবাবুর বন্ধুর ছেলে এবং দ্বিতীয়ত ওনার হবু জামাইও বটে। অংশুমান পেশাদারি গোয়েন্দা না হলেও শখে এর আগে কৌশিকবাবুর দুটো ইন্টারেস্টিং কেসে ওনাকে সহায়তা করেছে। তবে সেই দুটো কেসই কোলকাতার ছিল। এবারের টা তো একেবারে মাদিনীপুর! ব্যপারটা আসলে নিতান্তই কাকতালীয়। কৌশিকবাবু মেদিনীপুরে এসেছিলেন মাস তিন এক আগে একটা মার্ডার কেসের তদন্তে। সে কাজ হয়ে গেছে। এই সপ্তাহেরই শেষে ওনার কোলকাতায় ফেরার কথা ছিল, কিন্তু আজ সকালে এই খবরটা পেয়ে উনি ঘটনাস্থলে চলে আসেন। আর অংশুমান এসেছে তার অফিসের কাজে। ও একটা বিজ্ঞাপন অফিসে কাজ করে –মেইনলি ফোটগ্রাফি। সেই কাজেই এসেছিল এদিকে, কৌশিকবাবু থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। আজ সকালে খবর পাওয়ামাত্র কৌশিকবাবু ওকেও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন।
                                          'আচ্ছা কাকু, বলছি আপনি ওদের সাথে একটু কথা বলুন। গুকালের পুরো ভিডিও আর যা স্টিল তোলা হয়েছে, তার সবগুলোর যেন এক কপি করে পাঠিয়ে দেয়'।
-'গুড। ঠিক বলেছ'।
-'আর বলে দিন, ভিডিও যেন কোনোভাবে এডিট না কর হয়'।
পরিতোষবাবু ক্যামেরাম্যানকে ডেকে দিলেন। কৌশিকবাবু ছবি আর ভিডিও দিতে বললেন।
-'আচ্ছা কাকু... একটু শোনো'।
-'কি?'
-'পারসোনাললি যারা ভিডিও করেছিল...'
-'হ্যাঁ হ্যাঁ বুঝতে পারছি তুমি কি বলতে চাইছ। দেখছি। শুধুমাত্র কাল রাতের ভিডিও গুলোর ব্যাবস্থা আমি করতেই পারি। ওয়েট'। কৌশিকবাবু দু জন ইন্সপেক্টারকে নিয়ে ভিতরে গেলেন। অংশু এর মাঝে পরিতোষবাবুকে বলে রাখল, 'ছবি গুলো আমরা পেয়ে গেলে আপনাকে একবার আসতে হবে'।
-'কেন বলুন তো?'
-'সবাইকে চিনিয়ে দেওয়ার জন্য। তাছাড়া কাল রাতে এখানে যে যে গেস্টরা ছিলেন, তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আপনাদের রিলেশান, এটসেট্রা...'
-'ঠিক আছে, আপনারা খবর দেবেন। তবে একটা কথা ছিল...'
-'বলুন'।
-'কাল সন্ধ্যেবেলা আপনারা কি বাকি পুলিশদের সাথে নিয়ে...'
কোউশিকবাবু এমন সময় এসে বললেন –'চিন্তা নেই, ওখানে শুধু আমি আর অংশুই থাকব। আর আমি পুলিশের পোশাকে থাকব না'।
৩
ছবি আর ভিডিও বিকেলের মধ্যেই গেস্ট-হাউসে পৌঁছে দিল ক্যামেরাম্যান। কৌশিকবাবু বেড়িয়েছেন তাঁর এক সহকারি অফিসারের সাথে। আসলে পরিতোষবাবুর অতিথিদের জবানবন্দি অনুযায়ী এবং আনুষঙ্গিক তথ্য-প্রমাণাদির ভিত্তিতে চার জনের নাম উঠে এসেছে, যাদের সঙ্গে ওইদিন পারোমিতার কথোপকথন হয়েছে –তাদেরই বাড়ি গিয়েছেন ওঁরা।
আকাশটা কালো করে এসেছে। এই সময় এইরকম আবহাওয়াটা অস্বাভাবিক। ফাল্গুন মাসে সাধারনত চৈত্রবৈশাখের মত বিকেলের দিকে আকাশ কালো করে ঝর বৃষ্টি হয় না। তবে আজ হয়েছে। বেশ ভালো রকম কালো করেছে, ঠান্ডা বাতাসের সাথে ধুলো উড়ছে ঝরের দাপটে। মধুস্মিতা, অংশুর মিতা এতক্ষন জানালার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। এবার জানালা থেকে সরে এসে ঘরের আলো জ্বালিয়ে দিয়ে বিছানায় গিয়ে বসল। অংশু বিছানায় বসে ছবি গুলো বিছিয়েছে, তার একটাতে খেয়াল না করে বসে পরেছিল। অংশু 'কানা নাকি' বলে ছবিটা সরিয়ে নিল।
'ওপস, সরি। খেয়াল করিনি। এই বাবা কখন আসবে?'
অংশু ছবি গুলোর উপর থেকে চোখ না সরিয়েই বলল –'ঠিক নেই। একেকটা জায়গা থেকে কেমন ইনফরমেশান পাচ্ছে, সেসবের উপর দিপেন্ট করছে'।
-'তাহলে তুই তখন থেকে ছবি গুলো নিয়ে কি করছিস?'
-'যে ছবি গুলোতে পারোমিতাকে দেখা যাচ্ছে বা আংশিক দেখা যাচ্ছে, সেগুলো আলাদা করছি'।
-'বাবা... আংশিক! পারোমিতাকে পছন্দ হয়েছে বল। তা না হলে কোন ছবিতে আংশিক দেখা যাচ্ছে সেটা আবার আলাদা করে রাখছিস'।
-'ভাট বকলে অন্য কাউকে ফোন করে বক'।
-'ঠিক আছে বকব না। তাহলে বল, সকাল থেকে কি কি বুঝলি?'
-'বলতে পারি। তবে...'
-'স্পাই এর কাজ করতে হবে?'
-'এই মুহূর্তে না। তবে ...ছাড় সে কথায় পরে আসছি। আগে আমার থিওরিটা বলি'।
-'মানে পারোমিতা কিভাবে খাতে পরল?'
-'রাইট। দেখ, খাতের দিকে যাওয়ার দু টো রাস্তা। একটা রান্না ঘরের পিছনে, অন্যটা বাথরুম যাওয়ার মুখে'।
-'ওয়েট। বাথরুম যাওয়ার মুখে বলতে?'
-' পরিতোষবাবুর বাড়ির শুরুতেই বারান্দা। বারান্দায় উঠে ডানদিকে সিঁড়ি। সিঁড়ির পাশ দিয়ে বাথরুমে যাওয়ার রাস্তা। কমন বাথরুম, আই হোপ বিয়ে বাড়িতে সবাই এটাই ইউস করেছে। কাজেই কারুর অ্যাক্সিডেন্ট হল না, হল শুধু পারোমিতার?'
-'মে বি হতেই পারে। আর তুইই তো বললি দু টো রাস্তা, একটা রান্না ঘরের পিছনে'।
-'সেতাই তখন বলতে যাচ্ছিলাম। রান্না ঘরের পিছনে যদি যায় সেটা হবে আত্মহত্যার চেষ্টা। কিন্তু সেটা করলে ভোর অবধি জেগে থাকা রান্না ঘরের পাঁচ জন লোকের কারুর না কারুর চোখে সেটা পরত'।
-'তাহলে তুই বলছিস এটা সিওর মার্ডার'।
-'মোস্ট প্রোবাবলি'।
-'কাউকে মার্ক করেছ?'
-'এখনো পর্যন্ত একজনকে'।
-'কে?'
-'তুই পারোমিতার যে এক্স হাসবেন্ডের সঙ্গে ওখানে দেখা হয়ে গিয়েছিল, সেটা শুনেছিস তো?'
-'হ্যাঁ'।
-'তার অফিস কলিগ। মানে সুমন। রাজদীপ বলছে বটে ওর অফিস কলিগ পারোমিতাকে আগে থেকে চেনে না, কিন্তু আমার মনে হচ্ছে অন্য কোনো ভাবে ওদের পরিচিতি হতেও পারে। রাজদীপ সেটা জানে না'।
-'আচ্ছা, আমরা ধরে নিলাম, সুমনের সঙ্গে পারোমিতার শত্রুতা ছিল। কিন্তু তোমার থিওরিটা কি?'
-'রাজদীপ বলেছে সুমন লজে ফেরার প্রস্তাব দেওয়ায় রাজদীপ রাজি হয় এবং তারপর সুমন বাইক আনতে যায়। পারোমিতাও কিন্তু আর সেখানে দাঁড়ায়নি। এবার লক্ষণীয় বিষয় এই যে বাইক রাখার জায়গাটা হয়েছিল ঠিক সেই বারান্দার পিছনে। আর বারান্দায় ওঠার জন্য ওখানেও একটা দড়জা আছে; আমি নিজে দেখেছি। সো সবাই বিয়ে দেখতে ব্যস্ত। সুমন দেখল পারোমিতা বাথরুমের দিকে যাচ্ছে। স্মার্টলি বারান্দা দিয়ে হেঁটে গেল, আর পারোমিতা দরজা খোলা মাত্র পিছন থেকে হালকা একটা ধাক্কা ব্যাস! কিন্তু এটাকে ঠিক মেনেও নিতে পারছি না। কেন বলত?'
-'এটা হলে তো পারোমিতা বাথরুমের দিকে যাচ্ছে আর সুমন বাইক বার করতে গিয়ে সেটা দেখতে পেল, সেটা কাকতালীয়। অর্থাৎ সুমন খুনের মোটিভ নিয়ে আসেনি নিশ্চয়ই। আর খুন করাটা মোটেই কোনো সহজ কাজ নয়, এক যদি না সে পাশাদারি খুনি হয়। তাই ওভাবে...'
-'গুড। ঠিক এই জন্যই আমি থিওরিটাকে বাতিল করেছি। তবে সুমনকে এখনো তালিকা থেকে বাদ দিইনি। কারন লজে রাজদীপ আর সুমন দুজনেই ছিল। অথচ খবর দিয়ে যখন সবাইকে আসতে বলা হল, তখনো সুমন এল না কেন?'
মিতা বলল, 'আচ্ছা, সুমনের দিক থেকে সরে এসে আমরা যদি অন্য কারুর প্রাস্পেক্টিভ থেকে দেখি'।
-'তুই আবার কাকে টেনে থিওরি বানাচ্ছিস?'
-'বর'
-বর?
-হতেই তো পারে বরটা বর্বর!
-ঝেরে কাশ।
-দেখ। আমরা জানি পারোমিতার সঙ্গে রাজদীপের ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছিল। অ্যাম আই রাইট?
-রাইট।
-তারপর ধর পারোমিতার সঙ্গে কালকের বিয়েতে যে বর ছিল, তার সঙ্গে...
-মানে তুই বলতে চাইছিস, বিয়ে করতে এসে হঠাত করে পুরোনো সঙ্গিনীকে দেখে বাবাজি ভয় পেয়ে যায় আর সেখান থেকে অ্যাটেম্প টু মার্ডার!
-ইয়েস।
-হুম। বুঝলাম। দু টো ব্যাপারে হালকা বাধা থাকছে ঠিকই... বাট সেগুলোকেও নিঃসন্দেহে উড়িয়ে দেওয়া যায়। আর সেগুলোকে বাদ দিলে নেহাত তোর থিওরিটা খারাপ না।
-বাধাটা কোথায়?
-এজ। বর বাবাজির বয়সটা যা শুনেছি, সেটা পারোমিতার থেকে অনেকটা কম। তবে সেটা খুব একটা ফ্যাক্ট না। আর সেকেন্ডলি, বিয়ের আসরে বরের পক্ষে কখনোই মার্ডার অ্যাটেম্প করাটা পসিবেল নয়। কিন্তু এখানেও সেটা সে করতে পারে, যদি অন্য কাউকে সে এই কাজে লাগায়।
এবার বৃষ্টি আরম্ভ হয়েছে। ঝড়টাও বেশ বাড়ছে। জানালার পাল্লাটায় আওয়াজ হচ্ছে দুম-দাম। মিতা উঠে গেল জানালা বন্ধ করতে। জানালা বন্ধ করতে করতেই মিতা জিজ্ঞেস করল, 'আচ্ছা ওই পারোমিতার বাড়ির লোককে ওর পাস্ট নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করা হয়নি?'
-'সেসব কথা তোর বাবার সাথে হয়েছে। আমি আগে চলে এসেছি। কাকু আসুক, বাকি কথা জানা যাবে'। কথাটা বলেই অংশু ভুরু কুঁচকে একটা ছবির দিকে তাকাল। তারপর আর একটা ছবি হাতে নিয়ে সেই ছবিটার দিকে বেশ কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে হন্যে হয়ে বাকি ছবি গুলো হাতরাতে লাগল। মিতা জিজ্ঞেস করল –কি খুঁজছিস?
অংশু কোনো উত্তর দিল না।
কৌশিকবাবু ফিরলেন প্রায় রাত আটটা, বৃষ্টি থামার পর।
-নতুন কিছু খবর পাওয়া গেছে?
-নতুন খবর বলতে পারোমিতার বাবা মায়ের থেকে যেটুকু জানা গেছে, তাতে মেয়ের সুইসাইড করার কোনো কারন তো তারা খুঁজে পাচ্ছে না। তাহলে বাকি রইল মার্ডার আর অ্যাকসিডেন্ট। এবার ওর বাবা মায়ের কথা অনুযায়ী মেয়ের শত্রু তো কোনো কালে ছিলই না, উপরন্তু কোলকাতা থেকে শত্রু মেদিনীপুরে এসে খুন করবে, এ যুক্তি তো মেনে নিতে পারছে না। ইভেন আমারো এবার মনে হচ্ছে ইটস জাস্ট আ অ্যাক্সিডেন্ট।
-আচ্ছা কাকু, আমার একটা কথা সকাল থেকেই মনে হচ্ছিল, তখন বলিনি।
-কি?
-পারোমিতা কি আদৌ উপর থেকেই নিচে পরেছে? কারন বাথরুমের রেস্পেক্টে ওটা খাত হলেও আদপে তো ওটা পুকুরপাড়। হতেও তো পারে উনি ওখানে গিয়েছিলেন, দেন ওখানে কেউ...
-উপর থেকে পড়েছে কিনা সেটা তো কালকের রিপোর্ট হাতে এলেই বোঝা যাবে। বাট... সেই 'কেউ' ওনাকে কোকাতা থেকে চেস করে এখানে এসে...
-না আকস্মিক ভাবে দেখা হয়ে তো যেতেই পারে। পারে না কি...?
-তা পারে। তবে উপর থেকে পরার ফলে যেভাবে মাথা ফাটে... এক্ষেত্রেও কিনু...
-না না। সেটা তো অ্যাক্সিডেন্ট প্রুফ করার জন্য আততায়ী ইচ্ছে করেও করতে পারে?
-পারে।
-তাহলে এখন সেই 'কেউ' টাকে খুঁজে বার করাটা খুব দরকার।
কৌশিকবাবু আবার কিছু বলতে যাচ্ছিলেন, চাকরটা এসে জিজ্ঞেস করল, 'ভাত না রুটি?'
-ইয়ে অংশু, তুমি রাতে রুটি খাও?
-না ভাত। তবে কাকু, এখন একটু বেরোবো।
-না না, এখন কোথায় বেরোবে? রাত হয়ে গেছে, এটা তো কোলকাতা নয়। রাস্তা গুলিয়ে ফেললে...
-না না। আমি রাস্তা গোলাবো না।
-ঠিক আছে, তাহলে আমার গাড়ি নিয়ে যাও।
মিতা আবার বায়না ধরল সেও বেরোবে। অগত্যা, কৌশিকবাবু একজনকে অনুমতি দিয়েছেন, আর একজনকে থামান কিকরে? তবে বার বার করে বলে দিলেন দশটার মধ্যে যেন বাড়ি ফেরা হয়।  
                                         ৪
-আমরা ঠিক কোথায় যাচ্ছি? জিজ্ঞেস করল মিতা।
অংশু বলল, না জেনেই যখন বেড়িয়েছিস তখন আর না জানলেও চলবে। মিতাও আর ঘাঁটাল না। কারন ও জানে এখন অংশু কোনো জবাবই দেবে না। তাই ঘার ফিরিয়ে বাইরের দিকে চেয়ে বসে রইল। মরামের উপর দিয়ে গাড়ির চাকা চলে যাওয়ার আওয়াজ আর হেডলাইটের আলোয় দেখা যাচ্ছে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা প্রহরির মত গাছগুলো।
গাড়িটা একটা পুকুরের পাড়ে এনে পার্ক করল অংশু। মিতা বেশ আন্দাজ করতে পারল, এটা সেই ডেথ স্পট। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এখন এখানে এসে লাভটা কি? প্রশ্ন করবে না করবে না ভেবেও শেষমেশ বলেই ফেলল, এখন এখানে এলে কেন?
-ছক সাজাতে। আমি তো আর হোমস নই যে ঘরে বসে বসে সব সাজিয়ে নেব আর স্পটে এসে কেরামতি দেখাবো!
-'তা সকালে ছক সাজাতে...' অংশু মিতার কথায় বিন্দুমাত্র কর্ণপাত না করে, কথাটা শেষ করতেও না দিয়ে দুটো জলের গাড়ির দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলল –' লক্ষ্য করে দেখ, এদিকটায় জলের জায়গা ছিল প্লাস জেনারেটারের ব্যাবস্থাও এখানে ছিল। তারমানে জেনারেটারের দায়ীত্বে যারা ছিল... মমম... না, সবসময় যে তারা থাকবে...' নিজেই কথা বলছে, বলতে বলতে আবার থেমে থেমে যাচ্ছে অংশু। সাজাচ্ছে, গুটি গুলো সাজাচ্ছে। কি যেন ভেবে একবার বিরবির করে বলল, রাজলক্ষ্মী ইলেক্ট্রনিক্স!
-'আমি কি গাড়িতে গিয়ে বসব? মশা কামড়াচ্ছে'।
-'না। আমার মোবাইল নিয়ে আসা হয়নি। জায়গাটার ছবি তুলে রাখ'।
-'নিচ্ছি'।
মিতা ভিন্ন ভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবি নিচ্ছে, অংশু বলল, কাল বিকেলের দিকে একবার বৃষ্টি হচ্ছিল না?
-হচ্ছিল তো!
-তাহলে এখানে ধস্তাধস্তি হলে কিন্তু মাটিতে তার ...। অংশু টর্চ জ্বেলে জায়গাটা পর্যবেক্ষণ করছে। পুকুরের পার ধরে খানিকক্ষণ হেঁটে যাওয়ার পরে হঠাত একটা জায়গায় অংশু থামল, তারপর হাঁটু গেরে বসে কিছু যেন নিরিক্ষন করল। তারপর মুচকি হেসে বলল –'অনুপ্রবেশ। বাট হু ওয়াস দ্য সেকেন্ড অ্যন্ড হোয়াই?'
মিতা বিরক্ত হয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই অংশু বলল, তোকে একটা কাজ করতে হবে। এই বাড়ির যে ছোট মেয়েটা আছে, ওর থেকে কায়দা করে কথা আদায় করতে হবে।
-কি কথা?
-চ। গাড়িতে যেতে যেতে বলব।
                                     বিকেলের দিকে ঝড় হয়ে আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা। মিতার গাড়িতে একটু শীত শীত করছিল বইকি। কিন্তু চাপা উত্তেজনাও ছিল। অংশু কি এমন দেখল ওখানে? তাছাড়া বিকেলে ছবিতেই বা কি এমন খুঁজে পেয়েছিল সে? –মিতা যখন এইসব ভাবছে, তখন ওকে অবাক করে অংশু বলল –'তুই নিশ্চয়ই ভাবছিস আমি বিকেলে ছবিতে কি খুঁজছিলাম?'
-'হ্যাঁ তো'।
-'শোন তাহলে, কারন তোর জানাটা দরকার। কিন্তু তার আগে বল তো, কাল পারোমিতা কি পরেছিল?'
-'শাড়ি। লাল আর হলুদের কম্বিনেশান'।
-'ঠিক এই একই কালারের শাড়ি আরো একজন পরেছিল'।
-'কে?'
-'পোরিতোষ বাবুর ভাইয়ের বড় মেয়ে। আমি যখন পারমিতার ছবি গুলো আলাদা করছিলাম, তখন একটা ছবিতে আমিও ঘোল খেয়ে গিয়েছিলাম। ওই যে তখন বললাম না.. আংশিক! সেইরকম একটা ছবি। আমি ব্যাক সাইডটা দেখে ভেবেছিলাম ওটা পারোমিতা বাট পরে অন্য একটা ছবির পুরোটা দেখে বুঝলাম ওটা অনন্যা, মানে পরিতোষ বাবুর ভাইয়ের মেয়ে'।
-'তুই কি মিন করতে চাইছিস বল তো?'
-'এটাই যে, পরিতোষবাবুর ছেলের বন্ধুর জবানবন্দি অনুযায়ী সেই রাত্রে ছাদে যে গোপোন প্রেমালাপ চলছিল, বা পুরোনো প্রেমিক প্রেমিকার বচসা, যাই বলি না কেন... সেই দুজনের একজন অর্থাৎ নারীটি অনন্যা।
-'মানে তুই বলতে চাইছিস, অনন্যার বয়ফ্রেন্ড অনন্যা ভেবে পারমিতাকে মেরে ফেলেছে। যাহ্‌। সে কেন ...তাছাড়া...'
-'তাছাড়া ছার বালিকে। যেটা বলছি, সেটা শোন। কাল আমি সকালে কোলকাতা যাব, দরকার আছে। আবার বিকেলের মধ্যে ফিরে আসব। তুই শুধু কাকুর সঙ্গে ওই বাড়ি পৌঁছে গিয়ে অনন্যার বোনের সঙ্গে কথা বলে আদায় কর, অনন্যার পাস্ট। মানে অনন্যার বিয়ের আগের ঘটনা কি ছিল?'
-'তুমি এত সিওর হচ্ছ কি করে যে অনন্যার...'
-'বিয়ের আগে বয়ফ্রেন্ড ছিল কিনা?'
-'হ্যাঁ'
-'শোন, অনন্যার বয়ফ্রেন্ড কাল্প্রিট কিনা, সে বিষয়ে আমি এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারছি না। বাট, তার বয়ফ্রেন্ড ছিল এবং সে সেদিন ওই বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত ছিল, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত হয়েছি কিছু বিয়ে বাড়িতে কিছু গেস্টদের করা ব্যাক্তিগত ভিডিও থেকে। এইধরনের ভিডিও গুলোতে এমন অনেক ধরনের ফুটেজ ধরা পরে ম্যাডাম!'
-'ঠিক আছে। আমি ঠিক কথা বার করে নেব। কিন্তু তুই কোলকাতায় যাবি কেন?'
-'পারোমিতা কাল রাতে কেন পিছনদিকের ওই পুকুরে গিয়েছিল বা কেন পুকুরপারে যাওয়ার কথা ছিল, সেটা জানতে'।
-'মানে? এই তো বলছিস ভুল করে...' 
-'কিন্তু এই ভুলের পিছনে আরো কিছু ঠিক ভুল আছে। সেগুলো যে না জানলে অনেক কিছু অজানা থেকে যাবে'।
                                       ৫   
অংশু পরদিন সকালে বেড়োনোর আগেই পারোমিতার রিপোর্ট টা চলে এল। রিপোর্ট বলছে, উঁচু কোনো জায়গা থেকে পরেছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই, তবে মৃত্যুর অন্যতম কারন কোনো ব্লান্ড ইন্সট্রুমেন্টের আঘাত।
অংশু চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলল –'মাথার আঘাতটা দেখেই সন্দেহ হয়েছিল ওটাই মৃত্যুর কারন, সেইজন্যেই আপনাকে বলেছিলাম হতেও পারে উপর থেকে পরে মারা যায়নি। কিন্তু এখন ব্যাপারটা যা দাঁড়াল, উপর থেকেও পড়েছে আবার নিচেও মার খেয়েছে'।
কৌশিকবাবু বললেন, মানে পারমিতার জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ অবস্থা হয়েছিল।
-'হুম। এবার দেখতে হবে বাঘটি কে, আর কুমিরটাই বা এসেছিল কেন?'
-'অ্যাঁ?'
-'বাদ দিন। বলছিলাম, ওই পোরিতোষবাবুর জামাইয়ের অফিসের ঠিকানাটা আজকে দুপুরের মধ্যে জেনে আমাকে এস.এম.এস করে দেবেন তো'।
-'ঠিক আছে। তা তুমি রাতের মধ্যে আবার এখানে আসছ তো'।
-'ইচ্ছে তো আছে। কারন সিনেমাটা তো আর বেশিক্ষন ঝুলিয়ে রাখা যাচ্ছে না। ও ভাল কথা, রিসেপ্সশানের জায়গাটার লোকেশানটাও পাঠিয়ে দেবেন। ওখানেই ডাইরেক্ট ঢুকে যাব'।
-'বেশ। তুমি তাহলে বেড়িয়ে পর। যাবে যখন দেরি করে কাজ নেই'।

বিকেল থেকেই সাজ সাজ রব। কনে যাত্রিদের যাওয়ার জন্য গাড়ি লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পুলিশরা সবাই সাধারন পোশাকে। খুব নিজেদের লোক ছাড়া এই খুনের ব্যাপারটা পারা প্রতিবেশিরা এখনো কেউ জানে না। আত্মীয়-স্বজন রাও না। পরিতোষবাবু এমনিতেই চিন্তায় আছেন, তার উপর আবার দুপুরে খাওয়ার আগে কোউশিকবাবু তাঁর জামাইয়ের অফিসের ঠিকানা পাঠাতে আরো নারভাস হয়ে পরেছিলেন উনি। এদিকে মিতা শুধু সুযোগ খুঁজছিল কি করে অনন্যার সেই ছোট বোনটিকে আলাদা করে পাওয়া যায়। অংশু বলেছে, ব্যাপারটা কনফার্ম করে দিতে আর সেই ছেলেটার ঠিকানা দিতে। মিতা এদিকে ভেবে পাচ্ছে না, অনন্যার বয়ফ্রেন্ড অনন্যা ভেবে পারোমিতাকে ফেলে দিলেও নিচে আঘাতটা করল কে? নাকি সেই ছেলেটি এতটাই সাংঘাতিক যে...। আরে, ওই তো অনন্যার বোন। ওটাই তো...হ্যাঁ, ছবি অনুযায়ী তো তাই।
-'শুনছ?' ডাক দিল মিতা।
-'আমায় বলছেন?' ঘুরে দাঁড়ায় মেয়েটি। পায়ে পায়ে এগিয়ে এল মিতার কাছে। 'বলুন'। এই তো! ঘেঁটে গেল মিতা। কিভাবে শুরু করবে? না, অংশুর কথা বলা যাবে না। বলতে হবে বাবা জানতে চেয়েছে।
-'আমি ইন্সপেক্টার কৌশিকবাবুর মেয়ে, মধুস্মিতা। বাবা আমাকে তোমার কাছে পাঠিয়েছে কয়েকটা প্রশ্ন করতে'।
-'আমাকে?'
সামান্য তোতলালো কি মেয়েটা? হুম, তাহলে মিতার এখন নরম হলে চলবে না। 'হ্যাঁ, তোমাকে। কাল তুমি পুলিশকে সব সত্যি কথা কিন্তু বলোনি'। সন্দেহটা সন্দেহ হিসেবে নয়, হাই কনফিডেন্সের সাথে কথা ছুঁড়ে দিয়েছে মিতা।
-'মানে?' এবার একটু ঘাবরেও গেছে। নাহ, এই তো মোক্ষম সময়।
-'তুমি তোমার দিদির পাস্ট নিয়ে পুলিশকে কিছু বলনি। অল রাইট, অতজনের সামনে তোমার দ্বিধা হয়েছিল নিশ্চই, আর সেই জন্যই বাবা আজকে পারসোনালি জানতে পাঠিয়েছে'।
-'সেটা পুলিশ জেনে কি করবে?'
-'দরকার আছে। তুমি সব সত্যি বলবে'।
-'দিদি জানবে না তো যে আমি বলে দিয়েছি?'
-'না জানবে না'।
-'ঠিক আছে'।
মেয়েটি যা বলল তা এইরকম –' অনন্যার সাথে ছেলেটির স্কুল লাইফের প্রেম। কিন্তু ভাগ্য সহায় না হওয়ায় অনন্যা বাড়িতে বেকায়দায় ধরা পরে যায় এবং তারপর সাত তাড়াতাড়ি করে অনন্যার বিয়েও দিয়ে দেয়। এদিকে ছেলেটিকে বাড়ির কেউ তেমন চোখে দেখেনি। বা দেখে থাকলেও এতদিনে তা ভুলেও গেছে। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে সেই অভিক অর্থাৎ অনন্যার প্রেমিক, যে এখন ক্যাটারারিঙ্গের বিসনেস করে, তার কাছে গিয়ে পৌঁছোয় এই বিয়ের জল, ক্যাটারিঙ্গের দায়ীত্ব। ওদিকে অনন্যা বিয়ের দিন সকালে শ্বশুর বাড়ি থেকে আসে এবং দুপুর বেলায় তার বাচ্চা ছেলেটার জন্য খাওয়ার আনিয়ে দিতে বললে  ক্যাটারিং এর ওখান থেকে অভিক খাওয়ারটা নিয়ে আসে। অনন্যা তাকে দেখে ভয় পেয়ে যায় আর সে সবটাই বলে বোনকে। এদিকে অনন্যার বর কিছু সন্দেহ করতে পারে এই ভয়ে অনন্যা রাতে নিচে যখন সবাই বিয়ের ওখানে ব্যাস তখন চুপি চুপু ছাদে অভির সঙ্গে দেখা করে। সেই কথোপোকথনের কথাই উল্লেখ করেছে দাদার বন্ধু। তবে উপরে আদৌ কি কথা হয়েছিল তা সে জানে না। তবে অনন্যা নিছে নেমে আসার কিছু সময় পরে দিদিকে দেখে অভিকে একবার চমকাতে দেখেছে সে!'
'অভি অনন্যাকে দেখে ভূত দেখার মত চমকেছে? তারমানে তো বোঝাই যাচ্ছে, অভি কালপ্রিট' ভাবল মিতা। মিতা এও ভাবল, অভি কি তাহলে ছাদে অনন্যার থেকে টাকা পয়সা কিছু চেয়েছিল ব্লাকমেল করে?

...
'ভারতবর্ষে প্রথম টকি এসেছিল ১৯৩১ সালে। যদিও তার আগে হলিউড টকি ভারতে দেখানো হয়েছে ১৯২৮ এ। বাংলায় টকি এলেও তার সাউন্ড প্রবলেম নিয়ে গুনিদের মধ্যে অভিযোগ ছিল। এম্নন সময় এলেন বি.এন.সরকার। তাঁর নিউ থিয়েটারস বলতে গেলে সেই সময় বাংলার সিনেমার জগতে একচেটিয়া মার্কেট করে নিয়েছিল। তবুও যে সব ছোট খাটো কিছু ফিল্ম প্রোডাকশান তার ফাঁকে গজিয়ে উঠেছিল, তার মধ্যে এই ' বাকধারা পিকচারস' ও একটা'। একটানা এতটা বলে থামলেন সঞ্জয়বাবু। পুরোনো প্রোডাকশানের স্টিল, ভিডিও রোল, এছাড়া অন্যান্য নথি পত্তর নিয়ে বেশ ভাল রকমের ব্যাবসা ফেঁদে বসেছেন এই সঞ্জয় ভদ্দরলোক। অংশু চায়ে ছোট্ট চুমুক দিয়ে জিজ্ঞেস করল –'সেই সময় ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে যা দেখা গেছে আর কি... মানে ওই অগ্নিকান্ডে সিনেমার রিল নষ্ট হয়ে যাওয়া...'
-'উঁহু, এইখানেই গল্প। তখনকার দিনের বেশ নামকরা এক পরিচালকের চারটে ছবি রাজনৈতিক কারনে মুক্তি পেতে পারে নি। সময়টা তা ধরুন গিয়ে চল্লিশের গোড়ার দিককার কথা। কিন্তু সেই রিল পরে বিদেশ ঘুরে নিলেম হয়ে... অবশ্যই হিস্টরিকাল ভ্যালুর দিক থেকেই... সে জিনিস এখন আমার কাছে। এবার যাকে তাকে এসব জিনিস...'
-'আসল কথায় আসুন'।
-'হ্যাঁ, বলছি। গত মাসের এগারো তারিখে পারোমিতা বসু নামের একজন প্রোফেসর আমার কাছে এসেছিলেন এই ব্যাপারে। ওনার নাকি রিসার্চের কাজে লাগবে। তা কাগজ পত্রও কিসব যেন দেখিয়েছিলেন। তবে আমার বলে ন্যাজ্য দাম নিয়ে কথা, এর মধ্যে এক শাশালো খদ্দের এলেন। বেশি দাম দিতে রাজি। আমি তবুও একবার ওনাকে ফোন করেছিলাম কিন্তু পেলাম না। মহা ধন্দে পরে গেলাম। উনি এমনিতেও যে দিনে নেবেন বলেছিলেন সেদিন আসেননি। দিন পেরিয়ে গেছে। আমিও তাই সেই লোককে বেচে দিলাম জিনিস। তার পরে একদিন হঠাত করে সে মেয়ে এসে হাজির। আমি অগত্যা সেই ভদ্দরলোকের ঠিকানাই দিয়ে দিলাম ব্যাস! এইটুকুই। এর বেশি আমি জানি না'।
-সেই ভদ্রলোকের নাম?'
-'দাঁড়ান, দেখে বলতে হবে'। বলে সঞ্জয়বাবু মনিটরের দিকে চোখ রাখলেন।
                                        ৬
-খাওয়ার নিয়ে এসেছিস কিছু? গাড়ি চালাতে চালাতেই প্রশ্ন করে অংশু। মিতা পাশের সিটে বসে। জবাব দেয় –'ফোন করে বললি আর আনব না? কিন্তু তুই সকাল থেকে কিছু খাসনি কেন?'
-'আর খাওয়া? চারিদিকে দৌড়োদৌড়ি করতে করতেই তো সময় চলে গেল। বিলপত্তর, এক্সচেঞ্জ... তাও ভাগ্য ভাল পুরোনো বন্ধুর দেখা মিলেছে। নয়তো আজ আর সবটা পেতে হতনা।
মিতার চোখে মুখে উচ্ছাস। 'তারমানে তুই সল্ভ করে ফেলেছিস?'
'প্রোবাবলি'
-'তর প্রোবাবলি মানে হয়ে গেছে। বাবা জানে?'
-'কাকু কাল রাত থেকেই আমার থিওরিটা জানেন। আর আজ বিকেলে ফোন করে বলে দিয়েছি সবটা। নইলে যে সমস্যা হয়ে যাবে'।
-'সে তোর থিওরি তো আমিও জানি'।
-'তুই যেটা জানিস, সেটা অনুমান'।
-'মানে?'
-'সেদিন আমি কার ছবি দেখছিলাম? আর কিই বা খুঁজছিলাম?'
-'কেন, পারোমিতার...'
-'আরো একজন'।
-'অনন্যা'।
-'না। অনন্যার কেসটা ইম্পরটেন্ট, বাট মেন নয়'।
-'তাহলে?'
-'তাহলে, তাহলে আগে খাওয়ার দে। তুই স্টিয়ারিং ধর। আমি খাই, নয়তো ওখানে আর গল্প বলা হবে না'।

চারিদিকে সাজ সাজ রব। বরপক্ষের এখনো সবাই ব্যাপারতা জানে না। অংশু কৌশিকবাবুকে বললেন –'কাকু... বলছি, গোটা টা বলতে গেলে তো অনেক কথাই উঠবে। কিন্তু কাজটা তো এখানে না হলেই নয়'।
-'সে ব্যবস্থা আমি করে রেখেছি। পোরিতোষবাবুর বেয়াইয়ের সঙ্গে সব কথা হয়ে গেছে। ছাদের ঘরে ব্যাবস্থা হয়েছে। বলা হবে কনের মেকাপ হচ্ছে'।
-'আর...'
-'সব ব্যাবস্থা হয়ে গেছে। তোর কাছে শুধু প্রুফ আছে কিনা বল'।
-'সব আছে'।

ঘরটা বেশ বড়। ছাদের পাশের ঘর বলতে সাধারণত যেমনটা ভাবা হয় তা নয়। ঘরের একপাশে লাইট, ক্যামেরার স্ট্যান্ড ইত্যাদি ছবি তোলার আরো কিছু আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র নিয়ে ক্যামেরাম্যান নারাচারা করছে। ইনি সেই মেয়ের বাড়ির ক্যামেরাম্যান। ছেলের বাড়ির ক্যামেরাম্যান নিচে ইতিমধ্যেই ভিডিও শুরু করে দিয়েছেন সম্ভবত আর ইনি মেয়ের সাজার অপেক্ষ্যায়। অংশুদের ঢুকতে দেখে ঘর ছেরে দিচ্ছিলেন, কিন্তু কৌশিকবাবু বললেন –'থাক থাক আপনাকে উঠতে হবে না'। তারপর অংশু, পোরিতোষবাবু, মিতা, অনন্যা, অনন্যার বাবা-মা একে একে নিজেদের মত চেয়ার টেনে বসে গেলেন। ছেলের বাবাও উপস্থিত আছেন। অংশুই শুরু করল কথা। প্রথমেই ইষত গলা খাকরানি দিয়ে বলল –'প্রথমে কিন্তু অনন্যার মায়ের সাথেই কথা বলতে হচ্ছে'। অনন্যার মা অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করলেন অংশুর দিকে। অংশুর কোনো বিকার নেই। সে ঠান্ডা ভাবেই বলল –'আপনার মেয়ের বিয়ের আগে একটি ছেলেকে ভালোবাসতো আর তাই আপনারা মেয়েকে পুরো কলেজটা না পড়িয়েই সাত তাড়াতাড়ি বিয়ে দিয়ে দিলেন তাই তো!'
-'এসব...এসব কথা...'
-'চিন্তা করবেন না। আপনারা বাবা মা হয়ে অমানবিক কাজ করেছেন ঠিকই, মাপ করবেন ছোট মুখে বড় কথা, কিন্তু এটাই সত্যি। যাই হোক, আমি অতটা অমানবিক হতে পারলাম না, তাই ওর হাসবেন্ডকে এখানে উপস্থিত রাখিনি'। এই শেষ কথাটা শোনার পর আর কিছু বললেন না উনি। কেমন যেন মূষরে গেছে। শুধু বললেন, 'তার সঙ্গে...'
-'বলছি কি সম্পর্ক। তার আগে আপনি বলুন তো অনন্যা, আপনি পোরশু দিন রাতে ছাদের সঙ্গে ওই অভিক ছেলেটির সঙ্গে কথা বলছিলেন তাই না!'
-'হু'।
-'কি কথা হয়েছিল?'
-'এক রাশ অভিমান নিয়ে যা বলা যায়। তার উপর যখন দুপুর বেলা সেই আমার ছেলের জন্যে খাওয়ার এনে দিয়েছিল... তারপর আপনিই বলুন না কি কথা সে বলতে পারে?'
-'হুমকি? ব্ল্যাক্মেল?'
-'না না। এসব কি বলছেন? ও কখনোই এসব বলেনি। শুধু বাচ্চাদের মত আবদার করেছিল, আমি যেন সারারাত ছাদে দাঁড়িয়ে ওর সাথে গল্প করি। কিন্তু আমি শুনিনি। ছুটে চলে এসেছিলাম'।
-'আর আপনার ছুটে চলে আসাটাই এক গভীর ট্র্যাজেডিতে পরিনতি নিয়েছিল'।
-'মানে?'
-'বলছি। অভিক...!'
অভিক বুঝি এতক্ষন বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিল। সে ভিতরে আসতেই অংশু বলল –'আমায় যা যা বলেছ, সবাইকে তাই বল এবার। আমি যানি তুমি সত্যি বলছ। কারন তার পরের অংশটা আমার জানা'।
অভিক বলল –'সেদিন আমি ছাদে অনন্যার সাথে ছিলাম। তারপর অনন্যা ছুটে নিচে চলে যায়। কিছুক্ষন ওখানে দাঁড়িয়ে থেকে আমিও ছুটে যাই। তারপর সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে দেখি সিঁড়ির পাশ দিয়েই অনন্যা কোথায় যাচ্ছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে তার হাত ধরতে যাই। সে একটা দরজায় ঠেলা মেরে দরজাটা খোলে। আমি জানতাম না ওটা কিসের দড়জা। আমি অনন্যা ভেবে একদম ওর পিছনে গিয়ে হাতটা ধরে টানি আর সঙ্গে সঙ্গে ...বোধ হয় ঘটনার আকস্মিকতাতেই সে ভয় পেয়ে পা পিছলে নিচে পরে যায়। আমি ভিষন ভয় পেয়ে যাই। কিন্ত আশ্চর্য, দৌড়ে ওখান থেকে সরে এসে দেখি অনন্যা দিব্যি মন্ডপে! তখন বুঝি যে পরে গেছে, সে অনন্যার মতোই শাড়ি পরায় আর পিছন থেকে দেখতেও অনেকটা একই রকম হওয়ায় আমি ভুল করেচিলাম'।
'কিন্তু ও যে শোধ নিতেই আমার মেয়েকে ঠেলে ফেলে দেয়নি তার প্রমান কি?' অনন্যার মা বলেন। কিন্তু এবার অনন্যা ঘুরে দাঁড়ায়। সে বলে 'আমি অনেক প্রমান তমায় পরে দেব মা। আগে ওনার কথা শুনতে দাও'। তার গলায় স্পষ্ট ঝাঁঝ।
এর মধ্যে ক্যামেরাম্যান তার ক্যামেরা আর স্ট্যান্ড নিয়ে উঠে বলল –'আমি তাহলে চললাম। বর বোধ হয় রেডি'। কিন্তু তার বেরোতে যাওয়ার মুখে অংশু তাকে আটকাল।
-'এক মিনিট ... আপনার নামটা যেন কি?'
-'শুভাশিষ জানা'।
-'সিওর তো!'
-'কি অদ্ভুত প্রশ্ন?'
-'বেশ। আপনি ছবি তোলার সময় কোনো সহকারি সাথে রাখেন?'
-'রাখি। কেন?'
-'তিনি ছবি তোলেন?'
-'না।
-'লাইট ধরে'।
-'কিন্তু পোরশু দিন তিনি ছবি তুলেছিলেন। আর তার তোলা সে ছবিতে আপনাকে দেখা গেছে'।
-'তো?'
-'আরে তো মানে? সেখান থেকেই ত আপনার উপর সন্দেহ মশাই। ছবিতে দেখা গেছে আপনি সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাচ্ছেন। অল্প একটূ দেখা গেছে। কিন্তু আপনি যখন ছবি গুলো কোয়ারটারে দিতে এসেছিলেন, তখন যে আপনাকে দেখে ফেলেছিলাম!'
-'কি যা তা বলছেন?'
-'আপনি এই মাত্র বলেছেন আপনার নাম বলছেন। যদিও সে নাম অস্বিকার করার ক্ষমতা আপনার নেই। যেমনটা ক্ষমতা নেই এটা অস্বিকার করার যে, আপনার কোলকাতার শোভাবাজারে বাড়ি আছে!'
-'আমি ওই মেয়েটাকে খুন করেছি? কিন্তু কেন? আমি কি পাগোল? এমনি এমনি একটা মেয়েকে মেরে ফেলব?'
-এমনি এমনি তো নয়। আপনি গতবছর ১৩ই মে সঞ্জয় মিত্রর নিলামঘর থেকে 'বাকধারা পিকচারসের' যে ছবির রিল কিনেছিলেন অন্যান্য নথির সঙ্গে, সেই জিনিস তার একসপ্তাহ আগে বুক করে গিয়েছিলেন পারোমিতা। এবার আপনি সেই জিনিস বেশি দাম দিয়ে কিনে নিলে পারোমিতা আপনার কাছে যায় সেই রিলের ছবি আপনি যেন ওনাকে অন্তত পক্ষে দেখতে দেন কারন উনি এই বিষয়এ রিসার্চ করছেন। কিন্তু আপনি তাকে সেই জিনিস দেননি। অপেক্ষা করছিলেন অন্য কোন বড় পার্টির জন্য। এদিকে বেশ কিছুদিন আগে পারমিতা আপনাকে ফোন করে জানান যে উনি আপনার দু একটা খুচরো বেআইনি কার্যকলাপ সম্পর্কে অবহিত, তাই আপনার এতেই মঙ্গল- যদি রিল আপনি ওনাকে দিয়ে দেন'। শুভাশিষ কিছু একটা মৃদু প্রতিবাদ করতে যাচ্ছিল, অংশু বলল –'অস্বিকারের উপায় নেই। পারোমিতা মরেছে, ওর ফোন নয়। তারপর শুনুন। আপনি দেখলেন বাঁচার একটা পথ আছে, যদি আপনিও পারোমিতার কোনো উইক পয়েন্ট খুঁজে বার করতে পারেন! হঠাতই আপনার মেদিনীপুরের এজেন্সি থেকে অর্ডার এল। আপনিও নিজে ছবির কাজে এলেন, কোলকাতা থেকে পালিয়েই একরকম। ব্ল্যাকমেল কি জিনিস তাই না! যাই হোক, আপনি এখানে এসে দেখতে পেলেন পারোমিতাকে। তারপর দেখলেন এই বাড়ির পিছন দিকটা। ভেবেছিলেন ওখানে কায়দা করে ডেকে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলবেন। প্ল্যান মত গেলেনও। কিন্তু আপনি সময়ের আগে পৌঁছে গিয়েছিলেন বা পারোমিতা আপনার টোপ গিলে সেখানে যায়নি। অথচ আপনি নিরাস হয়ে ফিরে আসার আগেই উপর থেকে কি যেন একটা পরল। আপনি হাতে চাঁদ পেলেন। আপনার শিকার এরই মধ্যে অর্ধেক ক্ষত। ব্যাস! আপনিও দিলেন পাথর চাপা!' সবাই চুপ। অংশুই আবার বলল –'আপনি ঘটনাটা বিকৃত করতে চেয়েছিলেন ঠিকই... তবু সব কেমন ঘেঁটে গেল তাই না শুভাশিষবাবু!'

পরদিন সকালে আগে অংশু আর মিতা ফিরে আসে মিতার গাড়ি করে। মিতা অবশ্য একচোট ঝাল নিয়েছে অংশুর উপর, তাকে ছবির ব্যাপারটা ডিটেলে না বলার জন্য।


 ===================


অয়ন সাঁতরা
ফোন- ৯৮৩৬৬১৪০৮৪
ঠিকানা- ১৭সি, এ সি পাল স্ট্রিট। কোল-৫৭







বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং অফিসে ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

বর্ষার কবিতা ।। বিচিত্র কুমার

কয়েকটি বর্ষার কবিতা বিচিত্র কুমার (০১) শ্রাবণের আকাশ শ্রাবণের আকাশ, যেন অশ্রু লুকিয়ে রাখা দুটি চোখ; হাসির আড়ালেও যার ভেতরে বৃষ্টি জমে থাকে। কদমের গন্ধ, যেন শৈশবের ডাক; সময় যত দূরেই নিয়ে যাক, মন তাকে ভুলতে পারে না। ভেজা পথ, যেন জীবনের অসমাপ্ত অধ্যায়; প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন অর্থ লেখা হয়। যে স্মৃতিকে সম্মান করতে পারে, সে বর্তমানকেও সুন্দর করে বাঁচতে শেখে। (০২) ভেজা বিকেল বর্ষার বিকেল, যেন পুরোনো ছবির অ্যালবাম; প্রতিটি দৃশ্য ভুলে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনে। দূরের বাঁশবন, যেন অপেক্ষার দীর্ঘ ছায়া; সময় বাড়ে, অথচ আশার আলো নিভে না। পথের ছোট্ট জলধারা, যেন অবহেলিত স্বপ্ন; একদিন সেও নদীর সঙ্গে গিয়ে মিশে। ছোট বলে কোনো স্বপ্নকে অবহেলা কোরো না; সমুদ্রও একদিন একফোঁটা জল থেকেই শুরু হয়। (০৩) বৃষ্টির প্রদীপ বর্ষার রাত, যেন গভীর ধ্যানের একটি মন্দির; অন্ধকারও সেখানে আলোকে জন্ম দিতে শেখায়। বৃষ্টির ফোঁটা, যেন ছিন্ন স্বপ্নের মুক্তো; মাটিতে পড়েই তাদের প্রকৃত মূল্য প্রকাশ পায়। ভেজা জানালা, যেন মনের আয়না; অশ্রু মুছে গেলেও অনুভূতির দাগ থেকে যায়। ভাঙা স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়েই মানুষ নতুন আকাশ দেখতে ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত

 তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত নবপ্রভাতের   আহ্বান রাতের   শেষে   ফুটল   ভোর , সোনার   রঙে   রাঙে   ঘোর।   শিশির ভেজা   ঘাসের   বুকে , সূর্য   হাসে   মিষ্টি   মুখে। পাখিরা   গায়   নতুন   গান , জেগে   ওঠে   সারা   প্রাণ। নদীর   জলে   রোদের   নাচ , মেঘের   গায়ে   আলোর   আঁচ। ফুলের   ডালে   মধুর   গন্ধ , মনটা   ভরে   আনন্দ। হাওয়া   বয়ে   আনে   সুখ , মুছে   দেয়   সব   দুঃখ। নতুন   দিনের   নতুন   ডাকে , স্বপ্ন   জাগে   হৃদয়   ফাঁকে। চলার   পথে   আশা   সাথি , সাহস   থাকে   প্রতি   রাতে। পরিশ্রমে   ফুটুক   ফুল , ভেঙে   যাক   সব   ভুল। ভোরের   আলো   বলে   তাই , জীবন   জয়   করবই।   বৃষ্টির   সুরে   বাংলা কালো   মেঘে   ঢাকে   আকাশ , বৃষ্টি   নামে   উচ্ছ্বাস। কদম...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭