Skip to main content

'আইরিনদের চিলেকোঠায় বুলডোজার ভাঙছে জোছনা রং' # অমিতকুমার বিশ্বাস।। আলোচক-- পিয়ালী মজুমদার







গল্পগ্রন্থ- আইরিনদের চিলেকোঠায় বুলডোজার ভাঙছে জোছনা রং
লেখক- অমিতকুমার বিশ্বাস
প্রকাশক- অভিযান পাবলিশার্স













----------------------------------------------------------------------------------------------

দশটি ভিন্নধর্মী নিরীক্ষামূলক গল্পের সংকলন 


পিয়ালী মজুমদার 


নিতান্ত কাকতালীয় বলে কি কিছু হয়?
হয় বোধ হয়। যেমন আমার স্বেচ্ছা-নির্বাসনের পাশে ' আইরিন'।
ভাঙা আয়নায় মুখ দেখা যায় না, নতুন করে গড়েপিটে নিতে হয় তাকে। আর এই ভাঙা
গড়ার মাঝে প্রয়োজন হয় একটু বিরতির। বিরতির গায়ে বাষ্প জমে, ভাঙা- আমি (
পড়ুন আয়না) র ভেতর ওঁত পেতে থাকে নতুন করে হয়ে ওঠা আর না হয়ে উঠতে চাওয়া
চিৎকারগুলো.. তীব্র কথা-কাটাকাটির মধ্যেই চলতে থাকে খোঁজ.. খোঁজ এক
অত্যাশ্চর্য বিনির্মাণের, স্বতন্ত্র কথাকাজের.. আর ঠিক সেই সময়েই
অপ্রত্যাশিত উপহারের মতো ফ্রেমে ঢুকে পড়ে 'আইরিন'...চাহিদা এবং যোগানের
মাঝখানে ঝুলতে থাকা এক টালমাটাল সাঁকো সেলাই করতে করতে... ঢুকে পড়েন
অমিত। অমিতকুমার বিশ্বাস। নিঃশব্দেই। তার সহজাত খ্যাপামি, অননুকরণীয়
স্টাইল, তীব্র ছুরির ফলার মতো আক্রমণাত্মক অথচ ঝরঝরে গদ্যভাষায় বুনে তোলা
দশটি ভিন্নধর্মী নিরীক্ষামূলক গল্প নিয়ে.... যার পোশাকি নামই ' আইরিন'।
হ্যাঁ, ' আইরিনদের চিলেকোঠায় বুলডোজার ভাঙছে জোছনা- রং'।
আইরিন আমার কাছে আসলে এক জার্নি। আমার স্বেচ্ছা-নির্বাসনের ঘেরাটোপের
সমান্তরালে এক পায়ে চলা পথ। দীর্ঘ, আলো-আঁধারি শালবনের মধ্য দিয়ে।
পথপ্রদর্শক অমিত। তার হাতে ক্যামেরা। হাঁটতে হাঁটতে তিনি পথিককে নিয়ে
ফেলেন এক অনন্ত সর্ষেবনের ভিতর... বৃষ্টি নামে। অ্যাসিড বৃষ্টি। আসলে
তীরের ফলায় বিদ্ধ ক্ষতচিহ্ন শরীরে নিয়েও অনন্ত পুলকে সর্ষেবন পেরিয়ে
যাওয়ার নাম ' আইরিন'..। এই মনস্তাত্ত্বিক দোটানার ভেতর ছিটকে ওঠে
বুলডোজার ভাঙা আশা- নিরাশা, স্বপ্ন এবং স্বপ্নভঙ্গের মাটি.. তবু ফিকে হয়
না জোছনার ক্যানভাস.. চশমার কাচ মুছে আরো একবার সামনে তাকাই... চোখের
সামনে ক্যামেরার লেন্স মেলে ধরেন অমিত.. পাঠক লেখক আদান-প্রদানে একটু
একটু করে স্পষ্ট হয় সব।
ভেসে ওঠে এক চা-বাগান... দূরে.....
যেখানে প্রকৃতি ছবির মতো সুন্দর, অকৃপণ.. আর তার খাঁজে খোঁজে ঝুলে থাকা
অস্থিসার জীবন, আপাত-সরল কিংবা স্থূল যে নামেই ডাকা হোক না কেন, আসলে সে
মরীচিকা।
সেই সমান্তরাল যাপনের কথাই তুলে ধরেছেন অমিত প্রথম গল্প, ' কফিনের
অভ্রান্ত ডানা, গোডো আর লাল পিঁপড়ের গল্প' তে।
এই গল্প ভুবন, রফিক, আর জোসেফের। ভিনরাজ্যে ক্রমাগত নানারকম মানিয়ে
নেওয়ার পরীক্ষার মধ্যেই ধর্মভেদ, জাতিভেদ আর পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে
পারাটাও যে টিকে থাকার গল্পে খুব বড় পরীক্ষা, সেটা চোখে আঙুল দিয়ে
দেখিয়েছেন অমিত। এই গল্প আসলে বন্ধুত্ব, বিশ্বাস, বিশ্বাসহীনতার ট্রাপিজ
বেয়ে বিপজ্জনক খেলা খেলতে খেলতে পৌঁছে যাওয়া সেই চরম প্রশ্নের কাছে, '
ব্রুটাস, তুমিও? '
পাশাপাশি এই গল্প নিরীহ, বঞ্চিত, ব্যবহৃত অসম দেশি চা শ্রমিকদেরও, যারা
প্রয়োজনে পশু হয়ে উঠতেও দ্বিধা করে না। আসলে ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী
চিরকালই গদ্যময়, তা কবি অনেক আগেই বলে গিয়েছিলেন.. তাই আমাদের বুঝে নিতে
হয় সব ধারাবাহিকই আদি অনন্তকালের ধারা বহন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয় সময়ের
কাছে... লাল পিঁপড়েরাও একদিন সারি ভেঙ্গে ছত্রভঙ্গ হয়। হয়ত একদিন ফিরেও
আসে ছন্দে। কিন্তু সেই সাময়িক ছত্রভঙ্গে খানখান হয় মানুষ এবং
সম্পর্ক।একদিকে যেমন মুঠোর ভেতর জমে ওঠে মানবতা, অন্যদিকে মুঠো খুলে ঝরে
পড়ে অসহায় বন্ধুতা।
মানুষকে বড়ো নৈর্ব্যক্তিক ভঙ্গীতে তার লেখায় তুলে ধরেন অমিত।
প্রেডিক্টেবিলিটির সমস্ত ছক ভেঙে যে শেষপর্যন্ত একা এবং অন্তহীন।
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাকে দু চোখ খুলে দেখে যেতে হবে নরকের খুব নীচুতলার দৃশ্য।
একাত্তরের বধ্যভূমি থেকে দৌড়তে দৌড়তে, সীমান্ত পেরোতে পেরোতে, 'বাক্স
কাঁধে আইসক্রিম বিক্রি করা হাবাগোবা ছেলেটি' থেকে চুলে টেরি কাটা গগলস
পরা ভ্যানচালক ' গুরু' তে পরিবর্তিত হতে হতে, সমস্ত পড়ে যাওয়া থেকে উঠে
দাঁড়িয়ে আবার পড়ে যাওয়ার অলৌকিক বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে করতে যেমন দেখেছিল
পাঁচুগোপাল। মৃত মাছের মতো। ফ্যাকাশে দু চোখ মেলে.. এই পূতিগন্ধময়
পৃথিবীর ওপপর বিছিয়ে দেওয়া জ্যোৎস্নার শবদেহ..।
পাঁচুগোপাল। ওরফে গুরু। তাকে নিয়েই অমিতের দ্বিতীয় গল্প, ' জোছনার
শববাহকেরা ঘুমিয়ে পড়েছে'।
সমাজের নিচুতলার মানুষের গল্প বড়ো যত্নে, বড়ো মুন্সিয়ানার সঙ্গে বলেন
অমিত। গুরুর গল্পও বলেছেন। হয়ত আরো একটু বেশি যত্নে, অনেকখানি যন্ত্রণা
দিয়ে এঁকেছেন এই আধা কল্পনা, আধা বাস্তব চালচিত্র।
প্রান্তিক মানুষের জীবনে কোনো সিঁড়ি থাকে না... থাকে না ওড়বার মতো কোনো
আকাশ.. অমিতের ভাষায়, ' মিথ্যের রুপোলি জল চোখে ঝাপটা দিতে দিতে ঘুম
থেকে ওঠা মানুষগুলো মিথ্যের আলোছায়ার মধ্যেই নিজেকে হারাতে চায় কিছুক্ষণ।
আর একদিন ভুলে যায়, তারা সত্যিই হারিয়ে গেছে।' আর এই হারিয়ে যাওয়ার ভেতর
জীবন পাহারা দেয় দ্বিমুখী স্বপ্নের দরজাগুলি। যার একদিকে নিশ্চিন্তে ঘুম
কুড়োয় লাইনপাড়ের সুখ মুহূর্তরা, যেখানে ' সুর, জোছনা, অশ্রু- মিলেমিশে
একাকার'
অন্যদিকে, মৃত্যুর ছায়া ঘন হয়ে আসে ভুলে ভরা মস্তিষ্কে- প্রলাপের মতো
স্বপ্ন হাতড়ায় গুরু, ফুরিয়ে আসার মতো দুটো ডালভাত আর শুকতলার মতো দুটো
ঠোঁট কামড়ে ধরতে চায় ঝুলবারান্দায় নেমে আসা চাঁদের বিষাক্ত সংসার..
হিমশীতল জোৎস্নায় ভিজে যায় ভাঙা স্বপ্নের চৌকাঠ।
যেখানে ঘুম অনিবার্য সেখান থেকে ফেরার কোনো পথ থাকে না... এখানেও তেমন
কোনো পথ রাখেননি অমিত।
রেখেছেন কেবল বিষাদে ডুবে যাওয়ার মতো কয়টি অক্ষর...
" কে বেশি পাগল- কবি না কবিতা?
দরকার নেই সেই হিসেব নেবার
ঘুমোও বাউন্ডুলে, ঘুমোও এবার.... "

ঘুম ভাঙে আবার। অদৃশ্য এক খাঁচার ভেতর থেকে ঘুম ভেঙে ডানা ঝাপটায় আমাদের
যাবতীয় পাখিবোধ। তার ওপারে একটা ' মিসড কল'। তারও ওপারে একটা ' পজ'।
স্নায়ুতন্ত্র বেয়ে নেমে আসা অস্বস্তিরা যেখানে নৈঃশব্দের ভেতর লুকোতে চায়
অনভ্যস্ত ডানার অসাড়তা..
' এই 'পজ' খুব পরিচিত মনে হল। এ অবজ্ঞার, অস্বীকারের, হেরে যাওয়ার 'পজ'।
এই ছোট্ট ' পজ' ক্রমশ দীর্ঘ করছে কোনো এক অজানা শক্তি। বুকের বাঁদিকটা
ভীষণ ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। যেন হাফ ডজন গোল দিয়ে প্রতিপক্ষ মাঠের মাঝখানে
উদোম ফেলে চলে গেছে। মাথাটা ঝিম ঝিম করছে তার। মনে হয় মাথাটা খাঁচার
মধ্যে ঢুকে আছে, আর শরীরটা বাইরে। অথবা মাথার মধ্যে আটকে আছে মস্তবড়
খাঁচা, যার মধ্যে ছটফট করছে কয়েকশো রঙিন পাখি। '

এমনই অনুভূতির মুখোমুখি পাঠককে দাঁড় করায় উল্লাস। অমিতের তৃতীয় গল্প '
খাঁচামানুষ আর পাখিদের নৈসর্গিক উপপাদ্য' গল্পের মুখ্য চরিত্র উল্লাস।যে
আক্ষরিক অর্থেই খাঁচার মানুষ। মায়ের আশঙ্কা ও অতি সচেতনতা তাকে দীর্ঘদিন
বন্দী রেখেছিল দৃশ্যমান এক অতিকায় খাঁচার ভেতর। খাঁচা খুলে বেরিয়ে এসেও
তাকে ঘিরে রাখে অদৃশ্য সেই খাঁচাবেষ্টনী..কিংবা সে নিজেই যাপিত জীবন থেকে
পালাতে চেয়ে খুঁজে নেয় খাঁচার আশ্রয়।
ক্রমশ ভারি হয়ে আসা তার অতীতচারী ডানার একপাশে সীমাহীন নির্লিপ্তির মতো
মুখ গুঁজে পড়ে থাকে সময় ও সম্পর্ক।
স্ত্রী সুষমার সন্তান সম্ভাবনায় অসুখী, পিতার মৃত্যুতে উদাসীন উল্লাস
কিছুটা হলেও মনে করিয়ে দেয় ' আউটসাইডার' এর মিউরসল্টকে। অথচ তীব্র
জীবনবিমুখতা থেকে শুরু হওয়া এই গল্প শেষ পর্যন্ত উড়ানেরই আশ্বাস নিয়ে
আসে। উধাও হয় খাঁচা। জল পড়ে নতুন বীজ সম্ভাবনার শিকড়ে..। অজানা আনন্দে
দুলে ওঠে গল্পের ঘরবাড়ি। জটিল মনস্ত্বত্ত্ব এবং যাদু বাস্তবতার চমৎকার
মিশেলে অমিত আমাদের ধীরে ধীরে নিয়ে যান এমন এক উচ্চতায়, যেখানে অনেকখানি
চড়াই পেরিয়ে হঠাৎ পাওয়া একফালি সমতলভূমির স্বস্তি জীবনের অসমান ভাঁজগুলোর
ওপর টানটান চাদর পেতে দেয় যত্নসহকারে। ঠিক যেমন ফ্যানের একটানা ঘড়ঘড়
শব্দের মতো এবড়োখেবড়ো বোধ ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে, আরাম পায় মসৃন অনুভবী
শুশ্রূষায়।
এই গল্পের আর এক অন্যতম চরিত্র সুষমা, যে উল্লাসের মতো আত্মবিস্মৃত,
অগোছালো মানুষের বিপরীতে দাঁড়িয়ে টানটান তুলাদন্ডে ভারসাম্য রক্ষা করে
মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনে জীবনের গতি, তার চরিত্র চিত্রণে হয়ত লেখক আরো একটু
যত্নবান হতে পারতেন,পাঠক হিসেবে এমনটা মনে হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে।
বাকি যা কিছু মুগ্ধতা, অমিতের ভাষাতেই ব্যক্ত করা যাক,
" হাজার হাজার পাখিদের শরীর নিয়ে আজ স্বপ্নগাছে বসে আছে সুষমা। আর তার
হাত দুটো ডানা হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। ডানাদুটো মেলে দিল আকাশে। উড়ল। খুব। সেও
উড়তে চায়। তারও হাতদুটো ডানা হয়ে হয়ে গেল। ডানা ঝাপটাল। হ্যাঁ, হ্যাঁ, সে
পারছে.. পারছে..!
সে উড়তে লাগল খোলা আকাশে.. সুষমার পাশে..! আর তাদের ডানার প্রবল
ঝাপটানিতে ক্রমশ ভেঙেচুরে চুরমার হয়ে যাচ্ছে খাঁচার সমস্ত উপাখ্যান। "

উড়তে চেয়েছিল আরো একজন। সুদূরপ্রসারী আয়লার থেকে একটি ভাঙা ইস্কুলবাড়ির
দূরত্ব অতিক্রম করতে ঠিক যতটুকু উড়ান প্রয়োজন, তার চেয়ে সামান্যই কিছু
বেশি।একেবারে যে পারেনি তা নয়, কিন্তু একটি পুনর্নির্মাণের গল্পের
আশেপাশে যেমন ভাঙা টুকরোগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, সিলেবাসের বাইরের
এলেবেলে প্রশ্নপত্রের মতো.. তেমন করেই তার স্বপ্নের পালকগুলি ঠিকঠাক একটা
আকাশ পাওয়ার আগেই ডানা খসে ছড়িয়ে পড়েছিল বাস্তবের কঠিন জমিতে।
স্বামীপরিত্যক্তা, গ্রামের স্কুলের পুনর্জীবনদাত্রী হয়েও একটু স্থায়ী
পদের জন্য হাপিত্যেশ করে থাকা ময়নার অবিন্যস্ত পালকগুলি আলতো করে গুছিয়ে
দেওয়ার জন্য তবু একজন অপু ছিল। ছিল গোটা একটা কাশবন। ছিল বৃদ্ধ শ্বশুর
নাসের। আর ছিল ফুরিয়েও না ফুরোতে চাওয়া আশারা।
' তবুও প্রিয়জনহীন এই সংসারে মানুষ কেবল একটা তুলে রাখা লাঙলের মতো, যে
মরচে পড়া শরীরে চেয়ে থাকে পরবর্তী চাষের দিকে'
এইভাবেই ' নির্জন দুপুরে পুকুরের মতো ' মেয়েটিকে গভীর বিষাদ দিয়ে আঁকতে
চেয়েছেন অমিত তার ' ময়নাবিবি' গল্পে।
এই গল্পগ্রন্থের অন্যান্য গল্পগুলি নিয়ে যথেষ্ট পরীক্ষানিরীক্ষা করা হলেও
ময়নাবিবির গল্পটি মূলত আখ্যানধর্মী, আগাগোড়া একতারে বাঁধা।
সমান্তরাল ঢেউয়ের মতন, একদিকে যেমন গ্রাম্য রাজনীতি, সমাজব্যবস্থা ও
ময়নার প্রতি অবিচারের নগ্ন রূপটি সাধারণ কিছু শব্দ ও দৃশ্যের আঁচড়ে সহজ
আল্পনার মতো স্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে গোটা গল্পে একটু একটু করে, অন্যদিকে
ময়না আর স্কুলমাস্টার অপুর প্রগাঢ় সখ্যতায় ফুটে ওঠে চিরকালীন অপু-
দুর্গার কোলাজ।
আর কে না জানে, অপু দুর্গার গল্পে দুর্গারা জীবনে ফেরে না কোনোদিন..
ব্যর্থতার গহীনে ডুবতে ডুবতে হারিয়ে যায় চোখের জলে..
আর অপুরা জেগে থাকে, পাঠকের ভিজে আসা চোখের ভেতর, দেখে,
".. এক আবহমান মানুষ হেঁটে চলেছে সাঁকো বরাবর।
গোধূলির আলো এসে পড়েছে সেথা।
কেউ শাঁখ বাজায়। দূরে।"

অমিতের গল্পগুলি পড়তে পড়তে কেবলই মনে হচ্ছিল, যতই অমিত নিজেকে ' গল্পের
গেরিলা' বলতে পছন্দ করুন, অমিতের মূল সত্ত্বাটি আসলে নির্ভেজাল এক
কবিসত্ত্বা। কবিতার সুগভীর বোধ, চেতনা ও দর্শন গল্পগুলির কানায় কানায়।
তেমনই এক গল্প ' আগুন ও বরফের ছায়াছবি'। যার মুখ্য চরিত্র এক ইঁদুর.. যে
আদৌ বাস্তবে কোথাও নেই.. আছে তার স্যুররিয়াল ইমেজারি, পারিপার্শ্বিক
চরিত্রগুলির মননে এবং যাপনে। এই গল্পের ভেতর সরাসরি ঢোকার কোনো পথ
রাখেননি অমিত, রেখেছেন এক ঘোরানো সিঁড়ি, আর তার দুইপ্রান্তে এক পুরুষ ও
এক নারী। একজন ব্যর্থ প্রেমিক এবং অন্যজন নির্বিকার প্রাক্তন
প্রেমিকা।তাদের চরম বিপরীতমুখী দুটি সত্ত্বার ভেতর যত সাদা এবং কালো,
উচ্চাভিলাষ এবং ব্যর্থতা, স্বেচ্ছাচার এবং হতাশা.. সেইসব কিছুর মধ্যে
একমাত্র যোগসূত্র সেই ইঁদুর, ওঠানামা করে
এক বহুমাত্রিক সম্ভাবনা হয়ে। সে মনের অলিগলি বেয়ে ছুটে বেড়ায়, থামে,
জিরোয়, আবার ছোটে.. মনেরই গভীরে লুকিয়ে থাকার এক হন্তারক সত্ত্বা দ্বারা
নিহত হতে হতেও বেঁচে যায় বারবার, তারপর এক সময় নৈর্ব্যক্তিক দূরত্বে
গিয়ে ফিরে তাকায় জীবনেরই দিকে... অনির্বাণ.. অপরাজেয়.. অচঞ্চল।
পর্দার ওপারে দুলতে থাকে আগুন ও বরফের ছায়াশরীরেরা। নিঃশব্দে, পাশাপাশি..
জীবনক্যামেরা চলতে থাকে, চলতেই থাকে.....
চলতে চলতে ক্যামেরা ঘুরে যায় এক সন্ধ্যাঘেরা বারান্দার দিকে, এক শিশু
সেখানে সুর করে কী যেন আওড়াচ্ছে..
একটু কান পাতি.. শুনি..

" ভূত আমার পুত, পেত্নী আমার ঝি,
রাম- লক্ষ্মণ সঙ্গে আছে করবে আমার কি? "
সাথে সাথে ভূতেরা ছায়া হয়ে মিশে যেতে থাকে অন্ধকারে.. আভাস পায় পাঠক,
আভাস পায় নুনি.. চড়া আলোর নিচে চড়া প্রসাধন, সাপের ছোবল, সমস্ত হিসেব
বুঝে নিতে নিতে বুকের মধ্যে জাপটে ধরে সন্তান বিটুর অদৃশ্য মুখখানি..
মন্ত্রপূত তাবিজের মতো!
সেই কবে থেকে ভূতেদের তাড়া খাওয়া নুনি, রেলবস্তির আরশোলার মতো শরীর-মন
চেটে যাওয়া ক্ষত আগলানো নুনি.. একদিন খোলাবাজারে বেচে দেয় নিজেকে..
চারপাশে ভূতের নৃত্য আর তাকে ভয় দেখাতে পারে না.. ঢাকা শরীরের অন্ধকার
চেটে খাওয়া ভূতগুলো এখন নিজেরাই উদোম। বে- আব্রু ভগবানও। তাদের যা কিছু
বাড়বাড়ন্ত, সাময়িক স্তব্ধতায় মুখ গুঁজে দেয় ওই সন্ধ্যাঘেরা বারান্দায়..
মুখোশগুলো অর্বাচীন হয়ে পড়ে থাকে.. শিশুর নির্ভীক উচ্চারণে হাওয়ায় মিলিয়ে
যায় ভয়ের সাতকাহন।
' ভূত, ভগবান এবং ' গল্পের এই ভূত এবং ভগবানেরা চিরকালই ছিল আমাদের
আশেপাশে.. ছিল নুনিও..আছে। আরো কত নুনি এঁটো শরীর নিয়ে হারিয়ে গেছে
ভূতেদের জলসায়, তার হিসাব নাই বা করলাম এখন। বরং এই মুহূর্তে আমাদের
থাকুক এক ঘুমের মতো শৈশবে ফেরার রাস্তা.. অমিত যেভাবে বলেছেন.. সুর করে,
সমবেতভাবে, হাতে হাত রাখার আশ্বাসে..
' ভূত আমার পুত, পেত্নী আমার..... '
অমিতের পরবর্তী গল্প ' অন্ধভূমি সিন্ধুভূমি'। অন্যান্য গল্পের মতো অমিতের
এই গল্পটিও বাস্তবের তেতে ওঠা মাটিতে দাঁড়িয়ে নিজেকে আগাপাশতলা ঝালিয়ে
নেওয়ার স্পেস তৈরি করে দেয়.. পাশাপাশি একধরণের জার্নির কথাও বলে। এই
জার্নি স্কুলটিচার নন্দিতার স্বতন্ত্র চলার মধ্যে ঢুকে পড়া পারিপার্শ্বিক
বৃহত্তর জার্নি। আমরা প্রত্যেকেই নিজেদেরই অজান্তে নিজস্ব আনন্দ, হতাশা,
প্রাপ্তি, বিরক্তির অংশীদার করে নিই দৈনন্দিন বহমান জীবনপ্রবাহকে ।
সমান্তরাল রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক অচলাবস্থাও সূক্ষ্মভাবে প্রভাবিত করে,
বিক্ষিপ্ত করে চলে আমাদের এই বহমানতাকে। একটা বড় ঝড়কে ঠেকাতে আমরা প্রতি
মুহূর্তে ছোট ছোট ঝড়ের কাছে মাথা নিচু করি, আবার উঠে দাঁড়াই.. আবার নিচু
হই এবং এভাবেই আমাদের জীবন প্রতিনিয়ত এক একটি নিজস্ব যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে
ওঠে, জেতাহারার এই গল্পে
আমাদের প্রতিপক্ষ আমরাই.. যে যার মতো অস্ত্র শানাতে ব্যস্ত। হয়তো এমনটাই
বলতে চেয়েছেন অমিত রূপকধর্মী এই গল্পে, যার শেষ লাইনগুলি বিশেষ
ইঙ্গিতপূর্ণ..
" আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি প্রস্তুত। এবারে কেউ
কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছেড়ে দেবে না। প্রয়োজনে সংঘর্ষে যেতে রাজি সব দল'।
টিভিতে একটা বিস্ফোরণের ফুটেজ ভেসে উঠল।

এদিকে
নন্দিতার মুঠোর মধ্যে রিমোট..
মুঠোটা ক্রমশ শক্ত হচ্ছে.. "

কারণ সন্তানের অধিকার ছেড়ে দেবে না সেও। প্রয়োজনে সংঘর্ষে যাবে।প্রতিপক্ষ
স্বামী অরিন্দম। এভাবেই বড় ফ্রেমের ভেতর নিজস্ব চাওয়া পাওয়া নিয়ে
প্রতিনিয়ত ঢুকে পড়ছে আমাদের একান্ত ব্যক্তিগত ফ্রেমগুলি..। যুদ্ধ বাইরে।
এবং ভেতরেও।
যুদ্ধ বুবুনও করেছিল। সত্যি নয়, যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। রবার্ট এন্ড দ্য
ডেভিলস। আর প্রিয় এই খেলাটা খেলতে খেলতেই কীভাবে যেন সত্যি সত্যি একটা
যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি করে ফেলেছিল নিজের চারপাশে তা নিজেও বুঝতে পারেনি।
যেমন বুঝতে পারেনি তার বাবা-মা। অভি ও মোনালিসা।
নিজেদের রোজকার যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার আড়ালে যে একজন প্রতিপক্ষ যোদ্ধা নিজেকে
গড়ে তুলছে ধীরে ধীরে, একদিন সমস্ত হিসেব সুদ- আসল মিটিয়ে নেবে বলে, সে
তথ্য অজানাই রয়ে গেছিল তাদের কাছে।
যেমন আর পাঁচজন শহুরে শিশু প্রায় অচেনায় বেড়ে ওঠে বাবা- মায়ের থেকেও না
থাকার মাঝে, তেমন বুবুনও।
শিশু মনস্তত্ত্ব খুব ভালো বোঝেন সংবেদনশীল গল্পকার অমিত, কারণ তিনি কেবল
এক সুগভীর জীবনদ্রষ্টাই নন, একজন স্কুলশিক্ষকও। ' বুবুন ঘরে ঢুকছে' গল্পে
বুবুনের মনের ওপর তিনি আলো ফেলেছেন বিভিন্ন দিক থেকে...
বুবুনের বেড়ে ওঠা তার কাছে যেন এক বনসাইয়ের বেড়ে ওঠা..
' ঐশ্বর্যে, আভিজাত্যে, ফসলী মাটির স্তন ছাড়া, সুবিশাল আকাশ ছাড়া,
পাখিদের উল্লাস ছাড়া, বৃষ্টির প্রেম ছাড়া।'
আর এই পক্ষাঘাতগ্রস্ত, দিশাহীন, ভালোবাসাহীন জীবনে ধীরে ধীরে জায়গা করে
নেয়, নেশা। ভিখারি ছেলের শুঁকতে দেওয়া আঠার টিউব আর একটা ভিডিও গেম।
রবার্ট এন্ড দ্য ডেভিলস।
তারপর একদিন ছুটে যায় সব ঘোর , পর্দা ফুঁড়ে মাটিতে নেমে আসে রবার্ট..
নাকি বুবুন! ঢুকে পড়ে সাজিয়ে তোলা ঘরে। তার মুখোমুখি দুই ডেভিল..
যুদ্ধশেষ!
মস্তিষ্কের কোষে কোষে এক অজানা ভয় ছড়িয়ে বুবুনের গল্প শেষ করেন অমিত।
সত্যি শেষ? নাকি শুরু!

ক্যামেরা এবার একটু বিশ্রাম চায়। আবার একটু 'পজ'। আর সেই সুযোগে ফ্রেমের
বাইরে ঘুরতে বেরোন গল্পকার। সেখানে গল্প তার পিছু তো ছাড়েই না, উলটে
গল্পের গোরু আকাশে ওড়ার বাসনায় ছুটতে থাকে এক অপরিকল্পিত রাস্তা বরাবর..
ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চরিত্রগুলি কুড়িয়ে এনে অসংখ্য কোলাজ বানায়।
রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত কোলাজ.. সমকালীন সমাজ, অবক্ষয়, মৃত্যু, প্রতারণা,
ব্যভিচারের কোলাজ.. তীরের ফলার মতো ক্ষোভ আর তীব্র ব্যঙ্গাত্মক শ্লেষ
দিয়ে তৈরি আমাদের মুখ ও মুখোশের কোলাজ... যার নাম ' গল্পের গরু আকাশে
উড়তে চেয়েছিল'।
যেখানে কোনো এক অমনকে ফেলে কোনো এক শ্রীলা পাড়ি জমায় দূরদেশে, যেখানে
রাস্তার মাঝখানে শুরু হয় প্রকাশ্য চুম্বন উৎসব, আর কোনো এক অন্ধকার
ব্যালকনি থেকে শ্রীলার থেকেও দূরে কোনো এক অজানা দেশে উড়ে যাওয়ার
প্রস্তুতি নেয় এক ফেসবুক মেয়ে, অন্য দিকে আরো দুই মেয়ে পরীক্ষার ফাঁকে
ফাঁকে বুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখা মোবাইল নামক পরিত্রাতার শরণাপন্ন হয়.. আর
শেষমেশ অমন নামক সমাজবিরোধীর গুলিতে খুলি ছিটকে যায় অলিখিত অজানা
শত্রুর..
ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে উঠে এসে সিধু পাগলের মৃতদেহের নিচে জড়ো
হওয়া এইসব কোলাজ, বৃত্তাকারে ঘুরতে থাকা দৃশ্য গুলিকে পাঠকের মাথায় পেরেক
দিয়ে গেঁথে দেন অমিত.. ক্যাপশন দেন ' ইয়ে মেরা ইন্ডিয়া, আই লভ মাই
ইন্ডিয়া'।
যন্ত্রণা শুরু হয়.. সাক্ষী থাকে এক রক্তমাখা মূর্তি, মহাদেব পাগল আর
বৃদ্ধ শিল্পীর ক্যানভাস জুড়ে উড়তে থাকা কাকেদের বিষ্ঠা।
ক্রমশ ঝিমিয়ে পড়া এক শহর পাঠকের বুকের ভিতর ডানা গুটোয়.. অন্ধকারে।

আইরিন নামক জার্নিও প্রায় শেষ হয়ে আসে। আমরা হরিপদর মুখোমুখি হই। এই
হরিপদ কে তা স্পষ্ট করে বলেন না অমিত। কিন্তু তার বিশেষ গুণ সম্পর্কে
আমরা খুব স্পষ্টভাবে জানতে পারি, হরিপদর একটাই গুণ ছিল' গল্পটির
মাধ্যমে। আইরিনের শেষ, স্যাটায়ারধর্মী এই গল্পে অমিত বিঁধিয়ে বিঁধিয়ে
একহাত নিয়েছেন সেইসব মহান শিক্ষককুলকে, যারা টিউশনিকেই জীবনের
ধ্যানজ্ঞানব্রত হিসেবে নিয়েছেন। নিজে স্কুলশিক্ষক হয়েও সমপেশার এই
দুর্নীতিকে নির্ভীকভাবে আক্রমণ করার জন্য অমিতকে সাধুবাদ না জানিয়ে পারছি
না।
একটি মানুষ, যার মূল্যবোধ পুরোটাই ঝাঁঝরা, জীবনযাপন নর্দমার পোকার থেকেও
ঘৃণ্য, গল্পের শেষ পর্বে এসে সে হঠাৎই বদলে যায় কিংবা যেতে চায়।
হয়ত অন্যায় করতে করতেও একসময় ক্লান্ত হয় মানুষ, ভাবে অনেক হয়েছে, আর নয়।
কিন্তু এখানে সেই ভাবনার পেছনে কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখাননি অমিত।
এইটুকু সাযুজ্যের অভাব চোখে পড়েছে গল্পে।
বাকি সবটুকুই নিপুণ দক্ষতায়, পাঠকের সামনে স্তরে স্তরে মেলে ধরেছেন অমিত..
যাবতীয় অপরাধের ভার নিতে নিতে থমকে যাওয়া পাঠকমনকে একটু রিলিফ দিয়েছেন
স্বভাবসিদ্ধ আশাবাদী ভঙ্গিমায়।
হরিপদর সাথে সাথে তাই পাঠকও ক্রমশ ভারহীন হয়েছেন, পাপমুক্তির হাসি তাদের
চোখে নিশ্চিন্ত ঘুমের রেশ রেখে মিলিয়ে গিয়েছে মহাশূন্যে....

অমিত এই সময়ের এক সার্থক গল্পকার, মূলধারার বাইরে গিয়ে তার গল্পবলায় পাঠক
একেবারে নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। ছোট ছোট বাক্য, অভিনব ও তীক্ষ্ণ
শব্দ এবং ভাষার ব্যবহার, গল্পের বক্তব্যকে সরাসরি পাঠকের সামনে উপস্থিত
না করে, তাদের নানা রূপকের মাধ্যমে, ঘটনাপ্রবাহের উৎসে নিয়ে ফেলা এবং
গভীরভাবে ভাবতে বাধ্য করা.. অমিতের স্বাতন্ত্র্য এইখানেই।
রাগী, আক্রমণাত্মক এবং নির্ভীক গল্পকার হিসেবেই পাঠক মনে রাখবেন বাস্তবে
মিতভাষী, লাজুক অমিতকুমারকে। তার মনক্যামেরা চলতে থাকুক.. আরো এক
সুদীর্ঘ ভ্রমণপথের খোঁজে। অপেক্ষায় রইলাম এক অন্যতর আইরিনের।



আলোচক-- পিয়ালী মজুমদার
চলভাষ: ৯৯০৩৪৯০২৮৭

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং অফিসে ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

বর্ষার কবিতা ।। বিচিত্র কুমার

কয়েকটি বর্ষার কবিতা বিচিত্র কুমার (০১) শ্রাবণের আকাশ শ্রাবণের আকাশ, যেন অশ্রু লুকিয়ে রাখা দুটি চোখ; হাসির আড়ালেও যার ভেতরে বৃষ্টি জমে থাকে। কদমের গন্ধ, যেন শৈশবের ডাক; সময় যত দূরেই নিয়ে যাক, মন তাকে ভুলতে পারে না। ভেজা পথ, যেন জীবনের অসমাপ্ত অধ্যায়; প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন অর্থ লেখা হয়। যে স্মৃতিকে সম্মান করতে পারে, সে বর্তমানকেও সুন্দর করে বাঁচতে শেখে। (০২) ভেজা বিকেল বর্ষার বিকেল, যেন পুরোনো ছবির অ্যালবাম; প্রতিটি দৃশ্য ভুলে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনে। দূরের বাঁশবন, যেন অপেক্ষার দীর্ঘ ছায়া; সময় বাড়ে, অথচ আশার আলো নিভে না। পথের ছোট্ট জলধারা, যেন অবহেলিত স্বপ্ন; একদিন সেও নদীর সঙ্গে গিয়ে মিশে। ছোট বলে কোনো স্বপ্নকে অবহেলা কোরো না; সমুদ্রও একদিন একফোঁটা জল থেকেই শুরু হয়। (০৩) বৃষ্টির প্রদীপ বর্ষার রাত, যেন গভীর ধ্যানের একটি মন্দির; অন্ধকারও সেখানে আলোকে জন্ম দিতে শেখায়। বৃষ্টির ফোঁটা, যেন ছিন্ন স্বপ্নের মুক্তো; মাটিতে পড়েই তাদের প্রকৃত মূল্য প্রকাশ পায়। ভেজা জানালা, যেন মনের আয়না; অশ্রু মুছে গেলেও অনুভূতির দাগ থেকে যায়। ভাঙা স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়েই মানুষ নতুন আকাশ দেখতে ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত

 তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত নবপ্রভাতের   আহ্বান রাতের   শেষে   ফুটল   ভোর , সোনার   রঙে   রাঙে   ঘোর।   শিশির ভেজা   ঘাসের   বুকে , সূর্য   হাসে   মিষ্টি   মুখে। পাখিরা   গায়   নতুন   গান , জেগে   ওঠে   সারা   প্রাণ। নদীর   জলে   রোদের   নাচ , মেঘের   গায়ে   আলোর   আঁচ। ফুলের   ডালে   মধুর   গন্ধ , মনটা   ভরে   আনন্দ। হাওয়া   বয়ে   আনে   সুখ , মুছে   দেয়   সব   দুঃখ। নতুন   দিনের   নতুন   ডাকে , স্বপ্ন   জাগে   হৃদয়   ফাঁকে। চলার   পথে   আশা   সাথি , সাহস   থাকে   প্রতি   রাতে। পরিশ্রমে   ফুটুক   ফুল , ভেঙে   যাক   সব   ভুল। ভোরের   আলো   বলে   তাই , জীবন   জয়   করবই।   বৃষ্টির   সুরে   বাংলা কালো   মেঘে   ঢাকে   আকাশ , বৃষ্টি   নামে   উচ্ছ্বাস। কদম...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭