Skip to main content

সন্তোষকুমার দত্তের লোকসংস্কৃতি সংক্রান্ত লেখাজোখা --- অরবিন্দ পুরকাইত

সন্তোষকুমার দত্তের লোকসংস্কৃতি সংক্রান্ত লেখাজোখা

--অরবিন্দ পুরকাইত




কত যে গ্রামশস্যে সমৃদ্ধ শহরের ভাঁড়ার! যুগে যুগে গ্রাম থেকে আসা মানুষ
শহরকে সমৃদ্ধ করেছে তাদের শ্রম দিয়ে সৃষ্টিশীলতা দিয়ে। আদতে শহর কোনও
বিচ্ছিন্ন সীমায়িত ক্ষেত্র নয়, তার পটভূমি-পশ্চাদ্‌ভূমি হয়ে বরাবর পড়ে
থাকে চিরকালের গ্রাম।
সন্তোষকুমার দত্ত (১৬-০৬-১৯৩০ – ২৮-০৫-২০১৭) সে কথা স্মরণ করেছেন তাঁর এক
নিবন্ধে১ যেখানে তিনি বলেছেন, 'তৈরী-করা শহর আর হয়ে-ওঠা গ্রামের পার্থক্য
অনেকখানি, যেমন শহর কলকাতার সঙ্গে বারুইপুরের গ্রামীণ সংস্কৃতির বনিয়াদ
তৈরি হয়েছে গ্রামের মানুষের প্রাণরসে, আর শহরের সংস্কৃতির নেপথ্যে গ্রাম
থেকে শহরে গিয়ে বসবাস করা মানুষের অবদান।' দুটি দৃষ্টান্তও দিয়েছেন।
রামমোহন আর বিদ্যাসাগর। নিজে গ্রামের সন্তান বলে এটি আরও নিবীড় করে
বুঝেছিলেন তিনি। সাতচল্লিশ বছর বয়সে – যাকে বলে, প্রৌঢ়াবস্থায় – মগরাহাট
থানার নিজ গ্রাম গোকর্ণী থেকে শহরতলি বারুইপুরবাসী হন তিনি। অনেক আগে তিন
বছরের ব্যবধানে তাঁর একটি গল্পের বই (চেনা মুখ অচেনা মন, ১৯৬১) ও একটি
উপন্যাস (দ্বিধারা, ১৯৬৪) বেরিয়ে গেছে। ঘটনাচক্রে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ায়
তাঁর লেখাজোখার জগৎ প্রায় নগণ্য হয়ে যায়। শহরতলিতে আসার পর পুনরায়
ফলপ্রসূ হয়ে উঠতে থাকে তাঁর সৃজনশীলতার জগৎ - মূলত প্রবন্ধক্ষেত্রে। একে
একে প্রকাশিত হয় প্রবাহের বিপক্ষে (১৯৮৬), উজানপথে রামমোহন সমীক্ষা
(১৯৯১), বিভূতিভূষণ : স্বকাল ও একাল (১৯৯৩), প্রসঙ্গ : বিবেকানন্দ বিদূষণ
(১৯৯৩), তারাশঙ্করের সাহিত্য ও গান (১৯৯৭), নিঃসঙ্গ পথিক মোহিতলাল
(২০০০), সাহিত্য ও অন্যান্য ভাবনা-র তিনটি খণ্ড (২০০৪, ২০০৬ ও ২০১১),
সাম্প্রতিক বাংলা উপন্যাসের আট কথাশিল্পী (২০০৯), তিন রাজার রাজত্বে
(২০১৪)। একটি পত্রিকার (দেবযান, ১৯৮৩) সম্পাদনা বরাবর প্রধান সহায়ক হয়ে
থাকে তাঁর সেই সৃজনকর্মে। প্রসঙ্গত, সাহিত্য সৃষ্টিতে বারুইপুরের
ইতিবৃত্ত রচনাও সহজ নয় বলেছেন তিনি, কেন-না 'যে সংস্কৃতি মাটির সঙ্গে
ওতপ্রোতভাবে বিজড়িত, তাকে মাটি থেকে তুলে আলাদা করে দেখানো কঠিন'।
তাঁর মা বলতেন, তপ করো জপ করো মরতে জানলে হয়। তাঁর গ্রামেরই জাতক বর্তমান
নিবন্ধকারও আরও বহু বহু প্রবাদ-প্রবচনের মধ্যে এই প্রবাদটিও বহুবার
শুনেছে তার মা-দিদিমা-জেঠিমার মুখে। গ্রামের বিশেষত মহিলাদের মধ্যে
এগুলির নিঃসরণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। তাঁর আত্মস্মৃতি আয়নার সামনে-তে (১৪১৮)
আলাদা করে মায়ের প্রবাদ-প্রবচন প্রয়োগের কথা নেই। কিন্তু সম্ভবত এমন
একাধিক প্রবাদ-প্রবচন তাঁর মুখে উচ্চারিত হত। এই জেলায় প্রচলিত বেশ কিছু
প্রবাদ-প্রবচন জানা ছিল সন্তোষকুমারের। তাঁর লোকসংস্কৃতি ও স্বনির্বাচিত
বাংলা কথাসাহিত্য (২০০৭) পুস্তকের সূচনাপর্বে যে-সব প্রবাদ এসেছে তার বেশ
কিছুটা অংশই নিজস্ব – বোঝাই যায় গ্রামের মানুষ হিসাবে মা-ঠাকুমা-দিদিমা
বা পাড়া-প্রতিবেশীদের মুখে মুখে ফেরা থেকে যা সহজ অর্জন।
গ্রামের সন্তান হিসাবে গ্রামীণ সংস্কৃতি তাঁর অপরিচিত ছিল না। তবে সেই
পরিচয় অবাধ হতে পারেনি বালক সন্তোষের। 'গ্রীষ্মকালে যাত্রা-পুতুলনাচ
প্রায়ই হত। পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু হয়ে প্রাক্‌-বর্ষা পর্যন্ত গ্রামের
বিভিন্ন স্থানে এগুলি লোকরঞ্জন করত। গ্রীষ্মকালে সন্ধ্যায় ঝড়-বৃষ্টি হলে
পরদিন ভোর থেকে বেলা পর্যন্ত পুতুল নাচ হত। তাতেও দর্শকদের উৎসাহের অন্ত
ছিল না।' – লিখেছিলেন তিনি স্মৃতিচারণামূলক এক রচনায়।২ নিজ গ্রাম বা
বিশেষত পার্শ্ববর্তী ঘনশ্যামপুর গ্রামে হওয়া যাত্রা-পুতুলনাচ দেখতে
যাওয়ার স্বাধীনতা তাঁর ছিল না। 'তখন আমি ছিলাম ক্ষুদ্র, দরিদ্র পরিবারের
শাসন-শৃঙ্খলায় বাঁধা ভীরু পল্লীবালক। বিনা অনুমতিতে কোথাও যাবার অধিকার
ছিল না – এমনকি যাত্রা-পুতুলনাচেও।'৩ অথচ সেই বালক-হৃদয় কতখানি আকুল ছিল
এ-সবের জন্যে তার পরিচয় পাওয়া যায় পার্শ্ববর্তী বোস পাড়ায় দুর্গাপূজার
নবমীর দিন যে নাটক হত তা নিয়ে তাঁর সেই অদ্ভুত উন্মাদনার কথা জেনে। বঙ্গে
বর্গী, গৈরিক পতাকা, সিরাজদ্দৌলা – প্রতি বছর নতুন নতুন পালা। তাঁদের
পাড়ার রাস্তা দিয়ে গরুর গাড়িতে যেত মঞ্চের সাজ-সরঞ্জাম, বাক্স-ভরা
সাজপোশাক। সেদিন সেই বালকের খেতে-বসতে মন লাগত না, ভালো লাগত না
সঙ্গীসাথীদের সঙ্গে মিশতে। কতবার যে বোসপাড়ায় যেতেন সেদিন! 'বড় বড়
সুপুরিগাছ আর বাঁশ দিয়ে স্টেজ বাঁধা হচ্ছে; ওপরে তক্তপোশ পাতা। পাড়ার
লোকজন কাজে ব্যস্ত, - আর একপাশে আমি অবাক চোখে চেয়ে। মনে হত দিনের বেলায়
এই জায়গাটা রাতের আলোয় অমন অপরূপ হয়ে ওঠে কেমন করে!'৪ বাবা-মা ঘুমোতে
বলতেন, না হলে থিয়েটার দেখতে পাবে না ছেলে। বালিশে মুখ গুঁজে পড়ে থাকতেন,
ঘুমোবে কে! 'সেদিন এই বালকের প্রাণে বেজে উঠতো বাঁশি যা ঘুম ভাঙায়, ঘুম
পাড়াতে জানে না। সেই বাঁশির সুরে থাকত ঘর থেকে বাইরে বের হবার ইঙ্গিত, শত
শত মানুষের মাঝখানে বসার আহ্বান। কত রাজ্যের ভাঙা-গড়ার কাহিনী! কত জাতির
উত্থান-পতনের ইতিহাস। ঘুম আসবে কেমন করে! বুকে হাতুড়ি পেটার শব্দ শুনতে
পাই।'৫ অবশেষে আসত সেই আকাঙ্ক্ষিত সময়, 'আনন্দে আর উত্তেজনায় হৃদপিণ্ড
লাফাতে থাকতো'। থিয়েটার শুরুর আগে কনসার্ট বাজত – হারমোনিয়াম, জলতরঙ্গ,
ক্লারিওনেট। 'প্রাণের প্রতিটি অণুকে জাগিয়ে, সমস্ত মনকে দোলা দিয়ে বেজে
উঠতো' ক্লারিওনেট নামক সেই সুরযন্ত্রটি। একসময় ড্রপসিন উঠে শুরু হত
থিয়েটার। লিখেছেন সন্তোষকুমার, 'সেদিন সেই বালক হৃদয়ে এমন একটা অনুভূতির
সঞ্চার হতো – যাতে মনে হতো আমিও যেন এই ঘরছাড়াদের একজন। ওদের সঙ্গে আমার
জন্মজন্মান্তরের পরিচয়। ... চোখে লেগেছিল স্বপ্ন-কল্পনার যে মোহাঞ্জন,
মনের কোণে অঙ্কুরিত হয়েছিল যে আশার বীজ, তা এক নতুন দিগন্তের সন্ধান
দিয়েছে।'৬
লোকসংস্কৃতিমূলক লেখাজোখা তুলনায় অপ্রতুল তাঁর। লোকসংস্কৃতি সংক্রান্ত
তাঁর লেখাজোখার এক এবং একমাত্র প্রধান কাজ আমাদের আলোচ্য পূর্বোক্ত
লোকসংস্কৃতি ও স্বনির্বাচিত বাংলা কথাসাহিত্য গ্রন্থটি। লোকসংস্কৃতি
সংক্রান্ত দু-একটি সভায় উপস্থিত থাকতে থাকতে, এমনই এক সভায় দু-চার কথা
বলার পর উদ্যোক্তাদের মধ্যে এক সম্পাদক তাঁর পত্রিকায় এ-বিষয়ে কিছু লেখার
অনুরোধ জানান এবং তা লিখতে গিয়ে তাঁর মনে হয়, 'লোকসংস্কৃতি বাংলা
কথাসাহিত্যে কিভাবে প্রতিফলিত হয়েছে - তা নিয়ে সম্ভবত তেমনভাবে আলোচনা
হয়নি।' তখনকার মতো সাধারণ ভাবে প্রবন্ধটি লিখে পাঠান এবং প্রায় সঙ্গে
সঙ্গে নিজের চিন্তামতো কাজ শুরু করেন, যার ফল উক্ত গ্রন্থ।
সাতাত্তর বছর বয়সে প্রকাশিত বইটিতে রয়েছে তাঁর আন্তরিকতা, শ্রম আর
বহুপাঠিতার প্রমাণ। তাঁর মনে সংশয় দেখা দিয়েছিল যে ওইরকম কাজ আগেই কেউ
করেছেন কি না। কিন্তু আমাদেরও মনে হয় বিক্ষিপ্ত ভাবে কোনও কোনও
প্রবন্ধ-নিবন্ধে বা কোনও সাহিত্যিকের উপর লিখিত পুস্তকে বা কোনও
সাহিত্যিককে নিয়ে কোনও পত্রিকার বিশেষ সংখ্যাতেই এমন এক-আধটা লেখা
প্রকাশিত হয় সচরাচর। ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরের
দুলাল (১৮৫৮) দিয়ে শুরু করে বেশ কয়েকজন সাহিত্যিক হয়ে, লোকসংস্কৃতির
প্রকাশের পরিচয় পেয়ে দেশ-পত্রে তখনও-ধারাবাহিক তিলোত্তমা মজুমদারের
রাজপাট-এর কয়েক কিস্তির উপর আলোচনা – এমনটি কেউ একই পুস্তকে করেছেন বলে
আমাদেরও জানা নেই।
তাঁর দ্বিধারা উপন্যাসের নিখিলকে আমরা দেখেছি যে সে নারী সেজে যাত্রা
করত। নিজের 'নূরজাহান' গল্পে একটি লোকসংস্কৃতি প্রসঙ্গ নিজেই তিনি উল্লেখ
করেছেন লোকসংস্কৃতি সংক্রান্ত তাঁর উক্ত পুস্তকটিতে। এক দিক দিয়ে
তারাশঙ্করের সাহিত্য ও গান (১৯৯৭) বইটিও কিঞ্চিৎ তাঁর লোকসংস্কৃতিপ্রেমের
পরিচয়বাহী। বিচ্ছিন্ন ভাবে অন্য দু-একটি প্রবন্ধও তাঁর লোকসংস্কৃতিচর্চার
পরিচয় বহন করে। যেমন পূর্বোক্ত সাহিত্য ও অন্যান্য ভাবনা (১ম খণ্ড)
পুস্তকের 'তারাশঙ্কর-সাহিত্যে রাঢ়বাংলার লোকসংস্কৃতি'।
লোকসংস্কৃতি সংক্রান্ত উক্ত তাঁর পুস্তকটিতে কথাসাহিত্যিকদের রচনার খাঁটি
লোকসংস্কৃতি-লক্ষণযুক্ত অংশই কেবল উল্লেখে আসেনি, অন্যান্য ভাবে, তা সে
আধ্যাত্মিক, ভৌতিক যেমনই হোক, লোকসংস্কৃতির পরিচয়বাহী বা
লোকসংস্কৃতি-ঘেঁষা মনে হলে তাও উল্লেখে এনেছেন তিনি। এই ভাবে, একশো নয়
পাতার বইটিতে সাধারণ ভাবে লোকসংস্কৃতির পরিচয়ের সঙ্গে সঙ্গে তার
চিহ্নগুলোকে – ছড়া, ব্রতকথা, প্রবাদ-প্রবচন, লোকসংগীত, টুসুগান, গম্ভীরা,
ভাওয়াইয়া, আলকাপ, ভাটিয়ালি, বাউল, জারিগান, সারিগান, যাত্রাপালা ও
পুতুলনাচ, লোকনৃত্য – ছুঁয়ে গেছেন। এর পর একে একে উল্লেখে এসেছে
প্যারীচাঁদ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বিভূতিভূষণ,
তারাশঙ্কর, মাণিক, অমরেন্দ্র ঘোষ, অদ্বৈত মল্লবর্মণ, সমরেশ বসু, আব্দুল
জব্বার ও শেষে ধারাবাহিকের তিলোত্তমা। প্রসঙ্গক্রমে উল্লিখিত হয়েছে
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, কমলকুমার মজুমদার প্রমুখের দু-একটি গল্প। প্রধান
লেখকদের বেশির ভাগেরই প্রতিনিধিত্বমূলক একাধিক উপন্যাস ও গল্পে
লোকসংস্কৃতির উপাদানের সন্ধান করেছেন তিনি।
প্রথম অধ্যায়ে মূলত ছড়া, ধাঁধা এবং প্রবাদ-প্রবচন অংশে বেশ কয়েকটি তাঁর
ব্যক্তিগত সংগ্রহ রয়েছে যাকে তিনি 'দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার স্থান বিশেষে'
বা 'দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি বিশেষ অঞ্চলের' হিসাবে উল্লেখ করেছেন, আসলে এই
স্থানবিশেষ বা বিশেষ অঞ্চল তাঁর গ্রাম গোকর্ণী বা তৎসংলগ্ন এলাকা।
'তুলসী গাছে জল ঢাললে কোনকালে কি পাবে,
নটে শাকে জল ঢাললে নিত্যি বসে খাবে।'
'হাসি হাসবো না তো কি?/হাসির বায়না দিয়েছি।
হাসি পঁচিশ টাকা মণ।/হাসি আনতে কতক্ষণ?' (শেষ পঙ্‌ক্তিটি আমরা
মা-দিদিমাদের কাছে শুনেছি 'হাসি হাসতে কতক্ষণ', যদিও বায়না দেওয়ার সঙ্গে
আনাই মানায়)
'আমাদের লোক মরেছে ভাদ্দর মাসে
কাট-কুটো নেই পোড়াবো কিসে!
কাটের দাম চোদ্দ সিকে।'
"কাঁসারির 'সারি' ছাড়া পাঁটার ছাড়া 'পা'
লবঙ্গর 'বঙ্গ' ছাড়া কিনে আনগে যা তা।'
'পুতের মুতে কড়ি, মেয়ের গলায় দড়ি।' (আমরা শুনেছি, বেটাছাবালের গাঁটে
কড়ি/মেয়েছাবালের গলায় দড়ি)
'ভালবাসার এমনি গুণ, পানের সঙ্গে যেমন চুন।
বেশী হলে পোড়ে গাল, কম হলে লাগে ঝাল।' – এমনই কয়েকটি।
ভালো লেগেছে দেখে যে মাঘী শুক্লপক্ষে আমাদের গ্রামের বিভিন্ন পাড়ার
মহিলারা মাঙন করে বিবিমার থানে যে হাজত দেয় – তাঁদের পাড়াও যার ব্যতিক্রম
ছিল না – 'ব্রতকথা'র অংশে সেটি উল্লিখিত হওয়ায় যেখানে
খই-মুড়ি-ফল-বাতাসা-মিষ্টি ইত্যাদি খাওয়ার শেষে মহিলাদের নিজ নিজ বাড়ির
দরজায় পৌঁছানোর পর৭, বাইরে-দাঁড়িয়ে-থাকা উক্ত মহিলা এবং সেই বাড়ির কোনও
ছেলে বা মেয়ের মধ্যে যে প্রশ্নোত্তর চলত সেটি তুলে ধরায় –
"দোরে কেন আলো - ?
গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই আছে ভালো।
দোরে কেন পেতল - ?
গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই আছে শেতল।
দোরে কেন কাঁটা - ?
গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই লোহার ভাঁটা।"
শেষে তিনি লিখেছেন, 'লোক সংস্কৃতির এই সুন্দর অনুষ্ঠান জাতি-ধর্ম-বর্ণ
নির্বিশেষে মানুষকে এক সম্প্রীতির জগতের সন্ধান দেয় – যে সম্প্রীতে একালে
– অপ্রিয় হলেও সত্য – ক্রমশ অস্তাচলগামী।'
দ্বিতীয় অধ্যায়ে, প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাস থেকে
ছড়া-গান, দুর্গাপূজার বোধনের বর্ণনা, বিয়ের কবিতা উল্লেখ করে
সন্তোষকুমারের সংশয়ী উপসংহার : 'বাংলা উপন্যাসে যৎসামান্য হলেও
লোকসংস্কৃতির পথিকৃৎ সম্ভবত প্যারীচাঁদ মিত্র।' তাঁর এই সংশয় আরও কমে যেত
এই উপন্যাসে লোকভাষা ও প্রবাদ-প্রবচনের ব্যবহারের দিকটি একটু খেয়াল করলে।
দৃষ্টান্ত সহ 'বিভিন্ন কাহিনির মধ্যে গান, ছড়া, শ্লোক ও রূপকথার
উপস্থাপনায় লোকসংস্কৃতি সম্বন্ধে বঙ্কিমের সচেতন মনোভাব অনুমান করা
সম্ভব' বলার পর শেষ করেছেন তিনি এইভাবে : 'প্যারীচাঁদ মিত্রে যার
গৌরচন্দ্রিকা, বঙ্কিমচন্দ্রে তার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।'
রবীন্দ্রপর্বে, বউঠাকুরানীর হাট উপন্যাসে 'কবি রচিত এবং সম্ভবত দু'একটি
সংকলিত গান ও কবিতায়' – যেমন বসন্ত রায়ের কৌতুকগীতি, প্রতাপাদিত্যের
জামাতার অনুচর রামমোহনের আগমনী গান 'সারা বরষ দেখিনে মা, মা তুই আমার
কেমন ধারা', দ্বিতীয় বার রাজ্যে প্রবেশ করলে তাঁর প্রাণসংশয় অবশ্যম্ভাবী
শুনে বেদনাহত বসন্ত রায়ের গান ইত্যাদিতে লোকসংস্কৃতির সন্ধান করেছেন
সন্তোষকুমার। রাজর্ষি-র ধ্রুবের গান, নৌকাডুবি-র মদ্রদেশের রাজার সঙ্গে
কাঞ্চীর রাজকন্যার বিবাহের গল্প, গোরা-তে উদ্ধৃত লালনের গান, যোগাযোগ-এর
দু-একটি ছড়া বা গান উল্লিখিত। 'মুক্তির উপায়', 'খাতা', 'অসম্ভব কথা',
'অতিথি', 'গুপ্তধন', 'শেষের রাত্রি' ছোটগল্পে গান-গল্প-ধাঁধা-বাউল গান
ইত্যাদি দৃষ্টান্ত হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে। শরৎচন্দ্রের ক্ষেত্রে তুলে ধরা
হয়েছে শ্রীকান্ত, বড়দিদি উপন্যাস; 'বিলাসী', অভাগীর স্বর্গ' গল্প থেকে
লোকসাংস্কৃতিক নানান চিহ্ন ।
তৃতীয় অধ্যায়ে, বিভূতিভূষণের পথের পাঁচালী, অপরাজিত, আরণ্যক ও ইছামতী
উপন্যাস বা 'কিন্নর দল', 'পিদিমের নিচে' গল্প থেকে একাধিক ছড়া, মন্ত্র,
ধাঁধা, পাঁচালী, বাউল, শ্যামাসংগীত ইত্যাদির উল্লেখ করেছেন সন্তোষকুমার।
এমনই নানান লোকসংস্কৃতির দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন তারাশঙ্করের কবি,
গণদেবতা, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, নাগিনী কন্যার কাহিনী উপন্যাস এবং
'পৌষলক্ষ্মী', 'ইমারত', 'তমসা', 'রাঙাদিদি', 'সংসার' গল্প থেকে যেখানে
আমরা দেখতে পাই 'গ্রামের চাষী, রাজমিস্ত্রির সহচরী, অন্ধ ভিক্ষুক,
বৃদ্ধের তরুণী ভার্যা প্রভৃতি বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের দৈনন্দিন
জীবনযাত্রার মধ্যেও লোকসংস্কৃতির বীজ নিহিত। অনুকূল পরিবেশে তার বিকাশ।'
এখানে প্রসঙ্গক্রমে রমাপদ চৌধুরীর প্রথম প্রহর উপন্যাসে একটি অঞ্চলে রেল
ইঞ্জিনের চাকায় তেল-সিঁদুর দিয়ে ও গান গেয়ে বরণ করে নেওয়ার উল্লেখ আছে।
মাণিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাসে যাত্রার দৃশ্য,
ছড়া-গান, অলৌকিক কাহিনি; পদ্মানদীর মাঝি-তে হোসেন মিঞা ও গণেশের গান
লোকসংস্কৃতির পরিচায়ক হিসাবে উঠে এসেছ তাঁর লেখায়।
চতুর্থ অধ্যায়টিকে 'শূদ্র জাগরণ' হিসাবে উল্লেখ করে প্রথমে লোকলসংস্কৃতির
সন্ধান করেছেন সন্তোষকুমার অমরেন্দ্র ঘোষের চরকাশেম উপন্যাসে। সেখানে
পাওয়া যাচ্ছে ছড়া, কেচ্ছা-কাহিনি, গান ইত্যাদি। এর পর অদ্বৈত মল্লবর্মণের
তিতাস একটি নদীর নাম উপন্যাসে তিতাসের তীরে মালো সমাজের 'পূজাপার্বণ,
ব্রত, লোকসংগীত, নৃত্য, প্রবাদ-প্রবচন ও অলৌকিক কাহিনির সমন্বয়ে যে
লোকলসংস্কৃতি' তার সন্ধান করেছেন। উল্লেখ করেছেন যাত্রা ও গানের সঙ্গে
ধাঁধা, ছড়া, রূপকথার গল্প, এমনকি লৌকিক ক্রীড়ানুষ্ঠানের কথাও। সমরেশ বসুর
গঙ্গা উপন্যাসে, 'অম্বুবাচী, রথ, ঝুলন, গঙ্গাপূজা, অলৌকিক কাহিনি,
যাত্রা, খনার বচন ও সঙ্গীত প্রভৃতি লোকসংস্কৃতির নানা বিষয়ের কথা
উল্লিখিত।' প্রাসঙ্গিক ভাবে সমরেশের 'জোয়ার ভাঁটা' ও 'অকাল বসন্ত'
গল্পদুটির গানের কথা বলেছেন। এই অধ্যায় শেষ হয়েছে আব্দুল জব্বারের
'গল্প-রীতির অনুসারী' 'প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার খণ্ড খণ্ড বৃত্তান্ত'-এর বই
বাংলার চালচিত্র-তে উল্লিখিত সাপে-কাটার মন্ত্র, বনবিবির গান, কাহিনি,
রসের গান, হিজড়ের গান ইত্যাদি দিয়ে।
তবে এই অধ্যায়টিকে কেন যে 'শূদ্র জাগরণ' বলে চিহ্নিত করেছেন সন্তোষকুমার
তা স্পষ্ট নয়, বড়জোর নিম্নবর্গচর্চা জাতীয় কিছু বলা যেতে পারত। অধ্যায়
শুরু হয়েছে যে অমরেন্দ্র ঘোষের চরকাশেম উপন্যাস দিয়ে তার সম্বন্ধে লেখক
নিজেই বলেছেন, 'নদ-নদী অধ্যুষিত পূর্ববঙ্গের এক বিশেষ অঞ্চলের জীবনালেখ্য
– প্রধানত মুসলমান সমাজ যার কেন্দ্রবিন্দু।' তবে কি মুসলমান সমাজও শূদ্র
সমাজের অন্তর্ভুক্ত! অধ্যায়ের দ্বিতীয় সাহিত্যিক হিসাবে অদ্বৈত মল্লবর্মণ
সম্বন্ধে লেখা হয়েছে 'শূদ্র-জাগরণের অন্যতম প্রতিভূ'। লেখকের জীবনের তথা
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অনবদ্য যে একমাত্র উপন্যাস তিতাস একটি
নদীর নাম-এ লোকসংস্কৃতির সন্ধান করেছেন লেখক তার শেষ দৃশ্যে আমরা দেখছি :
'কিন্তু এখন সে মালোপাড়ার কেবল মাটিই আছে। সে মালোপাড়া আর নাই। শূন্য
ভিটাগুলিতে গাছ-গাছড়া হইয়াছে। তাতে বাতাস লাগিয়া সোঁ সোঁ শব্দ হয়। এখানে
পড়িয়া যারা মরিয়াছে, সেই শব্দে তারাই বুঝি বা নিঃশ্বাস ফেলে।' এর পরেও
বলতে পারব আমরা 'তাই আক্ষরিক অর্থেই বাংলা কথাসাহিত্যে এই উপন্যাসখানি
শূদ্রজাগরণের স্মারক হিসাবে চিহ্নিত'? আলোচনায় অধ্যায়ের তৃতীয় সাহিত্যিক
সমরেশ বসু প্রসঙ্গটি শুরুই করছেন সন্তোষকুমার 'সাহিত্যসৃষ্টির ক্ষেত্রে
তিতাসের লেখক অপেক্ষা সমরেশ বসু শক্তিমান কথাশিল্পী' বলে! তাঁর
তিতাস-আলোচনার সারবত্তাকে অনেকখানি স্বীকার করেও বলতে হচ্ছে, পুরো
পুস্তকটির মধ্যে কেন অনভিপ্রেত এই একমাত্র তুলনামূলক মূল্যায়নপ্রচেষ্টা!
তিতাস একটি নদীর নাম-এর সঙ্গে গঙ্গা তথা অদ্বৈতর সঙ্গে সমরেশের যেসব
তুলনা করেছেন লেখক তা-ও বিতর্করহিত নয়। সেসবে বিস্তৃত হওয়া সম্ভব নয়
এখানে। তবু সামান্য বলি। গঙ্গা পড়তে গিয়ে অনেক পাঠকেরই কিন্তু এটাও মনে
হবে, যা তার স্রষ্টার একান্ত বন্ধু এবং তাঁর গ্রন্থের সম্পাদক বিশিষ্ট
সমালোচক সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখে গেছেন : 'ডিটেল সম্বন্ধে অতি-সতর্কতায়
এ-গ্রন্থেও পঞ্চম ও ষষ্ঠ দশকের পাঠকের সংবাদগত কৌতূহল-বৃত্তিকে তুষ্ট
করার প্রবণতা প্রকাশিত।'৮ অন্যদিকে তিতাস সম্বন্ধে তিনি লিখেছেন :
'জীবনমুগ্ধতার অক্ষয় সম্পদের একটা সমালোচনা-নিরপেক্ষ শ্রী আছে, সেই
সম্পদে বইখানি সম্পন্ন।'৯ আরও যা বলেছেন, পাঠকালে আজও পাঠক তার সঙ্গে
একাত্মতা অনুভব করবেন : 'তিতাসের মন্থর স্রোতের পাশেপাশে উদাসীন
মালোপাড়ার জন্ম-বিবাহ-মৃত্যু জড়িত জীবিকার ছবিকে কাব্যময় ভাষায় ফুটিয়ে
তুলেছেন অদ্বৈতবাবু। তিতাসের স্রোতের মতোই ভাষাতেও এসেছে একটা মৃদু
সঙ্গীত – যা জীবনের মৃদু এবং মেদুর, সুখ এবং দুঃখকে ধ্বনিত করেছে অসীম
নীলাকাশের অঙ্কশায়ী নদীর অস্পষ্ট এবং চিরন্তন তরঙ্গ কল্লোলের সঙ্গে
সঙ্গতি রেখে।'১০ বাংলার চালচিত্র-তেও বিবিধ বিচিত্র যে জীবন ও যাপনচিত্র
তাকে কি বলা যাবে শূদ্র-জাগরণ!
পঞ্চম তথা শেষ অধ্যায়ে তখনও-ধারাবাহিক তিলোত্তমার রাজপাট-কে আলোচনায় এনে
একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ববোধেরও পরিচয় দিয়েছেন
সন্তোষকুমার। শ্লোক, গান, পদাবলী, বাউল, কীর্তন, ছড়া, খনার বচন,
ভূত-তাড়ানো মন্ত্র, সাপের বিষ ঝাড়ার মন্ত্র, নৌকা বাইচের গান, কাহিনি,
ব্রতের মন্ত্র বা ছড়া ইত্যাদির আধার এই ধারাবাহিকটিকে আলোচনায় আনা
অত্যন্ত জরুরি ছিল।
'নিবেদন' অংশে লেখক জানিয়েছেন যে 'গ্রন্থের আলোচনা সংক্ষিপ্ত', কেন-না
'বিস্তৃত করতে গেলে যে সময় ও বইপত্র প্রয়োজন, তা সংগ্রহ করার মত বয়স'
তাঁর নয় তখন। কাজ করতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে অনুভব করেছেন 'কাজটি কত দুরূহ
ও দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ' 'তাই বিষয়টির উপর একটি রুপরেখা টানার চেষ্টা' করেছেন
মাত্র। তবু বলতে হবে যে এই বইটি তাঁর এক ব্যতিক্রমী এবং উল্লেখযোগ্য কাজ।
আটাত্তর বছর বয়সে পৌঁছেও, নিজের বহুপাঠিতার নজির রেখে একটানা যে ভাবে
কাজটি করে একেবারে বই হিসাবে আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন তিনি তা
অত্যন্ত সাধুবাদযোগ্য এবং অনুসরণীয়। বইটিতে দেওয়া পারিবারিক ও সাহিত‍্য
সংক্রান্ত কয়েকটি আলোকচিত্র পাঠকের বাড়তি প্রাপ্তি।
উৎপল দত্তের প্রচ্ছদ পরিকল্পনা প্রশংসার যোগ‍্য।



পুনশ্চ :
লোকসংস্কৃতি ও স্বনির্বাচিত বাংলা কথাসাহিত্য
সন্তোষকুমার দত্তে
বইটির প্রকাশক - বঙ্গবাতায়ন।
প্রকাশকাল - ১৫ আগস্ট ২০০৭।
মূল‍্য - আশি টাকা ।


তথ্যসূত্র :
১। 'গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধ ও কবিতা রচনায় বারুইপুর', বারুইপুরের ইতিহাস,
২য় সংস্করণ, ২০১৪। সম্পাদনা – শক্তি রায়চৌধুরী ও মনোরঞ্জন পুরকাইত।
২। বার্ষিক সংকলন-পত্র কান্তরেণু, সূচনা সংখ্যা, ১৪২০।
৩। আয়নার সামনে – সন্তোষকুমার দত্ত, বঙ্গবাতায়ন, ১ আষাঢ় ১৪১৮
৪। তদেব।
৫। তদেব।
৬। তদেব।
৭। তিনি লিখেছেন, 'ব্রতচারিণীদের দলবদ্ধভাবে পাড়ার প্রত্যেক বাড়িতে
উপস্থিতি', আসলে দলবদ্ধ ভাবে ঘুরে ঘুরে যে-যার নিজের বাড়িতে ঢুকে পড়া।
এখন আর অনেকসময় এমন ঘোরা হয় না, উপস্থিত সবাইকে দেওয়ার পর ভোজন এবং তারপর
যে-যার বাড়িতে চলে যাওয়া।
৮। বাংলা উপন্যাসের কালান্তর –সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, সাহিত্যশ্রী,
পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত সংস্করণ – ১৯৭১/১৩৭৮।
৯। তদেব।
১০। তদেব।

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় সভ্য...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

ভুতের গল্প : ভুতেরাও ভদ্র হয় ।। দীপক পাল

ভুতেরাও ভদ্র হয়  দীপক পাল  কোন এক রহস্য পত্রিকার জন্য একটা ভুতের গল্প লেখার তাগিদে রাত এগারোটা বাজার পরে শোওয়ার ঘরের লাইট নিভিয়ে আমার লেখার ঘরে ঢুকে জানালার সামনের টেবিলে গিয়ে চেয়ারটা টেনে বসলাম। ঘরে লাইট জ্বললে আমার স্ত্রীর চোখে ঘুম আসে না। অন্য দিকে ভাবলে ভুতের গল্প লিখতে গেলে একটু বেশী রাত ও একদম নির্জন পরিবেশ দরকার। হাতে কাগজ কলম নিয়ে জানালার বাইরের আলো আঁধারিতে চোখ মেলে তাকালাম। পথের আলোর জন্য এই আলো আঁধারির সৃষ্টি যদিও এই অমাবস্যার রাতে সেই আলো বড়ো অপর্যাপ্ত। একটু ভেবে আমার গল্প লেখা শুরু হলো। সারাদিন কাজের ফাঁকে মনে মনে গল্পটা মোটামুটি ফেঁদে রেখেছিলাম। এখন সেটাই গুছিয়ে লেখার পালা। সেটাই করে চলেছি একটানা। হঠাৎ একটা গলাখাঁকারির আওয়াজ এলো কানে। ভাবলাম পাশের বাড়ী থেকে বুঝি আসছে। তাই পাত্তা না দিয়ে লিখে যাচ্ছি। কিন্তু দ্বিতীয় বার গলা খাঁকারির আওয়াজ শুনে জানালার বাইরে তাকালাম। দেখি জানালার ওপাশে একটা আবছা ছায়ামূর্তি যার চোখজোড়া অল্প অল্প জ্বলছে। কিন্তু মুখে অল্প হাসি হাসি ভাব। এক মনে ভুতের গল্প লেখি যাওয়ার ফলে আমি যেন ভুতের রাজ্যে বিচরণ করছিলাম তাই স্বচক্ষে স...

ছয় দিনের ব্যবধান ।। ইদ্রিস মণ্ডল

ছয় দিনের ব্যবধান   ইদ্রিস মণ্ডল ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। শিউলি গাছের নিচে সারা রাত ঝরে পড়া ফুলে সাদা হয়ে আছে উঠোন। কুয়াশার পাতলা চাদর মুড়ে শহরের পুরোনো পাড়াটা যেন আরও নীরব, আরও আপন হয়ে উঠেছে। দূরের মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে এলে একতলা ছোট্ট বাড়িটির একটি ঘরে আলো জ্বলে ওঠে। এ বাড়িতে এটাই নিয়ম। আজানের আগেই ঘুম ভাঙে কাশেম সাহেবের। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই, তবু জীবনযাপনের ছন্দে কোনো আলস্য নেই। তিনি ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে বসেন, পাশে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী মিরা বেগমের দিকে একবার তাকান। ঘুমের ভেতরেও মিরা বেগমের মুখে অদ্ভুত এক প্রশান্তি লেগে থাকে। এত বছর একসঙ্গে থাকার পর মানুষটিকে আর নতুন করে দেখার কিছু নেই, তবু প্রতিদিন ভোরে তাঁর মনে হয়—এই মানুষটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ওজু সেরে নামাজ পড়ে তিনি বারান্দায় এসে বসেন। শীতের বাতাসে তুলসীপাতার গন্ধ মিশে আছে। একটু পরেই মিরা বেগম দু'কাপ ধোঁয়া ওঠা চা নিয়ে এসে পাশে বসেন। — "চায়ে চিনি কম দিয়েছি। ডাক্তার তো বারবার নিষেধ করেছেন।" কাশেম সাহেব কাপ হাতে নিয়ে হেসে বললেন, — "ডাক্তার যতটা নিষেধ করেন, তুমি তার চে...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্ত স্মরণে ✍️ শিবাশিস মুখার্জি

অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্তকে স্মরণে ✍️ শিবাশিস মুখার্জি ভাষাবিজ্ঞানের জগৎ আজ নিঃসন্দেহে আরও দরিদ্র হয়ে পড়ল। অধ্যাপক প্রবাল দাশগুপ্তের প্রয়াণ কেবল একজন খ্যাতনামা ভাষাবিদের মৃত্যু নয়; এটি এমন এক শিক্ষকের বিদায়, যিনি ভাষা, সমাজ ও মানবিক যোগাযোগকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ায় আমরা হারালাম এমন একজন মানুষকে, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ছাত্রদের শুধু ভাষাবিজ্ঞান নয়, চিন্তা করতে, প্রশ্ন করতে এবং মানবিক হতে শিখিয়েছেন। কলকাতায় জন্ম নেওয়া প্রবাল দাশগুপ্ত ভাষাকে শুধুমাত্র ব্যাকরণ ও বাক্যগঠনের বিষয় হিসেবে দেখেননি। তাঁর কাছে ভাষা ছিল সমাজ, সংস্কৃতি, পরিচয়, ইতিহাস ও ক্ষমতার জটিল আন্তঃসম্পর্কের এক জীবন্ত প্রতিফলন। বাংলা ভাষাবিজ্ঞান, সমাজভাষাবিজ্ঞান, ভাষানীতি ও ভাষাদর্শন নিয়ে তাঁর গবেষণা নতুন চিন্তার দুয়ার খুলে দিয়েছিল অসংখ্য ছাত্র, গবেষক ও ভাষাপ্রেমীর সামনে। তাঁর প্রয়াণ আমার কাছে কেবল একাডেমিক ক্ষতি নয়, গভীর ব্যক্তিগত বেদনাও। ডেকান কলেজ, পুনেতে অধ্যাপনা করার সময় আমি তাঁর ছাত্র হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করি। সেই সময় প্রায়ই তাঁর কোয়ার্টারে যাওয়ার স...

একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার

  একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন: অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প  উৎপল সরকার মানুষের মৃত্যু কখনও কখনও শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থাকে না; সেটি সমাজের আয়নায় ভেসে ওঠা এক ভয়ংকর প্রতিচ্ছবিও হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষত, কোনো শিল্পীর মৃত্যু হলে সেই প্রশ্ন আরও গভীর হয়। কারণ শিল্পীরা সাধারণ মানুষের মতো শুধু জীবন যাপন করেন না, তাঁরা অনুভব করেন বহু গুণ বেশি। তাঁরা হাসির আড়ালে কান্না লুকোন, আলোর নিচে দাঁড়িয়ে অন্ধকার বহন করেন। বাংলা চলচ্চিত্রের পরিচিত পরিচালক অনিক দত্ত— যিনি তাঁর ব্যতিক্রমী রসবোধ, সমাজ-রাজনীতির সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিকে চলচ্চিত্রে জীবন্ত করে তোলার জন্য পরিচিত ছিলেন— তাঁর মৃত্যু নিয়ে সাম্প্রতিক খবর বহু মানুষকে নাড়া দিয়েছে। যদি সত্যিই তিনি গভীর একাকীত্ব ও মানসিক যন্ত্রণার কাছে পরাজিত হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়ে থাকেন, তবে সেটি শুধু একজন পরিচালকের মৃত্যু নয়; এটি আমাদের সময়ের মানসিক নিঃসঙ্গতার এক নির্মম দলিল। অনিক দত্তের চলচ্চিত্রে বারবার ফিরে এসেছে হারিয়ে যাওয়া সময়, স্মৃতির ভাঙাচোরা বাড়ি, সমাজের ভেতরের নীরব ক্ষয় এবং মানুষের অদৃশ্য একাকীত্ব। “ভূতের ভবিষ...