বাংলা সাহিত্যের দুশো বছর রানা জামান ভূমিকা: দুই শতাব্দী মানে কী? ২০০ বছর মানে ৮টা প্রজন্ম। ১৮২৬ খৃস্টাব্দে যে শিশু "বর্ণপরিচয়" পড়েছে, তার নাতির নাতি ২০২৬-এ ChatGPT দিয়ে বাংলা গল্প লিখছে। এই সময়ের মধ্যে বাংলা সাহিত্য ৩টা সাম্রাজ্য দেখেছে: ব্রিটিশ, পাকিস্তানি, এবং গ্লোবাল-ডিজিটাল। সাহিত্য শুধু বই হয়নি। এটা আদালত হয়েছে, আন্দোলন হয়েছে, পাসপোর্ট হয়েছে, প্রতিবাদ হয়েছে। আলোচনার সুবিধার্থে আলোচ্য সময়টাকে ৫টা মহাদেশে ভাগ করা হবে। মহাদেশ ১: গদ্যের ভিত্তি স্থাপন - ১৮২৬ হতে ১৮৬০ খৃস্টাব্দ ১৮২৬ খৃস্টাব্দের বাংলা সাহিত্য ছিলো মূলতঃ পদ্যের। "চণ্ডীমঙ্গল", "অন্নদামঙ্গল", "পাঁচালি" ইত্যাদি। গদ্য মানে ছিলো সরকারি চিঠি আর দলিল। ১. রাজা রামমোহন রায় - যুক্তির গদ্য তিনি প্রথম দেখালেন বাংলা দিয়ে দর্শন লেখা যায়। "বেদান্ত গ্রন্থ", "গৌড়ীয় ব্যাকরণ"। তিনি সতীদাহের বিরুদ্ধে কলম ধরলেন। তার লেখার ভাষা ছিলো শক্ত, কিন্তু যুক্তিনির্ভর। তিনি প্রমাণ করলেন বাংলা "অপভাষা" না। ২. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর - শিক্ষার গদ্য "বর্ণপরিচয় ১ম ও ২য় ভাগ" উপহার...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...