Skip to main content

Posts

আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল

আমি বাংলাকে ভালবাসি সৌম্য পাল  শহরের কোলাহল পেরিয়ে যখন রাত নামে তখন অর্কর ঘরে অদ্ভুত এক নীরবতা ভর করে। সারাদিন ইংরেজি শব্দে ঘেরা জীবন—ইমেল কল মিটিং ও ডেডলাইন। কিন্তু রাত হলেই সে জানালার ধারে এসে দাঁড়ায় আর মনে মনে অজান্তেই ভেসে ওঠে কিছু বাংলা শব্দ। সেই শব্দগুলোর কোনো নির্দিষ্ট মানে নেই তবু তারা অর্ককে নিজের মতো করে জড়িয়ে ধরে। অর্কর জন্ম এক মফস্‌সলে। ছোট্ট শহর যেখানে সন্ধ্যেবেলা চায়ের দোকানে বসে মানুষ রাজনীতি থেকে রবীন্দ্রসংগীত—সব নিয়ে আলোচনা করত বাংলায়। স্কুলের প্রথম দিন প্রথম কবিতা আবৃত্তি প্রথম প্রেমপত্র—সবই লেখা ছিল বাংলায়। তখন সে জানত না এই ভাষাই একদিন তার পরিচয়ের সবচেয়ে শক্ত ভিত হয়ে দাঁড়াবে। কলেজে উঠে অর্ক শহরে আসে। ধীরে ধীরে বাংলার জায়গা দখল করে নেয় অন্য ভাষা। প্রথমে প্রয়োজনের তাগিদে পরে অভ্যাসে। বন্ধুমহলে বাংলা বললে অনেকে মজা করত এত আবেগ কেন? অর্কও হাসত কিন্তু কোথাও যেন কিছু একটা খসে পড়ত ভেতর থেকে। একদিন অফিসে এক সহকর্মী তাকে বলেছিল তোমাদের বাংলা ভাষাটা খুব মিষ্টি শোনায় কিন্তু প্রফেশনাল লাইফে তো ওটার দরকার পড়ে না। অর্ক সেদিন কোনো উত্তর দেয়নি। শুধু মনে মনে...

মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব

       মাতৃভাষা এস এ বিপ্লব পৃথিবীর সব দেশেই নিজ নিজ ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারন যার যার নাড়ির টান কিংবা নিজ ভাষার প্রতি আকর্ষণ একটা বিষয় কাজ করে থাকে। আর এই নাড়ির টান বা ভাষার প্রতি আকর্ষণ যাই বলি না কেন?  এসব কিছুর জন্য দায়ী একমাত্র মা। তাই মাকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বলা হয় বা বলা যায়। জম্ম থেকে মা যে ভাষা শিখাবে সেই ভাষাতেই আমি, আপনি কথা বলব বা বলে থাকি। তাই আমরা মায়ের ভাষা কে সম্মান করব।মায়ের ভাষার জন্য যুদ্ধ করি,জীবন দেই নানা ভাবে মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠা করি।ছোট্ট শিশু জানে না সে হিন্দু না মুসলিম আর না  বৌদ্ধ,খ্রিষ্টান। তাহলে কে শিখায়? মা শিখায়, মা বলে আল্লাহ, ভগবান ইত্যাদি শিশুও তাই শিখে। আবার আরবি, বাংলা, ই্যরেজী চিনত না শিশু, কে চিনিয়ে থাকে?  মা চিনিয়ে থাকে। তাই মা, মাটি  আর  মায়ের ভাষা  মাতৃভাষা কে   আমাদের সম্মান করতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে কষ্টের বিষয় হলো এখানে মাকে বা মাতৃভাষা কে বছরে একবার খুব ধুমধাম করে স্মরন করে এরপর আর কোন খবর না রাখে। আর সেটা দেখা যায় একমাত্র  বছর ঘুরে আমাদের ২১ ফেব্রুয়ারী যখন আসে। যেটা আম...

সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান

সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি সামসুজ জামান   চলন্ত ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে নিত্য যাত্রীদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা গল্প তর্ক-বিতর্ক চলে। সেদিনের প্রসঙ্গ ছিল মাতৃভাষা তাই মাতৃভাষা নিয়ে খুব জোর তর্ক-বিতর্ক জমে উঠেছিল। অনেকের মতে আজকের দিনে আমাদের বাংলা ভাষার মতো মাতৃভাষার আর কোনো গুরুত্ব নেই। বলা হচ্ছিল একজন তথাকথিত একেবারে অন্তজ শ্রেণীর মানুষ, রিক্সাওয়ালা , কুলি-মজুর সকলেই নিজেরা ইংরেজি না জানলেও নিজের ছেলে মেয়েদের ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে জীবন উন্নত করার ভাবনা ভাবে। কেউ আবার এতে যোগ করলেন কিছু বিরোধী ভাবনা। তাঁর বক্তব্য - হ্যাঁ, এটাও তো দেখেছেন এই সব ঘরের মানুষরা তাদের ছেলেমেয়ের স্কুলের ভাষা ইংরেজি বলতে পারেনা কিন্তু তাদের বাংলা ভাষার উপর এত ঘেন্না যে ঘরেও নিজেরা নিজের পক্ষে হিন্দি ভাষার মাধ্যমে কথাবার্তা বলে। অন্য কেউ আবার যোগ করলেন - আরে সেটা তো আমার আপনার ঘরেই দেখা যায়, বাংলা ভাষা এখন এমন 'হতচ্ছেদ্দা'র ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের কাছে, যে তারা নিজেদের মাতৃভাষা বাংলা না বলে হিন্দি ভাষায় কথা বলছে এতে নিজেরা আত্মশ্লাঘা অনুভব করেন।  ইংরেজ আমলে আমাদের মাতৃভাষার উপ...

শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার

 শেকড়ের খতিয়ান   মামুন চাকলাদার রক্তের অক্ষরে লেখা সেই অবিনাশী বর্ণমালা— আজ আর কেবল মিছিলে কিংবা স্মৃতির বেদিতে বন্দি নেই। মায়ের ভাষার মমতা নিয়ে, একুশের সেই অমর ভাষাশহিদরা আজও জ্যোৎস্না রাতে বাংলায় চিঠি লিখে যায় কৃষকের দোরে। সেই চিঠিতে থাকে না কোনো গ্লসি বিজ্ঞাপনের চটক, থাকে না কোনো কর্পোরেট মরীচিকার মায়াবী হাতছানির ঝলক। সেখানে ভোরের শিশিরে ভেজা থাকে ধানের সংশয়, আর রোদে পোড়া দুপুরে লেখা থাকে— মেহনতি মানুষের জয়গান। শহিদ মিনারের পাথর থেকে নেমে এসে বর্ণরা— হালভাঙা কৃষকের কানে কানে বলে যায় এক নতুন বসন্তের কথা। যেখানে পণ্য হওয়া নয়, মানুষ হওয়াই সবচেয়ে বড় আভিজাত্য, আর নিজের ভাষায় স্বপ্ন দেখাই হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জিয়ন মন্ত্র। .........................................   মামুন চাকলাদার সাভার, ঢাকা 

মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু

  মধুর ভাষা, বাংলাভাষা   রবীন বসু   ভাবের ভাষা বাংলাভাষা, আমার ভাষা কই কোথায় যেন ছিঁড়ছে সুতো বেসুরো যে হই। মায়ের ভাষা ভুলি আশা প্রাণের ভাষা নেই মুখের বুলি অন্য ভাষায় নকল শুধু সেই। এমনি ভাবে মাতৃ ভাষা ভিন্ন ভাষা হয় অন্য ভাষায় কথা বললে লজ্জা তারে কয়। ভাষা শিক্ষা মহান বটে প্রয়োজনও তাই ভুলে যেন মায়ের ভাষা কখনও না যাই। কিন্তু যারা কথায় কথায় মিশ্র বাংলা বলে তাদের জন্য মাতৃভাষা শির হেঁট করে চলে। ভাবের ভাষা মধুর ভাষা বাংলাভাষা ওই নোবেল আনেন রবি ঠাকুর, আমরা সেরা হই। •• •• •• •• •• •• ••   রবীন বসু Rabindra nath Basu 189/9, Kasba Road, Kolkata-700042

মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত

    মাতৃভাষা দিলীপ সামন্ত বাচ্চা যেমন নিবিড় করে জড়িয়ে ধরে মাকে মাতৃভাষাও তেমন ভাবে হৃদয় জুড়ে থাকে। এই ভাষাতেই অকপটে মনের কথা বলি সুখ দুঃখের রাস্তা ধরে সামনে হেঁটে চলি। আউল বাউল এই ভাষাতেই গেয়ে চলে গান ভাটিয়ালির সুরটি শুনে নেচে ওঠে প্রাণ। কোথায় আছে কাছে দূরে এমন মধুর ভাষা ভাব প্রকাশের ভঙ্গিমাটি এই ভাষাতেই খাসা। শিল্পী কবি এই ভাষাতেই মনের ছবি আঁকে সুখ দুঃখের গল্প গাঁথা এতেই লেখা থাকে । শত্রু এসে বারে বারে নিষেধ জারি করে মায়ের যত দামাল ছেলে প্রাণের বাজি ধরে। এই ভাষাকে রক্ষা করার শপথ নেওয়া চাই দেশপ্রেমের শক্ত ভিতে ভাষা বাঁচে ভাই। মাতৃভাষাই স্বপ্ন দেখায় সবার দুচোখ ভরে নতুন আশা ভালোবাসার মিলন রশি ডোরে।   =============== দিলীপ সামন্ত বালি দুর্গাপুর, হাওড়া। পিনকোড্ -৭১১২০৫ 

ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান

    ভাষার কথা বি এম মিজানুর রহমান  আমার সোনার বাংলাদেশে নানান রকম লোকের বাস, অঞ্চল ভেদে মাতৃভাষা  শুনে মেটে না রে আশ। ভাষার ভেজাল বাংলা ভাষায় কলকাতাতে ভিন্ন রূপ, নোয়াখালি বরিশালের  ভাষা শুনে কেউবা চুপ! কাউকে দেখি গুরুচন্ডাল কোট প্যান্ট পরা ভদ্র লোক, ভাষার কথা বলতে গেলে মনের মাঝে লাগে শোক। ভাই হারানোর জ্বালা বুকে করছি ভাষার আন্দোলন,  বঙ্গভাষার বিকৃতিতে মনের মাঝে আস্ফালন।  লিখতে পড়তে এসো সবাই  সঠিক বাংলা ধরি আজ, ভাষার জন্য বাঙালীদের গর্বে থাকুক মাথায় তাজ।   ===============     বি এম মিজানুর রহমান, কোটাকোল, লোহাগড়া, নড়াইল, বাংলাদেশ। 

স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র

    স্মৃতির স্বরলিপি সঙ্গীতা মহাপাত্র ​ শহরের নাম এথেলগার্ড। চারদিকে ঝকঝকে তুষারপাত আর অচেনা এক যান্ত্রিক ভাষার কোলাহল। অভিরূপ এখানে থিতু হয়েছে প্রায় সাত বছর। অফিস, বন্ধু-বান্ধব আর প্রাত্যহিক জীবনের সবটুকু এখন ভিনদেশি বুলিতে মোড়া। এমনকি ওর ভাবনার জগতটাও ইদানীং পরদেশি শব্দে সাজানো থাকে।   ​সেদিন অফিস থেকে ফেরার পথে পার্কের এক কোণে একটা ছোট্ট শিশুকে দেখল অভিরূপ। তার মা তাকে নিয়ে বেঞ্চে বসে আছেন। বাচ্চাটা পড়ে গিয়ে হাঁটু ছড়ে ফেলেছে, আর ফুঁপিয়ে কাঁদছে। মা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন অন্য ভাষায়। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ থমকে দাঁড়াল অভিরূপ। ওর মনে হলো, বাচ্চাটা যখন যন্ত্রণায় কাঁদছে, সেই কান্নার সুরটা ঠিক ওর ছোটবেলার মতো।   ​বাচ্চাটা হঠাৎ হাউমাউ করে কেঁদে উঠে তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলল, "মা, লাগছে!"   ​অভিরূপের বুকটা এক নিমেষে কেঁপে উঠল। মা আর বাচ্চাটি আসলে বাঙালি পর্যটক। দীর্ঘ সাত বছর পর নিজের মাটির শব্দগুলো যখন কানে আছড়ে পড়ল, ওর মনে হলো ও এতক্ষণ কোনো এক যান্ত্রিক মরুভূমিতে ছিল। যে শব্দগুলো ও প্রতিদিনের ডায়েরিতে হারিয়ে ফেলেছিল, সেগুলোই আজ ওর রক্তে নাচন ধরিয়ে দিল।   ​সে রাত...

একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান

    একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ রানা জামান সকালের কুয়াশায় শহীদ মিনার জেগে ওঠে পায়ে পায়ে জমে থাকে নীরব শ্রদ্ধার্ঘ্য একুশে ফেব্রুয়ারির মানে তো মাথা নত না করা  এই দিনে ভাষা কথা বলে রক্তের স্মৃতিতে অক্ষর সকল হেঁটে আসে রাজপথ বেয়ে নাম না জানা অনেক মুখ ইতিহাস হয়ে আছে তখন মায়ের ভাষা শুধু ভাষা ছিলো না— হয়ে উঠে প্রতিবাদের অদম্য সাহস। ফুলের তোড়া বা শলাকা হাতে শিশুরা দাঁড়িয়ে  সে জানে না সব গল্প, তবু অনুভব করে ভাষা হারালে কী হারাতে হয় শব্দের ভেতরে লুকিয়ে থাকে আত্মপরিচয়। একুশ তো শিখিয়েছে মাথা উঁচু করে কথা বলতে শিখিয়েছে বিদেশি ভাষায় নয়, নিজের ভাষায় স্বপ্ন দেখতে এই দিনে প্রতিটি অক্ষর পায় নতুন জীবন প্রতিটি উচ্চারণ-ই হতে থাকে দায়বদ্ধ। বিশ্ব জেনে গেছে আমাদের ভাষা নিয়ে উৎসর্গের কথা মাতৃভাষা সীমানা ছাড়িয়ে আজ বিশ্বব্যাপে সমাদৃত একুশ কেবল একটি দিন নয় এখন আর যে  একুশের মানে মাতৃভাষার চিরন্তন অধিকার।

প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী

প্রিয় বাংলা ভাষা চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী   সেজে উঠি ভোরের আলোয় পাখির গানে শিশির ভেজা পথে কলমিলতা ছুঁয়ে কথা বলি ভাটফুলের সাথে। সন্ধ্যার বিগলিত খোঁপায় মুঠো মুঠো জোনাকি মুকুল যেন শ্লেটে আঁকা অ আ ঈ রূপোলিচাঁদ যেন তারই রঙ মাখবে বলে জোছনা হয়ে লুটোয় ধুলোর উপর। মাদলের শব্দ ভাসে মৃগনাভির মতো নাচমুদ্রা গুলি একে একে মেলে ময়ূরপাখা পাঁচালির স্তব আদরে ক্রমশ সবুজ হয়ে উঠে ঘরকন্না। কি দেখছে এমন করে দেখো না দেখো না ভিজতে চাইবে বুকের বেদী মূলে দিগন্ত আলো করে বসে আছে প্রিয় বাংলাভাষা। ===============   Chiranjit Bhandari  Vill+po-shyampur,ps-saltora  Dist:Bankura pin 722158

প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার

  ভাষার অবমাননা গৌতম সমাজদার  মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের অধিকার প্রত্যেক মানুষের জন্মগত অধিকার এবং মাতৃভাষা প্রকৃতপক্ষে মাতৃদুগ্ধ। মাতৃভাষাই শিক্ষার বাহন হওয়া উচিত। মাতৃভাষার গুরুত্ব যাদের সবচেয়ে বেশী হবে, তারা উন্নতও বেশী হবে। যদিও বিশ্বায়নের যুগে ইংরাজীসহ অন্যান্য বিদেশী ভাষার ব্যবহার অবশ্যই কাজে লাগবে, কিন্তু নিজের ভাষা নিয়ে প্রত্যেককে গর্বিত হতে হবে। মাতৃভাষায় দুর্বল হলে বিদেশী ভাষায় সফলতা আশা করা যায় না। কবি মাইকেল মধুসূদন তার উদাহরণ। মায়ের ভাষায় কথা বলে যেভাবে মনের আবেগ, ব্যথা, বেদনা প্রকাশ করা যায়, তা অন্য ভাষায় সম্ভব নয়। সামাজিক, ধর্মীয়, রাজনৈতিক কারণে নিজের মাতৃভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য যখন বিসর্জন দেয়, তখন নিজের জাতি সত্ত্বাটাই হারিয়ে যায়। তবে মানবসভ্যতার বিকাশ ও সার্বিক উন্নয়নে শুদ্ধতম মাতৃভাষার চর্চা খুবই জরুরী। মাতৃভাষার চর্চা অন্য ভাষার শুদ্ধ চর্চা নিশ্চিত করে। মাতৃভাষা গভীর চেতনা ও চৈতন্যবোধের বিকাশ ঘটায়। ভাষাভাষীর দিক দিয়ে বর্তমানে বাংলা ভাষার অবস্থান ষষ্ঠ এবং বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৮ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। দুর্ভাগ্যবশতঃ বাংলা...

আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত

আমার প্রাণের ভাষা মানস কুমার সেনগুপ্ত 'আজি বাংলা দেশের হৃদয় হতে কখন আপনি, তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী ' । বঙ্গ জননীর রূপের মতো , মধুর বাংলা ভাষা মূর্ত হয়েছে দুই বাংলার অগনিত মানুষের প্রাণের ভাষায়। শুধুমাত্র ভাষার জন্য ওপার বাংলার অগনিত মানুষের আত্মবলিদানে, ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটি স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। দুই বাংলার প্রাণের কবি রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল ইসলামের কাব্য, সঙ্গীত, সাহিত্যের সৃষ্টির উত্তরাধিকার বহনকারী অগনিত বাঙালি আত্মগরিমায় জারিত হয়েছে বাংলা ভাষা চর্চায়। কান্তকবি রজনীকান্ত, অতুলপ্রসাদ সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কাব্য, সঙ্গীত সমৃদ্ধ করেছে বাঙালির প্রাণের ভাষা চর্চার ইতিহাসকে। পঞ্চ কবির অফুরান সৃষ্টি বিশ্বের দরবারে বাংলা ভাষাকে গৌরবান্বিত করেছে।  বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় বাংলা ভাষার প্রাথমিক শিক্ষার সোপান। রবীন্দ্রনাথের সহজ পাঠ, যোগীন্দ্রনাথ সরকারের আদর্শলিপি এক ছন্দবদ্ধ স্মৃতিমেদুরতার জন্ম দেয়। বাঙালির সাহিত্য চর্চা সমৃদ্ধ হয়েছে বঙ্কিমচন্দ...

একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায়

  একুশের লড়াই বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায়  ফেব্রুয়ারি মানে একুশ তারিখ—রক্ততে ভেজা ফুল, ভাষার লড়াই আজও চলছে সে হয়নি তা নির্মূল। নিজের কণ্ঠ চাপা পড়ে যায় বোবা শব্দের জলে, ভাষা হারাবার যন্ত্রণাঘন সে বোধ কি ভোলা চলে? চিৎকার যত আটকিয়ে আছে শহর এবং গ্রামে, সেগুলোও বুঝি কিনে নেবে ওরা কোনোদিন দর-দামে! তারপর শুধু শেখানো কথায়—'মেক ফিল ভেরি হ্যাপি', ক্ষমতাবানের প্রচারক হবে মানুষ বিশ্বব্যাপী। বর্ণমালার অক্ষরগুলো জেনে যাবে নিশ্চয়, স্বাধীনভাবে তো কোনোটিই তারা আসলেতে ভাষা নয়। লুট হয়ে গেছে অনুভূতিগুলো, খুন হয়ে গেছে স্বর, প্রাণহীন যত উচ্চারণ তা— সবই যে অবান্তর। ফেব্রুয়ারি তাই স্মরণ করায় রক্ততে ভেজা ফুল, একুশে লড়াই এখনো চলছে—হয়নি তা নির্মূল।   .............................        বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায়। ওল্ড নিমতা রোড, বেলঘরিয়া,  কলকাতা- ৭০০০৫৬।

আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস

    আমার ভাষা অজয় বিশ্বাস  আমার ভাষা বাংলা ভাষা  আমার প্রাণের ছবি, আমার ভাষা মাতৃভাষা  নিয়ে লেখেন কবি। ভাষা নিয়েই ভাষা দিবস  আমরা পালন করি, হৃদয় জুড়ে হৃদয় দিয়ে  ছবিটাকে ধরি। মাতৃভাষা প্রাণের প্রিয়  যেন নয়ন মণি, আমাদেরই বুকের মাঝে  ওঠে তারই ধ্বনি।   ----------------------   অজয় বিশ্বাস, শ্রীনগর, বিরাটী,কলকাতা-৭০০০৫১,

মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু

  ।। মায়ের ভাষা ।।  নজমুল ইসলাম খসরু  মায়ের ভাষায় যাদু আছে  আছে মোহ মায়া,  এই ভাষাতেই কথা বলে  পাই সুখ ছায়া।  মায়ের ভাষায় তৃপ্তি আছে  আছে মধুর সুর,  এই ভাষাতেই বাঁশের বাঁশি ক্লান্তি করে দুর। মায়ের ভাষায় আলো আছে  আছে স্বপ্ন আশা,  এই ভাষাতেই প্রিয় সুজন  জানায় ভালবাসা।  বাংলা আমার মায়ের ভাষা  বাংলা আমার প্রাণ,  এই ভাষাতেই ছড়িয়ে আছে  মন মাতানো  ঘ্রাণ।  ---------------------------------- নজমুল ইসলাম খসরু  লাউয়াই, দক্ষিণ সুরমা, সিলেট  মোবাইল ফোন নং ০১৭১৬১০০৫৫০ ইমেইল mdnazmulislamkhasru@gmail.com

মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায়

    মাতৃভাষা শোভন চট্টোপাধ্যায়  শ্রদ্ধা করি সব ভাষাকে            বাংলা নিয়ে বাঁচতে চাই, মিষ্টি মধুর মা বলা          মায়ের আঁচল শ্রেষ্ঠ তাই। বাংলা ভাষায় অনেক জাদু             শক্তি জোগায় বাংলা ভাষা, বাংলা মায়ের ছড়ার গানে          মায়ের কোলেই কাঁদা হাসা। বাংলা ভাষায় পথ চলা          বাংলা খুশির গানে, ভাষা আজও ফোটায় হাসি            তুফান তোলে প্রাণে। ভাষায় প্রেম উথলে ওঠে           ভাষায় আগুন ঝরা, ভাষায় আছে রোদের উঁকি           বাংলায় রবির গড়া। সাতসমুদ্র পার হয়ে ভাই          বাংলা ভাষায় বলবো হরি, বিশ্ব চূড়ায় জয়ের মালা         বাংলা ভাষার সোনার তরী।    ============ শোভন চট্টোপাধ্যায়  পোস্ট : চন্দননগর  জেলা : হুগলী 

কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন

    মাতৃভাষার স্বাদ রুহুল আমিন বাংলা ভাষার জন্য  বাঙালি দিয়েছে প্রাণ দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ুক বাংলা ভাষার গান। বাংলা বলায় কত তাচ্ছিল্য, কত করছে অপমান তবুও এটাই আমার মাতৃভাষা এটাই নাড়ির টান। এই ভাষাতেই সকল চিন্তা,ভাবনা, কত কল্পনা ও আশা এই ভাষাতেই আমার সকল সুখ, শান্তি ও ভালোবাসা। একুশ মানে রক্তে রাঙা শহীদদের অবদান মাতৃভাষায় রয়েছে বাঙালির আত্ম-সন্মান। ............................... Ruhul Amin Vill- Rahutgaon, P.O- Balia Nawabganj, P.S+DIST- Malda, Pin- 732128

বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ

  বাংলা আমার মা অশোক দাশ আমার ছেলের রক্তে আঁকা  বাংলা মায়ের মুখ, আমার শিশুর কান্না ভেজা কন্ঠে  মা-মা ডাকে অনাবিল সুখ।  ফুটছে শিশুর আধো বোলে কানে শোনা কথা,  প্রথম পাঠে পড়ছে কেমন  আতা গাছে তোতা পাখি যথা। প্রথম চিঠি লাজে রাঙা আবেগে  প্রেম পত্রের  হাতেখড়ি,  মাতৃ ভাষায় মনের কথা প্রাণের কথা  উজাড়  করে  লিখি। বনে-বনে  গাইছে  পাখি  নিজের  ভাষায়  গান,  ছলাৎ-ছলাৎ নদীর বুকে গাইছে মাঝি  জীবন জয়ের আখ্যান।  লুটিয়ে পড়ে পলাশ শিমুল  হাসনুহানা গন্ধে আকুল,  সৌরভে বিকশিত প্রস্ফুঠিত  জোয়ার বানে ভাষায় দু'কূল। সবার  সেরা,  সেরার সেরা  মাতৃভাষা বাংলা আমার মা,  আকাশ ভরা সূর্য তারার মাঝে  শাশ্বত ধ্রুবতারা।  আমার ভাষা   বাংলা ভাষা  অহংকারের   অলংকার,  বিশ্বসভায় শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা  জানে  না  মানতে  হার।  ================ অশোক দাশ  ভোজান, রসপুর, হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। 

একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা

    একুশের গান দীপঙ্কর সাহা আমার প্রিয় ভালোবাসা  বাঙলা আমার মাতৃভাষা।  এই ভাষাতেই তোমায় আমি মা ডেকেছি!  একুশে ফেব্রুয়ারির দিনে রক্ত দিয়ে নিলাম জিনে এইদিনে মা তোমার ভাষার মান রেখেছি।  মাতৃভাষা দিবস নামে জানলো সবে বিশ্বধামে বুকের রুধির বইয়ে দিলাম তোমার তরে।  সেলিম, বরকত, রফিক প্রাণ দিয়েছেন যে সঠিক সঙ্গে আরও ক'জন, বিফল হবে কেমন করে!  ষড়যন্ত্রীর অপশাষণ ব্যর্থ হয়ে হলো পতন রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায় অবশেষে মাতৃভাষা একুশের এই সোনার দিনে শহীদ মিনার গিয়ে বিনে কেমনে কাটাই, তুমি যে মোদের ভালোবাসা।  সবুজ ঘাসে রক্ত গোলাপ রুধিরে মাঠ হয় ছয়লাপ শহীদের বুক চিরে যেন রক্ত মেখেছে ময়দান মাগো তোমার ভাষা আমি সেলাম করি আর প্রণমী একুশের পূণ্যপ্রাতে সবে চলো করি জয়গান। =================== DIPANKAR SAHA SE-3 AJANTA APARTMENT SOUTH OFFICE PARA DORANDA RANCHI 834002 JHARKHAND

মাতৃভাষার প্রতি প্রেম ।। অমিত কুমার রায়

    মাতৃভাষার প্রতি প্রেম অমিত কুমার রায়  ফেব্রুয়ারি মানে প্রেম  ফাল্গুন মানে প্রেম  মাতৃভাষার প্রতি প্রেম বাংলা ভাষার প্রতি প্রেম মানে  একুশে ফেব্রুয়ারীর প্রেম। শহীদদের প্রতি প্রেম  ফুলেদের প্রতি ভালোবাসা  নদীর প্রতি প্রেম সাগরের প্রতি প্রেম পাহাড়ের প্রতি প্রেম  কীলক-লিপির প্রতি ভালবাসা সে আমার বাংলা ভাষা।  ঢাকায় এবং শিলচরে যে  ভাষার জন্য রক্ত ঝরে সে  ভাষার নাম বাংলা ভাষা।  আমার পঠন পঠনের ভাষা আমার মুক্ত কথা বলার ভাষা আমার কবিতা লেখার ভাষা 'আ মরি বাংলা ভাষা'।    =============      অমিত কুমার রায়  ঝিখিরা জয়পুর হাওড়া ৭১১৪০১

বাংলা আমার ।। সাইফুল ইসলাম

বাংলা আমার সাইফুল ইসলাম বাংলা আমার মাতৃভাষা বাংলা জীবনানন্দ বাংলা গানে পাগল আমি বুঝিনা ভালো মন্দ। বাংলায় আমি রবি দেখি বাংলায় নজরুল প্রাণ জুড়ানো ভাষায় সদা মন থাকে মশগুল। সূর্য ওঠে মাঝির গানে ডোবে বাউল সুরে বাংলা নামের স্বর্ণতাজ ঘোরে বিশ্বজুড়ে। রক্ত দিল জব্বার বরকত রক্ষীতে এ ধন রক্তে রাঙা বাংলা ভাষা জানে সর্বজন। ধন্য আমার জন্ম যেথা রক্ত মাখা ভাষা সবুজ মায়ের টানেই যেন আবার ফিরে আসা। স্নিগ্ধ সমীর পাখির কুজন মাঝির সুরে গান সঞ্জীবনী সুধা হয়ে জুড়াকনা এ প্রাণ। আমার একুশ থাকো তুমি আমার হৃদয় কোনে বোনো বাসা নিরিবিলি যেমন বাবুই বোনে। ------------------    সাইফুল ইসলাম বর্ধনপাড়া, বীরভূম 

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

নিবন্ধ ।। বাংলায় কথা বাংলায় কাজ ।। চন্দন দাশগুপ্ত

বাংলায় কথা বাংলায় কাজ  চন্দন দাশগুপ্ত   ডবলিউবিসিএস পরীক্ষার ইনটারভিউ দিতে ঢুকে দেখলাম, ছজন পরীক্ষক টেবিলের উল্টোদিকে বসে আমাকে পর্যবেক্ষণ করছেন। জানি, এনারা প্রত্যেকেই প্রশাসনের এক একজন দুঁদে আমলা। নমস্কার করতেই গম্ভীর গলায় চেয়ারম্যান বললেন, -----টেক ইওর সীট অ্যান্ড টেল মি ফাইভ সেন্টেন্স অ্যাবাউট ইওরসেল্ফ ।         আমি বাংলায় বলতে শুরু করতেই বাধা পেলাম,  ------স্পিক ইন ইংলিশ। আর য়ু নট কনফিডেন্ট ? ------আমি অবশ্যই কনফিডেন্ট স্যার। কিন্তু আমার মনে হয়, যেহেতু আমি বাঙালী আর বাংলা আমার মাতৃভাষা, তাই আমি ইংরেজির চেয়ে বাঙলাতেই অনেক বেশি স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারব। ------সে কী কথা ! আপনি পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ চাকরী করবেন, আর ইংরেজী বলবেন না ? ------দরকার হলে, এবং আপনারা চাইলে অবশ্যই বলব স্যার। তবে আমার মনে একটা প্রশ্ন জেগেছে। ------তাই নাকি ! কী প্রশ্ন  ? ------স্যার, কয়েকদিন আগে খবরের কাগজে দেখলাম, কলকাতা হাইকোর্ট থেকে একটা বিশেষ টিমকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, কোর্টের কাজকর্ম কিভাবে বাংলায় করা হচ্ছে সেটা দেখেশুনে আসতে। কারণ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

ছোটগল্প ।। মনোকষ্টে বাবলা ।। দীপক পাল

মনোকষ্টে বাবলা দীপক পাল পয়লা বৈশাখে হালখাতা করতে গিয়ে যা বেহাল অবস্থায় পরেছিল তিন মক্কেল তারপরে বাড়ীতে মা বাবার যা বকুনি জুটেছে তা আর বলার নয়। তিন মক্কেলও ঘর থেকে বেরোয়নি। তৃতীয় দিন সকালে বাবলার বাবা বাবলাকে বলে, - ' জানিস আজ সকালে দিদি ফোন করেছিলো আমরা কেউ গিয়ে একবারও দেখা সাক্ষাত করি না কোন খোঁজ খবর করিনা আমরা কেমন আছি। তাই আমি ঠিক করেছি এই টাকাটা নিয়ে তুই একবার ঘুরে আয় সোনারপুর। ' -' আজ যাবনা বাবা। একা যেতে ইচ্ছে করেনা , কাল বিশ্বরূপ ও সৌম্যকে নিয়ে যাব।' - ' আচ্ছা তাই যাস যদি ওরা যায়। তবে আরো কটা টাকা নে।' বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপকে ফোনে সন্ধে সাতটার সময় পার্কে আসতে বলল। বললো অনেক কথা আছে।  যথারীতি সন্ধে সাতটায় পার্কে সবার দেখা হলো। কিছুক্ষণ সাধারন কথাবার্তা চলার পর অটোমেটিক হালখাতার সন্ধের ঘটনার কথাটা উঠলো। এবার আর কোন বিরক্তি বা রাগের কথাতো উঠলেই না কোন দোষারোপ না। সবাই খানিক মজা আর হেসে লুটোপুটি খেলো। এর মধ্যে সৌম্য হঠাৎ বলে উঠলো, - ' আচ্ছা বাবলাদা তুমি হঠাৎ আমাদের পার্কে ডেকে পাঠালে কেনো, কি ব্যাপার?' - ' কেন, আমি তোদের ডাকতে পা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...