Skip to main content

Posts

মুক্তগদ্য ।। বলিদান ।। দীননাথ চক্রবর্তী

         বলিদান দীননাথ চক্রবর্তী বলিদান এর মধ্যে ভীষণভাবে থাকে ভোরের রাঙা সূর্যের ভাবনা। এই ভাবনায় জারিত নব প্রাণ -এর ভ্রূণ। এক কথায় কোন মহৎ উদ্দেশ্যকে গড়ে তোলা। কোন কিছু গড়ে তোলার জন্য দরকার তিনটি জিনিসের। এক ভাবনা। ভাবনা প্রাণ পায় বিশ্বাসে। আর বিশ্বাস প্রাণ পায় প্রত্যয় থেকে। তবেই একটা জিনিস গড়ে ওঠে। আগস্ট মাস সেই ভাবনার মাস। বিশ্বাস প্রত্যয় এর মাস। আগস্ট মাস স্বাধীনতার মাস। জীবনে স্বাধীনতার মত পরম সঙ্গী কিছু হতে পারে না।  সেই স্বাধীনতা লালিত পালিত হয় জন্মভূমিতে। সেই জন্মভূমির শৃঙ্খলে লংঘিত হয় স্বাধীনতা। জীবন তখন মরনেরই নামান্তর। সেই জন্মভূমি শুধুমাত্র ভৌগলিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। সমাজও সেই স্বাধীনতার ক্ষেত্র। মনের স্বাধীনতা না থাকলে পূর্ণতা পায় না সে স্বাধীনতা। বীর শহীদদের বলিদান তখন অর্থহীন হয়ে পড়ে। আজকে যেন তারই ইঙ্গিত। সকলকে বুঝতে হবে স্বাধীনতা মানে শুধু অধিকার নয়, কর্তব্যও। ====================== দীননাথ চক্রবর্তী কল্যাণীকুঞ্জ গ্রাম ও পোষ্ট, দুইলা, জেলা, হাওড়া সূচক,711302

মুক্তগদ্য ।। অগ্নিকন্যা ।। সুচন্দ্রা বসু

অগ্নিকন্যা সুচন্দ্রা বসু    দুধ আনতে বেরিয়েছিলাম সকালে। শুনলাম আজ স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর উপলক্ষ্যে স্বদেশী গান বাজছে মাইকে। তা ছাপিয়ে এক অদৃশ্য স্বর এসে কানে ধাক্কা দিল। শুনলাম গান্ধীজী যেন কাকে ডেকে বললেন, কোথায় গেলি কমলা? লবণ আন্দোলনে আমার সঙ্গে ছিলি তোকে কি ভুলতে পারি? তাকিয়ে দেখলাম নেতাজীও গান্ধীর পেছনে চলেছেন । দেশবাসী জানে ব্রিটিশ পরাধীনতার শিকল ভাঙতে তোমার নেতৃত্বে, 'আইন অমান্য' ও 'অসহযোগ আন্দোলন'- 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের ঢেউ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশে। কথাগুলো কানে যেতে মুখ ঘুরিয়ে গান্ধী বিস্মিত, সুভাষ তুমি?  আপনাকেই খুঁজছি বাপু।  জানতে চাইছিলাম  যেসব সংগ্রামী জনগণ দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিল, যাদের তাজা রক্তে ভারত স্বাধীন হয়েছে,তাদের কথা কি মানুষ  মনে রেখেছে?  এইদিনে কমলাকেও শ্রদ্ধা জানানোর কথা দেশবাসীকে বলতেই তো রেড রোডের দিকে যাচ্ছিলাম।  বাবা সরকারি আমলা হলেও,মা গিরিজাবাই  ছিলেন  স্বাধীনচেতা মহিলা। মায়ের আদর্শে কমলা উদ্বুদ্ধ ।  বাড়িতে আনাগোনা ছিল মহাদেব গোবিন্দ রানাডে, গোপাল কৃষ্ণ গোখলে, অ্যানি বেসান্ত, রাম...

কবিতা ।। স্বাধীনতা ।। অনিন্দ্য পাল

স্বাধীনতা  অনিন্দ্য পাল  এক.  স্বাধীনতা  এনার বয়স এক এক দেশে এক এক রকম  ভারতে মাত্র পঁচাত্তর কি ছিয়াত্তর  পৃথিবীর বয়স যদি নাও ধরি  মানুষের বয়সের তুলনায় ইনি নিতান্তই  শিশু  এখনো প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ হয় নি  ভাষা শিক্ষাও হয় নি এখনো পুরোপুরি  তবে ইতিমধ্যেই ইনি যেটা খুব ভালো শিখেছেন  সেটাকে ফুটপাতের ভাষায় বলে বাজার  এই দেশে এখন বাজার হয়েছে দেবতা  তার লাল চোখে ভয় পায় রাজা এবং প্রজা  কী বললেন?  রাজা নেই?  প্রজাও নেই?  কে বলে?   দিব্বি আছে রাজা  প্রজারাও আছে বেশ  অলিতে গলিতে মাঠে ঘাটে নগরে বন্দরে  কাগজে টিভিতে আছে কালো চুল বা পক্ককেশ  রাজারা আছেন সভায়, ভবনে এবং চেয়ারে  রাজাদের নাম লেখা থাকে অনেক উঁচুতে যত্নে এবং কেয়ারে  মঞ্চ আলো করে এসে বসেন সম্রাট  কত প্রজা আছে তাঁর সীমানায় গুনে নেন রাজপাট  তবে বলতে পারো মুকুটের দিন শেষ  বলতে পারো প্রজাদের গলাটা একটু উঁচু এখন  জিরাফের মত না হলেও পৌঁছে যাচ্ছে  কুর্সির হাঁটুর কাছে,  কিন্তু ব্যস্ ওটুকু...

কবিতা ।। আগস্ট এলেই ।। বদরুল বোরহান

আগস্ট এলেই বদরুল বোরহান  আগস্ট এলেই বুকের ভেতর কষ্ট জেগে ওঠে,  চোখ দুটোতে অস্বাভাবিক অশ্রুধারা ছোটে। কষ্টগুলো এলোমেলো এবং আড়াআড়ি,  বুকের ভেতর সন্ধ্যে-সকাল করে বাড়াবাড়ি।  আগস্ট এলেই বুকের ক্ষতে কান্না জেগে ওঠে,  তখন আমার হুঁশ থাকে না, জ্ঞান থাকে না মোটে। আমি তখন যাই হারিয়ে হাজার স্মৃতির ভীড়ে, স্মৃতির পাতায় দুখ জাগানি ব্যাথার বাঁধন ছিঁড়ে। আগস্ট মাসে অজানা এক অনুভূতি এসে, আমার সকল চিন্তাধারা একদিকে যায় ভেসে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছবি,  উদাস বাউল এই আমাকে বানায় শিল্পী, কবি।                      ---------------------- বদরুল বোরহান  ফ্ল্যাট নং-৬০২, বিল্ডিং নং-১  জাপান গার্ডেন সিটি  আদাবর, মোহাম্মদপুর। ঢাকা-১২০৭

কবিতা ।। স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় ।। দেবযানী পাল

স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় দেবযানী পাল স্বাধীনতা শব্দটায় একটা উন্মাদানা আছে যা আমাদের প্রাণ স্পন্দন আরও বাড়িয়ে দেয়। ২০০ বছরের অভিশাপগ্রস্থ পরাধীনতার হাত থেকে যেদিন আমরা মুক্তি পাই ইংরেজদের শাসন কোলাহল থেকে, ভেবেছিলাম আমরা এবার বোধহয় স্বর্গরাজ্যে বাস করব, এমন অদ্ভুত অনুভূতি আমাদের ভারতবর্ষের প্রত্যেকের মনে জাগ্রত হয়েছিল। কিন্তু হায়রে স্বাধীনতা, যা আজ লোহার বেষ্টনীর মতন আমাদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে। স্বাধীনতার কপটতায় আজ চোর সাধু, মেয়ে পুরুষের পাশ্চাত্যের ঔদ্ধত্য উগ্রতা আজকে বল্গাহীন, আজ মাতৃভাষা সাবেকি, যেখানে ইংরেজি ভাষা যুগান্তর সৃষ্টি করেছে। হে আমার ভারত মা,তোমার কি এটাই কাম্য ছিল নাকি পরাধীনতার শৃংখল সেটা তবু অনেক ভাল ছিল? বিপ্লব বিপ্লবীদের ইতিহাস আজ বইয়ের পাতায় যা শুধুমাত্র পরীক্ষার খাতায় নম্বর আদান প্রদান করে। ধর্ষণ, খুন,রাহাজানি,রাজনৈতিক হিংসা আজ ভারতের মাটিকে কালিমা লিপ্ত করেছে। হে ভারত মা, পরাধীনতার আঁচলের নিচে তবু তো তোমার নিজস্বতা ছিল ওই দেশপ্রেম, আজ স্বাধীনতার তীব্র যাতনায় তুমিও ওই স্বাধীনতা সংগ্রামীর মতো বলো, ইংরেজের চাবুকটাই ঠিক ছিল। এ কোন্ সকাল রাতে...

অণুগল্প ।। তরাস ।। চন্দন মিত্র

তরাস চন্দন মিত্র ভোট শেষ হয়েছে। গণনাও শেষ। গতকাল ফলাফল ঘোষিত হয়েছে। স্কুল-কলেজ-অফিস-কাছারি যথারীতি খুলে গেছে। ট্রেন থেকে নেমে অটো-ড্রাইভারের বামপাশের সিটে বসে প্রতিদিনের মতো বাঁদিকের দৃশ্য দেখতে দেখতে যাচ্ছি। একজন যাত্রী হাত দেখালে গাড়ি থেমে যায় । ছাড়ার আগেই   এক বন্ধ দোকানের দরজায় একটি নিরুদ্দিষ্ট বিজ্ঞাপনে চোখ পড়ে — একটি কিশোরীর ছবি। কিছুক্ষণ পরে আবারও গাড়ি থামে এক যুবক নেমে যায়। সেই ফাঁকে আমার চোখ টেনে নেয়   ল্যাম্পপোস্টে সাঁটানো আর একটি নিরুদ্দিষ্ট বিজ্ঞাপন; পাশাপাশি একটি বালক ও একটি যুবকের ছবি। অফিসের স্টপেজে নেমে পড়লাম। যে দোকানে প্রতিদিন চা খাই, সেই দোকানের দেয়ালেও দেখি এক দম্পতির ছবি সম্বলিত একটি বিজ্ঞাপন । সব বিজ্ঞাপনগুলি বেশ স্পষ্ট ঝকঝকে সম্ভবত গতকাল সন্ধ্যায় অথবা আজ সকালে সাঁটানো হয়েছে। পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের নাগরিক আমি , চা হাতে নিয়ে একটি সিগারেট ধরিয়ে ফেলি। যতদূর মনে পড়ে বিগত বছর দশেক আমি সিগারেট ছুঁইনি। ================ চন্দন মিত্র ভগবানপুর (হরিণডাঙা) ডায়মন্ড হারবার , দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা। ...

কবিতা ।। জলবাতাস ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়

জলবাতাস অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় একটা দৃশ্যমান রেখা তার ওপর এখন কাঁটাতার প্রায় শতবর্ষের কাছে কাঁটাতারের এদিকে... সেই কবে ফেলে আসা ভূমিখণ্ড তবুও হৃদয়ের ওপর কখনও কখনও রেখাচিত্র পাবনা কলোনি রোড় এঁকে বেঁকে চলে গেছে চাকদহ থেকে পায়রাডাঙা... সেই কবে ছেড়ে আাসা পাবনা, বগুড়া, কুষ্টিয়া... এরকম বহু জন পথ তবুও পিঠের ওপর এক যন্ত্রণা হেঁটে যেতে যেতে দোকানের সাইন বোর্ড দেখে আর বিড় বিড় করে উচ্চারণ করে রাস্তার নাম তখন পুরোনো ভূমিতল থেকে উড়ে আসে এক টুকরো মেঘ ও জলবাতাস... ======================== @ অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়,  বেহালা, কলকাতা -৭০০০৬০  

কবিতা ।। স্বাধীনতা তুমি কার ।। হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়

স্বাধীনতা তুমি কার হীরক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাধীনতা তুমি কার রাস্তা যেমন কারো বাবার নয় প্রতিবাদও তেমন কারো একার নয়,  স্বাধীকার, স্বাধীনতা তাহলে  তুমি কার ছাব্বিশে জানুয়ারী  নাকি পনেরই আগষ্টের তেরঙ্গা পতাকার  ভালবাসার সাথে দলবেঁধে গুন্ডামির কোনও স্থান  থাকা উচিত নয় আপনি আপনার মতো প্রতিবাদ করুন সত্যের পক্ষে ন্যায়ের পক্ষে মানবতার পক্ষে কথা বললে আপনার পিছনে বাউন্সার লেলিয়ে দেবে এতো শুধু একালের নয় সর্বকালেই ছিল দ্য ভিঞ্চি অথবা গ্যালিলিওকে কি না করেছিল... আহা স্বাধীনতা তুমি বিনয় বাদল  ক্ষুদিরাম  তুমি  সুভাষ  বোসের  স্বাধীনতা তুমি বীর শহিদের গোলাপে যদি কাজ না হয় রাইফেল তুলতে হতে পারে হাতে, ভিয়েতনাম কিম্বা কম্বোডিয়া কিউবা কিম্বা তিউনিসিয়া নিয়ে কথা হতে পারে কিন্তু যখনি হাঁসখালি কিম্বা ফুলবাগান নিয়ে হিন্দু বৌদ্ধ জৈন খ্রীষ্টান তখন এক বাড়ির দেওয়ালে বড় বড় করে লিখে দিয়ে যাবে ...এসব চলবে না... তখন, তখন স্বাধীনতা তুমি কার  একশ পঞ্চাশ কেস , তিনশ পঞ্চাশটা আইনভঙ্গ সাতশ তিরিশটা দুর্ব্যবহার ...বন্ধুবান্ধব সব একে একে কেটে পড়বে ...আরবি ফার্সি বা ...

কবিতা ।। শব্দ ওঠে ।। সুমিত মোদক

শব্দ ওঠে সুমিত মোদক আকাশের নাম দিয়ে ছিলাম হৃদয় ; আর বাতাসের নাম সুখ ; অথচ , মাটির কোনও নাম দেওয়া হয়নি ; কারণ , মাটি যে আমার মা … আকাশে এখন গভীর কালো মেঘ ; বাতাসে এখন কেবল মৌনতা … স্রোতের বিপরীতে হাল টানে নৌকার মাঝি , পথ চেয়ে বসে আছে মা … পাড়া-গাঁয়ে এখনও অন্ধকার ; অথচ , তুলসী তলায় প্রদীপ জ্বালে আটপৌরে বউ ; মরদ যে তার মিছিলে মিছিলে হাঁটে … দাওয়ায় বসে কে যেন পড়ছে সম্রাট অশোকের ইতিহাস , ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ … আমি যে কেবল পথিকের সঙ্গে হাঁটি  যুগ থেকে যুগান্তরের পথে ; সারা শরীরে সোঁদা মাটির গন্ধ … হঠাৎ করে ঝড়ের পূর্বাভাস ; উড়ন্ত পাখিরা আশ্রয় টুকু খুঁজে নিতে চায় ; আমার মা আকাশে ওড়ায় পতাকা ; সেখানেও শব্দ ওঠে – পতপত…পতপত …

ছড়া ।। স্বাধীনতা ।। বিদ্যুৎ মিশ্র

স্বাধীনতা  বিদ্যুৎ মিশ্র বীর শহিদের বলিদানে  রক্তে রাঙা পথ ভুলিনি আজ আগুন ছুঁয়ে  নিয়েছি যে শপথ। কতো কতো মাতৃ আঁচল  শূন্য হলো ঘরে বিধবাদের চোখের জলে  ব্যথায় হৃদয় ভরে । পিতৃহারা অবোধ শিশুর  কান্না শুনে লোকে অস্ত্র যখন তুলে নিল  ভুলে নিজের শোকে । প্রতিবাদের মশাল জ্বেলে  স্বাধীনতার জন্য  বলিদানের পর্বে লেখা  বাংলা আমার ধন্য । ================ বিদ্যুৎ মিশ্র কাশীপুর, পুরুলিয়া।

ছড়া ।। স্বাধীনতা দিবস পালন ।। অমরেশ বিশ্বাস

স্বাধীনতা দিবস পালন অমরেশ বিশ্বাস  বলবে না কেউ আজকে কারো দুঃখ শোকের কথা মন দিয়ে আজ পালন করো দেশের স্বাধীনতা। বুকের কথা ভুলেও মুখে আনবে না কেউ আজ স্বাধীনতা শুনতে পেলে পাবে খুবই লাজ। স্বাধীনতা এসেছিল  প্রাণের বিনিময়ে  নেই ইংরেজ তবু দেখি মানুষ আছে ভয়ে। নির্বাসনে আছে আজও  কত মুখের হাসি  স্বাধীন দেশে কত মানুষ  কেন ফুটপাথবাসী? কত আশা নির্বিচারে  যায় অকালে ঝরে কত মানুষ পায় না খেতে দুইবেলা পেট ভরে। স্বাধীনতা দিবস পালন  করছি সবাই আজ  পণ কর আমরা ঘোচাব ভারত মাতার লাজ।

ছড়া ।। স্বাধীনতা স্বাধীনতা ।। গোবিন্দ মোদক

স্বাধীনতা! স্বাধীনতা!! গোবিন্দ মোদক   স্বাধীনতা মানে স্ব-অধীনতা, পরাধীনতার মুক্তি, লক্ষ ঝিনুক মাঝে যেমন একটি আসল শুক্তি।   স্বাধীনতা মানে নিজের শাসন, নিজের নিয়ম নীতি, পূর্ণ মনের উৎসাহ ভরা, নেই শোষণের ভীতি।   স্বাধীনতা সেই মহার্ঘ্য যা অনেক কষ্টে পাওয়া, দু'শো বছরের পরাধীনতা শেষে নিজেদের গান গাওয়া।   কতো না আত্মত্যাগে আর রক্তের বিনিময়ে, দেশপ্রেমিক বিপ্লবীরা প্রাণ দেয় শয়ে-শয়ে।   অবশেষে আসে স্বাধীন-সকাল, মুক্ত পাখির গান, আবেগে কবি লিখে ফেলে স্বাধীন দেশের গান।   স্বাধীনতার নবচেতনায় জেগে ওঠে দেশবাসী, স্বাধীন দেশের দেশমাতৃকা হাসেন মধুর হাসি।   মুক্তকণ্ঠে গাও আজ ভাই স্বাধীনতারই গান, দেশপ্রেমের অরুণ আলোয় জাগুক সকল প্রাণ॥ ============================= গোবিন্দ মোদক।  রাধানগর, ডাক- ঘূর্ণি, কৃষ্ণনগর, নদিয়া।  পশ্চিমবঙ্গ, ভারত,

কবিতা ।। জেগে আছে সময় ।। কাকলী দেব

জেগে আছে সময়      কাকলী দেব  উড়ে যাওয়া সময়ের হাত ধরতে চাই  বিফলতার অনুভবে, বসে আছি আজও -- ব্যথাদের গায়ে হাত বোলাই,  মনোনিবেশ সহকারে!  তবু জীবন  কেটে যায়, সময়  কাটে না! সবার জীবনেই একবার তুমি এসে দাঁড়াও  মানুষের ছদ্মবেশ বলে, আমরা চিনতে পারি না! সেই মহার্ঘ্য সময় শেষ হলে, চেতনা জাগে-- তারপর শুধুই খুঁজে ফেরা, সময় দ্রুত ফুরায়, হায়! যে সময়কে জীবন বলে, তার কতটুকুই বা, প্রকৃত নিজের! সহজ সরল আনন্দ  হারিয়ে যায়!                 =========  

কবিতা ।। সেদিন আমরা ।। বদ্রীনাথ পাল

সেদিন আমরা বদ্রীনাথ পাল এই স্বাধীনতা চাইনি আমরা রক্তের বিনিময়ে- যেখানে মানুষ রবে চিরকাল অন্ধ ও বোবা হয়ে। স্বার্থান্বেষী মানুষজনেরা শুধু গরীবের বুকে- লাথি মেরে যাবে দিবস রাত্রি স্বার্থসিদ্ধি সুখে। অন্নের মুখ দ্যাখে নাকো যারা অন্ন যোগায় পেটে- স্কুল ছেড়ে কেন সন্তান তার ইটভাটা যায় হেঁটে ? রক্তের হোলি কেন খেলা হয় ধর্ম জিগীর তুলে- বেকার যুবক পড়ে মার খায় সেও বলো কার ভুলে ? যেদিন মানুষ ভরা পেটে রবে-বসন জুটবে গায়ে, দিনের শেষে ফিরে যাবে ঘরে হাসিমুখে পায়ে পায়ে- খুশির প্রদীপ জ্বলবে যখন কারো কারো ভাঙা ঘরে- সেদিন আমরা স্বাধীনতা- গান গাইবো হৃদয় ভরে। ---------------------------------  বদ্রীনাথ পাল বাবিরডি, পোস্ট-গৌরাংডি, জেলা-পুরুলিয়া

কবিতা ।। স্বাধীনতা ।। আশীষ হাজরা

স্বাধীনতা  আশীষ হাজরা ও ফেলানী  ঐ দেখ স্বাধীনতার পতাকা  ঐটা আমার দেশের পতাকা  আমরা এখন স্বাধীন । ও বৌদি, বোঁদে কখন দেবে গো  ছেলেটা আর কথা শুনছে না, ঘরকে যেতে হবেক রান্নার কাঠ নাই  চাল আছে- আনাজ নাই  ঘরে রুগী ওষুধ নাই, কখন শেষ হবেক  তোমাদের স্বাধীনতা।।

কবিতা ।। প্রলয় ।। হামিদুল ইসলাম

প্রলয় হামিদুল ইসলাম       খুব সহজেই পেরিয়ে যাই অতলান্ত ভূবন কথার জমিনে গেঁথে রাখি স্বপ্ন দুচোখে মায়া ঘুমঘোর আজও নীরব ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে পথের ঈশ্বর   ।। সেজে ওঠে চৌরঙ্গী শাওণে ভেসে যায় রাত তবু বৃষ্টি নেই কতোদিন হৃদয়ের আঙিনায় খাঁ খাঁ শূন্য মাঠ   ।। কথা দিয়ে আঁকি কথার বসত সব কথা হয়ে ওঠে নিষ্ফল আবেদন সব কথা হয়ে ওঠে উদাস দলিত সময়ের বুক চিরে বেরিয়ে আসে ঝড়ের সংকেত   ।। ঝড় ঝড় কথা ঝড় ঝড় যুদ্ধের বার্তা ঝড়ের বুকে প্রলয় আঁকে নিরন্ন মানুষের কান্না    ।। ------------------------------------------------------------------------ হামিদুল ইসলাম গ্রাম +পোষ্ট = কুমারগঞ্জ। জেলা =দক্ষিণ দিনাজপুর।

কবিতা ।। জোনাকি ।। নিরঞ্জন মণ্ডল

জোনাকি নিরঞ্জন মণ্ডল যখন সবে হচ্ছে সাকার এই জগতের মায়া চোখের তারায় আঁকছি আকাশ মাটির অমল কায়া ভাবনা জুড়ে দিচ্ছে নাড়া জোয়ার নদীর ঢেউ দেখতে পেলেম নিপাট একা নেইকো পাশে কেউ। বাবা মায়ের সরব ছবি নিটোল হওয়ার আগে 'নেইকো তারা'-এই কথাটাই চেতন জুড়ে জাগে ; এই জগতের দুঃখ খুশির সকল বাঁধন ছিঁড়ে হারিয়ে গেল কোন ইসারায় নিরুদ্দেশের ভিড়ে! শরীর জোড়া যন্ত্রনাতেও পাই না কাজে ছুটি, ঘুম জড়ানো দু'চোখ তবু কোন সকালে উঠি দিনের হাজার কাজের মাঝেই ঘুমিয়ে পড়ি যেই লুটিয়ে জাগি ভুঁয়ের 'পরে,হারাই বাঁচার খেই! ভাবনা জুড়ে বাবা মায়ের পরশ খোঁজার ফাঁকে ককিয়ে উঠি চুপ-যাতনায় নতুন সে এক বাঁকে বাঁচতে চেয়ে, চোখের জলেই রাতটা আসে নেমে বেঁচে থাকার স্বপ্ন ছিঁড়ে ভাবনারা যায় থেমে। শরীর জোড়া ঘুম কেড়ে নেয় ভুখা পেটের জ্বালা শিথান পাশে আলতো জাগে গরম ভাতের থালা বুক জুড়ানো গন্ধতে তার হাতটা বাড়াই যেই ঘুম ছুটে যায় পিচ-আঁধারে,কোত্থাও কেউ নেই! চোখ-নাগালে জোনাক কিছু মিটমিটিয়ে জ্বলে মার আঁচলের গন্ধ ছড়ায় হাওয়ার চলাচলে। পিঠের 'পরে বুকের 'পরে বাবার পরশ পাই, নাগাল পেতে যেই চেয়েছি আর সে ছোঁয়া নাই! পথের পাশের হট্টমেলায় কাজ এড়িয়ে যাই ...

কবিতা ।। স্বাধীন দিনে ।। বিবেকানন্দ নস্কর

স্বাধীন  দিনে বিবেকানন্দ নস্কর স্বাধীনতা দিনটা এলে ঘোরের মধ‍্যে থাকি পিছন ফিরে জলভরা চোখ,তাকেই কাছে ডাকি। স্বাধীনতায় কি এসে যায়, ভাবছে যারা ফাঁকি স্বাধীন দিনে সুখের  আলোয় ভরলো তাদের  আঁখি । অনেক অভাব অনেক দাবী অনেক অভিযোগ  সবার মনে লুকিয়ে  আছে যাপনের দুর্ভোগ । তবুও স্বাধীন  ভাবলে মনে অন‍্য রকম জোর দুচোখ মুগ্ধ তাকিয়ে  দেখি স্বাধীন দিনের ভোর । পিছিয়ে  যারা অন্ধকারে হাঁটছে কাঁটা পথ উল্টো স্রোতে এগিয়ে  চলে অন‍্যরকম মত । দেশের কথা দশের কথা  তাদের  কাছে টানে ভুলকে ছেড়ে ফুল বুকে নেয় নিজের  স্বাধীন দিনে । আত্মত‍্যাগের গাথাবলী স্মরণ করে খুশি ছড়ায় আলো সবার মুখে স্বাধীনতার হাসি । স্বাধীনতার স্বপ্প আলো মগ্ন শহীদ  স্মৃতি স্বাধীন দিনে স্বাধীন ভেবে অন‍্য অনুভূতি ।

ছড়া ।। শিকল ভাঙার গান ।। বাসুদেব সরকার

শিকল ভাঙার গান  বাসুদেব সরকার  নিরীহ সব মানুষের পা'য় শিকল পরায়, বাঁধে-  স্বাধীনতা আঁতুড় ঘরে  বন্দি হয়ে কাঁদে।  স্বাধীনচেতা মানুষগুলো  শিকল ফেলেন ছিঁড়ে,  স্বাধীনতার জন্য ব্যাকুল   প্রাণপণে যান লড়ে।  ক্ষুদিরাম ও নেতাজীদের  শিকল ভাঙার গানে,  বাঙালিরা ওঠেন জেগে  শক্তি সাহস মনে।  অবশেষে শিকল ভেঙে  বাঙালিদের জয়,  বিদায় হলো ব্রিটিশ বর্গী  নেই কোনো আর ভয়।  ================= ◾বাসুদেব সরকার,  চরভৈরবী, হাইমচর, চাঁদপুর, বাংলাদেশ।

ছড়া ।। আসল স্বাধীন হবো ।। জগদীশ মন্ডল

আসল স্বাধীন হবো  জগদীশ মন্ডল মুক্তির জন্য জান দিয়েছে আমার দেশের ভাই, স্বাধীন হয়ে স্বাধীন দিনে তাদেরই গান গাই। স্মরণ করি বীর যোদ্ধাদের যাদের অবদানে, ইংরেজ শৃংখল মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা আনে। উড়িয়ে দিই বিজয় কেতন দেশের ভবিষ্যৎ, ত্রিবর্ণ রঙ পতাকাটি এগিয়ে চলার পথ। এগিয়ে গেছি কিন্তু কী কেটেছে অন্ধকার, অশিক্ষার কালি দূর হলো হলো কার উপকার ? আসল স্বাধীন হবো তখন সব হাতে কাজ পাবে, দু-বেলা, দু-মুঠো খাবার সবাই মিলে খাবে। ******************************** ঠিকানা::জগদীশ মন্ডল।।নতুন পুকুর রোড।।চড়কডাঙা।।পোস্ট::বারাসাত।। কলকাতা::700124

কবিতা ।। স্বদেশ ।। অজিত কুমার জানা

স্বদেশ  অজিত কুমার জানা  স্বদেশ আমার, স্বদেশ তোমার,      অমূল্য সোনার মাটি। তোমার আলো, বাতাসের ছোঁয়ায়,       দেশের মানুষ খাঁটি।। ভিন্ন ভাষা ,ভিন্ন জাত,      তবুও একতা সবাই।  হিংসা, দ্বেষ সব ভুলে,       মিলনের গান গাই।। বন্যা খরায় বেড়েছে অনাহার,      আমরা ধরেছি হাত।  অসহায় অভুক্তের মুখে মুখে,       দিয়েছি তুলে ভাত।। বিপদ এলে শত্রুকে রুখবো,      বাঁচাবো তোমার সম্মান।  স্বদেশ আমার জননী জন্মভূমি,       তুমি চির অম্লান।। ==================== অজিত কুমার জানা  গ্রাম +পোষ্ট-কোটরা, থানা-শ্যামপুর, জেলা-হাওড়া, পিন-৭১১৩০১, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত। 

কবিতা ।। আমার স্বাধীনতা ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল

আমার স্বাধীনতা  ভুবনেশ্বর মন্ডল আমি কোন খাঁচা নয় একটা আত্মবিশ্বাসের আকাশ চাই যেখানে একটা সূর্য আছে আর মিঠা জলের সমুদ্র মাথার উপরে নিরাপদ ছাউনি পায়ের তলায় স্নেহশীল মাটি আর অন্নবস্ত্রের সহজাত অধিকার এটাই আমার স্বাধীনতা আমার স্বদেশ আমার পৃথিবী আমার ফুসফুসে গল্প করবে পৃথিবীর যত অক্সিজেন মূল্যবোধ ও মানবতা জড়িয়ে ধরবে মানুষের গলা আমি চিনে নেব মাটিকে আর মানুষকে যত কান্না সব মুছে দেবো ভালোবাসার রুমালে আমি গাছের মতো শুষে নেব সূর্যকে আপন সত্তায় শিকড়ে শিকড়ে হেঁটে যাবো চেতনার বাড়ি যে অন্ধকার খেয়ে নিচ্ছে আমার স্বদেশ আমার পৃথিবী আমি আমার স্বাধীনতায় তাকে ফাঁসি-কাঠে ঝোলাবই । __________________ ভুবনেশ্বর মন্ডল সাঁইথিয়া লেবু বাগান পোস্ট সাঁইথিয়া জেলা বীরভূম পিন নাম্বার ৭৩১২৩৪  

কবিতা ।। স্বাধীনতা - কতদূর ? ।। সায়নী ব্যানার্জী

স্বাধীনতা - কতদূর ? সায়নী ব্যানার্জী বছর ঘুরে ১৫ অগাস্ট । স্বাধীনতা দিবস । প্রভাতফেরি , পতাকা উত্তোলন ,গান,নাচ - এই সবটাই একটা নিয়ম মেনে পালন করেন ছোট থেকে বড় সকলে l স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ কি ? কতজন সেটা বোঝে ?-এই নিয়ে এক বিরাট প্রশ্ন রয়েই যায় l স্বাধীনতা অনেক বড় অনেক গভীর একটি বিষয় l নিজের অধীনে নিজেকে সঠিক পরিচালনা - এর ভাব,গভীরতা নিয়ে কথা বলার মতো লোক আজ আর নেই l ভিন্ন দেশ,ভিন্ন জাতির অধীনতা থেকে বেড়িয়ে নিরন্তর হয়ে চলা স্বেচ্ছাচারিতা কখনওই স্বাধীনতা নয় আমার মতে।অন্য দেশ,জাতির দাসত্ব থেকে বেড়িয়ে নিজের দেশ মাথা তুলে দাঁড়ানোর যে স্বপ্ন বুকে নিয়ে কোটি কোটি মানুষ প্রাণ দিয়েছিলেন, আজ সেই দেশে জাত-ভেদ , অশিক্ষা,সম্মান হানি, বলাৎকার, নিত্যদিনের ঘটনা l এমন স্বাধীনতা কেউ কি চায় ? কেউ চেয়েছিলো ? পুরোনো ভাবনা,কুসংস্কার,কন্যাভ্রূণ হত্যা,পণ, - এই শিকলে জর্জরিত আমাদের দেশ l আজ এতো বছর পরেও। এতো শিক্ষার উন্নতি ঘটা সত্বেও । সময়ের সাথে সাথে উন্নতির পথে এগোনোর বদলে চিন্তাধারার ক্রমহ্রাসমান অবনতি এক লজ্জা ব্যতীত আর কিছু না l স্বাধীনতার জন্মদিন পালন হোক l দেশমাতৃকার নাম উজ...

কবিতা ।। স্বাধীন দেশের নাগরিক ।। সুনন্দ মন্ডল

স্বাধীন দেশের নাগরিক               সুনন্দ মন্ডল ১ আমরা স্বাধীন তাই তো রুটি ভাগ করে খাই। আমরা স্বাধীন কেড়ে খায় কেউ কেউ। আমরা স্বাধীন স্বাধীন দেশের নাগরিক। ভালো আছি, ভালো থাকি এটুকুই বলি! নেই আশা, আকাঙ্ক্ষার স্ফুরণ নেই বেঁচে থাকার রসদ। শুধুই কপটতা, কর্কট রোগের মতো জীবনটা জড়িয়ে আষ্টেপৃষ্টে। মানুষ নিশ্বাস ফেলছে ঠিকই কিন্তু তাতেও বিশ্বাস নেই। অবাস্তব কল্পনার স্বর্গ রচনা করে শুধু দিন গুজরানো। আমরা স্বাধীন স্বাধীন দেশের নাগরিক শুধু! নেই মুক্ত কণ্ঠে অভিযোগ জানাবার ভাষা। নেই কেউ অভিযোগ শোনার মতো ভরসা।  ২ আমরা স্বাধীন,  স্বাধীন দেশের নাগরিক আমরা স্বাধীন উন্নত আর নির্ভীক। আমরা আজ, আমরা হয়েছি তোমাদের দানে। তোমরা যারা রক্ত দিয়ে বাঁচিয়েছ ভারতেরে প্রাণে। বলি হয়ে গেছ কত তাজা নেই আজ এ শহরে। শুধু পড়ে আছ স্মৃতি হয়ে সবাকার হৃদয়ের ভারে। জীর্ণ জীবনের ব্যথা ভুলেছি, ভুলেছি শত কষ্ট। তোমাদের ত্যাগে শিখেছি আমরা  হয় নি পথ ভ্রষ্ট। কিন্তু আজ এই ছিয়াত্তরের  মধ্যরাতের আঁখি। জ্বলছে কোন অনুতাপে পোড়া মুখটা ঢাকি। জীবন ভাসছে কোন জোয়ারে নেই কো সুরের ...

কবিতা ।। স্বাধীনতা ।। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী

স্বাধীন তা  সুদীপ কুমার চক্রবর্তী আবার স্বাধীন তা দিবস .......সাত দশক পেরিয়ে এসেছি এগিয়ে চলেছি ক্রমশ শতাব্দীর দিকে। স্বাধীন তার বার্তা দেওয়া হয় ফি বছর নাগরিক মঞ্চ থেকে। আট ঘণ্টার লড়াই করে যে মজদুর সে কি আজও  স্বাধীন তা পেয়েছে ? মাটিতে জন্ম যে কৃষকের - যে কৃষাণ কৃষাণীরা মাটির গন্ধে উদয়াস্ত মেহনত করে জীবন কাটায় ওরা কি  স্বাধীন তা পেয়েছে ? যে শিশুরা শৈশব বিকিয়ে আজ স্কুলছুট যে শিশুরা পেটের তাগিদে কলে কারখানায় দোকানে রেস্টুরেন্টে কাজ করে দিন কাটায় ওরা কি  স্বাধীন তা পেয়েছে ! গৃহহীন - অনাথ - ভিক্ষু জীবি যারা  স্বাধীন তা তাদের কি দিতে পেরেছে ! প্রজন্মের পর প্রজন্ম লাখো লাখো শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের জন্য এ  স্বাধীন তা লিখেছে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যত। রাজা মন্ত্রী শ্রান্তি ওরাই আজ দেশসেবক - মঞ্চ নায়ক - জনগণের কাঁধে জোয়াল ভেঙে লুঠে চলেছে দেশের সম্পদ। শান্তিপ্রিয় মানুষ আজও পায়নি তার ন্যায্য বিচার। ধর্ষণ - খুন - রাহাজানি এখন নিত্যকার- জলভাত। জনগণের কণ্ঠ চেপে ধরেছে আজ শিকারি বাজ পাখির দল। তস্করদের দেশ বন্দনায় আজকাল মঞ্চে মঞ্চে তিরঙ্গা ওড়ে। এখনও মধ্য রাত...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। স্বপন চক্রবর্তী

স্বপন চক্রবর্তী জগন্নাথ কাহিনী পুরী জগন্নাথধাম                    করিব প্রভুর নাম                    আজি মোর কাব‍্যের ছন্দে, জগদীশ্বর তিনি                       জোগান সবারে চিনি                     রাখেন মোদের ভালো-মন্দে।  নীলাচলে এক নারী                  ভক্তির ধ্বজাধারী                       ঈশ্বর-প্রেম ছিল অপার, কর্মাবাঈ নামে তিনি                    প্রভুর হৃদয় জিনি                       করিতেন দিব্য সংসার। ভিখারিণী অতি দীন                    বার্ধক্যে শক্তিহীন              ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

ভুতের গল্প : ভুতেরাও ভদ্র হয় ।। দীপক পাল

ভুতেরাও ভদ্র হয়  দীপক পাল  কোন এক রহস্য পত্রিকার জন্য একটা ভুতের গল্প লেখার তাগিদে রাত এগারোটা বাজার পরে শোওয়ার ঘরের লাইট নিভিয়ে আমার লেখার ঘরে ঢুকে জানালার সামনের টেবিলে গিয়ে চেয়ারটা টেনে বসলাম। ঘরে লাইট জ্বললে আমার স্ত্রীর চোখে ঘুম আসে না। অন্য দিকে ভাবলে ভুতের গল্প লিখতে গেলে একটু বেশী রাত ও একদম নির্জন পরিবেশ দরকার। হাতে কাগজ কলম নিয়ে জানালার বাইরের আলো আঁধারিতে চোখ মেলে তাকালাম। পথের আলোর জন্য এই আলো আঁধারির সৃষ্টি যদিও এই অমাবস্যার রাতে সেই আলো বড়ো অপর্যাপ্ত। একটু ভেবে আমার গল্প লেখা শুরু হলো। সারাদিন কাজের ফাঁকে মনে মনে গল্পটা মোটামুটি ফেঁদে রেখেছিলাম। এখন সেটাই গুছিয়ে লেখার পালা। সেটাই করে চলেছি একটানা। হঠাৎ একটা গলাখাঁকারির আওয়াজ এলো কানে। ভাবলাম পাশের বাড়ী থেকে বুঝি আসছে। তাই পাত্তা না দিয়ে লিখে যাচ্ছি। কিন্তু দ্বিতীয় বার গলা খাঁকারির আওয়াজ শুনে জানালার বাইরে তাকালাম। দেখি জানালার ওপাশে একটা আবছা ছায়ামূর্তি যার চোখজোড়া অল্প অল্প জ্বলছে। কিন্তু মুখে অল্প হাসি হাসি ভাব। এক মনে ভুতের গল্প লেখি যাওয়ার ফলে আমি যেন ভুতের রাজ্যে বিচরণ করছিলাম তাই স্বচক্ষে স...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য ।। পাভেল আমান

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য যিনি শিক্ষা দান করেন তিনিই শিক্ষক। শিক্ষা বলতে কেবল প্রথাগত শিক্ষা বা পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বৃহৎ অর্থে প্রথা বহির্ভূত জ্ঞান ও কর্মের বাস্তব অভিজ্ঞতা। রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করে বলা যায় যে, উত্তম শিক্ষক হবেন উত্তম ছাত্র। শিক্ষকের মধ্যে ছাত্রত্ব বেঁচে না থাকলে ছাত্রেরা তাঁর মনের নাগাল পেতে সমর্থ হয় না।শিক্ষকরা হলেন সমাজ গড়ার কারিগড়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকেরা। আদিকালের সামাজিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সেই আবাসিক গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থার যুগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিল নিবিড় ও মধুর সম্পর্ক। পিতা মাতার পর দ্বিতীয় পিতা বা অভিভাবক হিসেবে শিক্ষকদেরকে মান্য করতেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কাছে শিক্ষক ছিলেন পরম গুরু। গুরুর আশীর্বাদ ও দাক্ষিণ্য ছাড়া জীবনে সাফল্য অধরা থেকে যায়। গুরুর নির্দেশিত পথে অনুগমন করলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। শিক্ষক তথা গুরুর প্রতি ছাত্র তথা শিষ্যের আনুগত্য, ভক্তি, বিশ্বাস ও আত্মনিবেদন ছিল দৃষ্টান্ত মূলক। প্রাচীন ভারতে গুরু গৃহে গুরুর সাহচর্যে বসবাস করে শ...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...