তিনটি কবিতা ।। নিমাই জানা তৃতীয় সাপেদের শুক্রতারল্যের উপপাদ্য ও ঋণাত্মক জ্বর সমগ্ৰ ক্যালসিয়াম কার্বাইড মৃত্যুর মতো শুক্রতারল্যের স্বর্গীয় উত্তপ্ত লৌহ কণিকার উষ্ণতম গর্ভগৃহে পা রেখে দেওয়ার পর আমরা অলৌকিক আততায়ীদের সাথে তৃতীয় সাপের অসুখগুলো ঝুলিয়ে ক্রুসেড ধর্মযাজকের নৃশংস হত্যাকারী হয়ে যাচ্ছি , মৃত রাতের শেষে ডুবে যাওয়া চাঁদের ধোঁয়ামাখা লম্বা প্রস্থছেদে জীবাণুর কঠিন নির্জন আড়ষ্টতার সিস্টোলিক চলন ঘুরে বেড়াচ্ছে গলার দীর্ঘ ক্যান্সার অসুখের মতো , ঘুমের চতুর্থ প্রকারভেদের নীলকরবির দাঁতগুলো ছিঁড়ে রক্তময় বাবার উপপাদ্যহীন মানস সরোবর আঁকছি মহাজনপদের শেষ আলো ডুবে যাওয়া রতিখন্ড মেঘের ঘণত্ব দিয়ে , কিন্নর , পিশাচ , লাভা , পুরোহিত খনিজ প্রত্ন নাবিক সকলেই স্নান ঘরে আগুনের লেলিহান ছুঁয়ে ছুঁয়ে - ৫৬° জ্বরের মেটামরফোসিস আবিষ্কার করছে গলিত জীবিত জীবাশ্ম দিয়ে প্রেত রঙের ভেসে থাকা তৈল গ্রন্থীময় নদী , স্বর্গ থেকে ফিরে এসে বুকের খাঁজে ৬৪ রজঃস্বলা নদীর কর্কটক্রান্তীয় অলৌকিক আবহবিকার কেন্দ্রে নিম্নবর্গীয় পরিযায়ী পাখিদের চক্রাসনের ভেতর থেকে দ্বাপর যুগ বের করল , অবৈধ করোটি ছেঁড়া...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...