Skip to main content

গল্প ।। সন্তান ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী

সন্তান

প্রণব কুমার চক্রবর্তী


          আলেয়া ? অ আলেয়া ?
          ঘরে বসে টিভি দেখতে দেখতে হঠাৎ মহিউদ্দিন সাহেব পাগলের মতো চিৎকার করে  উঠলেন । স্ত্রীর নাম ধরে হাঁক দিয়ে বলে উঠলেন - কোথায় গেলেগো ? একবার চটজলদি এদিকে এসো । দ্যাখো একটা দারুন খবর ! আমাকে এক্ষুনি ওইসব পোশাকগুলো পরতে হবে । মোটেই দেরি করা যাবে না ।
          আগে বসতেন না । ইদানিং কিছুদিন হলো টিভির খবরের আগে টুক টুক করে এসে ঘরে একটা টেনে নিয়ে চেয়ারে বসেন । খবর দেখেই আবার উঠে নিজের ঘরে চলে যান । কারো সাথে কথা বলেন না । মনে হবে যেন কথা বলাটাই উনি ভুলে গেছেন । 
          ভদ্রলোক  কিন্ত এমনটা ছিলেন না । সেনা বাহিনীতে চাকরি করতেন । ভেতরে এবং বাইরে উনি ইস্পাতের মতো শক্ত ছিলেন । চাকরির সূত্রে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন । বাড়িতে খুব কমই থাকতেন । তবে , যতক্ষণ থাকতেন বাড়ি এবং এলাকার লোকজনের হৈ চৈ করেই সময় কাটাতেন । কখনো সখনো স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মার্কেটিং করতে বেরুতেন , আবার ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা থাকলে ছেলেদের সঙ্গে - বিশেষ করে ছোটটার সঙ্গে ঘরে বসে টিভিতে খেলা দেখতেন, আর মাঝে মধ্যেই স্ত্রীকে ডেকে বলতেন - কি গো বাড়ি থেকে কি চা অর কফির পাট উঠে গেছে ? এতক্ষণ খালিমুখে বসে আছি । ওগুলো না হলে কি খেলা দ্যাখার কোনোও আনন্দ পাওয়া যায় ?
          ছোট ছেলে সমিউদ্দিন বাবার কথায় সায় দিয়ে মাকে বললেই , মায়ের কাছে বকুনি আর গালি শুনতে হতো । মা আর ছেলের ঝগড়া শুনে মহিউদ্দিন সাহেব মুখ টিপে হাসতেন আর গোটা ব্যাপারটাকে চুটিয়ে উপভোগ করতেন । আলেয়াও শেষ পর্যন্ত চা কিংবা কফি বানিয়ে এনে দিয়ে বলতেন - লাই আর আসকারা দিয়ে ছেলেটাকে একেবারে নষ্ট করে দিচ্ছ ।  তোমাদের দেখে তো বুঝার উপায় নাই যে , তোমরা দুই বাপ আর ব্যাটা ! মনে হয় একদম সমবয়সী বন্ধু । কই একবারও তো দেখিনা ওকে লেখা পড়ার কথা বলছো ? ওর ভবিষ্যতটার কথা কি একবারও চিন্তা করেছো ?
          মহিউদ্দিনবাবু বরাবরের স্পোর্টস ম্যান , তার উপরে সেনাবাহিনীতে কাজ করেছেন, সব সময় জীবনটাকে একটা বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে অভ্যস্ত । স্ত্রীর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলতেন - ভেবোনা গিন্নী । দেখো , ছোটটাই তোমার বড় ছেলের থেকে ভালো হবে । নাম করবে । তোমার মুখ উজ্জ্বল করবে ।
          আসলে মহিউদ্দিনবাবু ভালোই জানতেন যে  , বড় ছেলে সুজাউদ্দিন ছোটছেলে সমিউদ্দিনের থেকে সব কিছুতেই ভালো । মায়ের কথামতো সে কনভেন্ট ইস্কুলে ইংরেজীতে পড়াশুনা করেছে । অনর্গল ইংরেজীতে কথা বলতে পারে । দারুন স্মার্ট । ইচ্ছে আছে , এখানে পড়া শেষ করে ও ইংল্যান্ড বা আমেরিকায় গিয়ে পড়াশুনা করবে এবং সেটেল্ড হবে । মোদ্দা কথা , একজন উঠতি বাংরেজ সাহেব হয়ে উঠেছে ! ছোটটার ওসব হবার কোনোও ইচ্ছে বা মনোবৃত্তিই নেই । ওকে মাকে ম্যাম আর বাবাকে কোনদিনই ড্যাডি বলে ডাকতে পারবে না ।
          দাদার সাথে তুলনা করলেই সামিউদ্দিন রেগে উঠতো । বলতো - ছাড়না ওসব আলোচনা ।কারোও সাথে তুলনা করাটা ওর ভীষন অপছন্দ । ওর বিশ্বাস একজনের সাথে অন্য আর একজনের তুলনা করাটা মোটেই উচিৎ নয় । এটা সবাই মন থেকে মেনে নিতে পারে না । বিশেষ করে এক ভাইয়ের সাথে অন্য ভাইয়ের তুলনা । ওতে একজনের মনে অন্য জন সম্পর্কে ঘৃণা , বিদ্বেষ এবং শত্রুতার সৃষ্টি হয় । বিভেদের বেড়া তৈরি হয় । কথাগুলো বলে সামিউদ্দীন ভাবতো মা বুঝি কষ্ট পাচ্ছে । তাই , পরক্ষনেই মাকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠতো - মা ? তোমার তো দুটো ছেলে । তুমি তো দারুন ভাগ্যবতী । দাদা বিলেতে গেলে আমাকে তো এখানে থাকতেই হবে -  তোমাদের দুটো বুড়ো বুড়িকে দেখভাল করার জন্য । তাছাড়া , এই দেশ , এই ঘর বাড়ি , বংশ পরম্পরার স্মৃতি , সবকিছুকে একজনকে তো বহন করতেই হবে ! সেটা না হয় করার জন্য আমিই এখানে থেকে যাবো , কি বলো ? দাদা , দাদার মতো চলুক । আমাকে আমার মত চলতে এবং থাকতে দাও ।

                               ( দুই )

          মহিউদ্দিন বরাবরই একটু অন্য ধরনের মানুষ । বহিঃকেন্দ্রিক । একসট্রোভার্ট টাইপের !
          সারাক্ষণ শুধু দেশ অর দশের জন্যই তার চিন্তা । নিজের ভাষা , নিজের গ্রামের ছেলেমেয়ে , লোকজন , তাদের শিক্ষা , সামাজিকতা , সভ্যতা এবং সংস্কৃতির উপরে তিনি সবথেকে বেশী শ্রধ্যাশিল । সব সময় মনে করেন - যে সমাজে তিনি বসবাস করছেন , দিন গুজরান করছেন , সেই সমাজের উপরে তার একটা আত্মিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং কর্তব্য রয়েছে । সেই কারনেই ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করবার পরে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও উনি যাননি । পশ্চিমী দেশগুলোর এই ভারতীয়দের ব্রেন ড্রেন করে নিয়ে যাওয়াটাকে ভদ্রলোক ভয়ংকর ঘৃণার চোখে দেখতেন । সেই কারনেই দেশে থেকে গিয়েছিলেন । 
          ভিয়েতনামের যুধ্যে সেই দেশের মানুষের দেশপ্রেম , ওর মনে একটা স্বদেশ প্রেমের চেতনা এবং দেশের জন্য কিছু একটা করার চিন্তা এবং ইচ্ছে জাগিয়ে তুলেছিলো । নিজেকে আর সরিয়ে রাখতে পারেনি । সেনাবাহিনীতে গিয়ে যোগ দিয়েছিলেন । বড় ছেলে সুজাউদ্দিনকেও সেইমতো বুঝিয়েছিলেন । কিন্তু , ওর ওই কথাকে কোনো রকম মূল্যই দেয়নি । দেশী হয়ে বিদেশীনাটাকেই সে বেশী পছন্দ করে ।
          ছোট ছেলে সমিউদ্দীন তাই মহিউদ্দিন সাহেবের কাছে বেশি প্রিয় । বুঝেছিলেন , বড়টা নয় ছোটটাই সুখে দুঃখে বাবা মায়ের পাশে থাকবে । সেইমতো স্ত্রীকে নিজের ধারণাটা জোর দিয়ে জানিয়ে বলতেন - আমার কথাটা ভবিষ্যতে মিলিয়ে নিও । কিন্তু , স্ত্রী ওর বক্তব্যকে মোটেই পাত্তা দিতেন না । 
          সুজাউদ্দিন যেদিন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে ওকে আমেরিকায় পাড়ি দেবার কথা বলতে এসছিলো , সেদিন  ভদ্রলোক একটু মনক্ষুন্নই হয়েছিলেন । রাগ আর মনের দুঃখটা চেপে রাখতে নাপেরে একটু কটু কথাও ছেলেকে শুনিয়ে দিয়েছিলেন । রাত্রে খাবার টেবিলে বসে বাড়ির উত্তাপটাকে পরিমাপ করে , সমিউদ্দিন একটা প্রলেপ দেবার উদ্দেশ্যে দাদাকে বুঝতে চেষ্টা করেছিলো । কিন্তু , তাতে কোনও লাভ হয়নি । সুজাউদ্দিন বিরক্তির সুরে বলেছিলো - থাম তুই । তোকে বাবার হয়ে আর উমেদারি করতে হবে না । তুই কি বাবার মাউথ পিস হয়েছিস ? তুই চুপ কর , নাহলে আমি বাধ্য হবো খাওয়া ছেড়ে উঠে যেতে ।
          শুরু হয়ে গিয়েছিলো দুই ভাইয়ের মধ্যে ভয়ংকর তর্ক বিতর্ক ! মহিউদ্দিন আর আলেয়া কারোরই ব্যাপারটা ভালো লাগেনি । খাবারের টেবিলের পরিবেশটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দেখে , ওরা স্বামী এবং স্ত্রী দুজনেই একটা অস্বস্তি বোধ করা শুরু করেছিলেন । মহিউদ্দিন বড় ছেলেকে কিছু না বলে ছোটো ছেলের দিকে ঈষৎ অসন্তুষ্টির চোখে তাকাতেই , ও বলে উঠেছিলো - বাবা ? তুমি যেন রিটায়ার করার পরে কেমন যেন পাল্টে গিয়েছ । শারীরিক তো বটেই , মানসিক ভাবেও কেমন যেন দুর্বল হয়ে পরেছো । একটা টিপিকাল ফাদার হয়ে উঠেছে । আমরা যে বয়সের দিক থেকে বড় হয়েছি , আমাদের যে একটা নিজস্ব অভিমত আছে , সেটা মানতেই চাইছো না ! তুমি কতদিন আর আমাদের কোলে আগলিয়ে নিয়ে বসে থাকবে ? আজ না হোক আগামী কাল তো আমাদের বাইরে কাজে যেতেই হবে । সেদিন তুমি কি করবে ? যেতে দেবে না ? বাড়িতেই বেঁধে রাখবে !
          মা এবং বাবা সেদিন অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে ছিলো ।
          - দাদা বিলেতে গেলে তো তোমাদেরই ভালো হবে । সমিউদ্দিন ঠোঁটের ফাঁকে একটা ছোট্ট হাসির ঝলক তুলে বলেছিলো - মাঝে মাঝে তোমরা ওই দেশে গিয়ে বেরিয়ে আসতে পারবে । তুমি কত প্যান্ট এবং হয়ত আর মা গাউন এবং হয় - হিল জুতো পরে বিলেতের রাস্তায় হা ধরাধরি করে ঘুরে বেড়াবে ! ভাগ্যে থাকলে , আমারও হয়তো দাদার দৌলতে বিদেশটা দ্যাখা হবে । দাদা চলে গেলে , আমিতো এখানে থাকছি । তোমাদের মৃত্যুর পরে দাফনের কবলা পরানো আর মাটি দেয়ার জন্য । ছেলে হিসেবে একজনের তো ওই কাজটা করতেই হবে ।
          ওনারা আর সুজাউদ্দিনকে বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে বাধা দেননি ।

                              ( তিন )

          যতো দিন যাচ্ছিল মহিউদ্দিনবাবু কেমন যেন নিষ্প্রভ হয়ে পড়ছিলো ।
          একদিকে সুজাউদ্দিনের চিন্তা যেমন ওকে কুরে কুরে খাওয়া শুরু করেছিল , অন্য দিকে এন অর সির ভীতি ! জীবনটা ক্রমশ যেন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে !  প্রত্যেকটা মানুষকে প্রমাণ করতে হবে যে , সে ভারতীয় নাগরিক ! না হলে , এই দেশের নাগরিকত্ব থেকে নাম কেটে "ডি ভোটার" করে  "ডিটেনশন ক্যাম্পে" বন্দী করে রেখে দেবে !  ঝামেলা ! লাখ লাখ মানুষ যারা একশ দেড়শ বছর ধরে অবিভক্ত ভারতবর্ষের নাগরিক হিসাবে বসবাস করছে , যে জায়গাগুলো আগে অবিভক্ত ভারতের অংশ ছিল এখন ভারত স্বাধীন হবার পরে সেই দেশটা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে , সেখানকার সব্বাই বর্তমানে ভারতের নাগরিক । অথচ , ওইসব মানুষজনকে বলা হচ্ছে - হয় তাদের নিজেদের না হয় তাদের বাপ , ঠাকুরদা প্রমুখর জন্মের কাগজ , ঘরবাড়ি এবং জমি জমার কাগজ , দলিলপত্র , ইত্যাদি দ্যাখাতে হবে । অন্যথায়  তাদের "ডি ভোটার" করে "ডিটেনশন ক্যাম্পে" নিয়ে গিয়ে বন্দী করবে ! এ কি এক উঠকো ঝামেলা !
          মহিউদ্দিন সাহেবের বাবা , ঠাকুরদা , বৃদ্ধ ঠাকুরদা , সব্বাই আসামের এই ধুবুরি জেলাতেই নিজের বাড়িতে জন্মেছিলেন ।  বাপ , ঠাকুরদা এবং বৃদ্ধ ঠাকুরদা তো দূরের কথা , তাদের কারোর নিজেদেরই জন্মের কাগজ পত্র নেই । কারণ , সেই সময় কেউই হাসপাতালে বা " নার্সিং হোমে " জন্মাত না । বাড়িতে ধাইয়ের হাতে জন্মাত। তাই , জন্মের কাগজ পত্র তারা কোথা থেকে পাবে ? এখন সেগুলো কিছু দেখাতে  পারছে না বলেই , প্রশাসনের লোকজন মানতে চাইছে না যে , তারা বংশ পরম্পরায় একশ বছরেরও বেশী ভারতের নাগরিক ।  প্রশাসনের লোকজনকে নিজের অবিভক্ত ভারতবর্ষের সেনা বাহিনীতে কাজ করার উপযুক্ত কাগজ পত্র দেখিয়ে বুঝবার যে চেষ্টা করবেন , সেটাও সম্ভব হচ্ছে না ! কারণ , গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র নদীর বার কয়েক বন্যায়  সেসব ধুয়ে মুছে কোথায় যে চলে গেছে , তার পাত্তাই পাওয়া যায়নি । আসলে , সেই সময় তেমন ভাবে কেউ আর ওগুলো জোগাড় করার চেষ্টা I করেনি । ভাবেইনি যে ওগুলো ভবিষ্যতে কোনোও কাজে লাগবে !
          যেদিন ভারত স্বাধীন হয়েছিল , দিল্লীর লালকেল্লায় ভারতের প্রথম প্রধান মন্ত্রী তেরঙ্গা জাতীয় পতাকাকে উত্তোলন করেছিলেন , কর্নেল মহিউদ্দিন সাহেব তখন সেইখানে হাজির থেকে সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছিলেন । কিন্তু , সেটাও এখন ওর কাছে নেই । বাড়ির দেয়ালে ফটো ফ্রেম বাঁধিয়ে টাঙিয়ে রেখেছিল । সেটাও বন্যার জলে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে !  ওইসব ঘটনার গল্প এখন আসামের বর্তমান প্রশাসনের কাছে বলতো যেন সবটাই কাকস্য পরিবেদনা হয়ে দাঁড়িয়েছে ! সরকারি তরফ থেকে মহিউদ্দিন সাহেবের কাছে চিঠি এসেছে - অবিলম্বে ভারতবর্ষের মাটিতে তিনি যে জন্মেছেন তার সেই জন্মের কাগজ পত্র বা বাপ ঠাকুরদার বাড়ির এবং জমি জমার দলিল ও কাগজ পত্র না দ্যাখাতে পারলে , ভোটার লিস্টে ""ডি ভোটার"" করে দেওয়া হবে এবং ""ডিটেনশন ক্যাম্পে" নিয়ে আটকে রাখা হবে !
          কি সাংঘাতিক ব্যাপার ! প্রায় এক শতাব্দী কালেরও অধিক সময় ধরে আসামের এই ধুবুরিতে বসবাস করছে এবং নিজে প্রায় পঞ্চান্ন বছরের মতো প্রথমে ব্রিটিশ ভারতীয় পরে স্বাধীন ভারতের মিলিটারিতে  চাকরি করে উনিশশ বাহাত্তর সালে রিটায়ার করেছেন । তাকেও আজ প্রমাণ করতে হবে যে , সে কি সত্যিকারের ভারতীয় নাগরিক !
         ব্যাপারটা মহিউদ্দিন সাহেবকে কুরে কুরে খাওয়া শুরু করেছে । মাঝে মাঝে ভাবেন চিৎকার  করে কেঁদে আল্লাহকে বলবেন , এই অপমান এবং যন্ত্রণা আর সহ্য হচ্ছে না ।  দয়া করে উপরে নিয়ে যাও । এই রকম ভারতবর্ষ তো আমরা দেখতে চাইনি ! জীবনে ভাবতেও পারিনি যে , জন্মসূত্রে এই ভারতের নাগরিক হয়েও আমাদের আবার নতুন করে প্রমাণ দিতে যে আমরা অনুপ্রবেশকারী নই । সত্যিকারের ভারতীয় নাগরিক !
          মাঝে মাঝে বাড়ির সামনের বারান্দায় বসে  একদৃষ্টে তাকিয়ে দেখতেন - কিছুটা দূরে বিরাট এলাকা জুড়ে চলছে - এন আর সীর শিকার হওয়া "ডি ভোটারদের" জন্য "ডিটেনশন ক্যাম্প" তৈরির কাজ । যারা ওই ক্যাম্প তৈরির কাজ করছে , সবথেকে দুঃখের বিষয় তারা নিজেরাই জানেনা যে , ওই ক্যাম্পেই হয়তো তাদের নিজেদের মা , বাবা কিংবা ভাই বোনকে বন্দী থাকতে হবে । এ যেন হিটলারের সেই ইহুদিদের " কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প" ! বন্দী শিবির !
          এইভাবে কি বাঁচা যায় ! ক দিন এইভাবে মনের সাথে লড়াই করে , সে দিন কাটবে ? একদিন তো ওইসব কাগজ পত্র দ্যাখাতে হবে ! না দ্যাখাতে পারলে ওকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবেই । সেদিন কি হবে ?  কথাগুলো ভাবলেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে ওঠে ।  একটা চিন চিন ব্যথা অনুভূত হতে থাকে ।
          ময়দানে দাঁড়িয়ে লড়াই করার লোক হয়েও রিটায়ার্ড সেনা আধিকারিক মহিউদ্দিন মোল্লা উঠে গিয়ে বিছানায় শুয়ে শুধু আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকেন ।

                                ( চার )

          সেদিন মহিউদ্দিন সাহেব ঘরে বসে টিভি দেখছিলেন ।
          হটাৎ আলেয়া হাতে চায়ের কাপটা নিয়ে ঘরে ঢুকে জিজ্ঞেস করে - কি গো ? তুমি কি ঠিক করেছো যে , বাড়ির টেলিফোনটা আর ঠিক করবে না ? আজ প্রায় আট না হয়ে গ্যালো লাইনটা খারাপ হয়ে পড়ে আছে । আমি সুজার কোনোও খবরই পাচ্ছি না । আগে তবু তুমি বাইরে যেতে , বুথ থেকে ফোন করে খবর নিয়ে এসে আমাকে জানাতে । এখন তো সেটাও বন্ধ করে দিয়েছো ।  বলতে পারো, আমি কি নিয়ে থাকবো ?
          আসলে , বড় ছেলে ভিনদেশী বিদেশিনীকে বিয়ে করার খবর শোনার পর থেকেই মহিউদ্দিন সাহেব নিজের ভারতীয় জাত্যাভিমানে প্রচণ্ড মানসিক আঘাত পেয়েছেন । কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না । ব্যাপারটা শুনলে আলেয়া ভীষন কষ্ট পাবে । তাই , বাড়ি ফিরে ভদ্রলোক নিজেই ইচ্ছে করেই টেলিফোনের আই এস ডির লাইনটা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন । ভেবেছিলেন , ব্যাপারটা সময় করে ছোটছেলে সমিউদ্দিনকে বলে রাখবেন । কিন্তু , এইসব এন আর সি , ডি ভোটার এবং ডি ক্যাম্পের  চিন্তা আর ঝামেলায় সবটাই উনি ভুলে গিয়েছেন । বলা আর হয়ে উঠেনি ।
          ওদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে যখন টেলিফোনের ব্যাপারটা নিয়ে কথা হচ্ছিলো , তখনই  কোথা থেকে সমিউদ্দন ঝড়ের মতো উড়ে এসে হাজির হয়েই দুম করে বলা শুরু করলো - বাবা ? তুমি কেনো বাড়ির টেলিফোনের লাইনটা ঠিক করাচ্ছো না ? কতদিন ওটা অকেজো হয়ে পড়ে আছে ? মা দাদার সাথে কথা বলতে পারছে না । ঘরেবসে সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে । হয় ওটা ঠিক করাও , না হয় মাঝে মাঝে মাকে নিয়ে বাইরে গিয়ে রাজুর টেলিফোন বুথ থেকে দাদার সাথে মাকে কথা বলাও , এবং নিজেও বলো ।
          মহিউদ্দিন ছেলের মুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়েছিলেন । কেন যেন ওর মনে হচ্ছিলো - এ তো সেই সমিউদ্দিণ নয় !  যাকে সে চেনে এবং জন্য !  যাকে নিয়ে ওর অনেক উঁচু ধারণা ! ...
          সমিউদ্দিন আরোও কিছু বলতে চাইছিলো , কিন্তু আলেয়াই ওকে থামিয়ে দেয় ।
          হঠাৎ যেন মহিউদ্দিন সাহেবের ধর্য্যর  বাঁধ ভেঙে পড়ে ! চিৎকার করে বলে উঠলেন - ইডিয়েট একটা ? তুমি পারো না টেলিফোন অফিসে গিয়ে লাইনটা ঠিক করাতে ? পারো না সেটেলমেন্ট অফিসে গিয়ে  আমাদের এই শতাব্দী প্রাচীন বাড়ি , জমি - জমার সব পুরাতন রেকর্ড , কাগজ - পত্রগুলো জোগাড় করে আনতে ? এন আর সির এনকোয়ারিতে তো ওগুলো না দ্যাখাতে পারলে আমাকে আর তোর মাকে "ডি ভোটার" করে দেবে ! "ডিটেনশন ক্যাম্পে" নিয়ে গিয়ে আপাতত ঢোকাবে ! পরে অনুপ্রবেশকারী বলে এই দেশ থেকে বের করে দেবে ! আমি বুড়ো মানুষ , এই শরীর নিয়ে কোথায় , কর কাছে দৌড়াবো ? আমি যে সেনা অফিসার ছিলাম , সেটা কেউ শুনতেই চাইছে না ।  চাকরি বাকরির তো চিন্তা নেই । দিব্যি ঘরের খেয়ে বনের মোষ তারাচ্ছ । এগুলো তো করতেই পারো ?
          আলেয়া আর বসে থাকতে পারেনি । উঠে ধমক দিয়ে ছেলেকে সরিয়ে দিয়ে স্বামীকে বলেছিলো - দেখলে তো তোমার আস্কারাতেই সমিউদ্দীনের  বারোটা বেজেছে ! এখন আর ওকে দোষ দিয়ে লাভ কি ? ওতো জানেই না - কাকে কখন কি কথা বলতে হয় !

                               ( পাঁচ )    

          পরের দিন সকাল থেকেই সমিউদ্দিনকে আর খুঁজেই পাওয়া যায়নি ।
          থানা পুলিশ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ খবর করে ওর কোনোও খোঁজ পাওয়া যায়নি । মহিউদ্দিন সাহেবের বাড়ি এখন যেন একটা মৃত পাষাণ পুরি হয়ে উঠেছে !
          বৃদ্ধ মহিউদ্দিন সাহেবের এখন প্রতিদিন সন্ধ্যেয় টিভিতে খবর শোনাটা একটা অভ্যেস হয়ে দাঁড়িয়েছে । চুপ চাপ খবরটা শুনেই উঠে নিজের ঘরে চলে যান । বছর তিনেকের মতো ওদের দুই ছেলের কারোর সাথেই যোগাযোগ নেই । এন আর সিতে জমা দেওয়া বা দ্যাখনোর মতো কোনোও কাগজ পত্র এখনও তিনি জোগাড় করে উঠতে পারেননি । যে কোনোদিন "ডি ভোটার" ডিক্লেয়ার হয়ে যাবেন এবং পুলিশের লোক এসে বাড়ি থেকে ধরে "ডিটেনশন ক্যাম্পে" নিয়ে যাবে ! আলেয়ার সেই সময় কি হবে ! ও তো জীবনে কোনদিন একা একা থাকেনি ! কে ওকে দেখবে ! ....
          সেদিনও সন্ধ্যে বেলায় মহিউদ্দিন সাহেব ঘরে বসে টিভির সংবাদ শুনছিলেন । হঠাৎ , খবরের মাঝে একটা "স্ক্রলিং নিউজের ক্যাপশন" ভেসে উঠলো ।  কাশ্মীরে পাক হানায়  ভারতীয় সেনা হত ।  ঘোষক বলে চলেছেন -  "কাশ্মীরের কুপোওয়রের রাস্তায় ভারতীয় সেনা বাহিনীর কনভয়ের উপরে পাক সন্ত্রাসবাদীদের একটা সংগঠিত হামলাকে , বীর সেনা জওয়ান সমিউদ্দিন মোল্লা একাই প্রাণ দিয়ে রুখে দিয়েছেন সমিউদ্দিন আসামের ধুবুরির ছেলে । ওনার বাবা মহিউদ্দিন মোল্লাও একসময় ভারতীয় সেনার অফিসার কর্নেল ছিলেন । বছর তিনেক হলো সমিউদ্দিন সেনা বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন ।  সেনা বাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে , সমিউদ্দীন মোল্লার ইউনিফর্মের বুক পকেট থেকে একটা সেনা বাহিনীর সিল মারা কাগজ পাওয়া গিয়েছে , তাতে প্রাক্তন সেনা অধকারিক মহিউদ্দিন মোল্লার চাকরি জীবনে ঢোকার প্রথম "পুলিশ ভেরিফিকেশনের সার্টিফাইড কপিটা" রয়েছে । ওটাতে লেখা রয়েছে - মহিউদ্দিন মোল্লা জন্মসূত্রে অবিভক্ত ভারতবর্ষের নাগরিক । আসাম প্রদেশের ধুবুরিতে উনিশ শ এগারো সালের পাঁচই অক্টোবর জন্মেছেন । নিহত সামসুদ্দিন মোল্লার মৃতদেহটা নিয়ে ইস্টার্ন কম্যান্ডের গুয়াহাটির কোনও বড় অফিসার ধুবুরীতে গিয়ে সামসুদ্দিন মোল্লার বাবা মহিউদ্দিন সাহেবের সাথে দ্যখা করবেন এবং ওনার হাতে  টেনে নিহত বীর সন্তান সমিউদ্দীণ মোল্লার দেহ এবং উদ্ধারকৃত কাগজটিও হস্তান্তর করবেন ।
          বীর সামসুদ্দিন মোল্লা ! আসামের ধুবুরীর বাসিন্দা ! মাই ইয়াঙ্গেস্ট সন ! আমি ওকে বকাবকি করে অপদার্থ বলে বাড়ি থেকে একরকম বের করে দিয়েছিলাম । তার বডি নিয়েই গুয়াহাটির হায়ার মিলিটারি অফিসাররা এখানে আসছেন । বুঝলে আলেয়া , তোমার সামসুদ্দিনের জন্যই হয়তো আমাকে আর "ডিটেনশন ক্যাম্পে" যেতে হবে না ।           
          মহিউদ্দিন সাহেব আর ভাবতে পারছিলেন না । পাগলের মত চিৎকার করে বললেন - আলেয়া ? অ আলেয়া , কোথায় তুমি ? এদিকে একবার এসো । আলমারি থেকে আমার পোশাকগুলো সব বের করে দাও । আমাকে এক্ষুনি পরতে হবে । এটা আজ আমার কাছে দারুন খবর । তোমার ছোট ছেলে নিজের জান কুরবানি করে আমাকে আর তোমাকে এই বাপ - ঠাকুরদার বাড়িঘর ছাড়া হতে দেয়নি । আমাকে বেআইনী অনুপ্রবেশকারী বলে অপমানিত হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে গেলো !
          আলেয়া ছুটে এসে দেখে - দেয়ালে টাঙ্গানো ছোটছেলে সামসুদ্দিনের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ প্রাক্তন সেনা আধিকারিক কর্নেল মহিউদ্দিন মোল্লা স্যালুট করে ভারাক্রান্ত গলায় বলে চলেছেন - ব্রাভো মাই বয় ! সামসুদ্দিন , আজ আমি তোমার জন্য প্রাউড ফাইল করছি । টেন্ডার মাই হার্টিয়েস্ট রেসপেক্ট নট অনলি ফ্রম অ্যান এক্সমিলিটারি অফিসার , বাট আলসো ফ্রম অ্যান ওল্ড এজেড ফাদার ! .... সামু , আজ তুমি যে অমরত্ব লাভ করে বেহেশ্তের পথে এগিয়ে যাচ্ছো । যাও । আমি আর তোমাকে পিছন থেকে ডেকে সেই যাত্রায় বাধা দেবো না । .... তবে, সামু জেনে রেখো , ইউয়োর ফাদার ইজ অলসো গোয়িং টু মিট উইথ ইউ ভেরি শুন । ... বেহেশতে আমার জন্য অপেক্ষা করো কিন্তু । পারলে আমার জন্য একটা সিট বুক করে রেখো । .... ডোন্ট আফ্রড , সামসুদ্দিন কাশ্মীর থেকে তোমার মৃতদেহটা  আমাদের এখানে এসে না পৌঁছানো পর্যন্ত - আই উইল ওয়েট ফর ইউ । ..... তোমাকে তো এই ব্রহ্মপুত্রের পারেই তোমার পিতামহ , প্রপিতামহ এবং বৃদ্ধ পিতামহের সাথে রেখে যেতে হবে । .....
          কথাগুলো কানে যেতেই আলেয়া শঙ্কিত হয়ে  উঠলেন । এতো সাংঘাতিক কথা ! উনি এসব কি বলছেন .....



=============================

               প্রণব কুমার চক্রবর্তী
            বানীদিপ ভবন ( দ্বিতীয় তল )
            এইচ এন রোড , গোলবাগান ,
            কুচবিহার
            পিন - ৭০৬১০১



      
   














          


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,