Skip to main content

Posts

দু'টি কবিতা ।। ইন্দ্রজিৎ নন্দী

দু'টি কবিতা ।। ইন্দ্রজিৎ নন্দী 'মৃগাঙ্ক' নামে ডাকো এই শহর একবার যাকে হারিয়ে ফেলে  মেঘেদের দূরতর  প্রান্তে, লোকালট্রেন চেপে আসে কুমড়োফুলরঙা কলেজছাত্রী, সঙ্গে মনখারাপও হাওয়া দিলে ঝালমুড়ি কিংবা ন্যাপথলিনের গন্ধে যুবতী অভিমান বাড়ে, তুমি শহরের যে প্রান্তে থাকো সেই অনুপম অগোছালো শহরের পিঁয়াজ কাটা মাঝ-বরাবর আমি থাকি! দুটো অর্জুনপাতার যেটুকু স্পেস,যেটুকু ফাঁকি আমাদের তারও কম, তুমি সিটে বসে বরং, আমি ক্লান্ত রাস্তা ফিরি বাদবাকি। ধরো,দূরে কোথাও হরতাল হলো, ট্রেন যাবার রাস্তা বন্ধ, চাক্কা জ্যাম। স্নিগ্ধতায় বললে : নেমো না !  দূরে প্ল্যাটফর্ম, সঙ্গে থাকো -গল্প করো বরং; সেই থেকেই বন্ধু হলাম , পাশাপাশি দুটো শহর যেমনটা হয়; চাষীদের কমে আসে ধানক্ষেত, পাতাদের কথা বলার সময় ! কথা শোনার সময় কমে এলে তুমি একবার সন্ধ্যা কে 'নির্বন্ধ' নামে ডাকো দেখবে পাখি ফিরছে , সূর্য ডুবছে, আর উইন্ডোসিটে এসে বসেছে মন খারাপও..  তোমায় কাছে ডেকে বলবে :                                     আমায় 'মৃগাঙ্ক' নামে ডাকো...

কবিতা ।। নিকোটিন রাত ও কোন এক মহাপুরুষের শরীর ।। নিমাই জানা

নিকোটিন রাত ও  কোন এক মহাপুরুষের শরীর নিমাই জানা তথাগত শরীরের ওপর হর্ষধ্বনি ওঠা মৃতপ্রায় দরজার কাছে গেলে দরজাটি আরো লবণাক্ত হয়ে পড়ে বাবা বৈরাগ্য চিহ্ন মাথায় রেখে আজীবন পাথরের থালাকে হব্যিষান্নের গুঁড়ো দিয়ে ঠোঁটের ভেতরে ঢুকিয়ে নিচ্ছে নিরামিষ নিকোটিন  , আমরাও খাই মায়ের গলিত হাড়গোড়ের সাদা রসালো দুধ , মেন্ডেলিফ কোনদিন ভুল করেও একটি ধাতুকল্পের  তলপেট বিষ রচনা করেন না ফোবিয়া দ্রাক্ষা শূণ্য আপেল বৃক্ষ হলেই রসায়ন বমি উগরে চলি ইপিকাক খাওয়ার আগে , ফার্মেসীর ভেতর থাকা নীল আবহবিকারের পাঞ্জাবি মানুষেরা বৃত্তাকার শক্তিবর্ধক টনিকের ফাইভ এম এল খাচ্ছে  , শিখরের মানুষেরা নীল রঙের ভৌতিক পিচ্ছিল হয়ে ঈশ্বর মগ্ন হন স্তনবৃন্ত চাষাবাদে অসংখ্য মানুষের সঞ্চারপথ গড়ে দেয়  ডান কপাটিকা একাই নিরন্তর জেগে থাকে অনিদ্রা ও অনির্বাণ ঈশ্বরের নামে আবসলুট 3g কোন কফিশপের নাম নয় ধ্রুবতারার সাংখ্যমান খুঁজে চলেছে দৈর্ঘ্যহীন আয়তক্ষেত্রের ডান বাহু , জ্যামিতিক হয়ে যাওয়ার আগেই পিথাগোরাস আমাকে বাবা হওয়ার ধারালো শুক্রাণুর লেজগুলো উপহার দিয়ে গেছে মূর্ধন্য চিহ্নটি কসাইখানার মতো ============...

কবিতা ।। ভ্রমণকথা ।। দীপঙ্কর সরকার

ভ্রমণকথা    দীপঙ্কর সরকার প্রতিটি ভ্রমণকথা এঁকে বেঁকে যায় আলপথ জুড়ে আলোর ঠিকানা , বাতাসে ভাসমান রেখা দিগন্ত বরাবর ‌‌ আলগোছে ছুঁয়ে যায় রোদের কিনারা , ঘুমন্ত এ্যালবাম থেকে খসে পড়ে স্মৃতিচিহ্ন , টুপটাপ শিশির পতন যেন । বিরহে যাতনা থাকে তারও চেয়ে সূচিমুখে ফুটে ওঠে অলীক কল্পনা , কেবা কারা কোন পথে হেঁটে গেছে কতকাল প্রতিটি ভ্রমণকথায় লেখা থাকে স্মৃতিমেদুর সেই বিশদ বর্ণনা । =============== দীপঙ্কর সরকার কাঁঠাল পুলি (সিংহের হাটের কাছে) চাকদহ নদীয়া ৭৪১২২২

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি কবিতা

হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা তোমাকে দিয়ে যাবো তোমাকে দিয়ে যাবো এই সম্পদ সমূহ নদী ও মাটি ,অরণ্য যাপনের শিহরণ যৌবনের বিধূর আত্মা রক্ত সত্রে  পাওয়া ইচ্ছাপূরণের অলীক বেদনা সংযোগে সম্পর্কে সম্পূৰ্ণ আলোছায়ার খেলায় যা সমর্পন তোমাকে দিয়ে যাবো কল্পনার শিবলিঙ্গকে সুখ দুঃখ নিরাময়ে যা চিরকাল অবতল আগুন মহৎ এবং বিচিত্র এই পৃথিবীর মহাপ্রলয় ... আর বেপরোয়া ভিখিরির মতো শেষ কপর্দক তুমিও ঠিক আমার মতোই বুঝবে সেদিন আসলে কোনো দুঃখ ই ব্যক্তিগত নয় ... প্রতীয়মান খরিশ আর পদ্মপাতার কি কি মিল আছে আমি জানি না তবু মাঝে মাঝেই ছলনার খাতিরে ইশারা ইঙ্গিতে আমাকে নিয়ে যায় জয়পুরের জঙ্গলে,বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের বর্ডারে মাইথন জলাধার,সেখানে জলপিপির নাচ আর ঘূর্ণি বাতাস একজন যুবকের মনে যে ব্যাকুলতার জন্ম দেয় তা সারাজীবন গবেষনার বিষয় যে কোনও কবিতার শব্দে ছন্দে উপমায় কিংবা দুটি লাইনের মাঝখানে  এরকমভাবে কোন ও  সুচিত্রা সেন কিংবা জুলিয়া রবার্টস মিশে আছেন বরং বলা ভালো শুয়ে আছেন সৃষ্টির বিষণ্ন ইতিহাসে চিরকাল এবং নিয়ত মর্মর গাথায় তা প্রতিয়মান. ...  

কবিতা ।। পুতুলকথা ।। হামিদুল ইসলাম

পুতুলকথা হামিদুল ইসলাম                     খেলার পুতুল এখনো হাতে হাতে খেলে  খেলাঘরে আঁকা নীরব যাপন    ।। উচ্ছিষ্ট দিন  বন্ধুত্ব পোড়ে মনের গভীরে এখনো খেলে পুতুল। অদূরে ছায়া ছায়া নির্জন দুপুর     ।। আমরা রামগড়ুরের ছানা  পুতুলের সাথে করি ঘর  মানুষের ইচ্ছেগুলো ধীরে ধীরে পুতুল হয়ে যায়  আমরা হয়ে উঠি পুতুল মানব। কখনো হয়ে উঠি মানব পুতুল     ।। মানুষ কমবেশি এখনো নাবালক  প্রতিদিন মান্দাসে ভাসে  প্রতিদিন কষ্টের সাগর পাড়ি দেয় ঘাম নুন জলে ভেজা দুচোখের তারায়     ।। আঁধারে জমে ওঠে সোহাগী রাত  পুতুল হয়ে ওঠে স্বপ্ন বিন্দাস। স্নানঘরে ভেজা ভেজা মেঘ    ।। কথা বলে না পুতুল  পুতুল এখন বেআব্রু রাতের সহবাস  পড়ে থাকে অনশ্বর পুতুল। অনশ্বর পুতুলকথা। জীবনকথা   ।। অকথাঘরে এখনো জন্ম নেয় হাজার হাজার অনশ্বর পুতুল    ।। __________________________________________ হামিদুল ইসলাম গ্রাঃ+পোঃ=কুমারগঞ্জ। জেঃ=দক্ষিণ দিনাজপুর।  ______________...

কবিতা ।। চিরায়ু কার্বন ।। সুবীর ঘোষ

চিরায়ু কার্বন সুবীর ঘোষ   এ-শহরে আর কোনো কীর্তনিয়া নেই, তা কী জানো ? লাঞ্ছিত চীবর ওঠে দুর্বিনীত ধীবরের জালে,   এ-সময় সকলেই অতিজীবিত তারার কাছে মুখাপেক্ষী থাকে, ভোররাতে পাখিদেরও এলার্ম ঘড়িতে নামে ঘুম । পার্থেনিয়ামের নাগাল পেরিয়ে অনূঢ়া ধুঁদুল ঝোলে আজও , আমাদের স্বপ্ন ভাতে ছাই ফেলে রাজপথ ধার ঘেঁষে শিল্পায়ন । পেট্রোল কী অত দাহ্য যত জ্বলে পুরুষরুধির ? দাবানল বন জ্বালে ; এ-শোনিত সমাজ জ্বালায় ।   সেপ্টেম্বর মাস এলে এ-পৃথিবীতে দম্ভেরা নতজানু হয় , বৎসর বৎসর যায়—হাইড্র্যান্ট ভরে ওঠে মানবশোনিতে, লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে থাকে চোরাশিকারির মারা বিষমাখা তির, উত্তরসূরির হাতে ন্যস্ত হয় বাতিল উইল আর চিরায়ু কার্বন ।   তবু এই দাদনের দেশগাঁয়ে ভাদ্রের সতেরো আসে ঠিক , আমি তার এক ফাঁকে জন্মকুক্ষিগুহামুখ থেকে উঁকি মেরে দেখে নিই এ-সংসার কতখানি বাসযোগ্য হল , আস্ফালনের পৃথিবীতে আপাদমস্তক জীব একটাই—কেঁচো—           ...

কবিতা ।। পলাশ-আগুন ।। সুমিত মোদক

পলাশ-আগুন  সুমিত মোদক এবার পলাশ বনে আগুন জ্বালাবে কে ! আগুন-পলাশ … এবার কে খবর দেবে পলাশ বনে কুঁড়ি ধরেছে , ঝোরার জল শব্দ তুলছে … শব্দ তুলছে মাদল … কে খবর দেবে ! আমি তো এখন বসন্ত-গান বাঁধছি ; আমি তো এখন একতারায় সুর তুলছি ; অথচ , আমি আমার মধ্যে নেই , তোমার মধ্যে নেই ; তুমিও … এ কোন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলছি আমরা , আমাদের প্রজন্ম … জানা নেই ; হয় তো এখন কোনও এক আদিবাসী রমণী  বাড়ির মাটির দেওয়াল জুড়ে  ছবি এঁকে চলেছে মনের আনন্দে ; বসন্ত এসেছে যে … হয় তো কোনও এক আদিবাসী পুরুষ তির-ধনুক ঠিক করে রাখছে  শাল-পলাশের জঙ্গলে শিকারে বার হবে বলে ; কারণ , বসন্ত এসেছে যে … তুমি এখন জঙ্গলমহল থেকে অনেকটা দূরে ; আটপৌরে মানুষের কাছ থেকেও … আমি কিন্তু , পলাশ নেবো কুড়িয়ে ; হাঁটবো রাঙা ধুলো উড়িয়ে ; মাদল , ডাক পাঠাবে জানি ; মহুল , ঘ্রাণ ছড়াবে জানি ; এবার পলাশ বনে আগুন জ্বালাবো আমি ; পলাশ-আগুন … ===================== Sumit Modak , " Sonajhuri " , Po : Dighir Par Bazar , Falta , 24 Pgs (s) , pin : 743503 , W.B , India

কবিতা ।। রাত ।। নিরঞ্জন মণ্ডল

রাত নিরঞ্জন মণ্ডল আকাশ ভরা তারার মাঝে একলা চাঁদের মায়া তার গায়েতে জড়িয়ে আছে কোন পরানের ছায়া! এই মাটিতে আকাশ মুখো তাকিয়ে থাকা গাছ নাড়িয়ে পাতা পতপতিয়ে করছে বুঝি আঁচ। তিরতিরে জল নদীর বুকে তাই কি জাগে ঢেউ? ভাবুক হত গহিন রাতে দেখত যদি কেউ। চাঁদের মায়া ঘাসের বুকে জোছনা হয়ে ঝরে খুশির খবর ছড়িয়ে গেলে দিক ভোলানো চরে নিশার ডাকের মতোই ডেকে রাত জাগানো পাখি নিঝুম গাঁয়ের কপাল ছুঁয়ে পরায় হাতে রাখি। সেই পরশে ঘুম ছুটিয়ে মুখর হলে  গাঁও দাঁড় ছপছপ উঠবে দুলে সুর ঝরানো নাও। সুরের তালে শিমুল ডালে খসবে কিছু পাতা মধুর ভারে পাতার আড়ে নড়বে সফেদ মাথা মহুল ফুলের ; শাল পিয়ালের বুকেতে ধুকপুক দুকান পেতে শোনার পরে কাঠবেড়ালির সুখ ছড়িয়ে দিয়ে নরম হাওয়ায় তাকিয়ে আকাশ পানে চনমনিয়ে লেজ নাচাবে কোন সে গোপন টানে! ঘটলে এসব দিগরেখাতে খুলবে আকাশ দোর আলতা আবির ছড়িয়ে দিয়ে উঠবে হেসে ভোর। ------------------------------------ নিরঞ্জন মণ্ডল রাজারহাট/উত্তর24 পরগণা/কোলকাতা-700135।

গল্প ।। ভ্যাসেকটমি ।। চন্দন মিত্র

ভ্যাসেকটমি চন্দন মিত্র নতুন জায়গায় সহজে ঘুম আসার কথা নয়, তার উপর এত বড়ো দায়িত্ব ! নীলেশ কিছুতেই দুচোখের পাতা এক করতে পারে না। অথচ তার সঙ্গীদের প্রায় বেহুঁশ দশা। তাঁদের ঘুমের ভঙ্গিমা ও নাসিকাবাদন শুনলে সহজেই অনুমান করা যায়, দ্রব্যগুণ তাঁদের এক নিরুদবিগ্ন জগতে পৌঁছে দিয়েছে। নীলেশের তিনজন সঙ্গী তার তুলনায় যথেষ্ট বয়স্ক, অভিজ্ঞ ও বটে। ফলে গান অনুযায়ী তাল দিতে তাঁদের জুড়ি মেলা ভার।      নীলেশ, তার চাকরি জীবনে এই প্রথম এমন গুরুতর দায়িত্ব পেয়েছে। ফলত কদিন যাবৎ সে বেশ রোমাঞ্চ অনুভব করেছে মনে মনে। কিন্তু প্রয়োজনীয় লটবহর নিয়ে এখানে আসার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে তার মনের যাবতীয় রোমাঞ্চ উবে গেছে। সেই শূন্যস্থানের দখল নিয়েছে একরাশ অভূতপূর্ব উদবেগ। সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি ও স্নিকার পরিহিত, গলায় কুকুরের চেনের মতো মোটা সোনার হার ঝোলানো এক প্রৌঢ় এসে সন্ধ্যাবেলায় যা ফিরিস্তি দিয়ে গেছেন, তাতেই ঘর থেকে যাবতীয় স্বস্তি বিদায় নিয়েছে। নীলেশ তখন কাগজপত্রের বান্ডিল নিয়ে বসেছিল। প্রৌঢ় তাকে উদ্দেশ্য করে কোনো ভূমিকা ছাড়াই বলতে শুরু করেন, আরে ভাই আপনি তো একেবারে ছেলেমানুষ। সম্ভবত প্রথমবার ...

কবিতা ।। খাঁটি গরুর-দুধ ।। মাথুর দাস

খাঁটি গরুর দুধ মাথুর দাস ঘোষের অনেক মোষ ছিল আর একটি গরু কালো, জার্সি গরুর খাই-খরচায় অনেক খরচাপাতি ; খদ্দের তার ছিলই অনেক ব্যবসা ছিলই ভালো, কিন্তু সবাই চায় গরু-দুধ এবং হয় যেন তা খাঁটি । মোষের দেওয়া অনেক দুধ, যাবেই কি সব ফেলা ? দই ছানা আর পনির এবং মিষ্টি দোকান কিছু, তাতেও বাড়তি দুধ নিয়ে তার চিন্তা যে নেয় পিছু ; 'মোষ'-কে 'গরু' বানাতে ঘোষ করলো শুরু খেলা । এক লিটারে তিন লিটার জল কিছু গুঁড়ো সাবান, মিশিয়ে কিছু অ্যারারুট আর চিনি ও গোলা চক দেখতে থাকে ল্যাক্টোমিটার ডুবছে কত তক ; 'খাঁটি গরুর দুধ'-এ তুষ্ট তার খদ্দের ভগবান । ********* ********************** মাথুর দাস, দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান *******************************

কবিতা ।। চুপকথা ।। শ্রীমন্ত সেন

চুপকথা শ্রীমন্ত সেন   জমানো অক্ষরগুলি ছটফট করে বুকে শুধু কিছু কথকতা বাকি রয়ে গেল বলে, গোধূলির ম্লান রঙে কী যে ছায়া ভাসে দুখে, শেষ আলোটুকু বুঝি আজকেও যায় চলে।   সারা রাত যাবে আজও নিদ্রাহীন অবসাদে, সারা রাত থমধরা একরাশ শুধু কালো, জীবন খণ্ডিত হয় অকরুণ অপবাদে, নৈঋতের অভিমানে ঝুলে থাকে ম্লান আলো।   জলছাপে-জলছাপে কায়াহীন অপলাপে ডুকরিয়ে কেঁদে ফেরা হাহাকার সব জানে, যতটুকু মায়া ছিল গহীন সত্যের মাপে চুপি-চুপি কী যে বলে উতল হাওয়ার কানে।   এভাবেই দিনরাত একাকার ভাবঘোরে, এভাবেই চুপকথা কাঁদে উদয়ের দোরে।    ====================== Srimanta Sen, 29/A/1, Bhagirathi Lane, P.O.- Mahesh, Dist.- Hooghly, PIN- 712 202

কবিতা ।। ব্যর্থ ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

ব্যর্থ তীর্থঙ্কর সুমিত আমাদের ছোটো নদী বড় হলো কবে ভালোবাসা ঘিরে ধরে চোরা স্রোতটাকে এই নিয়ে হুল্লোড় টানা খুশি বুকেতে কবে নদী বড় হলো কে জানে সেটাকে। কিছু কথা জমা আছে পাথরের গায়ে কিছু কথা জমিয়েছি বাকলের ছালে বাকি কথা ভেসে গেছে চোরাস্রোত নদী কথা কিছু বাকি আছে নদী স্রোত কালে। বন্ধুরা আজও দূরে শীলালিপি ছোঁয় আঙুলের স্পর্শে কাটা ঘুড়ি উড়ে যায় তোমাদেরই কাছে আজ মিনতি করি বন্ধুরা এসো কাছে স্বপ্নেরা ক্ষীর খায়। মনে আছে জমা মেঘ বৃষ্টিরা আসবে ভালোবাসা দূরে যাবে কথাতে ভাসবে।  ========= তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুন্ডু ব্রাহ্মণ পাড়া  হুগলী  ৭১২১৩৯

ছড়া ।। বউ এসেছে দুয়ারে ।। মনোরঞ্জন মিদ্দে

বউ এসেছে দুয়ারে মনোরঞ্জন মিদ্দে            দেখতে দেখতে সময় গেল বয়স হলো ষাট, কুড়ি থেকেই বিয়ে করার ইচ্ছে জমজমাট । কিন্তু কোথায় পণের টাকা অভাবী দিনরাত, না ছিল মোর কানা কড়ি বিষয় জমিজিরাত । মা বলতো, ওরে খোকা শেখনা লেখাপড়া, অকালে তোর বোনটা এবং  বাবাও গেল মারা । এখন আর কিচ্ছুটি নেই সম্বল ভিটে বাড়ি, মন দিয়ে শেখ লেখাপড়া কেন করিস আড়ি ? কিন্তু সেদিন নিইনি কানে দুঃখী মায়ের কথা, এখন ষাটে হেঁসেলে বসে বক্ষ ভাসে ব্যাথায় । হঠাৎ সেদিন বলছে সবাই শুনেছ দাদা খবর, দুয়ারে সরকার বউ দেবে গো হেতু হলেই জবর । ঘুম আসেনি গোটা নিশি উঠেছি কাক ভোরে, শাঁখা-সিঁদুর নিয়ে দেখি বউ এসেছে দ্বারে । ---------------------

ছড়া ।। শীত বুড়িটা ।। রিয়াদ হায়দার

শীত বুড়িটা রিয়াদ হায়দার ভোরের বেলা গাছের পাতায় শিশির ঝরে টুপ, ঘুমিয়ে তখন গ্ৰাম ও শহর একেবারেই চুপ ! ঘুমটা ভেঙে আমি যখন বারান্দাতে হাঁটি, হিমের পরশ গায়ে মেখে ভিজতে থাকে মাটি ! আবছা আলোয় রবির ছোঁয়ায় নতুন সকাল আসে, চারিদিকে পাখির কুজন তখন কানে ভাসে !   প্রথম ট্রেনের সাইরেনটা যেই না বেজে ওঠে, সাত সকালে কতো মানুষ তখন কাজে ছোটে ! শীতের ছোঁয়ায় নতুন সকাল কুয়াশার মেঘ ঢাকে, কচিকাঁচা লেপের তলায় আদর মেখে থাকে ! এমনি করেই শীত বুড়িটা যখন আসে ঘুরে, পিঠেপুলি চড়ুইভাতি মন চলে যায় দূরে ! ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, রিয়াদ হায়দার বসন্তপুর, পোস্ট - চাঁদনগর থানা - ডায়মন্ড হারবার জেলা - দঃ২৪ পরগনা পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

কবিতা ।। ইঁদুরকল ।। প্রতীক মিত্র

ইঁদুরকল প্রতীক মিত্র গুগল ঘেঁটে জানলাম, বুদ্ধিমান প্রাণীদের তালিকায় ইঁদুর বেশ ওপরের দিকে। কলে তাই সে ধরা দেয় না। খাবারে বৈচিত্র্য, স্বাদ সব চেষ্টা করে দেখেছি। হয় সে সেই খাবার খায় না নয়তো খেয়ে পালায়। আর আমি তাকে বোকা ভেবে ধরেই নিয়েছিলাম  বাগে আনতে পারবো। বিষে কাজ হয়নি। দরজা-জানলা বন্ধ করে কাজ হয়নি। তাই ইঁদুর কল। লোকজন বলেছিল, এই সব আজকাল আর চলে না। ইঁদুর তাহলে সত্যিই ধূর্ত। ইঁদুরও আধুনিক। আর আমি কিস্তিমাতের কথা ভাবছিলাম। আচ্ছা, তাহলে যারা আমাকে  বা আমার মতন আরো অনেককে হেলায় বোকা বানাবে বলে কিস্তিমাত দেবে বলে চেয়ারে বাহারে রঙ করে সিংহাসন বানাচ্ছে, ঘুঁটি সাজাচ্ছে নিজের মতন করে; কলে ফাঁদ পাতছে লোভনীয়... তারা কি জানে আমার আমাদের সম্ভাবনার কথা? প্রয়োজনে আমরাও চমক দিতে পারি। বোকা বানাতে পারি তাদের অতিচালাকিপনাকে। ভাগ্যিস গুগলে ইঁদুরের কথাই বলা হয়েছে! =========== প্রতীক মিত্র কোন্নগর-712235,হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ

কবিতা ।। স্বপ্নসন্ধানী ।। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী

স্বপ্নসন্ধানী   সুদীপ কুমার চক্রবর্তী ঘোরতর গৃহী আমি শুধু অমৃতকুম্ভের সন্ধানে আজন্ম সন্ন্যাসী হতে চেয়েছি। ছাপাখানার গলি কাগজের গন্ধ ওড়া বাদামী পাতার পাঁচালী। এক অনামী রোদ্দুরের অমলকান্তি  প্রতি বই উৎসবের সহযাত্রী আমি সামান্য সঞ্চয় নিয়ে স্বপ্ন কিনে অনি। ঘোরতর গৃহী আমি ফকিরের ঝোলা কাঁধে স্বপ্ন সন্ধানী বইমেলার সামান্য পুস্তকপ্রেমী। ------------------------------------------------------ সুদীপ কুমার চক্রবর্তী। জয়ন্তী গাজীপুর হাওড়া।

ছড়া ।। হারিয়ে গেছে ।। বদ্রীনাথ পাল

হারিয়ে গেছে বদ্রীনাথ পাল   একটা ছিলো বিশাল দিঘি, টলটলে তার জল- ঢেউয়ের দোলায় সেই জলেতে দুলতো শতদল। আম জাম আর কাঁঠাল গাছের একটা ছিলো বন, পাখ-পাখালি সেই বনেতে খেলতো অনুক্ষণ। ঠিক পাশেতেই একটা ছিলো সবুজ ভরা মাঠ, চলতো খেলা সেই মাঠেতে, বসতো সেথায় হাট। গাঁয়ের শেষে একটা ছিলো মাটির কুঁড়ে ঘর, গান গাইতো সেই কুঁড়েতে বাউল দিগম্বর হারিয়ে গেছে এখন সেসব, গ্ৰামটিও আর নাই, দিন বদলের ডাক শুনে সে বিদায় নিলো ভাই। নেই চেনা পথ, নেই বাদাবন, নেই সে মানুষ আর- কান পাতলেই শুনতে যে পাই কেবল হাহাকার। ----------------------------------------------------------------------------------        বদ্রীনাথ পাল বাবিরডি, পোষ্ট-গৌরাংডি, জেলা-পুরুলিয়া,৭২৩১২১, ফোন-৮১৫৯০৭৬৫৪৮, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত ----------------------------------------------------------------------------------

কবিতা ।। ফাগুন মানে... ।। রঞ্জন কুমার মণ্ডল

ফাগুন মানে... রঞ্জন কুমার মণ্ডল ফাগুন মানে,গাছের শাখায় হাসে কচিপাতা মৃদু মলয় হয়ে মধুময়,কয় বসন্তের  কথা। ফাগুন মানে, রঙিন ফুলে মধুর হাসি ঝরে  ফুল বাগিচায় প্রাণোচ্ছ্বাস বসন্তপ্রেম ফেরে। ফাগুন মানে,জাগে লাবণ‍্য কিংশুক চলে দুলে  রক্ত রাগের খেলা চলে  অশোক ছাতিম ফুলে। ফাগুন মানে, হলুদ আভায় মাতে রাধাচূড়া বকুল গন্ধের মদিরতায় জেগে ওঠে পাড়া। ফাগুন মানে, রঙিন ডানায় প্রজাপতির ওড়া লাল হাসিতে  কষ্ণচূড়া সত‍্যি নজর কাড়া। ফাগুন মানে,শিমুল পলাশ প্রেমের আগুনজ্বালে  ফাল্গুনী প্রেম উজাড় করে মন বিনিময় চলে। ফাগুন মানে,কোকিল ডাকে কুহু কুহু তানে  প্রকৃতি মা বদলায় রঙ  প্রশান্তি আনে মনে। ফাগুন মানে,পুষ্পে পুষ্পে চলে অলির নৃত‍্য আম মুকুলের সুগন্ধি বাস ভরিয়ে দেয় চিত্ত।n ফাগুন মানে,হোলি উৎসব হর্ষে আবীর খেলা নৃত‍্যে,হাস‍্যে,লাস‍্যে মেতে দোল দিয়ে যায় দোলা। ফাগুন মানে,ফাগের রাগে মন যে মাতোয়ারা  মন ফাগুনে ঝরে আগুন মেতে ওঠে প্রেমিকেরা। =========== রঞ্জন কুমার মণ্ডল সারাঙ্গাবাদ,মহেশতলা,দঃ২৪ পরগণা পিন -৭০০১৩৭. পশ্চিমবঙ্গ।  ফোন নং- +91 8240249978

ছোটগল্প ।। জল চলে না উজানে ।। সৌমেন দেবনাথ

জল চলে না উজানে সৌমেন দেবনাথ   প্রবাদ আছে, গাঙে গাঙে দেখা হয় তো বোনে বোনে দেখা হয় না। চোখের দেখা না হলেও মনের দেখা হয় ছাড়া কি! বুলি আর দুলির দেখা হওয়া অসম্ভব কোনো ব্যাপার না, তবুও তারা একে অপরের সাথে দেখা করে না। দুই বোনের মধ্যে কিভাবে দূরত্ব সৃষ্টি হলো সেটা আগে বলি। বুলির স্বামী কোটিপতি, ব্যবসায়ী কিন্তু রঙে একেবারে মরা। বুলি আর দশটা মেয়ের মত না হওয়ায় কালো স্বামীকে অনায়াসে গ্রহণ করতে বাঁধেনি। বিবাহের আগে দুলি বিবাহে বাঁধা দিয়েছিলো। বুলি বলেছিলো, সুন্দরের মধ্যে সুখ থাকে না। আর জীবনও সৌন্দর্যসর্বস্ব নয়। বিবাহ হয়ে গেলো। দুই পরিবারের মাঝে সুন্দর সম্পর্ক হলো। দেবব্রতর সাথে বুলির বোঝাপড়া ভালো। একদিন দেবব্রত বললো, দুলি বড় বেশী সৌন্দর্যপ্রেমী। সৌন্দর্যই সত্য। বুলি বললো, সত্যই সুন্দর। সত্য চিরস্থায়ী। সৌন্দর্য চিরস্থায়ী নয়। শারীরিক সৌন্দর্যের একদিন শেষ আছে। সুন্দর ও সাদা চামড়াকে নয়, সুন্দর ও সাদা মনকে ভালোবাসতে হয়। দুলি কি মনে সুন্দর? ওর কত রূপের অহংকার!  বছর যেতেই দেবব্রত আর বুলির কোলজুড়ে কৃষ্ণকালো পুত্রধন এলো। দুলি নাক বাঁকালো। কালোকে দুলি বড় ঘৃণা করে। দ্বীপকে কোলে নিয়ে দুলি বললো, বাব...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,