Skip to main content

নিবন্ধ ।। গোকর্ণী গ্রামে বিবিমার মাঙন ও হাজত ।। অরবিন্দ পুরকাইত


মগরাহাট থানার গোকর্ণী গ্রামে 

বিবিমার মাঙন ও হাজত

 অরবিন্দ পুরকাইত

 

মাঘী পূর্ণিমায় মাঙন করে বিবিমার হাজত সুন্দরবন অঞ্চলের মানুষের মধ্যে একটি দীর্ঘদিনের আদত। জল-জঙ্গল অধ্যুষিত অফুরান প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার সুন্দরবনের ভয়ঙ্করতার দিক বোঝাতে অনেকসময় এক কথায় বলা হয়ে থাকে— জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ। অর্থাৎ মানুষের কথা যদি ধরা যায়, দেখা যাচ্ছে জীবন-জীবিকার টানে তাদের প্রধান দুই বিচরণের জায়গাতেই বিরাজমান দুই মূর্তিমান নরখাদক!  মানুষের সভ্যতায় নগরের ধারণা বলতে গেলে অনেক পরের। সে ধারণা যখন বাস্তবায়িত হতে থাকল, এটাও বাস্তব হয়ে দেখা দিল যে যুগের পর যুগ মানুষের উন্নতি-প্রগতি মূলত নগরকেন্দ্রিক। গ্রাম-বনস্থলীর যতটা দেওয়ার, পাওয়ার ততটা নয়। নগর ভূমিষ্ঠ হয় না, নগর গড়ে ওঠে। মানুষই গড়ে তোলে নিজেদেরই প্রয়োজনে। সেখানে প্রকৃতির সমস্ত পূর্ব উপাদান ক্রমশ কমে আসে। প্রাধান্য পায় মানুষ এবং মানুষের প্রয়োজনীয় এবং সুখদা নানান সাজসরঞ্জাম, সামগ্রী। গড়ে ওঠে বাজার। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে, সুখের টানে দূর দূরান্তর থেকে মানুষ এসে বসত করে। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে চাকরি-বাকরি জীবিকার নানান দরজা সেখানে খুলে যায়। ক্রমশ দূরত্ব বাড়ে সেই স্থানের নিজেরই পূর্বাবস্থা থেকে, তার দূরবর্তী অংশের সঙ্গে তো বটেই। দূরে পড়ে থাকে আবহমান জনজীবন, বলতে গেলে সরাসরি প্রকৃতিরই ভাঙাগড়া ধ্বংস-সৃষ্টির নানান ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে। এই অরণ্যচর মানুষ, দেহাতি মানুষজন, এই অনেকখানি প্রকৃতির হাতে প্রতিপালিত— প্রকৃতির সঙ্গে দ্বন্দ্ব-মিলনে বয়ে চলে সেখানে জীবন। নাগরিক সুযোগসুবিধা, আয়োজন-উপাদান, ব্যবস্থানার অপ্রতুলতায় তার নানান বিপদ-আপদ, সমস্যা-সংকটে হাতের কাছের উপাদানকে বাধ্যত অনেক বেশি গ্রহণ করে থাকে, প্রকৃতির এক-একটা শক্তিকে ভয় করতে করতে, ভক্তির মোড়কে তাকে তুষ্ট করে জীবনকে নিরাপদ করার উপায় খোঁজে মানুষ সেই প্রকৃতিরই শক্তির মধ্যে। ঝড়-ঝঞ্ঝা, ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, বজ্র-বিদ্যুৎ থেকে প্রকৃতিরই অন্যান্য জীবজন্তুও বাদ যায় না তার থেকে। জীবনযাপনের সঙ্গে বিপদ-আপদ, রোগ-শোক-জরা-ব্যাধি প্রায় আজীবনের সঙ্গী যেমন, তার থেকে রেহাই বা উপশম পেতে মানুষের চেষ্টা তথা সন্ধানও অন্তহীন। ভয় থেকে যে ভক্তি, প্রাকৃতিক বিরূপ নানান শক্তির বিরুদ্ধে যে দেবকল্পনা, তাও নানান রূপ ধারণ করে। জলজীবী-জঙ্গলজীবী-কৃষিজীবী সেই সব মানুষদের কাছের হয়ে ওঠে নিজস্ব কল্পনার, মানসের কাছের নানান দেবদেবী, সেই কাছের দেবদেবীরা তাদের অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ। লৌকিক দেবদেবী নামে আখ্যাত সেই কাছের দেবদেবীদের জনপ্রিয়তা কাউকে কাউকে স্থানিক থেকে বহুমান্য দেবতাদের সারিতেও পৌঁছে দেয়। সেই কাছের দেবদেবী যুগে যুগে কালে কালে জগৎজুড়ে নানান স্থানে নানান ভাবে ও রূপে গড়ে ওঠে, বিবর্তিত হয়; বিলীনও হয় কোনও কোনওটি, নতুন দেবদেবীরও আগমন ঘটে। এই দেহাতি মানুষজনের কাছের দেবদেবীকে অশাস্ত্রীয় বা অপৌরাণিক দেবদেবীও বলা হয়ে থাকে। শাস্ত্র বা পুরাণ কতদিনের, আর আবহমান মানবসমাজ! তাই শাস্ত্র হওয়ার আগে থেকে কত যে দেবদেবী কত জায়গায় প্রচলিত ছিল কোনও কোনও গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাবে, তার নিদর্শন এখনও রয়ে গেছে কোথাও কোথাও প্রকৃতিপূজা তথা প্রকৃতির কোনও কোনও সজীব বা নির্জীব উপাদানের পূজায়। যেমন, নানান রূপে পাথরপুজো। এমনকি সে পাথর পরে ক্রমশ মূর্তির রূপ পেলেও, পাশাপাশি কোথাও কোথাও রয়ে যায় পাথরখানিও। লৌকিক দেবদেবী আজও বহু স্থানেই উঁকি মারেন বহু যুগের ওপার হতে!





বনবিবি বা বিবিমা : সুন্দরবন অঞ্চলের অন্যতম প্রধান লৌকিক দেবী— সর্বাধিক জনপ্রিয়— বনবিবি বা বিবিমা। সুন্দরবনের আর এক জনপ্রিয় লৌকিক দেব দক্ষিণরায়। দেখা যাচ্ছে এই দেবী ও দেব পরস্পরের প্রতিস্পর্ধী ছিলেন। পরস্পরের লড়াই এলাকা দখলের এবং এক সময় সমঝোতাসূত্রের মাধ্যমে এলাকা ভাগ-বাঁটোয়ারার মধ্যে দিয়ে পারস্পরিক সহাবস্থান। দক্ষিণরায় সুন্দরবনের অধিক আতঙ্কের নরখাদক ব্যাঘ্র ও কুমির— ভাঙা ও জলের দুই প্রধান শত্রুর দেবতা হিসেবে মান্য হয়েছেন (প্রধানত বাঘের, কুমিরের আলাদা লৌকিক দেবতা হিসাবে মান্য কালু রায়ও), আঠারো ভাটির অধীশ্বর তিনি; আর অন্যজন বাঘের দেবী হিসাবেও মান্য তো বটেই, আরও কাছের তিনি, কেন-না তিনি আঠারোভাটির সবাকার মা— তাঁকে মা বলে ডাকলে কারো নাকি আর কোনো বিপদ থাকে না।

সুন্দরবনের অঞ্চলে কাঠ কাটতে যাওয়া, মধু সংগ্রহে যাওয়া কিংবা মাছ বা মীন ধরতে যাওয়া মানুষদের কাছে বিপদ-আপদ, প্রাণসংশয়ের ভয় বরাবরই, আর তাই তারা বনে প্রবেশের আগে বনদেবী বা বাঘের দেবতা দক্ষিণরায়ের পূজা করে যায় বনের মধ্যে।

বিবিমা বিষয়ে বিস্তৃতি বা বিশ্লেষণে যাওয়া এ লেখার উদ্দেশ্য নয়, প্রাসঙ্গিক অল্প দু—একটি কথা বলে নিয়েই যাব আমাদের মূল বিষয়ে। গোপেন্দ্রকৃষ্ণ বসু বলেছেন যে বনবিবি আদিতে বনদেবী। 'বনবিবির স্বরূপ সম্বন্ধে লোকসংস্কৃতি বা লৌকিক দেবতা বিষয়ে গবেষক এবং তাঁর পূজ্য ধারণা'র কয়েকটি উল্লেখ করেছেন তিনি, যেমন, 'ইনি হিন্দুদেবি – বনদুর্গা, বনচণ্ডী, বনষষ্ঠী বা বিশালাক্ষী; মুসলমান প্রাধান্য কালে বনবিবি হয়েছেন।' 'হিন্দু-মুসলমান ধর্মচিন্তার সমন্বিত বা মিশ্রিত অরণ্যদেবী।' 'ইনি আদি পাঠান যুগের কোন মুসলমান সাধিকা ও ইসলামধর্ম প্রচারিকা অভিজাত মহিলা ছিলেন, সে কারণে প্রথমে মুসলমান সমাজে বহুজন পূজ্য হন, পরে ভক্তির প্রাবল্যে দেবি পদে উন্নীত হন।…' ইত্যাদি। তিনি এও লিখেছেন যে বনবিবির মূর্তি  দু'রকম, মুসলমান ও হিন্দু অঞ্চলে আকৃতি ও বেশভুষায় পার্থক্য দেখা যায়। বনবিবিকে নিয়ে একাধিক কেচ্ছা বা কাব্য রয়েছে। মরহুম মুনশী মোহম্মদ খাতের প্রণীত বোন বিবী জহুরা নামা-তে বর্ণিত হয়েছে:

 'বোন বিবী শাজঙ্গলি ভাই বহিনেতে ।। যে রূপে হৈলেন পয়দা বনের বিচেতে * যে রূপেতে মক্কা হৈতে গমন করিয়া ।। বাদাবনে ভাটি মধ্যে পৌঁছেন আসিয়া * যে রূপেতে নারায়ণীর সঙ্গে কিয়া রণ ।। আসিয়া ভুরকুণ্ড বিচে করেন আসন * যে রূপেতে ভাটিশ্বর ভ্রমিয়া আখেরে ।। হাট মধু বসালেন বনের ভিতরে * যে রূপেতে ধোনাই মোনাই দুই জনে ।। সপ্ত ডিঙ্গা লিয়া যায় মধুর কারণে * যে রূপেতে দুখেরে দক্ষিণ রায়ে দিয়া ।। কেঁদো খালি হৈতে আইসে মোম মধু লিয়া * যে রূপে বোন বিবী শুনে হয়ে দয়াবান ।। দুখের বিপদ কালে করেন আজান * যে রূপে দুখেরে পেয়ে ধন কড়ি দিয়া ।। কুম্ভীরের পীঠ পরে ছওয়ার করিয়া * দয়ার জননী দয়া কোরে নিজ গুণে ।। পৌঁছাইয়া দিল ঘরে দুখের কারণে * দুখে সে পাইয়া ধন হৈল দেশে রাজা ।। চালে চলে বসতি হইল সব প্রজা *।' এর পর বলছেন, 'বিপদে পড়িয়া বনে যেই জন ডাকে ।। মা বলিয়া বোন বিবী দয়ার মাতাকে * উদ্ধারে তাহার তরে আপনার গুণে ।। মায়ের জহুরা কত লিখিব এখানে * বয়ান করিয়া এই সব বিবরণ ।। লিখিব পিছেতে এবে শোন সর্ব্বজন *।'

 স্বগ্রাম : সুন্দরবন অঞ্চলে মাঘী পূর্ণিমায় বাড়ি বাড়ি মাঙন করে বিবিমার হাজতের যে আদত, বৃহত্তর সুন্দরবনের অংশ হিসেবে আমাদের এই মগরাহাট থানা এলাকাও তার ব্যতিক্রম নয়। আজও খোলা আকাশের নিচে কোনও লৌকিক দেবস্থান দেখলে বহুদূরের জনজীবনের অস্পষ্ট আলোছায়া ভাসতে থাকে যেন চোখে! উজিয়ে গিয়ে বহু দূরের আমাদের তস্য অগ্রজদের সান্নিধ্য অনুভূত হয়। যদিও আজ অনেক স্থলে মাথার উপর ছাউনি বা ছাদ, মাটির ঢিবি থেকে মাটি-পাথর-ধাতুর মূর্তি, কিন্তু কোথাও কোথাও আজও রয়ে গেছে যেন অনেকখানি সেই আদিম আদল বা আদতের আভাস। মূর্তি হিসাবে পূর্ব বা পরিবর্তিত রূপে অথবা চালা বা মন্দির হিসাবে পরিবর্তিত রূপের মধ্যেও— আচার-পদ্ধতির রূপান্তর সত্ত্বেও— কোথাও কোথাও প্রাচীন চিহ্নাদি আজও অবলুপ্ত হয়নি একেবারে। আমাদের পুরকাইত পাড়ার পূর্বে মিস্ত্রিপাড়ার উত্তরে বিবিমার থান রয়েছে, রয়েছে পশ্চিমে জলমপুকুর— অন্য নামে, দখিনমাটান (মাঠান) বা দখিনপাড়ায়ও। রয়েছে গোকর্ণী বাজারের পশ্চিম পাশে। এই তিন জায়গাতেই বাৎসরিক বিবিমার গানও হয়। আমাদের পুরকাইত পাড়া থেকে মাঙন করে, প্রথমে এই বাজারের পাশের থানে এবং ফেরার পথে মিস্ত্রিপাড়ার থানে হাজত দেওয়া হয়।

মাঙনে বেরোনো : স্নান করে উপবাসী থেকে মাঙুনে বা মাঙুনীরা বের হন ছোটখাটো একটি দলে, তাতে বয়স্ক মহিলা থেকে অল্পবয়সি বধূ বা পাড়ার বালিকা-কিশোরী। গলায় খড় বেঁধে মাঙন করতে বেরোনো। এই খড় বাঁধা কিন্তু বাড়িতে নয়, উক্ত বাজার পার্শ্বস্থ বিবিমার থানে। ধোয়া কলাপাতার উপরে ধোয়া খড় কয়টি রাখা হয় বিবিমায়েদের সামনে। তারপর প্রণাম করে এক-একটি এক-একজন গলায় পরে নেয়। মাঙন করতে বেরোনোর সময় গলায় এই মালাটি থাকে না, কয়েক ঘর মাঙন করতে করতে থানে গিয়ে মালাধারণ পর্বটি সেরে নেয় সবাই। আবার কেউ এক-দুজন আগেভাগে চলে গিয়ে থানে ওইভাবে ঠাকুরের সামনে রেখে প্রণাম সেরে তুলে নিয়ে এসেও দলে ভিড়তে পারে। তারপর প্রত্যেকে একটি করে পরে নেওয়া। এই খড়ের মালা ধারণ করে সারাদিন উপবাসী থেকে মাঙুনেরা মাঙন করে ফেরে গোকর্ণী তো বটেই, প্রতিবেশী ঘনশ্যামপুর, মাখালিয়া, হংসগেড়িয়া, মাইতিরহাট ইত্যাদি গ্রামগুলোতে— যতটা হাঁটা সম্ভব আর কি। কষ্ট তো কম নয়— পথ হাঁটা, মাঙনের ধান-চাল বওয়া। আগে ধানও নেওয়া হত, পরে সাধারণত কেবল চালই নেওয়া শুরু হয়। ধান নেওয়ার কালে ধান ও চালের জন্যে আলাদা আলাদা খড়া নিয়ে বেরোতে হত। তা এসবের সঙ্গে সঙ্গে আছে সময়ে কুলিয়ে ওঠার ব্যাপার। শেষ বিকেল, সন্ধ্যার মুখে বা সন্ধ্যার ঠিক পরেপরেই তো ফিরতে হবে। কেন-না তার পরেই তো বাকি থাকে আসল কাজটি— বিবিমার থানে গিয়ে হাজত দেওয়া। সে কথায় আসছি।

প্রতিবেশী-মিলনের এ এক মাহেন্দ্রক্ষণ : ভাবা যায়, নিজেদের গ্রাম সংলগ্ন দু-তিনটি গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে বিচরণ এই সূত্রে! ওই যে সময়ে কুলানোর কথা বলা হচ্ছিল, তার অন্যতম এক কারণ হল পরস্পরের কুশল বিনিময়, খোঁজখবর ইত্যাদি। মাঙুনে দলের কারও কারও আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব— ব্যক্তি, পরিবার বা পাড়াসূত্রে, যেমনই হোক— কোনও কোনও পাড়ায় থাকলে পর বাড়তি সময় সেখানে পারস্পরিক কুশল বিনিময়, গল্পগুজব, সংসার-পরিবার-পাড়ার খোঁজখবর। এ এক অনবদ্য প্রতিবেশী-সংযোগ! বিশেষত গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষেত্রে— ভাবলে ভাল লাগে বই-কি! ছোটবেলায় দেখেছি, কোনও কোনও বয়স্ক মহিলার ঘোমটা খসার ভয় থাকলেও, ঘরে ঘরে ঘোরা এবং খোঁজখবরে কার্পণ্য না থাকা। কোনও কোনও বাড়িতে শুধু মাঙন নিয়ে চলে গেলেই হবে না, সাদরে পেতে-দেওয়া ঝেঁদলা-মাদুরে একটু বসতে হবে। কত সংবাদ সংগ্রহ বা পরিবেশন! কার বাড়ির কে কেমন আছে, কার ছেলেমেয়ে কয়টি এবং ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা-কাজকর্ম বা বিয়ে-থার খবর। শুধু ওই মাঙনকালীন সময়ে তা সীমাবদ্ধ থাকে না, বাড়িতে ফিরে সেসবের গল্পগাছা, আলাপ-আলোচনা— দীর্ঘ রেশ রেখে যায় তা। এতদঞ্চলের অনেক বিবাহিত মহিলার বাপের বাড়ির ও তার আশপাশের দু-একটি গ্রামের অনেকখানি স্মৃতি বিবাহ-পূর্ব তাদের মাঙনে-যাওয়ানির্ভরও।

মাঙনের কম-বেশি : পরিচিত মহলে মাঙন তুলনায় বেশি মেলে। আমার মা যেমন প্রায় প্রতি বছরই যেত মাঙনে, মাঙুনে দল বিশেষ করে চাইত মাকে, লাগোয়া ঘনশ্যামপুরে মায়ের বাপের বাড়ি এবং এ বাড়ি ও সে বাড়ি সূত্রে আরও একাধিক পাড়ায় মায়ের পরিচিতি। মায়ের দৌলতে মাঙন বেশি পাওয়া যেত বলে গল্প করত ঠাকুমা-জেঠিমা-কাকিমারা। প্রসঙ্গত, মাঙনের পরিমাণ অর্থাৎ মাঙন-সামগ্রী মেলার পরিমাণ এইরকম পরিচিতি, পথ হাঁটা, একটি পাড়া থেকে কয়টি দল বেরোলো এসবের উপর বেশ খানিক নির্ভর করে। সবাই যে খুব আদর করে মাঙন দেয় তা নয়, এই সময়টা একের পর এক দল ঢোকায় মনে মনে বিরক্তও হয় কেউ কেউ। অনেকের হয়তো আবার চাষ নেই, কেনা চাল। কারও কারও অবস্থা ভাল হলেও, কেবল সৌজন্য রক্ষা। অসৌজন্যও। মানসিকতা, বিশ্বাস ইত্যাদির ব্যাপার। কোনও কাজে ব্যস্ত বলে ঘুরে আসতে বলাও আছে। 'নয়াপয়সার দল' অর্থাৎ কেবল অল্পবয়সি মেয়েদের দেখলে মাঙন কম। কেউ কেউ আগত দলের পাড়া জেনে নিয়ে, তাদের পাড়া থেকে ইতিমধ্যে অন্য দল এসে থাকলে তা শুনিয়ে দিতেও ছাড়ে না। মাঙন বেশি পাওয়ার জন্যে একটি দল দু-ভাগ হয়ে আলাদা আলাদাভাবে একই বাড়িতে মাঙন নিয়েও থাকে। দিনের শেষে একত্র করে বেচে, একসঙ্গে হাজত। একই পাড়ায় আলাদা আলাদা জ্ঞাতি-গোত্র থাকায় আলাদা দল বেরোনোও সম্ভব।

মাঙনে সব প্রতিবেশীই মান্য : এ মাঙনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল সব রকম প্রতিবেশীর কাছ থেকে মাঙন নেওয়া। সমাজের তথাকথিত নিম্নবর্ণের— যেমন কাওরা, মুচি প্রভৃতি শ্রেণির বাড়ি থেকেও মাঙন নিতে হয়, নেওয়া হয়। মুসলমানের বাড়ি থেকেও অন্তত এক ঘর থেকে, বেশি হলে তো ভালই। এখানে পৌণ্ড্রক্ষত্রিয় মানুষরা যেমন দল বেঁধে মাঙনে বেরোয় তেমনই কায়স্থ, ব্রাহ্মণ, নাপিতরাও বেরোয় এবং সমাজের সব রকম বর্ণ বা শ্রেণির বাড়ি থেকে মাঙন সংগ্রহ করা হয়, অর্থাৎ কোনো ভেদাভেদ রাখার নিয়ম নেই। পির গাজি প্রভৃতি দেবদেবী তো হিন্দু-মুসলমান সমন্বয়সাধক দেবতা হিসাবে পরিগণিত, মাঙন সংগ্রহের এই ধারা বা ধরন যেন তারই পরিপূরক। 

অল্পবয়সের হুজুগ : অল্পবয়সি মেয়েরা অনেকেই মাঙনে যায় হুজুগে। অনেকসময় খানিক মাঙনের পরে বা মাঝ-মাঙনে হয়তো তাদের কেউ বা কেউ কেউ আগ্রহ হারিয়ে ফেলল, তখন তাদের বাড়ি যেতে বলা হয় বা পরিচিত কাউকে দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়, কিন্তু নির্দেশ থাকে বাড়িতে না ঢুকে বাইরে খেলাধুলা করে সময় কাটানোর। বাচ্চা মেয়েরা উপবাস অত মানে না সবসময় কঠোরভাবে, তবে ভাতটা খায় না। মাঙুনেরা মাঙন সেরে এলে এরা তাদের সঙ্গী হয় এবং হাজতশেষে যথাবিধি যে-যার বাড়িতে প্রবেশ করে।

মাঙনে মানা : কারও বাড়িতে অশৌচ থাকলে বা 'মায়ের দয়া' অর্থাৎ হাম-বসন্ত হলে তাঁদের জ্ঞাতিগোত্রের মানুষরা মাঙনে বেরোয় না বা মাঙন দেয়ও না। মাসিক হলে মাঙনে বেরোয় না মহিলারা।

হিন্দু-মুসলমান ধর্মসমন্বয়ের বাস্তবচিত্র : বিবিমার এই হাজতে মুসলমানদের অংশগ্রহণ বলতে, যে ফকির হাজতের বন্দোবস্ত করেন তিনি বরাবরই মুসলমানদের মধ্যে কেউ একজন হন। তাঁকে হাজতের সময় নামাজ পড়তে হয়। এখানে পুরোহিত দিয়ে কোনোদিনই পুজো হয়নি। তার বাইরে, মুসলমানরা মাঙন করে হাজত দেয় না। কারও কারও মানসিক থাকলে, চিড়ে-মুড়কি-বাতাসা-সন্দেশ ইত্যাদির মালসা দেয়। প্রসাদ দেওয়ার সময় সংলগ্ন মুসলমান পাড়া থেকে অবশ্য অনেকেই তা নিতে হাজির হয়। একদা সমাজের তথাকথিত নিম্নবর্ণের থেকে নানান কারণে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয়েছিল যারা, শিকড়বাকড়ের টান যেমন পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা, মুসলমান হওয়ায় মূর্তিপূজার বিষয়ে আগ্রহহীনতাও অস্বাভাবিক নয়।

মাঙন থেকে ফেরা : দিনশেষে মাঙুনীরা পাড়ায় ফেরে। প্রাপ্ত ধান, চাল, আলু ইত্যাদি কেউ কেউ কিনে নেয়। সেই পয়সা এবং মাঙনে প্রাপ্ত পয়সায় গোকর্ণী বাজার থেকে কেনা হয় হাজতের সামগ্রী। মূলত চিড়ে-মুড়কি-বাতাসা-সন্দেশ-পাটালি। এই হাজত-অভিমুখী দলটা তুলনায় ভারী হয়। ছোট-আমরাও সাগ্রহে সঙ্গী হয়েছি একাধিক বছর। এই সময় তো আর ছেলে বা মেয়ের ব্যাপার নেই! বলা বাহুল্য, দু-একটি নাছোড় ছোট ছেলের ব্যতিক্রম বাদ দিলে, মাঙনে মহিলা বা মেয়েরাই প্রধান। বাজার থেকে আমরা এবার পৌঁছাই অদূরের বনবিবি বা বিবিমার থানে। 

থানে হাজত : থানে এই পক্ষকাল বিকেল থেকে উপস্থিত থাকেন ফকির। এক-একটি দল এলে, তিনি হাজতের বন্দোবস্ত করেন। সঙ্গে নিয়ে-যাওয়া সাতটি আঁচ কলাপাতা ধুয়ে, পরপর পেতে দিয়ে তার উপর রাখা হয় হাজত-সামগ্রী। এখানে শিরনি দেওয়ার চল নেই কোনোকালেই। তা হাজতের সামগ্রী আগে রাখা হত খোলা আকাশের নিচে ছোট-বড় ও গুঁড়ো ইটের অনুচ্চ লম্বাটে আয়তকার জায়গায়‌। এখন সেখানে ইট-বালি-সিমেন্টের বাঁধানো বেদি এবং তার উপর পাশাপাশি সিমেন্টের সাতটি অনুচ্চ থাম সাত বিবির। মাথার উপর চালা, চারদিক খোলা। গোছগাছ করে দেওয়া হয়ে গেলে, ফকির নামাজ শুরু করেন। দোয়া মাঙেন। নামাজ শেষে মাঙুনীরা তাদের খড় বা কুটোর মালা খুলে ফেলে। তারপর হাজতের জিনিস এবং আলাদা-করে-রাখা মিস্ত্রিপাড়ায় হাজত দেওয়ার চিড়ে-মুড়কি ইত্যাদি সামগ্রী নিয়ে বাড়ির পথে! বড়দের থেকে শুনে শুনে আমরাও হাজতের জিনিসই বলতাম বেশি, প্রসাদ সেইভাবে কোনোদিন বলেছি বলে মনে হয় না। অন্যান্য পূজার ক্ষেত্রেও, আমরা পুজোর জিনিসই বলেছি বেশি, প্রসাদ আর বলেছি কই! যাই হোক, দত্তদের পুকুরের পাশ দিয়ে এবার একটু পুবে গিয়ে বাবাঠাকুরতলার উলটো দিকের পথে অর্থাৎ দক্ষিণে একটু হেঁটে দলটা পৌঁছাবে মিস্ত্রিপাড়ার অদূরে অবস্থিত বিবিমার থানে।

পাড়াপার্শ্বস্থ বিবিমার থানে হাজত : এখানে আমরা বিবিমার মূর্তিই দেখে এসেছি। মৃন্ময়, পাশাপাশি সাত বোন। আগে মাটির দেওয়াল ও টালির ছাওন ছিল, এখন ছাদ দেওয়া পাকা ছোট্ট থান। নিজেরাই এখানে হাজত দেওয়ার চল, ফকির বা কোনো পুরোহিতের ভূমিকা থাকে না। এটিই তো আদতে একদা লৌকিক দেবদেবীর পূজার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল, পরে দেখা দেয় পুরোহিতপ্রাধান্য। এখানে হাজতের পর মহানন্দে পাড়ায় ফেরা। মহানন্দ, কেন-না এবার শিগগিরই খেতে পাব আমরা হাজতের জিনিস!

জ্যোৎস্না-খামারে বিলি হাজতের জিনিস : হাজতের দলটা এসে বসবে আমাদের খামারে। সঙ্গে গেলে তো কথাই নেই, যারা যায়নি এমন ছেলেমেয়ে, বউ-ঝি, বয়স্করা কেউ কেউ এসে হাজির হবে সেখানে। উপস্থিত মাঙুনে বা মাঙুনীদের মধ্যে হাজতের জিনিস ভাগ করার সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হবে তা উপস্থিত সবাইকে। মাঙুনেরা ওখানে বসেই খাওয়া শেষ করবে। শুক্লপক্ষ হওয়ায়, বেশির ভাগ সময়ে চাঁদের আলোয়। তার পরে যে-যার বাড়ি ঢুকতে পারবে। আমাদের তরুণ বয়স থেকেই অবশ্য বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খাওয়ার চল শুরু হয়। সারাদিনের ধকলের পর দীর্ঘক্ষণ বাইরে বসে হাজতের শুকনো জিনিস চিবোনো কষ্টকর।

পরিবারের সবাই ঠিকঠাক আছে তো : মাঙুনেরা হুট করে বাড়িতে ঢুকে পড়ে না। বাড়ির লোকেরা সদর দরজার সামনে কুলগাছের ছোট্ট একটি ডাল, পেতলের ঘটি, জগ বা গ্লাসে জল এবং একটি প্রদীপ জ্বেলে রেখে দেয়। সদর দরজার বাইরে থেকে মাঙুনে ও বাড়ির ভিতর থেকে কারও কথোপকথন হবে এইরকম :

মাঙুনে : দৈরে কেন কাঁটা?

বাড়ির লোক : গিন্নি গেছে বনভোজনে ছেলেরা সব লোহার ভাঁটা।

মাঙুনে : দৈরে কেন পেতল?

বাড়ির লোক : গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই আছে শেতল।

মাঙুনে : দৈরে কেন আলো?

বাড়ির লোক : গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই আছে ভাল।

প্রথম প্রশ্নের উত্তরে অনেক সময় কেবল 'ছেলেরা সব লোহার ভাঁটা' বা 'ছেলেরা লহার ভাঁটা'ও বলা হয়। আমরা জানি, কেবল ভাঁটার মতন চোখ নয়, কারও 'গাঁট্টাগোট্টা' চেহারা হলে পাড়া-গাঁয়ে ভাঁটার মতন শরীর বলার চল আছে। প্রশ্ন ও উত্তর শুনিয়েছেন মাঙনে-না-যাওয়া মায়া কাকিমা (পুরকাইত) ও এখনও-যেতে-থাকা কল্পনা কাকিমা (পুরকাইত); পেতল পর্বটি দীর্ঘদিনের মাঙুনে প্রয়াত আমার মা রেণুকার কাছ থেকে শুনে শুনে মনে রেখেছে আমার স্ত্রী সরমা। কল্পনা কাকিমা জানালেন যে সদর দরজার সামনে রাখা হয় কুলকাঁটা আর ঘরের দরজায় রাখা হয় প্রদীপ। যাদের সদর দরজা নেই, দুটিই রাখা হয় ঘরের দরজায়। সংক্ষেপ করার জন্যে তিনটি জিনিসই সদর দরজার সামনে রাখা হয়ে থাকে, বা ঘরের দরজায়।

এ গ্রামের জাতক (পরবর্তীকালে বারুইপুরের বাসিন্দা) মান্য সাহিত্যিক তথা দেবযান-সম্পাদক প্রয়াত সন্তোষকুমার দত্ত (১৯৩০—২০১৭) তাঁর "তরুণ বয়সে দেখা বিনিমা'র মাঙনের একটি অনুষ্ঠান"-এর কথা বলেছেন। তিনি লিখেছেন :

"মাঘ, ফাল্গুন মাসের কোন এক সময়ে পাড়ার বয়স্কা মহিলাদের গ্রামের বাড়ি বাড়ি মাঙন, সন্ধ্যায় বিবিমা'র থানে মৌলবীকে দিয়ে পূজার জিনিসপত্র অর্পণ। পূজা শেষে পাড়ার শান-বাঁধানো ঘাটে অথবা কোন গাছ তলায় বসে মহিলাদের দুধ-মুড়ি-কলা-মিষ্টি দিয়ে ফলার ভক্ষণ। সেই সময় পারস্পরিক খাদ্যের আদান-প্রদান। ভোজন শেষে ব্রতধারিণীদের দলবদ্ধভাবে পাড়ার প্রত্যেক বাড়িতে উপস্থিতি। সেই সব বাড়ির দরজায় রাখা হতো একটা বড় ঘটিতে জল, কুলগাছের এক টুকরো ডাল এবং একটি প্রজ্জ্বলন্ত প্রদীপ। মহিলাদের মধ্যে একজন প্রশ্নকর্ত্রী এবং তার উত্তরদাতা সেই বাড়ির কোন এক ছেলে বা মেয়ে।" এরপর প্রশ্ন ও উত্তর দিয়েছেন তিনি :

'"দোরে কেন আলো — ?

গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই আছে ভালো।

দোরে কেন পেতল — ?

গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই আছে শেতল।

দোরে কেন কাঁটা — ?

গিন্নি গেছে বনভোজনে সবাই লোহার ভাঁটা।"'

অর্থ দিয়েছেন এই বল, "শেতল অর্থে সংসারে শান্তি বিরাজমান এবং 'লোহার ভাঁটা' অর্থে পরিবারের সকলে সুস্থ।" 'এই পরিক্রমার পর অনুষ্ঠানের সমাপ্তি' জানিয়ে, 'তাৎপর্য' হিসাবে তিনি লিখেছেন, 'দানে ও গ্রহণে চিত্তের প্রসারতাই এর অন্যতম দিক। লোকসংস্কৃতির এই সুন্দর অনুষ্ঠান জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে এক সম্প্রীতির জগতের সন্ধান দেয় — যে সম্প্রীতি একালে — অপ্রিয় হলেও সত্য — ক্রমশ অস্তাচলগামী।'

গ্রামীণ একেবারে তৃণমূল স্তরে বিভিন্ন বিষয়ে শব্দসংগ্রহ ও তা বিশ্লেষণের মান্য এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বিমলেন্দু হালদার ছড়াটিকে দিয়েছেন এইভাবে :

'ঘরে কেন রে আলো?

গিন্নি গেছে বিলমাঙনে

সবাই আছে ভালো।।

পথে কেন রে কাঁটা?

ছেলেরা সব খেলা করতেচে

সবাই নোয়ার ভ্যাঁটা।

অথবা,

ছেলেরা সব নোয়ার ভাঁটা।।'

এটিকে তিনি 'উৎসবের ছড়া' বলে উল্লেখ করে লিখেছেন, "দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় বিবিমার পুজো, পীরের পুজো 'জাত' ইত্যাদিতে ভক্তরা মাঙন করে। সারাদিন উপোস করে, মানুষের দোরে দোরে মাঙন করে চাল পয়সা পায়। চালগুলো বিক্রি করে দেয়। তারপর সমস্ত পয়সা নিয়ে হাজতের প্রসাদ কেনে। পীরতলাতে পীরের থানে সিন্নি দেয়। সন্ধ্যাবেলা যখন ব্রতীরা বাড়ি ফেরে তখন এই ছড়া বলে। একজন প্রশ্ন করে অন্য একজন উত্তর দেয়। সারাদিনের শেষে পুজো হয়ে গেলে বাড়ি ফেরার সময় গৃহিণীর মনে শঙ্কা জাগে— সবাই ভালো আছে তো? ছেলেরা কেমন আছে? দূর থেকে আলো দেখে, পথে কাঁটা ছড়ানো দেখে শঙ্কা দূর হয়। এগুলি ভালো থাকার সংকেত বা চিহ্ন।" 'বিল মাঙন' বলতে তিনি 'বড় ধরনের মাঙন' বলেছেন, কিন্তু 'বিল' সচরাচর 'বড়' অর্থ করে বলে মনে হয় না। বিল পুকুর, বিল মাছ উভয়েরই চল আছে। বিল পুকুর যখন বলা হচ্ছে, মূলত বিল মাছের পুকুরই বোঝায় তা। অর্থাৎ বিলের মাছ— মূলত বিল বা জলা জমি, পুকুর, ডোবা, খালের মাছ বোঝায়। এর বিপরীতে সচরাচর চল আছে পোনা পুকুর বলার— রুই-মৃগেল-কাতলা-কালবউস প্রভৃতি মাছের পুকুর। বিল মাছ বলতে বরং চুনোচানা ও 'ডেঙা' দিশি খুচরো মাছের দিকেই ইঙ্গিত করে। অর্থাৎ 'রাঘব বোয়াল' নয়।

ব্যবস্থাপক, ফকির ও পাঁচালি গায়ক : বর্তমানে এই বিবিমার থানটির ব্যবস্থাপনা ও সংলগ্ন স্থানের পরিসর বৃদ্ধির দায়িত্বে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ গায়েন, নরেন্দ্রনাথ বায়েন ও কানাইলাল হালদার। বর্তমান ফকির আয়েন মিস্ত্রি (পিতা আমিন মিস্ত্রি)। পূর্বে দীর্ঘদিন ছিলেন ছোপান ফকির। মাঝে কিছুদিন ছিলেন ফয়জদ্দি ফকির। প্রতি বৎসরই এখানে পুর্ণিমায় শেষ হাজতের দিন বিবিমার গান হয়। গত দু-বছর বিবিমার গান গাইছেন দেওয়ানগঞ্জের গোবিন্দ শিকারী।

সুজিত কুমার মণ্ডল গোপেন্দ্রকৃষ্ণের মত প্রসঙ্গে লিখেছেন, "প্রথমত, 'মুসলমান-প্রধান অঞ্চল' ও 'হিন্দুপ্রধান অঞ্চল'-এর ধারণাটি স্বচ্ছ নয়। পূজা-হাজোত যদি ব্যক্তি বা পরিবারনির্ভর হয় তা হলে অঞ্চলভিত্তিক ভাগের ধারণা টেঁকে না। দ্বিতীয়ত, এই ধর্মভিত্তিক বিভাজন ও তার পাশাপাশি ধর্মসমন্বয়ের প্রতীক হিসেবে বনবিবিকে দেখার তত্ত্ব পরস্পরবিরোধী। তৃতীয়ত, আমাদের পর্যবেক্ষণে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে মূর্তি পূজার বদলে হাজোত দেওয়ার প্রবণতা বেশি। মানত বা ছলন পূজায় সে ক্ষেত্রে আলোচ্য পালাগানগুলির বদলে গাজির গান আচার ও অনুষ্ঠান হিসেবে অভিনীত হতে বেশি দেখা যায়।"

একদা বাধ্যত প্রাকৃতিক উপাদান, কল্পিত দেবদেবী, জাদু, মন্ত্রতন্ত্র ইত্যাদির উপর একান্ত নির্ভরশীল মানুষ আজ কেউ কেউ এসবে তেমন আস্থাশীল নয়, কেউ কেউ আধুনিক চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালিয়ে যায় এসবও। আধুনিক চিকিৎসা যেখানে আজও ভাল করে পৌঁছায়নি, সেখানে আজও, অন্তত প্রাথমিকভাবে এসবের উপর নির্ভর করে অনেক মানুষ, চিকিৎসার সামর্থ্যে না কুলালে বা অচিকিৎস্য হয়ে পড়লে শেষ আশ্রয় হিসাবেও অনেকে আস্থা রাখতে চায় এসবে। অনেকসময় আশায় থাকে অত্যাশ্চর্য বা অলৌকিক কিছু ঘটার। প্রাকৃতিক উপাদান অবশ্য স্বতন্ত্র্য কারণ তার দ্রব্যগুণ অনেকসময়ই প্রত্যক্ষ্য। চিকিৎসাবিজ্ঞানও তার থেকে রসদ সংগ্রহ করে।

যে-যার নিজস্ব বিশ্বাস ইত্যাদির ব্যাপার বাদ দিলেও, দীর্ঘ প্রথা চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে একইসঙ্গে শিকড়ের স্বীকৃতির সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক কিছু কিছু উপযোগিতার প্রবাহ চলতে থাকে কাল থেকে কালান্তরে। লৌকিক দেবী বিবিমার থানে নানান বিপদ-আপদ, রোগ-শোক-ব্যাধি ইত্যাদির জন্যেই পুজো-হাজত দিয়ে বা মুদো বেঁধে রক্ষা পাক আর নাই পাক, মানুষের সঙ্গে মানুষের বাৎসরিক এই সাক্ষাৎ, সংযোগ, মেলামেশা, পারস্পরিক আদানপ্রদানের গুরুত্ব কম নয়, বিশেষ করে ক্রমশ আত্মকেন্দ্রিক-আত্মসর্বস্ব হয়ে-ওঠার এই দিনে। 

 

 =====================

 

উল্লেখসূত্র ও ঋণস্বীকার :

কোনও কোনও তথ্য প্রাপ্তি এবং যাচাইয়ে যাঁদের কাছে ঋণী - শান্তিবালা পুরকাইত, শৈলেন্দ্রনাথ পুরকাইত, কল্পনা পুরকাইত, মায়া পুরকাইত, সরমা পুরকাইত, রবীন্দ্রনাথ গায়েন প্রমুখ।

লোকসংস্কৃতি ও স্বনির্বাচিত বাংলা কথাসাহিত্য — সন্তোষকুমার দত্ত, বঙ্গবাতায়ন, ১৫ আগস্ট ২০০৭
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার কথ্যভাষা ও লোকসংস্কৃতির উপকরণ (দ্বিতীয় খণ্ড) — বিমলেন্দু হালদার, প্রিয়নাথ প্রকাশনী, দ্বিতীয় প্রকাশ — বইমেলা, জানুয়ারি
 ২০১৯

বাংলার লৌকিক দেবতা— গোপেন্দ্রকৃষ্ণ বসু, প্রথম প্রকাশ— নভেম্বর ১৯৬৬, পরিবর্ধিত প্রথম দে'জ সংস্করণ— এপ্রিল ১৯৭৮, চতুর্থ সংস্করণ— জানুয়ারি ২০০৮

বনবিবির পালা— সম্পাদনা সুজিত কুমার মণ্ডল, গাঙচিল, মার্চ ২০১০

 

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং অফিসে ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

বর্ষার কবিতা ।। বিচিত্র কুমার

কয়েকটি বর্ষার কবিতা বিচিত্র কুমার (০১) শ্রাবণের আকাশ শ্রাবণের আকাশ, যেন অশ্রু লুকিয়ে রাখা দুটি চোখ; হাসির আড়ালেও যার ভেতরে বৃষ্টি জমে থাকে। কদমের গন্ধ, যেন শৈশবের ডাক; সময় যত দূরেই নিয়ে যাক, মন তাকে ভুলতে পারে না। ভেজা পথ, যেন জীবনের অসমাপ্ত অধ্যায়; প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন অর্থ লেখা হয়। যে স্মৃতিকে সম্মান করতে পারে, সে বর্তমানকেও সুন্দর করে বাঁচতে শেখে। (০২) ভেজা বিকেল বর্ষার বিকেল, যেন পুরোনো ছবির অ্যালবাম; প্রতিটি দৃশ্য ভুলে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনে। দূরের বাঁশবন, যেন অপেক্ষার দীর্ঘ ছায়া; সময় বাড়ে, অথচ আশার আলো নিভে না। পথের ছোট্ট জলধারা, যেন অবহেলিত স্বপ্ন; একদিন সেও নদীর সঙ্গে গিয়ে মিশে। ছোট বলে কোনো স্বপ্নকে অবহেলা কোরো না; সমুদ্রও একদিন একফোঁটা জল থেকেই শুরু হয়। (০৩) বৃষ্টির প্রদীপ বর্ষার রাত, যেন গভীর ধ্যানের একটি মন্দির; অন্ধকারও সেখানে আলোকে জন্ম দিতে শেখায়। বৃষ্টির ফোঁটা, যেন ছিন্ন স্বপ্নের মুক্তো; মাটিতে পড়েই তাদের প্রকৃত মূল্য প্রকাশ পায়। ভেজা জানালা, যেন মনের আয়না; অশ্রু মুছে গেলেও অনুভূতির দাগ থেকে যায়। ভাঙা স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়েই মানুষ নতুন আকাশ দেখতে ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত

 তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত নবপ্রভাতের   আহ্বান রাতের   শেষে   ফুটল   ভোর , সোনার   রঙে   রাঙে   ঘোর।   শিশির ভেজা   ঘাসের   বুকে , সূর্য   হাসে   মিষ্টি   মুখে। পাখিরা   গায়   নতুন   গান , জেগে   ওঠে   সারা   প্রাণ। নদীর   জলে   রোদের   নাচ , মেঘের   গায়ে   আলোর   আঁচ। ফুলের   ডালে   মধুর   গন্ধ , মনটা   ভরে   আনন্দ। হাওয়া   বয়ে   আনে   সুখ , মুছে   দেয়   সব   দুঃখ। নতুন   দিনের   নতুন   ডাকে , স্বপ্ন   জাগে   হৃদয়   ফাঁকে। চলার   পথে   আশা   সাথি , সাহস   থাকে   প্রতি   রাতে। পরিশ্রমে   ফুটুক   ফুল , ভেঙে   যাক   সব   ভুল। ভোরের   আলো   বলে   তাই , জীবন   জয়   করবই।   বৃষ্টির   সুরে   বাংলা কালো   মেঘে   ঢাকে   আকাশ , বৃষ্টি   নামে   উচ্ছ্বাস। কদম...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭