Skip to main content

উপন্যাসিকা ।। মুদ্রার উল্টো পিঠ ।। সুদীপ পাঠক

 


 উ প ন্যা সি কা

মুদ্রার উল্টো পিঠ 


সুদীপ পাঠক 

পর্ব : ১

বুক ভরা ভালোবাসা 

অঞ্জনা তার দুই ছানাপোনা নিয়ে বাপের বাড়ী এসেছে । মেয়ে বড় ছেলে ছোট । অন্নপ্রাশন হয়ে গেছে, সব ধরণের খাদ্যগ্রহণে অভ্যস্ত, মুখে বোল ফুটেছে, হাঁটতে পারে তবু তাদের দুগ্ধপোষ্য বললে ভুল হবে না । ওদের দিদিমার জিম্মায় দিয়ে ক'টা দিন হাত পা ছড়িয়ে থাকার মজাই আলাদা । বাচ্ছারাও দিম্মাকে পেয়ে আহ্লাদে আটখানা । 

তবে মিসেস অমিতা বর্ধন ডাকসাইটে মহিলা । কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ শুল্ক দপ্তরে উচ্চপদে চাকুরিরতা । স্বামী যতোটাই ব্যক্তিত্বহীন উনি ততোটাই রাশভারী । নইলে সংসার কবেই ভেঙেচুরে খানখান হয়ে যেতো । জীবন সংগ্রামে বহু উত্থান পতনের সাক্ষী তাঁর গুরুগম্ভীর মুখাবয়ব । মেয়ে স্কুলে পড়ার সময় পূর্বতন  কমপ্লেক্সের এক বখাটে ছোকরার হাত ধরে বাড়ী থেকে পালিয়ে যায় । অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের ভুল বুঝতে পেরে মায়ের বুকে এসে আছড়ে পড়ে । অমিতা দেবী সস্নেহে লালন পালন করতে থাকেন নিজ সন্ততিকে । আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, সহকর্মী ও পরিচিত জনের বহু কটূক্তি, ঠাট্টা তামাশা সহ্য করে বা উপেক্ষা করে সেই মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে উচ্চশিক্ষিতা করে সমাজের উপযুক্ত করে গড়ে তোলেন এবং যথা সময়ে পাত্রস্থ করেন । একমাত্র পুত্র সন্তান সস্ত্রীক আমেরিকার বোষ্টনে সেটেল্ড । উভয়েই আই টি সেক্টরের কর্মী । সহপাঠী থেকে জীবনসঙ্গী হয়েছে তারা । আগের সরকারী আবাসন পরিত্যাগ করে নতুন জায়গায় উঠে এসেছেন । এটি ফোর বি এইচ কে এ্যাপার্টমেন্ট । প্রশস্থ, প্রভূত আলো বাতাস যুক্ত, সর্ব সুবিধা সম্পন্ন ও অত্যাধুনিক সাজ সজ্জায় সজ্জিত । এ ব্যাপারে যথেষ্ট শ্লাঘা বোধ করেন মিমেস বর্ধন ।  

আর পাঁচটা মধ্যবিত্ত পরিবারের সাধারণ গৃহবধূর মতো আচরণ করেন না তিনি সে কথা বলাই বাহুল্য । নাতি নাতনীকে নিয়ে দেখনদারি আদিখ্যেতা তাঁর ধাতে নেই । জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়া বা অর্থহীন কথাবার্তায় ছেলে ভুলোনো এসবের ধারকাছ দিয়েও ঘেঁসেন না তিনি । সব কিছুতেই শিক্ষা রুচি ও আভিজাত্যের ছাপ বজায় রাখতে তিনি বদ্ধ পরিকর । দুপুরে খাওয়ার টেবিলে বাচ্ছাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকার সময়েও সে অভ্যাস বাদ যায় না । ওদের জিজ্ঞাসা করলেন
- তোমাদের মাকে নিয়ে তিনটে ভালো কথা বলতো শুনি । মায়ের এমন তিনটে জিনিস যা তোমাদের খুব পছন্দ । 
কুঁড়ি-ঋভু তৎক্ষণাৎ একবাক্যে সমস্বরে চিৎকার করে বলে উঠলো
- মাম্মামের বুবু...
সেই সঙ্গে তাদের সরল নিষ্পাপ মুখে হাসি ফুটেছে ! 
অমিতা অঞ্জনা উভয়েই লজ্জায় অধোবদন হয় । কোনো প্রকারে প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন । পরে অবশ্য বাচ্ছারা ঘুমিয়ে পড়লে মা মেয়ে পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে হেঁসে কুটপাটি যাওয়ার যোগাড় । 

অঞ্জনা তার মামার বাড়ীর ধারা পেয়েছে, খর্বাকৃতি ও পৃথুলা । গায়ের রঙ না ফর্সা না কালো ; হাল্কা গম রঙ্গা । কোমর পর্যন্ত লম্বা কুঞ্চিত ঘন কালো চুল ও আড়ম্বরহীন মুখমন্ডল । হাঁটলে গুরু নিতম্বের দোলা ও সর্বপরি তার সুডৌল স্তনযুগল সুতীব্র যৌন আকর্ষণ উদ্রেক করে । গোল-নিটোল ও ডাটো ; যেনো পাকা বেলফল । যেমন ভারী তেমনই নরম তুলতুলে । এক অদ্ভুত বৈপরীত্য ও সৌন্দর্যের মিশেল ।

বাচ্ছারা এখনো পর্যন্ত আদর কাঁড়ায়, স্তনবৃন্ত মুখে পুরে চুষতে থাকে । আশ্চর্যের ব্যাপার দুগ্ধ নিঃস্বরণ হয় যথারীতি ! অঞ্জনা নিজেই বুঝতে পারে না এর উৎস কি ? অবাক লাগে তার ! মনে পড়ে প্রথম সন্তান প্রসবের পর স্তন্যপান করানোর অভিজ্ঞতা । খেতে খেতে শিশুটা যেনো দিশাহারা হয়ে যেতো । হাঁপিয়ে উঠে পরক্ষণেই আবার আকঁড়ে ধরে কচি দুই হাতে । ওর কাছে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি, আকারে আয়তনে ও দুধের পরিমাণে । ফলে ও যেনো থৈ পায় না । দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি । অঞ্জনা বর্ণনাতীত আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায় । পুলকানুভূতি ছড়িয়ে পড়ে সারা শরীরে । নারীত্বের পূর্ন মহিমায় আজ সে ভাস্বর । বিকশিত দুই স্তন থেকে বিন্দু বিন্দু অমৃতধারা ঝরে পড়ে ; তার দেহ মন আত্মা বিবশ হয়ে যায় ।  

রাত প্রায় ন'টার কাছাকাছি অনুপম এলো । সঙ্গে ঝকঝকে ব্র্যান্ড নিউ এ্যান্ড্রয়েড ফোন ।  শ্বশুরমশাইয়ের  আদ্যিকালের কি-প্যাড ওয়ালা হ্যাণ্ডসেট তার ব্যঙ্গের খোরাক যোগায় । দীর্ঘ দিন টোন টিটকিরি কাটার পর আজ সে শ্বশুরকে দান করছে । তার বীরের দর্প ঠেকায় কার সাধ্য ? ইতিপূর্বে সে শ্বশুরমশাইকে একাধিক ভোগ্যপণ্য দান করেছে, যথা এল ই ডি টিভি, রিস্ট ওয়াচ, ব্লাড প্রেসার ও সুগার মাপার ইলেকট্রনিক যন্ত্র ইত্যাদি ইত্যাদি । বৃদ্ধ মানুষটি কৃতজ্ঞতায় আনত হয়ে থাকে । অনুপম সেটা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করে । তার মতে শ্বশুরকে তার শাশুড়ী ও তাঁর মেয়ে অর্থাৎ তার বৌ 'শৃঙ্খলিত কুত্তা' বানিয়ে রেখেছে । বেচারা নিজের ঘরেই বন্দি জীবনযাপন করছেন । যেহেতু তার একার পক্ষে এর সম্পূর্ন প্রতিকার করা সম্ভব নয় তাই সান্তনা পুরস্কার স্বরূপ এই সব উপঢৌকন প্রদান । 

আজ শনিবার রাত্রিবাস ও আগামীকাল রবিবার গোটা দিনরাত শ্বশুর বাড়ীতে অবস্থান করবে অনুপম । অঞ্জনার কাছে এটা খুব চেনা ছক । যখনই তার স্বামী সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় বস্তু বা বাচ্ছাদের জন্য কিছু বা তার জন্য শাড়ী গয়না জুতো প্রসাধনী সামগ্রী কিনে দিয়েছে সেই রাতে সে তার শরীর ছিন্নভিন্ন করেছে । পর্বত আরোহীগণ তুঙ্গশীর্ষে পৌঁছলে চিহ্ন স্বরূপ যেমন ঝাণ্ডা গেঁড়ে দেয় এও ঠিক তেমনি । বলপূর্বক অধিকার কায়েম করা, পৌরুষের নিদর্শন । কখনো জানার চেষ্টা করেনি তার স্ত্রী আগ্রহী কিনা ! তার দেহ মন আজ যৌনমিলন চাইছে কিনা । নিদেন পক্ষে স্ত্রী সুস্থ আছে কিনা । অন্য দিনের তুলনায় তখন বেশি হিংস্র হয়ে ওঠে অনুপম । অঞ্জনা সব থেকে বেশি বিড়ম্বনায় পড়ে বাপের বাড়ীতে এলে । মানা করা সত্ত্বেও সে পিছু ধাওয়া করে । যদিও এখানে স্থান সংকুলানে কোনো বাধা নেই । কোনো কিছুই অপ্রতুল নয় ; তবু বাবা মা তো সবই বুঝতে পারেন । ছি ছি কি লজ্জা ! কুঁড়ি ঋভু দিম্মার কোল ঘেঁষে অঘোরে ঘুমোয় । তাদের দাদু থাকে নিজের মতো এক কোণে । দক্ষিণ খোলা এ্যাটাচ্ বাথরুম যুক্ত ঘরটা বিশেষ পছন্দ অনুপমের । নৈশাহার শেষ হলেই সুড়ুৎ করে ঢুকে পড়ে আর ধূমপান করতে করতে ঘন ঘন কাশতে থাকে । এটা হলো সিগনাল "বলি আর কতক্ষন লাগবে ?" লজ্জার মাথা খেয়ে অঞ্জনা ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় । 

মাষ্টার ডিগ্রী কমপ্লিট করে অঞ্জনা তখন ছোটখাটো যে কোনো ধরণের একটা চাকরীর জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে । প্রতিবারের মতো এবারও বিপদতারণ ছাই ফেলতে ভাঙ্গা কুলো সেই সুবুদ্ধ, তার বেস্ট বাডি । প্রকৃত অর্থে ফ্রেণ্ড ফিলোসফার গাইড । সময় ভালো অথবা খারাপ সর্বদা যাকে পাশে পাওয়া যায় । সুবুদ্ধ ততোদিনে জুনিয়ার ক্যাটাগরিতে ন্যাশানাল ফেলোশীপ পেয়ে কলকাতার ফটোগ্রাফির জগতে একটা প্রতিষ্ঠিত নাম । সে হাতে ধরে নিয়ে গেল শম্ভুর অফিসে যে কিনা একদা তার ফটোগ্রাফি ক্লাসের ব্যাচমেট এবং চার্টাড এ্যাকাউটেন্সি নিয়ে পড়াশোনা করে বর্তমানে একজন সফল ট্যাক্স কনসালটেন্ট । অঞ্জনা কিছুদিন কাজ করলো সেখানে, তারপর শম্ভুর পরামর্শে শিফ্ট করলো অনুপমের অফিসে । কমার্স না জানলে শম্ভুর অফিসে কাজের সুবিধা হয় না উল্টো দিকে অনুপমের অফিসে সে সবের বালাই নেই । মূলত ফ্রন্ট অফিস জব । একই বিল্ডিংয়ে একই ফ্লোরে অফিস । যথেষ্ট স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে থাকে অঞ্জনা । তবে অনুপম যে সেলারি দিতো সেটা কহতব্য নয় । তবু মুখ বুঝে সব মেনে নিয়েছিল সে । লক্ষ্য সরকারী চাকরী । তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো যথারীতি । কিন্তু ললাটের লিখন বলে একটা কথা আছে না ? মাস চারেক যেতে না যেতেই অনুপম বেধড়ক প্রপোজ করে বসলো । মেয়েটার বুক কেঁপে উঠলো । অপরিনত বয়েসে হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে যে ভুল সে করেছে তার পুনরাবৃত্তি আর করবে না কিছুতেই । এ দিকে অনুপম নাছোড়বান্দা । অনন্যপায় হয়ে ফেলে আসা জীবনের অতীত ইতিহাস উজাড় করে দিলো অঞ্জনা । প্রত্যাশা এই যে যদি অনুপম সত্যিই একজন আধুনিক মানুষ হয় তবে সব কিছু জেনে বুঝে নিঃসংকোচে নির্দ্বিধায় সহজ সুন্দর ভাবে তাকে গ্রহণ করবে । অনুপম একবাক্যে রাজী ! অঞ্জনা ততোধিক বিস্মিত ! তবে অনুপমের ইচ্ছে আগে কিছুদিন রোম্যান্স পর্ব চলুক, বেশ একটা আশনাই আশনাই ভাব তারপর না হয় বাড়ীতে বলা যাবে খন । কিন্তু অঞ্জনা বেঁকে বসলো, অসম্ভব । ঐ পথে সে আর পা বাড়াবে না । সে শর্ত দিলো যা বলার তার মাকে বলে গোটা বিষয়টা অফিসিয়াল করতে হবে ও রিলেশনে শীলমোহর দিতে হবে, তবেই সে এগোনোর কথা ভাববে নচেৎ নয় । অনুপম কুইনাইন গিললো, বছর ঘোরার আগেই ছাদনাতলায় চার চক্ষুর মিলন ও সাতপাক ঘোরা সম্পূর্ন হলো তাদের ।

বিয়ের দিন যতো এগিয়ে আসতে থাকে অনুপমের অকপট স্বীকারোক্তি অঞ্জনার হৃদয়ে যুগপদ ভালোলাগা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে । মূলত শরীরী আকর্ষণের জন্যই নাকি অঞ্জনাকে তার এতো ভালোলাগে । সুতীব্র কামনা বাসনা তাকে ধাবিত করে তার প্রতি । প্রথম প্রথম শুনতে মন্দ লাগে না । নিজের রূপযৌবন, শরীরী সৌন্দর্য্যের প্রশংসা শুনতে কোন মেয়ের না ভালো লাগে ? কিন্তু বিয়ের পর ছবিটা পরিষ্কার হতে থাকে ধীরে ধীরে । ফুলশয্যার রাতে অনুপম যখন কামড় বসায় তার দুই বুকে সে তখন যন্ত্রণা অস্বীকার করে প্রেমজ শিহরণ সন্ধান করে । মধুচন্দ্রিমায় একই জিনিষের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে অনুপম বলে এতো "রসালো ডাঁসা মাগী" তার কপালে ছিলো সে কল্পনা করতে পারেনি । তখনো অঞ্জনা উপেক্ষার প্রশ্রয় দেয় । যুক্তি তৈরী করে এসব ক্ষেত্রে স্ল্যাং যৌন মিলনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে । এটা সাময়িক ব্যাপার, ভিতরের মানুষটা নিশ্চই মন্দ নয় ? প্রথম প্রথম তার স্তন নিয়ে অনুপমের আগলপাগল হওয়া, উন্মাদের মতো আদর করার ভঙ্গি যথেষ্ঠ উপভোগ্য ছিলো অঞ্জনার কাছে । তার বক্ষদ্বয় "পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য্যের প্রতীক" আখ্যা দিয়ে ফ্যান্টাসি রচনা করতো সে আর অঞ্জনা মোহিত হয়ে ডুবে যেতো সেই কল্পসাগরে । কিন্তু অচিরেই তার ভুল ভাঙ্গে । প্রথম সন্তানের জন্মের আগেই সে উপলদ্ধি করে প্রকৃতপক্ষে অনুপম একটি সেক্স ম্যানিয়াক । আদ্যন্ত নারীমাংস লোভী, বিকৃতকাম, নিম্নরুচির পুরুষ । সাংঘাতিক পরশ্রীকাতর, হিংসুটে ও সন্দেহবাতিক । যে অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা, সামাজিক প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সে অনুপমের প্রস্তাবে সম্মতি ও গলায় পুষ্পমাল্য দিয়েছিলো সেটা বাইরে থেকে এক প্রকার সত্যি বলে মনে হয় বটে তবে আদতে সেটা ভয়ঙ্কর চোরাবালির ফাঁদ । অঞ্জনার পায়ের তলায় মাটি টলে ওঠে, মাথা ঘুরতে থাকে । প্রেমিক পুরুষ তো দূরস্থান এই প্রাণীটিকে লিগ্যাল হাসব্যান্ড বলতেও জিভে আটকায় । কিন্তু ফেরার আর কোনো পথ নেই, নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মেরেছে । ততোদিনে সে অন্তঃসত্ত্বা ।  

প্রজনন অঙ্গ সংক্রান্ত কিছু সমস্যার কারণে বিয়ের বেশ কয়েক বছর পর মাতৃত্বের স্বাদ পায় অঞ্জনা । সেই সময়টা যথেষ্ঠ কঠিন গেছে তার । এ হেন ব্যক্তি নেই যে কৌতুহলী প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিতে কসুর করেছে । সেই সঙ্গে ন্যায্য পাওনা হিসাবে শ্বশুর বাড়ীর গঞ্জনা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় । স্বামীর মানসিক সমর্থন ও সহযোগিতা লাভ তো দূরস্থান উল্টে 'বাঁজা মাগী' তকমা সেঁটে বসেছিলো কপালে । সেই সঙ্গে রেগুলার 'ম্যারিটাল রেপ' চলেছে । তবে সব বাধা অতিক্রম করে মা হওয়ার পর জীবনের নতুন অর্থ ও সার্থকতা খুঁজে পেয়েছে মেয়েটা । সুখী গৃহবধূ রূপে সমাজে নিজের পরিচয় তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে । বাড়ীতে বসেই বুটিক চালায় । নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বরের সঙ্গে তার কথা হয় না । অনুপম রুটিন মাফিক তার শরীর ধামসায় । প্রেমহীন মৈথুন, না আছে সুখ আর না আছে পরিপূর্ণতা । এখন শুধু সন্তানের মুখ চেয়ে বাকি জীবনটা অতিবাহিত করা ছাড়া গত্যান্তর নেই । আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি । সম্পূর্ন উলঙ্গ করে খাটে চিৎ করে ফেলে লোকটা ওপরে চড়ে বসেছে । সজোরে চেপে ধরেছে তার ভারী বক্ষযুগল । উদ্দাম দলাইমালাই করছে, পিষে ফেলতে চায়, যেনো নিংড়ে জল বের করতে চায় । অঞ্জনার দুই হাত মাথার পিছনে, আত্ম সমর্পনের ভঙ্গি । তার নিরাসক্ত ভাবলেশহীন মুখ  অনুপমকে রাগিয়ে তোলে । দৃঢ় ও উদ্ধত সিষ্ণু যেনো কিঞ্চিৎ নরম হয়ে নেতিয়ে পড়ে । ঠিক এই মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলো মেয়েটা । খুব মৃদু স্বরে অঞ্জনা বললো 
- আচ্ছা তোমার একঘেঁয়ে লাগে না ? ক্লান্তি আসে না ? দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর...
অনুপমের চোয়াল শক্ত হলো । স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল অল্প সময় । তারপর অঞ্জনার স্তনবৃন্ত দাঁত দিয়ে কামড়ে টেনে ধরে উচ্চারণ করে নয় সে বরং মনে মনে বললো "তোর মতোন ডিভোর্সী এঁটো মাগীর কাছে আমার আর চাওয়ার কি থাকতে পারে শুনি ?" 
অঞ্জনা জিজ্ঞাসা করলো 
- কিছু বললে ? 
অনুপম চমকে উঠলো ! শুনতে পেলো না কি ? কিন্তু তা কি করে সম্ভব ? অপ্রস্তুত ভাব কাটিয়ে উঠে কোনো মতে 'না' বলে পুনরায় স্তনে মনোনিবেশ করলো । 
বালিশের নীচে থেকে মোবাইল বের করে অঞ্জনা বললো
- একটা জিনিষ দেখো ...
- এখন আবার কি ? 
অঞ্জনা তার চোখের সামনে মোবাইল স্ক্রীনে একটা ছবি মেলে ধরেছে । অনুপম দেখছে ম্যালনিউট্রিশনে আক্রান্ত এক মহিলা ; অতি শীর্ণকায়, হাড় পাঁজরা সার । ততধিক শুষ্ক তার দুই ঝুলন্ত স্তনের বোঁটা মুখে পুরে চুষছে দুই শিশু । তিনজনেরই মুখে অনাবিল সুখের হাসি । হাসছে, ওরা খিলখিল করে হাসছে । অনুপম সম্পূর্ন হতবাক হয়ে গেছে ! বললো 
- এসবের মানে কি ? 
- ওরা কি নিয়ে এতো খুশী আছে বলতে পারো ? 
- কথ্যেকে পেলে ? 
- রেকি স্টিল । এবার ডকুমেন্টারি শ্যুট হবে । 
- মানে ? 
- বিহার ঝাড়খণ্ডের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে এই ছবিগুলো তুলেছে সুবুদ্ধ । একটা এনজিওর অ্যাসাইনমেন্ট বেজড প্রজেক্ট । 
অনুপম এবার দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ঝাঁঝালো গলায় বললো 
- রাতে স্বামীর সঙ্গে বিছানায় শুয়ে পর পুরুষের কথা চিন্তা করিস ? তুই তো দেখছি পাক্কা খানকি ! 
নির্লিপ্ত কণ্ঠে অঞ্জনা বললো
- সুবুদ্ধ কাজ করে, মানুষের জন্য কাজ করে...
অনুপম সাংঘাতিক উত্তেজিত হয়ে বললো 
- আর আমি ! আমি কি সারাদিন বসে বসে বাল ছিঁড়ি ? 
- বলাই ষাঠ ! তুমি তো খুব বড় কাজের লোক । এই যেমন এখন কাজ করছো । থামলে কেনো ? চালিয়ে যাও ...
দ্বিগুণ জোরে অনুপম তার ন্যুব্জ পুরুষাঙ্গ অঞ্জনার যোনিপথে প্রবেশ করাতে সচেষ্ট হয় । অঞ্জনা হাসি চাপতে না পেরে ফিক করে হেসে ফেলে । মনে মনে বলে "শুয়োরের বাচ্চা একটা" । অনুপম জিজ্ঞাসা করে
- কিছু বললে ? 
-  কৈ না তো ! 
- মনে হলো যেনো । 
- মনের ভুল । 
- ঐ শয়তানটা এখনো তোমার ব্রেন নিয়ে খেলছে ! 
- আর তুমি খেলছো আমার শরীর নিয়ে । 
অনুপম পুনরায় নিষ্পেষণ শুরু করলো । হাসতে হাসতে ক্রমশঃ আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠে অঞ্জনা । বুটিক হাউসটাকে আরও সিরিয়াসলি নিতে হবে, অনেক বড় করতে হবে । স্বনির্ভর তাকে হয়ে উঠতেই হবে । যেমন ভাবে মা তাদের দুই ভাই বোনকে বুকে আগলে রেখেছিলো সেও তেমনি নিজের সন্তান সন্ততিকে রাখবে । 
... আর তার বড় বুকের সুখ্যাতি তো ভুবনবিদিত তাই না ? দু' চোখের পাতা ঘুমে ভারী হয়ে আসে । 

পর্ব : ২ 

অর্ধসত্য 

রহস্য ! 
শব্দটা লিখিত , পঠিত বা উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে গণ্ডায় গণ্ডায় দেশী বিদেশী গোয়েন্দা চরিত্র ভিড় জমায় । তারা সবাই সাহিত্যের কাল্পনিক চরিত্র ; এদের মধ্যে কেউ কেউ বইয়ের পাতা থেকে জলজ্যান্ত রক্ত মাংসের রূপ ধারণ করে মঞ্চে অবতীর্ণ হন আবার কেউ বা রূপোলী পর্দা জুড়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটান ! আমজনতা সে সব পড়তে পড়তে দেখতে দেখতে বলা ভালো গিলতে গিলতে এক সময় নিজের অজান্তে কখন যেন তাদের সত্যি বলে ধরে নেয় ! তাদের বাস্তব অস্তিত্ব স্বীকার করে নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা বোধ করে না । একেই বলে সার্থক শিল্পসৃষ্টি , বিদেহী আত্মার সাকার রূপ লাভ ! 

রহস্য বললেই খুন জখম রাহাজানি আরো হাজারো অনৈতিক , অসামাজিক ও বেআইনি কার্যকলাপের কথা সর্বাগ্রে মনে আসে । কিন্তু ব্যাপারটা কি সত্যিই তাই ? জীবন দেবতা মনুষ্য জীবন সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষকেই তা উপহার দিয়েছেন । শুধু তাই নয় রহস্য রোমাঞ্চ সবই দিয়েছেন পূর্ন মাত্রায় । যার যতটুকু দরকার ঠিক ততটাই ; স্রষ্ঠার পরিমিতি বোধ অকল্পনীয় ! ঢিমে আঁচে জ্বাল দিচ্ছেন তরল রস , জীবন আয়ুধ । সুনিপুণ দক্ষতায় নির্ভুল অনুপাতে মিশিয়ে দিচ্ছেন সব কয়টি উপাদান । থ্রিল অফ্ লাইফ লুকিয়ে আছে সেখানেই । খুঁজে নেওয়ার দায়িত্ব যার যার নিজের । তবে এই অনুসন্ধান ব্যাপারটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঝুঁকি পূর্ন । অনেকটা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইনভেস্টমেন্টের মতো , সাবজেক্ট টু মার্কেট রিস্ক । লাগে তুক , না লাগে তাক ! ফাটকা খেলায় যেমন চোখের পলকে আশাতীত লাভ আবার পর মুহূর্তেই নেংটাফকির । রবি ঠাকুরের সেই ডিটেকটিভ গল্পের মতো , নায়কের কি পরিণতি হয়েছিলো তা আর কারোর অজানা নয় । সেও এমনি আঁতিপাতি করে সর্বত্র রহস্য খুঁজে বেড়াতো । সাধারণ মানুষের এই মামুলি জীবন তার কাছে বড়ই পানসে জোলো আলুনি বলে ঠাওর হতো । তারপর একদিন কি জানা গেলো ? ওরে বাপরে বাপ ! বাঘের ঘরে ঘোঘের বাসা । 

অঞ্জনার বিয়ে হয়েছে নয় নয় করে বিশ বছর হলো । তাও যখনই বাপের বাড়ী আসে সময় সুযোগ পেলেই সুবুদ্ধ কে একবার ডাকে । সুবুদ্ধ প্রতিবারেই যে সাড়া দিতে পারে এমন নয় । তখন আবার মেয়ে অভিমানে ঠোঁট ফোলায় । সেই কবে কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে পা রেখে দু'জনার সাক্ষাৎ হয়েছিলো । প্রায় তিন দশক হতে চললো । সম্পর্ক ক্রমশ ক্ষীণতর হলেও সম্পূর্ন ছিন্ন হয় নি । অঞ্জনা খাটের ওপর হাত পা ছড়িয়ে বসে মনের সাধ মিটিয়ে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ি-ননদ-দেওর সকলের নিন্দে করে আর সুবুদ্ধ ম্যাগাজিনের পাতা ওল্টাতে ওল্টাতে হুঁ হাঁ করে ঠেকা দিয়ে যায় । অথচ প্রেম করে বিয়ে করেছে , কথাটা ভেবে বেশ অবাক লাগে বৈকি ! শেষটা কত তম ছিলো সেটা ওই ভালো বলতে পারবে । কলেজে তিন বছরে অন্ততঃ হাফ ডজন তো বটেই । তারপর বিয়ের আগে পর্যন্ত সংখ্যায় বেড়ে কতো হয়েছে সে খবর সুবুদ্ধর জানার কথা নয় । কিছু কিছু অঞ্জনা নিজেই বলেছে অবশ্য । এমন কি সম্পর্কের গভীরতা বা ঘনিষ্ঠতা কতো দূর গড়িয়েছে তাও । অর্থাৎ সোজা কথায় ফিজিক্যাল রিলেশনের অনুপুঙ্খ বর্ণনা না হলেও আভাসে ইঙ্গিতে যতটুকু বলা যায় আর কি । একবার তো বিস্ময় দমন করতে না পেরে সুবুদ্ধ জিজ্ঞাসা করে বসলো 
- আচ্ছা তুই যে আমাকে এসব বলিস তোর লজ্জা করে না ? 
- না , এক ফোঁটাও না ! 
- কিন্তু কেনো করে না ? 
- কেনো করবে বল ? 
- কারণ করা উচিৎ তাই ! 
- দুনিয়ায় একমাত্র তুই আছিস যার কাছে আমি নির্লজ্জ বেহায়া হতে পারি নির্দ্ধিধায় । বুঝিস না ? 
- বেশ সে না হয় বুঝলাম কিন্তু কেনো বলিস ? কি লাভ হয় বলে ?
- জানি না , তবে খুব ভালো লাগে তাই বলি । 
- মানে ? 
- একটা ছেলের কাছে অন্য একটা ছেলের ব্যাপারে বলার মধ্যে আলাদা মজা আছে , দারুন সুখ ! ওসব তুই বুঝবি না । 
- হুম্ ... 

বছর পাঁচেক আগের কথা ...  
দুই সন্তানের জননী চর্বি ভারাক্রান্তা সুখী গৃহিণী সেবারেও এসেছে পিত্রালয়ে এবং যথারীতি ডাক পড়েছে 'বেষ্ট বাডির' । আশ্চর্য্যের বিষয় হলো সেবার পিএনপিসির জন্য শ্বশুরকুল নয় বরং বেছে নিলো নিজের ভাই ও নব বিবাহিতা ভ্রাতৃবধূকে । তার আগে অবশ্য একপ্রস্থ বাক্যবাণ বর্ষণ করার পালা । কারণ কি ? কেনো সুবুদ্ধ বাবাইয়ের বিয়ে এ্যাটেন্ড করে নি তাই ? যতোই বলে বোঝাবার চেষ্টা করা হোক না কেনো যে সে সময় তার শ্যুটিং স্কেডিউল ছিলো , সে রামোজী ফিল্ম সিটিতে গিয়েছিলো । প্রফেশনাল কমিটমেন্ট , জীবিকার প্রশ্ন কিন্তু কে কার কথা শোনে ! ভবি ভোলবার নয় । অগত্যা সুবুদ্ধ হাল ছেড়ে দিয়ে চায়ের কাপে মনোনিবেশ করলো । কিছুক্ষণ গুম মেরে থাকার পর অঞ্জনা টপিক চেঞ্জ করলো । তাকে ছেড়ে দেবাঞ্জলীকে নিয়ে পড়লো । সপ্রতিভ ঝকঝকে মেয়েটি নিজে থেকেই আলাপ পরিচয় করে গেলো একটু আগে । যে চায়ে সে চুমুক দিচ্ছে সেটাও তারই বানানো । কৈ তার তো কোনো অসঙ্গতি চোখে পড়লো না ! দেবতনু অর্থাৎ বাবাই ও দেবাঞ্জলি উভয়েই আই টি প্রফেশনাল । কলিগ থেকে লাইফ পার্টনার ; মেট্রো জেন এক্সদের চেনা ছক । 
- তুই ঘোড়ার ডিম বুঝিস্ আর বুঝবিটাই বা কি করে শুনি ? যে কে সেই ব্যাচেলরই তো রয়ে গেলি । 

মুখ বুঁজে খোঁচাটা সহ্য করে নেয় সুবুদ্ধ । সে জানে প্রত্যুত্তর দিয়ে কোনো লাভ নেই । অঞ্জনা বিষোদগার করেই চলেছে । ওর অভিযোগ বিস্তর । বাবাই নাকি সম্পূর্ন বদলে গেছে ! বৌয়ের চাকর হয়ে গেছে । এখন নাকি সকলের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে ! ওদের জ্বালায় তার বাপের বাড়ী আসা ডকে ওঠার জোগাড় । বাবাই স্পষ্ট মানা করেছে , বলেছে "দিদি তুমি এলে আমাদের খুব অসুবিধা হয় , বোঝো না কেনো ? দয়া করে তুমি আর এসো না" । এসব কি সত্যি ? সুবুদ্ধ হিসাব মেলাতে পারে না ! সেই বাবাই , যাকে অল মোস্ট ন্যাংটাপুটুস দেখেছে ! দিদি অন্ত প্রাণ ভাই , ছেলেবেলায় খুব নেওটা ছিলো তার । 
মনে পড়ে অগুন্তি প্রেম করার পর চূড়ান্ত ক্লান্ত হয়ে অঞ্জনা তখন বিয়ের জন্য ডেসপারেট হয়ে উঠেছিলো । একদিন প্রবল সোহাগ জড়ানো আবেগ মথিত কণ্ঠে বললো 
- জানিস বাবাই কি বলেছে ? 
- কি ? 
- বললো দিদিভাই তুমি সুবুদার কথা ভেবে দেখতে পারো ; আর যাই হোক সুবুদা তোমায় কখনো কষ্ট দেবে না । বুঝে দেখ ... 
অর্থাৎ 'একবার ডাকিলেই যাইবো' । সুবুদ্ধ মনে মনে ভেবে হেঁসে কূলকিনারা পায় না । ওরে সে গুড়ে বালি । আমি ঘুঘুও দেখেছি ফাঁদও চিনি । কিন্তু সেই বাবাইয়ের এতোটা পরিবর্তন ! এবং সেটাও সদর্থক নয় নঞর্থক দিকে । 'স্মৃতি সতত সুখের' এই প্রবাদ সর্বদা কার্যকর হয় না , কখনো কখনো তা পীড়াদায়ক হয় । কাঁটার মতো বেঁধে । 


কাট টু : ২০২১
নির্বাচন , পুনরায় লক ডাউন এবং কোভিদ বিধিকে সম্পূর্ন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে পুজোর বেপরোয়া হৈ হুল্লোড় কেটে যাওয়ার পর পরিস্থিতি যখন কিছুটা শান্ত তখন একদিন সুবুদ্ধ সল্টলেক সিটি সেন্টারের কাছে শম্ভুর অফিসে এসে হাজির হলো । সেই পঁচানব্বই সালে দু'জনে একসাথে স্টিল ফটোগ্রাফির ক্লাস জয়েন করেছিলো । কালক্রমে শম্ভু হলো ট্যাক্স কনসালটেন্ট আর সে ফিল্ম মেকার । বিনামূল্যে প্যান কার্ডের সঙ্গে আধার সংযুক্তি সেরে বেরিয়ে টালিগঞ্জগামী বাসের সন্ধান করছিলো সে ; এমন সময় সেন মহাশয়ের সঙ্গে মুখোমুখি । অনুপম , অঞ্জনার বর । অবশ্য বর্বর বললেও অত্যুক্তি হবে না । নির্লজ্জ সেক্স ম্যানিয়াক , ওর বৌয়ের মুখেই শোনা । ব্যাপারটাকে অত্যাচারের পর্যায়ে নিয়ে যায় । সুবুদ্ধ তাকে চরম ঘেন্না করে । কারণ শুধু মাত্র ওটাই নয় , লোকটা কাঠ গোঁয়ার , বিভৎস টাকার গরম , ভয়ঙ্কর অসামাজিক । দেখা হতেই দন্ত বিকশিত করে সে কি হাসির ছিরি ! আহা চক্ষু জুড়িয়ে যায় , প্রাণ ভরে যায় , হাড় জ্বলে যায় , শালা । তারা পরস্পরকে চূড়ান্ত অপছন্দ করে উভয়েই বোঝে নিঃসন্দেহে ? 

কথা নেই বার্তা নেই হাত ধরে হিড়হিড় করে টেনে নিয়ে চললো নিকটবর্তী কফিশপে । বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই । গায়ের জোরে এই পাষন্ডর সঙ্গে সে এঁটে উঠতে পারবে না নিশ্চিৎ । ওদের বিয়ের পর প্রথম প্রথম এই প্রাণীটি খুব হেঁক্কাড় দেখাতো , সাংঘাতিক গেরেম্ভারি চাল । ভাবখানা এমন "কি হে বাছাধন আশেপাশে অনেকের সঙ্গে তুমিও তো ছিলে লাইনে ? কিন্তু ঘুরঘুর কি লাভ হলো ? আল্টিমেটলি অঞ্জনাকে হাশিল করলাম তো আমি ! তোমরা সবাই বুড়ো আঙুল চুষবে এবার । কিম্মজা কিম্মজা" ! এটা অনুমান করতে খুব বেশি চিন্তা করতে হয় কি ? অনুপমের ব্রেন রিডিং করে সুবুদ্ধ মনে মনে হেঁসে কুটোপাটি যাবার জোগাড় । বিশ বছরে ক্রমশঃ মুড়কির পাক মরে এসেছে । আগের সেই ঝাঁঝ আর নেই তবে ওপর চালাকি বজায় আছে ঠিকই । 

চেয়ারে বসে কফির অর্ডার দিয়েই প্যাঁচাল পাড়তে শুরু করলো । অঞ্জনার সম্পর্কে অনর্গল কুৎসা । সুবুদ্ধ এতক্ষণ অসীম ধৈর্য্য ধারণ করে ছিলো , মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে দেখে টেবিল চাপড়ে বলে ওঠে 
- প্লীজ স্টপ ইট । তোমার লজ্জা করে না ? আমার কাছে বৌয়ের নামে নিন্দেমন্দ করছো ! 
- নিজের বৌয়ের নিন্দে করবো না তো কি পরের বৌয়ের করবো ? হা হা হা ... 
- ছিঃ , এই জন্য আমাকে টেনে আনলে ? যে মহিলা তোমার দু' দুটো বাচ্চা পেটে ধরেছে ও জন্ম দিয়েছে তার সম্পর্কে ...! বিশ বছরের বিবাহিত জীবন তোমাদের , তারপরও এই সব ? 
- আরে থামো থামো , আমি হাতেনাতে পাকড়াও করেছি । সে খবর রাখো ? 
- মানে ? কিসের কথা বলছো ? 
- রেগুলার ক'জন ছেলের সঙ্গে চ্যাট করে জানো ? 
- না জানি না আর জানতেও চাই না । 
- হুঁ তা জানবে কেনো ? তাতে যে তোমার মুখ পুড়বে । 
- কি যা তা বকছো ? 
- যা তা ? বিয়ের আগে থেকে কতো জনের সঙ্গে ওর লটঘট ছিলো সব তুমি জানো খুব ভালো মতন । অস্বীকার করতে পারবে ?
- তুমি কি আমাকে ধীরে ধীরে ব্লাইন্ড লেনের দিকে ঠেলে নিয়ে যেতে চাইছো ? তাতে কিন্তু তোমার বিশেষ সুবিধা হবে না অনুপম । 
- আমি তো তোমায় কিছু বলছি না !
- আলবৎ বলছো , ডাইরেক্টলি নয় ইনডাইরেক্টলি । 
- কি রকম ?
- কচি খোকা , আমার কাছে অন্যদের ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করছো । আমার অনুপস্থিতিতে ঠিক এই একই কাজটা করবে অন্যদের কাছে আমার নামে । কি তাই তো ? 
- আরে না না , কি যে বলো ? তোমার ব্যাপারে আমি ক্লিয়ার । 
- ওহ্ রিয়েলি ! কি ভাবে শুনি ? 
- তুমি জেন্টলম্যান , আমি জানি । সেটা প্রথম দিন তোমাকে দেখেই বুঝেছি । 
- আমার পরম সৌভাগ্য , বাঁধিয়ে রাখার মতো সার্টিফিকেট বটে ।  
- বাদ দাও ।
কফির পেয়ালায় দু'য়েক সিপ্ দিয়ে সে পুনরায় গজরাতে লাগলো 
- রান্নার মাসী , বাসন মাজার ঠিকে ঝি এছাড়াও ঘরদোর টয়লেট সাফ করার আলাদা লোক । কটা মিডিল ক্লাস ফ্যামিলিতে আছে শুনি ? বৌ আমার কি করে ? না শুধু শাড়ী কিনছেন আর সারাদিন পায়ের ওপর পা দিয়ে বসে তাইতে আল্পনা আঁকছেন , ফুঃ ।
- ওর বুটিক চালানোটা কে তুমি সিরিয়াসলি নিতে পারছো না কেনো ?  
- রাখো তোমার বুটিক । এই শর্মা না থাকলে অনেক আগেই ফুটিক হয়ে যেতো । যতো ঢং আর ন্যাকামো । ইনভেস্টমেন্ট আমার আর প্রফিট সমস্তটা ঐ মাগীর ট্যাঁকে । 
- মাইন্ড ইয়োর ল্যাঙ্গুয়েজ । 
- খুব তো বান্ধবীর হয়ে এ্যাডভোকেসি করছো , বাবাইয়ের খবর কিছু জানো ? 
- যতটুকু জানার ততটুকুই জানি । ওরা স্বামী স্ত্রী বোষ্টনে সেটেল্ড । দুটো পিঠোপিঠি বাচ্ছা হয়েছে । আমার ফ্রেন্ড লিষ্টে আছে । 
- ওসব এফ বি মারিয়ে কিস্যু হবে না । বাবাই যে সুইসাইড এটেম্পট করেছিলো সে খবর রাখো ? দেবাঞ্জলী ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলো সে খবর রাখো ? কি মারাত্মক ডমিনেটিং নেচার তোমার বান্ধবী আর তার মা আই মিন তোমার সো-কল্ড কাকীমা মিসেস অনিমা বর্ধনের তুমি তার কিছুই জানো না । নিজের স্বামীকে চিরকাল ভেড়ুয়া বানিয়ে রেখেছে ঐ মহিলা , এবার মেয়েকে দিয়ে আমার ওপর সেই একই জিনিষ এ্যাপ্লাই করতে চায় । এমনকি নিজের ছেলে-বৌয়েরও রেহাই নেই ।

সুবুদ্ধু স্তম্ভিত , বাকরুদ্ধ । কোনো মতে অস্ফুটে বলে
- তারপর ?
সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে অনুপম নাগাড়ে বলে চলে 
- তারপর আর কি , তখন এই নন-ইন্টেলেকচুয়াল ব্যবসাদার জামাই ভরসা । হসপিটাল থেকে শুরু করে থানা পুলিশের হুজ্জুতি সামাল দিলো কে ? মিডিয়ার মুখে ধামা চাপা দিলো কে ? কোথায় গেলো বর্ধন পরিবারের সফিষ্টিকেশিন ? আরে কোথায় গেলো মিসেস অনিমা বর্ধনের হাইলি ডিগনিফায়েড ইমেজ ? কোথায় গেলো সোশ্যাল স্ট্যাটাস ? কোথায় গেলো প্রেস্টিজ ? সব কি পোঁদের মধ্যে ঢুকে গেলো না কি ? বাবাই সুস্থ হয়ে ওঠার পর ওকে আর ওর বৌকে আলাদা করে ডেকে বলেছিলাম "তোরা দুটোতে বাঁচতে যদি চাস তবে এখান থেকে কেটে পড় , চিরকালের মতো" । 

এঁড়ে বাছুর যেমন হঠাৎ অকারণে খুঁটি উপড়ে দৌড়ে পালায় ঠিক তেমন করে এক ছুটে বাইরে এসে হাজির হলো সুবুদ্ধ । তার বুকটা ধড়ফড় করছে । ভীষণ সাফোকেটিং লাগছে । খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে খুব জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে সে । তারপর যতো দ্রুত সম্ভব এ্যাপ ক্যাব ডেকে উঠে পড়ে । গাড়ী এগোচ্ছে , বাতাস বইছে সাঁই সাঁই করে , এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে তার মাথার চুল । ভাবনা গুলো ক্রমশঃ ক্রিস্টাল আকার ধারন করছে । ছেঁড়া ছেঁড়া টুকরো গুলো জোড়া লেগে তৈরী হচ্ছে একটা আস্ত ছবি । অনুপম একটু আগে যা বললো তা যদি সত্যি হয় তবে এতোকাল সে মূর্খের স্বর্গে বাস করেছে । পাঁচ বছর আগে সে যা জেনেছে বলা ভালো তাকে যা জানানো হয়েছে সেটা কয়েনের এক পিঠ । উল্টো পিঠটা সম্পূর্ন ভিন্ন । সেখানে একেবারে অন্য গল্প ঘাপটি মেরে বসে আছে ! 

হলিউডি ব্লকবাস্টার মুভির ক্লাইম্যাক্সে যেমনটা দেখা যায় ! ইন্ডিয়ানা জোন্স , জুমানজি , হ্যারি পটার , পাইরেটস অফ দ্য ক্যারিবিয়ান , ন্যাশনাল ট্রেজার্স , সাং চি এ্যাণ্ড দ্য লেজেন্ড অফ্ দ্য টেন রিংস্ ...তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে পারে । তবে সর্বত্রই স্ক্রিপ্টের একটা কমন ফ্যাক্টর রয়েছে ; হিরোর কাছে তালা আছে চাবি নেই অথবা উল্টোটা চাবি আছে তালা নেই । কোথাও বা পুরনো কারেন্সী নোটের আধখানা রয়েছে পকেটে বাকি আধখানার সন্ধানে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে গোটা দুনিয়া । গুপ্তধনের অসমাপ্ত নক্সা অথবা দুর্লঙ্ঘ্য রহস্যপুরীর অসম্পূর্ণ মানচিত্র । কিছু মিসিং নিউমেরিক অথবা অ্যালফাবেট ; সে গুলো একবার হস্তগত হলে বা জোড়া লাগাতে পারলেই কেল্লা ফতে । চিচিং ফাঁক , চোখের সামনে খুলে যায় গুহার রুদ্ধ দ্বার । জমাট বাঁধা অন্ধকারময় পাপ দেহের ওপর সত্যের আলোকরশ্মি এসে পড়ে আর ঠিকরে ওঠে । তখনই ধাঁধিয়ে যায় চোখ , ঝলসে যায় মুখ , মস্তিষ্কে ধূসর কোষের স্থিতিস্থাপকতা বিনষ্ট হয় । 

"কতখানি মানসিক নির্যাতনের শিকার হলে তবে বাবাইয়ের মতো হাসিখুশি তরতাজা ইয়াংম্যান এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় ? মা মেয়ে কতখানি নির্মম নির্দয় নিষ্ঠুর হতে পারে তা কল্পনার অতীত !" টেবিল ছেড়ে ওঠার সময় চিৎকার করে বলতে থাকা অনুপমের শেষ কথা গুলো এখনো কানে বাজছে ।  

এই সমাজজীবন কলুষ ক্লেদ ও পঙ্কিলতায় আকীর্ণ ! বুকের ভেতর থকথকে গরল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রত্যেকে । ঠিক যেনো এক একটা সুপ্ত আগ্নেয়গিরি , হঠাৎ নিজের অজান্তে জেগে উঠে লাভা উদগীরণ করে দেয় । ছারখার করে দেয় আশেপাশের সব কিছু । সুবুদ্ধ মনে মনে কোনো এক অদৃষ্ট অজ্ঞেয় ঊর্ধতনের প্রতি প্রার্থনা জানায় "দয়া করে আমাকে অসূয়াপ্রবণ করে তুলো না । আমায় ক্ষমা করো , হে প্রভু নষ্ট হয়ে যাই ..."   

সমাপ্ত  


SUDIP  PATHAK

Swapno Neer Apartment , 
 Purba Sinthee Road , Madhugarh ,
DumDum , Kolkata -700030. 





Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং অফিসে ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

বর্ষার কবিতা ।। বিচিত্র কুমার

কয়েকটি বর্ষার কবিতা বিচিত্র কুমার (০১) শ্রাবণের আকাশ শ্রাবণের আকাশ, যেন অশ্রু লুকিয়ে রাখা দুটি চোখ; হাসির আড়ালেও যার ভেতরে বৃষ্টি জমে থাকে। কদমের গন্ধ, যেন শৈশবের ডাক; সময় যত দূরেই নিয়ে যাক, মন তাকে ভুলতে পারে না। ভেজা পথ, যেন জীবনের অসমাপ্ত অধ্যায়; প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন অর্থ লেখা হয়। যে স্মৃতিকে সম্মান করতে পারে, সে বর্তমানকেও সুন্দর করে বাঁচতে শেখে। (০২) ভেজা বিকেল বর্ষার বিকেল, যেন পুরোনো ছবির অ্যালবাম; প্রতিটি দৃশ্য ভুলে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনে। দূরের বাঁশবন, যেন অপেক্ষার দীর্ঘ ছায়া; সময় বাড়ে, অথচ আশার আলো নিভে না। পথের ছোট্ট জলধারা, যেন অবহেলিত স্বপ্ন; একদিন সেও নদীর সঙ্গে গিয়ে মিশে। ছোট বলে কোনো স্বপ্নকে অবহেলা কোরো না; সমুদ্রও একদিন একফোঁটা জল থেকেই শুরু হয়। (০৩) বৃষ্টির প্রদীপ বর্ষার রাত, যেন গভীর ধ্যানের একটি মন্দির; অন্ধকারও সেখানে আলোকে জন্ম দিতে শেখায়। বৃষ্টির ফোঁটা, যেন ছিন্ন স্বপ্নের মুক্তো; মাটিতে পড়েই তাদের প্রকৃত মূল্য প্রকাশ পায়। ভেজা জানালা, যেন মনের আয়না; অশ্রু মুছে গেলেও অনুভূতির দাগ থেকে যায়। ভাঙা স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়েই মানুষ নতুন আকাশ দেখতে ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত

 তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত নবপ্রভাতের   আহ্বান রাতের   শেষে   ফুটল   ভোর , সোনার   রঙে   রাঙে   ঘোর।   শিশির ভেজা   ঘাসের   বুকে , সূর্য   হাসে   মিষ্টি   মুখে। পাখিরা   গায়   নতুন   গান , জেগে   ওঠে   সারা   প্রাণ। নদীর   জলে   রোদের   নাচ , মেঘের   গায়ে   আলোর   আঁচ। ফুলের   ডালে   মধুর   গন্ধ , মনটা   ভরে   আনন্দ। হাওয়া   বয়ে   আনে   সুখ , মুছে   দেয়   সব   দুঃখ। নতুন   দিনের   নতুন   ডাকে , স্বপ্ন   জাগে   হৃদয়   ফাঁকে। চলার   পথে   আশা   সাথি , সাহস   থাকে   প্রতি   রাতে। পরিশ্রমে   ফুটুক   ফুল , ভেঙে   যাক   সব   ভুল। ভোরের   আলো   বলে   তাই , জীবন   জয়   করবই।   বৃষ্টির   সুরে   বাংলা কালো   মেঘে   ঢাকে   আকাশ , বৃষ্টি   নামে   উচ্ছ্বাস। কদম...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭