Skip to main content

প্রবন্ধ ।। মধুকবির 'বীরাঙ্গনা কাব্য' : নবজাগরণের এক দীপবর্তিকা ।। অভিষেক ঘোষ

 



প্র ব ন্ধ


মধুকবির 'বীরাঙ্গনা কাব্য' :

 নবজাগরণের এক দীপবর্তিকা

অভিষেক ঘোষ

 

"ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও সংস্কৃতির সংস্পর্শে বাঙ্গালা সাহিত্যে নূতন সম্ভাবনা ও চাঞ্চল্য দেখা দিয়াছিল। ইহার ফলে গদ্যসাহিত্যের বিকাশ ও পরিপুষ্টি হইয়াছিল এবং কাব্যের ক্ষেত্রে নূতন জীবনবোধ জাগিয়া উঠিয়াছিল। সমাজ সচেতনতা এই আধুনিক বাঙ্গালা সাহিত্যের প্রধান লক্ষণ। এই সচেতনতা শুধু পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও সংবাদপত্র প্রকাশের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রহিল না; ইহা ধর্ম ও সমাজ সংস্কারের উদ্দেশ্যে রচিত নাটক, প্রহসন ও উপন্যাস রচনার ক্ষেত্রেও বিস্তার লাভ করিল। আর এই ব্যক্তিসচেতনতার প্রথম সুষ্ঠু প্রকাশ মধুসূদন দত্তের কাব্যে।" - গবেষক ও প্রাবন্ধিক ডক্টর সুশীলকুমার গুপ্ত তাঁর 'ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাঙ্গালার নবজাগরণ' গ্রন্থে আমাদের আলোচ্য বিষয়ে প্রবেশের উপযুক্ত মুখবন্ধ লিখে গিয়েছেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত, পত্রকাব্য 'বীরাঙ্গনা কাব্য' (প্রকাশ: ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দ) আজ থেকে ১৬২ বছর আগে প্রকাশিত হয়েছিল নবজাগরণের এক উল্লেখযোগ্য দীপবর্তিকা হয়ে। কেমন ছিল সেই সময়? আজ সেই অতীত বাংলার কথা ভাবতে বসলে অবাক লাগে।

 

আমরা কম-বেশি জানি, বেলগাছিয়া রঙ্গমঞ্চে রামনারায়ণ তর্করত্ন মহাশয়ের  'রত্নাবলী' নাটকের অভিনয় দেখতে গিয়ে মাইকেল আশাহত হয়েছিলেন। তিনিই আবার ওই নাটকের ইংরেজি অনুবাদও করেছিলেন। সংস্কৃতানুগ তৎকালীন বাংলা নাটকের জড়তা ও দৈন্যদশা প্রত্যক্ষ করে তিনি লিখেছিলেন, -                     

"অলীক কুনাট্য রঙ্গে,

মজে লোক রাঢ়ে বঙ্গে,

নিরখিয়া প্রাণে নাহি সয়।

সুধারস অনাদরে,

বিষবারি পান করে,

তাহে হয় তনু মনঃ ক্ষয়।"

('প্রস্তাবনা' কবিতা : মাইকেল মধুসূদন দত্ত)

- সেদিনকার সেই ঘটনাই কিন্তু মাইকেলকে চালিত করল অভিনব ও স্বনির্ভর বাংলা নাট্যসাহিত্য নির্মাণের পথে। 'শর্মিষ্ঠা', 'পদ্মাবতী', 'কৃষ্ণকুমারী' সৃষ্টির মাধ্যমে চলেছিল তাঁর প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্যের অন্বেষণ। এরই পথ ধরে 'মেঘনাদবধ কাব্য' বা 'বীরাঙ্গনা কাব্য' রচনা, এবং ততদিনে অমিত্রাক্ষর ছন্দের উচ্চৈঃশ্রবা তাঁর হাতে পুরোপুরি বশ্যতা স্বীকার করেছে। নাট্যকার হিসেবে মধুসূদন ছিলেন সমাজ ও সমকালের প্রতি দায়বদ্ধ। কাব্য রচনায় ক্রমে সাহিত্যের প্রতিও দায়বদ্ধ হলেন তিনি, হয়ে উঠলেন যুগোত্তীর্ণ, মহাকবি।

আজ ভেবে দেখতে বসলে বোঝা যায়, সে সময় একের পর এক অনেক কিছু ঘটছে। একদিকে সংস্কৃত অনুসারী, প্রাচীন ঐতিহ্য ও দেশজ জনরুচির ক্ষীণ স্রোতটি পরিণত হয়েছে মজা নদীতে; অন্যদিকে পাশ্চাত্যের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, নারীস্বাতন্ত্র্য, যুক্তিবাদী ভাবাদর্শের বলিষ্ঠ করাঘাত তরঙ্গ সৃষ্টি করে চলেছে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত নব্য যুবমানসে। পাঁচালী-কীর্তন, কবিগান, টপ্পা, খেউড়, আখড়াই, হাফ-আখড়াই ইত্যাদি তখন ক্রমশ প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে, মজবুত হচ্ছে বাংলা গদ্যসাহিত্যের ভিত্তি - সাময়িকপত্রে গদ্যের নানা আঙ্গিক তখন প্রাসঙ্গিকতা লাভ করছে। উত্থান ঘটছে প্যারীচাঁদ মিত্র বা কালীপ্রসন্ন সিংহের। সুতরাং প্রতিভা ও মৌলিকতার অভাবে কাব্যসাহিত্যের ধারা তখন কিছুটা হলেও তীক্ষ্ণতা হারিয়েছে, সেই সময়েই কোথাও ভাবকল্পনার মহত্ব, আবার কোথাও রসব্যঞ্জনার অভিনবত্ব নিয়ে আবির্ভাব ঘটছে মাইকেলের। মধুসূদন শব্দ-সচেতন কবি, তাঁর সৃষ্টি কেবল বিস্ময়মথিত শ্রদ্ধাই উদ্রেক করে না, সেই সঙ্গে গাম্ভীর্য ও সৌন্দর্যের অপূর্ব মিলনে হৃদয়ে স্নিগ্ধোজ্জ্বল আবেশও রেখে যায়।

রোমের প্রসিদ্ধ কবি ওভিদের পত্রাবলির আদর্শে মধুসূদন 'বীরাঙ্গনা কাব্য' রচনা করেন। ওভিদের 'The Heroides' (The Heroines) কাব্যে মোট ২১টি পত্র রয়েছে এবং কাব্যের উপাদান তিনি সংগ্রহ করেছেন গ্রিক পুরাণ তথা গ্রিক ও রোমান সাহিত্য থেকে। সেখানে ভারতীয় পুরাণ ও সাহিত্য বিশেষতঃ রামায়ণ, মহাভারত এবং কালিদাসের কাব্য থেকে মধুসূদন তাঁর রসদ সংগ্রহ করেছেন। রাজনারায়ণ বসুকে লেখা পত্র থেকে জানা যায়, সর্বমোট একুশটি পত্র লেখার অভিপ্রায় ছিল তাঁর, কিন্তু পূর্ণাঙ্গরূপে রচনা করতে পেরেছিলেন এগারোটি পত্র। বীরাঙ্গনা কাব্যের প্রথম সর্গ দুষ্মন্তের প্রতি শকুন্তলা, দ্বিতীয় সর্গ সোমের প্রতি তারা, তৃতীয় সর্গ দ্বারকানাথের প্রতি রুক্মিণী, চতুর্থ সর্গ দশরথের প্রতি কেকয়ী, পঞ্চম সর্গ লক্ষ্মণের প্রতি সূর্পণখা, ষষ্ঠ সর্গ অর্জুনের প্রতি দ্রৌপদী, সপ্তম সর্গ দুর্যোধনের প্রতি ভানুমতী, অষ্টম সর্গ জয়দ্রথের প্রতি দুঃশলা, নবম সর্গ শান্তনুর প্রতি জাহ্নবী, দশম সর্গ পুরুরবার প্রতি উর্ব্বশী এবং একাদশ সর্গ নীলধ্বজের প্রতি জনা। অনেকেই বলেন, বীরাঙ্গনা কাব্যের মূল সুর প্রেমের সুর! কাব্যে পত্রগুলি মূলত দুই প্রকৃতির - পতির প্রতি পত্নীর পত্র (অনুযোগ পত্র, প্রত্যাখ্যান পত্র, স্মরণার্থ পত্র সম্বলিত) এবং প্রণয়ীর প্রতি প্রণয়িনীর পত্র (সধবা তারা, বিধবা শূর্পণখা, কুমারী রুক্মিণী এবং দেবভোগ্যা ঊর্বশীর পত্র এই শ্রেণির)।

প্রথম ও ষষ্ঠ পত্রে যথাক্রমে শকুন্তলা ও দ্রৌপদী প্রোষিতভর্তৃকা, তাঁদের দু'জনেরই স্বামী প্রবাসী; উভয়েই স্বামীর অদর্শনে উৎকণ্ঠিতা। তবুও শকুন্তলা সরলা আশ্রমকন্যা, তিনি কোমল স্বভাবের যুবতী, বহির্জগৎ সম্পর্কে অজ্ঞ। রাজা দুষ্মন্তকে দায়ী না করে, তাই তিনি নিজের মন্দভাগ্যকেই দোষারোপ করেছেন। শকুন্তলার আক্ষেপ - "শুখাইলে ফুল, কবে কে আদরে তারে?" 

আরো লিখেছেন, -

"হারাই সতত জ্ঞান; চেতন পাইয়া

মিলি যবে আঁখি, দেখি তোমায় সম্মুখে ! 

অমনি পসারি বাহু ধাই ধরিবারে 

পদযুগ; না পাইয়া কাঁদি হাহারবে !"

অপরদিকে দ্রৌপদী শকুন্তলার মতো সম্বৃতবাক নন, তিনি বরং যথেষ্ট বাকপটু। পঞ্চস্বামীর মধ্যে অর্জুনকেই তিনি ভালো বেসেছেন। সেই অর্জুন ইন্দ্রলোকে, অস্ত্র শিক্ষায় নিবিষ্ট। স্বর্গের অপ্সরীদের প্রতি এক্ষেত্রে সন্দিগ্ধ হওয়া স্বাভাবিক। দ্রৌপদীর এই পত্র নানা কটাক্ষে, স্মৃতিচারণের ঘূর্ণিপাকেও মূল বক্তব্যে কিন্তু শকুন্তলার পত্রের কাছাকাছি, ভাবে ও ভাষায় কেবল স্বতন্ত্র। দ্রৌপদী জানেন ভাগ্য প্রতিকূল, তবু তিনি স্বীকার করতে কুন্ঠিতা নন যে পঞ্চস্বামীর মধ্যে অর্জুনকেই তিনি সত্যিকারের ভালোবাসেন -

"যা ইচ্ছা করুন ধর্ম্ম, পাপ করি যদি,

ভালোবাসি নৃমণিরে, - যা ইচ্ছা, নৃমণি!

হেন সুখ ভুঞ্জি, দুঃখ কে ডরে ভুঞ্জিতে?"

দুষ্মন্তের প্রতি শকুন্তলার পত্রে স্ত্রী হিসেবে শকুন্তলার অধিকার আছে, কিন্তু তা প্রতিষ্ঠিত নয়; তাই এই পত্র নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। কিন্তু সোমের প্রতি তারায় কোনো অভিযোগ নেই, স্বামী বৃহস্পতির প্রতিও কোনো অভিযোগের সুযোগ পান নি তারা; অথচ তিনি অপর পুরুষের প্রতি অনুরক্তা হয়েছেন, সোমকে কামনা করেছেন, হয়েছেন মোহাবিষ্টা। দ্বারকানাথের প্রতি রুক্মিণী - কুমারী নারীর লেখা একমাত্র পত্র। এ হল কখনও চোখে না দেখে প্রেম, বর্ণনামাত্র শুনে কেবল। এ কাহিনি, অর্থাৎ রুক্মিণীহরণ ভাগবতের দশম স্কন্দের। তৃতীয় পত্রে রুক্মিণী মনে মনে বাগদত্তা, দ্বিতীয় পত্রে সংসারী নারী সংসার ভাঙতে চাইছে সমাজ-বহির্ভূত প্রেমে; সেখানে তৃতীয় পত্রে সংসার গড়তে চাইছে কুমারী মেয়েটি, কিন্তু নিজের পছন্দে। রুক্মিণী লজ্জাশীলা, অন্তর্মুখী। 'তোমা বিনা নাহি গতি অভাগীর আর এ সংসারে' - অর্থাৎ একজন রাজকুমারী হয়েও, নেহাৎ নিরুপায় হয়েই তাঁকে শিক্ষা, সংযম ও আত্মমর্যাদা সরিয়ে রেখে এভাবে পত্র লিখতে হচ্ছে পরিত্রাতা শ্রীকৃষ্ণের কাছে। সাধে কি আর রাজা রামমোহন রায় লিখেছেন, "স্ত্রীলোকদিগের বুদ্ধির পরীক্ষা কোন্ কালে লইয়াছেন যে তাহাদিগকে অল্পবুদ্ধি কহেন?"

যতদূর জানা যায় ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণে কিন্তু সোমের প্রতি তারার তরফ থেকে কোনো অবৈধ সম্পর্কে আগ্রহী হওয়ার উল্লেখ নেই! দেব পুরোহিত বৃহস্পতির পত্নী তারা এবং শিষ্য সোমের মধ্যে সম্পর্কের এই অভিনব মাত্রা সংযোজন ১৯ শতকের সমাজ-সংস্কার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে, মধুকবির নিজস্ব। অর্থাৎ মূল কাহিনিতে যেখানে সোম তারাকে বলপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে ও পরিণতিতে তারা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ফিরে আসে - 'দত্তকুলোদ্ভব' কবি সেখানেই তারা-র চরিত্রে সঞ্চার করতে চেয়েছেন ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য। তারার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, আত্মিক সংকট যে নাটকীয় মুহূর্তগুলি তৈরি করেছে, তা অবিলম্বে উপনীত হয়েছে গীতিকবিতার উপকন্ঠে - "কি আর কহিব ?

জীবন মরণ মম আজি তব হাতে!" নিজেকে স্বধর্মচ্যুত মনে হলেও তারা নিজেই চিঠিতে লিখছেন, -

"গুরুপত্নী বলি যবে প্ৰণমিতে পদে,

সুধানিধি, মুদি আঁখি, ভাবিতাম মনে,

মানিনী যুবতী আমি, তুমি প্রাণপতি,

মান-ভঙ্গ-আশে নত দাসীর চরণে !

আশীৰ্ব্বাদ-ছলে মনে নমিতাম আমি !" প্রেমে গুরুপত্নী এখানে শিষ্যের কাছে নতজানু! আবার "কুলের পিঞ্জর ভাঙ্গি, কুল-বিহঙ্গিনী উড়িল পবন-পথে, ধর আসি তারে, তারানাথ"! - প্রেমাস্পদের কাছে এমন দাবী করতেও তিনি কুন্ঠিতা নন।নারীত্বের প্রতি পূর্ণ মর্যাদাদানে, ঋষিকন্যা-ঋষিপত্নী জনার অবৈধ ও বৈপ্লবিক প্রণয় সম্ভাষণ 'সোমের প্রতি তারা' পত্রটিকে সে-যুগের বিচারে অনন্যতা দান করে। মুক্তপ্রেমের জয়গান এই পত্র, সাহিত্যে আবার এই আবেগমথিত সমাজনিন্দিত প্রেমই নন্দিত। তারার পত্রে ‘জীবন মরণ মম আজি তব হাতে' - এমন পঙক্তি বৈষ্ণব পদের কথা মনে করায়। আবার 'তারানাথ তুমি,

জুড়াও তারার জ্বালা।' - এমন উক্তি বাক্ বৈদগ্ধে, কল্পনা নৈপুণ্যে পত্রটিকে স্মরণীয় করে তুলেছে।

'দশরথের প্রতি কেকয়ী (কৈকয়ী)' পত্রটির উৎস বাল্মীকি-রামায়ণ। আপন প্রতিজ্ঞা বিস্মৃত হয়ে কৌশল্যানন্দন রামচন্দ্রকেই যুবরাজ পদ প্রদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন স্বয়ং দশরথ, দাসী মন্থরার মুখে এই সংবাদ জানতে পেরে কেকয়ী স্বামী দশরথের উদ্দেশ্য এই পত্রটি লিখেছিলেন। দশরথের নৃপতিসত্তা বনাম রাজমহিষী রূপে কেকয়ীর অস্তিত্ব - দাম্পত্যরঙ্গে অনুযোগ অভিযোগে রূপান্তরিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। তির্যক প্রতিবাদী ভঙ্গিতে সেখানে কেকয়ী চাইছেন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সংবাদটি ন্যায়পরায়ণ রাজা নিজমুখেই স্বীকার করুন। ‘জন্মিল কি পুত্র আর?’ - এহেন প্রশ্নবানে দশরথের অন্তর্দাহ ঘটিয়ে মনের জ্বালা মেটাতে বদ্ধপরিকর কেকয়ী। পঞ্চম স্তবক থেকে কেকয়ীর সপত্নী বিদ্বেষ, অবদমিত বঞ্চনার নিগুঢ় অন্তর্বেদনা ক্রমশ ব্যক্তিত্বহীন ও কামাচারী এক দুশ্চরিত্র রাজার প্রতি, প্রখর আত্মসম্মানবোধ-সম্পন্না স্ত্রীর রক্তচক্ষুরূপে প্রকট হয়ে উঠেছে। ১৯ শতকের নারী নিছক পুরুষের ভোগ্যা নন, সে-কথাই যেন এই পত্রের ছত্রে ছত্রে প্রকাশ পেয়েছে। এভাবেই নাটকীয় একোক্তির মাধ্যমে কেকয়ী চরিত্রটির মানসিক কিছু টানাপোড়েনও তুলে ধরেছেন মহাকবি। স্বামীর উদ্দেশ্যে শেষ পর্যায়ে ‘পরম অধর্ম্মাচারী রঘু কুলপতি' লিখতে তিনি কিছুটা সময় নিয়েছেন; কাব্যগ্রন্থের অন্যান্য রহস্যপ্রিয়া পত্রপ্রেরিকার মতো তিনিও প্রকৃত সত্য জেনেও না জানার ভান করে গিয়েছেন বহুক্ষণ, সুযোগ নিয়েছেন দ্ব্যর্থকতার। আদিকবির গতানুগতিক পৌরাণিক চরিত্রটিকে এভাবেই যুগোপযোগী করে তুলেছেন মধুসূদন।

পঞ্চম পত্রে পঞ্চবটী অরণ্যে নির্বাসিত বনবাসী রামানুজ লক্ষ্মণকে দেখে 'মেঘের আড়ালে যেন পূর্ণশশী' বলে মনে হয়েছিল সূর্পণখার, তখনও সে লক্ষ্মণের পরিচয় জানত না। রোমান কবি ওভিদ (Ovid) -এর লেখা 'Heroides' কাব্যের সপ্তম পত্রের সঙ্গে এই পত্রটির বিষয়গত সাদৃশ্য আছে... ওভিদের রচনায় রাজা 'Sychaeus'-এর বিধবা পত্নী রাণী 'Dido' ভিনদেশী বিপন্ন রাজকুমার ‘Aeneas’-এর প্রেমে পড়ে এমনই প্রেমাকুল অভিব্যক্তিতে তাঁর প্রেমপত্রটি লিখেছিলেন, মধুকবির কাব্যে সেই রোমান্টিকতারই প্রতিফলন ঘটেছে। আরো মিল আছে অবশ্য। সূর্পণখা কিন্তু বিধবা, দানব রাজপুত্র বিদ্যুজ্জিহ্বাকে তিনি বিবাহ করেন। বিদ্যুজ্জিহ্বা পরবর্তীতে রাবণের হাতে নিহত হন। রাবণ তাঁর ভুলের প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ বিধবা ভগিনীর যথাসম্ভব মানসিক সুখ-শান্তির জন্য দণ্ডকারণ্যে নির্বিঘ্নে ভ্রমণের ব্যবস্থা করেন, সেসময়েই তার সামনে আবির্ভূত হয় বনচারী ভিনদেশী রাজকুমার লক্ষ্মণ, ঠিক ‘Aeneas’-এর মতো। একমুখী বর্ণনাধর্মী হওয়ায় এই পত্রে নাটকীয়তা তুলনামূলকভাবে কম, তবে পরিবর্তে নারী-হৃদয়ের সহজ-সরল স্বীকারোক্তি পাঠকমনে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয় -

"কোন্ যুবতীর নব যৌবনের মধু 

বাঞ্ছা তব? অনিমেষে রূপ তার ধরি,

(কামরূপা আমি, নাথ) সেবিব তোমারে!"

দুর্যোধনের প্রতি ভানুমতীর পত্রে ভানুমতী স্বপ্নে দেখেছে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পাণ্ডব কর্তৃক ভীষ্ম, দ্রোণ, কর্ণ, দুর্যোধন প্রমুখের করুণ মৃত্যুর  দৃশ্য। সে ভীত হয়ে এই অন্যায় যুদ্ধ বন্ধ করে স্বামীকে ন্যায়ের পথে ফিরে আসতে অনুরোধ করেছে। সুতরাং সাক্ষাৎ ধ্বংসের করাল তাণ্ডব থেকে রক্ষা পেতে, পাণ্ডবদের পাঁচটি গ্রাম দিয়ে সন্ধি করতে অনুরোধ করেছে সে - 

"এস তুমি, প্রাণনাথ, রণ পরিহরি! 

পঞ্চখানি গ্রাম মাত্র মাগে পঞ্চরথী। 

কি অভাব তব, কহ? তোষ পঞ্চ জনে; 

তোষ অন্ধ বাপ মায়ে; তোষ অভাগীরে..." – হ্যাঁ, এক্ষেত্রে ক্ষত্রকূলবধূর গৌরব লাঘব হয়েছে বটে, কিন্তু সেই সংস্কার নয়; চিরাচরিত সংস্কার সরিয়ে রেখে ভানুমতী ন্যায় ও কিঞ্চিত আত্মসুখের প্রতিই দৃষ্টিপাত করেছেন। মিথ্যা কলহ নয়, স্বামীকে সত্যের পথে ফেরাতে চেয়েছে সে। তাই বলা যায়, পত্রটিতে ভানুমতীর দৃঢ়তা ও যুক্তিবাদী মন, তার ন্যায়বোধ, এবং স্বামীর প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষাই প্রকাশ পেয়েছে।

দ্রৌপদীর অপমান, গান্ধারীর স্বেচ্ছায় আমৃত্যু অন্ধত্ব বরণ, মাদ্রীর মৃত্যু, সত্যবতীর দুর্ভাগ্য, কুন্তীর হাহাকার প্রভৃতি অসংখ্য নারীর কান্না যেন তলিয়ে গেছে পুরুষ চরিত্রগুলির তর্জন-গর্জনে। নারীহৃদয় অনুঘটক হয়েছে যুদ্ধের আবহ তৈরি করতে! মহাভারতে ধৃতরাষ্ট্র ও গান্ধারীর একমাত্র কন্যা, জয়দ্রথের পত্নী দুঃশলাও ভাগ্যদোষে সেই নির্মম পরিণতির শিকার। নিজ ভ্রাতা জ্যেষ্ঠ দুর্যোধন-দুঃশাসনের কুকীর্তি ও পাপের কথা স্মরণ করিয়ে স্বামীকে গোপনে ছদ্মবেশে বেরিয়ে আসার অনুরোধ করেছে দুঃশলা তার পত্রে, লিখেছে -

"... অবিলম্বে যাব

এ পাপ নগর ত্যাজি সিন্ধুরাজালয়ে!" - বস্তুত সে স্বামীকে সৎপথে চালিত করতে চেয়েছে অন্যায় যুদ্ধের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করে, তারই জন্য যুক্তি সাজিয়েছে সুকৌশলে।

শান্তনুর প্রতি জাহ্নবীর পত্রে জাহ্নবীর মধ্যে স্বামী ও সন্তান উভয়ের প্রতিই কর্তব্যবোধের দৃঢ়তা ও স্পৃহা লক্ষণীয়। স্বামীকে প্রতিশ্রুতিভঙ্গের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি স্পষ্টই বলেছেন, -

"পত্মীভাবে আর তুমি ভেবো না আমারে।" - কিন্তু পুত্র দেবব্রতকে (পরবর্তীতে পিতামহ ভীষ্ম) তিনি উপযুক্ত উত্তরাধিকারীরূপে প্রস্তুত করে তুলেছেন, সর্ব বিদ্যায় পারদর্শী করে তুলেছেন; তাই স্বামীকে তিনি পুরাতন স্মৃতি ভুলে পুত্রকে সিংহাসনের যোগ্য উত্তরাধিকারী রূপে গ্রহণ করতে পরামর্শ দেন। বলেন, -

"ভুল ভূতপূৰ্ব্ব কথা, ভুলে লোক যথা 

স্বপ্ন-নিদ্রা-অবসানে!" কারণ এ চির-বিচ্ছেদে এই একমাত্র ঔষধ।

কালিদাসের ‘বিক্রমোবর্শী’ নাটক থেকে রসদ সংগ্রহ করে মধুসূদন লিখেছেন, দশম পত্র - 'পুরুরবার প্রতি ঊর্ব্বশী'। সুন্দরীশ্রেষ্ঠা ও অনন্তযৌবনা অপ্সরা পত্রের প্রথমেই বলছেন, - "স্বর্গচ্যুত আজি, রাজা, তব হেতু আমি!" - কুন্ঠাহীনা ঊর্বশী মনে করেছেন, "কি কাজ শরমে?" স্বর্গের নর্তকী হয়েও পুরুরবার প্রতি তার এরূপ আকর্ষণের কারণ, দৈত্য কেশীর কবল থেকে উদ্ধার-কালে চন্দ্রবংশীয় রাজা পুরুরবার রূপ-গুণ ও শৌর্য-বীর্য দর্শন। দেখুন অভিশপ্ত হয়েও তার স্পষ্ট স্বীকারোক্তির দৃঢ়তা -

"বিকাইব কায়মন: উভয়, নৃমণি, 

আসি তুমি কেন দোঁহে প্রেমের বাজারে!" - ইন্দ্রের সভায় ভরত ঋষির অভিশাপ কামজর্জর ঊর্বশীর কাছে 'কৃপা' বলেই মনে হয়েছে। সেই প্রেমেরই সাহসে ভর করে সে উত্তরের প্রতীক্ষায় থাকবে, জানিয়েছে।

দশরথ-পত্নী কেকয়ী ও নীলধ্বজের পত্নী জনা তাঁদের স্বামীদের আচরণে ক্রুদ্ধ হয়ে, অভিমানে দুটি অনুযোগপত্র রচনা করেন - সেই দু'টিও ভাবে ভাষায় আলাদা হয়েও কোথাও গিয়ে অন্তরে এক। অর্জুন ও কৃষ্ণের প্রতি কঠিন বাক্যবাণ ও তির্যকভাবে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ টেনে এনে প্রবল আক্রমণ - জনাকে স্বাতন্ত্র্য দান করে, বুঝিয়ে দেয় সে কতটা বেপরোয়া। স্বামীর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন, ক্রুদ্ধ হয়েছেন জনা, নানাভাবে স্বামীকে সচেতন করতে চেষ্টা করেছেন। কারণ পুত্রহন্তা কৃষ্ণার্জুনকে তাঁর স্বামী নীলধ্বজ সাদরে রাজপুরীতে আশ্রয় দিয়েছেন, পুজো করেছেন নরনারায়ণ-জ্ঞানে। লক্ষ করার বিষয় এত কিছুর পরেও জনার পতিপ্রেম, স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি ম্লান হয়নি। ক্ষত্রিয় রমণী হিসেবে তাঁর আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগলেও স্বামীকে তিনি অবমাননা করেন নি। এই পত্রিকা বীরাঙ্গনা কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পত্রিকা বলে অনেকেই মনে করেন, কারণ মাতৃহৃদয়ের শোক জনাকে আশ্চর্য গরিমা দান করে- "... কেমনে তুমি, হায়, মিত্রভাবে

পরশ সে কর, যাহা প্রবীরের লোহে

লোহিত? ক্ষত্রিয়ধর্ম্ম এই কি, নৃমণি?

কোথা ধনু, কোথা তুণ, কোথা চর্ম্ম, অসি?"

ক্রোধে জনা মহাভারত-রচয়িতা ব্যাস বা পিতামহ ভীষ্মকেও আক্রমণ করতে ছাড়েন না -  "ধীবরী জননী, পিতা ব্রাহ্মণ! করিলা

কামকেলি লয়ে কোলে ভ্রাতৃবধূদ্বয়ে

ধর্ম্মমতি! কি দেখিয়া, বুঝাও দাসীরে,

গ্রাহ্য কর তাঁর কথা, কুলাচার্য্য তিনি

কু-কুলের?"

-  পত্রটি শেষ হয় কোণঠাসা মাতৃহৃদয়ের নিদারুণ হাহাকারে, যা অনির্বচনীয় --

"যাচি চির বিদায় ও পদে!

ফিরি যবে রাজপুরে প্রবেশিবে আসি,

নরেশ্বর, 'কোথা জনা?' বলি ডাক যদি

উত্তরিবে প্রতিধ্বনি 'কোথা জনা?' বলি!"

সমালোচক অমরেন্দ্র গনাই তাঁর 'কবি শ্রীমধুসূদনের বীরাঙ্গনা কাব্য' শীর্ষক গ্রন্থে মন্তব্য করেছেন, "বীরাঙ্গনার বক্তব্য নাটকীয় সংলাপ নয়, পত্রিকা (Letter)। যদিও সেই পত্রিকা এমনই বিশিষ্ট রীতিতে রচিত হইয়াছে, যাহার মধ্যে নাটকীয়তা অবশ্যই আছে। বস্তুতঃ মধুসূদনের অবলম্বিত রীতি এত অভিনব যে তাহাকে 'dramatic monologue' বলিলে তাঁহার নব-সৃজনী-প্রতিভাকেই অস্বীকার করা হয়। ইহার স্বাতন্ত্র্যই ইহার চূড়ান্ত বৈশিষ্ট্য - এই অভিনবতাই প্রতিভার নির্ভুল স্বাক্ষর।" সত্যিই তো বীরাঙ্গনা কাব্যে আমরা দেখি, গল্পরসের অব্যাহত ধারা ও নাটকীয়তার আশ্চর্য মেলবন্ধন, যা 'গীতি-আকুলতা'র ভাবসমুদ্রের উপর ডুবো-পাহাড় শৃঙ্গের মতোই মাথা উঁচু করে রয়েছে। বীরাঙ্গনার 'কাব্যদেহে ঐ ত্রিধারা একাত্ম'।প্রকৃত প্রস্তাবে মধুকবির 'মেঘনাদবধ কাব্য' গ্রন্থে প্রমীলা চরিত্রটির মাধ্যমেই বাংলা আধুনিক কাব্যে 'বীরাঙ্গনা'র পদধ্বনি প্রথম শ্রুত হয়। সেখানে প্রমীলা বলছেন, -

"দানব-নন্দিনী আমি, রক্ষঃ-কুল-বধূ; রাবণ শ্বশুর মম, মেঘনাদ স্বামী, - আমি কি ডরাই, সখি, ভিখারী রাঘবে?" নারী এভাবেই গৃহকোণ থেকে, সাধারণের চিরাচরিত গণ্ডি থেকে মুক্তি পেল সাহিত্যে। তারপরে এল ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’। এই কাব্যে স্বাধীনচিত্ততা, প্রেম ও প্রাণের প্রবলতা, সংসারের সর্ববাধা উত্তরণের সাহস প্রভৃতি লক্ষণগুলো কবি সঞ্চারিত করলেন তাঁর নির্বাচিত নারী চরিত্রগুলির মধ্যে। জনা ছাড়া দ্রৌপদী, দুঃশলা ও ভানুমতী - এই চরিত্রগুলি ক্ষত্রিয় নৃপতির স্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধবিরোধী আচরণ করেছে। এই লক্ষণ বীর্যবতী রমণীর নয় বলে মনে হওয়াই স্বাভাবিক; সুতরাং রাণী দুর্গাবতী বা, ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মীবাইয়ের মতো বীর নারী চরিত্র অঙ্কন করবার লক্ষ মধুসূদনের ছিল না। লঘু বিচারে এই কাব্যের নারীরা সাহসের সঙ্গে নিজ নিজ অন্তর্জীবনের কথা অবলীলাক্রমে প্রকাশ করেছেন, বীরত্বের সঙ্গে আত্মঘোষণার জন্য 'বীরাঙ্গনা' নাম পরিকল্পনা - এমন মনে হতে পারে। আবার 'প্রেরণাদাত্রী নারী' - অর্থেও তারা বীরাঙ্গনা! তারা বীর ও অঙ্গনা, তারা শ্রেষ্ঠ নারী হিসেবে বিবেচ্য; বীর্য ও সৌন্দর্যের মিলিত পরিচয় নিহিত সেখানে। সতী, সাধ্বী শব্দগুলি বহু ব্যবহারে হয়ে পড়েছে মলিন এবং একমাত্রিক। মধুসূদন তাই এক্ষেত্রে 'অঙ্গনা' শব্দটিকে বেছে নিয়েছেন বিকল্পরূপে। সৌন্দর্য, প্রেম ও বীর্যে বীরাঙ্গনা কাব্যের প্রতিটি নারী চরিত্রই অনন্যসাধারণ হয়ে উঠেছে, সুতরাং কাব্যটির নামকরণও সার্থক হয়ে উঠেছে। প্রসঙ্গত কবি বইটি উৎসর্গ করেছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়কে, যা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এবার রবীন্দ্রনাথের ভাষায় সমাপ্তি টানা যায় - "নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার / কেন নাহি দিবে অধিকার / হে বিধাতা?...

কেন না ছুটাব তেজে সন্ধানের রথ / দুর্ধর্ষ অশ্বেরে বাঁধি দৃঢ় বল্‌গাপাশে।" (কবিতা : 'সবলা', কাব্যগ্রন্থ: 'মহুয়া', রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)।

-------০০০-------

তথ্যসূত্র : ১/ 'ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাঙ্গালার নবজাগরণ' : ডক্টর সুশীলকুমার গুপ্ত। ২/ 'কবি শ্রীমধুসূদনের বীরাঙ্গনা কাব্য' (বীরাঙ্গনা'র প্রকাশরীতি, গঠন কৌশল, ভাষা ও ভঙ্গী): অমরেন্দ্র গনাই। ৩/ 'বীরাঙ্গনা কাব্য' : মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ৪8/ 'মহুয়া' কাব্য : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

 

মুদ্রিত সংখ্যার প্রচ্ছদ


মুদ্রিত সংখ্যা সংগ্রহ বিষয়ক জরুরি কথা

নবপ্রভাত ব্লগজিনের ৬৮তম সংখ্যা (কার্তিক ১৪৩০ অক্টোবর ২০২৩) প্রকাশিত হল। কথামতো এই সংখ্যাটি বই (মুদ্রিত পত্রিকা) আকারে একটি প্রকাশনী থেকেও প্রকাশিত হল। ফন্ট একটু ছোট রেখে সাড়ে আট ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। মুল্য ১৭৫ টাকা। তবে আমরা একটা কোড দিচ্ছি ( কোড: NABAPRAVAT30 )। এটা অর্ডার ফাইনাল করার সময় ব্যবহার করলে ১৪৯ টাকায় বইটি পাওয়া যাবে। অর্ডার করলে বাড়িতে বসেই পেয়ে যাবেন।  (একটি সংখ্যার জন্য ডেলিভারি চার্জ নেবে ৫০ টাকা। একাধিক নিলে ডেলিভারি চার্জ অনেকটাই কমবে। এটা প্রকাশনা সংস্থার নিজস্ব নিয়ম।)  কোড ব্যবহার করলে ১৯৯ টাকায় (ডেলিভারি চার্জসহ) বইটি পেয়ে যাবেন।  আগ্রহীরা সংগ্রহ করতে পারেন। 

যাঁরা অনলাইন অর্ডারে স্বচ্ছন্দ নন, অথবা, অনলাইনকে বিশ্বাস না করে আমাদের থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করতে চান তাঁরা শুধু মুদ্রিত মূল্য ১৭৫ টাকা আমাদের পাঠাতে পারেন। আমরা দায়িত্ব নিয়ে আপনার ঠিকানায় বইটি পাঠিয়ে দেব। হাতে হাতে নেওয়া সম্ভব হলে ১৫০ টাকা পাঠালেই হবে। আমরা আনিয়ে দেব।

 আমাদের গুগুল পে / ফোন পে নম্বর ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬।  প্রয়োজনবোধে এই নম্বরে স্বচ্ছন্দে call বা whatsapp করতে পারেন।

মুদ্রিত সংখ্যা অর্ডার করার লিঙ্ক:  

https://notionpress.com/read/nabapravat-utsab-2023

 

 

==================

 

এই মুদ্রিত সংখ্যাটি প্রকাশনা সংস্থা থেকে eBOOK আকারে সামান্য মুল্যে সংগ্রহ করতে চাইলে, নিম্নলিখিত লিঙ্কে ক্লিক করে অর্ডার করতে পারেন।



 

 

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,