Skip to main content

স্মৃতিকথা ।। ইনল্যান্ডলেটার থেকে ইন্টারনেট ।। সোমা চক্রবর্তী


স্মৃতিকথা: ইনল্যান্ডলেটার থেকে ইন্টারনেট

সোমা চক্রবর্তী


আমি তখন খুব বেশি হলে ক্লাস টু বা থ্রিতে পড়ি। ভাই আরও ছোট। আমাদের বাড়িতে বাসন মাজার কাজ করত লক্ষ্মীদি। ছোটখাটো রোগা লক্ষ্মীদি নিজের ছোট ছোট দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে সকালে বিকেলে কাজ করতে আসত। লক্ষ্মীদির মেয়ে ছিল আমার সমবয়সী আর ছেলে ভাইয়ের বয়সী। মেয়েটির সঙ্গে আমি খেলাধুলা করতাম। ওর নাম মিঠু বা মিষ্টি এরকম কিছু ছিল। একদম সঠিক মনে পড়ছে না। লক্ষ্মীদি রোজই মায়ের কাছে ঘ্যানঘ্যান করে তার বরের নামে নালিশ করত। চোখের জল ফেলত। ওর বর নাকি ভয়ঙ্কর কুঁড়ে লোক। কাজকর্ম কিছু করতে চায় না। সারাদিন ঘরে বসে শুয়ে কাটায় আর মাসের শেষে লক্ষ্মীদি মাইনে পেলেই সেইসব টাকাপয়সা নিয়ে নেয়। রোজই এইসব কথা বলত লক্ষ্মীদি। তারপর আবার মায়ের দেওয়া খাবার দাবার যত্ন করে গুছিয়ে বাড়িতে নিয়ে যেত। শুধু ছেলেমেয়ে নয়, ওর অলস অকর্মণ্য বরকে খাবারের ভাগ দিয়ে খাবে বলে। আমার মনে আছে, একদিন মা লক্ষ্মীদিকে বলেছিল, "আচ্ছা তোমার বরকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে এসো একদিন।" এর কয়েকদিন পর লক্ষ্মীদি বরকে সঙ্গে নিয়ে এল আমাদের বাড়ি। রোগা মত টাকমাথা ছোটখাটো চেহারার একজন লোক। চেককাটা লুঙ্গি আর শার্ট পরা। চোখে মুখে ধূর্ততার ছাপ। আমাদের বাড়িতে নুরুদার সেই প্রথম আসা। মা লোকটার সঙ্গে কথা বলে বুঝিয়ে ওকে রাজি করিয়েছিল আমাদের বাগানটা পরিষ্কার করার কাজ করতে। সেই থেকে কয়েকমাস পর পর নুরুদা আমাদের বাড়ি কাজ করতে শুরু করল। পরে অবশ্য আমাদের পাশের বাড়ি, তারপর পাড়ার অনেক বাড়িতেই বাগানের কাজ করার জন্য ডাক পেত নুরুদা। আমরা যখন বেশ বড় হয়ে গেছি, তখন নুরুদা আর বাগান পরিষ্কার করে না। বাড়িতে বাড়িতে রঙের কাজ করে। তখন নুরুদা রীতিমতো করিতকর্মা লোক। লক্ষ্মীদিকে আর লোকের বাড়ি বাসন মাজার কাজ করতে হয় না। তবু চিরকাল নুরুদা মাঝে মাঝেই আমাদের বাড়িতে "কাকিমা" বলে রান্নাঘরের দরজায় এসে দাঁড়াত। কোন কাজ আছে কি না জিজ্ঞেস করত। আমাদের বাড়িতেও একবার রঙের কাজ করেছিল নুরুদা। কিন্তু সেসব তো অনেক পরের কথা।

শুরুতে ছুটির দিন দেখে নুরুদা যখন আমাদের বাড়ি কাজ করতে আসত, তখন কাজ করত কম, নারকেল কিম্বা আমগাছের ছায়ায় বসে বিড়ি ফুঁকত বেশি। মা রান্নাঘর থেকে লক্ষ্য করে বেরিয়ে এসে বকাবকি করত। বারবার করে চা বানিয়ে দিত। তখন নিতান্ত অনিচ্ছাসত্বে মুখে একরাশ বিরক্তি মাখিয়ে হাতটাত ঝেড়ে নুরুদা কাজ শুরু করত। আবার বেলা বারোটা বাজতে না বাজতেই কাঁচুমাচু মুখ করে উঠোনের এক কোণায় এসে দাঁড়াত। নীচু গলায় বলত, "কাকা, আজ তাহলে যাই?" এবার বাবার ফায়ার হবার পালা। সকালে দেরি করে এসে, দুপুরে তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে দুদিনের কাজ পাঁচদিনে শেষ করত নুরুদা। আমাদের বাড়ির সীমানা ঘিরে তখন পাঁচিল ওঠেনি। কঞ্চির বেড়াঘেরা এক কামরার ছোট্ট বাড়িটা ছিল আমার কাছে স্বর্গরাজ্য। বর্ষার পর দূর্গাপূজার আগে আগে বছরে একবার পুরোনো পচে যাওয়া বেড়া ফেলে দিয়ে নতুন বেড়া বাঁধা হতো। নতুন বাঁশ এনে সেটা লম্বালম্বি চারফালি করে কেটে কঞ্চি তৈরি হতো। লম্বা হিলহিলে সেই কঞ্চিগুলো আড়াআড়ি করে খুঁটিতে বাঁধা হতো নতুন নারকেলের ছোবরার দড়ি দিয়ে। তারপর আরও পোক্ত করার জন্য ছোট ছোট পেরেক দিয়ে সেগুলো খুঁটির সঙ্গে লাগিয়ে দেওয়া হতো। সরু তার দিয়েও বেঁধে দেওয়া হতো যাতে খুলে পড়ে না যায়। অনেকটা প্যান্ডেল বাঁধার মতো আর কি! সকাল থেকে বিকেল গড়িয়ে যেত সম্পূর্ণ বেড়া বাঁধতে। তখনকার দিনে খুব কম লোকের বাড়িতেই ইটের পাঁচিল ছিল। সব পাড়াতেই হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র বাড়ি যারা অর্থ বা আভিজাত্যের পরিমাপে আলাদা, তারা ছাড়া বাকি সব বাড়িতে কঞ্চির বেড়াই সীমানা হিসেবে ব্যবহার হতো। আমি অবশ্য এখানে মফস্বলের কথাই এখানে বলছি। শহরের কথা একেবারেই আলাদা। 

গরমের ছুটিতে ট্রেনে করে মামাবাড়ি যাবার সময় স্টেশনে এসে যখন লাল রঙের রেল কোয়ার্টার্স ঘিরে সাদা রঙ করা লোহার বেড়াগুলো দেখতাম, তখন আমি মনে মনে ভাবতাম, "আমি যখন বড় হব, যখন চাকরি করব, তখন আমাদের বাড়িতে ওইরকম সাদা রঙ করা লোহার বেড়া লাগিয়ে দেব। আমাদের বাড়িটার রঙও হবে লাল। তখন আমাদের বাড়িটাও এইরকম সুন্দর দেখাবে। তখন প্রতিবছর আর পুরোনো বেড়া বদলে নতুন বেড়া লাগাতে হবে না। তখন ফাঁকিবাজ নুরুদাটা মহা জব্দ হবে।" ছোটবেলায় সীমানা হিসেবে আমার পাঁচিলের চাইতে বেড়াই বেশি ভালো লাগত। এখনও তাই লাগে। কখনও ভুলেও ভাবতে চাইতাম না যে, আমাদের বাড়িটা ঘিরে একদিন একটা ইটের পাঁচিল হবে। পাঁচিল যখন উঠল, তখন খুশির বদলে মনে মনে হয়তো একটু দুঃখই হয়েছিল আমার, চিরদিনের জন্য বেড়ার রোমাঞ্চ হারিয়ে গেল বলে। বসতভিটের সঙ্গে বেড়া দেওয়া ঘাসে ঢাকা একফালি জমি যেন আজকাল ধূসর একটা স্বপ্নের ছবি বলে মনে হয়। বেড়া ঘেরা বাড়িগুলো সব উধাও হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে উধাও  হয়েছে মায়াবী ছোটবেলাটা আর সরল ভাবনাগুলো।

যাই হোক, যে কথা বলছিলাম, বেড়া বাঁধা হয়ে গেলে বেড়ার গা ঘেঁষে লাগানো হতো বিভিন্ন রকমের গাছ। সবাইকে এক কথায় বলতে শুনতাম, "বেড়াগাছ"। আমরাও তাই বলতাম। তারপর একদিন তাদের নাম সংগ্রহে লেগে গেলাম। কিছু কিছু গাছের কতগুলো ডাকনাম ছিল। যেমন, যে গাছটা সবচেয়ে বেশি লাগানো হতো, সেই গাছটার নাম রাং চিতা। আমরা বলতাম বাঘের চোখ। গাছটা লম্বায় বেশি বড় হতো না। বেড়ার ঠিক পাশে পাশে ফাঁক রেখে রেখে কয়েকটা গাছ লাগিয়ে দিলেই অল্পদিনের মধ্যেই সমস্ত বেড়াটা ছেয়ে যেত গাঢ় সবুজ রাং চিতা গাছে। মোটা মোটা কালচে সবুজ রসালো পাতা। কালচে সবুজ রসালো কান্ড। একটা ডালের ওপর গোল করে ঘিরে ছোট ছোট অনেকগুলো লাল রঙের ফুল ফুটত। ফুলের পাপড়িগুলো সাধারণ ফুলের পাপড়ির মত ছড়িয়ে না থেকে গুটোনো বলে কেমন তিনকোণা আকারের। তাই ফুলগুলোকে আমার ঠিক মাছির মতো দেখতে লাগত। ওই ফুল থেকে আমরা মধু খেতাম। মোটা মোটা পাতাগুলো ছিঁড়ে নিয়ে ভাঁজ করলেই ভাঁজ বরাবর পাতাটা ফেটে যেত। তখন সাবধানে পাতার ফাটা জায়গাটা ফাঁক করলেই পাতার কষ দিয়ে ফাঁকা জায়গাটা ভরে গিয়ে একটা চোখের মত দেখতে লাগত। সেখানে সূর্যের সাতটা রঙ দেখা যেত। সেটাই ছিল আমাদের বাঘের চোখ। কে কত ভালো বাঘের চোখ বানাতে পারে, সেটা হয়ে উঠত একটা উত্তেজনাপূর্ণ খেলা। এক একদিন বিকেলে সারাটা সময় শুধু বাঘের চোখ বানিয়েই আমাদের সময় কেটে যেত।

বেড়াগাছ হিসেবে আর একটা গাছটা খুব ব্যবহার করা হতো। তার নাম ঢোল কলমি। এই গাছগুলো মাঝারি লম্বা হয়। এই গাছের পাতাগুলো হালকা সবুজ রঙের আর পাতলা পাতলা। আকারে অনেকটা পান পাতার মতো। শুনেছি ঢোল কলমির পাতা তেতো হয় বলে নাকি গরু ছাগলে ওই গাছ খায় না। তাই বেড়ালতা হিসেবে খুব ভালো ব্যবহার করা যায়। ঢোল কলমির ফুলগুলো বেশ বড় বড়। দেখতে অনেকটা মাইকের চোঙের মতো। হালকা বেগুনি রঙের পাঁচটা পাপড়ি নিয়ে চারদিক আলো করে বেড়া ঘিরে ফুটে থাকত ফুলগুলো। দূর্গাপুজোর সময় শরতের সোনালী রোদ্দুরে কি অপূর্ব যে লাগত তা বলে বোঝানোর নয়। ফুলের ভেতরের রঙটা গাঢ় বেগুনী। ছোটবেলায় ফুলের ভেতরের ওই গাঢ় বেগুনী রঙ দেখে আমার মনে হতো, ফুলটার ভেতর থেকে যেন কোন রহস্যলোকের হাতছানি আসছে। মনে মনে আমি নিশ্চিত ছিলাম, ওই ফুলের ভেতরে পরীরা থাকে। কিম্বা পরীদের দেশে যাবার রাস্তা ওই ফুলের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে। পরীরা খুব ছোট্ট। ঠিক একটা ফড়িং কিম্বা প্রজাপতির মতো। হালকা আর ফুরফুরে পাখনা মেলে উড়ে উড়ে বেগুনি ফুল থেকে ওরা বেরিয়ে আসে। সারাদিন আলোয় আলোয় খেলে বেড়িয়ে সন্ধ্যা হলে ফুলের গাঢ় বেগুনী অভ্যন্তরে টুক করে ঢুকে যায়। কতদিন যে একদৃষ্টে ফুলগুলোরদিকে তাকিয়ে থাকতাম, তার ঠিক নেই। বিশ্বাস করতাম, একদিন না একদিন আমি পরীর দেখা পাবই। সরল হবার একটা মজা হচ্ছে, চারপাশের পৃথিবীটাও সরল বলে মনে হয়। ছোটদের পৃথিবীটা তাই এত সুন্দর। ছোটরা যে কোন কিছু করতে পারে। কারণ, ছোটরা বিশ্বাস করে, বিশ্বাস করতে পারে। ঢোল কলমি এখন আর প্রায় দেখাই যায় না। এই গাছ নাকি এখন প্রায় বিলুপ্ত। সেইসঙ্গে লুপ্ত আমাদের রূপকথা ভরা ছোটবেলা।

তেলাকুচার লতাও বেড়ে উঠত আমাদের বেড়ায়। হয়তো নিজে থেকেই হতো। তেলাকুচার ফুল সাদা রঙের আর কাঁচা ফলগুলো সবুজ। পেকে উঠলে সেগুলো লঙ্কার মত টুকটুকে লাল হয়ে যেত। এই গাছের কচি পাতা আর কাঁচা ফল খাবার জন্য নিয়ে যেত অনেকে এসে। ছোটবেলায় সবার মুখে শুনতাম, এই গাছের নাকি উপকারিতা অনেক। আমাদের বাগানে পান পাতার মতো দেখতে আর একরকম লতা দেখা যেত। বড় আমগাছটায়, লেবুগাছে ছেয়ে যেত। বাবা বলত, "এটা হল গুলঞ্চ। এর উপকারিতার সীমা নেই।" গুলঞ্চ লতা জন্মালে কখনও কেটে ফেলা হতো না। এই গাছে হলুদ ফুল আর সবুজ ফল হতো। পেকে গেলে এই ফলও লাল রঙের হয়ে যেত। একবার বড় আম গাছটা ছেয়ে গিয়েছিল ধুঁধুঁল বা ধুন্দলের লতায়। ধুন্দলকে কেউ আবার বলে পোরোল। ঠিক ঝিঙের মত দেখতে একটা ফল। ফলটা সবজি হিসেবে কাঁচা খাওয়া যায়। কিন্তু পাকলে তখন আর সেটা খাওয়া যায় না। সম্পূর্ণ ফলটা শুকিয়ে ছোবরা হয়ে যায়। তখন তো আর স্নান করার জন্য সিন্থেটিক ছোবরা কিনতে পাওয়া যেত না। মুদির দোকানে ধুন্দলের ছোবরা, কেউ কেউ বলত ছোবা, সেটাই পাওয়া যেত। খোসাটা ছাড়িয়ে নিয়ে সেই ছোবরা ব্যবহার করা হতো। সেবার এত ধুন্দল হয়েছিল যে, আমগাছের পাতাগুলোই দেখা যাচ্ছিল না। তখন আমাদের বাড়িতে যেই আসত, সেই ফেরার সময় পাকা ধুন্দল সঙ্গে করে নিয়ে যেত। আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী বা বাড়িতে কাজ করতে আসত যারা, তারা সবাই। বাবার অফিসের কিম্বা মায়ের স্কুলের বন্ধুরাও বাদ যায়নি। সবাই আমাদের বাড়ি থেকে ধুন্দল নিতে আসত বলে আমি আর ভাই খুব মজা পেতাম। তারপর একদিন নুরুদা ধুন্দলের লতাটা কেটে ফেলে মুক্তি দিয়েছিল আম গাছটাকে।

 "কচার বেড়া" কথাটা শোনেনি এমন বাঙালি বোধহয় আমাদের সময় বিরল ছিল। এও একরকম বহু প্রচলিত বেড়া গাছ। আসল নাম ভেরেণ্ডা। অনেকে বলে ভেন্না। কোথাও বা বলা হয় রেড়ি। এর ইংরেজি নামটা আরও অদ্ভুত। সম্ভবত এর বীজ থেকে তেল তৈরি হয় বলেই হয়তো একে বলে castor-oil plant। বাংলা সাহিত্যে বহুবার বহু জায়গায় রেড়ির তেলের ('রেড়ির তেলের প্রদীপ' ইত্যাদি) যে উল্লেখ আছে, সেই রেড়ির তেল তৈরি হয় এই ভেরেণ্ডা গাছের ফলের বীজ থেকেই। যদিও বেড়া গাছ হিসেবেই এর পরিচিতি বেশি, কিন্তু এর পাতা আর ফলের অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে। রেড়ির তেল নাকি ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে। এই গাছের পাতাগুলো অনেকটা পেঁপে পাতার মত দেখতে। ফলগুলো কাঁটাওয়ালা। এত গুণ থাকা সত্বেও বাংলা প্রবচনে এর জায়গাটা একটু অবহেলা ভরা। কেউ কোন কাজ না করলে তাকে বলা হয় "বসে বসে কি ভেরেণ্ডা ভাজছিস" ইত্যাদি। গাছগুলো সম্পর্কে পড়তে গিয়ে জানলাম, এই ভেরেণ্ডা বা ভেন্না বা কচা গাছও নাকি আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।

আমাদের বাড়িতে একটা অতসী ফুলের গাছ ছিল। অতসী গাছ সরু আর লম্বা হয়। লম্বা লম্বা নরম পাতাগুলোর ওপরের দিকের রঙ গাঢ় সবুজ আর নীচের দিকের রঙ হালকা সবুজ। এই গাছের ডালগুলোও সবুজ রঙের। ডালের আগায় হলুদ রঙের অতসী ফুল দেখতে ঠিক প্রজাপতির মত দেখায়। হয়তো অতসী ফুলের ভত গায়ের রঙ বলে দেবী দূর্গার এক নাম অতসী। এই গাছের ফলগুলো কাঁচা  অবস্থায় সবুজ। অনেকটা কড়াইশুঁটির মত দেখতে। শুকিয়ে গেলে সেগুলো কালচে হয়ে যায়। তখন সেগুলোকে নাড়ালে ঝুন ঝুন করে শব্দ হয়। ফুলগুলোতে চাপ দিলে ফুলের আগা থেকে ডিমের কুসুমের মত হলুদ রঙের পরাগ বেরিয়ে আসে। অতসী ফুলের আমদানি সম্ভবত ভারতের বাইরে থেকে। আজকাল আর এই গাছটাও দেখতে পাওয়া যায় না। সন্ধ্যাবেলায় ফোঁটা সন্ধ্যামালতী ফুলের গাছ থেকে কালো থানার মত বীজ সংগ্রহ করতাম কি পরম আগ্রহে! সন্ধ্যামালতী ফুলের গাছও আজকাল আর চোখে পড়ে না। আমাদের বাড়িতে গাঢ় গোলাপি রঙের নাইন ও ক্লক ফুটত ঠিক সকাল ন'টার সময়। এই প্রজাতির নাকি আরও গাছ আছে। কেউ সকাল চারটের সময় ফোটে। এদের একসাথে টাইম ও ক্লক বলে। তবে আমি শুধু নাইন ও ক্লকই দেখেছি। বাগান ভরে কাঞ্চন, হাস্নাহানা, গন্ধরাজ, কামিনি এই সবকটি ফুলই একসময় ফুটত আমাদের বাড়িতে। প্রত্যেকটা ফুলই সাদা রঙের হয় আর প্রত্যেক ফুলেরই গন্ধ অসাধারণ। কামিনি গাছটা এখনও আছে পাঁচিলের গা ঘেঁষে গেটের পাশে। অনেককেই বলতে শুনতাম, কামিনি ফুলের গন্ধে সাপ আসে। সাপ তার জিভের সাহায্যে গন্ধ বুঝতে পারে। ছোটবেলায় আমাদের বাড়িতে অনেক সাপও দেখেছি। কিন্তু কামিনি ফুলের গন্ধে সাপ এসেছিল কিনা সেটা আমি জানি না।

ক্লাস ওয়ানে আমাকে ভর্তি করা হয়েছিল পাড়ার প্রাইমারি স্কুলে। স্কুল বসত বেলা এগারটায়। আমার স্কুলে যাবার সঙ্গী ছিল পাড়ার দুয়েকজন বন্ধু। আমরা সবাই একই ক্লাসে পড়তাম। বড় রাস্তা দিয়ে যেমন স্কুলে যাওয়া যেত, তেমনই পাড়ার ভেতর দিয়েও যাওয়া যেত। পাড়ার ভেতর দিয়ে একটু ঘুরপথ হতো, কিন্তু আমরা ওই পথই বেশি পছন্দ করতাম। পাড়ার ভেতরের পথগুলো ছিল জালের মতো। ঘুরে ফিরে একটার সঙ্গে আর একটার সংযোগ থাকত। আমরা মনের আনন্দে এ পথ ও পথ ঘুরতে ঘুরতে যেতাম আর আসতাম। আমাদের পাড়ার পেছনেই ছিল একটা বাঁশ বাগান। বাঁশ বাগানের ভেতর দিয়ে গেলে একটু তাড়াতাড়ি হতো। সবাই বলত, বাঁশ ঝাড়ের গোড়ায় সাপের বাসা থাকে। কেউ বলত, বাঁশ বাগানে ভূত থাকে। তখন সেই ভূতের গল্প হিসেবে পথের ওপর বাঁশ গাছ নুয়ে পড়ার গল্পটার খুব চল ছিল। কথাগুলো সব মনে মনে ঠিক বিশ্বাস করতাম না। আবার সম্পূর্ণ অবিশ্বাস করতেও পারতাম না। সব মিলিয়ে দিনের বেলাতেই বাঁশ বাগান দিয়ে যেতে আমাদের একটু ভয় ভয় করত। কিন্তু তবু অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় ওখান দিয়েই আমরা যেতাম। একবার এক গরমের ছুটির দুপুরে সত্যি সত্যিই বাঁশ গাছের গোড়ায় মস্ত বড় দুটো সাপ দেখেছিলাম। যারা দেখতে পেয়েছিল, তারা হই হই করে ছুটে আসছিল আর বলছিল, "সাপের শঙ্খ লেগেছে"। 

বাঁশতলাটা সবসময়ই খুব ঠাণ্ডা আর ছায়া ছায়া থাকত। ভেতরে দাঁতনের ঘন ঝোপ আর বিছুটির জঙ্গল ছিল। মাঝখান দিয়ে সরু পায়ে চলা পথ। বিছুটি পাতা গাঢ় সবুজ রঙের। গাছটার পাতার ওপরনীচ আর সমস্ত ডালপালা সব জায়গা অত্যন্ত সূক্ষ্ম রোমে ঢাকা। ঠিক শুঁয়োপোকার মত। হাতের পাতা ছাড়া গায়ের আর যে কোন অংশে বিছুটি পাতার স্পর্শ লাগলেই সেখানে চুলকানি শুরু হয়ে যায়। তারপর জ্বালা করে জায়গাটা ফুলে ওঠে। দুষ্টুমি করে বা শত্রুতা করে ওই পাতা গায়ে লাগিয়ে দিলেই হয়েছে আর কি! বিছুটি পাতাকে আবার ছোতরা পাতা বা চোতরা পাতাও বলে অনেকে। আপাতভাবে বিপজ্জনক এই পাতারও নাকি অনেক ওষধিগুণ রয়েছে। অবশ্য আমাদের দেশের প্রায় সব গাছপালারই কিছু না কিছু গুণ রয়েছে বলে পড়েছি। বিশেষ করে লতা আর গুল্ম জাতীয় গাছ। দাঁতনের যে ভালো নাম আশশেওড়া, সে কথা তখন আমরা জানতাম না। দাঁতনকে কেউ কেউ আবার বলে মটকিলা। দাঁতনের ডাল থেকে ছোট একটা টুকরো কেটে নিয়ে তার একপাশটা দাঁত দিয়ে চিবিয়ে ছিবড়া বানিয়ে নিয়ে তাই দিয়ে লোকে দাঁত মাজত। ওই জিনিসটাকেই বলা হয় দাঁতন। আর ওটা দিয়ে দাঁত মাজাকে বলে দাঁতন করা। গ্রামগঞ্জে নিমের ডালকেও লোকে দাঁতন হিসেবে ব্যবহার করত। মনে হয় সেই জন্যই আশশেওড়া গাছের ডাকনাম দাঁতন হয়ে গেছে। ছোটবেলায় আমিও কয়েকবার মেজে দেখেছি। কিন্তু আমাদের কাছে দাঁতনের মাহাত্ম্য ছিল সম্পূর্ণ অন্য কারণে। দাঁতন পাতা ছিল বিছুটি পাতার প্রতিষেধক। একেবারে অব্যর্থ ওষুধ। কোথাও বিছুটি পাতা লেগে গিয়ে জ্বালা করলে সেখানে খানিকটা দাঁতন পাতা থেতো করে তার রসটা লাগিয়ে দিলেই জ্বালা কমে যাবে। খেলাধুলা করতে ঝোপজঙ্গলে গিয়ে বিছুটি পাতা হাতে পায়ে লেগে যাওয়া ছিল আমাদের রোজকার ঘটনা। তাই দাঁতন আমাদের কাছে খুবই আদরের গাছ ছিল। দাঁতনের ফলগুলো দেখতে হতো ঠিক ছোট ছোট টমেটোর মতো। একটা ডালের আগায় একথোকা গুড়ি গুড়ি ফল হতো। কাঁচা অবস্থায় সবুজ রঙের কিন্তু পাকা ফলগুলো গোলাপি থেকে ক্রমশ লাল রঙের হয়ে উঠত। আমাদের রান্নাবাটি খেলার সময় দাঁতনের ফল হতো আমাদের খেলার রান্নাঘরের টমেটো।

বাড়ি থেকে স্কুল আবার স্কুল থেকে বাড়ি। এইটুকুই ছিল সেসময় আমার গোটা জগত। তাই যতটা সম্ভব সেই জগতটাকে বাড়িয়ে তুলতাম আজ এই রাস্তা কাল ওই রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করে। পথের ধারে ধারে সবুজ ঝোপজঙ্গল। বিছুটি, দাঁতন ছাড়াও সেখানে রয়েছে শিয়ালকাঁটার ঝোপ। উঁকি মারছে হাতিশুঁড়ের আগা। সেই ঝোপে ধুতরা আকন্দ আর ভাঁটফুলের ঠেসাঠেসি। ভাঁটফুলের আর একটা প্রচলিত নাম ঘেঁটু। শেষের তিনটে ফুলের নামের সঙ্গে অনেকেই হয়তো পরিচিত। কারণ এই ফুল শিব ঠাকুরের খুব পছন্দ। শুনেছি শিবরাত্রির দিন এই জংলা ফুলগুলোর দামই হয়ে যায় আকাশছোঁয়া। আমরা ছোটবেলায় ঝোপঝাড় ভরে থাকতে দেখতাম এইসব ফুলে। হাতিশুঁড় পাতা অনেকটাই বিছুটি পাতার মতো দেখতে। তবে এদের রোম থেকে চুলকানি হয় না। গাছের প্রত্যেকটা ডাল নরম আর সবুজ। সোজাসুজি অনেকটা উঠে আগার কাছটায় বেঁকে গিয়ে ঠিক যেন হাতির শুঁড়ের মতো দেখায়। বাাঁকানো অংশটায় অনেকগুলো ছোট ছোট সাদা বা হালকা বেগুনি ফুল ফোটে। দেখতে ভারি সুন্দর হলেও এই গাছের পাতায় একটা উটকো গন্ধ আছে। শিয়ালকাঁটা ফুলগুলো হলুদ রঙের। হালকা ফুরফুরে পাপড়ি। পাতাগুলোর প্রত্যেকটা আগায় কাঁটা থাকে। সবুজ রঙের ফলগুলোও কাঁটাওয়ালা। এই ফুলের বৃন্ত বা বোঁটা নেই। দেখে মনে হয় ফুলটা যেন সরাসরি একটা পাতার ঝুড়িতে বসানো। একবার উঁচু ক্লাসের একটা ছেলে দুষ্টুমি করে একটা শিয়ালকাঁটা ফল একটা মেয়ের লম্বা চুলে লাগিয়ে দিয়েছিল বলে হেড মাস্টারমশাই ছেলেটাকে সকলের সামনে বেত দিয়ে প্রচণ্ড মেরেছিলেন। আমরা শিয়ালকাঁটা ফুল তুলে তার এক একটা পাপড়িতে জোরে ফুঁ দিতাম। শিসের মতো একটা তীক্ষ্ম শব্দ বের হতো। তখন কেই বা জানতো যে মহাশয়দের আমদানি সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ মেক্সিকো থেকে। এই গাছেরও নাকি গুণ অসীম।

মাঠেঘাটে, রাস্তার পাশে পাশে আর একরকম ঝুপসি গাছ দেখতে পেতাম ছোটবেলায়। কেমন বুনো বুনো একটা গন্ধ পাওয়া যেত গাছ আর পাতা থেকে। কিন্তু গন্ধটা নাকে এলে বেশ ভালো লাগত। কেমন সতেজ ভাব ছিল গন্ধটায়। পাতাগুলো বেশ বড় বড় আর কালচে সবুজ রঙের। গাছটাতে সাদা রঙের ছোট ছোট ফুল ফুটত। প্রথম অবস্থায় ফুলগুলো ঠিক ফুলকপির মত দেখতে লাগত। আমাদের খেলাঘরের রান্নায় ওই ফুল তুলে নিয়ে এসে আমরা ফুলকপি বানিয়ে রান্না করতাম। কিন্তু কিছুদিন পর যখন সমস্ত পাপড়ি মেলে সম্পূর্ণ ফুটে যেত ফুলগুলো, তখন আর ওদের ফুলকপির মত দেখাত না। একসময় চোখের সামনে থেকে হারিয়ে গেল সেইসব আগাছা বুনোফুলের দল। খুঁজতে খুঁজতে অনেক পরে জেনেছি যে ওই গাছের নাম বন মটমটিয়া। সবুজ ঝোপ ভরে আর একরকম বিন্দু বিন্দু সাদা কি যেন ফুল ফুটে থাকত। তার নাম পার্থেনিয়াম তাও তখন জানতাম না। পুটুসের ঝোপ তো অনেক দেখেছি। পাড়ায়, রাস্তার ধারে, ট্রেনে করে যেতে যেতে। হালকা বেগুনি, লাল আর হলুদ ছোট ছোট থোকা থোকা ফুলগুলোর কি বাহার! সত্যিই কি রূপে তারা গোলাপ বা রজনীগন্ধার সমকক্ষ নয়? আর গুণের কথা আজ না হয় বাকিই থেকে যাক। বিভূতিভূষণ কিম্বা বুদ্ধদেব গুহ তখনও পড়িনি। তবু ওই নাম না জানা ফুলেরা ছোটবেলার স্মৃতিগুলোকে আজও উজ্জ্বল করে রেখেছে।

ঝোপে জঙ্গলে কালচে সবুজ পাতা আর হাঁটু পর্যন্ত ঝুপসি গাছের ডালগুলো ভরে বেগুনি রঙের বনফুল ফুটে থাকতে ছোটবেলায় অনেকেই দেখেছে। ফুলগুলো অনেকটা কলকে ফুলের আকারের। বেগুনি রঙের পাপড়ি গুলো খুব পাতলা আর ফুলের একদম ভেতরটায় গাঢ় নীল রঙ। গাছটার বেশিরভাগ পাতাগুলোই সবসময় পোকায় খাওয়া থাকত। সেই ফুলের নাম নাকি পটপটি ফুল। এর আদি নিবাসও দক্ষিণ আমেরিকা। আমরা এই গাছকেও আগাছা বলেই জানি। কিন্তু এই গাছের শিকড় নাকি মূত্রনালীর পাথর অপসারণে কাজে লাগে। আর এক ধরনের জংলা গাছ ঝোপঝাড়ে খুব দেখতাম ছোটবেলায়। পাতাগুলো খানিকটা লম্বাটে আর পাতার চারধারটা ছোট ছোট খাঁজ কাটা। এই গাছের ডাল আর পাতারা খুব নরম আর পাতায় ঝাঁঝালো গন্ধ। একটা লম্বা মঞ্জরীতে পাতা আর ফুল খাঁজে খাঁজে সাজানো থাকে। কালচে সবুজ রঙের পাতার ফাঁকে ফাঁকে গাঢ় বেগুনি রঙের ছোট ছোট ফুল। এই ফুলের নাম গোবুরা। এই ফুলে মধু হয়। মঞ্জরীর সবুজ ফলের মত জিনিসগুলোয় বীজ থাকে। এই গাছেরও অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে। তবে এখন আর এই গাছ দেখা যায় কিনা জানি না। বাসক, তুলসী, থানকুনি, কুলেখাড়া এইসব গাছের উপকারিতার কথা কে না জানে! যাদেরই বাড়িতে একটুখানি জমি থাকত,  তাদেরই বাড়িতে এইসব গাছ বেশিরভাগ সময় থাকত। আমাদের বাগানেও এই সব গাছ একদিন অনেক পরিমাণে হতো। আমরা খেতাম। লোকজন এসে নিয়েও যেত। বাসক পাতার একটা গাছ আমাদের বাড়িতে কিছুদিন আগে পর্যন্তও ছিল। এই গাছের পাতা দেখতে খানিকটা আমপাতার মতোই লম্বা লম্বা তবে আমপাতার চেয়ে অনেক পাতলা। সাদা সাদা ছোট ছোট ফুল ফোটে। বাসক পাতা সর্দিকাশির অব্যর্থ ওষুধ। গাছটা যতদিন পর্যন্ত ছিল, আমরা ছাড়া আশেপাশের অনেকে, এমনকি পথচলতি অজানা মানুষ এসেও বাসক পাতা চেয়ে নিয়ে যেত। ছোটবেলায় দেখা আগাছা গাছের সন্ধান করতে গিয়ে চকচকে উজ্জ্বল সবুজ রঙের পানপাতার আকারের খুব ছোট লতা লুচি পাতা গাছের একখানা গালভরা নাম পেলাম- পেপেরোমিয়া। এই গাছ নাকি শাক হিসেবে খাওয়া যায় আর এর ভেষজগুণও অবাক করার মত।

আমার মামাবাড়ির ঠিক পাশে একটা মস্ত বড় পুকুর ছিল। ছুটিতে মামাবাড়ি গিয়ে যখন থাকতাম, দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখতে পেতাম একদল হাঁস সারাদিন ধরে নিশ্চিন্ত হয়ে সাঁতার কেটে চলেছে। আমার সেজো মামা ছুটির দিনে ওখানে স্নান করতে যেত। খুব ভালো সাঁতার কাটত সেজো মামা। আমার মা আর মামামাসিরা সবাই সাঁতার কাটতে জানে। ওই পুকুরেই নাকি শিখেছে। আমি আর আমার সমবয়সী মামতুতো বোন পুকুরপাড়ে বসে অবাক হয়ে মামার সাঁতার কাটা দেখতাম। ওই পুকুরটার ধারে ধারে ছিল কলাবতী ফুলের গাছ। গাছ না বলে ঝোপ বলাই বোধহয় ভালো। আগুন রঙা লাল আর হলুদ কমলা অনেকরকম রঙ হয় ফুলের। পাতাগুলো বড় বড়। অনেকটা কলাপাতার মতই দেখতে। সেই সময় থেকেই কলাবতী ফুল আমার ভীষণ ভালো লাগে। তখন অনেক পুকুরের ধার ঘেঁষেই কলাবতীর ঝোপ হয়ে থাকত। আজকাল পুকুরই দেখা যায় না। আর কচিৎ কদাচিৎ দেখা গেলেও তাতে টলটলে জল কই? আর কলাবতীর ঝোপ? তার তো প্রশ্নই নেই। কে জানে, তারাও আজ বিলুপ্তির পথে কি না! পিসির বাড়ি যাবার পথে বাজারের পরই টাকী রোডের ওপর সুটী নদী। অতীতে নাকি এই নদীর আসল নাম ছিল সুবর্ণবতী। তার ওপর সেতু।  নদী এখন মজে গিয়ে প্রায় লুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু স্থানীয় ইতিহাসের নিরিখে একটা সময় এর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। যাই হোক, এখানে এখন আর সেই গল্প নয়। সুযোগ পেলে অন্য কোন সময় না হয় সেই গল্প হবে। বাবার সঙ্গে বাজারে গিয়ে প্রতি রবিবার আমরা পিসির বাড়ি চলে যেতাম। সুটী নদীতে এখন আর একটুও জল না থাকলেও তখন সামান্য জল ছিল। তার মধ্যেই ভরে থাকত কচুরিপানা। আসা যাওয়ার পথে আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে সেই দিকে তাকিয়ে থাকতাম। আজও কচুরিপানা ফুল আমার ভীষণ ভালো লাগে। একবার আমার সেই অপার মুগ্ধতা দেখে বাবা আমাকে রাস্তার ওপর দাঁড়াতে বলে তরতর করে নেমে গিয়েছিল ঢালু পাড় বেয়ে। একটা কচুরিপানা ফুল খুব যত্ন করে তুলে এনে আমার হাতে দিয়েছিল। আমি সেদিন কত যে খুশি হয়েছিলাম, তা বলে বোঝাবার নয়। সারাদিন ধরে আলতো ভাবে ফুলটাকে ধরে আছি। হালকা বেগুনী থোকা একখানা ফুল। প্রত্যেকটা ফুলের একখানা করে পাপড়িতে গাঢ় বেগুনি রঙের ভেতর একটা করে হলুদ ছোপ। অনেকটা ময়ূরের পাখার মত। ফুলটায় খুব মৃদু জলজ গন্ধ। আমাকে দেখাবার জন্য বাবা ফুলের সঙ্গে দুটো সবুজ পাতাও তুলে এনেছিল। পাতাগুলো মোটা ফোলা ফোলা আর তেলতেলে। উঁচু ক্লাসে বিজ্ঞান পড়ার সময় কচুরিপানা নিয়ে আরও জেনেছিলাম। কিন্তু তথ্য বাদ দিয়ে শুধু ওর রূপটাই আমার মনকে ভরে রেখেছে। কোন এক ব্রাজিলের পর্যটক নাকি সুদূর দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কচুরিপানাকে এ দেশে নিয়ে এসেছিল। পড়ে আমি ভেবেছি, সেও হয়তো ঠিক আমারই মত এই ফুলটাকে ভালোবেসেছিল। কচুরিপানা পুকুরে জন্মালে পুকুরের জল নষ্ট হয়। এটা একটা জলজ আগাছা- এই কথা জেনেই অভ্যস্ত আমরা। কিন্তু কচুরিপানার সত্যিই অনেক গুণ। পৃথিবীতে যত লতা আর গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ রয়েছে, তার মধ্যে ওষধি গুণ নেই এমন উদ্ভিদ বোধহয় বিরল।

আমাদের বাড়ির পাশে বিশাল একটা মাঠ ছিল। মাঠের শেষ প্রান্তে একটা ভাঙা পাঁচিল। তার ওপাশে ছিল একটা বিশাল বাগান। ফুলের বাগান নয়। ফলের বাগান। সবাই বলত মালির বাগান। কেন বলত, কেই বা সেই মালি আমি জানতে পারিনি কখনও। তবে এটুকু জানতাম যে, চেনাজানা এমন কোন ফল নেই যেই গাছ ওই বাগানে ছিল না। আম জাম কাঁঠাল জামরুল এইসব অতি পরিচিত ফলের গাছগুলো তো ছিলই। তাছাড়াও ফলসা কুল করমচা কামরাঙা বৈঁচি আতা তাল আরও অনেক রকমের গাছ ছিল। বাগানটার পাঁচিল বেশিরভাগ জায়গাতেই ভাঙা ছিল। ভেতরে গেলে কেউ নিষেধও করত না। পাশের পাড়া থেকে অনেক ছেলেমেয়েরা এসে ফল পাকুড় নিয়ে যেত। কিন্তু বাড়ির কড়া শাসনের জন্য আমি কখনই যাইনি। শুধু একবার কেন যেন ভাইবোনেরা মিলে ভাঙা পাঁচিল টপকে ওই বাগানের মধ্যের পথটা দিয়ে কোথাও গিয়েছিলাম। একটা মিষ্টি গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। আমার পিসতুতো দিদি বলেছিল, "পাকা আতার গন্ধ"। বাজার থেকে বাড়িতে পাকা আতা তো কতবার আনা হয়েছে। কিন্তু সেই আতায় ওইরকম গন্ধ কখনও পাইনি।

পিসির বাড়িতে একটা ফলসা গাছ ছিল। ফলসা গাছে হলুদ হলুদ ছোট ছোট ফুল ফুটত আর করমচার মত ছোট ছোট ফল। গরমকালে ফলসায় ভরে যেত গাছের ডালগুলো। ফলসা কাঁচা অবস্থায় সবুজ আর পাকলে কালচে বেগুনি রঙের হতো। ফলসা গাছের ডাল খুব সরু। ওই গাছে ওঠা যায় না। পাকা ফলগুলো উঁচু ডালে ঝুলত। গাছটা ঝাঁকা দিলে টুপটাপ করে মাটিতে পড়ত। আমরা কুড়িয়ে নিয়ে খেতাম। পাকা ফলসা খেতে অপূর্ব। পিসিরা ওই বাড়িটা বিক্রি করে আমাদের পাড়ায় চলে এসেছিল। সেই থেকে এই পর্যন্ত আর ফলসা খাওয়া হয়নি আমার। জানি না, আমাদের এখানে ফলসা গাছ এখন আর আছে কি না! সম্ভবত বাজারেও খুব একটা ফলসা পাওয়া যায় না। কুলের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই। আমাদের বাড়িতে বেশ কয়েকটা কুল গাছ ছিল। টোপা কুল আর নারকেলি কুল। এখনকার দিনে অবশ্য শীতকালে সরস্বতী পূজার আশেপাশে বাজারে কুল পাওয়া যায়। কিন্তু সেই কুলের মধ্যে ছোটবেলার কুলের সেই টক মিষ্টি স্বাদটা পাওয়া যায় না। মনে মনে একটা ছবি ভেসে ওঠে, পড়ন্ত বিকেলে পায়ে এক হাঁটু ধুলো মেখে একদল ছেলেমেয়ে ঝোপঝাড় অথবা মাঠের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলেছে। প্রত্যেকের বাঁ হাতের চেটোয় খানিকটা নুন আর ডান হাতে আর জামার পকেট বোঝাই করা কাঁচাপাকা কুল। সবার মাথার চুল এলোমেলো। খেলতে খেলতে সবাই ক্লান্ত। কুল খেয়ে খেয়ে দাঁত টকে গেছে তবু প্রাণে ধরে বাদবাকি কুলগুলো না পারছে ফেলে দিতে, না পারছে কাউকে দিয়ে দিতে। পাড়ার একমাত্র পুকুরটা ছিল সমাদ্দারবাড়ির। নিতাই খুড়ো পুকুরটার দেখাশোনা করত। পুকুরের চারদিকে অনেক কুল গাছ। একটা করমচা গাছও ছিল। কিন্তু খুড়োর ভয়ে কোন বাচ্চার সাহস ছিল না সেই সব গাছে হাত দেবার। এখন আর কুল, করমচা বা কামরাঙা গাছ কোথাও দেখতে পাই না। বাজারে অবশ্য মাঝে মাঝে কামরাঙার দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু ফলসা বা করমচা দেখিনি আমি।


আমরা ছোটবেলায় কচুপাতা দিয়ে প্রজাপ্রতি আর ফড়িং ধরতাম। দুহাতে দুটো কচুপাতা নিয়ে চুপি চুপি কাছে গিয়ে খপ করে ফুলের ওপর বসে থাকা প্রজাপিকে ধরে ফেলতাম। একটু কাছ থেকে দেখে আবার উড়িয়ে দিতাম। অনেকে আবার খালি হাতেও প্রজাপতি বা ফড়িং এর পাখনাটা ধরে ফেলত। আমিও একবার দুবার ধরে দেখেছি। ভালো লাগেনি। প্রজাপতি হাতে ধরলে হাতের আঙুলে ওর পাখনার গুঁড়ো গুঁড়ো রঙ লেগে যায়। সেই রঙ অতসী ফুলের রেণুর মতো নরম কিম্বা পাউডারের মত। অনেক ছেলেমেয়ে ফড়িং ধরে তার লেজে সেলাই করার সুতো বেঁধে নিজের সঙ্গে নিয়ে ঘুরত। এই জিনিসটাও আমার ভালো লাগত না। আমি কখনও কোন প্রাণীকে বন্দী করে ধরে রাখতে চাইনি। রাখিওনি। এই খেলায় বেশিরভাগ সময়ই ফড়িংটার ক্ষতি হতো। কিন্তু যারা করত তারা সেটা বুঝতে চাইত না। ছোটরা অনেক সময় অনেককিছু বোঝে না। বুঝতে চায় না। তাই কখনও কখনও ছোটদের খেলাধুলা তাদের অজান্তেই নিষ্ঠুরতার সীমা ছাড়ায়। এটাও সেইরকম একটা খেলা ছিল। আজ ফেলে আসা সবকিছুর কথা বলতে বসেছি। তাই এই কথাটাও উল্লেখ করলাম। 

আমাদের ছোটবেলায় দূরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠি। আমরা সবাই জানি, রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত যাবতীয় চিঠিপত্র এখন বিশ্ববিখ্যাত পত্রসাহিত্য। ফলে সবসময়ই চিঠি সমসাময়িক  একটা গুরুত্বপূর্ণ দলিল। চিঠি লেখা হতো খামে, পোস্টকার্ডে কিম্বা ইনল্যান্ডলেটারে। খামের চিঠি আলাদা কাগজে লিখে, খামের ওপর ঠিকানা লিখে ডাকটিকিট লাগিয়ে ডাকে ফেলতে হতো। খামের চিঠি ছিল সবচেয়ে রোমাঞ্চকর। যত ইচ্ছে ততটাই লেখা যায়। খুব ভারিক্কি আর ব্যক্তিগত। তখনকার দিনে পোস্টকার্ড ছিল হলুদ রঙের একটা মোটা কাগজ। তার একপিঠে লেখার জায়গা। অন্য পিঠের অর্ধেকটা ফাঁকা। বাকি অর্ধেক ঠিকানা লেখার জায়গা। সেইখানে তিনটে লাইন টানা আর ওপরে একটা বাঘের ছবি। বাঘের ছবিটা হল ডাকটিকিটের পরিপূরক। পোস্টকার্ড একেবারে খোলামেলা জিনিস। পিওন থেকে পোস্টমাস্টার- যে কেউ চাইলে সেই চিঠিতে চোখ বোলাতে পারে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হতো ইনল্যান্ডলেটার। নীল রঙের তিন ভাঁজ করা পাতলা কাগজ। নামেই শাসিয়ে রেখেছে, দেশের ভেতরের জন্য। দেশের বাইরে যারা থাকেন, তাদের জন্য এয়ার মেলের সাদা খাম। চারপাশে লাল আর নীল দাগ দেওয়া। এই ইনল্যান্ডলেটার ছিল মধ্যবর্তী ব্যবস্থা। অর্থাৎ পোস্টকার্ডের থেকে বেশি লেখা গেলেও অপর্যাপ্ত জায়গা নেই। আবার ভাঁজ করে আঠা লাগিয়ে দেবার ফলে বেশ গোপনীয়তা রইল। তা যে চিঠিতে গোপনীয়তা নেই, তা আবার চিঠি নাকি? যেই লিখুক আর যাই লেখা থাকুক, চিঠি মানেই গোপন, ব্যক্তিগত, নিজস্ব।

আমার প্রথম চিঠি লেখার শুরু আত্মীয়স্বজনকে চিঠি লেখা দিয়ে। খুব ছোটবেলা থেকেই দাদু-দিদা, বড়মামা আর মামী, আমার সমবয়সী মাসতুতো বোনের সঙ্গে চিঠির আদানপ্রদান চলত। আমিও খুব আগ্রহ নিয়ে লিখতাম আর উত্তরের অপেক্ষায় বসে থাকতাম। ছোটবেলার সঙ্গীদের মধ্যে আমার এক জেঠতুতো দাদা যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে জলপাইগুড়ি গেল, আর কিছুদিন পর পাশের বাড়িতে থাকা পিসতুতো দিদি বিয়ে হয়ে ভুবনেশ্বর চলে গেল, তখন আমিও একটু বড়। ওদের সঙ্গে সারাবছর ধারাবাহিক ভাবে চিঠির আদানপ্রদান চলত। এখানকার কথা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ওদের জানানো আর ওদের ওখানকার কথা শুনবার ছিল অপরিসীম অপেক্ষা। মনে আছে, একবার টিভিতে একটা পুরষ্কারপ্রাপ্ত ছবি "গরম ভাত" এক রবিবার টেলিকাস্ট হয়েছিল। দাদা তখন হস্টেলে। সেই ছবি হস্টেলের কমন রুমের টিভিতে দেখে চিঠিতে আমাকে লিখেছিল, "ঘি আর লবনের অভাবে গরম ভাত নিতান্তই পানসে লাগল"। সেই সব দিনগুলোতে ওইসব চিঠিও প্রায় শিল্পের পর্যায়েই উঠেছিল। কারণ আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতাম চিঠিটাকে সুন্দর করতে। আমাদের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সাহিত্য নিদর্শনটা চিঠিতে তুলে ধরতে। 

আজকাল ইন্টারনেটের জাদুতে একজনের কথা নিমেষের মধ্যে আর একজনের কাছে পৌঁছে যায়। ইমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার তার ওপর ফেসবুক, বিভিন্নরকমের ভিডিও কল সবকিছু মিলিয়ে যেন পৃথিবীটাকে খুব কাছাকাছি এনে ফেলেছে। খবর আদানপ্রদান এখন আর কোন সমস্যা নয়। কিন্তু এইসবকিছুর মধ্যে কখন যেন হারিয়ে গেছে 'অপেক্ষা করা'। আজকের পৃথিবীতে কেউ কারোর জন্য আর অপেক্ষায় থাকে না। কেউ কাউকে চিঠিতে লেখে না, "তোমার আসার অপেক্ষায় রইলাম"। টেলিফোনে অধীর হয়ে কেউ জিজ্ঞেস করে না, "তোরা কবে আসবি রে?" হয়তো যা হয়েছে, সবকিছু ভালোই হয়েছে। ডি এন এ টেস্ট আবিষ্কার হওয়ার ফলে একশো বছর আগেকার জ্যাক দ্য রিপারের রহস্যভেদ হয়েছে। দ্রুতগামী মহাকাশযান আবিষ্কার হওয়ার ফলে মানুষ মঙ্গলে পাড়ি জমিয়েছে আর মাত্র ৪৬ বছরে ভয়েজার ১ পার করে ফেলেছে পৃথিবী থেকে ২৩.৮ বিলিয়ন কিলোমিটার পথ। আমরাও এই একটা জীবনে একসঙ্গে অনেকটা জীবন যাপন করে নিলাম। দিন বদলের সাথে সাথে অনেক কিছু বদলাতে দেখলাম। আমরাও তো বদলেছি অনেকটাই। হ্যারিকেন থেকে ইলেকট্রিক আলো, রিকসা থেকে এরোপ্লেন, তেলাকুচা থেকে জ্যাকারান্ডা আর ইনল্যান্ডলেটার থেকে ইন্টারনেট! প্রত্যেক বছর ১৮ই এপ্রিল বিশ্ব ঐতিহ্য দিবস হিসেবে পালিত হয়। ঐতিহ্য বলতে আমরা বুঝি আমাদের পুরোনোদিনের বনেদি আর মূল্যবান জিনিস অথবা পরম্পরা। আমাদের ফেলে আসা দিনগুলিও তো সেই অর্থে ঐতিহ্য যা আমরা চেষ্টা করলেও সোনার খাঁচায় ধরে রাখতে পারব না। যা মুছে গেছে, যা বিলুপ্তপ্রায়, যা কিছু স্মৃতিতেও আজ প্রায় আবছা, তারই কয়েকমুঠো ধরে রাখতে চাইলাম আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। 

Who lives who dies who tells your story.......


--------------------------------

সোমা চক্রবর্তী
Kalikapur, Taki Toad 
PO. Barasat, Dist: 24 Pgs (N), WB.
Pin: 700124.

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,