Skip to main content

গল্প ।। লোভ ।। অঞ্জন রায় চৌধুরী

লোভ

অঞ্জন 

 

মোহিত বাবুদের বাড়িটা ছিলো শহর থেকে মিনিট চল্লিশ দূরে একটা বর্ধিষ্ণু গ্রাম্য এলাকায়। পাকা দোতলা বাড়ি, বছর কুড়ি পুরোনো। ইদানিং ওই বাড়িটাতে মোহিত বাবুর বাবা মা ছাড়া আর কেউ থাকেন না। মোহিত বাবু, বাবা মা এর একমাত্র সন্তান। লেখা পড়ায় ভালো হওয়ায় মাস্টার্স পাস করে বেকার বসে থাকতে তাঁর মোটেই ভালো লাগছিলো না। যদিও মোহিত বাবুর বাবা ছেলেকে একটা দোকান করে দিতে পারতেন তাঁদের বসত বাড়ির নীচে, কিন্তু মোহিত বাবু বললেন,"একটা শিক্ষিত ছেলে হয়ে চাকরি না করে দোকান করবো?"  এই সব কথা শুনে ছেলেকে আর দোকান করতে না বলে চাকরির চেষ্টা করতে বললেন। মোহিত বাবু ও বছর দুয়েকের মধ্যে একটা আধা সরকারি চাকরি জুটিয়ে ফেললেন, তবে বাড়ি থেকে বেশ কিছুটা দূরের এক জেলায়। রান্না বান্না করার অভ্যাস না থাকায়, মেসে থাকলেও দুপুর আর রাতের খাবার জুটতো স্থানীয় হোটেলে। কিন্তু একদিনের জন্য ছুটি পেলেও বাড়ি চলে আসতেন তিনি। বাড়ি টাকে বড্ড বেশী ভালোবাসতেন মোহিত বাবু। যেহেতু মাইনে খুব একটা বেশী ছিল না তাঁর, যা মাইনে পেতেন তার প্রায় সবটাই খরচ হয়ে যেত হোটেলে খাওয়া আর প্রতি সপ্তাহে বাড়ি যাতায়াতের জন্য। তবু একবেলা একসন্ধ্যে বাড়ি যেতে পারবেন, তাই বেশী মাইনের বাইরের রাজ্যের চাকরী ছেড়ে ওই চাকরিতেই থেকে গেলেন তিনি। 

 এইভাবে বছর তিনেক চলার পর হোটেলের তেল মশলা দেওয়া খাবার দীর্ঘ দিন খাওয়াতে পেটে আলসার জাতীয় কিছু হলো মোহিত বাবুর। পরিস্থিতির কারণে যথেষ্ট আয় না থাকা সত্ত্বেও মোহিত বাবুকে বিয়ে করে নিতে হলো বাড়ির চাপে । বিয়ে করে প্রথমে একটা বাসা ভাড়া নিয়ে স্ত্রী কে নিয়ে থাকলেও "যে পয়সা উনি ভাড়া গুনছিলেন সেই পয়সা দিয়ে তাঁর নিজস্ব একটা ফ্ল্যাট হয়ে যেতো", এই চিন্তা কেউ বা কারা তাঁর মাথায় ঢোকানোয় শেষ মেষ দু কামরার একটা ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করলেন তিনি। যেহেতু তিনি কোনোদিন ভাড়া বাড়িতে থাকেন নি, তাই মনে মনে তিনি ভাবতেন বাবার মতো তাঁর ও নিজের একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই হোক, যাতে তিনি তাঁর ছেলে পুলেদেরকেও নিজের একটা বাড়ি দিয়ে যেতে পারেন। 

একে আয় পর্যাপ্ত নয়, তার উপর ফ্ল্যাট কেনার ঠিক আগের বছরই বাবা হয়েছিলেন মোহিত বাবু। তবুও একটা ফ্ল্যাট কেনার লোভ তিনি সামলাতে পারলেন না, বছর দুয়েকের মধ্যে কিনে ফেললেন তিনি। 

কিন্তু বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফ্ল্যাটের ই.এম.আই তার উপর সংসারের খরচ চালাতে ওই রোজগারে প্রায় হিমশিম খাওয়ার মত অবস্থা মোহিত বাবুর। শেষে অবস্থা এমন হলো যে অফিসের সহকর্মীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা ধার করতে আরম্ভ করলেন মোহিত বাবু। কিন্তু সবাই তো আর লোকের ভালো চায় না। সহকর্মী দের একটা অংশ ,সেই সব সহকর্মী, যাঁরা মোহিত বাবুকে টাকা ধার দিচ্ছিলেন, তাঁদের কে বোঝাতে লাগলেন মোহিত বাবুর আর্থিক অবস্থা তো ভালো নয়, উনি যে টাকা ধার করছেন ফেরত দিতে পারবেন তো? কিছু সহকর্মী আবার মোহিত বাবু সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করলেন যে মোহিত বাবু এর ওর থেকে টাকা ধার করে বেড়াচ্ছেন এবং তাঁর জ্বালায় অফিসে আসা দায় হয়ে যাচ্ছে। 

সেই সুহৃদ সহকর্মীর দল যাঁদের উপর দুর্দিনে ভরসা করছিলেন মোহিত বাবু, তাঁরা যখনই এই সব সন্দেহ জনক কথা বার্তা শুনলেন অন্য সহকর্মীদের কাছ থেকে, তখনই কাল বিলম্ব না করে মোহিত বাবুর কাছ থেকে টাকা ফেরত চাইলেন। 

একে নিজের সঞ্চয় বলে কিছুই নেই, তার উপর যা কিছু ছিল সবই খরচ করে ফেলেছিলেন তিনি। থাকার মধ্যে ছিল বাবার বাড়ি টুকু। উনি সব কথা বাবা মা কে জানাতে ওনারা কিন্তু কিন্তু করেও ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে অবশেষে রাজি হলেন নিজেদের বাড়ি বিক্রি করে ছেলের ফ্ল্যাটে গিয়ে থাকতে। প্রথমে যে দাম রাখা হয়েছিলো, সেই দামে কেনার খদ্দের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলনা। ওদিকে মোহিত বাবুকে তাঁর সহকর্মীরা একরকম হুমকি দিতে লাগলেন টাকা ফেরত করার জন্য। এর মধ্যে একবার অফিসের মধ্যে তাঁর কলার চেপে ধরে অপমান করা হলো এবং সময় বেঁধে দেওয়া হলো যে তার মধ্যে ফেরত না দিলে এবার থানা পুলিশ হবে। বাধ্য হয়ে দাম কমিয়ে খদ্দের খুঁজতে আরম্ভ করলেন মোহিত বাবুরা। 

খুঁজতে খুঁজতে পরিচয় হলো রমেন বাবুর সঙ্গে। রমেন বাবু, মোহিত বাবুদের দেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নতুন চাকরি পেয়েছেন। ওনার বাড়ি মোহিত বাবুর দেশ বাড়ির পাশের জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে। উনি অবিবাহিত এবং বাবা মা ছাড়া ওনার আর কেউ নেই। নতুন চাকরি হওয়ার সুবাদে ওনার বেতন ও খুব একটা বেশি ছিল না, কিন্তু বাবা মা কে ওই গ্রামে রেখে উনি একা থাকতে পারছিলেন না। তাই উনি একটা কম দামের মধ্যে বাড়ি খুঁজছিলেন। মোহিত বাবুর বাড়ির তুলনায় বাড়ির দাম বেশ খানিকটা কম হওয়ায় রমেন বাবু বাড়িটা কিনতে আগ্রহী হলেন। কিন্তু পাকা কথা বলার আগে উনি একবার বাবা মা এর মতামত নিতে চাইলেন। রমেন বাবুর বাবা মা পুরনো পন্থী গ্রামের লোক। ওনারা এই ব্যাপার টা শুনে ওনাদের গুরুদেবের সাথে আলোচনার কথা বললেন। ওনাদের গুরুদেবের বাড়ি ওই গ্রামেই। সত্তরের উপর বয়েস, রোগা পাতলা, বেঁটে খাটো মানুষ। রমেন বাবুর বাবা মা এর মুখে সব কথা শুনে উনি রমেন বাবুর জন্ম বৃত্তান্ত জানতে চাইলেন। তারপর রমেন বাবুর কোষ্ঠী বিচার করে উনি বললেন," এই কোষ্ঠী যা বলছে, তাতে এই মুহূর্তে কোনো শুভ কাজ না করায় ভালো। হিতে বিপরীতও হতে পারে।" রমেন বাবু বাবা মা এর মুখে এই কথা শুনে একরকম হেসেই উড়িয়ে দিলেন। বললেন," আজ কালকের দিনে কেউ এসব মানে না। আর তাছাড়া এসব কোষ্ঠী বিচার করে কিছু হয় না, যা ঘটার তা এমনিই ঘটবে।" তাছাড়া এই মূল্যে অমন দোতলা বাড়ি কেনার লোভ সামলাতে পারলেন না রমেন বাবু। বাবা মার গুরুদেবের কথা একরকম অগ্রাহ্য করেই ব্যাংকের সাথে কথা বলে লোনের ব্যবস্থা করলেন রমেন বাবু। দেশের বাড়িটা বিক্রি করতে বাবা মা কে একরকম বাধ্য করে ব্যাংক লোন আর বাড়ি বিক্রির টাকা দিয়ে কিনে ফেললেন মোহিত বাবুর দেশ বাড়ি।

এরপর একদিন শুভ দিনক্ষণ দেখে রেজিস্ট্রি করে, পুজো দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলেন রমেন বাবুরা।

বুকে একরাশ স্মৃতি আর চোখে একরাশ অনিশ্চয়তা নিয়ে চোখের জলে ঘর ছাড়লেন মোহিত বাবুর বাবা মা।

বাড়ি বিক্রির টাকায় সহকর্মীদের কাছ থেকে ধার করা টাকা শোধ করলেও যেহেতু ফ্ল্যাটের ই.এম.আই দেওয়ার পর মোহিত বাবুর মাসিক আয়ের সামান্য অংশই পড়ে থাকতো সংসারে দেওয়ার জন্য, তারপর বেতন বৃদ্ধি ও বন্ধ হয়ে ছিলো অনির্দিষ্ট কালের জন্য। ফলে লোক সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আবার নতুন করে সমস্যায় পড়লেন তিনি। বাড়ি বিক্রির টাকা প্রায় পুরোটাই ব্যয় হয়ে গেছিলো ঋণ পরিশোধ করতে, আর মোহিত বাবুর বাবার সামান্য পেনশন ছাড়া মোহিত বাবুর আর কোনো আয়ের সংস্থান ছিলো না, ফলে সংসারে লোকসংখ্যার অনুপাতে টাকা পয়সার পরিমাণ অপর্যাপ্ত হওয়ায় সংসারে দেখা দিল তীব্র অভাব। অভাবের সঙ্গে সঙ্গে সংসারে অশান্তি ও বাড়তে থাকলো, ন্যুনতম প্রয়োজন মেটানোর সংস্থান না থাকলে যা হয় আর কী।

মোহিত বাবুর বাবা নিজের দেশেই একটা ঘর ভাড়া নিয়ে রেখেছিলেন যাতে মাঝে মাঝে তাঁদের মন খারাপ হলে বুড়ো, বুড়ি নিজেদের দেশে যেতে পারেন। যখন এই অর্থাভাব আর অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছালো, তখন মোহিত বাবু একদিন রাগের মাথায় তাঁর বাবা মা কে বললেন," এই ভাবে চলতে থাকলে তো আর একসাথে থাকায় যায় না। তোমাদের অসুবিধা হলে তোমরা আসতে পারো।" মোহিত বাবুর বাবা মা এর মাথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। যে সন্তানের জন্য তাঁরা সর্বশ্রান্ত হলেন, শেষে সেই সন্তানের মুখে এহেন কথা শুনে মোহিত বাবুর বাবা হতবম্ব হয়ে গেলেন। সেই রাতেই তাঁরা ঠিক করলেন যে আর ছেলের ফ্ল্যাটে থাকবেন না। পরের দিন ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই মোহিত বাবুর বাবা মা বেরিয়ে গেলেন তাঁর ফ্ল্যাট ছেড়ে। তারপর শেষে পৌঁছলেন সেই ভাড়া বাড়িতে। সেখানে কয়েকদিন যাহোক করে কাটলো তাঁদের। একে নিজের বাড়ি বিক্রির ক্ষত, তারউপর ছেলের দুর্ব্যবহারে মাথার শেষ ছাদ টুকুও চলে যাওয়া, এই দুইয়ের ধাক্কা সামলাতে পারলেন না তাঁরা। একদিন ঠিক করলেন তাঁরা আত্মহত্যা করবেন। 

সেদিন সকাল থেকে খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো। যে ঘরে ভাড়া থাকতেন তাঁরা সেটা দোতলায়, ওনাদের বসতবাড়ি থেকে খানিকটা দূরে বাজারের মধ্যে। সকাল থেকে বৃষ্টি পড়ায় বাজার চত্বর টা ছিল সেদিন ফাঁকা ফাঁকা। দুপুরে শেষ বারের মত খাওয়া দাওয়া করে, পাশের দোকান থেকে কিনে আনা কীট নাশক খেয়ে নিলেন দুজনে। তারপর থেকে রাত অবধি বিষের জ্বালায় ছটফট করতে করতে শেষে দুজনেই একসময় ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে, কেউ জানতেও পারলো না। তিন চারদিন পর তীব্র পচা গন্ধে চারদিক ভরে যাওয়ায় ওই এলাকার স্থানীয় লোক জন আর ব্যবসাদারেরা ঘরের দরজা ভেঙ্গে বের করলো মোহিত বাবুর বাবা মা এর পচা গলা মৃতদেহ। মোহিত বাবুকে খবর পাঠানো হলেও উনি এলেন না, কারণ ওই মুখ নিয়ে বাবা মার মৃতদেহের সামনে দাঁড়ানোর মতো নির্লজ্জ সম্ভবত তিনি হতে পারেন নি। যাই হোক, তাঁদের দেহ উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলো। পোস্টমর্টেম করে শেষ কৃত্য সম্পূর্ন হলো ছেলের অনুপস্থিতিতেই।

মোহিত বাবুর দেশ বাড়ির সামনের দিকে বেশ কিছুটা  ফাঁকা জায়গা ছিল, তারপর পাঁচিল দেওয়া। রমেন বাবুর বাবা গ্রাম্য মানুষ। বাড়ির সামনে ফাঁকা জায়গা পেয়ে উনি গোটা বিশেক মুরগী নিয়ে একটা মুরগীর খামার বানালেন।নিজেই পরিচর্যা করতেন খামার টা।

মোহিত বাবুর বাবা মা গত হওয়ার সপ্তাহ খানেক পরের ঘটনা। একদিন রাত্রি বেলায় মুরগি গুলো হঠাৎ করে চিৎকার করতে শুরু করলো সঙ্গে ডানা ঝাপটানোর শব্দ। রমেন বাবুর বাবা ভাবলেন হয়তো খটাশ বা শিয়াল ঢুকেছে খামারে। একটা লাঠি হাতে নিয়ে তিনি দরজা খুলে বাইরে বেরোলেন। বাইরে বেরিয়ে যা দেখলেন তাতে তাঁর আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড়। বাইরের চাঁদের আলোয় তিনি স্পষ্ট দেখতে পেলেন দুটো লম্বা লম্বা মূর্তি, একটা পুরুষ আর একটা মহিলা। উনি মুরগীর খামারের দিকে এগিয়ে যেতেই দেখতে পেলেন দুটো মুরগী ঘাড় মটকে পরে রয়েছে খামারের সামনে, আর পুরো চত্বর টা তাদের রক্তে ভেসে যাচ্ছে। ওনাকে দেখেই সেই ছায়া মূর্তি দুটো হুস করে কোথায় উড়ে গেলো। এই রক্তারক্তি দৃশ্য দেখে আচমকা শরীর খারাপ করতে লাগলো রমেন বাবুর বাবার। একটা আর্তনাদ করে দুম করে পড়ে গেলেন বুকে হাত দিয়ে। তাঁর চিৎকার শুনে দৌড়ে বেরিয়ে এলেন রমেন বাবু ও তাঁর মা। তাঁরা কিন্তু কাউকে দেখতে পেলেন না। রমেন বাবুর বাবা মুখ দিয়ে তখন ঘর ঘর শব্দ করছেন। তাঁকে যাহোক করে ঘরে নিয়ে গেলেন রমেন বাবুরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। কিছুক্ষণ পরই মারা গেলেন রমেন বাবুর বাবা। ওনার মৃত্যুর পর ওনার মা ও কেমন যেনো হয়ে গেলেন। রমেন বাবু চাকরী সূত্রে সারাদিন বাড়ির বাইরে থাকতেন। ফলে ওই অত বড় বাড়িতে ওনার মা সম্পূর্ন একা থাকতেন। দুপুর বেলায় প্রায় তিনি শুনতে পেতেন পুরুষ ও মহিলার কণ্ঠ স্বর, হাঁসাহাসি করার শব্দ, কখনও খিল খিল করে হাসছে আবার কখনো গুমরে গুমরে কাঁদছে। রাতে একাই শুতেন রমেন বাবুর মা। রাতে স্পষ্ট দেখতেন এক জোড়া ছায়া মূর্তি সারা ঘর জুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। রমেন বাবু কে তিনি প্রায় বলতেন, " চল বাবু, এখান থেকে চলে যাই",কিন্তু রমেন বাবু ভাবতেন, বাবা চলে যাওয়ায় মা মানসিক রোগী হয়ে গেছেন, তাই পাত্তা দিতেন না ওনার কথায়।

মাস খানেক পরের এক দুপুর বেলার ঘটনা। স্নান সেরে উঠে ছাদে কাপড় জামা মেলতে উঠেছিলেন রমেন বাবুর মা। কাপড় মেলতে মেলতে ছাদের আলসের কাছে চলে এসেছিলেন তিনি। হঠাৎ শুনতে পড়লেন পেছনে কেউ যেনো খিল খিল করে হাসছে। পেছন ফিরে দেখতে যাবেন এমন সময় কেউ যেনো দৌড়ে এসে দিলো তাকে এক ধাক্কা। দোতলার ছাদ থেকে নীচে পড়ে গেলেন তিনি। আর উঠলেন না। রমেন বাবু যখন খবর পেলেন, ততক্ষনে সব শেষ।

মা এর মৃত্যুর পর কেমন যেন মুহ্যমান হয়ে পড়লেন রমেন বাবু। দুই রকমের চিন্তা তাঁকে একরকম ব্যতিব্যস্ত করে তুললো। একদিকে তিনি ভাবতে লাগলেন যে তিনি বিজ্ঞানের ছাত্র, তার উপর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মী। রোগী আর মৃতদেহ দুটোই তাঁকে রোজই ঘাঁটতে হয়। ভূত বা আত্মা বলে যে কিছু থাকতে পারে তা তিনি কোনোদিনই বিশ্বাস করতেন না, কিন্তু অন্যদিকে বাড়িটা কেনার পর তাঁর বাবা মায়ের অপমৃত্যু তাঁকে ভাবতে বাধ্য করাচ্ছে যে এই বাড়িতে নিশ্চয় এমন কিছু ঘটছে যা স্বাভাবিক নয়, অতিপ্রাকৃতিক। কিন্তু এই রকম  বাড়ি এই টাকায় তো রোজ রোজ পাওয়া যাবে না, তাছাড়া একবার যে শুনবে এই বাড়িতে কী কী ঘটেছে, সে কি আর বাড়িটা কিনতে চাইবে?

এইসব সাত পাঁচ চিন্তা রোজ করতে করতে মানসিক ভাবে তিনিও কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে গেলেন, বুঝে উঠতে পারছিলেন না এখন তাঁর কী করণীয়। এমন সময় একদিন হঠাৎ তাঁর মনে হলো বাবা মায়ের গুরুদেবের কথা। সেই সপ্তাহের রোববারই তিনি চললেন তাঁর নিজের গ্রামে,গুরুদেবের সাথে দেখা করতে।

সব শুনে গুরুদেব বললেন," এবার বুঝলে তো, কেন আমি বারণ করে ছিলাম তোমার মা বাবা কে?" রমেন বাবু অপরাধীর মতো মাথা নিচু করে বসে রইলেন। গুরুদেব বলে চললেন," দেখো, ওই বাড়িটা যাদের, তাঁরা তাঁদের অধিকার ছাড়তে চাইছেন না। এখন উপায় দুটো। প্রথম উপায় হলো, ওই বাড়ি বিক্রি করে দেওয়া, কিন্তু তোমার কোষ্ঠী অনুযায়ী এখন বিক্রী করলে তুমি ডাহা লোকসান করবে। আর দ্বিতীয় উপায় হলো," গুরুদেব থামলেন। রমেন বাবু তাঁর মুখের দিকে অসহায় ভাবে তাকিয়ে আছেন, যেমন মুমূর্ষ রোগী ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে থাকে। গুরুদেব বললেন," দ্বিতীয় উপায় হলো, ওই ভিটেতে যে দোষ আছে সেটা যজ্ঞ করে কাটাতে হবে।" রমেন বাবু এইসব বিশ্বাস না করলেও এখন আর বিশ্বাস না করে উপায় ছিল না। তিনি গুরুদেব কে জিজ্ঞাসা করলেন," তা হলে আমাকে এখন কি করতে হবে?" গুরুদেব বললেন," দেখো, আমি এইসব কাজ করি না, তবে এইসব কাজ যিনি করেন তাঁর ঠিকানা তোমাকে দিতে পারি। তুমি তাঁর সাথে যোগাযোগ করে নিও। ভদ্রলোকের নাম শম্ভু তান্ত্রিক। বাড়ি পাশের গ্রামে। তুমি সেখানে যাও, গিয়ে আমার নাম করবে। দেখো উনি কতদূর কী করতে পারেন।" অগত্যা রমেন বাবু গিয়ে পৌঁছলেন শম্ভু তান্ত্রিকের বাড়িতে। শম্ভু তান্ত্রিক তখন পুজোয় বসেছিলেন। বয়েস বছর পঞ্চাশেক। বেঁটে খাটো, ভুঁড়িদার, গোলগাল লোক। মুখে ঘনো গোঁফ দাড়ি। রমেন বাবু কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পর বাইরে এলো শম্ভু তান্ত্রিক। রমেন বাবু ওনাকে সব কথা খুলে বলতে উনি বললেন," আসলে ওই বাড়ির আসল মালিক বাড়ির অধিকার ছাড়তে চাইছেন না। তোমার কোনো দোষ নেই, কিন্তু তোমার বাবা মা কে হারাবার জন্য ওনারাই দায়ী। যাই হোক, তুমি কি ভাবছো? বাড়িটা বিক্রী করে দেবে?" রমেন বাবু বললেন," আসলে এই মুহূর্তে আমার সেই ক্ষমতা নেই যে আর একটা বাড়ি কিনতে পারবো। তাছাড়া আমার ব্যাংক লোনও এখনও শোধ হয় নি। লোন শোধ না করে বাড়ি বিক্রি তো করতে পারবো না, সুতরাং ওই বাড়িতেই আমাকে থাকতে হবে।" শম্ভু তান্ত্রিক বললেন," হুঁ, তাহলে ওই বাড়ির দোষ কাটাতে একটা যজ্ঞ করতে হবে। তুমি একটু অপেক্ষা করো, আমি তোমাকে একটা ফর্দ করে দিচ্ছি, সেই অনুযায়ী জিনিস পত্র গুলো এনে রেখো। আর একটা কথা আজ কৃষ্ণ পক্ষের সপ্তমী, আগামী অমাবস্যায় যজ্ঞ করবো আমি। ততদিন ওই বাড়িতে রাতে থেকো না। কয়েকদিনের জন্য একটা অন্য বাসার ব্যবস্থা করো। আমি আগেরদিন পৌঁছে যাবো তোমার কাছে।"

সেই কথা অনুযায়ী রমেন বাবু সপ্তাহ খানেকের জন্য একটা অন্য বাসা ভাড়া করলেন যেটা বাঁশ বাগানের ভেতর একটা ছোট্ট টিনের চালার ঘর। নির্দিষ্ট দিনে শম্ভু তান্ত্রিক দুই শিষ্য কে নিয়ে পৌঁছে গেলেন রমেন বাবুর বাসায়। যখন তাঁরা পৌঁছলেন তখন বিকেল তিনটে। রমেন বাবু একবার অফিস থেকে এসে ওনাদের ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে বললেন," আপনারা একটু গুছিয়ে বসুন, আমি বাকি ডিউটি টা সেরে আসছি।" 

শম্ভু তান্ত্রিক বললেন," সেই ভালো, আমরা একটু বিশ্রাম করে নি। তারপর সন্ধ্যা নাগাদ একবার ওই বাড়িতে যাবো, কিছু প্রাথমিক ক্রিয়া করতে হবে।"

সন্ধ্যা বেলায় দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজে শম্ভু তান্ত্রিক ভাবলেন হয়ত রমেন বাবু ফিরে এসেছেন। দরজা খুলে দেখলেন, হাত খানেক দূরে বাঁশ ঝারের গা ঘেঁষে একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। অন্ধকারে তার মুখ ঠিক করে বোঝা যাচ্ছে না। শম্ভু তান্ত্রিক জিজ্ঞাসা করলেন," কে আপনি?" সে কথার জবাব না দিয়ে লোকটা বললো," আপনি শম্ভু তান্ত্রিক তো? রমেন বাবুর বাড়িতে কাজ করার জন্য এসেছেন। তবে আজ রাতে আর ওই দিকে না যাওয়ায় ভালো।" শম্ভু তান্ত্রিক খানিকটা উত্তেজিত হয়ে বললেন," কোন টা ভালো, আর কোনটা মন্দ সেটা আমি বুঝবো। তাছাড়া আপনি কে আমাকে বারণ করার?" লোকটা খ্যাঁক খ্যাঁক করে হেসে বললো," আমি আর কে আপনাকে বারণ করার। বেশ, আপনার যেটা ইচ্ছে আপনি করুন। আমি শুধু সাবধান করতে এসেছিলাম। এখন চলি।" বলে লোকটা আস্তে আস্তে বাঁশ বাগানের ভেতর কোথায় যেনো মিলিয়ে গেলো। একটু পরেই রমেন বাবু এসে পৌঁছলেন। শম্ভু তান্ত্রিক তাঁকে এই ঘটনার কথা কিছুই বললেন না। চা খেয়ে শম্ভু তান্ত্রিক আর তাঁর দুই শিষ্য রমেন বাবুকে সঙ্গে করে নিয়ে চললেন তাঁর নতুন বাড়ির উদ্দেশ্যে। বাসা থেকে বেরিয়ে মেন রোড টপকে আম বাগানের ভেতর রমেন বাবুর নতুন বাড়ি। আম বাগানের মধ্যে যেই না তাঁরা প্রবেশ করেছেন, হঠাৎ এক শিষ্য প্রায় চিৎকার করে উঠলো," গুরুদেব সাবধান। সামনে কারা যেনো রয়েছে।" রমেন বাবু সে দিকে টর্চের আলো ফেলতেই দেখলেন দুটো কালো কুচ কুচে বেড়াল। তাদের দুই জোড়া চোখ যেনো ভাঁটার মত জ্বলছে। লোক জন দেখেই দৌড়ে তারা পালিয়ে গেলো আম বাগানের ভেতরে। বাড়ির সামনে পৌঁছে গেট খুলতেই শম্ভু তান্ত্রিকের নাকে এলো একটা পচা গন্ধ। কাউকে কিছু না বলে শম্ভু তান্ত্রিক বাড়ির চৌহদ্দিতে ঘুরতে লাগলেন। হঠাৎ তাঁর শিষ্যদের এবং রমেন বাবুর চ্যাচামিচির আওয়াজ শুনে শম্ভু তান্ত্রিক সেদিকে তাকাতেই দেখতে পেলেন অন্ধকারে তাঁদের উপর ইট বৃষ্টি হচ্ছে। এই বড় বড় ইট, একটা মাথায় লাগলে আর বেঁচে থাকতে হবে না। গেট বন্ধ করে যাহোক করে তালা লাগিয়ে তাঁরা সকলে ছুটে মেন রোডে চলে এলেন। রমেন বাবু শম্ভু তান্ত্রিক কে জিজ্ঞাসা করলেন," কিছু বুঝলেন মশাই?" শম্ভু তান্ত্রিক কিছু বললেন না, চুপ করে হন হন করে হাঁটতে লাগলেন।

সারা রাত ঘুম হলো না শম্ভু তান্ত্রিকের, চিন্তা করতে লাগলেন সন্ধ্যেবেলায় ঘটা ঘটনাটির কথা। পরের দিন দুপুর থেকেই ওনারা চলে গেলেন রমেন বাবুর বাড়িতে। সেখানে পুজোর স্থান নির্বাচন করে, পুজোর সামগ্রী গুছিয়ে যখন পুজোয় বসলেন শম্ভু তান্ত্রিক, তখন রাত সাত টা। চত্বরে কেউ কোথাও নেই, শুধু চার জন ছাড়া। আসন শুদ্ধি করে পুজোয় বসে নিজের, দুই শিষ্যের এবং রমেন বাবুর গাত্র বন্ধন করে দিলেন তিনি। তারপর রমেন বাবু কে বললেন," কিছু অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটতে পারে, আপনি যেনো কোনো মতেই আসন ছেড়ে উঠবেন না।" এইবলে তিনি পুজো শুরু করলেন। প্রাথমিক পর্যায়ের পুজো শেষ করে উনি ঝোলা থেকে বের করলেন একটা নর কপাল। তারপর সেটা সামনে রেখে তার মধ্যে কারণ বারি ঢেলে কাল ভৈরব মন্ত্র উচ্চারণ সবে শুরু করেছেন তিনি, অমনি পাশের বাগান থেকে এক পাল শেয়াল বিকট শব্দে চিৎকার করতে লাগলো। আসে পাশের পরিবেশের নিস্তব্ধতা খান খান হয়ে গেলো তাদের সেই ডাকে। রমেন বাবু ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন শম্ভু তান্ত্রিকের দিকে কিন্তু তিনি নির্বিকার, কারণ উনি জানতেন যে এমন ঘটনা ঘটা টা অস্বাভাবিক নয়। এরপর আরো কিছুক্ষন পুজো এগোলো ঘণ্টা খানেক ধরে। এবার পুজো শেষ করে যজ্ঞ শুরু করার পালা। শম্ভু তান্ত্রিক তাঁর এক শিষ্য কে বললেন ধুনুচি তে  ছোবরা দিয়ে ধুনো জ্বালাতে। শিষ্য টি ধুনো জ্বালাতেই একরকম চিৎকার করে উঠলো সে ," গুরুদেব।" সবাই অবাক হয়ে দেখলো ধুনোর সেই পবিত্র গন্ধের বদলে একটা তীব্র মরা পোড়ার গন্ধে সারা ঘর ভরে গেলো। শম্ভু তান্ত্রিক একটা ফুল কে মন্ত্রপূত করে ছুঁড়ে দিলেন ধুনুচির মধ্যে। সঙ্গে সঙ্গে সেই মরা পোড়ার গন্ধ উবে গিয়ে ধুনোর সেই পরিচিত পবিত্র গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো। যজ্ঞের আগুন জ্বালিয়ে আহুতি দেওয়া শুরু করতেই হঠাৎ কোথা থেকে দমকা হাওয়া বইতে শুরু করলো। হাওয়ার বেগে যজ্ঞের আগুন প্রায় নিভে যাওয়ার উপক্রম হলো। অনেক চেষ্টা করেও আর কিছুতেই ধরে রাখা যাচ্ছিল না সেই আগুন। ঘরের দরজা জানলা গুলো ধড়াম ধড়াম শব্দে খুলতে, বন্ধ হতে লাগলো, আর সেই হাওয়ার ভেতরে যেনো কাদের জান্তব অট্টহাসি আর গোঙানির শব্দ শোনা গেলো," এ বাড়ি আমাদের। এখানে আমরাই থাকবো, আর কেউ না।" শম্ভু তান্ত্রিক আর তাঁর দুই শিষ্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে লাগলেন যজ্ঞের ওই নিভে আসা আগুন কে আবার জ্বালিয়ে যজ্ঞ সম্পূর্ন করতে কিন্তু আচমকাই যজ্ঞের স্থানে শুরু হলো গত সন্ধ্যার মত ইট বৃষ্টি। শুধু ইট নয়, তার সাথে যুক্ত হলো মরার হাড় আর মাথার খুলি। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় শম্ভু তান্ত্রিক আর তাঁর দুই শিষ্য কোনো রকমে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে দৌড়ে গেলেন মেন রোডের দিকে। রমেন বাবু ও ছুটলেন তাঁদের পেছন পেছন। তাঁরা শুনতে পেলেন এক প্রবল অট্টহাসির শব্দ তাঁদের পেছনে যেনো তাড়া করে আসছে। মেন রোডে উঠে তাঁরা সকলে হাঁপাতে লাগলেন। তারপর শম্ভু তান্ত্রিক হন হন করে হেঁটে চললেন রমেন বাবুর বাসার দিকে। সেখানে পৌঁছে সেই রাতে সারাক্ষন গুম মেরে রইলেন শম্ভু তান্ত্রিক। হয়তো এই ব্যর্থতা মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি।

পরের দিন সকালবেলা শম্ভু তান্ত্রিক যাওয়ার সময় রমেন বাবুকে বলে গেলেন," রমেন বাবু, ওই বাড়িতে কেউই বাস করতে পারবে না। আপনি অন্য কোনো বাসস্থান ঠিক করে ওখান থেকে চলে যান, নয়তো আপনারও প্রাণ হানি হতে পারে।" রমেন বাবু তাঁকে তাঁর প্রাপ্য দিতে গেলে তিনি বললেন," আমি এটা নিতে পারবো না। সফল হলে অবশ্যই নিতাম, কিন্তু গত রাতে আমি ব্যার্থ হয়েছি আমার কাজে। কাজেই পারিশ্রমিকের প্রশ্নই ওঠে না।" এই বলে দুই শিষ্য কে নিয়ে চলে গেলেন শম্ভু তান্ত্রিক।

এর পরের ঘটনা খুবই সংক্ষিপ্ত। ওই বাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রইলো। রমেন বাবু ওই গ্রামেই অন্য একটা বাড়ী ভাড়া নিয়ে থাকতেন বটে, কিন্তু বাবা মা এর মৃত্যু এবং বাড়ী হারানোর যন্ত্রণায় তিনি মানসিক অবসাদ গ্রস্থ হয়ে পড়লেন। এক সকালে তাঁর প্রতিবেশীরা উদ্ধার করলো তাঁর মৃতদেহ। পুলিশ এসে ঘর থেকে উদ্ধার করলো একটা সুইসাইড নোট, তাতে লেখা রয়েছে," লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।"  


 ---------------------------------------

অঞ্জন রায় চৌধুরী, বহরমপুর , মুর্শিদাবাদ 

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,