Skip to main content

গল্প ।। গোপনে ।। আবরার নাঈম চৌধুরী




গোপনে

আবরার নাঈম চৌধুরী 


ঢাকায় নতুন এসেছে নওরিন। ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে এলিফেন্ট রোডে অবস্থিত বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের একটি ট্রেনিং কোর্সে ভর্তি হয়েছে। যেহেতু ৩ মাস ব্যাপী ট্রেনিং, থাকার তো একটা ব্যবস্থা করতেই হবে। তাই বাবার সাথে ঢাকায় আসা। 
জিগাতলা, ফার্মগেটে ভালো হোস্টেল না পাওয়ায় মিরপুরের একটি হোস্টেলের তৃতীয় তলার দক্ষিণের রুমটাতে উঠেছে সে। রুমে ঢুকতেই পরিচয় হয় স্নেহা আর সিন্থিয়ার সাথে। অল্প কয়েকদিনে তাদের সাথে বন্ধুত্ব হয়ে গেল নওরিনের। 
সপ্তাহের শেষ দিন। ৮ই জানুয়ারি ২০২১। সিন্থিয়া নওরিনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের টিএসসিতে ঘুরতে নিয়ে যায়। টিএসসি এসে নওরিনের একঘেয়ে ভাবটা দূর হয়ে গেল। টিএসসির মাঠে বসে ওরা চা খাচ্ছিল। হঠাৎ সিন্থিয়ার ডাক , "এই! আবরার!" 
দূরে পাঁচ ফুট ১০ ইঞ্চির এক যুবক পিছে ঘুরে সিন্থিয়ার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।                      
"এদিকে আয়।"
সিন্থিয়ার ডাকে ধীর পায়ে তাঁর সামনে এসে দাঁড়াল আবরার। 
সিন্থিয়া মুচকি হেসে জিজ্ঞেস করল, "কীরে কেমন আছিস? "
হুডির পকেটে দুই হাত রেখে আবরার বলল, "আরে তুই এখানে?"
সিন্থিয়া হাসিমুখে বলল, "পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি, আমার বান্ধবী নওরিন।" 
আবরার ও নওরিন একে অপরের দিকে তাকাল। 
"বস, এখানে।"
সিন্থিয়ার কথায় টিএসসির সবুজ ঘাসের উপর বসে পড়ল আবরার। 
সিন্থিয়া ওকে জিজ্ঞেস করল, "চা খাবি?" 
আবরার না সূচক মাথা নাড়ল।
সিন্থিয়া আবার বলতে শুরু করল, "জানিস নওরিন! ও আমার ছোট বেলার বন্ধু।"
নওরিন বলল, "ও, আচ্ছা।" 
"আমরা ক্লাস ওয়ান থেকে একসাথে।"
নওরিন আবার আবরারের দিকে তাকাল। আবরারের চোখে চোখ পড়তেই সে চোখ নামিয়ে ফেলল ।
কিছুক্ষণ সবাই চুপচাপ। নীরাবতার দেওয়াল ভেঙ্গে আবরার নওরিনকে বলল, "আপনি কী সিন্থিয়ার ছোটবেলার বান্ধবী?"
নওরিন হেসে বলল, "না, না। আমাদের বন্ধুত্ব কিছু দিনের।" 
"কিছু দিনের?" 
"হ্যাঁ।"
"বুঝলাম না বিষয়টা।"
"আসলে, কিছু দিন হলো আমি হোস্টেলে উঠেছি। ওখানেই ওর সাথে আমার বন্ধুত্ব। আমরা একই রুমে থাকি।"
"ও, আচ্ছা।" 
"আপনি কী করছেন?" 
নওরিনের প্রশ্নের উত্তরে আবরার কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল এর মধ্যেই সিন্থিয়া হাসিমুখে বলে উঠল, "ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে এখন সে শিক্ষিত বেকার।"
সিন্থিয়ার কথা শুনে আবরার ও নওরিন দু'জনই মুচকি হাসল। 
আবরার নওরিনকে জিজ্ঞেস করল, "আপনি কী করছেন? পড়াশুনা?"
"না, না। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছি এই বছর।"
"কোন সাবজেক্ট?"
"ট্রিপল ই।"
"বাহ, আমিও তো ট্রিপল ই থেকে পাশ করেছি।"
"এই বছর?"
"না, ২০১৯ এ।" 
অতঃপর নওরিন কিছু বলতে যাচ্ছিল এর মধ্যেই সিন্থিয়া আবরারকে উদ্দেশ্য করে নওরিনকে বলল, "জানিস ও অনেক ভালো গল্প লিখে।" 
নওরিন মুচকি হেসে আবরারের দিকে তাকাল। আবরার একটু লজ্জা পেয়ে বলল, "না, আসলে তেমন কিছু না, টুকটাক পত্রিকাতে লিখি।"
"আচ্ছা, নওরিন চল, নিউমার্কেট যেতে হবে, টুকটাক কেনাকাটা আছে।" বলেই সিন্থিয়া উঠে দাঁড়াল। 
নওরিনও উঠে দাঁড়াল, সাথে সাথে আবরারও। 
"আপনার সাথে পরিচিত হয়ে ভালো লাগল।" বলেই আবরার মুচকি হাসল। 
"আমারও, ভালো থাকবেন।" বলেই নওরিনও  হাসল।

৯ই জানুয়ারি ২০২১। কুমিল্লার রাণীর দীঘির পাড়। বিকেল ৪টা বেজে ১৫ মিনিট। কসবা হাউজ থেকে বের হলো আবরার। কুমিল্লা নিজ বাসায় এলেই বিকেল বেলা রাণীর দীঘির পাড়ে একটু হাঁটাহাঁটি করে সে। দীঘির পাড় ঘেঁষে হাঁটছে সে হঠাৎ এমন ভাবে চমকাল যেন ভূত দেখেছে। সামনেই দীঘির পাড়ে নওরিন বসা। কাছে গিয়ে  কথা বলব? ভাবে আবরার। অনেক কিছু ভাবতে ভাবতেই নওরিনের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলল, "আরে আপনি?" 
নওরিন চমকে গেল আবরারকে দেখে, বলল, "আপনি?"
আবরার বলল, "হ্যাঁ, আপনি এখানে?"
"না, এমনি আসলাম। আপনি এখানে কী করছেন?"
"আমার বাসা তো এখানেই।"
"কোথায়?"
"কসবা হাউজ।"
"এই বিল্ডিংটা। "
"হ্যাঁ।" 
"দারুণ তো!"
"কিভাবে দারুণ?"
"এই যে বাসা থেকে বের হলেই এত সুন্দর একটি জায়গা, মন খারাপ হলেই দীঘির পাড়ে এসে বসা যায়।"
"আপনার মন খারাপ?"
নওরিন বিস্মিত কণ্ঠে বলল, "আপনি কিভাবে বুঝলেন?"
আবরার মৃদু হেসে বলল, "এই যে বললেন মন খারাপ হলে বসা যায়, তাই ভাবলাম আপনারও হয়তো মন খারাপ।"
"ও, আচ্ছা। "
"বসতে পারি?"
"সরকারি জায়গা বসে পড়ুন।" বলেই নওরিন মুচকি হাসল। 
"দারুণ বলেছেন তো, সরকারি জায়গা।" 
আবরার নওরিন থেকে একটু দুরেই বসল। অতঃপর বলল, "বলুন, আপনার মন খারাপ কেন?"
"কিছু না, এমনেই।" 
"এমনি এমনি কারো মন খারাপ হয় নাকি?"
"হয়।"
"না হয় না।"
"হয়।"
"আরে বললাম তো হয় না।" 
নওরিন আবরারের দিকে চোখ বাকা করে বলল, "আপনি আমার কে হন যে আপনাকে বলব?"
"হইনি, হতে কতক্ষণ?"
"মানে?"
"না মানে, আপনি চাইলে হতে পারি।"
"আমি চাইলে? যদি না চাই?"
"তাহলে বলব আমি পৃথিবীর সব থেকে দুর্ভাগা পুরুষ।"
"কেন? কেন? দুর্ভাগা কেন?"
"আবরার নওরিনের চোখে চোখ রেখে বলল, "এত্ত সুন্দর একটা মানুষের আপন কেউ হতে পারা, সৌভাগ্য নয় কী?" 
নওরিন লজ্জায় লাল হয়ে গেল। মুচকি হেসে বলল, "আমি যে সুন্দর তা আপনাকে কে বলেছে?"
আবরারও মুচকি হেসে বলল,  "আবরার বলেছে।"
"তা আবরার বললেই কী বিশ্বাস করতে হবে?"
"আবরার নওরিনকে মিথ্যা বলবে না।" 
"তাই?"
"হুম, আমি মিথ্যা বলছিনা। আপনি অনেক সুন্দর।" 
কথাটি শুনে নওরিন আর কিছু বলল না। লজ্জায় চুপ করে থাকল।
নীরাবতা ভেঙ্গে আবরার জিজ্ঞেস করল, "হতে পারি আপনার আপন কেউ?"
নওরিন বলল, "ভেবে দেখব।" 
"ভেবে দেখার কী আছে?"
"আমি হুটহাট করে তো আর যাকে তাকে আপন করে নিতে পারি না।"
"আমি যাকে তাকে হয়ে গেলাম?"
"না, না, মানে আপনাকে আরো ভালোভাবে চিনি, জানি।এরপর না হয়..."
"ঠিক আছে।" 
কিছুক্ষণ কি যেন চিন্তা করে গলার স্বর নিচু করে আবার আবরার বলল, "আপনার মোবাইল নাম্বারটা পেতে পারি?"
"কেন? নাম্বার কেন?"
"না, মানে এই যে বললেন আরো ভালো করে চিনতে চান, জানতে চান, তাই বলছিলাম, নাম্বার পেলে মাঝে মধ্যে আপনার সাথে কথা হলো।"
"০১৭১..."
সূর্য অস্ত যাচ্ছে পশ্চিম দিগন্তে। পাখিরা নীড়ে ফিরছে। আবরার নওরিনকে দেখছে। অপরূপ সুন্দর তাঁর চোখ, ফুলের পাপড়ির মতো ঠোঁটে মিষ্টি হাসি, দুধে আলতা রং।
"এভাবে তাকিয়ে থাকা কিন্তু ঠিক না।"
আবরার মৃদু হেসে দৃষ্টি সরিয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে বলল, "কই? কিছু না।"
নওরিন মুচকি হেসে বলল, "এভাবে তাকিয়ে থাকলে প্রেমে পড়ে যাবেন।" 
"তাই?"
"হুম, আর প্রেম কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।" 
আবরার নওরিনের দিকে তাকিয়ে বলল, "আমি তো তা ই চাই।"
"মানে?" বলেই নওরিন হেসে ফেলল। 
"না কিছু না। চলেন উঠি। সন্ধ্যা হয়ে এলো।"
নওরিন আর আবরার উঠে দাঁড়াল। 
"আসি।" বলেই আবরার নওরিনের দিকে তাকিয়ে রইল। 
নওরিন বলল, "ভালো থাকবেন।" 
আবরার মুখে হাসি নিয়ে বলল, "আপনিও।" 
নওরিন একটা রিক্সা ভাড়া করে উঠে পড়ল। আবরার তখনো দাঁড়িয়ে। নওরিনের রিক্সা যতক্ষণ তার দৃষ্টির সীমারেখায় ছিল ততক্ষণ সে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। রিক্সা চোখের আড়াল হতেই সে বাড়ির পথ ধরল।

রাত বারোটা পনেরো মিনিট। আবরার তার প্রিয় লেখক ইমদাদুল হোক মিলনের একটা উপন্যাস পড়ছিল। হঠাৎ তার মুঠোফোনটা বেজে উঠল। উপন্যাসের পাতা থেকে চোখ সরিয়ে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখতেই দেখল অপরিচিত নাম্বার। ফোন রিসিভ করতেই অপর পাশ থেকে কে যেন বলে উঠল, "হ্যালো!"
"হ্যালো, কে বলছেন?" 
"আবরার বলছেন?" 
"জি, বলছি। কিন্তু আপনাকে তো চিনলাম না।" 
"চিনার কথাও না।"
"মানে?"
"মানে, আমি তো কোন সেলিব্রিটি না।"
"বুঝলাম, সেলিব্রিটি না। কিন্তু আপনি কে?"
"গলার কণ্ঠস্বর শুনেও বুঝতে পারছেন না আমি কে?"
"না তো।"
"তাই?"
"হুম।"
"ঠিক আছে। তো আপনার কী মনে হয়, এত রাতে আপনাকে কে ফোন দিতে পারে?" 
"কে দিতে পারে?"
"আপনি আমাকে কেন জিজ্ঞেস করছেন? আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছি।"
"জানি না। এত রাতে কে ফোন দিবে?"
"কেন আপনার গার্লফ্রেন্ড ফোন দেয় না।" 
"না তো।"
"কেন?" 
"আমার গার্লফ্রেন্ড থাকলেই তো দিবে।" 
"ঠিক আছে বুঝলাম। কাউকে আশা করছিলেন? কেউ আপনাকে আজ ফোন দিবে।" 
"না তো।"
"তাই?"
"হ্যাঁ। কে দিবে ফোন?"
"ঠিক আছে, রাখি।" বলেই নওরিন ফোন কেটে দিল। 
আজীব তো। কে মেয়েটা? আবরার মনে মনে ভাবে। 
মুঠোফোনটা রেখে বইটা হাতে নিতেই আবার মুঠোফোনটা বেজে উঠল। 
"হ্যালো।"
"হ্যালো, আপনি কি গাধা বলছেন?"
ফোনের অপর প্রান্ত থেকে এমন কথা শুনে আবরার নড়ে চড়ে বসল। 
"কে গাধা?"
"আপনি গাধা।"
"মানে?" 
"গাধাকে গাধা বলব না তো কী বলব?"
"আমি রাখি।" 
"এই গাধা! আমি নওরিন।"
"কে?"
"নওরিন।"
"আপনি?"
"হ্যাঁ, আমি।"
"আপনি আমার নাম্বার পেলেন কোথায়?" 
"মন থেকে চাইলে সবই পাওয়া যায়।" 
"হ্যাঁ?"
"জি।" 
এবার আবরার কণ্ঠস্বর একটু নিচু করে বলল, "তা মন থেকে চাওয়ার কারণটা জানতে পারি?" 
নওরিন লজ্জা পেল, বলল, "সব কারণ জানতে হয় না।" 
"কেন? কেন?" 
"হার্ট অ্যাটাক হয়।" 
আবরার নওরিনের কথা শুনে হেসে ফেলল। অতঃপর বলল, "আমার তো হার্ট নেই।"
"নেই মানে?"
"হার্ট চুরি হয়ে গিয়েছে।" 
"মানে?"
"কোন এক মায়াবী রাজকন্যা আমার হার্ট চুরি করেছে।" 
"তা সেই মায়াবী রাজকন্যার নামটা জানতে পারি?"
"নাম তো বলা যাবে না। কিন্তু সে কেমন তা বলতে পারি।"
"ঠিক আছে বলেন।"
আবরার সোফায় বসে পড়ল। অতঃপর চোখ বন্ধ করে মুঠোফোনের অপর পাশে থাকা নওরিনকে বলল, "সুন্দর তাঁর চোখ, ফুলের পাপড়ির মতো ঠোঁটে মিষ্টি হাসি,  দুধে আলতা রং।" 
"বুঝতে পেরেছি।" 
"সত্যি বুঝতে পেরেছেন?"
"হ্যাঁ।"
"কে বলেন তো?"
"বলতেই হবে?"
"হ্যাঁ।" 
"না বললে হয় না?" 
"না।" 
"আমি কাল ঢাকা ফিরছি। যাবে আমার সাথে?"
হঠাৎ নওরিন আবরারকে আপনি থেকে তুমি বলাতে থমকে গেল। 
"তুমি যাবে তো? কী হল? কথা বল?"
"নওরিন?" 
"কি?"
আবরার চুপ হয়ে রইল। কিছু একটা বলতে চেয়েও বলতে পারল না। 
"বল?"
"আসলে..."
"বল?"
"না। কিছু না।"
"বল বলছি। নাহলে কিন্তু আমি ফোন রেখে দিব।"
"না, না।"
"বল তাহলে?"
আবরার নিচু কণ্ঠে বলল, "তোমাকে খুব পছন্দ করি।"
নওরিন মুচকি হেসে ফোনের অপর পাশে থাকা আবরারকে বলল, "শুধু পছন্দ?"
"না মানে..."
"আচ্ছা আমি রাখছি।"
"না, না শুনো। এই নওরিন?"
"বল।"
"ভালোবাসি তো।"
এই কথা শুনে নওরিনের হৃদয় নড়ে উঠল। খুশিতে, লজ্জায় মুচকি হেসে বলল, "কাল ১১টায় জাঙ্গালিয়া বাস স্ট্যান্ডে থেকো।"
"ঠিক আছে। দেখা হচ্ছে।"
"রাখি।" 
নওরিন ফোনটা রেখে দিল। অতঃপর বিছানা ছেড়ে উঠে বারান্দায় এসে দাঁড়ালো।   আবরারের প্রতি এক অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করছে ওর মনে। এক অদ্ভুত অনুভূতি। একটা মনের টান। দেখতে চাওয়ার আকুলতা। এটাই কি তাহলে ভালোবাসা? নওরিন ভাবে।
বিছানায় পিঠ এলিয়ে দেয় নওরিন। আবরারকে নিয়ে কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে যায়। সেই কল্পনার রাজ্যে নেমে আসে ঘুম নামক নীরাবতা। অতঃপর নওরিন তার প্রিয় আবরারকে নিয়ে পাড়ি দেয় স্বপ্নের রাজ্যে। সেই স্বপ্ন দীর্ঘায়িত হয় ভোর পর্যন্ত।   ভোরের মিষ্টি বাতাস জানালা ভেদ করে নওরিনের চুলগুলো এলোমেলো করে দেয়। জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে নওরিন। আচ্ছা, আবরার এখন কী করছে? ঘুমাচ্ছে তাই না? নওরিন ভাবে। এভাবেই এই স্নিগ্ধ মিষ্টি ভোরে নওরিনের চিন্তার রাজ্যে আবরারের পদচারণ হয়। 

১০ই জানুয়ারি ২০২১।  ঢাকাগামী বাসের সামনে বেশ চিন্তিত মুখে দাঁড়িয়ে আছে আবরার। আর মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই বাস ছাড়বে কিন্তু নওরিন এখনো এসে পৌঁছায়নি। তাই সে বেশ চিন্তিত। নওরিন কি আসবে? এখনো আসছে না কেন? ফোন দিলাম, ফোনটাও ধরছে না। কোন বিপদ হলো না তো? ভাবে আবরার। 
"স্যার বাসে উঠে বসুন। বাস একটু পরেই ছেড়ে দিবে।" 
বাসের সুপার ভাইসরের কথা শুনে সে আরো বেশি চিন্তায় পড়ে গেল। 
"এই টিকেট কেটেছ?"
পরিচিত কণ্ঠস্বর শুনে আবরার পিছে তাকিয়ে দেখল নওরিন দাঁড়িয়ে। 
নওরিনকে দেখে তার সকল দুশ্চিন্তা দূর হয়ে গেল। মুচকি হেসে বলল, "দেরি হলো যে?" 
"সেসব কথা পরে হবে, আগে বল টিকেট কেটেছ কিনা?"
"হ্যাঁ। চল, বাসে উঠি।" 
"বাস ছাড়বে কয়টায়?"
"এই তো, পাঁচ মিনিট পরই।"
"ঠিক আছে চল।" 

এয়ার কন্ডিশন বাসের ডি থ্রি এবং ডি ফোর সিটে বসে পড়ল আবরার আর নওরিন। নওরিন জানালার পাশেই বসলো। বাসে ওরা সহ মাত্র ৬ জন যাত্রী। 
"এই আবরার!"
"হ্যাঁ?"   
 "একটা পানির বোতল কিনে আনবে? খুবই পিপাসা পেয়েছে।"
"আচ্ছা তুমি বসো। আমি নিয়ে আসছি।" 
পানির বোতল কিনার উদ্দেশ্যে আবরার বাস থেকে নেমে দেখল বাস কাউন্টারের পাশের দোকানটা বন্ধ। অগত্যা দূরের দোকানের উদ্দেশ্যে সে পা বাড়াল। এদিকে আবরারের জন্য অপেক্ষা করছে নওরিন। অনেকক্ষণ তো হয়ে গেল। আসছে না কেন? কোথায় গেল? নওরিন ভাবে। হঠাৎ বাস ছেড়ে দিল। জাঙ্গালিয়া বাস স্ট্যান্ড থেকে বাস বের হয়ে দ্রুত গতিতে পদুয়ার বাজার বিশ্ব রোডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।  ডি ফোর সিটে বসে থাকা নওরিন দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। সে অনেকবার মুঠোফোনে আবরারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করল। কিন্তু আবরার ফোন ধরল না। 
ওদিকে পানির বোতল নিয়ে দোকানিকে টাকা দিয়ে পিছনে ঘুরতেই আবরার  দেখল বাস দ্রুত গতিতে ওকে ফেলে চলে যাচ্ছে। 
"এই মামা!" বলেই বাসের পেছন পেছন দৌড়াতে শুরু করল সে। শেষে রাস্তার ধারে দাঁড়ানো একটা সিএনজিতে উঠে ড্রাইভারকে বলল, "মামা! ঐ বাসের পিছু নাও জলদি।"
ড্রাইভার বুঝতে পেরে  সিএনজি স্টার্ট করে দ্রুত গতিতে বাসের পিছনে ছুটাল। 
ওদিকে ভয়ে দুশ্চিন্তায় নওরিনের চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। কি করবে সে বুঝতে পারছে না।   
অবশেষে বাস পদুয়ার বাজার বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়াল। আবরার দ্রুত সিএনজি থেকে নেমে ভাড়া চুকিয়ে বাসে উঠে দেখল নওরিন অশ্রুসিক্ত চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। 
নিজ সিটে বসে নওরিনকে পানির বোতল এগিয়ে দিয়ে আবরার বলল, "নাও, পানির বোতল।" 
নওরিন অশ্রুসিক্ত রাগান্বিত চোখে আবরারের দিকে তাকিয়ে রইল।
"কী হলো? নাও?" 
"মজা করছ?" 
 আবরার ভ্রু কুঁচকে বলল, "মজা? মজা কেন করব?"
নওরিন অশ্রুসিক্ত রাগান্বিত লাল লাল চোখে আবরারের দিকে তাকিয়ে বলল, "কোথায় ছিলে এতক্ষণ?" 
"আরে বাস তো ছেড়ে দিয়েছিল। ভাগ্যিস রাস্তার ধারে একটা সিএনজি পেয়েছিলাম।"
"আমি যে বার বার ফোন দিচ্ছিলাম। ধরলা না কেন?"
"কই?" বলেই আবরার পকেট থেকে মুঠোফোন বের করে দেখে ৬টা মিসড কল।  
নওরিন আর কিচ্ছু বলল না। অশ্রুসিক্ত চোখে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।
আবরার নওরিনের ডান হাতটি ধরে বলল, "নওরিন! আমার ভুল হয়েছে। আমাকে ক্ষমা করে দাও।" 
উত্তরে নওরিন কিছু বলল না। বাইরে তাকিয়ে রইল। 
"ক্ষমা করে দাও। আর এমন হবে না। সব সময় তোমার ফোন ধরব। ফোন আর সাইলেন্ট রাখব না।"
নওরিন এবারো কিছুই বলল না। 
"ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি।" বলেই আবরার সিট থেকে উঠে যেতে উদ্যত হওয়ার সাথে সাথেই নওরিন তার হাত ধরে ফেলল। অতঃপর বলল, "এই বাঁদর! তুই কী কিছুই বুঝিস না?"
"কী বুঝব?"
"কিছুই বুঝিস না?"
"এখানে বুঝার কী আছে?"
"বুঝার কিছু নেই?"
"ফোন ধরিনি। আর তাছাড়া হয়তো ভয় পেয়েছ।" 
"এই বাঁদর! আমার চোখে পানি কেন বুঝিস না? কার জন্য বুঝিস না?"
"না।"
"না?" 
"না।" 
"কিভাবে বুঝবি? তুই তো বাঁদর।"
আবরার নিচু গলায় বলল, "বাঁদর তো গাছে থাকে।"
"শয়তান!" বলেই আবরারের শরীরে আলতো প্রহার করল নওরিন।
আবরার মুচকি হেসে নওরিনকে জড়িয়ে ধরল। নওরিন আবরারের বুকে ফেলল স্বস্তির নিশ্বাস। সে অনুভব করল যেন এক ভারি পাথর তার বুক থেকে সরে গিয়েছে। দূর হয়ে গিয়েছে সমস্ত দুশ্চিন্তার আঁধার। এটাই তাহলে ভালোবাসা? হ্যাঁ, এটাই ভালোবাসা। নওরিন ভাবে।

ধীরে ধীরে নওরিন আর আবরারের সম্পর্ক গভীর হতে শুরু করল। আবরার একটা দিন নওরিনকে না দেখলে যেমন স্থির থাকতে পারে না তেমনি নওরিনও। সপ্তাহে তিন দিন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে নওরিনের ট্রেনিং কোর্সের ক্লাস। ক্লাসের সময় সূচি দুপুর দুইটা ত্রিশ মিনিট থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত। আবরার প্রতিদিন ঠিক চারটা পঞ্চাশ মিনিটে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে নওরিনের জন্য অপেক্ষা করে। নওরিন ক্লাস থেকে বের হলেই দু' জন বেইলি রোডের কোন রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। কোনো দিন ঘুরতে যায় রমনা পার্কে কোনো দিন টিএসসিতে। 
২৮ই জানুয়ারি ২০২১। বিকাল ৪টা। বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স এর তৃতীয় তলায় দাঁড়িয়ে আছে আবরার আর তার সেই ছোটবেলার বান্ধবী সিন্থিয়া। 
"কীরে তোর ফোনে কথা বলা হল?" 
সিন্থিয়া মুঠোফোন ভ্যানেটি ব্যাগে দ্রুত ঢুকিয়ে আবরারকে বলল, "আরে দোস্ত, সাব্বির ফোন দিয়েছিল।" 
"সাব্বির?"
"হ্যাঁ।"
"আচ্ছা।"
"কেন ডেকেছিস বল।"
"কেন তোর কী তাড়া আছে?"
"হ্যাঁ, তাড়া আছে।"
"কেন? কোথায় যাবি?"
"একটু এলিফেন্ট রোড যাব।" 
"কেন? ওখানে কী?"
"তা জেনে তোর কী?"
"বুঝি বুঝি।" 
"কী বুঝেছিস?"
"ঐ ন্যাকা নওরিনের সাথে যে তোর কিছু একটা চলছে তা কী আমি বুঝি না?"
"সিন্থিয়া! আমি ওকে ভালোবাসি।"
"ভালোবাসিস!"
"হ্যাঁ।" 
"আর আমাকে?" 
"তোকে মানে? তুই আমার ফ্রেন্ড।"
"শুধুই ফ্রেন্ড?"
"মানে?"
"মানে কী তুই বুঝিস না?"
"কী বুঝব?"
সিন্থিয়া আর কিছু বলল না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। 
"কি হলো? বল? মানে কী?"
"বুঝবি না তুই।" বলেই সিন্থিয়া হাঁটা দিল। সিন্থিয়ার চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ল এক ফোঁটা অশ্রু। গোপনে পাহাড় সমান কষ্ট নিয়ে সে বসুন্ধরা  সিটি শপিং কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে পড়ল।

রাতে হোস্টেলে ফিরেনি সিন্থিয়া। চট্টগ্রামে নিজ বাসায় চলে যায় সে। রাতের খাবার খেয়ে চুপচাপ নিজ রুমে শুয়ে আছে। ডিম লাইটের মৃদু আলোয় তার অশ্রুসিক্ত চোখ ঠিক স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে না কিন্তু মনের ভেতর দাউ দাউ করে জ্বলা প্রতিশোধ আর হিংসের আগুন স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। নওরিন কী আমার থেকেও সুন্দরী? ন্যাকা একটা। ন্যাকামি ছাড়া তো কিছুই পারে না। মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে আবরারের মাথাটা নষ্ট করে দিয়েছে। আমি আবরারকে ছোট থেকে ভালোবাসি। আমার এই ভালোবাসার কী কোন মূল্য নেই ওর কাছে? বলা নেই কওয়া নেই,  কোথা থেকে মেয়েটা উড়ে এসে জুড়ে বসল আমাদের মাঝে। সে কে? এত সাহস তার। এসব ভাবতে ভাবতে সিন্থিয়া কম্পিউটারের সামনে এসে বসল। 

রাত ২টার দিকে নওরিনের মুঠোফোন ভাইব্রেট করে উঠল। মুঠোফোন হাতে নিয়ে  সে দেখল মেসেঞ্জারে মেসেজ এসেছে সিন্থিয়ার। মেসেঞ্জার অ্যাপে সিন্থিয়ার মেসেজ দেখে তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেল। মুঠোফোনের স্ক্রিনে সে স্পষ্ট দেখল সিন্থিয়া আর আবরারের মেসেজের কিছু স্ক্রিনশট। এসব সে কী দেখছে? নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছে না। আবরার মেসেজে সিন্থিয়াকে লিখেছে, "নওরিন একটা চরিত্রহীন মেয়ে। অনেক ছেলের সাথে তার সম্পর্ক। আমি তোমাকে চাই সিন্থিয়া। আমি তোমাকে ভালোবাসি।" 
এসব দেখার সাথে সাথে কাঁপা কাঁপা হাতে নওরিন আবরারকে ফোন দিল। 
ফোনের অপর পাশ থেকে আবরার বলে উঠল, "হ্যালো নওরিন?"
"তুমি কোথায়?"
"এই তো রুমে। কেন?"
"না এমনি।"
"তোমার কন্ঠ এমন শোনাচ্ছে কেন? কী হয়েছে?"
"না, কিছু না।"
"বল?"
"না।"
"বল বলছি?"
"আবরার?" বলেই নওরিন কেঁদে দিল। 
"এই তুমি কাঁদছ কেন? কি হয়েছে? নওরিন?"
নওরিন কাঁদতে থাকে। নীরবে গড়িয়ে পড়ে অশ্রু। 
"নওরিন? হ্যালো?"
নওরিন ফোন কেটে দেয়। আবরার প্রচন্ড উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। কি করবে বুঝতে পারছে না। 
হঠাৎ আবরারের মুঠোফোন ভাইব্রেট করে উঠে। মুঠোফোনের স্ক্রিনে দেখে নওরিনের মেসেজ। তাতে লিখা, "কাল বিকাল ৪টায় টিএসসিতে থেকো।" 

বিকেল ৪টা। টিএসসির এক পাশে নওরিন আর সিন্থিয়া দাঁড়িয়ে আছে। 
সিন্থিয়া নওরিনকে বলল, "দোস্ত! আবরার মোটেও ভালো ছেলে না। তুই এই সম্পর্কটা করার আগে আমাকে একটাবার জানানো প্রয়োজন মনে করলি না?" 
নওরিন সিন্থিয়াকে বলল,  "জানালে কী হত?"
"জানালে এই সম্পর্কটা হতে দিতাম না।" 
"আচ্ছা। কিভাবে?" 
"কিভাবে আবার কী? তোকে নিষেধ করতাম এরকম চরিত্রহীন ছেলের সাথে সম্পর্কে না জড়াতে।"
"চরিত্রহীন?"
"হ্যাঁ। তা নয় তো কী? চরিত্রহীন না হলে রাত ১টায় তোকে ফোন, মেসেজ না দিয়ে আমাকে কেন মেসজ দিল? আমাকে কেন ভালোবাসি বলল?" 
"হুম। ঠিক বলেছিস।"
"এই তো বুঝলি।"
"তো আমার এখন কী করা উচিত?"
"ব্রেকআপ করে ফেল।"
"ব্রেকআপ?"
"হ্যাঁ।"
"তারপর?"
"তারপর কী?"
"তারপর তুই এই সুযোগটা কাজে লাগাবি তাই তো?"
নওরিনের কথা শুনে চমকে গেল সিন্থিয়া, বলল, "সুযোগ মানে? কিসের সুযোগ?"
"নওরিন উত্তেজিত হয়ে বলল, "তুই খুব নিজেকে চালাক ভাবিস তাই না?"
"কী বলতে চাস?"
"তুই কী ভেবেছিস আমি কিছুই জানি না?"
"কী বলতে চাস? স্পষ্ট করে বল।"
"বলছি।" 
নওরিন মুঠোফোনটা বের করে আবরারকে ফোন দিয়ে বলল, "এই তুমি একটু এদিকে আসো।"
আবরার দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। সিন্থিয়া আবরারকে এদিকে আসতে দেখে দ্বিধায় পড়ে যায়। 
আবরার কাছে বলল, "হ্যাঁ বল।" 
"তোমার মোবাইলটা বের কর।" 
"কেন?"
"আমি বলছি বের কর।"
আবরার মোবাইল বের করল। নওরিন আবরারের মোবাইলটা নিজ হাতে নিয়ে সিন্থিয়াকে প্রশ্ন করল, "এটা কী মোবাইল?"
সিন্থিয়া আমতা আমতা করে বলল, "কী? কী মোবাইল?"
"এটা নোকিয়া ১১০০।"
"নোকিয়া ১১০০ দিয়ে কী মেসেঞ্জার অ্যাপ আর ফেসবুক চালানো সম্ভব?"
সিন্থিয়া চুপ করে রইল। 
নওরিন আবরারকে জিজ্ঞেস করল, "আবরার! সম্ভব?"
আবরার বলল, "না তো। সম্ভব না।"
"তোমার ফেইসবুক আইডি ডিএক্টিভ?"
"হ্যাঁ।"
"কবে থেকে?"
"এই, ২০২১ এর দুই অথবা তিন জানুয়ারি থেকে।"
"তোমার সাথে আমার কথা হয় কিভাবে? মোবাইলেই তো? এই নোকিয়া ১১০০ দিয়েই তো আমাকে ফোন দাও।"
"হ্যাঁ।" 
"তোমার ফেইসবুক আইডিটা একটু এক্টিভ করা যাবে এখন?"
"কিন্তু আমার সাথে তো এখন ল্যাপটপ নেই।" 
"এই নাও। আমার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল দিয়ে এক্টিভ কর। "
আবরার তার ফেইসবুক আইডি এক্টিভ করে নওরিনের হাতে মোবাইলটা হাতে দিয়ে বলল, "এই নাও।"
"এটাই তোমার প্রোফাইল পিকচার?"
"হ্যাঁ। দেখতেই তো পাচ্ছ।"
"সিন্থিয়া! তুই এটা কিভাবে করলি?"
সিন্থিয়া বলল, "কী করলাম?"
"কিছু করিসনি?"
"কী করেছি?"
"তুই আবরারের নামে ফেইক আইডি কেন খুললি? খুলে এসব ফেইক মেসেজ কেন আমাকে পাঠালি?"
"কই? কই? আমি তো করিনি!"
"নামটাও তো ঠিক মতো দিতে পারিসনি। নাঈম বানান ভুল। "ই" দিয়েছিস।"
"দেখ নওরিন..."
নওরিন সিন্থিয়াকে থামিয়ে দিল, বলল, "তুই যদি সত্যি সত্যি আবরারকে ভালোবাসতি তাহলে এই জঘন্য কাজটা করতে পারতি না। তুই আমাকে বলতে পারতি না সে একটা চরিত্রহীন ছেলে।" 
আবরার চমকে গেল এসব কথা শুনে, বলল, "আমি চরিত্রহীন?"
নওরিন আবরারকে বলল, "তোমাকে সব পরে বলছি।"
নওরিন সিন্থিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল, "তুই যদি সত্যি আমার প্রকৃত বন্ধু হতি তাহলে এই ফেইক মেসেজে আমাকে চরিত্রহীন বলতি না। "
"ঠিক আছে। আমি দোষী তো?" বলেই সিন্থিয়া উঠে হাঁটা দিতেই নওরিন পিছন থেকে বলল, " দাঁড়া!"
সিন্থিয়া দাঁড়াল। নওরিন পিছন থেকে বলল, "বিয়ের দাওয়াত রইল।" 
সিন্থিয়া টিএসসি থেকে বেরিয়ে পড়ল। নওরিন আর আবরার বসে রইল টিএসসিতে।         
১৪ ই ফেব্রুয়ারি ২০২১। নীল আকাশ। চারদিকে মেঘের ছড়াছড়ি। নীলগিরি পাহাড়। আবরারের ডান হাত জড়িয়ে ধরে কাঁধে মাথা রেখেছে নওরিন। নিস্তব্ধ নীরব চারদিক। ওদের কী বিয়ে হয়েছে? 

১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২১। মাঝারি আকারের রুমে সোফা সেট, টি-টেবিল। টি-টেবিলে মিষ্টি, ফল সহ নানা পদের নাস্তা। আজ আবরার আর নওরিনের এনগেজমেন্ট। তাই নওরিনের বাসায় আবরার এবং আবরারের পরিবার উপস্থিত হয়েছে।
 আবরারের বাবা বললেন, "ভাই সাহেব! মোহরানার বিষয়টা একটু পাকা করে ফেললে ভালো হতো।"  
নওরিনের বাবা বললেন, "জি, এই ব্যাপারে একটু কথা বলার আছে।"
"জি, বলুন।" 
"আমরা চাচ্ছিলাম যে মোহরানা এক কোটি হোক।" 
"জি?"
"জি, এক কোটি।" 
আবরারের বাবা মা একে অপরের দিকে তাকাল।
আবরারের বাবা ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, "এক কোটি?"
"জি, ভাই।"
"ভাই, ছেলে তো মাত্র চাকরিতে ঢুকেছে। আসলে এত টাকা?..."
"দেখুন, আমরা তো আর যার তার হাতে আমাদের মেয়েকে তুলে দিতে পারি না।"
"আমার ছেলে এখন যার তার হয়ে গেল?" 
"দেখুন, ছেলে যদি আর্থিক ভাবে সচ্ছল না হয়, তাহলে তো আমরা আমাদের মেয়েকে আপনার ছেলের হাতে তুলে দিতে পারব না।"
"আমার ছেলে চাকরি করে, মাস শেষে বেতন পায়। সচ্ছল নয়?"
"সচ্ছল হলে ১ কোটি দিতে অসুবিধে কোথায়?"
আবরারের বাবা রেগে বললেন, "আপনি সচ্ছলের অর্থ বুঝেন?"
নওরিনের বাবাও রেগে চিৎকার করে বললেন, "আপনার থেকে এখন আমার শিখতে হবে?"
"আপনি মুখ সামলে কথা বলেন।"
"আপনি ভদ্রভাবে কথা বলেন। নিজেকে কী ভাবেন?"
এসব উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ভিতর থেকে শুনে দৌড়ে ছটে আসলো নওরিন। ওদিকে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে মোড় নিচ্ছে দেখে আবরার নওরিনের বাবাকে বলল,"আংকেল! আপনি শান্ত হন। বাবা! তুমিও একটু শান্ত হও।"
নওরিনের বাবা উত্তেজিত কণ্ঠে বললেন, "তোর বাবা কী শান্ত হবে? তোর বাবা ভদ্রতা জানে নাকি? থার্ড ক্লাস, মিডেল ক্লাস।" 
"বাবা! আসো। চলো। এখানে আর এক মুহূর্ত নয়।"
"হ্যাঁ। চল। এখানে থাকতে চায় কে?
"যান, যান। আর যেন চেহারাও না দেখি।" 
এসব কিছু নওরিন পর্দার আড়াল থেকে দেখে রীতিমত ধাক্কা খেল। বিয়েটা এভাবে ভেঙ্গে যাবে সে স্বপ্নেও ভাবেনি। 

১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২১। সকাল ১০টায় আবরারের বাসায় ডোরবেল বেজে উঠল। আবরার দরজা খুলল। দরজার বাইরে নওরিনের ছোট ভাই লিসানকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে চমকে গেল, বলল, "আরে তুমি?"
লিসান আবরারের দিকে একটা চিঠি বাড়িয়ে দিয়ে বলল, "আপু দিয়েছে।" আবরার চিঠিটা হাতে নিল। লিসান আবারো বলল, "আপনাকে ফোনে পাচ্ছিল না আপু। চিঠিটা পড়বেন দয়া করে।"

দরজা আটকে চিঠি নিয়ে নিজের রুমে চলে যায় আবরার। নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে দিল। খাটের উপর বসে চিঠিটা খুলল। নওরিনের হাতের লেখা। 

প্রিয় আবরার, 
             কেমন আছো জিজ্ঞেস করব না। আমি জানি তোমার মনের অবস্থা এখন কেমন। আমার বাবার পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা চাচ্ছি। 
আবরার, সম্পর্কের শুরুতে আমাকে তুমি মুঠোফোনে ভালোবাসি বলেছিলে। কিন্তু আমি এখন পর্যন্ত ভালোবাসি শব্দটা উচ্চারণ করিনি। কিন্তু প্রতিটা মুহূর্তে তোমাকে বুঝিয়েছি, আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি।
আবরার, ভালোবাসা প্রকাশ করাটা জরুরী নয়। ভালোবাসতে পারাটা জরুরী। সবাই ভালোবাসি বলে। ভালোবাসতে কয় জন পারে? প্রিয় মানুষটাকে কয়জন ধরে রাখতে পারে? ভালোবাসতে হয় গোপনে, নিভৃতে। 
আমি তোমাকে গোপনে, নিভৃতে ভালোবেসে যেতে চাই আজীবন। তোমাকে হারাতে চাই না। তাই একটা বড় সিধান্ত নিয়েছি। আমি তোমাকে পরিবারের অমতেই বিয়ে করতে চাই। পৃথিবীতে কিছু পেতে হলে কিছু হারাতে হয়। আমি না হয় আমার ভালোবাসার মানুষটাকে পাওয়ার জন্য পরিবারকে হারালাম। করবে আমাকে বিয়ে? সমাজ, পরিবারের বাঁধা উপেক্ষা করে তোমার জীবন সঙ্গিনী করতে পারবে? 
ধর্মসাগর পাড়ে আজ সকাল ১১টায় আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব।  বিয়ের সাক্ষী দেওয়ার জন্য লিসান ওর বন্ধুদের বলে দিয়েছে। ওরা সময় মতো চলে আসবে। এখন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তোমার। ভালোবাসার এই পরীক্ষায় তুমি জয়ী হবে নাকি হবে পরাজিত, এখন তোমার হাতে।

তোমার অপেক্ষায় রইলাম। 
                                                               ইতি
                                                           তোমার নওরিন         


তারপর? তারপর কী হলো? 
তারপর  কাবিননামায় সই হলো। দুই হৃদয় এক হলো।    
                  
১৪ ই ফেব্রুয়ারি ২০২১। নীল আকাশ। চারদিকে মেঘের ছড়াছড়ি। নীলগিরি পাহাড়। আবরারের ডান হাত জড়িয়ে ধরে কাঁধে মাথা রেখেছে নওরিন। নিস্তব্ধ নীরব চারদিক। 
নওরিন মায়াবী কণ্ঠে বলল, "এই আবরার!" 
আবরার বলল, "জি, রাজকুমারি। বলুন আপনার জন্য কী করতে পারি?"
"আমার জন্য?"
"হুম তোমার জন্য।" 
"সত্যি করতে চাও?" 
"হুম বল। করব।" 
নওরিন কাঁধ থেকে মাথা উঠিয়ে আবরারের দিকে তাকিয়ে বলল, "আমাকে এই ভাবে ভালবাসবে তো?"
আবরার নওরিনের হাতটা ধরে বলল, "বাসবো। আজীবন। তুমি ভালোবাসবে তো? 
নওরিন আবরারের কাঁধে মাথা রেখে বলল, "হ্যাঁ। বাসবো। এভাবেই, গোপনে......"       
বিশাল নীল আকাশ। তাতে মেঘের ছড়াছড়ি। নীলগিরি পাহাড়। 
"এই আবরার?"
"হুম?"
"ভালোবাসি। খুব বেশি। অনেক বেশি।" 

                        =====  (সমাপ্ত) =====
 

          
আবরার নাঈম চৌধুরী 
ফাইন্ড আলাউদ্দিন টাওয়ার, 
সরকারি মহিলা কলেজ রোড, 
কুমিল্লা, বাংলাদেশ।
        
   
                                  


                                                        
       
      



 
    
                      
                   
 
      
         
        
              
 


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,