Skip to main content

ছোটগল্প ।। আলোকবর্তিকা ।। গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়

            

  আলোকবর্তিকা
 গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়



ট্রেনটা যে এতখানি ভিড় হয়ে যাবে ভাবতেও পারেননি রেণুবালা। শান্তিপুর থেকে যখন উঠেছিলেন তখনতো বেশ ফাঁকাই ছিল। বসার একটা জায়গাও মিলেছিল । তারপর কোথা থেকে একটা দমকা ভিড় এসে মুহূর্তের মধ্যে জমাট বেঁধে একেবারে গাদাগাদি, ঠাসাঠাসি আকার নিয়ে বসল। বছরে অন্তত পাঁচ-ছ বার শান্তিপুরে রাধামাধব মন্দিরে যান রেণুবালা । প্রতিবার এই ট্রেন ধরেই ফেরেন। আজ তো প্রথম নয়, কতবছর ধরেই যাচ্ছেন। কিন্তু এমন অসময়ে এত ভিড় আগে কখনো দেখেছেন কিনা মনে করতে পারেন না। নিরেট ভিড়টাকে আরেক ঝলক দেখলেন। বুকটা কেঁপে উঠল তার। 
দুটো সীটের  মাঝেও চাপাচাপি ভিড়। দন্ডায়মান সেই ভিড়ের ফাঁকফোকর গলে তার দুটো মরিয়া চোখ ঠিক কোন স্টেশন এল ঠাহর করার অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হল। অবশেষে সেই চেষ্টায় ইতি টেনে মুখ খুললেন ---
"কোন স্টেশন এল দয়া করে একটু বলবেন।"
"টিটাগড়।"
তারমানে মাঝখানে খড়দা তারপর সোদপুর। মনেমনে  ভাবলেন রেণুবালা। এখনই না উঠলে আর নামতে পারা যাবেনা। রেণুবালা উঠতে না উঠতেই সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি তাকে একপ্রকার ধাক্কা মেরেই ঝাঁপিয়ে পড়ে দখল নিল তার সীটটার । অন্যকেউ হলে দুটো কথা শুনিয়ে দিত কিন্তু তেমন ধাতের মানুষ নন রেণুবালা। পথেঘাটে বেরোলে অতটা অসহিষ্ণু হলে কী চলে!

চারপাশ থেকে একেবারে টুঁটিটিপে ধরা ভিড়ে যেন দমবন্ধ হয়ে এল রেণুবালার। ভিড় তো নয়, যেন নিরেট পাথরের পুরু প্রাচীর! একে ভেদ করে এগিয়ে যাওয়ার কতটুকুই বা সামর্থ্য আর অবশিষ্ট থাকে এই পঁয়ষট্টি বছর বয়সে? কিন্তু দমলেন না। দমলে চলবেনা। অটল মনবলে ভর করেই নিজেকে টেনে-হিঁচড়ে ঠিক দরজার সামনে এনে ফেললেন।

ট্রেনটা থেমেছে কী থামেনি, আচমকা গলায় একটা ঝটকা অনুভব! সাথেসাথেই পিছন থেকে কে একজন চিৎকার করে উঠল --- "হার ছিনতাই করল .... হার ছিনতাই করল ....।"
ঠিক তার পরপরই আরেকটা কন্ঠস্বরে উচ্চকিতে বেজে উঠল, "এই তো ধরেছি শালাকে, ধরেছি .... ধরেছি, ধরেছি ...."

কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনটা থামল। 

একটা প্রবল ধাক্কা নাকি দুরন্ত কোন ঢেউ --- অচমকা ঝটকায় অনেকটা দূরে ছিটকে দিল রেণুবালাকে। পড়ে যেতে যেতেও কোনোরকমে সামলে নিলেন নিজেকে। কিন্তু দুদন্ড দম নেবার আগেই ভাবনায়  চকিতে চিকুর হানল আশঙ্কাটা। অব্যক্ত উত্তেজনার কোনো এক বিশেষ প্রতিবর্ত ক্রিয়াতেই যেন তার গলা স্পর্শ করল হাতটা। সঙ্গেসঙ্গেই থরথর করে কেঁপে উঠল গোটা শরীর। রক্ত হিম হয়ে গেল। চোখের সামনে আর কোন কিছুই যেন স্পষ্ট নয়। 
"আমার হার .... আমার হার ...." নিজেও জানেন না কীভাবে পারলেন ওই কটাকথা উচ্চারণ করতে!

একটুপরেই সম্বিত ফিরে পেয়ে উদভ্রান্তের মত খুঁজতে শুরু করলেন। এখানে-ওখানে, এপাশে-ওপাশে, কাপড়ের ভাঁজেভাঁজে, এমনকি আলগা খোঁপাটা খুলে ঝাড়াঝাড়ি করেও। কিন্তু কোথায় হার?  নেই নেই, কোথাও নেই ! তাহলে?  তার হারটাই ছিনতাই হয়ে গেছে! হাল ছেড়ে শূণ্যদৃষ্টিতে অপলক চেয়ে রইলেন রেণুবালা। সম্বল বলতে তো ঐ হারটুকুই ছিল। পঁয়তাল্লিশ বছর আগে বাবা দিয়েছিলেন বিয়েতে। বিপদে-আপদে, নানান প্রয়োজনে ক্রমশ হালকা হতে হতে শেষপর্যন্ত ওইটুকুই রয়ে গিয়েছিল। স্বামী, সন্তান, সংসার, বাড়িঘর একএক করে সবই গেছে। হারটাও চলে গেল আজ। নিজের বলতে নিজের অস্তিত্বটুকু ছাড়া আর কিছুই রইলনা।

অনেকক্ষণ চারপাশের কোনো হুঁশ ছিলনা রেণুবালার। আকস্মিক বিপর্যয়ে এতটাই বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন যে টেরই পাননি নাকের ডগায় কী ঘটছে। অনেকমানুষের ভিড়। উত্তেজনা। হৈচৈ। গালাগাল। মারধোর। কিছু যে একটা ঘটছে --- সচকিত হয়ে টের পেলেন ঠিক তখনই যখন ওই ভিড়ের মধ্যে থেকে একজন হঠাৎ তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার করে বলে উঠল, "ওই তো .... ওই তো .... উনি,উনি .... ওনারই হার .... আমি নিজে চোখে দেখেছি ...." বলতে বলতে উত্তেজনার বশে লোকটা এমনভাবে রেণুবালার দিকে ছুটে এল, যেন পারলে রেণুবালাকে টানতেটানতে নিয়ে যায়। 
"আসুন আসুন মাসীমা, ওই যে ছেলেটাকে দেখতে পাচ্ছেন..." লোকটা ভিড়ের মধ্যে আঙুলনির্দেশ করে দেখাল রেণুবালাকে, " ...ওই ছেলেটাই আপনার হার ছিনতাই করেছে।"
হতচকিত রেণুবালা ফ্যালফ্যাল করে লোকটার মুখের পানে চেয়ে রইল। চোখেমুখে একটা তীব্র বিরক্তি ফুটিয়ে তুলে লোকটা বলে উঠল,"দেখছেন কী চলুন চলুন।"

কয়েকপা এগিয়ে যা দেখলেন --- শিউরে উঠতে হল রেণুবালাকে। এ কী ভয়ঙ্কর! ক্রোধে উন্মত্ত একদল মানুষ বছর আঠারো-উনিশের রোগাপাতলা একটা ছেলেকে নৃশংসভাবে যেখানে খুশি, যেমন খুশি এলোপাথাড়ি মেরে চলেছে। কিল, চড়, ঘুঁষি, লাথি  --- কোনকিছুই বাদ যাচ্ছেনা। শুধু কী তাই,  চারপাশ থেকে বৃষ্টিরমত আছড়ে পড়ছে গা-ঘিনঘিন করা অশ্রাব্য সব গালিগালাজ। একদল টপ-টু-বটম ভদ্দরলোক ছেলেটার বাপ-মা-চোদ্দপুরুষ তুলে এমনসব রগরগে শব্দ উচ্চারণ করছিল যে ওদের পরনের পোশাকগুলো বড়ই বেমানান ঠেকেছিল রেণুবালার চোখে। কোন কস্মিনকালে যারা কখনো ছিনতাই-পকেটমারির শিকার হয়েছিল তারাও এই সুযোগে পুরোনো স্মৃতির ঢেঁকুর তুলে আচ্ছা করে হাতের সুখ মিটিয়ে নিতেও পিছিয়ে নেই।

এইবার ছেলেটার দিকে চোখ পড়ল রেণুবালার। শিউরে উঠলেন। দলবদ্ধ প্রতিহিংসার পাশবিকতায় থেকেথেকেই আর্তনাদ করে উঠছিল ছেলেটা। জামাটা ছিঁড়ে ফালাফালা।গালের কশ বেয়ে গড়িয়ে নামছিল রক্তের ধারা। চোখের কোল ফুলে উঠেছিল। আঘাতের পর আঘাতে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল তার শরীরটা। হাত-পা সর্বাঙ্গ কেটে-থেঁতলে ক্ষতবিক্ষত। রক্তাক্ত।

যে লোকটা রেণুবালাকে ডেকে এনেছিল,  রাগে দাঁত কিড়মিড় করে আবারো বলে উঠল, "এই জানোয়ারটাই আপনার হার ছিনতাই করেছে.." বলেই তেড়ে গেল ওর দিকে। ছেলেটা হাতজোর করে সক্রন্দনে আর্তনাদ করে উঠল, "আমাকে আর মারবেন না,  মরে যাব আমি.... আর মারবেন না।"

চমকে উঠলেন রেণুবালা। তার সমগ্র ভিতরটা প্রবল একটা বিস্ফোরণে থরথর করে কেঁপে উঠল। মাথায় তোলপাড়। দুচোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা। একটা হিমশীতল স্রোত সাপের মত কিলবিলিয়ে শিরা-উপশিরা বেয়ে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো তার অনুভবের আনাচে-কানাচে। চেতনার বাইরে কোথাও যেন হারিয়ে গেলেন কয়েক মুহূর্ত। তারপর ভীষণ আঁতকে উঠে আবার ফিরে পেলেন নিজেকে। তার দুটো চোখ স্থির ওই ছেলেটার মুখে। এ তিনি কার মুখ দেখছেন?  এ যে অবিকল বিশুর মুখ! হ্যাঁ-হ্যাঁ, রেণুবালার কোনো সন্দেহ নেই, ও মুখ বিশুর না হয়ে যায় না। বিশুরই। বিশু তার ছেলে। পনের বছর আগে ভয়ঙ্কর এক দু:স্বপ্নের রাতে হারিয়ে গিয়েছিল অকালে। এরকমভাবেই একদল ক্রোধান্ধ হিংস্র মানুষ অকস্মাৎ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল ওর উপরে। আত্মরক্ষার এতটুকুও সুযোগ দেয়নি ওকে। তারপর .... তারপর .... । রেণুবালার অনুভবে মুহূর্তেই নিশ্চিহ্ন হয়েগেল তার চারপাশের বেবাক বর্তমান। তার আপাদমস্তক সম্পূর্ণ গ্রাস করে নিল পনের বছর আগের এক ভয়ানক অতীত ... সেই বীভৎস রাত... ।



অন্যদিনের মতই একশ টাকার রোজে সারাদিন হাড়ভাঙ্গা খাটুনি খেটে এসে সেদিনও সবেমাত্র খেতে বসেছিল বেচারি। হঠাৎ দুমার-দুম দুমার-দুম দরজায় লাথি মারার শব্দ।হতচকিত রেণুবালা। বিশুও। কারা ওরা?  কী চায় ?  কিছু বুঝে উঠতে না পেরে দুজন দুজনার মুখে হাঁ করে চেয়েছিল। ততক্ষণে দরজার ওপাশে শুরু হয়ে গেছে কান গরম করা বাছাবাছা খিস্তির ধারাবর্ষণ।
"দরজাটা খোল, শা..." তারপরে আর যা বলেছিল তা যেন কানে শোনা নয়, কানে কেউ গলন্ত লাভা ঢেলে দিল। 

খাওয়া ফেলে উঠে দাঁড়াল বিশু। 
"তুই যাস না বাবা। দরজা খুলিস না ...।" বিপদের আঁচ টের পেয়েছিলেন রেণুবালা। "... আমার ঠিক ভাল ঠেকছেনা।"
"দরজাটা না খুললে ওরা ভেঙে ঢুকবে মা।" 
রেণুবালা হাত বাড়িয়ে একটা দুর্বল বাঁধা দেবার চেষ্টা করলেও দরজার দিকে এগিয়ে গিয়েছিল বিশু। 
দরজাটা খোলামাত্রই সপাটে ঝাপট মারল চোলাইয়ের ঝাঁজাল কটুগন্ধ।তারপর হুড়মুড়িয়ে ঘরে ঢুকে পড়ল একদল উত্তেজিত মানুষ। বন্যপশুর মত হিংস্র। ওদের চোখগুলো আগুনের ভাটার মত জ্বলছিল। আকণ্ঠ চোলাই গিলেছিল সবকটা। হিতাহিতজ্ঞানের কোন বালাই ছিলনা কারো। ঘরে ঢুকেই সবাই মিলে একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বিশুর উপরে। রেণুবালার চোখের সামনেই তাকে মাটিতে ফেলে নৃশংসভাবে মারতে লাগল। ওদের কারো হাতে হকিস্টিক,  কারো হাতে মোটা লোহার রড। যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে উঠেছিল বিশু। 
"ওরা আমাকে মেরে ফেলবে মা, তুমি কিছু একটা কর... । আমাকে বাঁচাও, বাঁচাও মা...।" 
এতগুলো পশুর হাত থেকে কেমনকরে তাকে বাঁচাবেন রেণুবালা! পাগলের মত একবার এর কাছে, একবার ওর কাছে গিয়ে কাকুতি-মিনতি করেছিলেন,"দোহাই তোমাদের, ছেড়ে দাও ওকে, মেরো না অমনকরে..।" জনেজনে দুটো-পা জড়িয়ে ধরেছিলেন ওদের। জানোয়ারগুলো সবাই লাথি মেরে সরিয়ে দিয়েছিল তাকে। তবুও দমেন নি। ছুটে গিয়ে জাপ্টে ধরেছিলেন ছেলেকে। ওদের আক্রমণ থেকে নিজের শরীর দিয়ে আড়াল করে রক্ষা করতে চেয়েছিলেন তাকে। পারেন নি। ওরা তাকে হিড়হিড় করে টেনে-হিঁচড়ে ঘরের বাইরে এনে নিক্ষেপ করেছিল ঘন অন্ধকারে। প্রচন্ড আঘাতে সমস্ত শরীর যেন ভেঙে খানখান হয়ে গেল। যন্ত্রণায় দুমড়ে গেলেন। কিন্তু তার যা হয় হোক,  ছেলেটাকে যে যেমন করেই হোক বাঁচাতেই হবে। ওই পশুগুলো যে নির্ঘাত ওকে মেরে ফেলবে! অস্থির হয়ে উঠলেন পাগলের মত। কীভাবে বাঁচাবেন ছেলেকে?  শেষ পর্যন্ত আর কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে তার সবটুকু শক্তি দিয়ে আর্তচিৎকারে যে-যেখানে আছে সবার কাছে অসহায়ভাবে সাহায্যভিক্ষা চেয়েছিলেন ---
"তোমরা কে কোথায় আছো, তাড়াতাড়ি এসে বাঁচাও আমার ছেলেটাকে... ওরা সবাই মিলে মেরে ফেলছে ওকে... দয়া করে বাঁচাও, বাঁচাও আমার বিশুকে...। তোমাদের পায়ে পড়ছি...।"
অসহায় কাকুতিতে ডাকতে-ডাকতে, কাঁদতে-কাঁদতে বুক তার শুকিয়ে গেল। তবু কেউ এলনা। একটা  জনপ্রাণীও না। অথচ এই নয়াবস্তির মানুষগুলো বিশুর কাছে কতই না আপন, কতই না ভালোবাসার! আপদে, বিপদে, প্রয়োজনে সবসময়ে ওদের পাশে থেকেছে এতকাল। কানে শুনলেই নাওয়া-খাওয়া ফেলে ছুটে চলে গেছে। ক্লান্তিহীনভাবে রাতের পর রাত জেগেছে হাঁসপাতালে। নিজে না খেয়েও আহার তুলে দিয়েছে ওদের মুখে। রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছে। নিজের জীবন বিপন্ন করে আগুন থেকে তুলে নিয়ে এসে ফিরিয়ে দিয়েছে ওদের জীবন। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার হয়ে দোরেদোরে গিয়ে সাহায্য চেয়েছে। কারো প্রতি এতটুকুও অন্যায় দেখলে নির্ভীকচিত্তে রুখে দাঁড়িয়েছে। এহেন মানুষটার এমন জীবন-মরণ দুর্দিনে মনুষ্যত্বের আবেদনে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসা তো দূরে থাক, কৃতজ্ঞতার খাতিরেও এগিয়ে আসার এতটুকু সাহস ওরা নিজেদের মধ্যে খুঁজে পাই নি সেদিন। প্রাণের ভয় যে বড় বালাই! তাই নয়াবস্তির যে ক'টা ঘরে তখনো আলো জ্বলছিল --- পটাপট নিঁভে গিয়েছিল নিমেষে।

অনেক কষ্টে উঠে দাঁড়িয়ে কোনোক্রমে তার বিধ্বস্ত শরীরটাকে ঘরে টেনে এনেছিলেন রেণুবালা। ততক্ষণে অন্ধকারে মিলিয়ে গিয়েছিল ঘাতকের দল। ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে তার বিশু। তার ছাব্বিশ বছরের জোয়ান ছেলে। নিথর। নিস্পন্দ। চারপাশে চাপচাপ তাজা রক্ত। টলতে-টলতে এগিয়ে গিয়ে বিশুর ক্ষতবিক্ষত, রক্তাক্ত মুখটার উপর ঝুঁকে পড়ে কয়েক মুহূর্ত চেয়েছিলেন। তারপরে তার দুহাতের মাঝখানে মুখটাকে চেপে ধরে ঝাঁকুনি দিতেদিতে উদ্ভ্রান্তের বলে উঠেছিলেন, "বিশু, বাবা আমার কথা বল.... কথা বল বাবা.... চোখ খোল....।"   
তার বাছা যে আর কোনদিনই কথা বলবে না --- আশঙ্কা যতই তীব্র হোক না কেন,  এমন অবিশ্বাস্য সর্বনাশের কথা ভাবতে পারেননি রেণুবালা,  বোধহয় মা বলেই। কিন্তু আচমকাই বিদ্যুতের শক খাওয়ার মতই উপলব্ধি করেছিলেন যে তার বিশুর গোটা শরীরটা বরফের মত ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। উ: কী বীভৎস উপলব্ধি! মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন --- যেন কোনো প্রস্তরমূর্তি। তার বিস্ফারিত দুটি চোখে তখন পাতলপুরীর হিমশীতল অন্ধকার। ক্ষণকালমাত্র! রেনুবালা বিশ্বাস করতে পারলেন না --- নাকি কোনভাবেই বিশ্বাস করতে চাইলেন না যে তার বিশু খুন হয়ে গেছে!                                                              
কিন্তু একসময়ে তাকে বিশ্বাস করতেই হয়েছিল যখন নিস্পন্দ ছেলেটার দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে অতর্কিতেই দৃষ্টিনিক্ষেপ করেছিলেন নিজের ভিতরে। শুধুই ধূ ধূ বিবর্ণতা। মুছে গেছে জীবনের সব রঙ। চেতনার সবটুকু জুড়ে খাঁ খাঁ মরুভূমির শূন্যতা। বুকটা ভেঙেচুড়ে, দুমড়েমুচড়ে, তালগোল পাকিয়ে যেতে লাগল। প্রলয়ংকর শোককে আর চেপে রাখতে পারলেন না। চূর্ণবিচূর্ণ হতেহতে প্রখর প্রচণ্ডতায় হাহাকারে ফেটে পড়লেন ---
"বিশুরে, আমি আর কী নিয়ে বাঁচব রে বাবা...."
রেণুবালার বুকফাটা বিলাপধ্বনি শাণিত ফলার মত সেই রাতের আদিম নৈ:শব্দকে ফালাফালা করে দিয়েছিল। কেন খুন হতে হল বিশুকে? একটা অশরীরী প্রশ্ন ল্যাম্পপোস্টের অলৌকিক ক্ষীণ আলোয় নয়াবস্তির গা-ছমছমে আনাচেকানাচে গোটা রাতধরে বৃথাই খুঁজে ফিরেছিল অসম্ভব উত্তরটা।

বিশু কোনো দাগী অপরাধী ছিলনা। সমাজবিরোধীও নয়। ছিলনা কোনো রাজনৈতিক সংস্রবেও। একদম শৈশবে চোখ বুঝেছিলো বাপ। কঠিন দারিদ্রের সংসারে আধপেটা খেয়েই বড় হতে হয়েছিল। সহ্য করতে হয়েছিল নিদারুণ দু:খ-কষ্ট। ইচ্ছা থাকলেও উপায় হয়নি লেখাপড়া শেখার। তবু কী করে যেন খুব ছেলেবেলাতেই ন্যায়-অন্যায়ের বিভেদরেখাটা খুব স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল তার চোখে। ভাল-মন্দ, উচিত-অনুচিত --- এইসব মূল্যবোধগুলোকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল একটা আপোষহীন বিচারশক্তি, যা ছিল তার জীবনের কোনোকিছুকে দ্বিধাহীন গ্রহণ-বর্জনের একমাত্র মানদন্ড। তাই অন্যায়ের মসৃনপথে সহজে বেঁচে থাকার চেয়ে কঠিন জীবন-সংগ্রামের কন্টকিত পথ অনেক বেশি গ্রহণীয় হয়েছিল। অন্যায় তার সহ্য হত না। রুখে দাঁড়িয়ে  প্রতিবাদ করতেও বুক কাঁপত না। জীবন দিয়েই হয়তো তাকে তার মাশুল দিতে হয়েছিল। 

এলাকার দাপুটে জননেতা প্রহ্লাদ সাহা। ক্ষমতা প্রতিপত্তি যার এতটাই যে নাম শুনলেই বাঘে-গরুতে একঘাটে জল খায়। তার এক হাঁকে হাজির হয়ে যায় কয়েকহাজার লোক। যারা বিনা বাক্যব্যায়ে, না জেনে না বুঝে মাইলের পর মাইল মিছিলে হাঁটে। জনসভায় গাদাগাদি ভিড় করে। বিক্ষোভে সামিল হয়। প্ররোচনায় মারমুখী হয়ে ওঠে। নির্বিচারে ভাঙচুর করে। প্রতিবাদের নামে পথ অবরোধ করে। 'বনধ' এর ডাক শুনে জনগণের হয়ে বারো-চব্বিশ-আটচল্লিশ যত ঘণ্টা চাইবে জনজীবন শ্মশানের মত স্তব্ধ-নি:শব্দ করে দেবে। যে নেতার এত দাপট, এত প্রতাপ তার ক্ষমতার হাত যে কতদূর পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে তা' বলে বোঝাবার আর কী কোনো অবকাশ রাখে? প্রহ্লাদ সাহা তাই পার্টির সম্পদ। পার্টি তাকে তোবাতোবা করে মাথায় করে রাখে। মারদাঙ্গা-বোমাবাজি-ভীতিপ্রদর্শন যাই করুক না কেন --- সাতখুন মাপ। পুলিশ তাকে সমঝে চলে। প্রশাসন নিরব দর্শক। সাধারণ মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত। প্রহ্লাদ সাহা তাই বল্গাহীন। বেপরোয়া। অপ্রতিরোধ্য। নেতাগিরির পাশাপাশি দালালি, প্রমোটারি, তোলাবাজি থেকে শুরু করে বোলবোলা চোলাইয়ের কারবার কী নেই তার! নয়া-বস্তির প্রতিও সে এতটুকুও অনুদার ছিলনা। খুলে দিয়েছিল রমরমা চুল্লুর ঠেক যা দিনেদিনে হয়ে উঠেছিল এলাকার সবরকম অসামাজিক কাজকর্মের আঁতুড়ঘর। মারামারি, গোলমাল ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। নিরাপদ ছিলনা মেয়ে-বউদের সন্মান। ভয়ে সব কিছু দেখেও মুখবুজে থাকত সবাই। তবুও তো কারো কারো সহ্যের শেষ একটা সীমা থাকে!  যেমন বিশুর মত ছেলেদের যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহসটুকু রাখে। পুলিশি সাহায্য চেয়ে খুব স্বাভাবিক কারণেই হতাশ হয়ে একদিন তারই মত কয়েকজনকে জুটিয়ে নিয়ে চড়াও হয়েছিল প্রহ্লাদ সাহার চোলাইয়ের ঠেকে। পরিণতি আশঙ্কা করে আঁতকে উঠেছিল সবাই। আর এভাবেই তাদের আশঙ্কা সত্যি হতেও সময় লাগে নি। না, এখানেই শেষ নয়।

মা ভিন্ন বিশুর এই দুনিয়ায় আর কেউ ছিলনা। তাই ছেলের সৎকার মাকেই করতে হয়েছিল। 
ছেলেকে দাহ করে ঘরে ফিরেছিলেন রেণুবালা। কিন্তু কোথায় তখন তার ঘর? দাউদাউ জ্বলছে! গনগনে সেই আগুনের লেলিহান শিখা সীমাহীন ঔদ্ধত্যে আকাশ ছুঁতে চাইছে। চোখের সামনে তিলতিল করে গড়া ঘর-সংসার জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। তবুও অদ্ভুতভাবে নির্বিকার ছিলেন রেণুবালা। শুধুই চেয়ে রইলেন নির্বাক-সম্মোহিতের মত। এক লহমায় যেন সবকিছু শেষ হয়েগেল। একটু আগে নিষ্প্রাণ বিশু জ্বলে ছাই হয়েগেছে। এখন তার ঘর জ্বলছে! ভয়ে ঘরের কোণে সিঁটিয়ে আছে গোটা নয়াবস্তি। হয়ত ওদের নজরেও আসেনি --- বেবাক বস্তির আকাশ ছেয়ে ফেলেছে থিকথিকে কালো ধোঁয়া! ওদের মনে আছে তো --- বিশু আর নেই! আর দাঁড়ান নি রেণুবালা। চোখমুছে চিরকালের মত চলে যাবার জন্য পা বাড়িয়েছিলেন। যাবার কোনো ঠিকানা ছিলনা, তবু থেমে থাকেন নি।



ছেলেটার জামার কলার ধরে টেনে তুলে রেণুবালার পায়ের কাছে ধাক্কা মেরে ফেলল লোকটা।
"এই শালাই আপনার হার ছিনতাই করেছে। তাকিয়ে দেখুন একবার..."
মাটিতে মুখগুজে, হাত-পা দুমড়ে, দলা পাকিয়ে, নিস্তেজ হয়ে পড়ে রইল রক্তাপ্লুত ছেলেটা। বেশ খানিকক্ষণ। তারপর অনেক কষ্টে মাথাটা তুলতে পারল কিছুটা। দুটো চোখ কী ভীষণ ফুলে গেছে! টকটক করছে লাল। কথা বলারও ক্ষমতা ছিলনা। শুধুই সকরুণ আর্ত দৃষ্টিতে চেয়ে রইল রেণুবালার দিকে।

লোকটা আবার পাশবিক ক্রোধে মারমুখী হয়ে এগিয়ে গেল তার দিকে। 
গর্জে উঠলেন রেণুবালা,"খবরদার, ওর গায়ে একদম হাত দেবে না। তোমরা মানুষ! এতগুলো লোক মিলে একজনকে মারছ?"

লোকটা স্তম্ভিত। বিমূঢ়। এতটাই যে স্তব্ধবাক হয়ে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল রেণুবালার দিকে। রেণুবালার চোখে তখন এমন কিছু ছিল যাতে লোকটার হিংস্র ক্রোধ পোষা বাঘের মত সুড়সুড় করে খাঁচায় ঢুকে গিয়েছিল। অনেকটা সময় নিয়ে মিনমিনে গলায় কোনক্রমে বলতে পেরেছিল, "আমি নিজে চোখে দেখেছি ও-ই আপনার হার ঝেড়ে দিয়েছে....."

"কোথায় সেই হার?" শান দেওয়া তলোয়ারের মত ঝনঝন করে বেজে উঠল প্রশ্নটা।

লোকটা থতমত খেয়ে গিয়ে বলল, " মানে...পাওয়া যায় নি। সরিয়ে দিয়েছে আর কী! ওর দলে আরো লোক ছিল......"

"তার মানে নিছক সন্দেহের বশে..."

"বিশ্বাস করুন, আমি নিজে চোখে দেখেছি।"

রেণুবালা বেশ খানিকক্ষণ লোকটার  দিকে চেয়ে থেকে মাথা ঝাঁকালেন।

"ওই চোখেতো অনেক ভাল কিছুও দেখ, তখন কী কর? তখন তো ভাল কিছু করার ইচ্ছা জাগে না! যেই কারো কোনো মন্দ দেখলে অমনি মাথার পোকা ক্ষেপে উঠল --- আরো কত মন্দ করে তার জবাব দেবে, তাই না? একা না পারলে অন্যদের তাতাবে।"

থামলেন না রেণুবালা। এবার আঙুল তুলে চারপাশের মানুষগুলোকে ইঙ্গিত করে বললেন,"তুমি যে ওদের তাতিয়েছ, চেন ওদের? ওদের নিজেদের কোনো চোখকান নেই। অন্যের চোখে দেখে, অন্যের কানে শোনে। ওদের যদি কেউ বলে কাকে কান নিয়ে যাচ্ছে, ওরা নিজেদের কানে হাত দিয়েও দেখবে না, কাকের পিছন-পিছন দৌড়াবে। যেখানে দেখবে নিজেদের গায়ে এতটুকু আঁচড় লাগবে না সেখানে গিয়ে বীরত্ব দেখাবে আর যেখানে বীরত্ব দেখানোর প্রয়োজন সেখানে লেজ গুটিয়ে পালাবে। তোমাদের বিবেকে বাঁধল না --- তোমরা এতগুলো লোক একজোট হয়ে অতটুকু একটা ছেলেকে এভাবে মারতে মারতে মেরে ফেলতে বসেছ। ও যদি কোন অপরাধ করেই থাকে তার জন্য থানা পুলিশ আইন আছে, তোমরা বিচার করার কে?"

এবার লোকটা রেণুবালার দিকে অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে বলল, " মাসীমা হারটা কিন্তু আপনারই ছিনতাই হয়েছে।"  

রেণুবালা বলল,"সে কী আমি এত অল্পসময়ের মধ্যেই ভুলে যাব? আমার হার গেছে কষ্ট হলেও সয়ে নিতে পারব কিন্তু সারা জীবনধরেও সইতে পারব না যদি ওই হারের জন্য একটা আস্ত জীবন চলে যায়।"

সংখ্যায় অল্প হলেও এবার এগিয়ে এল তারা,যারা এই ভিড়ের মধ্যেই মিশেছিল কিন্তু যা ঘটছিল তাকে মেনে নিতে পারছিল না। কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহসও নেই।

"ঠিক বলেছেন আপনি। এদের পুলিশেই দেওয়া উচিত। এরা মানুষ! মানুষের রক্ত গায়ে থাকলে কেউ কাউকে এভাবে মারতে পারে?"

রেণুবালা কটমটকরে তাকালেন ওদের দিকে।

"তোমরাও তো ছিলে বাপু। ভেবে যখন কিছু করতে পারবে না তখন দেখে শুধুশুধু ভাবা কেন? না ভেবে ঠিক কাজটা যদি করতে তাহলে তো এ বেচারির এমনদশা হত না।"

এমন চিরতাগোলা স্পষ্ট কথাগুলো যেমন সোনামুখ করে মেনে নেওয়াও বেজায় কষ্টকর তেমনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে মুখ খোলাও চরম নির্বুদ্ধিতা। তাই তারা মানেমানে কেটে পড়াই শ্রেয় বোধ করল। সরে পড়েছিল সেই লোকটাও। সঙ্গে তারসাথে যোগ দেওয়া বীরপুঙ্গবদেরদলও। ভিড়টা বুদবুদের মত মিলিয়ে গেল। যেন কোথাও কিছু ঘটেনি। শুনশান অকুস্থল। এখন শুধু অভিযুক্ত ছিনতাইকারী আর যার হার ছিনতাই করার অপরাধে অভিযুক্ত সে -- সেই রেণুবালা।

ছেলেটা আগেরমতই মাটিতে মাথাগুঁজে, চার হাতপা এক করে কুঁকড়ে সিঁটিয়েছিল। রেণুবালা এগিয়ে গিয়ে তার মাথায় আলতো হাত রাখল।
"এই ছেলে উঠতে পারবে?"

ছেলেটা অনেক কষ্টে কোনক্রমে মাথাটা তুলতে পারল। তারপর কঁকিয়ে উঠল যন্ত্রণায়। চোখদুটো অস্বাভাবিক ফুলে গিয়েছিল, এতটাই যে খুলে তাকাতে পর্যন্ত পারছিল না। গোটামুখে, কপালে আঘাতের দগদগে চিহ্ন। কোথাও রক্ত ঝরছিল, কোথাও জমাট বেঁধে কালো হয়েছিল। 

রেণুবালা তার দুহাত বাড়িয়ে দিলেন। কিন্তু ওই দুটো হাতকে অবলম্বন করে উঠে দাঁড়াবার শক্তিটুকু পর্যন্ত আর অবশিষ্ট ছিল না ছেলেটির। এইবয়সে রেণুবালারও ক্ষমতা ছিল না ওই জোয়ান ছেলেটাকে টেনে তোলার। ওদের অসহায়তা বেশ কয়েকজোড়া চোখে ধরা পড়েছিল। তাদের কয়েকজন স্বত:প্রণোদিত হয়ে এগিয়ে এসে সাহায্য করল ওদের।

হাঁটার ক্ষমতা ছিল না ছেলেটার। সবাইমিলে কোনরকমে ধরেধরে নিয়ে গিয়ে সামনের একটা চায়েরদোকানের বেঞ্চে বসিয়ে দিল তাকে।

"একটু জল পাওয়া যাবে?"

দোকানি ব্যস্ত ছিল নিজের কাজে। রেণুবালার জবাবে ছোট্ট করে বলল,"ওই ধারে জগ আছে।"

আবার প্রশ্ন রাখলেন রেণুবালা,"গরম দুধ হবে?"

--- হবে। 

--- একগ্লাস দিতে পার। 

--- বসুন দিচ্ছি। 

ছেলেটা কাত হয়ে একপাশে নেতিয়েছিল। চোখ বন্ধ। মাঝেমাঝে যন্ত্রণায় বেঁকে যাচ্ছিল মুখখানা।

রেণুবালা তার গায়ে হাত রেখে বললেন,"এই ছেলে একটু সোজা হয়ে বস দেখি। চোখেমুখে একটু জল দিয়ে দিই।

"আ!" ছেলেটা একটু চেষ্টা করেই কাতরে উঠল।

রেণুবালা তাকে ধরেধরে শুইয়ে দিলেন। ক্ষতস্থানগুলো ধুইয়ে দিলেন। চোখেমুখে ভালো করে জলের ছিটে দিয়ে বললেন,"একটু ভাল লাগছে বাবা? দুধটুকু খেতে পারবে?"

সামান্য চোখখুলে একটু তাকালো ছেলেটি। তারপর আপনাথেকেই যেন আবার বুজে গেল। রেণুবালা বুঝতে পারলেন ওর খুব কষ্ট হচ্ছে। বললেন,"থাক বাবা, তুমি শুয়ে থাক। দুধটা না হয় একটু পরেই খেও।"

দোকানি এতক্ষণ হাতেরকাজটা সারার পাশাপাশি এদিকটাও লক্ষ্য রেখেছিল। এবার মুখ খুলল,"ও মাসীমা অত সেবাযত্ন ওকে করতে হবে না। ও শালা পকেটমারের জাত! এরকম ঘাপান খাওয়ার অভ্যাস ওর অনেক আছে। ও সব ঠিক হয়ে যাবে। একটুপরেই দেখবেন দিব্যি হেঁটে চলে যাচ্ছে। আপনি বাড়ি চলে যান।"

কথাগুলো খুব নিষ্ঠুরের মত কানে বাজলেও রেণুবালা শুনেগেলেন। পকেটমার হোক, ছিনতাইবাজ হোক রক্তমাংসের মানুষ বইতো নয়।  ওর কী যন্ত্রণা-কষ্ট থাকতে পারেনা। তার চেয়েও বড় কথা সবারবেলায় এক বিচার কই? দোকানির দিকে গনগনে চোখে খানিক চেয়ে থাকার পর তার মনে হয় যেন চিৎকার করে জানতে চায় --- স্বাধীনতাদিবসে নয়াবস্তিতে যখন পতাকা তোলে প্রহ্লাদ সাহা কিংবা মহান সমাজসেবী হিসেবে যখন তাকে ঘটা করে সংবর্ধনা দেওয়া হয় তখন তো টুশব্দ করার সাহস দেখি না কারো, কোথায় থাকে তখন এদের মত মানুষগুলো? দোকানির কথার কোনো উত্তর না করে বেঞ্চের একপাশে ঠায় বসে রইলেন রেণুবালা।

এবার দোকানি তার ভিতরের সবটুকু বিরক্তি গলার স্বরে ঝরিয়ে বলল,"মাসীমা বেঞ্চটা ছাড়তে হবে, এবার আসুন।"

রেণুবালা উঠে দাঁড়ালেন।
"এই ছেলে উঠতে পারবে?"

কোনো হুঁশ নেই। চোখ খুলে এতটুকু তাকাল না পর্যন্ত। রেণুবালা তার কপালে হাত রাখলেন। কী তাপ! প্রমাদ গুণলেন। কী করবেন এবার ছেলেটাকে নিয়ে? আর যে-ই পারুক রেণুবালা কিছুতেই ছেলেটাকে এভাবে ফেলে রেখে চলে যেতে পারবেন না। কিছুতেই না। ও যদি কোনো ছিনতাইবাজ না হয়ে তার বিশু হত, পারতেন তিনি? না না, তিনি পারবেন না।

দোকানিকে উদ্দেশ্যে করে বললেন,"ওকে আমি সঙ্গে করে নিয়ে যাব। একটা রিক্সা ডেকে নিয়ে এখুনি ফিরে আসছি।"

দোকানি বিস্ময়ে এতটাই স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল যে রেণুবালা অনেকদূর চলে যাওয়ার পরেও হাঁ করে তারদিকে চেয়ে রইল।

সারারাত জ্বরে বেহুঁশ হয়ে রইল ছেলেটা। ঠায় জেগে বসে রইলেন রেণুবালা। সমানে কপালে জলপট্টি দিয়ে যাওয়া। থার্মোমিটারে বারবার জ্বর দেখা। ওষুধ খাওয়ানো। মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া। শুশ্রূষার এতটুকু ত্রুটি নেই কোথাও। এই অজ্ঞতকুলশীল ছেলেটা কতকালের কত আপন যেন তার! আসলে ছেলেটার মুখে বারবার বিশুর মুখচ্ছবি ভেসে উঠছিল রেণুবালার চোখে। চোখদুটো জলে ভরে উঠছিল তার। বুকের ভিতরটাও চাপা দুশ্চিন্তা আর উত্তেজনায় টানটান অস্থির। বিশু জ্বরে অচেতন হলে ঠিক যেমনটি হত তার।

অবশেষে ভোররাতে গিয়ে একটু স্বস্তি মেলে গোটারাত ধরে চলা একটানা উদ্বেগের। ছেলেটার জ্বর অনেকটাই কমে। চোখও মেলে। তবুও যেন কেমন একটা ঘোরের মধ্যে থাকে। বিকেলের দিকে অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠল। উঠে বসল। কাছেই ছিল রেণুবালা। তিনি পরম স্নেহে একটি হাত তার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন,"আর জ্বর নেই তো?"

একটা নরম স্পর্শ আলতো ছুঁয়ে যায় ছেলেটির ললাটে। সমস্ত শরীর তার অদ্ভুত এক অনুভবে থরথর করে কেঁপে ওঠে। আজকের এই চকিত অনুভব তার কাছে সম্পূর্ণ অচেনা, অন্যরকম --- যার স্বাদ আগে সে কোনদিন পায় নি।

"না গা ঠান্ডা। আর কোনো ভয় নেই। গরম দুধ আর মুড়ি নিয়ে আসছি। এখন কিছু খেতে হবে। কাল থেকে তো কিছুই খাওয়া হয় নি।"
উঠে দাঁড়ালেন রেণুবালা।   

অনেক চেষ্টা করেও দমন করতে পারল না ছেলেটি --- হাউ হাউ করে কেঁদে উঠল। লোকচক্ষুর অন্তরালে নিশ্চুপে, চরম অবহেলায় নিকৃষ্ট কীটের মত বেঁচে এসেছে এতকাল। জন্মমুহূর্তেই তার পরিচয়ে তপ্ত লৌহশলাকায় খোদাই হয়ে গিয়েছিল একটি দুরপনেয় শব্দ --- বেজন্মা! এই পরিচয়ের বিষজ্বালার তিলার্ধমাত্রও ভাগ নেয় নি কেউ কোনোদিন। না তার গর্ভধারিনীও নয়। তাকে ফেলে একরাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে সে কোন এক নাগরের হাত ধরে পালিয়ে গিয়ে হাতধুয়ে ফেলেছিল অবলীলায়। আর সেই রাত থেকে থকথকে পাঁকে ব্যাঙাচির মত কিলবিল করতে করতে শুরু হয়েছিল এক 'বেজন্মা' শিশুর বেঁচেথাকার প্রাণান্তকর লড়াই। মাথার উপর খোলা আকাশ। ফুটপাতের এককোণে কুকুরের সাথে ভাগাভাগিকরে থাকা। ভাল করে খুঁটে খেতে শেখার আগেই হাড়েহাড়ে টের পেয়েছিল --- খিদে কাকে বলে! অত্যুগ্র খিদে! অতটুকু সে, তবুও এতবড় জগৎ-সংসারে তার খিদের দায় ভয়ঙ্কর নিষ্করুণভাবে যেন শুধুই তার। কী নির্মম তার পারিপার্শ্বিকতা! হাত পেতে খাবার চাইলে দূর-দূর করে তাড়িয়ে দেবে। কেড়ে খেলে মেরে হাত ভেঙে দেবে। চোখের জলে বুক ভাসালেও বুঝতে চাইবে না ওদের পেটের জ্বালাটা। পশুপ্রেমীর দল বিস্কুট ছুঁড়ে ছুঁড়ে যত্ন করে কুকুরকে খাওয়াতো। খিদের তাড়নায় যদি সে একটা কুড়িয়ে নেবার জন্য হাত বাড়াত, যতনা ঘেউ ঘেউ করে কুকুরগুলো তেড়ে আসত তার চেয়ে অনেকবেশি খেঁকিয়ে উঠত পশুপ্রেমীর দল। ভয়ে জড়সড় হয়ে গিয়ে, পেট ভর্তি খিদে নিয়ে জুলজুল করে কুকুরগুলোর খাওয়া দেখত। তার হাতে কেউ কোনদিন একটুকরো খাবার তুলে দেয় নি। একটুও আদর করে নি। দুটো মিষ্টি  কথা বলে কাছে ডাকে নি। জ্বরে অচৈতন্য হয়ে পড়ে থাকলেও কপালে হাত ছুঁয়ে কেউ কখনো তাপ দেখার প্রয়োজনবোধ করে নি। তবু ছেলেটি কোনদিন এতটুকুও কষ্ট পায় নি। দু:খ পায়নি। এক ফোঁটা চোখের জলও ফেলে নি। দু:খ-কষ্ট-আবেগ-যন্ত্রণা কিংবা স্নেহ ভালোবাসা মায়া মমতা --- এগুলো যে কী বস্তু কোনোদিনই তার জানার সুযোগ হয়ে ওঠে নি। মার খেতেখেতে অসহ্য তাড়সে ভিন্ন আর কোনো কারণে যে কাঁদা যায় --- সে আজ পর্যন্ত কোনোদিন ভাবতেই পারে নি। আজই প্রথম জানল। কেউ যেন হাত ধরে নিয়ে গিয়ে আকস্মিকভাবেই তাকে এই প্রথম  চিনিয়ে দিল তার ভিতরের সম্পূর্ণ অচেনা, অদেখা আরো একটা জগৎকে। অলৌকিক আলোয় উদ্ভাসিত এমন একটা জগৎ --- সম্পূর্ণ-সম্পূর্ণ যে তার নিজেরই, শুধুই তার নিজের --- কথাটা ভাবতেই বিস্ময়ে, আনন্দে, উচ্ছ্বাসে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেল। না না, এই জগৎটাকে আর সে কোনো নারকীয় অন্ধকারে হারিয়ে যেতে দেবে না। সব জড়তা, সব অবসন্নতা এক ঝটকায় ঝেড়ে ফেলে উঠে বসল। তারপর এক লাফে ঘর থেকে বেরিয়ে যেন হওয়ায় মিলিয়ে গেল।

দুধের গ্লাস আর মুড়ির বাটি হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকেছিল রেণুবালা। 

"এটুকু খেয়ে নে বাবা...."

তার দুটো চোখ থমকে গেল বিছানায়। খাঁ খাঁ। শুনশান। বুকের ভিতরটা ছ্যাঁৎ করে উঠল। কোথায় গেল ছেলেটা? বাটি- গ্লাসটা কোনরকমে রেখে প্রায় দৌড়ে বেরিয়ে গেলেন ঘর থেকে। ঘরের চতুর্দিকে, এখানে-ওখানে পাগলের মত খুঁজে ফিরলেন। কিন্তু কোথায় কে?

হতাশ, বিমর্ষ রেণুবালা আবার ঘরে এসে ঢুকলেন। বিছানার একপাশে ঝপাৎ করে নিজেকে ছেড়ে দিয়ে স্থানুর মত নির্বাক বসে রইলেন। অনেকক্ষণ-অনেকক্ষণ ঐভাবে বসে থাকার পর বিড়বিড় করে বলে উঠেছিলেন,"কিছু না বলেই চলে গেলি বাপ....একটু সুস্থ হয়ে না হয়....আর কি কখনো ফিরবি না বাপ...."

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে হল। সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত। রাতও গভীর থেকে গভীরতর হতে লাগল। রেণুবালা ঠায় বসেই রইলেন। মুখে একটা দানাও কাটলেন না। দুচোখের পাতাও এক করলেন না। 

রাত তখন নিশুতি। হঠাৎ ভেজান দরজাটায় মৃদু টোকা মারার শব্দ। একবার...দুবার...। রেণুবালা উঠতে যাবেন আর ঠিক তখনই দরজাটা খুলে গেল।

যেন বিশ্বাস হয় না রেণুবালার! বিহ্বলতা কাটিয়ে উঠতে অনেকটা সময় লেগেছিল তার। তারপর উচ্ছ্বসিত গলায় বলতে বলতে এগিয়ে গিয়েছিলেন ---
"আমি জানতাম... আমি জানতাম, তুই আবার ফিরে আসবি..."

ছেলেটা জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তা' দেখে রেণুবালা বলে উঠলেন,"দাঁড়িয়ে রইলি কেন, ভিতরে আয়।"

ছেলেটা ঘরে ঢুকেও সঙ্কুচিত হয়ে রইল। কেমন যেন সন্ত্রস্ত ভাব। দুচোখেও ভয় মিশে ছিল। অবাক হলেন রেণুবালা। গলায় উদ্বেগ ঝরিয়ে বললেন --
"কী হয়েছে বাপ? কোথায় গিয়েছিলি?"

ছেলেটা যন্ত্রচালিতের মত তার ডানহাতটা এগিয়ে দিল। আলগা করল তার হাতের মুঠো। রেণুবালার চক্ষু চড়কগাছ! এ যে তার সেই হারছড়াটা! 

"তার মানে কাজটা তোরই।"

ছেলেটা মাথা নীচু করে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল।

রেণুবালা হতাশ সুরে বললেন,"আমার মনে হয়েছিল কাজটা তুই করিস নি..."

রেণুবালার কথা শেষ হল না। ছেলেটা হাউমাউ করে কাঁদতে-কাঁদতে রেণুবালার দুটো পা জড়িয়ে ধরে বলল,"তুমি আমাকে যা খুশি শাস্তি দাও, পুলিশে দাও, শুধু আমার একটা কথা বিশ্বাস কর -- এমন কাজ এজন্মে আমি আর কোনদিন করব না। এই তোমার পা ছুঁয়ে বলছি..."

"আমার পা ছুঁয়ে বললেই বা কী? আমি তোর কে?"

ছেলেটা মুখ তুলে রেণুবালার চোখে তাকাল। দুগাল বেয়ে তার অশ্রুধারা গড়িয়ে নামছিল।

"তুমি আমার মা।"

শোনামাত্রই গোটা শরীর থরথর করে কেঁপে উঠল রেণুবালার। মা! মা! কতদিন ওই নামে তাকে কেউ ডাকে নি। তীব্র আকুতিভরা দৃষ্টিতে তাকালেন ছেলেটার দিকে। দুচোখ জলে ভরে উঠল।

"তুমি আমাকে তাড়িয়ে দেবে না তো?" কাঁদতে-কাঁদতে করুণ স্বরে বলে উঠল ছেলেটা।

উদ্গত অশ্রুকে অনেক কষ্টে সংবরণ করে কেবল মাথাটা নাড়ালেন মাত্র।

ছেলেটার কণ্ঠে নৈরাশ্যের সুর ঝরে পড়ল,"আমাকে বিশ্বাস করছ না, না?"

রেণুবালা স্নিগ্ধ হাসলেন। 

"তুই হারটা ফিরিয়ে এনেছিস, এরপরেও তোকে বিশ্বাস না করে থাকা যায়!"

তাকে বিশ্বাস করেছে! তাকে!! যে কিনা একটা বিশ্রী জানোয়ার -- একটা পকেটমার, ছিনতাইবাজ, বেজন্মা -- তাকে বিশ্বাস করেছে! নিজের কানকেও যেন বিশ্বাস করতে পারল না ছেলেটা। এই মানুষটা তাকে প্রাণে বাঁচিয়েছে। কপালে স্নেহের হাত বুলিয়েছে। ভালবেসে নিজের হাতে খাইয়ে দিয়েছে। নিখাদ মমতায় সারারাত জেগে সেবা করেছে। তার জন্য চোখের জল ফেলেছে। এখন আবার তাকে বিশ্বাসও করছে! এই নিষ্ঠুর, কঠিন দুনিয়ায় কোন মানুষ শুধু হাতে, নি:স্বার্থে আরেকজনকে এত মহার্ঘ কিছু দিতে পারে? পকেট মেরে টাকা ভর্তি ব্যাগ পেলে কিংবা ছিনতাই করে ভারী একটা গয়না পেলে ভাবত -- উ: কী না পেয়েছি! এর থেকে দামী কিছু পাওয়া বুঝি এই পৃথিবীতে আর কিছু হয় না! সে কতই না বোকা ছিল!! আজকের সত্যিকারের দামী জিনিসটা পাওয়ার বাঁধভাঙা আনন্দের উদ্বেলিত আবেগকে ধরে রাখতে পারল না সে। জলোচ্ছ্বাসের মতই যেন আছড়ে পড়ল। মাথাটা রেণুবালার পায়ে গুঁজে দিয়ে অঝোরে কাঁদতে-কাঁদতে বলল,"তুমি আমার মা -- তুমিই আমার মা। তোমার পায়ের কাছে আমাকে একটু জায়গা দিও...."

রেণুবালা তাকে দুহাতে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। তার শূন্য বুকটা যেন কানায় কানায় ভরে উঠল। মুহূর্তের জন্য যেন তিনি সবকিছু বিস্মৃত হয়ে গেলেন।

হ্যাঁ হ্যাঁ বাবা, আমি তোরই মা --- তোরই মা। কেন তোকে থাকতে দেব না? কেন তোকে তাড়িয়ে দেব? বাবা আমার, এসব তুই কী বলছিস বিশু?"

বিশু!! নামটা কানে যেতেই ছেলেটা বুঝতে পারল মানুষটা কোথাও একটা ভুল করছে। মানুষটা বোধহয়   নিজের মধ্যেই নেই। কিন্তু কে বিশু? ছেলে? মানুষটা কি তাকে তার ছেলে ভেবে বসেছে? দারুণ একটা ভাললাগায় মনটা ভরে উঠল। কিন্তু সে আজ বদলে গেছে। কাউকে কোনভাবে আর ঠকাবে না।

"আমি তোমার বিশু নই। আমার দিকে তাকিয়ে দেখো।"

"হ্যাঁ রে বাবা তুই আমার বিশু। বিশুই। আমার ছেলে।"

ছেলেটা রেণুবালার বুকের ভিতর থেকেই নিজের মুখটা রেণুবালার চোখের সামনে তুলে ধরে আবারো বলল,"এই দেখ, চেয়ে দেখ..দেখ, আমি বিশু নই! আমি ভেকু। একটা ছিনতাইবাজ! পকেটমার! বেজন্মা! আমাকে এতটুকু রেখে পালিয়ে গিয়েছিল আমার মা...."

রেণুবালা আরো শক্ত করে তাকে বুকের মধ্যে চেপে ধরে বললেন,"কে বলল তোকে এসব? তুই ঈশ্বরের সন্তান রে ---- ঈশ্বরের সন্তান।" 

উছলে পড়া কান্নাকে সামাল দিতেই খানিক থামলেন। তারপর আবার বলে চললেন,"ছেলেটা আমার কোনদিন অন্যায় করেনি, কারো মন্দ করে নি, প্রাণ দিয়ে সবাইকে ভালবেসে ছিল। তবুও একদল শয়তান নিষ্ঠুরভাবে ওর প্রাণটা কেড়ে নিয়েছিল আমার বুক শূন্য করে। মানুষের বিচার অন্ধ হলেও ঈশ্বর কোনদিন কারো প্রতি অবিচার করেন না। তাই তো আমার শূন্য বুকে ভরিয়ে দিলেন আরেক সন্তানকে পাঠিয়ে দিয়ে। তুই আমার ছেলে রে --- আমার ছেলে। আমার কাছেই থাকবি --- আমার কাছেই।"

পরিচয়ের অভিশাপমুক্তি, মাকে পাওয়া, নতুন জীবন --- ছেলেটা  বল্গাহীন খুশিতে যেন জ্ঞানহারা‌ হয়ে গেল। দুহাত তুলে উপরওয়ালাকে কৃতজ্ঞতা জানাল। শিশুর মত নানা অঙ্গভঙ্গি করতে লাগল। কখনো কাঁদতে লাগল, কখনো হাসতে লাগল। আনন্দে যে কী করবে ছেলেটা যেন কিছুই ভেবে উঠতে পারল না।

রেণুবালা তার অবস্থা দেখে হাসতে হাসতে বললেন,"অনেক হয়েছে বাবা, আর একটুও নয়। অসুস্থ শরীরটার উপর দিয়ে আজ অনেক ধকল গেছে। এবার শুয়ে পড়।"

সারা শরীর জুড়ে ভাললাগার কী অদ্ভুত স্নিগ্ধ আবেশ! মন চায় না ঘুমিয়ে গিয়ে তাকে হারিয়ে ফেলতে।   কিন্তু দুর্বল শরীরটা আর নিতে পারে না। ছেলেটা ঘুমিয়ে পড়ল। রেণুবালা তারপরেও সমানে তার মাথায় হাত বুলিয়ে চললেন। চোখদুটো যখন তারও বুঝে আসতে চাইল তখন বাইরে ভোরের আলো ফুটছে। রেণুবালা নড়েচড়ে টানটান হয়ে বসলেন। ঘুমলে আর চলবে না। সামনে অনেক বড় দায়িত্ব। আরো একটা বিশুকে গড়ে তুলতে হবে।। 

                               --- --- --- ---

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় 
 হৃদয়পুর, উত্তর ২৪ পরগণা


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং অফিসে ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

বর্ষার কবিতা ।। বিচিত্র কুমার

কয়েকটি বর্ষার কবিতা বিচিত্র কুমার (০১) শ্রাবণের আকাশ শ্রাবণের আকাশ, যেন অশ্রু লুকিয়ে রাখা দুটি চোখ; হাসির আড়ালেও যার ভেতরে বৃষ্টি জমে থাকে। কদমের গন্ধ, যেন শৈশবের ডাক; সময় যত দূরেই নিয়ে যাক, মন তাকে ভুলতে পারে না। ভেজা পথ, যেন জীবনের অসমাপ্ত অধ্যায়; প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন অর্থ লেখা হয়। যে স্মৃতিকে সম্মান করতে পারে, সে বর্তমানকেও সুন্দর করে বাঁচতে শেখে। (০২) ভেজা বিকেল বর্ষার বিকেল, যেন পুরোনো ছবির অ্যালবাম; প্রতিটি দৃশ্য ভুলে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনে। দূরের বাঁশবন, যেন অপেক্ষার দীর্ঘ ছায়া; সময় বাড়ে, অথচ আশার আলো নিভে না। পথের ছোট্ট জলধারা, যেন অবহেলিত স্বপ্ন; একদিন সেও নদীর সঙ্গে গিয়ে মিশে। ছোট বলে কোনো স্বপ্নকে অবহেলা কোরো না; সমুদ্রও একদিন একফোঁটা জল থেকেই শুরু হয়। (০৩) বৃষ্টির প্রদীপ বর্ষার রাত, যেন গভীর ধ্যানের একটি মন্দির; অন্ধকারও সেখানে আলোকে জন্ম দিতে শেখায়। বৃষ্টির ফোঁটা, যেন ছিন্ন স্বপ্নের মুক্তো; মাটিতে পড়েই তাদের প্রকৃত মূল্য প্রকাশ পায়। ভেজা জানালা, যেন মনের আয়না; অশ্রু মুছে গেলেও অনুভূতির দাগ থেকে যায়। ভাঙা স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়েই মানুষ নতুন আকাশ দেখতে ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত

 তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত নবপ্রভাতের   আহ্বান রাতের   শেষে   ফুটল   ভোর , সোনার   রঙে   রাঙে   ঘোর।   শিশির ভেজা   ঘাসের   বুকে , সূর্য   হাসে   মিষ্টি   মুখে। পাখিরা   গায়   নতুন   গান , জেগে   ওঠে   সারা   প্রাণ। নদীর   জলে   রোদের   নাচ , মেঘের   গায়ে   আলোর   আঁচ। ফুলের   ডালে   মধুর   গন্ধ , মনটা   ভরে   আনন্দ। হাওয়া   বয়ে   আনে   সুখ , মুছে   দেয়   সব   দুঃখ। নতুন   দিনের   নতুন   ডাকে , স্বপ্ন   জাগে   হৃদয়   ফাঁকে। চলার   পথে   আশা   সাথি , সাহস   থাকে   প্রতি   রাতে। পরিশ্রমে   ফুটুক   ফুল , ভেঙে   যাক   সব   ভুল। ভোরের   আলো   বলে   তাই , জীবন   জয়   করবই।   বৃষ্টির   সুরে   বাংলা কালো   মেঘে   ঢাকে   আকাশ , বৃষ্টি   নামে   উচ্ছ্বাস। কদম...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭