Skip to main content

প্রণব কুমার চক্রবর্তীর গল্প


    লক্ষ্মীপুরের বিমলা 

              

    সকালেই বল্লরী ফোন করে জানালো যে , এবারের নবান্নের অনুষ্ঠানে ওরা অাসতে পারবে না ৷ 
   - সে কি বলছিস ! 
    - গতবারে গিয়ে অর্ক ভীষন অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলো ৷ 
    - কেন ? বিমলা জানতে চায় ৷ 
     - কেন অাবার ৷ সে তো ও ই জানে ৷ বাড়িতে ফিরে খুব রাগারাগি করেছিলো ৷ 
     -দে লাইনটা অর্ককে ৷ অামি কথা বলবো ৷
     - মায়ের কথা শোনা মাত্রই  বল্লরী ঝাঁজিয়ে বলে - থাক ৷ ওর সাথে কথা বলে কোনও  লাভ হবে না ৷
      - কেন ? অামার তো ব্যপারটা একটু জানা দরকার ৷ 
      - তোমার জেনে কোনও লাভ নেই  ৷গোটা ব্যাপারটা ওর বাবা মা শুনে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন - তোমার এসব অাধিক্ষেতা  অার বুজরুকি  ওনারা একদম মেনে নিতে রাজি নন ৷ নিষেধ করেছেন যেতে ৷ বলেছেন কথা দিয়েছিলেন মানে এইনয় যে , তুমি ওদের ছেলেকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে ওই ভাবে হেনস্তুা করবে !
     - এ কী লছিস ? বিমলা কাঁদো কাঁদো গলায় বলে - অামি ওদের  কাছে , মানে অর্কের বাবা মায়ের সাথে কথা বলে এক্ষুনি ব্যাপারটা মিটিয়ে নিচ্ছি  ৷ অামার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ৷        - সে অার করতে হবে না ৷ তুমি কী চাও তোমাদের জন্য অামার সংসারটা ভেঙে যাক ?অামি এর খেশি অার কিছুই  বলতে চাই  না ৷ তোমরা অামাদের জন্য অযথা অপেক্ষা করবে বলে সকালেই ফোন করে জানিয়ে দিলাম ৷ কিছু মনে কোরো না , বলেই লাইনটা কেটে দিলো ৷
    বিমলা রিসিভারটা মুখের কাছে নিয়ে বার কয়েক জোরে হ্যালো হ্যালো করে চিৎকার করে বুঝলো বল্লরী  ফোনটা ছেড়ে দিয়েছে ৷ একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বিছানায় গিয়ে বসে পড়লো ৷ ভাবে- এখন ওর কী করবে  ? বল্লরীর বাবাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে গোটা ব্যাপারটা বলবে ? নাকি নিজেই ছেলে বিল্টুকে নিয়ে সকালের প্রথম বাসেই বসিরহাটে অর্কদের বাড়িতে চলে যাবে ! ক্ষমা চেয়ে বুঝিয় সুঝিয়ে মেয়ে অার জামাইকে নিয়ে অাসবে ?

                                ( দুই  )

     ভাবতে ভাবতেই বিমলার দু চোখ জলে ভরে ওঠে ৷
     বুঝতে পারে -কথাগুলো মোটেই  বল্লরীর মনের কথা নয় ৷ সাংসারিক শান্তি বজায় রাখার জন্যই ও সব কথা বলেছে ! বিয়ের পরে  বিগত চার বছর ধরে ওরা অাসছে ৷ অথচ , এবারে এই কথা ! হঠাৎ  কী হলো ! অর্করা তো অশিক্ষিত পরিবার নয় ! যথেষ্ট লেখাপড়া জানে ! তবু কেন এই ধরনের কথা ! বল্লরীর বিয়ে দেবার অাগে ওর শ্বশুর বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় এবং শ্বাশুরি মহামায়া দেবী অর্কের বাবা অার মায়ের সাথে এই ব্যাপারে কথা বলেই নিয়েছিলেন ৷ লক্ষ্মীপুর গ্রামে নবান্নের অনুষ্ঠানটা খুবই  জাঁক -জমক পূর্ণ ৷ সারাটা গ্রাম এই উৎসবে মেতে ওঠে ৷ ওই দিনটাতে বল্লরী অার অর্ককে যন অাসতে দেয়া হয় ৷
     অর্কের বাবা অার মা ওঁদের সেই দাবী মেনেও নিয়েছিলেন ৷ অথচ ,অাজ অাসতে দিতে রাজি নন !
     চোখের সামনে ভেসে ওঠে শ্বশুর বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায়ের মুখ ৷ 
     বিছানায় বসেই ও দেয়ালে টাঙানো ছবিটার দিকে তকাতেই যেন শুনতে পায় - বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায়ের গলা ! ওকে ডেকে বলছেন - বৌমা ? ডোন্ট ক্রাই ৷ এটা খুব সামান্য ব্যাপার ৷ তোমার মেয়ে জামাই অাজ এলো কী না এলো , সেটা কোনও  ব্যাপারই নয় ৷ মনে রেখো ,তুমি শুধুমাত্র বল্লরী অার বিল্টুরই মা নও ৷ তুমি সব্বার মা ৷ তোমাকে সব্বার কথাই ভাবতে হবে ৷ ওরা ওদের কথা খেলাপ করতে পারে , কিন্তু তুমি তোমার কর্তব্যে অটল থেকো ৷ অামি সেটাই দেখতে চাই  ৷ 
      হাজার হোক মেয়ে জামাই বলে কথা ! মনের ভেতরের দৃঢ়তা হঠাৎই কেমন যেন শীথিল হয়ে উঠেছিলো ৷ মাতৃস্বত্তা ওকে ভীষন ভাবে নাড়া দেয়া শুরু করেছিলো ৷ সত্যিই  যদি ওর জন্য বল্লরীর সংসারটা ভেঙে যায় , তাহলে মা হিসবে সেটা ও দেখবে কিভাবে ? মিটিয়ে নেয়াটাই ভালো ৷
     বিমলা একবার ভেবেছিলো স্বামীকে ডেকে বলবে - যাও ৷ তুমি শান্ত স্বভাবের মানুষ ৷ তোমাকে দেখলে  ওনারা বেশি কিছু বলতে পারবে না ৷ গিয়ে ওদের বুঝিয়ে নিয়ে এসো  ৷ কিন্তু , পরমুহূর্তেই  বিমলা ওর শ্বশুর অার শ্বাশুরির মান সম্মানের কথা ভেবে ঠিক করে - নাহ্ ৷ বলবে না ৷ অন্তত অাজ তো মোটেই  নয় ৷কারন এই দিনটার সকথে গ্রামের অনেকেরই  মান সম্মান জড়িয়ে রয়েছে ৷
     বিমলা কোনও মতেই গ্রামের মান সম্মাল ভূলুণ্ঠিত হতে দেবে না ৷

                                 ( তিন )

      লক্ষ্মীপুর গ্রামটা মূলত দক্ষিন চব্বিশ পরগনার কোল ঘেঁসা উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাট মহকুমার একটি কৃষি এবং মেছোঘেরি অধ্যুষিত অঞ্চল ৷ 
      মিনাখাঁ থানার দক্ষিনে বিদ্যাধরী নদির পাশে এই গ্রামটি বাদ দিলে চারপাশের গ্রামগুলোতে - হাকিবপুর , রাঁকিপুর , নিয়ামতপুর , বেরমজুর , ইত্যাদিতে মুসলীমদের অাধিপত্যিই বেশি ৷ গ্রামের বেশিরভাগ লোকই হয় কৃষিজীবী - ধনী মানুষের জমিতে চাষ-অাবাদ করে , না হয় বাবুদের মাছের ঘেরিতে কাজ করে জীবন নির্বাহ করে ৷ লেখা পড়ায় খুব একটা উৎসাহী নয় ৷ ওদের ধারনা - লেখাপড়াটা অর্থ-কড়ি সম্পন্ন  লোকদের একটা শখ ৷ সমাজে বাবুগিরি দেখাবার একটা কায়দা মাত্র ৷
      বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায়ের বাবা ব্রহ্মজ্যোতি
বিদ্যাবিনোদ গ্রামে একটা সংস্কৃতের টোল খুলেছিলেন ৷ সেটা দেখেই  হাজি নুরুদ্দিন মুনশীরো ইচ্ছে হয়েছিলো গ্রামের মসজিদে একটা মক্তবা খোলার ৷ ব্যাপারটা রেশারেশির পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এই চিন্তা করে ব্রহ্মজ্যোতি বিদ্যাবিনোদ হাজি নুরুদ্দিন মুনশীকে বলেছিলেন - শোনো  ভায়া ? গ্রামের ছেলেদের ওই সংস্কৃত অার অারবি-ঊর্দু শিখে কোন কামে লাগবে ? লেখা-পড়া যদি শিকতেই হয় , ইংরেজী শিখতেইহবে ৷ নাহলে গ্রামের ,ছেলেপুলেরা অফিস-কাছাড়ীতে চাকবীইপাবে না ৷
      দু জনে উদ্যোগী হয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামে প্রায় বিঘা পাঁচেক জমির উপরে প্রথমে একটা প্রাথমিক ইস্কুল তৈরি করেছিলেন ৷ হাজি বদরুদ্দোজাকে পধান শিক্ষক করে বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায়কে করেছিলেন ইস্কুল কমিটির প্রেসিডেন্ট ৷
      সেই  ইস্কুল এখন জুনিয়ার হাই ইস্কুলে পরিনত হয়েছে ৷ আশ-পাশ গ্রামের ছেলেরা সব পড়তে অাসে ৷ বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় এবং হাজি বদরুদ্দোজা সাহেবের ইচ্ছে যে কোনও মূল্যেই ওই জুনিয়ার হাই স্কুলকে একদিন হাই ইস্কুলে পরিনত করবেন ৷
     ইস্কুলের সামনের বিরাট মাঠটাতে ওই তল্লাটের মুসলীমরা মহরমের দিন তাজিয়া নিয়ে এসে  লাঠি-সড়কি খেলতো ৷ সব সম্প্রদায়ের মানুষ মাঠে এসে হাজির হতো তাজিয়া এবং লাঠি খেলা দেখার জন্য ৷ হিন্দুরাও  রথ, গাজন , শিব , ইত্যাদির মেলা বসাতো ৷ হাজি বদরুদ্দোজা সাহেব একদিন নিজেই উপযাজক হয়ে বিমলার শ্বশুর বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায়কে বলেছিলেন - অামি যতদূর অাপনাদের শিব পূজোয় বট গাছ লাগে ,তাইনা ? কিন্তু , এই ইস্কুলের মাঠে তো বট গাছ নেই  ৷ অসুবিধা হয় না ? 
     বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় কোনও উত্তর না দিয়ে চুপ করেছিলেন ৷
    - বুঝেছি সাহেব ৷ বদরুদ্দোজা মাস্টার হেসে বলেছিলেন - মৌনতাই সম্মতির লক্ষ্যন ৷ নিজেই উদ্যোগী হয়ে ইস্কুলের মাঠের একদম দক্ষিন প্রান্তে কালুয়া দিঘীর পাড়ে একটা বট গাছের চারা এনে লাগিয়ে বলেছিলেন - যতদিন এইগাছটা বেঁচে থাকবে ততদিন লক্ষ্মীপুরের বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় এবং বদরুদ্দোজা  মাস্টারও বেঁচে থাকবে ৷ 
      কালুয়া দিঘীর পাড়ের সেই বট গাছটা এখন শাখা-প্রশাখা অার ঝুড়িতে বিরাট অাকার ধারন করেছে ৷ গ্রীষ্মের তপ্ত নিদাঘ অার দাবদাহের হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই দুপুর বেলায় ওইবট গাছের ছায়ায় শুয়ে বসে বিশ্রাম নেয় ! মনে হয় যেন বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় অার বদরুদ্দোজা মাস্টার ছাতা হয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামটাকে রোদ ঝড় জল এবং বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে !

                                  (চার )

       সাল এবং মাসটা এখনো বিমলার মনে অাছে ৷ ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাস ! শীতটা সবে বেশ জাঁকিয়ে পড়া শুরু করেছে ৷
       বিমলা সেই সময় বছর চারেক হলো লক্ষ্মীপুরে বৌ হয়ে এসেছে ৷
       বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় সকাল সকাল বাজার করে এসে বাড়িত বসে টিভি দেখতে ব্যাস্ত ৷ সারা ভারত জুড়ে তোলপাড় করা খবর ! এক দল লোক অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙার কাজ শুরু করেছে ! সেখানে নাকি রাম মন্দির বানানো হবে !
        সাংঘাতিক ব্যাপার !
        ঘটনার রেশ হিসেবে ভারতের বিভিন্ন্ স্থানে সাম্প্রোদায়িক গন্ডগোল শুরু হয়ে গেছে ! উভয় সম্প্রোদায়ের মানুষ একে অপরের উপরে খড়্গ হস্ত হয়ে খেঁপে উঠেছে !
        চারপাশে একটা অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি !
        সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার উভয়েই রেড-এ্যালার্ট জারি করেছে ! পুলিশ টহল শুরু হয়ে গেছে ৷ প্রশাসনের তরফ থেকে মাইকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য প্রচর করা শুরু করেছে ৷
        বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় ঘরে বসে টিফিন খাচ্ছিলেন ৷ হঠাৎ , ছেলে ব্রজকে ডেকে বললেন - দ্যাখ তো বদরুদ্দোজা মাস্টার বাড়িতে অাছে কিনা ? থাকলে , ডেকে অানতো ৷ দেশের অবস্থা মোটেই  ভালো না ৷ অামাদের  এখনই কিছু ভাবা প্রয়োজন ৷
       ব্রজ বরুতে গিয়েই দেখে বদরুদ্দোজা মাস্টার অারোও  কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে এসে হাজির ৷ হন্তদন্ত হয়ে বলে ওঠেন - শুনেছেন কর্তা ? দেশের হাল ! অামাদের এই সব এলাকা তো গন্ড-মূর্খের বাস ৷ কেউ এই সুযোগে এদিকে না গন্ডগোল লাগাবার চেষ্টা করে ! বুঝলেন কর্তা  অামি ঠিক করেছি অামরা সবাই মিলে এই লক্ষ্মীপুরে কোনও গন্ডগোল পাকাতে দেবো না ৷ কিছুদন সবাই  মিলে পালা করে পাহারা দেবো ৷
       - এর থেকে উত্তম প্রস্তাব অার কী হতে পারে ৷ বিপ্রদাশ বাবু বলেছিলেন - এমনটাই তো হওয়া দরকার ৷ চলুন হাজি সহেব অামি এখন থেকেই তৈরি ৷
       অাতংক এবং ভীতির মধ্যেই  দিন চারেক কাটার পরেই হঠাৎ কিভাবে যেন একটা গুজব রটিয়ে দেয়া হলো - লক্ষ্মীপুরের হিন্দুরা বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায়ের  নেতৃত্বে ইস্কুলের মাঠে যেখানে মহরমের লাঠি খেলা এতদিন ধরে হয়ে অাসছে , সেটা দখল করছে ৷ তুলসির বেদী  এবং শিবের মন্দির করবে বলে ইঁট বালি সিমেন্ট সব ফেলেছে ৷
       ব্যাস ! যাবে কোথায় ?
        বিকেলের দিকে অাশ-পাশ এলাকার সব মুসলমানরা যেমন লাঠি-সড়কি নিয়ে চড়াও  করলো লক্ষ্মীপুরে ৷ হিন্দুরাও পিছিয়ে ছিলো না ৷
তারাও  লক্ষ্মীপুরের তুলসি বেদী এবং শিব মন্দির তৈরর কাজ ত্বরান্নিত করার জন্য সেখানে এসে দাঁড়ালো ৷
       একদিকে মুসলীমদের না রাহে তগদির ধ্বনি ! অন্যদিকে হিন্দুদের ঘন ঘন জয় শ্রী রাম অাওয়াজ !
       সংঘর্ষ বধে অার কী ! 
        উভয় সম্প্রোদায়ের মহিলারা ভয়ে বাড়িতে বসে নিজেদের ইস্ট দেবতাকে স্মরণ করা শুরু করেছিলো ৷ ঠিক সেই  সময়েই  বদরুদ্দোজা মাস্টার এবং বিমলার শ্বশুর লক্ষ্মীপুরের উভয় সম্প্রোদায়ের সমস্ত ছেলেদের নিয়ে রুখে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন - এইগ্রামে ওসব ধর্মীয় জিগির তুলে গন্ডগোল পাকাতে দেবো না ৷                 বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় বেপাড়ার  এসে জড়ো হওয়া হিন্দুদের দ্দেশ্যে বলেছিলেন - তুলসী বেদী অার মন্দির যদি করার প্রয়োজন হয় , তাহলে সেখানে অাপনাদের অাসতে হবে না ৷ অামরা লক্ষ্মীপুরের লোকরাই  তৈরি করতে পারবো ৷ বদরুদ্দোজা মাস্টারও তেমনি হাড়োয়া অার হাসনাবাদের চৌভাগার মুসলমানদের রীতিমতো দাবড়িয়ে বলেছিলেন - এই লক্ষ্মীপুর গ্রামে হিন্দু এবং মুসলমান কেউই ধর্মীয় খতরেতে নেই  ৷ অামরা কিন্তু এখানে কারোও কোনও ধরনের সাম্প্রদায়িক ঝামলা বরদস্ত করবো না ৷ হিন্দুরা কেউ  মহরমের মাঠ দখল করার ইছে প্রকাশ করেনি ৷ উল্টো অামরা এই লক্ষ্মীপুরের মুসলমানরাই উদ্যোগী হয়ে ওই কালুয়া দীঘির পাড়ে ওদের তুলসী বেদী এবং মন্দির তৈরি করে দেবো বলেছি ৷
        যৌথভাবে সেদিন রুখে দাঁড়াতেই কেউ  অার গন্ডগোল পাকাতে সাহস পায়নি ৷ ফিরে গিয়েছিলো ৷ তবু , মাস দুয়েক সবাই গ্রামটা পাহারা দিয়ে রেখেছিলো শুধুমাত্র উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধনটাকে দৃঢ় রাখার জন্য ৷ পরে একটা রবিবারে গ্রামের সব্বাইকে নিয়ে বসে বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় এবং হাজি বদরুদ্দোজা মাস্টার  ঠিক করেন - গ্রামের সমস্ত মানুষকে নিয়ে একটা দিন সম্প্রীতির উৎসব হিসেবে পালন করবেন ৷
       কেউ  বলেছিলো দুর্গা পূজোর বিজয়ার পরের দিন ৷ কেউ  বলেছিলো ঈদের পরের রবি বারে ৷ কেউ  অাবার বলেছিলো - দুর্গা পূজো এবং ঈদের সাথে ধর্মের গন্ধ রয়েছে , সেই  কারনে ওই দুটো দিনে না করে অন্য একটা অালাদা দিন ঠিক করতে হবে- যার সাথে ধর্মের কোনও সম্পর্ক থাকবে না ৷
         সেটা কোন দিন হতে পারে ?
         সেই  ব্যাপারে বিস্তর অালোচনা হয়েছিলো ৷ বদরুদ্দোজা মাস্টার বলেছিলেন রাখীবন্ধন উৎসবটাকে পালন করলেই মনে হয় ভালো হবে ৷ কবিগুরু হিন্দু-মুসলীমের মধ্যে ঐক্যবন্ধন তৈরি করার জন্য বঙ্গ-ভঙ্গের বিরোধীতা করে ওই  উৎসবের সূচনা করেছিলেন ৷ অামরা লক্ষ্মীপুরের মাঠে ওই লক্ষ্যেই রাখী উৎসবটা অাবার চালু করবো ৷
         বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় হাজি সাহেবের ওই প্রস্তাবের বিরোধীতা করে বলেছিলেন - মাস্টার ? লক্ষ্মীপুর  একটা গন্ড গ্রাম ৷ এখানকার লোকজন লেখা-পড়া জানে না ৷ অাপনি মোটেই বুঝাতে পারবেন না - হোয়াট ইজ বঙ্গ ভঙ্গ ? লোকজন অাপনার কথার হয়তো অাজ বিরোধীতা করবে না ৷ কিন্তু , মন থেকে রাখীর ব্যাপারটা মেনে নিতে পারবে না ৷ চব্বিশ  ঘন্টা ওইব্যাপারটা নিয়েই ঘোঁটপাকাবে ৷ শহরের লোক হলে কর্ম ব্যস্ততায় ওইসব ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে চিন্তা করার সময়ই পাবে না ৷ তাই  অামি বলছিলাম - নবান্নের দিনটাকেই করলে মনে হয় ঠিক হবে ৷
         কেন ? দু চারজন প্রত্যুত্তরে বলেছিলো - নবান্নও তো একটা হিন্দুদের উৎসব ! সেই ধর্মের ব্যাপারটাইতো এসে যাবে ?
         - মোটেই নয়  ৷ বিপ্রদাশ বাবু বেশ গম্ভীর হয়ে বলেছিলেন - কেউ  কিছু হাইজ্যাক করে নিজের বাড়িতে নিয়ে গেলেই কী সেটা তার নিজের হয়ে যায় ?
        ব্যাপারটা বোধগম্য না হওয়ায় সবাই ওর মুখের দিকে অবাক হয়ে ভাবতে থাকে - বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় এ কী বলছেন ?
        - অবাক হওয়ার কিছু নেই ৷ বিপ্রদাশ বাবু হেসে বলেন - নবান্নটা মূলত কৃষি প্রধান উৎসব ৷ অর্থাৎ , যে কৃষক নবান্ন তারইউৎসব ৷ কৃষক তো কোনও ধর্মের বিচারে হয় না ৷ হিন্দুরাও হতে পারে ৷ মুসলসানরাও হতে পারে ৷ তাহলে "নোতুন ধান্যে হবে নবান্ন" কেন শুধুমাত্র হিন্দুদের উৎসব বলে বিবেচিত হবে ? তাছাড়া , অামাদের এই অঞ্চলটা হলো গিয়ে কৃষিজীবী  অধ্যুসিত  অঞ্চল ৷ এই বিদ্যাধরী নদির দু পাড় জুরেই এক সময় গড়ে উঠেছিলো বিখ্যাত কৃষক অান্দোলন - তেভাগা অান্দোলন ৷ পাশের গ্রাম বেরমজুরে এখনও  সেই  অান্দোলনের স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে শহীদ বেদী ৷ সেই  অান্দোলনে কোনও  জাত-পাত কিংবা ধর্মের ব্যাপার ছিল না ৷ অামার মতে নবান্ন পালন করে অামরা সবাইকে দেখাতে চাই  - মানুষের পেটের লড়াইয়ের কাছে কোনও  ধর্মের রাজনীতিকে লক্ষ্মীপুর গ্রামের লোকজন পাত্তা দেবে না ৷ 
        বহু অালোচনা করেই ঠিক হয়েছিলো - প্রতিবছর নবান্নের  দিনে সকাল থেকে ইস্কুলের মাঠে অনুষ্ঠানটা হবে ৷ চলবে সন্ধ্যে পর্যন্ত ৷ খাওয়া-দাওয়া , গান-বাজনা , ইত্যাদি সবই করবে গ্রামের ছেলে মেয়েরা ৷ লক্ষ্মীপুর গ্রামের ছেলেএবং মেয়েরা কর্মসূত্রে এবং বৈবাহিক সূত্রে যে যেখানেই থাকুক , ওই দিন সে ছুটি নিয় ওই নবান্নের  অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেই৷
       যতদিন বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় এবং ওর স্ত্রী মহামায়া দেবী অার হাজি বদরুদ্দোজা মাস্টার  এবং তার বিবি মেহেরুন্নিসা বেগম জীবিত  ছিলেন , ওরাই  উৎসবের মাথা হয়ে কাজ করে গেছেন ৷ ওদের অবর্তমানে গ্রামবাসীরা এখন বিমলা অার হাজি বদরুদ্দোজা সাহেবের মেয়ে রওশন বেগমের উপরে দায়িত্ব বর্তিয়েছে ৷
       বিপ্রদাশ বাবু মারা যাবার অাগে বিমলাকে বারবার করে স্মরণ করিয়ে দিয়ে গিয়েছেন যে , কোনও  অবস্থাতেই এই সম্প্রীতির উৎসব যেন বন্দ না হয় ৷
      বল্লরী বেশ ছোটবেলা থেকেই  লক্ষ্মীপুরের এই উৎসবের সাথে জড়িয়ে থেকেছে ৷ নিজে তো নাচ -গান গাইতোই , অন্য ছেলে-মেয়েদের নিয়ে নাটক ,গান-বাজনা করাতো ৷ বিয়ের পরেও তিন বছর অর্ককে  নিয়ে এসেছে ৷ নাচ-গান করেছে ৷
       সেই নবান্নের উৎসবে বল্লরী অার অর্ক এবারে অাসবে না !

                                         ( পাঁচ )

      প্রত্যেক দিন বিমলা চা করে নিজেই এনে ব্রজেশ্বরকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে ৷ কিন্তু , চা হাতে অাজ অাসতেই দেখলো ব্রজেশ্বর বিছানায় নেই ৷ উঠে গেছে ৷
       কোথায় গেলো ? বিমলা খানিকটা চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় এদিকে সেদিকে তাকায় ৷ নাহ্ ৷ ঝুল বারান্দাতেওতো নেই  !
       বিমলা যখন চিন্পাতা এবং ভাবনার ঘূর্ণাবর্তে বিধ্বস্ত ,ঠিক সেই সময় পাশের ঘরে অালমারির পাল্লা বন্দ করার অাওয়াজে গিয়ে দেখে ব্রজেশ্বর স্নান সেরে ধুতি পাঞ্জাবি পরে একদম রেডি ৷ 
      - কী ব্যাপার ! বিমলা জিঞ্জেস করে - সকাল সকাল স্নান সেরে একদম রেডি হয়ে কোথায় চললে ?
       - ইস্কুলের মাঠে ৷
       - ইস্কুলের মাঠে ! তুমি এত সকালে ? কী ব্যাপার সত্যি বলো তো ? 
        বিমলা মনে মনে ভাবে যে লোককে সে বিগত তিরিশ বছর সকালে উঠতে দেখেনি , সে অাজ সকালে উঠেছে !বলছে কাজ অাছে ! মনে হয় বল্লরীর ফোনের ব্যাপারটা ঘাপটি মেরে শুনেছে ৷ ওর অার বলার জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই  উদ্যোগী হয়েছে অর্কদের বাড়িতে  যাবার জন্য ৷ অাসলে বল্লরীকে ব্রজেশ্বর দারুন ভালবাসে ৷ ও অাসবে না শুনেই  মনটা খারাপ হয়ে গেছে ৷
        - কী গো বললে না তো সত্যি  কোথায় যাচ্ছো ?
        - তুমি যা ভাবছো ,সেখানেই ৷ ব্রজেশ্বর বলে - বুঝতে পারছো মেয়েটার মনের অবস্থাটা কী হয়েছে ? যাই  একবার চেষ্টা করে দেখি ৷ কেন ওনারা এইব্যাপারে অাপত্তি করছেন ! অর্কের যদি ইস্কুলের মাঠে যেতে অাপত্তি থাকে , যাবে না ৷ বাড়িতেই থাকবে ৷ অামিই না হয় ওকে অার বল্লরীকে সঙ্গ দেবো ৷
        - যাও  ৷ বিমলা গম্তীর ভাবে বলে - দেখো , বাবার সম্মানটা যেন ধুলোয় নষ্ট কোরো না ৷ মনে রেখো , অর্কের বাবা মায়ের সাথে তোমার বাবা মায়ের এই অনুষ্ঠানে অাসার ব্যপারে চুক্তি হয়েছিলো ৷ সেটা ওরা ভঙ্গ করেন কিভাবে ? এর মানে তো ওনাদের স্বর্গত  অাত্মাকে অপমান করা ! শিক্ষিত ভদ্রলোকরা কখনও কথার খেলাপ করে না ৷ তুমি মেনে এসব মেনে নিলেও অামি কিন্তু মন থেকে ওদের এই অভদ্র বাজ ব্যবহারকে মেনে নিতে পারছি ন ৷ তাই  কিছুই  বলিনি ৷
       - সে তো বুঝেছি বলেই অামি উঠে তৈরি হয়ে নিয়েছ ৷ব্রজেশ্বর চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে এক চুমুকে গলাধঃকরণ করে ঠাকুরের নাম স্মরণ করে বেরিয়ে পড়েছিলো ৷

                                     ( ছয় )

        ব্রজেশ্বর বেরিয়ে যেতেই বিমলা ফোনে রমেশ অার নওশাদের সাথে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে এক প্রস্থ অালোচনা করে নেয় ৷ বলে - রান্নার ঠাকুরকে দিয়ে সকালের টিফনটা বানাবার কাজটা শুরু করে দিতে ৷৷ইব্রাহীম অার গোবিন্দ যেন বাজারে চলে যায় মাংস অানতে ৷ একটু যেন দেখে নেয় ৷ গত বছর নাকি মাংসটা ভাল দেয়নি ৷ কম দামতো নেয় না ! কেন মাংস খারাপ দেবে ? রাখহরি মুদির দোকানে ফর্দটা দেয়া অাছে ৷  অামি বিল্টুর হাত দিয়ে সব টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি ৷ তোমরা মুদির দোকান থেকে সব মাল অার বাজারের থেকে ভালো মাছ অানিয়ে নিও  ৷ কেষ্ট ময়রাকে বলা অাছে - ঠিক সময়ে মিষ্টি পাঠিয়ে দেবে ৷
        সব্বাইকে সমস্ত কিছু বুঝিয়ে বলে বিমলা অালমারি থেকে টাকা-পয়সা এবং চেক বইটা বের করে ৷ বিল্টুকে ডেকে সব ওর হাতে বুঝিয়ে দিয়ে বলে -যাহ্ ৷ মাঠে গিয়ে রওশন চাচীর হাতে এগুলো দিয়ে বলবি যে অামার অাজ যেতে একটু দেরি  হবে ৷ স্নান করে বাড়ির পূজোটা সেরে অামি দশটা সাড়ে দশটার মধ্যেই যাবো ৷ অামার জন্য যেন কোনও কাজ ফেলে না রাখে ৷
         বিল্টু বেরিয়ে যেতেই  বিমলা স্নান সেরে ঘরে এসে অালমারিটা খুলে ভাবে কোন শাড়িটা পরবে ? ভেতরের সব থাকে থাকে নানান ধরনের নানা রঙের শাড়ি সাজানো ৷ ওসবের ভেতর থেকে একটা লাল পাড়ের তসরের শাড়িটা টেনে বের করে ৷ শাড়িটা ছিলো ওর শ্বাশুরির ৷ যখন প্রথম লক্ষ্মীপুরে নবান্ন উৎসবটা চালু হয়েছিলো বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় কোলকাতার বড়বাজার থেকে নিজেই পছন্দ করে কিন এনে দিয়ে বলেছিলেন ওটা পরে সব কাজ করতে ৷ মহমায়া দেবী  ওই শাড়িটা উত্তরসুরি  হিসেবে ওকে দিয়ে গিয়েছে ৷ এই ক"বছর বিমলা ওই শাড়িটা পরেই উৎসবের কাজ করেছে ৷ অাজোও ওটাই  সে পরবে ৷
        বিমলা শাড়িটা বের করে পরে ৷ অাস্তে অাস্তে  ড্রেসিং অায়নাটার সামনে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৷ কপালে সিঁদুরের টিপটা পরে নিজেকে বার কয়েক ঘুরে ফিরে দেখে একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ৷ তারপরে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ায় শ্বশুর অার শ্বাশুরির ছবির সামনে ৷ নমস্কার জানিয়ে বলে - অামি সত্যিই ব্যার্থ ৷ অাপনাদের সৃষ্টির  উপযুক্ত মর্যাদা রাখতে পারলাম না ৷ নিজের মেয়ে-জামাইমেয়ে-জামাইমেয়ে-জামাইমেয়ে-জামাইকেই এই নবান্নের সঠিক মূল্যায়ন বুঝাতে পারিনি ৷ অাজ ওরা অাসবে না বলেছে ৷ গ্রামের সবাই যখন জিঞ্জেস করবে , অামি কী জবাব দেবো ? এত কষ্ট করে যে একটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাতাবরন গড়ে তোলা হয়েছে , সেটা তো নষ্ট হয়ে যাবে ! শেয পর্যন্ত সুযোগ সন্ধানীরাই মনে হচ্ছে জিতে যাবে !
সেই  দৃশ্য অামি দেখবো কিভাবে ? ঘরে বসে মুখ বুঁজে সহ্য করতে পারবো না ৷ অাপনারা অামাকে বলে দিন - এই  মুহূর্তে  অামার কী করনীয় ?
        পাগলের মতো নিজের মনে কথা বলতে বলতে বিমলা ডুকরে কেঁদে ওঠে ৷ 
        মনে হলো বিপ্রদাশ বন্দোপাধ্যায় এবং মহামায়া দেবী ফটো থেকে বেরিয়ে এসে , ওর চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বলেন - যাও  ৷ ঠাকুর ঘরে গিয়ে মন দিয় পূজোটা সারো ৷ প্রার্থনা করো লক্ষ্মীপুরের সব মানুষের মঙ্গলের জন্য ৷ দেখবে সমস্ত ঝামেলা মিটে যাবে ৷ শুভ শক্তির কাছে কখনোই অশুভ শক্তি জিততে পারবে না ৷

                                  ( সাত )

       বেলা বারোটা বাজলো ৷
        ইস্কুলের মাঠে সবাই বলাবলি শুরু করেছে - এখনও  কেন বিমলা কাকিমা এসে পৌঁছালো না ! এতো তো দেরি  সে কোনও দিন করে না !
        - কী রে ? ইদ্রিশ মোল্লা এসে বিল্টুকে জিঞ্জেস করে - বৌদি এখনও কেন অাসেননি ? কী বলেছে ? শরীরটা খারাপ হয়নি তো ? যাহ্ না ৷ একবার গিয়ে দেখে অায় ৷
        বিল্টু তখন মাঠে অন্যদের সাথে খেলায় ব্যাস্ত ৷ বলে - কাকা ? চিন্তা করবেন না ৷ মা বাড়ির পূজোটা সেরেই  এসে পড়বে ৷ হয়ত দিদি জামাইবাবুরা এসে হাজির হয়েছে ৷ মনে হয় ওদের সঙ্গে নিয়েই  অাসবে ৷
       - নাহ্ ৷ শিবতোষ ভট্টাচার্য , সাগিনা মন্ডল , রোহিলা বিবিরা এক রকম জোর করেই বিল্টুকে সঙ্গে নিয়ে ওদের বাড়িতে গিয়ে দেখলো - সদর দরজাটা ভেতর থেকে বন্দ ৷ ডাকাডাকি করলো , কিন্তু কোনও সাড়া শব্দ নেই  ৷
         ওরা যখন নিজেরা ব্যাপরটা নিয়ে অালোচনায় ব্যাস্ত , ঠিক সেই  সময়েই  ফোনটা বিকট চিৎকার করা শুরু করলো ! 
       বেজেই চলেছে , অথচ কেউ  ধরছে না 
       - কাকা ? বিল্টু বেশ চিন্তিত  হয়েই  বলে - নির্ঘাৎ মায়ের কিছু একটা হয়েছে ! নাহলে নিশ্চিত ফোনটা  ধরতো ! তোমরা দাঁড়াও ৷অামি প্রাচীল টপকে ভেতরে গিয়ে দেখছি ৷
        - হ্যাঁ ৷ তাই কর ৷ শিবতোষ ভট্টাচার্য অার সাগিনা মন্ডল বিল্টুকে ঠেলে তুলে প্রাচীরে উঠতে সাহায্য করে ৷
        ভেতরে ঢুকতেই ফোনটা থেমে গেলো ৷
সদরের দরজাটা খুলে দিয়ে বিল্টু মা মা বলে বার কয়েক ডেকে বাড়ির ঠাকুর ঘরের দিকে এগোতেই দেখে - মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় বিমলা পড়ে অাছে ! হাতে বাড়ির ধারালো কাস্তেটা ধরা !
        - জেঠু ? বিল্টু কান্না ভেজা গলায় বলে ওঠে - দেখুন মা কী করেছে ! পুলিশকে খবর দিতে হবে ৷
        শিবতোষ ভট্টাচার্য এবং সাগিনা মন্ডল ছূটে গিয়ে দেখে - ওর রক্তাক্ত শরীরের পাশেই  একটা সাদা কাগজের টুকরোতে গোটা গোটা অক্ষরে কী সব যন লেখা অাছে ! কাগজটাও রক্তে ভিজে গেছে ৷ 
       - বিল্টু ? শিবতোষ ভট্টাচার্য জিঞ্জেস করেন - দ্যাখ তো লেখাটা কী তোর মায়ের ?
        বিল্টু কিছু বলতে যাচ্ছিলো , কিন্তু সেই মুহূর্তেই  ফোনটা অাবার বেজে উঠলো  ৷ বিল্টু ছূটে গিয়ে ফোনটা ধরেই  বুঝলো বাবা ৷ দিদির বাড়ি থেকে বলছে - সবকিছু মিটে গেছে ৷ ওরা একটু বাদেই  রওনা দিচ্ছে ৷ বলছে মাকে একটু  ফোনটা দে অর্কের বাবা অার মায়ের সাথে কথা বলুক ৷
       - বাবা ? মা এখন কথা বলতে পারবে না ৷ ওকে নিয়ে এক্ষুনি অামাদের হাসপাতালে যেতে হবে ৷ অামি ফোনটা রাখছি , বলে হাঁউমাউ করে কেঁদে উঠলো ৷ 
       সাগিনা চাচা গয়ে বিল্টুকে ধরতেই সে ফোনের রিসিভারটা ছেড়ে দেয় ৷ ভট্টা৷চার্য জেঠু
লোকজনকে ডেকে বিমলার রক্তাক্ত দেহটাকে একটা ম্যাটাডোরে তুলে বললেন থানা হয়ে যেতে ৷ লেখা কগজের টুকরো তুলে নিয়ে দেখে লেখা অাছে "যে কোনও মূল্যে লক্ষ্মীপুরের এই সাম্প্রোদায়িক সম্প্রীতির উৎসব নবান্নকে বজায় রাখতেই হবে ৷ "
        ওরা বেরিয়ে যাওয়ার পরেও দোদুল্যমান রিসিভারটা থেক তখনো ব্রজেশ্বরের গলা ভেসে অাসছে - হ্যাঁ রে বিল্টু ? বলছিস না কেন তোর মায়ের কী হয়েছে ? কেন হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে ?

        হাসপাতালের মাঠে যেন সারাটা লক্ষ্মীপুর গিয়ে হাজির হয়েছে ৷ সবাই জাতি ধর্মের ভেদাভেদ ভূলে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করে চলেছে - ওকে বিপন্মুক্ত করে দাও  ৷ লক্ষ্মীপুরে ফিরিয়ে নিয়ে  যাবে ৷

ঠিকানা :
প্রণব কুমার চক্রবর্তী 
৩৭/১ স্বামী শিবানন্দ রোড , চৌধুরীপাড়া ,
বারাসাত , কোলকাতা - ৭০০ ১২৪
মো: নং - ৯৪৩৩০ ২৮৬৮৫ এবং
               ৮৭৭৭৬ ৮৫৯৯২ ৷

        

       
     

       

        
       

       

                                   
  

      
      
      


      

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং অফিসে ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

বর্ষার কবিতা ।। বিচিত্র কুমার

কয়েকটি বর্ষার কবিতা বিচিত্র কুমার (০১) শ্রাবণের আকাশ শ্রাবণের আকাশ, যেন অশ্রু লুকিয়ে রাখা দুটি চোখ; হাসির আড়ালেও যার ভেতরে বৃষ্টি জমে থাকে। কদমের গন্ধ, যেন শৈশবের ডাক; সময় যত দূরেই নিয়ে যাক, মন তাকে ভুলতে পারে না। ভেজা পথ, যেন জীবনের অসমাপ্ত অধ্যায়; প্রতিটি পদক্ষেপে নতুন অর্থ লেখা হয়। যে স্মৃতিকে সম্মান করতে পারে, সে বর্তমানকেও সুন্দর করে বাঁচতে শেখে। (০২) ভেজা বিকেল বর্ষার বিকেল, যেন পুরোনো ছবির অ্যালবাম; প্রতিটি দৃশ্য ভুলে যাওয়া মানুষদের ফিরিয়ে আনে। দূরের বাঁশবন, যেন অপেক্ষার দীর্ঘ ছায়া; সময় বাড়ে, অথচ আশার আলো নিভে না। পথের ছোট্ট জলধারা, যেন অবহেলিত স্বপ্ন; একদিন সেও নদীর সঙ্গে গিয়ে মিশে। ছোট বলে কোনো স্বপ্নকে অবহেলা কোরো না; সমুদ্রও একদিন একফোঁটা জল থেকেই শুরু হয়। (০৩) বৃষ্টির প্রদীপ বর্ষার রাত, যেন গভীর ধ্যানের একটি মন্দির; অন্ধকারও সেখানে আলোকে জন্ম দিতে শেখায়। বৃষ্টির ফোঁটা, যেন ছিন্ন স্বপ্নের মুক্তো; মাটিতে পড়েই তাদের প্রকৃত মূল্য প্রকাশ পায়। ভেজা জানালা, যেন মনের আয়না; অশ্রু মুছে গেলেও অনুভূতির দাগ থেকে যায়। ভাঙা স্বপ্নের ওপর দাঁড়িয়েই মানুষ নতুন আকাশ দেখতে ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত

 তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত নবপ্রভাতের   আহ্বান রাতের   শেষে   ফুটল   ভোর , সোনার   রঙে   রাঙে   ঘোর।   শিশির ভেজা   ঘাসের   বুকে , সূর্য   হাসে   মিষ্টি   মুখে। পাখিরা   গায়   নতুন   গান , জেগে   ওঠে   সারা   প্রাণ। নদীর   জলে   রোদের   নাচ , মেঘের   গায়ে   আলোর   আঁচ। ফুলের   ডালে   মধুর   গন্ধ , মনটা   ভরে   আনন্দ। হাওয়া   বয়ে   আনে   সুখ , মুছে   দেয়   সব   দুঃখ। নতুন   দিনের   নতুন   ডাকে , স্বপ্ন   জাগে   হৃদয়   ফাঁকে। চলার   পথে   আশা   সাথি , সাহস   থাকে   প্রতি   রাতে। পরিশ্রমে   ফুটুক   ফুল , ভেঙে   যাক   সব   ভুল। ভোরের   আলো   বলে   তাই , জীবন   জয়   করবই।   বৃষ্টির   সুরে   বাংলা কালো   মেঘে   ঢাকে   আকাশ , বৃষ্টি   নামে   উচ্ছ্বাস। কদম...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭