নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না কি অসমাপ্ত সংগ্রাম শঙ্খদীপ জানা সভ্যতার ইতিহাস খুলে দেখলে আমরা এক আশ্চর্য বৈপরীত্যের সামনে এসে দাঁড়াই। যে নারী জন্ম দেয়, লালন করে, ভালোবাসার ভাষা শেখায়, সেই নারীই যুগে যুগে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত, লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত। একদিকে আমরা দেবীর আরাধনা করি, অন্যদিকে বাস্তবের নারীকে প্রতিদিন অপমান, হিংসা ও বৈষম্যের আগুনে পুড়তে দেখি। তাই প্রশ্ন জাগে—নারীর সম্মান ও অধিকার কি সত্যিই বাস্তব, না কি তা কেবল সভ্যতার মুখে ঝোলানো এক অলীক কল্পনা? আজকের পৃথিবী আধুনিকতার দাবিতে গর্বিত। প্রযুক্তি চাঁদ ছুঁয়েছে, মানুষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে, কিন্তু সমাজের মানসিকতা কি সত্যিই বদলেছে? সংবাদপত্রের প্রতিটি পাতা, টেলিভিশনের প্রতিটি খবর, কিংবা সমাজমাধ্যমের প্রতিটি আলোচনায় নারী নির্যাতনের নতুন নতুন চিত্র উঠে আসে। কোথাও ধর্ষিতা হয়ে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছে এক কিশোরী, কোথাও পণের দাবিতে প্রাণ হারাচ্ছে এক নববধূ, কোথাও কর্মক্ষেত্রে অপমান সহ্য করছে এক শিক্ষিতা নারী। এই বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে “নারীর সম্মান” শব্দবন্ধটি অনেক সম...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...