Skip to main content

Posts

প্রবন্ধ ।। কথাসাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক সমরেশ মজুমদার ।। অঞ্জনা দেব রায়

কথাসাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক সমরেশ মজুমদার অঞ্জনা দেব রায়   বাংলা সাহিত্যের জগতে এক অন্যতম কথাসাহিত্যিক ও ঔপন্যাসিক সমরেশ মজুমদার (১৯৪৪-২০২৩)। তাঁর কথার কারখানার মূল উপাদান ছিল মানুষ। আর সেই মানুষকে দেখার জন্য নির্মম ও নির্মোহ ভাবে সাহিত্যিকের অন্তর্দৃষ্টি ছাড়া আর অন্য কিছু গ্রহণ করেননি।  তা সে উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ এবং মৌষলকাল-এর চতুর্ভুজ হোক বা সাতকাহনের নারী-কথা হোক।           তাঁর কথা ও দেখার শুরুটা হয়েছিল দেশ পত্রিকাতে । ১৯৬৭ থেকেই তাঁর দেশ পত্রিকার সাথে সংযোগ।  গ্রুপ থিয়েটারের প্রতি তাঁর প্রচণ্ড আসক্তি ছিলো । সাহিত্যজীবনে পদার্পণের আগে ১৯৬৫ সাল নাগাদ বন্ধুস্থানীয়দের সাথে একত্রে 'শাতকর্নি' নামের একটি নাটকের দল তৈরি করেছিলেন তিনি। বিমল করের একটি গল্প অবলম্বনে পিয়ারিলাল বার্য নাটকে নামভূমিকায় অভিনয়ও করেন তিনি । সে সময় দেশ পত্রিকার যাত্রা- নাটক বিভাগের সম্পাদক প্রবোধ চন্দ্র অধিকারী সমরেশ মজুমদারকে নাটকের জন্য গল্প লেখায় অনুপ্রাণিত করেন। তার প্রথম গল্প "অন্যমাত্রা" লেখাই হয়েছিল মঞ্চনাটক হিসাবে, আর সেখান থেকেই তাঁর লেখক জীবনের শুরু। তাঁর...

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় : জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি ।। উজান ব্যানার্জি

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ঃ জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি  উজান ব্যানার্জি আজ ১৬ই জুন। গায়ক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন। 'কোন এক গাঁয়ের বধূর কথা তোমায় শোনাই শোনো'-- গান শুনে আমাদের শৈশব শুরু। কৈশোর শুরু হয়  'ঝড় উঠেছে বাউল বাতাস, আজকে হল সাথী,'  শুনে।  বুঝতে শিখি 'নীড় ছোট ক্ষতি নেই, আকাশ তো বড় '। যৌবনে পা ফেলি-- 'এ পথ যদি না শেষ হয়, তবে কেমন হত তুমি বলোতো?'সেই মন মাতানো মিষ্টি সুরে। তারপর? তারপর 'দুজনার দুটি পথ ওগো দুটি দিকে গেছে বেঁকে '। জীবন এগিয়ে চলে নতুন পথে -- 'রানার ছুটেছে তাই ঝুমঝুম ঘন্টা বাজছে রাতে.... রাত শেষ হয়ে সূর্য উঠবে কবে?'। সেই ছোটা শুরু--'আমি যাযাবর কুড়োই পথের নুড়ি, হাজার জনতা যেখানে, সেখানে আমি পথে পথে ঘুরি '--সে ঘোরা উজান বেয়ে আজ গোধূলির ঘাটে এসেও সেই কণ্ঠ আজও জড়িয়ে থাকে এক অদ্ভুত মাদকতায়।  আনন্দে-বিষাদে, হতাশায়-উল্লাসে, নিঃসঙ্গতায়-উৎসবে তার কণ্ঠ এক আশ্রয়। আগামী পৃথিবী নিশ্চয়ই কান পেতে তার গান শুনবে। কবিতা।। চিরবসন্ত ---হেমন্ত ॥ আষাঢ় এর প্রথম দিনে জন্ম নিল মেঘ কণ্ঠ, সুরের আকাশে শুকতারা, ভরিয়ে দিল আদিগন্ত। ঝড় তুলল নগর বাউল  ভাঙ...

নিবন্ধ ।। আমার রবীন্দ্রনাথ ।। সত্যেন্দ্রনাথ পাইন

আমার রবীন্দ্রনাথ  সত্যেন্দ্রনাথ পাইন রবিঠাকুরের জীবনস্মৃতি পড়ে এটুকু মনে হয়েছে যে এখানে ভাষার চাতুর্য্য বড্ড বেশি শাসনের দেবতা, ও নিয়মের দেবতার আসন পরম ভক্তিতে ব্রহ্মবিদ্যায় প্রেম ভক্তির ধর্মীয় আলোচনা করে আমাদের জ্ঞানের বহু পল্লবিত যাগযজ্ঞের বেড়া ভেঙে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মূলহোতা করতে উঠে পড়ে লেগেছেন যেন।      এটাই বোধকরি বই পড়ার মধ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তনঘটিয়েছে আমার। একদিকে ব্রহ্মজ্ঞানের   অনুশীলন আর অন্যদিকে  নিজ হাতে বই নিয়ে বইয়ের প্রতি অনুরাগ বাড়িয়েছে। তাহলেও রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথই এবং তাঁর সৃষ্ট লেখনীর বিস্তার ক্ষমা গুনে আমাকে বইরূপ গোপালনে দক্ষ করেছে।    এরপরে আমি যেটাই বলি বা লিখি না কেন তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে  কিংবা তাঁর বিদগ্ধ সমালোচনায়  যৎসামান্য বলেই খ্যাত হবে । কিন্তু  বিপদ হলো যে, আগে আমাদের সমাজে ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয় এই দুই শক্তি দিয়ে আমরা  বিভক্ত ছিলাম। এখন এটা আর সেরকমই নেই। তবুও প্রতিযোগিতা থেকে কেউ যেন বিচ্ছিন্ন নয়। এখন প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে। যেটা  আর ব্রাহ্মণকূল বা ক্ষত্...

কবিতা ।। নিজের করে নাও ।। সাকিল আহমেদ

 নিজের করে নাও সাকিল আহমেদ নিজের যোগ্যতায় আমি প্যারাসিটামল 650 পরজীবী বা প্যারাসাইটস হয়ে বেঁচে আছি হ্যাঁ বেঁচে থাকতেও কঠিন যোগ্যতা লাগে। বৃষ্টির ফোঁটা পেয়ে যেমন নাগলিঙ্গম ফোটে। ধুনুরীর যোগ্যতায় তুলোগুলো কার্পাস হয়ে ওড়ে ট্রেন থেকে নেমে ট্রেনের গতি জাড‍্যতায় দৌড়াতে থাকি সারা স্টেশনময় নিজের যোগ্যতায় পালঙ্কে শুয়ে তোমাকে ডাকি  কাছে এসো গহন গগন সন্ধ্যায় এই পালঙ্কে কোন দায়  কোন কলঙ্ক লাগেনি চোদ্দ শিকায় কেনা মেহগনি গাছ কায়া ভরা মায়ারঙ জানে বিনম্র শীৎকার নিজের যোগ্যতায় তোমার হাতে তুলে দিয়েছি সংসার চাবি। তোমার যোগ্যতায় ঠিক মত সহবতের তালা খুলে দেখাও কতটা স্নেহ কাজল, কতটা মায়ারঙ,  কতটা বিন্নি ধানের খই কতটা ওড়াতে পারো দুঃখে সুখে  কতটা  সৈন্ধব লবণ দিয়ে মাখাতে পারো গৌরবনরক হিসেবের খেরোর খাতায় পরজীবী হয়ে বেঁচে আছি এবার নিজের করে নাও

নৃতত্ত্ব সংকর্ষনের ঘোড়া ও জাহান্নামের আধখানা পাতাল রস ।। নিমাই জানা

নৃতত্ত্ব সংকর্ষনের ঘোড়া ও জাহান্নামের আধখানা পাতাল রস নিমাই জানা ডি গ্রেটেড কনজেস্টিভ কার্ডিয়াক ফেলিওর , রাক্ষশাস্ত্রের মত রেডিয়ামের নীল ধনাত্মক অক্ষাংশের কালো পাখনা ওয়ালা আদিম পোকাগুলো কৃত্রিম খনিজ দ্রবণ খুঁড়ছে। টেলেক্সা অন্ধকার পেট্রোল বাইকের মতো একটা সম্ভোগ অন্ধকারের নিশাচর নর্তকি একাকী জননাঙ্গের বিধৌত অঞ্চল দিয়ে লাল কঙ্কালটার পেট চিরে অসুস্থ পিশাচদের রক্তাল্পতা বের করল , ঘূর্ণায়মান চক্র সারথি নিষ্ঠুর লাল গোলার্ধে পাতলা চামড়া বিক্রি করছে একটা নষ্ট ছায়া ময় জঙ্ঘা , বরফজাত পৃথিবীর কোবাল্ট বিহীন গর্ভনিরোধক বড়িদের কিনতে গিয়ে আমি পা পিছলে হড়হড়ে সরু গর্তের চারপাশে উপুড় শুয়ে থাকা অধাতব মৃতদেহের মতো মাথায় হাতুড়ি পেটানো ইস্পাতের নষ্ট নরম লিঙ্গের পারদ বিস্মৃত গলার শূন্যে ঝুলে থাকা আত্মহত্যার ত্বরণবাসী শুকনো মাছের মতো ছটফট করছে ,  মাঝরাতে মৃতদেহ বিক্রি করি ১০০ টাকার বিনিময়ে , তার মুখে পলিথিনের প্যাকেট জড়িয়ে দিই ধূপ জ্বেলে দেই তার পুলস্ত্য মুখে , আফিমের কৌটো খুলে নষ্ট পায়ে আটকানো ব্রা এর হুক গুলোকে ঝাঁকাই থার্মাল আয়োডাইজড অ্যামোনিয়া গ্যাসের কারখানায় আমি মৃতদেহের তলপে...

কবিতা ।। আষাঢ়ের কথা ।। রবীন বসু

আষাঢ়ের কথা  রবীন বসু তোমাকে বলিনি আগে, সারাটা আষাঢ় মাস  আমি গ্রামদেশে কার সাথে ভিজেছি জলে?  কার সাথে রাজারানি খেলা?  কচুপাতা হাতে নিয়ে জল-মানিক ধরার আগ্রহ! তোমাকে বলেছি কি আগে?  দীর্ঘবেলা ছড়ি হাতে ঘাসফড়িং মেরেছি কত?  হলুদ ঠ্যাং শালিকের খাদ্য হয়ে                            তারা সব শুয়ে ছিল মাঠে।  আমাদের যাত্রা পথ, আমাদের সবুজ শৈশব কাদামাটি জলে ভাসে আষাঢ়ের নিমগ্ন সন্ধ্যা! সারারাত বৃষ্টি ঝরে, সারারাত মেঘের গর্জন রূপকথার ঘোড়াগুলো এইমাত্র মেঝেতে শুয়েছে; সেই ফাঁকে স্বপ্ন আসে, জিয়নকাঠি মরণকাঠি কালোচুলের রাজকন্যা আর  পক্ষীরাজ ঘোড়া থেকে নেমে আসে রাজপুত্র! এভাবেই গল্পকথা সত্যি হয় এই আষাঢ় মাসে!  ================= রবীন বসু ১৮৯/৯,  কসবা রোড,  কলকাতা-৭০০ ০৪২

ছোটগল্প ।। বিকেল বাঁচাও আন্দোলন ।। সুবীর ঘোষ

বিকেল বাঁচাও আন্দোলন সুবীর ঘোষ   সবাইকে কফি দিয়ে নিজে এক কাপ কফি নিয়ে মাঝখানের সোফাটায় এসে বসল বর্ণালী। হঠাৎ খেয়াল হতেই বলে উঠল - - ও মা নীপা , শুভ্রা , ভাস্বতী তোমরা বিসকুট নিচ্ছ না কেন ? এই বলেই বিসকুটের প্লেটটা এমন ভাবে সবার নাকের সামনে ঘুরিয়ে দিল যেন দুর্গা প্রতিমার সামনে ধুনুচি নাচ শুরু করতে যাচ্ছে। যে যার দুটো একটা বিস্কুট তুলে নিয়ে আবার সেঁধিয়ে গেল নিজের নিজের জায়গায়। তার মধ্যে নীপা আর ভাস্বতীর আঁচল পড়ো পড়ো হয়েছিল। তুলে নিল দুজনেই। অবশ্য আজকাল বুক ঢাকতে মেয়েরা অত খাটাখাটনি করে না। টিভিতে প্রায়ই দেখা যায় মেয়েরা নাচছে ব্রা- এর মত ছোট একটা জামা পরে। ইচ্ছে করেই তারা সামনে ঝোঁকে বারবার যাতে ছেলেদের ইচ্ছেটাকে আর একটু চাগিয়ে দেওয়া যায়। এই কফি আড্ডার মহিলাবৃন্দ নিজেদের অবশ্য আলট্রামডার্ন ভাবে না। সবারই বয়েস পঁয়তিরিশের ওপর। ওদের মধ্যে গোপা , শ্যামলী , কঙ্কণা আর সুপ্তিমা মাঝে মধ্যে সালোয়ার কামিজও পরে। বাকিরা সবাই শাড়ি। ওরা আটজন ছাড়াও আছে নমিতাদি আর মধুমিতাদি। ওরাই সব থেকে বড়ো। চা - পর্ব শেষ হলে নীপাই প্রথম মুখ খুলল — নমিতাদি , আমরা এ...

কবিতা ।। ভাসান চিত্র ।। সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক

ভাসান চিত্র সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক  কামুকের কাম্য চাহিদার রেখাখানি            দিনে দিনে ক্রমবর্ধমান....., এঁটো,কাটা  সব খেয়েও  খিদে যেন পাহাড়-প্রমাণ। এখানেই থামুক চূড়ান্ত রাত্রি  এখানেই আসুক জন্মদাত্রী  এখানেই জাতক বোধের সকাল  এখানেই সব মুস্কিল আসান। সহজ ভাবনায় সহজতর পথ  তবুও নির্বাক ভাষাহীন, বাকরোধ হয়ে মাথা খোঁড়ে  নেশার নৈশ কাতরতা, তারপরে কাঁদুনির  জেগে ওঠে প্রতিমা-ভাসান। ---------------------------

কবিতা ।। ক্ষত ।। হাসি বসু

ক্ষত   হাসি বসু  বেলা বেড়ে গেলে ছায়ারা মাটি খোঁজে  যারা চলে যেতে চায় চলে যায়, ফিরে দেখা  অপরিহার্য নয়। বঙ্গোপসাগরের ডিপ্রেশন  চেপে বসেছে চোখের আনাচে কানাচে,  বাধ্য পূর্ণিমা চাঁদ নেমে এসে ডুব দেয়  রাস্তার তিরতির করে কাঁপা জমা জলে গাছগাছালির বড় ছায়ারা কোথায় যেন  মিলিয়ে গেছে মেঘের ফাঁকে ফাঁকে  ওদের হদিস পাওয়া যায়নি সারাদিন  ছায়াদের মৃত্যু একটা ক্ষত চিহ্ন রেখে গেছে  কখন কীভাবে তার হিসেব কেউ জানে না   তারপর রোদের অপেক্ষায় কেটে যায় বহু যুগ… =================== হাসি বসু, অভিষিক্তা ২, ফ্ল্যাট ৩সি-৩০১, কলকাতা ৭০০০৭৮

কবিতা ।। একটা হারিয়ে যাওয়া গল্প ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়

একটা হারিয়ে যাওয়া গল্প অরিন্দম চট্টোপাধ্যায় এ বাড়ির সাথে চড়াই পাখির সখ্যতা জন্মকাল থেকে... সিলিং এ লোহার বিম এর ওপর তাদের দীর্ঘ দিনের বসবাস তাদের সংসার তাদের বেড়ে ওঠা সকাল হলে কিচিরমিচির ডাক যেন ব্রহ্ম সঙ্গীতের মতো ঠিক যেন প্রবাহিত নদী ও কোন উপত্যকা জলধারা থাকুক বা না থাকুক তবুও যেন থাকা বিরতিহীন তারা উড়ে বেড়াত এ ঘর ও ঘর ডানার শব্দের ভেতর যেন মৃদু এসরাজ আর উড়ে পড়ত ছোট্ট ছোট্ট পালক এখন বাস্তবিকই দৃশ্যমান নয় মেঝের ওপর পড়ে থাকা খয়েরী পালক তারা এখন সব নিরুদ্দেশের পথে বাড়ি এখন বড় নি:সঙ্গ তবুও নিয়ম মাফিক সকাল হয়, রাতও গড়ায় ========================== @ অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়,  বেহালা, কলকাতা -৭০০০৬০  

কবিতা ।। অস্পষ্ট উচ্চারণ ।। সুমিত মোদক

অস্পষ্ট উচ্চারণ সুমিত মোদক গ্রামের আটচালায় এ সময়ে কে ধরেছে  পদাবলী কীর্তন ! চারি দিকে এখনই নেমে এসেছে সন্ধ্যা ; বৃষ্টি হয়ে চলেছে ঝমঝম ,ঝমঝম … মাঝে মাঝে একটা দমকা হাওয়া ঢুকে পড়ছে মাটির যাওয়ায় ; ঢুকে পড়ছে ঝাপটা-জল ; জলের মতো জীবন যাপন আর নেই ; নেই সেই সোঁদা মাটির ঘ্রাণ ; কেবল আশেপাশের ডোবা গুলো থেকে  উঠে আসছে পচা দুর্গন্ধ , বিষধর সাপ ; শ্রীকৃষ্ণের বিরহ কাতর শ্রীরাধিকার এক করুণ সুর তরঙ্গ হয়ে ভেসে আসে আটচালা থেকে ,  ফেলে আসা দিন গুলো থেকে ; রান্না ঘর থেকে কড়া-খুন্তির শব্দ বুঝিয়ে দেয় মায়ের উপস্থিতি ,  অসময়ে হারিয়ে যাওয়া ভায়ের স্মৃতি ; অন্ধকার গভীর থেকে আরও গভীর হয় ; কেবল একটানা ঝিঁঝির শব্দ ; অজস্র অস্পষ্ট উচ্চারণ গুলো এক এক করে  ভিড় করে মস্তিষ্কে ; জন্ম নেয় বর্ষামঙ্গল … গ্রামের মধ্যে এখনও পূর্বপুরুষের আটচালাটা থেকে গেছে বেশ কয়েকটি ছেলের তত্ত্বাবধানে ; থেকে গেছে সুতিখালের উপর বাঁশের সাঁকো , শালুক ফুলের মাঠ ; অথচ , পদাবলী কীর্তন বোঝার মানুষ কোথায় ! কে বুঝবে বর্ষামঙ্গল ! বৃষ্টির করুণ শব্দ !

মুক্তগদ্য ।। বৈকালিক বৈশাখ ।। ছন্দা দাম

বৈকালিক বৈশাখ ছন্দা দাম কালবৈশাখীর ধ্রুপদী সুরে যখন পাতা ঝরার কান্না ঠিক তখনই সূর্যটা যেন তার গায়ে আঁধারের চাদর জড়িয়ে নিয়ে নিঃসীম প্রহর গুনছিল, হাওয়ার বাঁশি বাঁশঝাড়ের পাতাদের ঠোঁট ছুঁয়ে চারদিকে ছড়িয়ে দিচ্ছিল অপূর্ব শিহরণ। পুকুরের নিস্তরঙ্গ ঢেউও প্রগলভ হতে চাইছিল এর স্পর্শে।           দিগন্তের মাঠের ঐ পাড়ে সবুজ বনজঙ্গল প্রকৃতির দামাল আবেগ গায়ে মেখে নিয়ে গোধুলির ঘন আধাঁরকে আহ্বান করছিল যেন! শেষ বিকেলের স্নেহমেদুর ছোঁয়া বাঁচিয়ে দামাল বৈশাখী ঝড় যেন গুমরে গুমরে উঠছিল... বুকের কিছু কথা, কিছু ব্যথা উগড়ে দিবে বলে। উঠোনের কোণের মঞ্জুরী সুগন্ধিত আমগাছের পায়ের কাছের ঝরা পাতারা ঈশান কোণ থেকে আসা বাতাসের স্পর্শে প্রাণ পাচ্ছিল। উড়ে উড়ে আবার মাটিতে আছড়ে পড়তে পড়তে শ্ শ্ করে বাচ্চা ছেলেটার ঠোঁটের কাঠাল পাতার বাঁশির মতো আওয়াজ করছিল।           চেয়ে থেকে থেকে কখন আমি হারিয়ে গেছিলাম বৈশাখের এক অনাবিল আনাদৃত এক বিকেলের মাঝে। ঢেউতোলা টিনের চালে চঞ্চল হরিনীর মতো বাতাস লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছিল। বারান্দায় ঝুলানো লাল ডুরে গামছাটা ব...

মানুষ কী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের নিকট ভৃত্যমাত্র? ।। শেফালি সর

মানুষ কী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের নিকট ভৃত্যমাত্র?  শেফালি সর           বিধাতার অপরূপ সৃষ্টি এই বিশ্বপ্রকৃতি। মাটি, জল, বাতাস, আলো, গাছপালা, পশুপাখি ও মানুষ। অকূল সমুদ্র যেমন আছে, তেমনি আছে অসীম আকাশ।নীচে জল মাঝখানে স্থল উপরে আকাশ। এই দুইয়ের মধ্যে চলে জীবজগতের দৌরাত্ম ও প্রতিপত্তি। এদের সকলকে নিয়ে গড়ে উঠেছে এই প্রাকৃতিক পরিবেশ। উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রত্যেকেই প্রত্যেকের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতা নিয়ে বেঁচে রয়েছে। প্রকৃতি চলে তার আপন খেয়ালে। কখনো শান্ত ধীর গতিতে, কখনো বা অশান্ত, ভয়ংকর দ্রুত গতিতে। যে প্রকৃতিতে সকল প্রাণী ও উদ্ভিদ জন্মায়, বাঁচে ও বাড়ে সেই প্রকৃতি আবার এমন রুদ্র ও বীভৎস রূপ ধারণ করে যার প্রভাবে সকল প্রাণী ও উদ্ভিদ অবলীলায় ধ্বংসের মুখে পতিত হয়। তবুও বলা যাবে না  যে মানুষ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের দাসত্ব স্বীকার করে চলেছে।                               মানুষ প্রভুত্বের স্পর্ধায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। তবুও অবহেলিত জীর্ণ দীর্ণ কুটির থেকে...

কবিতা ।। স্মৃতির বিস্তার ।। রবিন বিশ্বাস

স্মৃতির বিস্তার রবিন বিশ্বাস নির্জন দৃশ্যের ভেতর যাই থাকুক না কেন অনায়াসে সেসব এড়িয়ে যাওয়া যায় না । তপ্ত দুপুরে কাউকে কথা দেওয়া বোধ হয় সমুচিত নয় এই ভেবে যে  - নির্জনতার রঙ কতদূর ছড়িয়ে পড়ে কে জানে! নিজের জন্মের ভেতর যত খুশি খনন করনা কেন পরিশেষে যা ফল পাবে তাতেই সন্তুষ্ট থাকা শ্রেয় বলে মনে হয়। তবুও এ হৃদয় মন জুড়ে  সতত এক  বিস্ময়ের মোহ আমাদের বিচলিত করে  বোধি লাভের পথকে আরও সহজ করে। ============== রবিন বিশ্বাস বলাগড়, হুগলি পিন কোড -৭১২৫০১  

কবিতা ।। এসো বর্ষা ।। বন্দনা পাত্র

এসো বর্ষা  বন্দনা পাত্র  ============ মেঘের বাড়ি অনেক দূরে রোদজ্বলা এই দুপুর পারে,  জীবন গেল কঠিন ঘোরে এমন দাবদাহে...... জৈষ্ঠ্য তুমি হেঁটে বেড়াও কোন্ সে পোশাক পরে? মেঘের বাড়ির উজান স্রোতে আসবে কবে বর্ষা নিয়ে? এসো বর্ষা তুমি আষাঢ় হয়ে,যেমন করে মুষলধারে  বৃষ্টি দাও আমার ঘরে ,আগুন নেভে ফুল ফোটে রে  রোদজ্বলা সেই দুপুরগুলো তখন অনেক দূরে...                               অনেক দূরে দূর শহরে। পানকৌড়ি ডুব দেয় আর কদম গাছের ফুলগুলো সব গন্ধ ছড়ায় তুমি তখন নাটক লেখো প্রকৃতির ঐ রঙ্গশালায়... বর্ষা এসে আমার কাছে দু হাত বাড়ায় বলে যেন,এসো ও রমণী চোখে তুমি বৃষ্টিপ্রেমে  অঝোর ধারায় ঝরাও কেন?এই বর্ষায় নৃত্য করো। মিষ্টি সুরে রিমঝিম্ ঝিম্ গান বেঁধেছ ও বর্ষা এসো উঠান পানে, তোমার সাথেই নৃত্য করি সাতসমুদ্র তেরো নদী পার করে। বৃষ্টি তুমি ফুল ছুঁয়ে রোজ মেঘের কথা বলে যাও? খেয়ালি মেঘ কখন যেন বোশেখ মেঘের ভাসায় নাও। এই আষাঢ়ের মধ্যযামে কালিদাসের কাব্য পাঠে  রসের রসে মন ডুবিয়ে বৃষ্টির শব্দ তখন ম...

গল্প ।। রাখে হরি তো মারে কে ।। সমীর কুমার দত্ত

রাখে হরি তো মারে কে সমীর কুমার দত্ত মধ্য হাওড়ার হাওড়া ময়দানের সন্নিকটে 'মল্লিক ফটক 'নামক স্থানের আশপাশের বাসিন্দা শোভন রায় শিপিং কর্পোরেশনে উচ্চ পদে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে পুত্র শুভ্রকান্তি  শিপিং কর্পোরেশনে চাকরি পেয়ে যায়। শোভন বাবু বছর দুয়েক হলো চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। বছর দেড়েক হলো ছেলে শুভ্রর বিয়ে দিয়েছেন শ্রীরামপুরের বাসিন্দা সুমিতা ঘোষের সঙ্গে। বিয়ের দেড় বছর পরে তাদের একটি পুত্রসন্তান জন্মে। অপরিণত, অপুষ্ট শিশু বেশিদিন বাঁচে নি। বাঁচলে হয়তো অনেক রোগ ভোগ করতে হতো। কাজেই মরে বেঁচেছে। দাম্পত্য জীবন শুরুর প্রথম ধাক্কাটা সামলাতে না সামলাতেই বাবা শোভন সেন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন । এমনিতেই ওনার সুগার, হাই প্রেসার তো আছেই। তার ওপর হার্টের প্রবলেম। তারপর একদিন বাথরুমে পড়ে গিয়ে হাতে চোট পেয়েছেন। আসলে চাকরি থাকাকালীন একটা নিয়মের মধ্যে ছিলেন।কিন্তু রিটায়ার করার পর সব নিয়ম অনিয়ম হয়ে গেছে।ফলত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। একদিন বার্থরুম করে বের হবার সময় হার্ট অ্যাটাক করে। ইতিমধ্যে একটা মাইল্ড অ্যাটাকে বাম দিকটা কিছুটা অবশ হয়ে যায়। যাই হোক এ যাত্রায় আর রক্...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। রা...

মা তোমাকে ।। জারিন তাসনিম

মা , তোমাকে আর ধরতে পারছি না ...   জারিন   তাসনিম তোমাকে আর ধরতে পারছি না ... তোমার হাতটা , পা - টা ধরতে পারছি না । তোমার মুখটা ছুঁয়ে বলতে পারছি না — “ মা , আমরা আছি । ” শুধু তোমার কবরের মাটির ওপর হাত রেখে বসে আছি । মনে হচ্ছে , এই মাটির ঠিক নিচেই তো আমাদের মা ... আমাদের সেই মানুষটা , যাকে এতদিন ধরে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা প্রতিটি মুহূর্ত লড়েছি । মা , তুমি কি বুঝতে পারছো , আমরা তোমার পাশেই আছি ? তুমি কি আমাদের কান্না অনুভব করতে পারছো ? তুমি কি জানো , আমরা তোমাকে ছেড়ে যেতে পারছি না ? আল্লাহ মানুষকে এত মায়া দিয়ে কেন পৃথিবীতে পাঠান , মা ? কেন এত ভালোবাসা দেন , যদি একদিন সেই মানুষটাকেই এভাবে মাটির নিচে রেখে আসতে হয় ? এই কষ্টটা যে কতটা কলিজা ছিঁড়ে দেয় , মা — আমি কোনোদিন ভাবিনি । তোমার জন্য আমরা এখন আর কিছু করতে পারছি না । শুধু দোয়া করতে পারছি । হে আল্লাহ , আমাদের মায়ের কবরের আজাব সহজ করে দিন । তাঁর কবরকে নূরে ভরে দিন , প্রশস্ত করে দিন । তাঁর স...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,