অমর একুশে অশোক দাশ আজি বসন্তে পলাশের বুকে নিত্য অলির গুঞ্জরন, কাঙ্খিত স্বপ্ন বুকে অমর একুশের শহীদ তর্পণ। মেঘনা -পদ্মার তুফানে আজও রক্তধারা বহে, শহীদের আত্ম বলিদান গৌরব গাঁথা সমীরণে ভাসে। আধো-আধো বলে গাইছে শিশু মায়ের ভাষার গান, সারা ভুবন ঋণী, শহীদদের জানায় শ্রদ্ধা- সম্মান। কান্না হলো হীরা -পান্না, মাতৃভাষা অমর মহীয়ান, বুকের মাঝে রক্ত কমল চির অনির্বাণ। রক্ত শোনিতে পদ্মা -মেঘনা -ইছামতির জল রাঙা, বিদ্রোহের অগ্নি শিখায় মীরজাফররা পেয়েছে কি সাজা! আজও ধর্মের নামাবলী গায়ে রক্তে হোলি খেলে, ভাতৃ বিদ্বেষে দাঙ্গার ক্ষতবুকে তাণ্ডব নৃত্যে মাতে। মাতৃভাষার সম্মান রক্ষায় একুশের রক্ত ঝরা ইতিহাস, উদ্ধত ধর্মের ব্যাপারীদের কাছে কেবলই প্রহসন উপহাস। ----------------------------- অশোক দাশ ভোজান, রসপুর, হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।
কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...