ইন্দ্র মেঘওয়াল জীবনকুমার সরকার ইন্দ্র মেঘওয়াল আরও একটি শহিদের নাম আরও একটি কদর্য ভারতবর্ষের নাম। হাজার হাজার বছর ধ'রে হত্যা, লুট, ধর্ষণ করেও মনুর সংবিধান ক্ষান্ত হয়নি। প্রতিনিয়তই জন্মভূমিতে আমাদের মুণ্ডুছেদন করা হচ্ছে কাটা হচ্ছে আঙুল পোড়ানো হচ্ছে জীবন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে সোনালী সূর্য, জমি-জায়গা-চাকরি ঘরবাড়ি-বাসস্থান আর বেঁচে থাকার সব অধিকার। ইন্দ্র মেঘওয়াল আরও একটি শম্বুকের নাম, চারদিকে ভক্তরা তির-ধনুক-কাঁটাতার আর ধারালো মনুর রশিতে আমাদের বেঁধে ফেলছে। ওরা ভারতবর্ষটাকেই ইন্দ্র মেঘওয়াল বানাতে চায়। ইন্দ্র হত্যার বদলা চেয়ে জ্বলে উঠুক একলব্য ভারত ================
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...