তোমার প্রাণে উচ্ছ্বসিত চিরসাম্যের ধারা, তোমার স্বপ্নে আগামীর ভোর অরুণ উদয়রাগে, তোমার রক্তে টগবগ করে ফোটে নবীন সাড়া, তোমার বুকে দুঃসাহসী যুব নজরুল জাগে। অন্যায় যত, অবিচার আর যত শোষণ-পাশ তোমার কলম করে ছিল উৎপাটনের রোখ, ছত্রে-ছত্রে লেখা ছিল তাদের সর্বনাশ, তোমার মর্মে বেজেছিল শৈশব-হারার শোক। 'অনুভবে' 'অনন্যোপায়' 'অসহ্য দিন' কাঁদে, 'আসন্ন আঁধারে' ফোটে মূক 'আগ্নেয়গিরি', আঠারোর দুঃসাহসকে কে কবে কোথায় বাঁধে? 'কৃষকের গান', 'ঘুমভাঙার গান' স্বপ্ন করে ফিরি। 'গোপন খবর' চুপি চুপি ছড়ায় 'আজব লড়াই', 'এই নবান্নে' মেলে যেন তুষ্টের 'অভিবাদন', দুষ্টের মুখে না যেন রয় হীন 'অবৈধ' বড়াই, নইলে 'চরমপত্রে' হবে দুষ্টের পক্ষশাতন। কবিতাকে না দিতে হয় আজকে যেন ছুটি, পূর্ণিমা চাঁদ যেন থাকে সেই পূর্ণিমা চাঁদ, ক্ষুধার রাজ্যে না হয় যেন তা ঝলসানো রুটি, এ ধরাকে সইতে না হয় গদ্যের অপবাদ। ...
এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র! কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও বোধহয় যে...