তোমার প্রাণে উচ্ছ্বসিত চিরসাম্যের ধারা, তোমার স্বপ্নে আগামীর ভোর অরুণ উদয়রাগে, তোমার রক্তে টগবগ করে ফোটে নবীন সাড়া, তোমার বুকে দুঃসাহসী যুব নজরুল জাগে। অন্যায় যত, অবিচার আর যত শোষণ-পাশ তোমার কলম করে ছিল উৎপাটনের রোখ, ছত্রে-ছত্রে লেখা ছিল তাদের সর্বনাশ, তোমার মর্মে বেজেছিল শৈশব-হারার শোক। 'অনুভবে' 'অনন্যোপায়' 'অসহ্য দিন' কাঁদে, 'আসন্ন আঁধারে' ফোটে মূক 'আগ্নেয়গিরি', আঠারোর দুঃসাহসকে কে কবে কোথায় বাঁধে? 'কৃষকের গান', 'ঘুমভাঙার গান' স্বপ্ন করে ফিরি। 'গোপন খবর' চুপি চুপি ছড়ায় 'আজব লড়াই', 'এই নবান্নে' মেলে যেন তুষ্টের 'অভিবাদন', দুষ্টের মুখে না যেন রয় হীন 'অবৈধ' বড়াই, নইলে 'চরমপত্রে' হবে দুষ্টের পক্ষশাতন। কবিতাকে না দিতে হয় আজকে যেন ছুটি, পূর্ণিমা চাঁদ যেন থাকে সেই পূর্ণিমা চাঁদ, ক্ষুধার রাজ্যে না হয় যেন তা ঝলসানো রুটি, এ ধরাকে সইতে না হয় গদ্যের অপবাদ। ...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...