জীবাশ্মহীন অ্যানথ্রাসাইট ও নতুন অক্ষর পুরুষ নিমাই জানা মন্দাক্রান্তা আলোর নিচে অ্যানথ্রাসাইট মেশানো অজৈব মৃতজীবী শহর ঘুমিয়ে থাকে জীবাশ্মহীন হয়ে আমি সব বিয়োগ চিহ্নের আবছায়া কাল্পনিক মায়াময় মূর্তিকে রাতের অন্ধকার থেকে বের করে আরো একবার নব্য মন্বন্তর পরাগের দিকে নিয়ে যাই , প্রহরের পাখি শুধু দৈর্ঘ্য মেপে যায় আয়ু বড় ক্ষীন হতে থাকে রাতের তারার মতো আমি শুধু নিশাচরের সাথে ঘুরে বেড়াই প্রাচীন জলজ রাশিচক্রের গান বক্ষস্থলে চেয়ে দেখো সনাতন ,ফুরিয়ে যাচ্ছে কৃষ্ণকায় অলৌকিক দেহঘরের সম্বন্ধ পদ সরল দৈর্ঘ্যের জিরাফের পিঠে বেরিয়ে যায় নগরকীর্তন আর কিছু ত্র্যম্বক চৈতন্য কথা, নতুন করে আমার পিঠ থেকে খসে পড়ে হলুদ পাতার দেহজ ফসিল , আমি এক নতুন বৈশাখের অবিভাজ্য ধনাত্মক রাশিচক্র ফেলে আসি নৈসর্গিক ঈশ্বরের জন্য , আরো একবার ভূগোলের প্রতিটি পৃষ্ঠা জুড়ে পরজীবী অসুখেরা নেচে উঠবে নতুন দেহ ঘরের জন্য , প্রাচীন গুহার ভেতর বসে কোন এক আবুল ফজল গান গাইতে গাইতে কম্বোজ থেকে মাংসল পা বের করে রোপন করবেন বিবিধ রসায়ন ক্ষেত্র চেয়ে দেখো সূর্য , কেমন করে আরো একবার টকটকে লাল হতে পারো প্রতিটি বুবুক্ষু মানুষদের জ...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...