Skip to main content

Posts

কবিতা ।। জীবাশ্মহীন অ্যানথ্রাসাইট ও নতুন অক্ষর পুরুষ ।। নিমাই জানা

জীবাশ্মহীন অ্যানথ্রাসাইট ও নতুন অক্ষর পুরুষ   নিমাই জানা মন্দাক্রান্তা আলোর নিচে অ্যানথ্রাসাইট মেশানো অজৈব মৃতজীবী শহর ঘুমিয়ে থাকে জীবাশ্মহীন হয়ে আমি সব বিয়োগ চিহ্নের আবছায়া কাল্পনিক মায়াময় মূর্তিকে রাতের অন্ধকার থেকে বের করে আরো একবার নব্য মন্বন্তর পরাগের দিকে নিয়ে যাই , প্রহরের পাখি শুধু দৈর্ঘ্য মেপে যায় আয়ু বড় ক্ষীন হতে থাকে রাতের তারার মতো আমি শুধু নিশাচরের সাথে ঘুরে বেড়াই প্রাচীন জলজ রাশিচক্রের গান বক্ষস্থলে চেয়ে দেখো সনাতন ,ফুরিয়ে যাচ্ছে কৃষ্ণকায় অলৌকিক দেহঘরের সম্বন্ধ পদ সরল দৈর্ঘ্যের জিরাফের পিঠে বেরিয়ে যায় নগরকীর্তন আর কিছু ত্র্যম্বক চৈতন্য কথা, নতুন করে আমার পিঠ থেকে খসে পড়ে হলুদ পাতার দেহজ ফসিল , আমি এক নতুন বৈশাখের অবিভাজ্য ধনাত্মক রাশিচক্র ফেলে আসি নৈসর্গিক ঈশ্বরের জন্য , আরো একবার ভূগোলের প্রতিটি পৃষ্ঠা জুড়ে পরজীবী অসুখেরা নেচে উঠবে নতুন দেহ ঘরের জন্য , প্রাচীন গুহার ভেতর বসে কোন এক আবুল ফজল গান গাইতে গাইতে কম্বোজ থেকে মাংসল পা বের করে রোপন করবেন বিবিধ রসায়ন ক্ষেত্র চেয়ে দেখো সূর্য , কেমন করে আরো একবার টকটকে লাল হতে পারো প্রতিটি বুবুক্ষু মানুষদের জ...

কবিতা ।। প্রস্তুতি ।। লাবণী পাল

      প্রস্তুতি        লাবণী পাল সদর দোরে কড়া নড়লো বোধ হয়। নেই তো সময় একটুও আর হাতে। ফেলতে হবে গুছিয়ে যা সব জীর্ণ, পুরাতন। শোবার ঘরের চাদর জুড়ে ফুল গেঁথেছে রক্ত মেয়ের, ধর্ষকামের লোলুপ হাতের কাজ। পুড়িয়ে ফেলো, শেষ রেখো না কোথাও। পর্দা ঘিরে এ কোন্ অলক্ষণ ! চাকরি-হারা বেকার ছেলের লাশ যে ঝোলে ! ডিগ্রি ভরা কাগজগুলো জমছে মিছে ধুলোর পরে। সরাও, সরাও, সাফ্ করো সব। বসার ঘরেও ঝুল-কালি সার, ধর্মে পোড়া আগুন ও ছাই - নেভাও এবার। চতুর্দিকই অগোছালো, সামলে নিও। নতুন বছর পৌঁছে গেছে দুয়ার ধারে, আজকে তাকে নতুন আশায় বরণ করো, শপথ নিও। ================= লাবণী পাল। ধুপগুড়ি, জলপাইগুড়ি।

ছড়া ।। এই নববর্ষে ।। আনন্দ বক্সী

এই নববর্ষে  আনন্দ বক্সী  পুরাতন বিগত       নয়া সাল আগত            জানাইনা স্বাগত                 পয়লার প্রভাতে                       বৈশাখী সভাতে । নতুনের পরশে      চারিদিক হরষে              আনন্দ বরষে                বাঙালির প্রাণেতে                      রবির সে গানেতে। পদ হোক বাহারে         বাঙালির আহারে              ভালোবাসো যাহা রে                               বর্ষের বরণে                                  স্বাদ থাক স্মরণে। নতুন সে পোশাকে      ...

কবিতা ।। নতুন বছর ।। সুশান্ত সেন

নতুন বছর সুশান্ত সেন নতুন বছর ত এসে গেল এখনো সবাই চুপ করে থাকলে বাতাসের স্রোত কি দক্ষিণ সাগর থেকে আসবে ! পাশেই যে তরঙ্গভঙ্গ হয় বারবার বারবার সমুদ্রস্রোত যে বালিয়াড়িকে ধুয়ে ধুয়ে                                                              যায় সেই কথাটা কারো মনেই থাকে না। চুপ করে থাকার স্বাধীনতা                                  পরাধীনতাই ডেকে আনে। ভয়, শেকলের ভয়, মরণের ভয়, দল ছাড়া হয়ে                                   বাঁচার ভয় চুপ করিয়ে রাখে। তাই মাসের পর মাস প্রতিবাদেও চুপ করে থাকে        সংবিধান, অনড় থাকে আইন ও আদালত । একবার তো জেগে ওঠো একবার তো বলো ---              আমি বেঁচে আছি, আমার কথা শোন । ****...

কবিতা ।। স্বপ্ন নিয়ে ।। সুমিত মোদক

স্বপ্ন নিয়ে  সুমিত মোদক আকাশ-জল বাষ্প হয়ে উড়ে যাচ্ছে  মহাকাশের পথে ; হয় তো সে কারণে মানুষের পা মাটিতে পড়ে না ; গনগনে আগুনের উপর একটার পর একটা  সময়ের ধারাপাত ; জীবনের নামতা শিখে নিয়েছে চাতক পাখি ; আকাশ-জল চাতক পাখি খোঁজে ; আর অসময় খোঁজে কান্নার শব্দ ; এ ভর দুপুরে কে কাঁদছে ! কে মাটির হাঁড়ি থেকে বাড়ছে ভাত ! সে কি আমাদের মা ! নাকি অস্পষ্ট এক হাত  ; দুপুর গড়িয়ে  বিকাল আসতে জানে ; ভাসতে জানে গো-রাখালের বাঁশি দখিনা বাতাসে ; আটপৌরে মেয়েটাও প্রেম নিবেদন করে নিজের কাছে ; অনেক গুলো স্বপ্ন নিয়ে নতুন বছরের পা রাখতে চেয়েছে উত্তর পুরুষ ; একের পর এক জলীয় বাষ্প ধরে রাখছে হাতের মুঠোয় ; অনাবাদী জমিকে আবাদী করে বোধ ।

কবিতা ।। নতুন দিনের ডাক ।। সুজন দাশ

নতুন দিনের ডাক সুজন দাশ মুছে যাক জরা-শুচি হোক ধরা নতুনেরে দিই ডাক, যাক গ্লানি মুছে-ব্যবধান ঘুচে সু-সাম্য ঘিরে থাক। সুন্দরে মাতি-টুটে যাক রাতি মিলনে সবাই বাঁধি, ঐক্যের টানে-প্রেরণার গানে দেশের জন্য কাঁদি। মলিনতা যত-হৃদয়ের ক্ষত ফেলে দিই দূরে ঠেলে, আসি পাশাপাশি-এক স্রোতে ভাসি প্রেমটুকু দিই ঢেলে। অপরের দুখে-যাই হাসি মুখে সাহায্যে রাখি হাত, ভুলি হানাহানি-মিছে টানাটানি টুটাই তিমির রাত। বাঁচবো মরমে-বর্ণে ধর্মে বিভেদে যাব না আর, মানুষ উর্ধ্বে-নীতির যুদ্ধে মহত্বে খুলি দ্বার! এসো নি' শপথ-বের করি পথ দাঁড়াই একতা বোধে, অন্যায় রুখে-বাঁচি সবে সুখে নেয়ে উঠি সুখো রোদে। হয়ে একজোট-তারে দিই ভোট মানবতা যার আছে, বেচব না নীতি-রাখি সম্প্রীতি সুখ যেন সবে যাচে! মহত্ব ছাড়া -হব পথহারা বর্গী লুটবে ন্যায়, সখ্যতা ধরি-চলো সবে লড়ি রচি নব অধ্যায়! :::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::;;;;::::::: সুজন দাশ আটলান্টিক সিটি,নিউজার্সি, যুক্তরাষ্ট্র। ফোন -6097469510

কবিতা ।।বাংলা নববর্ষ।। শ্রীমন্ত সেন,

  বাংলা নববর্ষ  শ্রীমন্ত সেন     রোদের রকমফেরে সহজেই বোঝা যায়, সহজেই বোঝা যায় বাতাসের আনমনা ভাবে, বিকেলের আলো জাগে তার দীপ্ত প্রতিভাসে— সে আসছে—সে আসছে-- বুকের কিনারা ঘেঁষে; কারা যেন চুপিসারে রেখে যায় প্রণামের দ্যুতি।   সবকিছু পুরাতন অনুষঙ্গে বিদায়ের সুর, পুরাতন অনুভবে নতুনের সান্ধ্যভাষা-পাঠ, নতুন দিনের সূর্য ফালাফালা করে ভোর, পয়লা বৈশাখ আসে নতুন দিশার মত— দিকে দিকে বুকে বুকে আলোর ইশারা নিয়ে।   আদিগন্ত জেগে ওঠে মায়ের মমতা হয়ে, বাংলা বর্ণপরিচয়ে মাখে সুগহন স্বর, আমন্ত্রণে-নিমন্ত্রণে সোনালি স্বপ্নেরা কাঁপে, পয়লা বৈশাখে শাঁখে ফোটে বদলের ডাক— 'যা কিছু আনন্দময় প্রাণের গভীরে এসো'। ____________________________________         শ্রীমন্ত সেন 29/A/1, ভাগীরথী লেন, পোঃ মাহেশ, হুগলী, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।   পিন-712 202 চিত্র ঋণঃ ইন্টারনেট।

কবিতা ।। নববর্ষের গল্প বলি ।। তুহিন কুমার চন্দ

নববর্ষের গল্প বলি তুহিন কুমার চন্দ  শিউলি ডাকে ও চামেলি  একলা গেলি নদীর ঘাটে, বুনো চাঁপায় হাস্নুহানার  গল্প করেই সময় কাটে। কাঠমালতি এককোনে চুপ  নববর্ষ আদর করে, কনকচাঁপার গন্ধে মাতাল  হাওয়ায় সাথে গল্প করে। কেয়া বনের ভেতর দিয়ে  বাবলা কাঁটার বন যে ভীষণ,  উল্টোদিকে বিলাই খামচি  এ বনকে করছে শাসন।  ঝুমকোলতার নূপুর পড়ে  টাপুরটুপুর বৃষ্টি নামে, চাঁপার গন্ধে সূর্য ডোবে  রাতচড়াদের নিঝুম গ্রামে। শিউলি ডাকে ও চামেলি  মেঘ ধরেছে গানের কলি, তারচেয়ে চল মেঘের সাথে  রূপকথাদের গল্প বলি। ***************** তুহিন কুমার চন্দ  সুদর্শনপুর,রায়গঞ্জ-৭৩৩১৩৪ উত্তর দিনাজপুর (প.ব.) ভারত। মোঃ ৮৬১৭৮২৯১৩৩ tuhinchanda030@gmail.com

কবিতা ।। বর্ষবরণ ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

বর্ষবরণ তীর্থঙ্কর সুমিত নতুন বর্ষ এলো আবার নতুন খুশি মুখে ভালোবাসার স্বপ্নপূরণ হবেই সর্বসুখে। বর্ষবরণ নতুন করে পুরোনো পিছে ফেলে সুখের খোঁজে সুখ প্রহরে নিজস্ব সম্বলে। রামধনু রং সবার মনে ছড়িয়ে যাক প্রাণে নতুন বছর নতুন আসা আসুক ভেসে কানে। ******************* তীর্থঙ্কর সুমিত মানকুণ্ডু হুগলি পশ্চিমবঙ্গ     

কবিতা ।। নববর্ষ ।। দীপঙ্কর সরকার

নববর্ষ    দীপঙ্কর সরকার প্রতিটি সকাল আনে প্রতিটি নতুন ভোর হৃদয়ে প্রত্যাশা জাগে নববর্ষে এলো বুঝি খুশির খবর  ! যা কিছু পুরনো ছিন্ন মলিন সাফ সুতরো  করে গৃহস্থ সাজায় নতুন উঠোন । দোকানে দোকানে হাল খাতা শুভ মহরত । পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় হয় দূরে রেখে যা কিছু সংক্ষোভ , জীর্ণ পাতা ঝরার শেষে গাছে গাছে গজায় নব পল্লব । নতুন বছরে সব নতুন নতুন পাখির কণ্ঠেও  যেন নব সুর ! পুরনো নির্মোক ছেড়ে পুব দিগন্তে দ্যাখা দ্যায় নবারুণ । ************** দীপঙ্কর সরকার কাঁঠাল পুলি ( সিংহের হাটের কাছে) চাকদহ নদীয়া ৭৪১২২২

ছড়া ।। নাইয়র ।। সুব্রত চৌধুরী

নাইয়র সুব্রত   চৌধুরী বোশেখ   মাসে   নাইয়র   আসে   হারায়   পথের   বাঁকে , পথের   ধূলোয়     পদচিহ্নে সুখের   ছবি   আঁকে। নাইয়র   আসে   সখী   হাসে বাজে   খুশির   বীণ , এই   ক ' টা   দিন   দু : খ   ব্যথা ওদের   হবে   লীন। নাইয়র   বেড়ায়   বাগান   জুড়ে   আলতা   পায়ে   নুপুর , কাঁঠাল   মুচি   কুচি   কুচি ঘামে   ভেজা   দুপুর। সন্ধ্যা   নামে   রূপোর   খামে নাইয়র   মাতে   গানে , রূপোর   সিকি   ঝিকিমিকি   ডাকে   খুশির   বানে।   ————————————- সুব্রত চৌধুরী আটলান্টিক সিটি, নিউ জারসি, যুক্তরাষ্ট্র  হোয়াটসআপ # +1 6092332728

ছড়া ।। নববর্ষের নব হর্ষে ।। সুব্রত দাস

নববর্ষের নব হর্ষে     সুব্রত দাস ফুল পাখি মেঘ আকাশ বাতাস আজ কেন চঞ্চল, ঝরা পাতায় তবুও যে গাছ  রোদ্দুরে ঝলমল ! কিসের কিসের, কোন খুশিতে ফুটছে হাজার ফুল, কোথায় কে ভাই, অজান্তে হায় করলো কী যে ভুল ! কচিকাঁচা, ফুলকুঁড়িদের ডাগর চোখের তল, নতুন কিছু আশার ভাষার ভাসছে শতদল ! বলছি শোনো আসল কথা কথার কথা নয়, নববর্ষের, নব হর্ষেই এসব কিছু হয় !! ------------------------------------- সুব্রত দাস ৩১/১, গোবিন্দ সেন রোড, পোঃ রামঘাট, সূচকঃ ৭৪৩১৬৬, গরিফা, উওর ২৪ পরগণা, থানাঃ নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গ।

ছড়া ।। মিঠে আলোয় ।। স্বপন মুখোপাধ্যায়

মিঠে আলোয়  স্বপন মুখোপাধ্যায় আজ বোশেখের নিমন্ত্রণে  মাতছি খুশির গানে, হাসছে পলাশ কৃষ্ণচূড়া সবার প্রাণে প্রাণে। নতুন বছর দিচ্ছে দোলা শিরিষ ফুলে ফুলে, রঙিন আশায় গর্বে এ বুক  উঠছে দুলে দুলে। সকাল থেকেই দোকান দানি সাজছে নতুন করে, হালখাতা আর গনেশ পুজো  হচ্ছে আড়ম্বরে। সাজছে ঘরের দেওয়ালগুলো  নতুন ক্যালেন্ডারে, মিঠে আলোয় মনের দুয়ার  খুলছে বারে বারে। *************** স্বপন মুখোপাধ্যায় বহড়া,ষাটপলসা,বীরভূম  ফোন নম্বর 8617822208

কবিতা ।। নববর্ষ ।। সুব্রত কুণ্ডু

নববর্ষ  সুব্রত কুণ্ডু  পয়লা বোশেখ মানেই হল নতুন বরষ,  পয়লা বোশেখ মানেই হল মনের হরষ,  উথলে ওঠে প্রাণ--  রায়বাগানে ছেলেপুলের  আমেরই সন্ধান।  পয়লা বোশেখ এলেই হবে নতুন খাতা,  জীর্ণপাতা ঝরে গিয়ে কচিপাতা,  সবুজে ভরপুর -- আমের আঁটির ভেঁপু তোলে  নতুন গানের সুর।  বোশেখ এলেই ভাঙে সবার খুশির বাঁধ,  ফিনিক ফোটা জ্যোৎস্না ছড়ায় পূর্ণিমা-চাঁদ,  জ্যোৎস্না মাখামাখি--  ঠাম্-মা শোনায় রূপকথা আর  আমরা চাতক পাখি।  বোশেখ মানেই চিরনতুন রবিঠাকুর,  গানে গানে হৃদয় ভরে রবীন্দ্র-সুর,  প্রাণে প্রাণে হর্ষ-- আনন্দে ও মন-খুশিতে  কাটুক নববর্ষ।  ****************** সুব্রত কুণ্ডু  নবগ্রাম, রহিমপুর, হুগলী  পশ্চিমবঙ্গ, ভারত  ৭১২৪০৮

বোশেখ মানেই আলোর দিশা ।। জয়শ্রী সরকার

বোশেখ মানেই আলোর দিশা  জয়শ্রী সরকার বোশেখ মানেই নতুন বছর , আনন্দ-কলতান ভোরের মৃদু-মন্দ হাওয়ায় পাখপাখালির গান । বোশেখ মানেই দুই বাংলারই আকাশ ছোঁয়া আশা হৃদয় দিয়ে লালন করি প্রাণের ভালোবাসা ! বোশেখ মানেই জীবনবৃক্ষে একটা ঝরাপাতা আনন্দেতে খুলবে মানুষ জীবিকার হালখাতা । বোশেখ মানেই আনন্দগান প্রকৃতির কলরব প্রত্যাশারা অপেক্ষাতে জীবনেরই বৈভব ! বোশেখ মানেই রবীন্দ্রনাথ প্রাণের ঠাকুর বরণ কাব্য-নাটক , নৃত্য-গীতে সবাই করি স্মরণ । বোশেখ মানেই আনমনা হই রবীন্দ্রনাথ চিতে আকাশ-বাতাস মন্দ্রিত হয় রবীন্দ্রসংগীতে ! বোশেখ মানেই কালবোশেখী ঝড়ের মাতন সে কী ! স্নিগ্ধ তো হয় বসুন্ধরা , সেই ছবিটাও দেখি । বোশেখ মানেই পিচ্ গলা পথ তপ্ত তাওয়ার মতো দীঘল বটের শীতল ছায়া প্রাণটা জুড়ায় কত ! বোশেখ মানেই নতুন শপথ, র'ইবো সবাই বেঁধে গাইবো যে গান একসাথে সব এক সুরেতেই সেধে। বোশেখ মানেই নতুন আলো , নতুন প্রাণের দিশা সবুজে মন উঠবে ভরে , কাটবে অমানিশা ! ^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^

কবিতা ।। নতুন বছর নতুন দিনে ।। মৃত্যুঞ্জয় হালদার

নতুন বছর নতুন দিনে মৃত্যুঞ্জয় হালদার ভোর হতেই কাকা জ্যাঠা জমিতে যায় ছুটে, খড়ের আঁটি গোটাকয়েক আগুন ধরায় জুটে। নতুন বছর নতুন দিনের সূর্য যখন হাসে, ধোঁয়ায় ধূসর কুয়াশা যেন জমাট চারিপাশে। ধীরে ধীরে বাড়লে বেলা রীতি রেওয়াজ যত, ঘরে ঘরে বর্ষবরণ আমোদ অবিরত। নিম হলুদে মাখামাখি শিল-নোড়াতে জোর, সবার গায়ে নিম-হলুদের  আজ লেগেছে ঘোর। দেবালয়ে পুজা আচ্চা নতুন পোশাক পরে, সবাই যেন সুস্থ থাকে সমবৎসর ভরে। পদে পদে পাকশালেতে সুঘ্রাণে ভরপুর, আয়েশ করে একসাথে আজ জমজমাটি দুপুর। বিকেলবেলা গোষ্ঠ মেলা  দলবেঁধে সব যাওয়া, বাউল কিংবা গাজন গানে মনের আরাম পাওয়া। ........................................................... ✍️ গড়িয়া স্টেশন রোড ফরতাবাদ মোড় কলকাতা-৮৪  পশ্চিমবঙ্গ   ভারত

ছড়া ।। নববর্ষ ।। রূপালী মুখোপাধ্যায়

নববর্ষ  রূপালী মুখোপাধ্যায় সারাদিনই গলদঘর্ম, সন্ধ্যে বেলায় হাওয়া চৈত্র শেষ, বৈশাখেতে এটাই পরম পাওয়া। গাছে গাছে ভর্তি থাকে সবুজ কিশলয়  বেলীর সুবাস ছড়িয়ে থাকে গোটা বাগান ময়। জুঁই মাধবী দুজন মিলে গল্প করে কত  গল্প শোনার জন্য ছোটে মলয় বাতাস যত। এগারো মাস পরে আসে নতুন বোশেখ মাস  বছরটা তো ভালো যাবে সবার মনে আশ । এই মাসেতেই আছে আবার কবির জন্ম তিথি  বকুল ফুলের গন্ধেভরা সকল বনবীথি । কুহু কুহু কোকিল ডাকে পুষ্পভরা শাখে  আম কাঁঠালে ভর্তি থাকে এই ভরা বৈশাখে। উঠান জোড়া আলপনাতে বোশেখ বরণ করে  শুভ নববর্ষ বলে ,জড়িয়ে সবাই ধরে । নিয়ম করে নববর্ষ পালন করা হয়  বছর টা কি ভালো যাবে শঙ্কা যেন রয়। ******************** রূপালী মুখোপাধ্যায়, দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান 

ছড়া ।। সোহাগ মায়ায় এসো ।। নিরঞ্জন মণ্ডল

সোহাগ মায়ায় এসো নিরঞ্জন মণ্ডল নতুন বছর এসো হে এসো বস দাওয়ার পর তোমার ছোঁয়ায় শীতল হাওয়ায় ভরুক সবার ঘর। দিন কাটে না রাত কাটে না পেটের খিদেয় যাদের একটু দিয়ো খুশির খবর ,ভাত দু'মুঠো তাদের। যেসব ছেলে মেয়ের রোজই পথেই গড়ায় দিন শতেক ব‍্যথা না পাওয়াতেই বুক করে চিনচিন তাদের দিয়ো স্বপ্ন ভেজা একটা দুটো রাত, রোগ যাতনায় কাতর জনের মাথায় সোহাগ হাত। কঠিন কাজে হাঁফায় যারা খেলার সময় ভুলে সামনে তাদের অবকাশের দরজা দিয়ো খুলে। একটু কোরো উজল কোমল খোস খসখস গা ; খেত খামারে সময় ভোলা বিরাম বিহীন পা রক্ত ঘামের আলপনা দেয় দণ্ড প্রহর পলে শীতল পরশ বুলিয়ে দিয়ো তাদের চলাচলে। ঢেউয়ের ঝুঁটি জাপটে যারা খিদের মানিক খোঁটে জোয়ার স্রোতে রাত কেটে যায় দিনের আলো ফোটে, তাদের দিয়ো সুর ঝুরঝুর অবসরের কাল মন পবনে ভরিয়ে দিয়ো তাদের ডিঙার পাল। নতুন বছর তোমার কাছে চাই না তেমন সুখ একটু মায়া আবেগ দোলায় ভরিয়ে দিয়ো বুক। চারপাশেতে ধুঁকছে যারা এড়িয়ে পরিহাস তাদের কথা ভাবতে দিয়ো একটু অবকাশ। গলায় দিয়ো নতুন কথার সুর কলকল গান, ফুল ফোটানোর খেত জাগানোর অমল পিছন টান। ****************

বৈশাখী ছড়া ।। রঞ্জন কুমার মণ্ডল

বৈশাখ মানে... রঞ্জন কুমার মণ্ডল বৈশাখ মানে বাংলা সনের শুভ প্রথম মাস হালখাতার মহোৎসব শুরু দুর্গতি হবে নাশ। বৈশাখ মানে খাঁ খাঁ রোদ্দুর  তাপের ভ্রুকুটি চলে পথিকজন জিরিয়ে নেয় বসে গাছের তলে। বৈশাখ মানে গাছে কাঁচাআম ঝিনুকে ছাড়িয়ে খাওয়া ভোরবেলাতে আম কুড়ানো শিশুকালে ফিরে যাওয়া। বৈশাখ মানে গাছে কচিপাতা কাঁচা আমের দুপুর দুপুর গড়ালে মাঝে মাঝেই কালবৈশাখীর সুর। বৈশাখ মানে তাপের বহর শুকিয়ে পুকুর জলা নোনা ঘামেতে চাষীরা মাঠে চাষ করে সারাবেলা। বৈশাখ মানে খুশির আমেজে বৈশাখী মেলা ফেরে কবি গুরুর জন্মদিন স্মরণ  বাংলার ঘরে ঘরে। ______________________________________   রঞ্জন কুমার মণ্ডল  সারাঙ্গাবাদ, মহেশতলা,  জেলা -দক্ষিণ ২৪ পরগণা। পিন-৭০০১৩৭. পশ্চিমবঙ্গ। ফোন  : +91 8240249978.

নববর্ষের কবিতাগুচ্ছ ।। সৌমেন দেবনাথ

নববর্ষের কবিতাগুচ্ছ  ।। সৌমেন দেবনাথ  নববর্ষে প্রত্যাশা আসলো আবার নববর্ষ উঠলো নতুন আলো, সকল জীর্ণ যাবে কেটে নিপাত যাবে কালো। বাঁধনহারা সুখে সবাই ভাসবে সুখের ভেলায়, আর ভুল ভ্রান্তি করবে না কেউ ভেসে হেলায় খেলায়। দুঃখ যত ঝরে যাবে থাকবে না আর ক্ষরণ, রঙে রঙে জীবন জাগবে নতুন করে বরণ। কষ্ট স্মৃতির কাটবে ইতি নতুন যাত্রায় সামিল, বর্ণিল জীবন সবার আসবে কেটে যাবে অমিল। দুঃখ ভোলার দিনে সবার মনে থাকবে রঙিন, যত গ্লানি যাবে ডুবে হবে না কেউ সঙিন। নতুন বছর নতুন আলোয় বাঁচবো নিয়ে আদর্শ, সুখে দুখে শক্ত রবো শুভ নববর্ষ। আল্পনায় বৈশাখ নববর্ষ ঘিরে মনে থাকে যে জল্পনা, নতুন বর্ষ বরণ করতে আঁকা হয় আল্পনা। উঠানে তাই ঝাড়-পোছ-লেপন নান্দনিক উঠান সাজ, তারপর উঠানে চিত্রাঙ্কন আহ রঙিন কারুকাজ। দেয়াল জুড়ে শৈল্পিক আঁকা দেখলেই করি শংসা, পিচঢালা ঐ সড়ক জুড়েও আঁকা রঙিন নকশা। নকশায় থাকে কত কিছু লতা-পাতা ফুল ফল ঢোল-তবলা হাতপাখা কুলা চোখের পড়ে না পল। আঁকিবুকি দিয়ে আমরা দেশটা করি বিন্যাস, পয়লা বৈশাখ ঘিরে দেশ মা হয় রং-তুলির ক্যানভাস। নতুন বর্ষের নব আশায় নতুন বছর নতুন আশায় ভাসবো স্বপ্ন ভেলায়, ভুলে যাবো হানাহানি মাতবো রঙের মে...

অণুগল্প ।। নববর্ষের আনন্দ ।। মিঠুন মুখার্জী

।।  নববর্ষের আনন্দ ।।            মিঠুন মুখার্জী নববর্ষ বাঙালির কাছে খুব আনন্দের। বিশ্বের সকল জাতির আনন্দের দিন যেমন ইংরেজি নববর্ষ, তেমনি বাঙালির কাছে বাংলা নববর্ষ। পুরনো বছরকে বিদায় দিয়ে নতুনকে বরন করার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আমি নবীন যাদব। আমি বাঙালি নই ,কিন্তু বাঙালিদের মধ্যে থাকতে থাকতে আমি মনে প্রানে বাঙালি হয়ে উঠেছি। আমার বাড়ি বিহারের পাটনায়। কর্মসূত্রে আমি কলকাতার বেহালায় থাকি। আমি একজন স্টেশন মাস্টার। বারাসাতে আমার পোস্টিং।                 বাঙালি মানেই বারো মাসে তেরো পার্বণ।তারা আনন্দ করতে খুব ভালোবাসেন। তাই প্রত্যেক মাসেই কোনো না কোনো উৎসবে মেতে থাকে। এখানে কুড়িবছর থাকার ফলে আমি মাঝে মাঝে ভুলে যাই আমি বিহারী না বাঙালি। দীর্ঘ দিন এখানে থাকার ফলে আমি ও আমার পরিবার ভালোই বাংলা শিখে গেছি।প্রত্যেক নববর্ষে আমার বাঙালি কলিগরা ও বাঙালি বন্ধুরা আমাকে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। আমাকে কেউ মিস্টির প্যাকেট আবার কেউ লাড্ডু ও ক্যালেন্ডার দেন। আমার খুব ভালো লাগে।এমন কি কোলাকুলিও করেন। বেশিরভাগই ...

ছড়া ।। বর্ষবরণ ।। বিদ্যুৎ মিশ্র

বর্ষ বরণ বিদ্যুৎ মিশ্র নতুন মনের নতুন দিনের নতুন বরষ যাপন আজকে শুধুই ভালোবাসার সবাই নিজের আপন । ভুলে সবাই দ্বন্দ্ব বিবাদ প্রেম ছড়িয়ে দেবো গরিব দুখি আর্তজনে নিজের করে নেবো । সারা বছর মিলেমিশে থাকবো আবার সাথে স্বপ্ন সকল পুরণ হবে জোছনা ঝরা রাতে । সবাই মিলে করবো বরণ নতুন বছর শুরু ছন্দ গানে থাকবো মেতে আছেন কবি গুরু । **************** বিদ্যুৎ মিশ্র পুরুলিয়া , পশ্চিমবঙ্গ,ভারত

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

তিনটি কবিতা ।। জহির খান

 তিনটি কবিতা ।। জহির খান বালু নদীর কথা কি সব কথা তোমার সাথে কতকাল আগে পাড়ে ওপাড়ে অসংখ্য পরিবার পরিকল্পনা... জলে সুরে সুখ শরীর দোলে ভেসে আসে এক ছবি নদীর নাও ভালোবাসায় পাশে ছিলো শালবন                         খুব নীরবে নিভৃতে তখন স্পর্শ তোমার বহু শ্রমিকের ঘাম ঝরানো সুখ ট্রেনের বগি গুলোও চেয়ে থাকতো এক অপলক দৃষ্টি  নিয়ে   তোমার দিকেই... আর এভাবেই চলে মাঝি-মল্লাদের পারাপার                                                       প্রতিদিন তবু কত-শত প্রেমিক ঠায় নেয় তোমার বুকে ভালোবাসায় ডুবন্ত সেই ভুল বুঝেছি আজ অতঃপর যৌবনে খুঁজে পাওয়া বালু জলে প্রেম-প্রণয় তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নেয়     ...

Amazon Great Indian Festival 2026

  Explore Deals and Offers : Click Here Explore Deals and Offers : Click Here.

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জুজুবুড়ির কেরামতি ।। গোবিন্দ মোদক

জুজুবুড়ির কেরামতি  গোবিন্দ মোদক জীবনপুরের জামতলাতে থাকতো জুজুবুড়ি সকাল-সন্ধ্যা দুই আঙুলে বাজাতে সে তুড়ি। তুড়ি মেরে জুজুবুড়ি বলতো – “সবই ভুল যতোই হিসেব করে মাপো ফাঁক সেই একচুল!” মানলে ভালো, না মানলেও দেবো যে সুড়সুড়ি  ঘাবড়ে গিয়ে ফেলবে খেয়ে চিটাগুড় আর মুড়ি! খাওয়ার শেষে এসেই যাবে জব্বর এক ঘুম কানের কাছে কাকতাড়ুয়ার তাক দুমাদুম দুম! জুজুবুড়ি কাকতাড়ুয়ার বউয়ের ঘরের মাসি পকেটেতে জমিয়ে রাখে একশো রকম হাসি।  হাহা - হিহি - হোহো - হেঁহেঁ – সুরেলা, বেসুরো  হাসার সময় নাকেতে দেয় নস্যি-নেশার গুঁড়ো! হ্যাঁচ্চো! হ্যাঁচ্চো! হাঁচি হাঁচে মাসি জুজুবুড়ি ন্যাড়া ছাতে ওড়াতে যায় শতরঞ্জি ঘুড়ি! লাটাই ধরে যেই না দেয় বেমক্কা এক টান জুজুবুড়ির হাত দু'খানা ভেঙেই খানখান! চেঁচায় তখন জুজুবুড়ি ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদে সূর্য তাকে আদর করে নিয়ে যে যায় চাঁদে! চাঁদে গিয়ে জুজুবুড়ি চরকা কাটে জোরে  ইচিং বিচিং গান গেয়ে যায় সারাটা রাত ধরে! ___________________________ গোবিন্দ মোদক। ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গুচ্ছকবিতা ।। ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

গুচ্ছকবিতা:  ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব  প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি...

কবিতাগুচ্ছ ।। অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান ।। আবদুল্লাহ আল আদীব।

অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান আবদুল্লাহ আল আদীব   আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…   আজকেও দেখলাম স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে। আঁধারের ভেতরে আঁধার। হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো। তার দাহে জন্ম নিলো অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা। তার নিগূঢ় দ্যুতি আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে। দেখলাম— ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন, আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে লিখে দিলেন একটি নাম— “জারিফ”। ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।       জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…   পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন, শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা। যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে। আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়, দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি। তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি। যখনই হাত বাড়াই, আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায় এক বিরাট মন্দিরের মতো—...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...