" বৃষ্টির সঙ্গে আমাদের প্রেম সেই আদিকাল থেকেই। বৃষ্টি আমাদের প্রথম প্রেমিক, আমাদের প্রথম প্রেমিকা। তাই বর্ষায় জমে ওঠে অনন্য প্রেম। বর্ষা নিয়ে কত যে গল্প, ছড়া, কবিতা, গান লেখা হয়েছে তার কোনও ইয়ত্তা নেই। সেই জন্যই হয়তো বুদ্ধদেব বসু লিখেছিলেন, 'বাঙালির শ্রেষ্ঠ কবিতা বর্ষার কাব্য; বর্ষাকে অবলম্বন করেই বাঙালির প্রেমের কবিতা।' এটা আসলে কবিদের ঋতু। রবীন্দ্র-নজরুলের ঋতু।" — বঙ্গদেশে এবং বাংলা সাহিত্যে বর্ষা এক বিশেষ ঋতু। সেই প্রিয়তমা বর্ষাকে নিয়ে লেখেছেন কবি ও গল্পকার সিদ্ধার্থ সিংহ। বৃষ্টি শুরু হয়েছে কি হয়নি, শুধু আকাশে মেঘ করেছে দেখেই, অনেকে আছেন যাঁরা ছাতা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। যে সব মেয়েরা জলের ছাঁট থেকে বাঁচার জন্য সামান্য কোনও শেডের তলায় দাঁড়িয়ে আছেন বা বড় বড় ফোঁটা পড়ার আগেই বাস স্টপেজে পৌঁছে যাওয়ার জন্য ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যেই লম্বা লম্বা পা ফেলে প্রায় ছুটছেন কিংবা মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগেই অল্প বৃষ্টি মাথায় নিয়ে যাঁরা রাস্তায় নেমে পড়েছেন, তাঁদের মাথায় একটু ছাতা ধরার সুযোগ পাওয়ার জন্য। না, পুরুষ হলে হবে না। বাচ্চা হলেও নয়। মেয়েই হতে হবে এবং বয়...
গুচ্ছকবিতা: ইউটোপিয়া: একটি অসমাপ্ত বিপ্লব… আবদুল্লাহ আল আদীব প্রস্তরযুগের উত্তরাধিকার… প্রস্তরযুগের ধ্বংসাবশেষ থেকে উঠে এসে, চকমকি পাথর হাতে, অভাবী চোখে— উদোম গায়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি বালক, একটি স্বচ্ছ কাচের শপিং মলের সামনে। আরেকজন বৃদ্ধ তার সমস্ত জীবন খেটে ফুড বুটিকের সামনে ক্ষুধার্ত পেটে বসে আছে। তাদের চোখে সভ্যতার সম্ভ্রম খসে পড়েছে। হঠাৎ রাজপথে বিপ্লবীদের শোরগোল— "এবার নিজের বস্ত্র বানাবো, এবার নিজের খাদ্য ফলাবো।" এক বিজ্ঞ দার্শনিকের চশমা ভেঙে গিয়েছে। সজ্জিত একটি চশমার দোকান দেখে দার্শনিক বলে— আফসোস হায়! অভাবীর চোখে চশমা নাই, চশমা যে বানিয়েছে তার কাছেও নাই। এক আদিবাসী জিঙ্গালী পথ ভুলে চলে আসে লোকালয়ে। সারাদিনের মজুরি একটি টাকা হাতে পেলে, সে তার কপালের ঘাম মুছে টাকাটা ছিঁড়ে ফেলে। অন্যরা হাসতে থাকে, জিঙ্গালী টাকার মূল্য বোঝে না। গভীর রাতে জিঙ্গালীর অভুক্ত ফাঁকা পেটে জঙ্গলের স্বপ্ন নেচে ওঠে, সে উল্লাসে নিথর হাসে। সে কল্পনায় ছুটে যায় শৈশবে, ছুটে যায় জঙ্গলে, ছুটে যায় পরিবার আর প্রিয় মানুষদের বৈভবে। ভাবে— "আমি তো প্রকৃতির মেয়ে। গাছে ফল ছিলো খেয়েছি, সন্তানদের খাইয়েছি। এখানে...